<p>চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ড–সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে। এতে শ্রমিক, পোশাকশিল্প ও দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।</p><p>আজ বুধবার রাতে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আয়োজিত শ্রমিক, মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।</p><p>মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সেখানে যাঁরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সাথে আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে সবার জন্য একটি গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি সুনিশ্চিত করবেন।’</p><p>মাহদী আমিন জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নিবিড়ভাবে কাজ করে ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে।</p><p>প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়েই বিশ্বজুড়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড পরিচিতি পেয়েছে। সরকার সব সময় সর্বোচ্চ মমত্ববোধ ও আন্তরিকতা নিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকবে।</p><p>পোশাকশিল্পের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ সভায় শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিক প্রতিনিধি এবং সরকার—আমরা সবাই মিলে একসাথে বসেছি। কারণ, এই দেশটাকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় এবং আমাদের গার্মেন্টস সেক্টরের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়, তবে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে।’</p><p>পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মাঝে কিছু বহিরাগত এসে উসকানি দিচ্ছে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।’</p><p>মাহদী আমিনের দাবি, কিছু সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটলেও নিরীহ সাধারণ শ্রমিকেরা এসবের সঙ্গে জড়িত নন। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।</p><p>আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেবেন বলে সরকার আশা করছে। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।</p><p>ত্রিপক্ষীয় সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ ও গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুসহ শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।</p>
<p>দক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার সংকল্প নিয়ে ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করলেন প্রথম আলোর কর্মীরা। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রথম আলোর ঢাকা ও সারা দেশের সর্বস্তরের কর্মীরা সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেদের দ্রুত খাপ খাইয়ে নতুন বাস্তবতার উপযোগী হয়ে ওঠা ও সত্যানুসন্ধানে অটল থাকার ওপর জোর দিয়েছেন।</p><p>সকাল নয়টায় প্রথম আলোর কর্মীরা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আসতে থাকেন। পুরুষদের গায়ে ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর টি-শার্ট আর নারী কর্মীরা পরেছিলেন শাড়ি। ‘অটল ২৮’ প্রতিপাদ্যের এ আয়োজনের আবহে সৃষ্টি হয়েছিল এক আলাদা ঐকতান। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় অনেকে আর সঙ্গে নেই, আবার নতুন মুখ এসেছে অনেক। নতুন-পুরোনোতে মেলামেশা, প্রীতিসম্ভাষণ, কুশলবিনিময় আর ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অন্তরঙ্গ কেটেছে সারা দিন। </p><p>অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনা দিয়ে। প্রথম আলোর লক্ষ্য তারুণ্যের শক্তি ও উদ্যমের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসর হওয়া। ৩০ বছরের কম বয়সী ৩০ কর্মী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুলের পরিচালনায়। ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীন বললেন, বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিবছর তিনি অংশ নিয়ে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতেন। সব বাধা অতিক্রম করে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে সত্য প্রকাশে অবিচল থাকার উৎসাহ দিতেন। প্রথম আলো সেই পথেই চলেছে। মব সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ করেও প্রথম আলোকে সত্যানুসন্ধানের পথ থেকে বিচ্যুত করা যায়নি। এ নিয়েই এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তথ্যচিত্র দেখার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি।</p><aside><cite>ম তামিম, উপাচার্য, আইইউবি</cite>‘প্রথম আলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা শুধু পূরণই করেনি, তার চেয়েও বেশি করেছে’</aside><p>তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘স্বপ্ন ও স্মৃতি দিয়ে গড়া আমাদের এ দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রথম আলো দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করে যাবে। প্রথম আলো অতীতে কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করেনি, জঙ্গিদের খুশি করতে পারেনি, সবার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করতে পারেনি। সে কারণে ২৮তম বর্ষপূর্তির দিন প্রথম আলো বলছে, ‘স্যরি’। এই আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত থাকবে, অটল থাকবে প্রথম আলো।