ইসরায়েলের নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপের তদন্ত হচ্ছে
<p>পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ টন কাঁচা তামাক ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মেশানো আছে কি না, তা যাচাই করে দেখছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১০ কনটেইনার তামাক থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশের একাধিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে।</p><p> কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সন্দেহের সূত্রপাত তামাকের প্রাথমিক পরীক্ষায়। তাঁদের ভাষ্য, সাধারণভাবে আগুন দিয়ে পরীক্ষা করতে গিয়ে তামাকপাতায় সহজে আগুন ধরেনি। এ কারণে তামাকের সঙ্গে দৃশ্যমান নয়—এমন অন্য কোনো পদার্থ মেশানো আছে কি না, তা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।</p><p>বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ।</p><p>রেজভী আহমেদ বলেন, ‘সাধারণ টেবিল টেস্টে এই তামাকপাতায় সহজে আগুন ধরছিল না। তাই এর মধ্যে অন্য কোনো ক্ষতিকর সাবস্ট্যান্স বা রাসায়নিক পদার্থ মেশানো আছে কি না, সে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। খালি চোখে এটি শনাক্ত করা সম্ভব নয়।’</p><p>রেজভী আহমেদ জানান, প্রতিটি কনটেইনার থেকে পর্যাপ্ত নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্তে অবৈধ কিছু পাওয়া গেলে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p><p><strong>বন্ড সুবিধায় এসেছে ১০টি কনটেইনার</strong></p><p>কুষ্টিয়ার গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড বন্ড সুবিধায় ১০ কনটেইনার কাঁচা তামাক আমদানি করেছে। চালানটি এসেছে পাকিস্তান থেকে।</p><p>কাস্টমস গোয়েন্দার তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক নথিতে দুবাইয়ের ‘টেট্রা ট্রেড এফজেডসিও’ এবং পাকিস্তানের ‘আলী লিফ ট্রেডার্স’-এর নাম রয়েছে। চালানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের ইসলাম অ্যান্ড সন্স।</p><p>১৯ অক্টোবর চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। পরদিন ২০ অক্টোবর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। তবে শুল্কায়ন ও খালাসের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানটি আটকে দেয় কাস্টমস গোয়েন্দা।</p><p>এর আগে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকোর কুষ্টিয়ার কারখানায় অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। পরে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।</p><p>তামাকের আমদানিমূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। চালানটিতে প্রতি কেজির মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ ডলার।</p><p>কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাবে, ১০ কনটেইনার তামাকের মূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে প্রায় ২১ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে। মূল্য ঘোষণার এই অস্বাভাবিকতার সঙ্গে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/7581l6wg/WhatsApp-Image-2026-10-29-at-10.57.34-PM.jpeg"><figcaption>চট্টগ্রামে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ</figcaption></figure><p><strong>‘৪৯৪ কোটি টাকার সিগারেট তৈরি সম্ভব’</strong></p><p>সংবাদ সম্মেলনে কাস্টমস গোয়েন্দার মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ বলেন, বন্দরে আটকে রাখা প্রায় ১৫০ টন তামাক দিয়ে বিপুল পরিমাণ সিগারেট তৈরি করা সম্ভব।</p><p>কাস্টমস গোয়েন্দার হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ তামাক দিয়ে প্রায় ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট তৈরি করা যেত। ওই সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকা হতে পারে বলে দাবি করেন কর্মকর্তারা।</p><p>তাঁদের ভাষ্য, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে তামাকটি খোলাবাজারে চলে গেলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাত এবং বৈধ সিগারেট প্রস্তুতকারকেরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ত।</p><p><strong>খালাস বন্ধ, বন্ড লাইসেন্সও স্থগিত</strong></p><p>অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১০ কনটেইনার তামাকের খালাস বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির বন্ড লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।</p><p>প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিচারাধীন। শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালানটি খালাসের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।</p><p>কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, চালানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের অতীত কার্যক্রমও খতিয়ে দেখা হবে।