জাতীয়

পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর
পরবর্তী খলিফা হিসেবে কেন ওমরকে বেছে নিয়েছিলেন আবু বকর

হিজরি ১৩ সনের জমাদিউস সানি মাস। মাত্র দুই বছর তিন মাসের শাসনামলে আরবের বুক থেকে গৃহযুদ্ধ ও ধর্মত্যাগের উত্তাল ঝড় থামিয়ে সবেমাত্র এক স্থিতিশীল রাষ্ট্রের ভিত্তি দাঁড় করিয়েছেন প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লেন।

বুঝতে পারলেন, তাঁর সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাঁর অবর্তমানে এই নবীন রাষ্ট্রের কাণ্ডারি কে হবেন? আরবের চিরাচরিত গোত্রপ্রীতি আর রাজনৈতিক অনৈক্যের যে আগুন তিনি এত দিন কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, নেতৃত্বের শূন্যতায় তা কি পুনরায় জ্বলে উঠবে?

তিনি পরবর্তী খলিফা হিসেবে মনোনীত করলেন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে। কিন্তু কেন ওমর? মদিনায় যখন আরও বহু প্রবীণ, সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও কোমল হৃদয়ের সাহাবি উপস্থিত ছিলেন, তখন কেন তিনি ওমরের মতো এক তীব্র ব্যক্তিত্বের ওপর রাষ্ট্রের ভার তুলে দিলেন?

এমনকি আবু বকরের নিজের যোগ্য সন্তানেরাও তখন মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি।

যোগ্যতার অগ্রাধিকার

রাজনৈতিক ক্ষমতার ইতিহাসে উত্তরাধিকার নির্বাচন মানেই সাধারণত নিজের রক্ত, পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে মসনদে বসানো। অথচ আবু বকরের এই মনোনয়নে স্বজনপ্রীতির ছায়া ছিল না।

আবু বকর নিজে ছিলেন কোরাইশের বনু তাইম গোত্রের মানুষ; অন্যদিকে ওমরের শেকড় ছিল বনু আদি গোত্রে। তাঁদের মধ্যে এমন কোনো নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না যার ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর স্বাভাবিক মনে হতে পারে।

এমনকি আবু বকরের নিজের যোগ্য সন্তানেরাও তখন মদিনায় উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজের পরিবার কিংবা গোত্রের কাউকে উত্তরাধিকারী করার কথা ভাবেননি।

ইসলামি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গবেষকগণ বিষয়টি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে পরবর্তীকালের রাজতান্ত্রিক ‘যুবরাজ প্রথা’ বা উত্তরাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে আবু বকরের সিদ্ধান্তের কোনো দূরতম সম্পর্কও ছিল না; বরং এটি ছিল সংকটকালে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সবচেয়ে যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিটিকে বাছাই করার এক রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। (মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আর-রায়িস, আন-নাজারিইয়াতুস সিয়াসিয়্যাতুল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা: ১১২, দারুত তুরাস, কায়রো, ১৯৭৬)।

কঠোরতার আবরণে সুবিচারের নিশ্চয়তা

ওমরের ব্যক্তিত্বের যে দিকটি নিয়ে বেশি সংশয় ছিল, তা হলো তাঁর কঠোর মেজাজ। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, ওমরের এই কঠোরতা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রজাদের জন্য ভারী হয়ে উঠবে। কিন্তু আবু বকর (রা.) ভালোভাবেই জানতেন, ওমরের এই তেজ কোনো ব্যক্তিগত অহমিকা নয়; এটি হলো ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকার শক্তি।

রাসুল (সা.) মক্কার চরম সংকটে ওমরের এই তেজস্বী ব্যক্তিত্বের জন্যই দোয়া করেছিলেন, “হে আল্লাহ, আবু জাহেল কিংবা ওমর ইবনুল খাত্তাব—এই দুজনের মধ্যে যে আপনার কাছে অধিক প্রিয়, তাকে দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৮১)

সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছিলেন, “ওমর যেদিন থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, সেদিন থেকেই আমরা সবসময় সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছি।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৮৪)

আবু বকর নিশ্চিত ছিলেন, যুদ্ধকবলিত এই সংকটময় মুহূর্তে পারস্য ও রোমের মতো আগ্রাসী শক্তিগুলোর মোকাবিলা করতে হলে ওমরের চেয়ে দৃঢ়চেতা ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না।

পরীক্ষিত প্রজ্ঞা

ওমর (রা.) ছিলেন বিরল প্রজ্ঞা ও গভীর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী এক রাষ্ট্রনায়ক। মদিনার দশ বছরের জীবনে এমন বহু জাতীয় ও সামাজিক সংকট এসেছিল, যেখানে ওমর যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে নাজিল হওয়া কোরআনের আয়াত তাঁর অভিমতকে সমর্থন করেছিল।

তিনি বলতেন, “আমার প্রতিপালকের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমার মতামত তিনটি বিষয়ে হহুহু মিলে গিয়েছিল: মাকামে ইব্রাহিমকে নামাজের স্থান নির্ধারণ করা, পর্দার বিধান এবং রাসুলের স্ত্রীদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪০২)

