বাংলাদেশ

যক্ষ্মারোগী ধূমপান ছাড়ছে মুঠোফোনের বার্তায়

নভেম্বর ৫, ২০২৬
যক্ষ্মারোগী ধূমপান ছাড়ছে মুঠোফোনের বার্তায়
যক্ষ্মারোগী ধূমপান ছাড়ছে মুঠোফোনের বার্তায়
<p>মুঠোফোনের বার্তা ধূমপান ছেড়ে দিতে সহায়তা করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মুঠোফোনের বার্তা পেয়ে ৪২ শতাংশ যক্ষ্মারোগী ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ধূমপান প্রতিরোধ কর্মকাণ্ডকে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।</p><p>আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কুইট ফর টিবি ট্রায়াল’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা এসব তথ্য দেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর্ক ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্যবিদ দেশি–বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক, একাধিক ধূমপান ও তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মকর্তা ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন।</p><p>যক্ষ্মারোগীদের মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে ধূমপান থেকে বিরত রাখার গবেষণাটি যৌথভাবে করেছে বাংলাদেশের আর্ক ফাউন্ডেশন ও পাকিস্তানের ইসলামাবাদের দ্য ইনিশিয়েটিভ। যুক্তরাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ও এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ধূমপান যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, ধূমপান যক্ষ্মায় মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। ধূমপান ছাড়লে যক্ষ্মায় আক্রান্তের ঝুঁকি ও যক্ষ্মায় মৃত্যুর ঝুঁকি কমে।</p><p><strong>গবেষণাপদ্ধতি ও ফলাফল</strong></p><p>অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কামরান সিদ্দিকি। তিনি বলেন, গবেষণাটি হয়েছে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে দুই দেশের ২৭টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৮০ জন যক্ষ্মারোগীকে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের একটি অংশকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ১৩৪টি বার্তা মুঠোফোনে ছয় মাসের মধ্যে দেওয়া হয়। অন্য অংশকে কিছুই দেওয়া হয়নি। ছয় মাস পর দেখা গেছে, মুঠোফোনে বার্তা পাওয়া যক্ষ্মারোগীদের মধ্যে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। যাঁরা কোনো বার্তা পাননি, তাঁদের মধ্যে ধূমপান ছেড়েছেন ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।</p><p>দ্বিতীয় পর্যায়ে গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭৬৪ জন যক্ষ্মারোগীকে। তাঁদের সমান দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলকে মুঠোফোনে খুদে বার্তা দেওয়া হয়। রোগীদের অন্য অংশকে ধূমপান ছাড়ার ব্যাপারে মুখোমুখি বসে পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাতে দেখা গেছে, ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা মুখোমুখি বসে পরামর্শ পাওয়া যক্ষ্মারোগীদের মধ্যে বেশি। এই অংশের মধ্যে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার হার ৬২ দশমিক ১ শতাংশ। আর মুঠোফোনে বার্তা পাওয়া রোগীদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ।</p><p>কামরান সিদ্দিকি বলেন, মুঠোফোনে পাঠানো বার্তাগুলো ছিল যক্ষ্মা বা যক্ষ্মার বিপদবিষয়ক। আর বাংলাদেশে এসব বার্তা ছিল বাংলা ভাষায়।</p><p>গবেষণার প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে। দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে।</p><p><strong>সরকার কী করছে</strong></p><p>আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, দেশে প্রতিদিন ধূমপানের কারণে প্রায় সাড়ে ৫০০ এবং যক্ষ্মার কারণে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়। অর্থের অভাব না থাকলেও দেশে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সমস্যা আছে। পরিকল্পনা নেই, আছে জনবলের সমস্যা। তিনি মাঠপর্যায়ের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, রোগীরা ঠিকমতো যক্ষ্মার ওষুধ খাচ্ছেন না।</p><p>আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলেন, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ধূমপান প্রতিরোধের বিষয়টি যুক্ত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আতিকুল হক বলেন, বাংলাদেশের ধূমপায়ীদের ৭০ শতাংশ ধূমপান ছেড়ে দিতে চান। এ বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংগঠনের কাজের সমন্বয়ে ঘাটতি আছে। এ ছাড়া মানুষকে বোঝাতে বা ধূমপান ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি আছে।</p><p>অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক রুমানা হক বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়কে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।</p>

Prothomalo

View more
অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না ম্যাককেনা
অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না ম্যাককেনা

হলিউডে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজের কিছু নীতিতে অটল থাকতে চান অভিনেত্রী ম্যাককেনা গ্রেস।