</p><p>কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান নিয়ে জানতে চাইলে গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানান, প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ রপ্তানিমুখী। কোম্পানি প্রাপ্যতা অনুযায়ী কাঁচামাল আমদানি করেছে। যে দামে কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে, তার দ্বিগুণ বা তিন গুণ দামে রপ্তানি হচ্ছে। অর্থাৎ মূল্য সংযোজন হচ্ছে। কাস্টমস গোয়েন্দা যেসব বিষয়ে অভিযোগ করেছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন এই পরিচালক।</p><p>তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাঁচা তামাকে আর্দ্রতা বেশি ফলে সহজে আগুন ধরার কথা নয়। পরীক্ষা করা হোক। কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর বা যেকোনো সংস্থা তদন্ত করে দেখুক। আমরা সহযোগিতা করব।’</p><p>জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি গত অর্থবছরে ১ কোটি ৩ লাখ ডলারের তামাক রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা ১২৭ কোটি টাকা। প্রতি কেজি তামাক গড়ে ৩ ডলার ৬০ সেন্টে রপ্তানি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের ৯টি দেশে তারা তামাক রপ্তানি করেছে।</p>
<p>নিজেদের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা, চারপাশের পরিবেশ–প্রকৃতি, সংগ্রাম ও স্বপ্নগুলো নিজেদের মতো করে রঙে, নকশায়, বুননে, আকারে অবয়বে ফুটিয়ে তুলেছেন দেশের প্রান্তিক এলাকার ভূমিহীন মানুষেরা। তাঁদের সৃজিত শিল্পকর্ম নিয়ে ‘প্রান্তিকের কল্পজগৎ’ নামে এক বিশেষ শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শুরু হলো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে।</p><p>অধিকারভিত্তিক সংগঠন ‘নিজেরা করি’র পথচলার ৪৫ বছর পূর্তি হলো। এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি শুরু হলো এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনী দিয়ে। নিজেরা করির বিভিন্ন শাখার সদস্য এবং তাঁদের পরিবারে শিশু, কিশোরেরা এসব শিল্পকর্ম করেছেন। তাঁদের সহায়তা করেছেন বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের শিল্পীরা। প্রদর্শনীর কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করেছেন বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের ট্রাস্টি শিল্পী মাহ্বুবুর রহমান।</p><p>সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী অধ্যাপক আবুল বার্ক্ আলভী ও নিজেরা করির সদস্য খুলনার ভূমিহীন নেত্রী রাহেলা বেগম।</p><p>এই প্রদর্শনী আয়োজনে সহায়তা দিয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। প্রদর্শনী চলবে শনিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন খোলা থাকবে বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। নিজেরা করির বর্ষপূর্তির সমাপনী অনুষ্ঠান হবে শনিবার ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর মঞ্চে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নাটক পরিবেশনা দিয়ে।</p><p>সূচনা বক্তব্যে নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, ‘নিজেরা করি প্রথম থেকেই প্রান্তিক মানুষদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করে যাচ্ছে। আমরা ঋণ বা আর্থিক সাহায্য দেওয়া, প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো কাজ করি না। বরং প্রান্তিক মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা, শোষণ–বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, গ্রামীণ এলাকার ভূমিহীন নারীদের পুরুষদের সঙ্গে কাজ করা ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালানোর জন্য অনুপ্রাণিত করে থাকি।’</p><p>দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিজেরা করির কর্ম এলাকায় ১১ হাজার ৫৮৩টি ভূমিহীন মানুষের দল সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে খুশী কবির বলেন, এর মধ্যে নারীদের দল আছে ৬ হাজার ৭৫৭টি। প্রান্তিক মানুষের এই দলগুলোতে মোট ২ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি সদস্য যুক্ত রয়েছেন। তাঁরা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নারীর অধিকারকে এগিয়ে নেওয়া ও মৌলবাদকে মোকাবিলার মতো কাজ করে যাচ্ছেন</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/j7mwn42s/_F6A1890074000.JPG"><figcaption>প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে শিল্পী আবুল বার্ক্ আলভী। পাশে রাহেলা বেগম ও খুশী কবির</figcaption></figure><p>প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে শিল্পী আবুল বার্ক্ আলভী বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। শিশু থেকে পরিণত বয়সের অনেক মানুষের তৈরি শিল্পকর্ম এখানে রয়েছে। তাঁরা যদিও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিল্পকলার শিক্ষা গ্রহণ করেননি, তবে সহজাত সৌন্দর্যবোধের প্রকাশ ঘটেছে তাঁদের কাজে।</p><p>ভূমিহীন নারী নেত্রী রাহেলা বেগম শুরু থেকেই যুক্ত রয়েছেন নিজেরা করির সঙ্গে। তিনি বলেন, একসময় তিনি মানুষের সামনে এসে কথা বলতে পারতেন না। কিন্তু এখন জানেন নাগরিক হিসেবে, নারী হিসেবে তাঁদের কী অধিকার আছে। সেই অধিকার আদায়ের জন্য এখন সবার সামনে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে পারেন।