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/fxtd0shzjz">স্যরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি </a></aside><h3>প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে প্রথম আলো </h3><p>প্রতিবছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মী সম্মেলনে প্রথম আলোর কর্মী ছাড়াও বেশ কিছু লেখক, পাঠক, মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী আসেন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে। এবার এসেছিলেন ম তামিম, আরিফ দৌলা, রুবানা হক ও মোশাররফ করিম। তাঁদের মঞ্চে আহ্বান করলেন সঞ্চালক কথা শোনার জন্য।</p><p>ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য ম তামিম বলেন, ১৯৯৫ সালে বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা শেষে দেশে ফেরার পর যখন প্রথম আলোতে তাঁর একটি সচিত্র সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল, তখন সেটি ছিল তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা। কারণ, দেশের শ্রেষ্ঠ পত্রিকায় তাঁর সাক্ষাৎকার তাঁকে খুবই অভিভূত করেছিল। তিনি বলেন, প্রথম আলো যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা শুধু পূরণই করেনি, তার চেয়েও বেশি করেছে। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের রোষানলে পড়েছে প্রথম আলো। এ থেকে প্রমাণিত হয় প্রথম আলো সঠিক পথেই রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে হামলার ঘটনার পরও প্রথম আলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা অব্যাহত রেখেছে, এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।</p><aside><cite>আরিফ দৌলা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এসিআই লিমিটেড </cite>প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজকল্যাণকর অনেক রকমের কাজ করে’ </aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/5627n5x0/Prothom-Alo28th06.jpg"><figcaption>মঞ্চে বাঁ থেকে আরিফ দৌলা, ম তামিম, রুবানা হক ও মোশাররফ করিম। </figcaption></figure><p>এসিআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ দৌলা বলেন, প্রথম আলো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজকল্যাণকর অনেক রকমের কাজ করে, অনেক উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এর মধ্যে বিশেষ করে গণিত নিয়ে সারা দেশে বেসরকারি পর্যায়ে প্রথম আলোর যে কার্যক্রম, তা তাঁকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবিকাশের বর্তমান পর্যায়ে এআই এসেছে। নতুন প্রজন্ম এসব প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। প্রথম আলোকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব পরিবর্তন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে।’</p><p>পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারপারসন এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সাবেক উপাচার্য রুবানা হক বলেন, ‘প্রথম আলো সত্যের আলো জ্বালিয়েছে। সেই আলোয় আমরা আমাদের চারপাশটা দেখতে পাই। ভবিষ্যতেও প্রথম আলো ন্যায্যতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। তাদের বর্তমান অবস্থান ধরে রাখবে।’ পাঠক কী পড়তে চায়, সে বিষয়টি সম্পর্কে মনোযোগী হতে তিনি পরামর্শ দেন।</p><aside><cite>মতিউর রহমান, প্রথম আলো সম্পাদক</cite>বাধা আসবে, অতীতেও এসেছে। কিন্তু আমরা দমে যাব না। সত্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারই হলো আমাদের প্রধান শক্তি। পাঠকের আস্থা আমাদের পুঁজি।</aside><p>অভিনয়শিল্পী মোশাররফ করিম বলেন, ‘বহু দিন থেকেই প্রথম আলোর সঙ্গে আছি। প্রথম আলোর অনেক আয়োজনে যুক্ত থেকেছি। আজও আছি। সহজ কথায় বলতে গেলে প্রথম আলো আমাকে ভালোবাসে। আমিও প্রথম আলোকে ভালোবাসি।’ অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয় হলেও মোশাররফ করিম কবিতার চর্চাও করেন। সঞ্চালকের অনুরোধে তিনি তাঁর ‘আড়িয়ালখাঁর জলস্রোত’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শোনান।</p><p>প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান অতিথিদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান।</p><h3>ভবিষ্যতের প্রথম আলো </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/wiedw6jx/IMG_3957.JPG"><figcaption>মঞ্চে বাঁ থেকে সাজ্জাদ শরিফ, শওকত হোসেন, জাবেদ সুলতান ও মোমেনুর রশিদ সিদ্দিকী</figcaption></figure><p>ছাপা পত্রিকা থেকে অনলাইন, ডিজিটাল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—এরপর সামনের লক্ষ্য কী। এ নিয়ে একটি সীমিত পরিসরের আলোচনায় ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরা হলো এই পর্বে। সঞ্চালক ছিলেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। তিনি বললেন, ‘১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর যখন আমরা প্রথম আলো নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখন এত কিছু ভাবিনি। এখন ভাবতে হচ্ছে, ২০৩০-এ পাঠক ঘুম থেকে উঠে কীভাবে খবর দেখবেন? তিনি কি ছাপা পত্রিকা পড়বেন? অনলাইনে সার্চ করবেন? না অন্য কোনো কিছু? মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন হচ্ছে। টিকে থাকতে হলে আমাদেরও সেভাবে বদলে ফেলতে হবে। উপযুক্ত প্রস্তুতি নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রথম আলো তেমন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অ্যাপ নতুন করে সাজানো হয়েছে। ‘শর্টস’, ‘ক্লিপস’, ‘গেমস’ নামে তিনটি নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। আরও নতুন নতুন ফিচার আসবে। এ ক্ষেত্রে বার্তাকক্ষের ভূমিকা কেমন হবে?