রাসুল (সা.) নিজেও সাহাবিদের জানিয়ে গিয়েছিলেন “তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে এমন কিছু প্রজ্ঞাবান মানুষ ছিলেন, যাঁদের অন্তরে সত্যের অনুপ্রেরণা আসত; আমার এই উম্মতের মধ্যে যদি তেমন কেউ থেকে থাকে, তবে সে নিশ্চিতভাবেই ওমর ইবনুল খাত্তাব।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৬৮৯)

সহচর ও সমালোচক

আবু বকরের পুরো শাসনকালজুড়ে ওমর ছিলেন তাঁর প্রধানতম রাজনৈতিক পরামর্শক।ওমর ছিলেন এমন এক সাহসী সহযোদ্ধা, যিনি জনস্বার্থে খলিফার সামনে দাঁড়িয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পিছপা হতেন না।

স্বধর্মত্যাগীদের বিরুদ্ধে যখন আবু বকর (রা.) কঠোর সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন, তখন ওমর শুরুতে এর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু আবু বকর যখন ধর্মের অবিভাজ্যতার অকাট্য যুক্তি তুলে ধরলেন, তখন ওমর (রা.) কোনো জেদ না দেখিয়ে মুহূর্তেই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে বলেন, “আল্লাহর কসম, আমি যখন দেখলাম আল্লাহ আবু বকরের অন্তরকে এই সিদ্ধান্তের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, তখনই বুঝলাম এটিই একমাত্র সত্য।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪০০)

আবু বকর অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে নেতা বানিয়ে নিতে। কিন্তু সাহাবিরা বিভেদের আশঙ্কায় খলিফার প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রেখে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন।

নিবিড় পরামর্শের ফসল

আবু বকর অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে নেতা বানিয়ে নিতে। কিন্তু সাহাবিরা বিভেদের আশঙ্কায় খলিফার প্রজ্ঞার ওপর আস্থা রেখে তাঁকেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন। (আলি ইবনুল হাসান ইবনে আসাকির, তারিখু দিমাশক, ৩০/৪১২, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯৫)

জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও তিনি মদিনার শীর্ষ নীতিনির্ধারক ও গ্রহণযোগ্য সাহাবিদের সঙ্গে একান্তে দীর্ঘ পরামর্শ করেন। প্রথমে শীর্ষ সাহাবি আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)-কে ডেকে ওমরের ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আপনি তাঁর সম্পর্কে যতটা উচ্চ ধারণা পোষণ করেন, তিনি বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি যোগ্য; তবে তাঁর মেজাজে কিছুটা কঠোরতা রয়েছে।’

আবু বকর তখন অত্যন্ত দূরদর্শী এক জবাব দেন; তিনি বলেন, ‘ওমর মূলত আমাকে নরম মনের মানুষ দেখে নিজে কঠোর ভূমিকা পালন করে; কিন্তু যখন নেতৃত্বের সম্পূর্ণ দায়ভার তাঁর নিজের কাঁধে এসে পড়বে, তখন সে নিজেই অনেক নমনীয় ও ধৈর্যশীল হয়ে যাবে।’

এরপর সাহাবি ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর মতামত জানতে চান। তিনিনির্দ্বিধায় সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, “হে খলিফা, ওমরের বাইরের চেয়ে তাঁর ভেতরের রূপ আরও শতগুণ সুন্দর ও পবিত্র; আর সত্য কথা হলো, আমাদের মাঝে তাঁর সমকক্ষ কোনো দ্বিতীয় মানুষ নেই।” (মুহাম্মদ ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৩/১৯৯, দারু সাদির, বৈরুত, ১৯৬৮)

আনসার ও মুহাজিরদের শীর্ষ প্রতিনিধিদের এই ঐক্যবদ্ধ আস্থার পরই আবু বকর চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করেন। আলি তানতাবি যথার্থই লিখেছেন, “ওমরের এই মনোনয়ন কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ফরমান ছিল না; বরং তা পরিচালিত হয়েছিল শুরার সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে।” (আত-তানতাবি, আবু বকর আস-সিদ্দিক, পৃষ্ঠা: ২৫০, দারুল মানারা, জেদ্দা, ১৯৮৬)

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান
কমিউনিটি হেলথ রিসার্চ এসোসিয়েশনের প্রশাসক হলেন আতিকুর রহমান

সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, ঢাকা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সমাজকল্যাণ সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সংগঠনটির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডা. মো. আতিকুর রহমান তালুকদারকে সংগঠনটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

নেশার টাকার জন্য বাবাকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

২২ বছর পর কারামুক্ত শ্রমিক নেতা নুরুল আমিন

গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন

গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকিতে ইসরায়েল : সিআই-এর প্রতিবেদন

নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের
নগরায়ণের সঙ্গে বাড়ছে লিফটের চাহিদা, উৎপাদনে জোর ওয়ালটনের

বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে ৫, ৬ ও ৭ অক্টোবরের আয়োজনে ওয়ালটনের প্রদর্শনীকেন্দ্রে এবার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে লিফট। বিভিন্ন ধরনের লিফটের পাশাপাশি এগুলোর উৎপাদন ও পরীক্ষার সক্ষমতাও তুলে ধরছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসিক ভবন থেকে শুরু করে হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন ও শিল্পকারখানার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের লিফট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ালটন।

News অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড়

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ

কায়দা করেই বিশ্বসেরা মেসি

কায়দা করেই বিশ্বসেরা মেসি

0 Comments