</p><p>এই প্রদর্শনীতে মূলত তিন রকমের কাজ আছে। খবরের কাগজের ওপর নানা বিষয়ের এঁকেছে শিশুরা। আরেক ধরনের কাজ অ্যাপ্লিকের নকশায় করা। এসব অ্যাপ্লিকের কাজ বিশালাকার কাপড়ের ওপরে বসানো হয়েছে। দেখতে অনেকটা নকশিকাঁথার মতো মনে হয়। তবে নকশাগুলো অনেক বড় আর প্রতিটিই আলাদা ধরনের। অন্য কাজগুলো কাপড় ও তুলা দিয়ে তৈরি করা পুতুল। এসব ছবি ও পুতুলের বিষয়বস্তু হিসেবে এসেছে সবজি বিক্রেতা, ফুল, ময়ূর, শহীদ মিনার, হাঁস, খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা, কুঁড়েঘর, হাতি, বাঘ প্রভৃতি। এ ছাড়া জামদানি শাড়ির ওপর বিভিন্ন দাবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অ্যাপ্লিকের নকশায়। ব্যানারের মতো করে এই শাড়িগুলো ঝুলিয়ে দেওয়া হয়ে ছাদ থেকে। এসব দাবির মধ্যে আছে ‘নারীর অধিকার মানবাধিকার/ সম্পদে তার সম অধিকার’, ‘অংশীদারত্ব নিশ্চিত করো/ দুর্নীতি প্রতিরোধ কর’ ইত্যাদি।</p><p>প্রদর্শন কক্ষের মেঝের মাঝখানে এবং বাইরে দেওয়া সাজিয়ে রাখা হয়েছে পুতুলগুলো। বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের সঙ্গে ‘জলপুতুল পাপেটস’ অংশ নিয়ে পুতুল তৈরির কলাকৌশল শিখিয়েছে নিজেরা করির সদস্যদের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/z5dt6p3m/_F6A1911074013.JPG"><figcaption>প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অতিথিরা। ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><p>প্রদর্শনীর কিউরেটর মাহ্বুবুর রহমান <em>প্রথম আলো</em>কে বললেন, নিজেরা করির সঙ্গে বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট আগেও বেশ কিছু কাজ করেছে। এবার নিজেরা করির খুলনার পাইকগাছা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, নোয়াখালীর চরজব্বার এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী এলাকায় গিয়ে প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে অনেকটা কর্মশালার আঙ্গিকে কাজ করেছে। শিশু থেকে নানা বয়সী মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের মতো করে ছবি এঁকেছেন, নকশা করেছেন। তাঁদের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা এর মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। বৃত্ত আর্ট ট্রাস্ট জলপুতুলের কর্মীরা তাদের কাজের কারিগরি সহায়তা দিয়েছে, পরামর্শ দিয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের স্বাধীন চিন্তাভাবনা থেকেই কাজগুলো করেছেন।</p><p>বৃত্তের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ইমরান হোসেন, মেহেদী হাসান, ফারহানা ফেরদৌসী, শাহরিয়ার শাওন, মোকাদেসুর রহমান, আমির ফয়সাল, মাহ্বুবুর রহমান, শিমুল সাহা, ফারহানা নাজ ও জিন্নাতুন জান্নাত। জলপুতুলের দলের প্রধান ছিলেন শাহরিয়ার শাওন।</p><p>প্রান্তিক মানুষের আশা–আকাঙ্ক্ষার বর্ণিল প্রকাশ ঘটেছে তাদের এসব শিল্পকর্মে। পদ্ধতিগত শিল্পকলা প্রদর্শনীর থেকে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দর্শকদের ভিন্ন ধরনের আনন্দ দেব।</p>
প্রথম ম্যাচেই সাবিনার গোল, ফাইনালে ফরহাদ একাডেমি
গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি–নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে জাপানের কাছে ৬–১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ
রাজধানীর মণিপুরিপাড়ায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবাকে ভিডিও কল করেছিলেন জুমরাতুন নেছা বর্ষা। কিছুক্ষণ পরই তাঁর মৃত্যুর খবর পায় পরিবার
<p>ফরিদপুর শহরে দিনদুপুরে আদালতপাড়া এলাকা থেকে মো. বাচ্চু খাঁ (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। ওই ব্যক্তির হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের লাশকাটা ঘর বস্তি এলাকায় রেললাইনের পাশে কুপিয়ে আহত করার এ ঘটনা ঘটে।</p><p> পরে এলাকাবাসী আহত বাচ্চু খাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ট্রমা সেন্টারে নিয়ে ভর্তি করেন।</p><p> বাচ্চু খাঁ ফরিদপুর শহরের লক্ষ্মীপুর ডগবস্তি এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মো. লাবলু খাঁর ছেলে। বাচ্চু খাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি ডেকোরেটরশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।</p><p>বাচ্চু খাঁর ভাই ডেকোরেটরশ্রমিক মো. বাদল খাঁ বলেন, বাচ্চু তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে আজ সকালে শহরের আদালতপাড়া এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ১৫–২০ জন সন্ত্রাসী বাচ্ছু খাঁকে একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে লাশকাটা ঘর বস্তি এলাকায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বাচ্চুর বাঁ হাতের এবং দুই পায়ের রগ কেটে দেয়।</p><p>ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান রাত ৮টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে জখম করার ঘটনা তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর নিতে ফরিদপুর ট্রমা সেন্টারে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।</p>