নভেম্বর ৫, ২০২৬
পোশাকশিল্পে অস্থিরতার সৃষ্টিতে অর্থায়নের অভিযোগে ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ
পোশাকশিল্পে অস্থিরতার সৃষ্টিতে অর্থায়নের অভিযোগে ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টিতে অর্থায়নের অভিযোগে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর

নভেম্বর ৫, ২০২৬
উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হেনস্তার শিকার ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী ঘটনা সম্পর্কে যা বললেন
উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হেনস্তার শিকার ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী ঘটনা সম্পর্কে যা বললেন

<p> ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে গিয়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের রোষের মুখে পড়েছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল বুধবার তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল ছাড়তে হয় তাঁকে।</p><p> ঘটনার পর নিজের অবস্থান তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে লিখিত প্রতিবেদন দিয়েছেন এই ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে লোকজন জড়ো করা হয়েছিল। তবে তাঁর সেই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কাজ থেকে বিরত রাখার সুপারিশ করেছেন।</p><p> গতকাল দুপুরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের পাকার মাথা এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় অতীশ দর্শী চাকমাকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা। একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পরে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।</p><p>ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ছিল, জরিমানা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযানের দলে থাকা একজন এক দোকানির কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছেন। পরে ওই টাকা তাঁর কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।</p><p>ঘটনার বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ফুটপাতে দোকান থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট। জরিমানার রসিদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকানিদের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।</p><blockquote>ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিবেদনে বলেছেন, অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের পক্ষের লোকজন ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়ক ও এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে এবং দেশের প্রবেশদ্বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আরও শক্তিশালী অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।</blockquote><p><strong>ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয়পত্র ছিল না</strong></p><p>ঘটনার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-১-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত প্রতিবেদন দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা। প্রতিবেদনে তিনি জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে এডিস মশার বংশ বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের রাস্তা-ফুটপাত ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ৪ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে রাজউক কলেজের সামনের সড়কে অভিযান চালানো হয়।</p><p>প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন জসীমউদ্‌দীন সড়কে (১ ও ৩ নম্বর সেক্টরের মাঝামাঝি) একটি অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকানকে ফুটপাত অপরিচ্ছন্ন করতে দেখা যায়। ওই দোকানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানালে আশপাশের লোকজন জড়ো হন।</p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর লোকজন তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আরও লোকজন জড়ো হলে তিনি কাছের একটি অস্থায়ী প্রেস ক্লাবে অবস্থান নেন।</p><p>এ ঘটনায় একটি দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী আগে থেকেই ভ্রাম্যমাণ আদালতকে চ্যালেঞ্জ করতে লোকজন জড়ো করার প্রস্তুতি রেখেছিল বলে অনুমান করেন তিনি। পরে উত্তরা পশ্চিম থানার কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা লোকজনকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর পুলিশসহ ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।</p><p>প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অবৈধ ফুটপাত দখলদারদের পক্ষের লোকজন ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বিমানবন্দর-সংলগ্ন সড়ক ও এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে এবং দেশের প্রবেশদ্বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আরও শক্তিশালী অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।</p><blockquote>ফুটপাতের অবৈধ দোকানদারদের সঙ্গে পাশের প্রেসক্লাবের সদস্যদের সমঝোতা রয়েছে। চলমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করে উচ্ছেদ অভিযান স্থবির করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এসব পরিস্থিতির বাইরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বগুণ, দল পরিচালনায় দক্ষতা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা।</blockquote><p><strong>নেতৃত্ব ও প্রস্তুতিতে ঘাটতি</strong></p><p>ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত প্রতিবেদন এবং অভিযানে থাকা সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর মতামত দেন। সেটা ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের কাছে দেওয়া হয়েছে।</p><p>মতামতে বলা হয়, অভিযানের সময় ওই দলের সঙ্গে কোনো পুলিশ ফোর্স ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতিও ছিল না। অভিযানে থাকা অন্য সদস্যদের ওপর ম্যাজিস্ট্রেটের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল না।</p><p>ঘটনার সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও উপস্থিত লোকজন ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি পরিষ্কারভাবে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে পারেননি। অভিযানে থাকা এক সদস্যের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও ম্যাজিস্ট্রেট এ বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য দেননি কিংবা কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানাননি। এতে তাঁর দুর্বলতার পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে বলে মতামতে উল্লেখ করা হয়।</p><p>ঘটনার পর তাঁকে মামলা করার কথা বলা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা পর্যন্ত তিনি কোনো মামলা করেননি। এ ছাড়া সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের মধ্যে পুলিশ ফোর্স না থাকায় তিনি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। ফলে কোনো বিষয়ে সঠিক জবাব দিতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি।</p><p>মতামতে আরও বলা হয়, ফুটপাতের অবৈধ দোকানদারদের সঙ্গে পাশের প্রেস ক্লাবের সদস্যদের সমঝোতা রয়েছে। চলমান ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করে উচ্ছেদ অভিযান স্থবির করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এসব পরিস্থিতির বাইরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বগুণ, দল পরিচালনায় দক্ষতা এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতায় যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা।</p><p>এ কারণে অতীশ দর্শী চাকমাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কাজ থেকে বিরত রাখা যথাযথ হবে বলে সুপারিশ করেন মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তবে সিটি করপোরেশনের সূত্র জানিয়েছে, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/xfiysm6kgv">উত্তরায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে ম্যাজিস্ট্রেটকে হেনস্তা </a></aside>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
বর্ণান্ধতা কী, কাদের ঝুঁকি বেশি 
বর্ণান্ধতা কী, কাদের ঝুঁকি বেশি 

