<p>ভারতের অরুণাচল প্রদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক তোঙ্গম রিনাকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করেছে অরুণাচল প্রদেশ প্রেসক্লাব (এপিসি) এবং অরুণাচল প্রদেশ ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস (এপিইউডব্লিউজে)। ২২ অক্টোবর পাসিঘাটে সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে ওই এলাকায় ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়। সেই ঘটনার তদন্তে পুলিশ আদালতে তল্লাশি পরোয়ানার আবেদন করে। সেই তালিকায় সাংবাদিক রিনার নাম থাকা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।</p><p> সাংবাদিক সংগঠনগুলোর দাবি এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক পেশার সঙ্গে যুক্তদের ভয় দেখানোর জন্যই তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। তোঙ্গম রিনা ‘দ্য অরুণাচল টাইমস’ পত্রিকার ডেপুটি এডিটর পদে কর্মরত।</p><p>ইস্ট সিয়াং জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে পুলিশ মোট চারজনের বাড়িতে তল্লাশির অনুমতি চায়। সেই তালিকায় দুই সক্রিয় আন্দোলনকর্মী, এক আইনজীবী এবং সাংবাদিক রিনা রয়েছেন। পুলিশ তাঁদের মোবাইল, ডিজিটাল ডিভাইস এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার অনুমতি চেয়েছিল।</p><p>রিনা সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি এ ধরনের হুমকিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু তারা সমস্যা এড়াতে পারবে না, কারণ বিষয়টি শুধু আমাকে নিয়ে নয়। সাংবাদিকতা যদি অপরাধ হয়, সক্রিয়তা যদি অপরাধ, তবে যারা রাষ্ট্রের কলকবজা ব্যবহার করে সহিংসতা ছড়ায়, তারা কারা?’</p><p>সংবাদমাধ্যম সংগঠনগুলো যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করা বা সরকারকে প্রশ্ন করাকে অপরাধমূলক কাজ বলা যায় না। তা ছাড়া কোনো স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া একজন নিরপেক্ষ সাংবাদিককে তদন্তের আওতায় আনা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।</p><p>সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পাসিঘাটের সহিংসতা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাকে উভয় সংগঠনই সমর্থন করে না। তবে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা দমন করার জন্য তদন্তপ্রক্রিয়া ব্যবহার করা উচিত নয় বলে তাদের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে।</p><p>দুই সাংবাদিক সংগঠনের তরফে রাজ্য সরকার ও পুলিশের কাছে ঘটনার স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশি তালিকায় রিনার নাম যদি ভুলভাবে যুক্ত করা হয়ে থাকে, তবে তা দ্রুত সংশোধনের দাবিও উঠেছে।</p><p>পুলিশ এই ঘটনায় মোট আটটি মামলা করেছে এবং ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বাধা দিলে কড়া আন্দোলনের বার্তা দিয়েছে সংগঠনগুলো।</p><p>রিনার ওপরে বড় ধরনের হামলা হয়েছে, তাঁর সাংবাদিকতার কারণে। ২০১২ সালের জুলাই মাসে, ইটানগরে ‘দ্য অরুণাচল টাইমস’ কার্যালয়ের বাইরে পেছন থেকে রিনাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা। গুলিটি তাঁর পেটে বিদ্ধ হয়ে অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মেরুদণ্ডে আঘাত করে। পরে তাঁকে অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।</p>
<p>মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে মেঘনা ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করছে। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতিমধ্যে বন্ডটি অনুমোদন করেছে।</p><p> সাত বছর মেয়াদি এ বন্ডের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহৃত হবে। এতে নিজেদের ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে ব্যাংকটি।</p><p> এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেঘনা ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা পরিপালন করা ব্যাংকগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ রকম পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখা এবং টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি এ অর্থায়ন শিল্পায়ন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে। এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা থাকবে।</p><h3>বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন </h3><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার এই দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ডটি দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন পেয়েছে। এ বন্ডের কুপন রেট পরিবর্তনশীল। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হারের গড়ের ভিত্তিতে বন্ডটির রেফারেন্স রেট নির্ধারিত হয়। এর সঙ্গে ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে কুপন রেট নির্ধারণ করা হয়েছে।</p><p>গত ৩০ সেপ্টেম্বর বন্ডটির কুপন রেট ছিল বার্ষিক ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এর মধ্যে রেফারেন্স রেট ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং মার্জিন ৩ শতাংশ। রেফারেন্স রেট পরিবর্তনের সঙ্গে ভবিষ্যতে কুপন রেটও পরিবর্তিত হবে।</p><h3>বিনিয়োগের সুযোগ ও সুবিধা</h3><p>মেঘনা ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের এ বন্ডের অভিহিত মূল্য প্রতি ইউনিট ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু করা এ বন্ডে যোগ্য ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রযোজ্য আইন ও শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারবে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মেইন বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্তির ফলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ডটি কেনাবেচার সুযোগ পাবেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজারে বিকল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে।</p><p>প্রযোজ্য আয়কর আইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির সুবাদে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এ বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বন্ডটিতে আবগারি শুল্ক নেই। ডিপিএস ও সাধারণ সঞ্চয়পত্রের মতো কিছু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা থাকলেও এ বন্ডে বিনিয়োগের পৃথক সর্বোচ্চ সীমা নেই।</p><p>মেঘনা ব্যাংক জানায়, প্রচলিত সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ডিপিএসের তুলনায় এ বন্ডে বেশি মুনাফা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের হিসাবে এটির বার্ষিক কুপন রেট ১২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, যা বর্তমান মেয়াদি আমানতের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি।</p><h3>যেভাবে মুনাফা ও মূলধন ফেরত দেবে </h3><p>সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্ডটির বিনিয়োগকারীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাবেন। আর তৃতীয় বছর শেষে মূলধন ফেরত দেওয়া শুরু হবে। শেষ পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধ করা হবে।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সব মিলিয়ে মেঘনা ব্যাংকের দ্বিতীয় সাব–অর্ডিনেটেড বন্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য বিকল্প বিনিয়োগের একটি সুযোগ তৈরি করছে। দেশের করপোরেট বন্ড বাজারের বিকাশেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।</p>
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা পেছাচ্ছে
সাত নম্বরে নামা ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার লিডটা শুধু দেড় শ–দুই শই পার করাননি, চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন।
<p>সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৫৯টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে এসব ফ্লাইটের ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। আজ শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।</p><p> বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৮২টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৫টি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে ৭৭টি। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।</p><p>১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলার পর ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর প্রভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।</p><p>এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইটের স্থগিতাদেশ আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২৫ অক্টোবর বিমান এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।</p><p>বিমানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন। যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে ঢাকা থেকে জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে মদিনা রুটেও নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।</p><p>স্থগিত থাকা ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছে বিমান। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি।</p>
<p>সরকারি বাসা বরাদ্দ নিয়ে নিজেরা না থেকে ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন, এমন সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার।</p><p> সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গত বৃহস্পতিবার রাতে এক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়েছে, ৩১ অক্টোবর, অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ভাড়াটেকে বিদায় করতে হবে।</p><p> সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ সরকারি বাসায় থাকে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে।</p><p> সরকারি বাসায় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের বাসাভাড়া ভাতা কেটে নেওয়া হয়। তারপরও সরকারি বাসার চাহিদা ব্যাপক। কারণ, সরকারি কলোনিতে খেলার মাঠ, খোলামেলা পরিবেশ, ভালো নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ নানা সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে কলোনির বাইরেই অনেক এলাকায় ঘিঞ্জি পরিবেশ। সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেরই অভিযোগ, শুরুতে বাসা বরাদ্দ পেতে বড় অঙ্কের ঘুষও দিতে হয়েছে তাঁদের।</p><p>সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনেকে বাসা ভাড়া দেন। কেউ পুরো বাসা ভাড়া দিয়ে দেন, কেউ আবার বাসার একটি বা দুটি কক্ষ ভাড়া দেন। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে মোটাদাগে বাসা ভাড়া দেওয়ার তিনটি কারণ জানা গেছে। প্রথমত, যাঁরা পুরো বাসা ভাড়া দেন, তাঁদের একাংশের উদ্দেশ্য থাকে কম ভাড়ায় বাইরে থাকা। সরকারি বাসাটি ভাড়া দিয়ে বাড়তি আয় করা। যেমন আজিমপুর কলোনিতে অনেক বেশি টাকায় সরকারি বাসা ভাড়া দেওয়া যায়।</p><p>দ্বিতীয়ত, পুরো বাসা ভাড়া দেওয়া আরেকাংশের যথেষ্ট উপরি অথবা অন্য আয় আছে। তাঁদের পুরোনো সরকারি বাসায় থাকতে আগ্রহ নেই। আবার বাসাটি ভাড়া দিয়ে বাড়তি আয়ও করতে চান তাঁরা।</p><p>তৃতীয়ত, বাসার একটি বা দুটি কক্ষ ভাড়া দেওয়ার কারণ মূলত বেতনের টাকায় চলতে না পারা।</p><p>ঢাকার একটি সরকারি কলোনিতে বাস করা একজন সরকারি চাকরিজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাসায় দুটি শয়নকক্ষ বা বেডরুম। একটি তিনি ভাড়া দেন আট হাজার টাকায়। তিনি বলেন, ২০২২ সাল থেকে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। খরচ সামলাতে না পেরে তিনি একটি কক্ষ ভাড়া দেওয়া শুরু করেন।</p><p>এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি বাসা ভাড়া দেওয়া বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী। একই সঙ্গে বরাদ্দ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো বাসায় সাবলেট বা ভাড়াটে পাওয়া গেলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p><p>একই সঙ্গে বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালার বিধি ১৪(৩) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ প্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/7jfi1apr6a">সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে হবে কালকের মধ্যেই, নয়তো বাসা বাতিল</a></aside><p>প্রশ্ন হলো, বৃহস্পতিবার নোটিশ দিয়ে শনিবারের মধ্যে বাসা ছাড়তে বলা যৌক্তিক কি না। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে বাসায় থাকছেন তাঁদের তো সময় দেওয়ার কথা নয়। সরকার তাঁদের সময় দেবে কেন?</p><p>এত কম সময়ে ভাড়াটেরা নতুন বাসা খুঁজবেন কীভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা তাঁদের বিষয়। তাঁদের তো এক দিনও অবৈধভাবে বাসায় থাকার কথা নয়।’ তিনি বলেন, সরকারি ভাষায় অবৈধভাবে বসবাস ঠেকাতে সরকার এবার কঠোর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি ‘সিরিয়াসলি’ দেখার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, অনেক দিন ধরেই ভাড়াটে বিদায় করতে মৌখিকভাবে বলা হচ্ছে।</p><p>অবশ্য কয়েকজন সরকারি চাকরিজীবী বলেছেন, তাঁরা কোনো নোটিশ পাননি। গতকালই আবাসন পরিদপ্তরের শক্ত অবস্থানের কথা জানতে পেরেছেন। কিন্তু এক দিন পরই কোনো ভাড়াটেকে বাসা ছাড়তে বলা কঠিন।</p><p>একজন সরকারি চাকরিজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আবাসন পরিদপ্তর স্বল্প সময়ের নোটিশ নিয়ে একটি বাণিজ্যের আয়োজন করেছে। এখন তারা বাসায় বাসায় যাবে। বরাদ্দ বাতিলের নোটিশ দেবে। তারপর টাকা দিয়ে বাসা রক্ষা করতে হবে।</p><p>অবশ্য অনেকেই বাসা ভাড়া দেওয়ার অনিয়ম দূর করা প্রয়োজন বলে মনে করেন। তাঁরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকিটা বাস্তবায়নের পথে। এখন সরকারি বাসা ভাড়া না দিয়েও চলা যাবে।</p><p>সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি বাসা ভাড়া দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সেই আইন প্রয়োগে আবাসন পরিদপ্তর এত দিন কী করেছে। এই সামান্য বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেন লাগবে। তিনি মনে করেন, তিন থেকে পাঁচ দিন সময় দিয়ে ভাড়াটে বিদায় করতে বলা দরকার।</p>
তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দীপের দেওয়া তথ্য যাচাই করছে পিবিআই। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে ৫০ গজ দূরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় মোটরসাইকেল পাওয়া গেলেও সেটি তাঁর কি না, এ নিয়ে যাচাই চলছে। বিস্তারিত ভিডিওতে...
<p>রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল এবং পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগের ও একজন যুবলীগের কর্মী।</p><p>গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শামিনুর রহমান (৫৩), তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুন্নাহার লিপি (৫০), তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজমুল হাসান (৪৯) এবং যুবলীগের কর্মী মো. বিল্লাল হোসেন (৪৫)।</p><p>ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ বেলা সোয়া ১২টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের মাঠসংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ১০ থেকে ১৫ জন কর্মী ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে এসে ব্যানার প্রদর্শন করেন। এ সময় ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাঁরা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালান। বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের আওয়াজ পেয়ে ধানমন্ডি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুর্বৃত্তরা তাঁকেও লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়লে তিনি কৌশলে নিজেকে রক্ষা করেন এবং নাজমুল ও বিল্লালকে আটক করেন। অন্যরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের পদচারী–সেতুর নিচে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে থেকে শামিনুর ও কামরুন্নাহারকে গ্রেপ্তার করে কলাবাগান থানা–পুলিশ।</p><p>কলাবাগান থানার ওসি মো. ফজলে আশিক প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পদচারী–সেতুর পূর্ব পাশের রাস্তায় তিনটি ককটেল ছোড়া হয়। সেগুলো বিস্ফোরিত হয়নি। তবে পশ্চিম পাশের রাস্তায় ছোড়া একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ হতাহত হননি।</p><p>ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযানকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি তাজা ককটেল উদ্ধার করে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০টিসহ সর্বমোট ১৩টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ১৩টি ককটেলই ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করেছে ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল।</p><h3>চারটি ককটেলসহ গ্রেপ্তার ২ </h3><p>এর আগে আজ সকাল সোয়া সাতটার দিকে রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলির একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জাহিদুল ইসলাম ওরফে অনিক (২১) এবং শিহাব হোসেন ওরফে অমিকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।</p><p>ডিএমপি জানায়, গত শুক্রবার রাতে রমনা শপিং কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই ঘটনায় রমনা মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই মামলার আসামি জাহিদুল ও শিহাবের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর জেরে সকালে নয়াটোলার চেয়ারম্যান গলির ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে অনিক ও শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁদের কাছ থেকে চারটি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএমপির বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে।</p>
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান আহমেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, সহযোদ্ধাদের স্মৃতি এবং একাত্তরের রণাঙ্গণের নানা অভিজ্ঞতা। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আয়োজনের সূচনা হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।