<p>ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩–এর বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট।</p><p>গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা এখনো চলছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩ আসন ও গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮ আসন পেতে যাচ্ছে। আর আরব দলগুলো পেতে যাচ্ছে ১৯টি আসন।</p><p>নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এককভাবে ২৭টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট। তাঁর জোটে থাকা ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। এ জোটের অন্য দলগুলোর মধ্যে ইতামার বেন গভিরের দল ওৎমা ইহুদিত ৭টি, আরিয়েহ দেদির দল শাস ৬টি ও বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি (আরজেডপি) ৬টি আসন পাচ্ছে।</p><p>তার মানে, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পর এ জোটে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ইউটিজে। জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, চ্যানেল ১৩ আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে গত মঙ্গলবার নির্বাচনের পর ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের (ইউটিজে) সদস্যরা নেতানিয়াহুর বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকটের সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও আইজেনকট ও তাঁর জোট এবং ইউটিজের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা না থাকায় ইউটিজের নেতারা আইজেনকটকে সহযোগিতা করতে চান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/qytchuw0lt">নেতানিয়াহুকে হটাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের আহ্বান মার্কিন ইহুদিদের</a></aside><p>চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের এক্সিট পোল প্রকাশের পর থেকেই ইউটিজের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তারা কথা বলেছে। ইউটিজে নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা আইজেনকটের একটি ফোনকলের জন্য অপেক্ষা করছেন। দলটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা আইজেনকটের সঙ্গে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে প্রস্তুত।</p><p>তবে আইজেনকট এখনো ইউটিজের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি বলে উল্লেখ করেছে চ্যানেল ১৩।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/45fmxny7ke">নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিত দিল আরব জোট</a></aside><p>জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে তাঁর দল ইয়াশার এককভাবে ২১টি আসন পেতে যাচ্ছে। এ জোটের বি’ইয়াসাদ ১২টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি ও ইয়াসরায়েল বেইতেইনু ৭টি আসন পেতে যাচ্ছে।<br>আর আরব দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্ট ১২টি ও মনসুর আব্বাসের দল রাআম ৮টি আসন পাচ্ছে।</p><p>এ অবস্থায় কারা কীভাবে সরকার গঠন করবে, কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, এসব পরিষ্কার নয়। কারণ, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির সরকার গঠনের লক্ষ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করবে কি না, সে ব্যাপারে তারা কিছু বলছে না। এ অবস্থায় উদারপন্থী ইহুদিরা আরবদের সঙ্গে জোট করতে বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।</p><p>বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখনো ‘ডাবল এনভেলপ’–এর ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার বিশেষ ব্যালট গণনা করা বাকি। এসব ভোট গণনার পর সমীকরণ কিছুটা বদলেও যেতে পারে। সেনাসদস্য, কারাবন্দী ও কূটনীতিকদের এসব ভোটের ফলে একটি বা দুটি আসনের ব্যবধানই সরকার গঠনের দর-কষাকষিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/iwxi4i4zp0">নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের</a></aside>
<p>ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক আসন জিততে পারেনি। এ অবস্থায় কারা কীভাবে সরকার গঠন করবে, কে হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, এসব পরিষ্কার নয়। কারণ, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির সরকার গঠনের লক্ষ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করবে কি না, সে ব্যাপারে তারা কিছু বলছে না। এ অবস্থায় উদারপন্থী ইহুদিরা আরবদের সঙ্গে জোট করতে বিরোধীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।</p><p> আজ বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় রাত আটটা) প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩ আসন, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮ আসন এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য ন্যূনতম ৬১টি আসন প্রয়োজন। নেতানিয়াহুর জোটের আসন না বাড়লেও তাঁর দল লিকুদ পার্টির একটি আসন বাড়ছে। তাঁর জোটের কট্টরপন্থী অংশীদার শাস দলের আসন একটি কমে যাচ্ছে।</p><p>বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখনো ‘ডাবল এনভেলপ’–এর ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার বিশেষ ব্যালট গণনা করা বাকি। এসব ভোট গণনার পর সমীকরণ কিছুটা বদলেও যেতে পারে। সেনাসদস্য, কারাবন্দী ও কূটনীতিকদের এসব ভোটের ফলে একটি বা দুটি আসনের ব্যবধানই সরকার গঠনের দর-কষাকষিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।