চোখের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগকারী স্নায়ু বা অপটিক নার্ভ রঙের বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে।

নভেম্বর ৫, ২০২৬
রোনালদোর উত্থান, অর্জন ও বিদায়: ১৫ ছবিতে এক কিংবদন্তির গল্প
রোনালদোর উত্থান, অর্জন ও বিদায়: ১৫ ছবিতে এক কিংবদন্তির গল্প

পর্তুগালের হয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে খেলা এই মহাতারকার অবসর–ক্ষণে দেখুন পর্তুগাল জার্সিতে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ১৫টি মুহূর্ত।

নভেম্বর ৫, ২০২৬
অভিমানেই অবসর, তবুও রোনালদো অমলিন
অভিমানেই অবসর, তবুও রোনালদো অমলিন

পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসকে ঠিক দুইভাগে ভাগ করা যায়। রোনালদোর অভিষেকের আগে আর অভিষেকের পরে। শুনতে ঠিক যতটা বিশাল কিছু মনে হচ্ছে, বাস্তবে আসলেও তাই

নভেম্বর ৫, ২০২৬
গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা পলিসি বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা
গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা পলিসি বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা

<p>গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ও বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মেরিন (কার্গো) বিমা বিক্রিতে স্থগিতাদেশ জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। মেরিন ট্যারিফ হার লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানি দুটিকে আগামী তিন মাসের জন্য এ নির্দেশ দেওয়া হয়। মেরিন কার্গো বিমাকে বলা হয় সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন বিমা।</p><p> স্থগিত করার পাশাপাশি মেরিন (কার্গো) উপশ্রেণির নিবন্ধন কেন স্থগিত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কোম্পানি দুটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সংস্থাটি।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার আইডিআরএর পরিচালক (রেটিং, অডিট ও জরিপ) মো. মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরিত আলাদা দুই চিঠি গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স ও বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পাঠানো হয়। চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, সাধারণ বীমা করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে।</p><p>আইডিআরএ গ্রিন ডেল্টাকে বলেছে, সংস্থাটির পরিদর্শন দল গ্রিন ডেল্টার প্রধান কার্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছে, বিমা পলিসি ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত মেরিন ট্যারিফ (কার্গো) হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে বিভিন্ন হারে রেটে প্রিমিয়াম নিয়েছে। আইডিআরএর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘বিমা আইন ২০১০’-এর ৬০ ধারা এবং আইডিআরএর জারি করা ২০২১ সালের ৮৩ প্রজ্ঞাপনের লঙ্ঘন।</p><p>আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে, মেরিন কার্গোর বিদ্যমান ট্যারিফ হার দশমিক ৪৫ ও দশমিক ৩০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠান দুটি এ হার থেকে গ্রাহকদের ছাড় দেয়। অথচ বিমা আইনের ৬০ ধারায় বলা হয়েছে, বিমা পলিসি বিক্রি, নবায়ন বা চালু রাখার জন্য গ্রাহককে নির্ধারিত কমিশন বা প্রিমিয়ামের অংশবিশেষ ছাড় দেওয়া যাবে না। ২০২৫ সালে মেরিন বিমা থেকে দেশের নন লাইফ কোম্পানিগুলোর মোট প্রিমিয়াম আয় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।</p><p>একইভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকেও। আইন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে বিমা আইন ২০১০–এর ধারা ১০(২) মোতাবেক তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠান দুটির মেরিন (কার্গো) উপশ্রেণির সব ধরনের বিমা ব্যবসা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ধারা ১০(১) অনুযায়ী তাদের এই উপশ্রেণির নিবন্ধন কেন চূড়ান্তভাবে স্থগিত করা হবে না, আইডিআরএর কাছে তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে।</p><p>প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে জানতে গ্রিন ডেল্টার মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরীকে ফোনে না পেয়ে খুদে বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।</p><p>বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫০ শতাংশ ব্যবসায়ের জন্য আমরা বিদেশের বাজারে গিয়েছি। এতে আয় হয়েছে আমাদের। আবার গ্রাহকদের জন্যও ভালো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির আগে আইডিআরএ আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারত। তা সংস্থাটি করেনি।’</p>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
বাংলাদেশকে দুবার অলআউট করতে চান উইকহাম, তাসকিন বললেন ‘ও নতুন এসেছে’
বাংলাদেশকে দুবার অলআউট করতে চান উইকহাম, তাসকিন বললেন ‘ও নতুন এসেছে’