</p><p>সরকার গঠন নিয়ে এ জটিল সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছে আরব দলগুলো। প্রাথমিক গণনায় দুই আরব দল ও জোট মিলিয়ে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি এবং মনসুর আব্বাসের দল ‘রাআম’ ৭টি আসন পেতে পারে। সংখ্যার বিচারে এ ১৯ আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে।</p><p>তবে এ সমঝোতার পথে রয়েছে বড় ধরনের রাজনৈতিক বাধা। মার্কিন আর্মি ওয়ার কলেজের গবেষক জ্যাকব স্টয়েল বলেন, আইজেনকটের জোটের একাধিক নেতা নির্বাচনী প্রচারে আরবদের সঙ্গে সরকার না গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলের কট্টর ইহুদি ভোটারদের বড় অংশ আরবদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি হোক, সেটা দেখতে চান না। তা ছাড়া দুই আরব দলের অবস্থানও এক নয়। রাআম অতীতে সরকারে যোগ দিয়েছিল এবং আবারও যেতে ইতিবাচক। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট কোনো জায়নবাদী সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে নারাজ।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রগতিশীল ইহুদি লবি ‘জে স্ট্রিট’-এর প্রেসিডেন্ট জেরেমি বেন-অমি বলেছেন, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের প্রতিনিধিদের বৈধ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে গ্রহণ না করলে শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গড়া সম্ভব নয়। তিনি কট্টর ডানপন্থীদের বিকল্প সরকার গড়তে বিরোধীদের আরব দলগুলোর সঙ্গে হাত মেলানোর তাগিদ দেন। একই সুরে কথা বলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরো। তিনিও বলেন, আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করলে বিরোধীদের সামনে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বড় সুযোগ তৈরি হবে।</p><p>জ্যাকব স্টয়েলের মতে, এ অচলাবস্থা কাটাতে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে ‘সংখ্যালঘু সরকার’। এতে আরব দলগুলো মন্ত্রিসভায় সরাসরি অংশ না নিয়ে বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দিয়ে টিকিয়ে রাখবে। তবে এমন সরকারের পক্ষে পার্লামেন্টে আইন পাস করানো কঠিন হবে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।</p><p>নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সেনাসদস্য, কূটনীতিক ও কারাবন্দীদের বিশেষ ব্যালট গণনা শেষ হলে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। নতুন সরকার গঠন ও শপথ না নেওয়া পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।</p><p><strong>বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ</strong></p><p>ইসরায়েলে নির্বাচনের সময় আরব–অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় ভোটার উপস্থিতিকে প্রভাবিত করতে কাতার, তুরস্কসহ বিদেশি কোনো পক্ষ অর্থ পাঠিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেইত।</p><p>ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গের নির্দেশে বিদেশি অর্থায়ন ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপ–সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে এ তদন্ত চলছে।</p><p>ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে আরব দলগুলোর অভাবনীয় সাফল্যের পর ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি। ব্যালটের ফলাফলে আরব দলগুলোর সরকার গঠনে ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আভাস মেলার পরই এ অভিযোগ তোলে দলটি।</p><p>সোলবার্গ শিন বেইতের প্রধান ডেভিড জিনিকে সংস্থাটির তদন্তের ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।</p><p><strong>আরব দলগুলোর পক্ষে প্রসিডেন্ট</strong></p><p>ইসরায়েলের আরব ভোটারদের নিশানা করে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ কট্টর ইহুদি দলগুলো সমালোচনা শুরু করার পর তাদের পক্ষে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।</p><p>হারজগ বলেছেন, ‘এমন একটি মুহূর্তেও পুরো একটি সম্প্রদায়, যারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এবং গণতন্ত্রে সক্রিয় অংশ নিতে চেয়েছিল, তাদের কলঙ্কিত করা থেকে আমাদের অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।’</p><p>ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ তাঁর কট্টর ইহুদিবাদী সহযোগীরা ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যালট জালিয়াতির অভিযোগ তোলার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাঁর অবস্থানের জানান দিলেন।</p><p>ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বলেন, গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে তিনি দেশের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেইতের প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি ‘পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা উচিত’।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।