<p>৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেঞ্চুরি করা আমির জাঙ্গুও এখনো অপরাজিত আছেন। সিলেট টেস্টে ক্যারিবিয়ানরাই যে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে, আপাতত তা বলে দেওয়া যায় কোনো সংশয় ছাড়াই।</p><p> আগামীকাল সকালে দলের রানটা আরও বাড়িয়ে প্রথম ইনিংসেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলার প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই থাকবে তাদের; কিন্তু সেটি কত রান? সিলেটে আজ দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা ছিল অভিষেক ইনিংসে ফিফটি করা কেভিন উইকহামের কাছে।</p><p>উত্তরে কেভিন উইকহাম বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বড় সংগ্রহ গড়া—হতে পারে ৪০০ বা ৩৫০-এর বেশি। কারণ, উইকেট যেমন আচরণ করছে, তাতে একবার ব্যাটিং করেই বড় সংগ্রহ গড়ে নেওয়া ভালো হবে। এতে প্রতিপক্ষকে দুইবার অলআউট করার সুযোগ তৈরি হবে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/z5el0umf/820184_01_02.jpg"><figcaption>ফিফটির পর কেভিন উইকহাম</figcaption></figure><p>জাঙ্গুর সঙ্গে ১৩৩ রানের জুটিতে দলকে বড় রানের ভিতই গড়ে দিয়েছেন উইকহাম। ৬১ রান করে নিজে আউট হয়ে গেলেও অন্য ব্যাটসম্যানদের কাছে বড় প্রত্যাশার কথাই জানিয়ে রেখেছেন, ‘আমরা জানি, সময়ের সঙ্গে উইকেটের অবস্থা আরও খারাপ হবে। তাই ৩৫০-এর বেশি রান করতে পারলে ম্যাচে আমাদের জয়ের খুব ভালো সম্ভাবনা থাকবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/cricket/zvs0xnwxtj">আবার কি একই ভুল করল বাংলাদেশ</a></aside><aside><cite>তাসকিন আহমেদ, পেসার</cite>অভিষেকে রানও পেয়েছে, সে কারণেও ওর মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস কাজ করছে। তাই ও অনেক কিছুই বলতে পারে, এটা নিয়ে সমস্যা নেই।</aside><p>জাঙ্গুর কথাটাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের কাছে। দলের প্রতিনিধি হয়ে প্রথম দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন তিনিও। উইকহ্যামের প্রথম ইনিংসে স্কোরবোর্ডে চার শ রান তুলে বাংলাদেশকে দুইবার অলআউট করার কথা শুনে পাল্টা খোঁচাই দিলেন তিনি, ‘ওর আজ অভিষেক হয়েছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই খুব রোমাঞ্চিত। অভিষেকে রানও পেয়েছে, সে কারণেও ওর মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস কাজ করছে। তাই ও অনেক কিছুই বলতে পারে, এটা নিয়ে সমস্যা নেই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/tdhmxcjk/819609_01_02.jpg"><figcaption>ব্র্যান্ডস কিংকে ফেরানোর পর তাসকিন আহমেদ</figcaption></figure><p>তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ইনিংসে কত রানে আটকে রাখতে চায় বাংলাদেশ? তাসকিনের উত্তর, ‘এমনও হতে পারে, ওরা ৪৫০ রান করবে, আবার কাল এক ঘণ্টার মধ্যেই ৫০ রানে অলআউট হয়ে যেতে পারে। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের মজা। তাই ওর কথায় খুব বেশি বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। ও নতুন এসেছে, স্বাভাবিকভাবেই অনেক কিছু বলবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/bar0k659ew">সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি গোল—আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর আরও রেকর্ড</a></aside>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
হাজারো আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে সংগীত প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন নাভহান
হাজারো আবেদনকারীকে পেছনে ফেলে সংগীত প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন নাভহান

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/hajaro-abednkareeke-pechne-fele-snggeet-prtizogitar-czampizn-navhan</figure>

নভেম্বর ৫, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।