</p><aside><cite>মোশাররফ করিম, অভিনয়শিল্পী </cite>‘প্রথম আলো আমাকে ভালোবাসে। আমিও প্রথম আলোকে ভালোবাসি’</aside><p>এ প্রশ্নে হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন বলেন, ‘এত দিন ধরে আমাদের ছাপা পত্রিকাকেন্দ্রিক একটি অভ্যস্ততা আছে। সেখান থেকে মানসিকভাবে আমাদের সরে আসতে হবে। ডিজিটালই প্রথম—এই মনোভাব থাকতে হবে। এর পাশাপাশি রিপোর্টের বিষয়বস্তু, লেখা ও উপস্থাপনার ধরন—সবই ডিজিটাল মাধ্যমের উপযোগী করে তুলতে হবে। এসব নিয়ে অনেক কাজ চলছে।’</p><p>হেড অব ডিজিটাল বিজনেস জাবেদ সুলতান বলেন, আগামী দিনে ডিজিটাল মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। রিপোর্ট ছাড়া আরও অনেক ক্ষেত্র আছে, সেখান থেকে আয় বৃদ্ধি করতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/2fhthckv/Prothom_Alo_anniversary_Tanvir_041126__57.jpg"><figcaption>প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে পুরস্কৃত সেরা কর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মীরা। </figcaption></figure><p>হেড অব রিসার্চ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মোমেনুর রশিদ সিদ্দিকী বলেন, আগামী দিনে প্রথম আলোর ডিজিটালের গুরুত্ব নানা দিক থেকেই বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত ছাপা পত্রিকাই সামাজিক প্রভাব, জনসাধারণের আস্থা ও আয়ের প্রধান উৎস। সে কারণে ছাপা পত্রিকার গুরুত্ব এখনো আছে।</p><p>উপসংহারে সাজ্জাদ শরিফ বলেন, ‘আমাদের পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নতুন কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে নতুন পথ ধরে আমাদের ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা করতে হবে।’</p><h3>সত্যর প্রতি অঙ্গীকারই আমাদের শক্তি </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/pu1a9mhr/PAlo_28_Aniversary_MIR_031126_47.jpg"><figcaption>প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান</figcaption></figure><p>শেষ আলোচক হিসেবে মঞ্চে আসেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রথম আলোকে একটি এআই-নির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে হবে। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রথম আলো এখন আরও বেশি ভবিষ্যৎমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সব বিভাগ নিজেদের তেমন করেই গড়ে তুলতে সচেষ্ট রয়েছে।</p><p>সম্পাদক বলেন, ‘ছাপা পত্রিকার প্রচারসংখ্যা বাড়ানো এখনো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটিই একমাত্র লক্ষ্য নয়। আমাদের সাংবাদিকতার গুণমান বাড়াতে হবে। স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নিজের আয় থেকে চলতে পারার কোনো বিকল্প নেই। আগামী দিনের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এসব বিষয় আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’</p><figure></figure><p>মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা আরও অনেক বহুমুখী কাজ করব। আমাদের প্রত্যেক বিভাগের কর্মীকে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। টিকে থাকতে হলে এটা সবাইকে করতে হবে। বাধা আসবে, অতীতেও এসেছে। কিন্তু আমরা দমে যাব না। সত্যের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারই হলো আমাদের প্রধান শক্তি। পাঠকের আস্থা আমাদের পুঁজি। এই শক্তি নিয়েই ভবিষ্যতের পথে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’</p><h3>পুরস্কার ও গানে গানে সমাপনী </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/yt0sufgl/Palo_28_Dipu_041126_76.jpg"><figcaption>কর্মী সম্মেলনের শেষে ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’ ব্যান্ডের পরিবেশনায় সংগীতশিল্পী ইমন চৌধুরী, এরফান মৃধা শিবলু ও আলেয়া বেগম। </figcaption></figure><p>আলোচনার পালা শেষ হলে ছিল পুরস্কার বিতরণী। প্রথম আলোর কর্মীদের কুইজ প্রতিযোগিতা, লেখা প্রতিযোগিতা ও সেরা কর্মীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এই পর্বে।</p><p>অনুষ্ঠান শেষ হয় হয় বেঙ্গল সিম্ফনির মনমাতানো গানে গানে। শিল্পীরা তুমুল যন্ত্রবাদন ও ‘বারো মাসে বারো ফুল’, ‘ঘুমাইলা ঘুমাইলা বন্ধু’, ‘তোমায় আমি পাইতে পারি বাজি’, ‘আটটা বাজে’, ‘সাদা সাদা কালা কালা’ গেয়ে কর্মীদের মাতিয়ে রাখেন।</p><p>গানের পরে মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষপূর্তির আনন্দঘন এই আয়োজন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/sppq3k75nx">প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেরা কর্মী যাঁরা</a></aside>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/rg8h050s/1.-Barishal-water-play.jpg"><figcaption>বুখাইনগর নদে ফুটবল নিয়ে দুরন্তপনায় মেতেছে শিশুরা। টুঙ্গিবাড়িয়া, বরিশাল, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/5yoioi6z/2.-Gazipur-protest-garments.jpg"><figcaption>মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ভোগড়া, গাজীপুর, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/jf1m5umk/3.-Faridpur-Bamboo-basket.jpg"><figcaption>নিজের তৈরি বাঁশের ঝাঁকা ভ্যানে সাজিয়ে বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে যাচ্ছেন এক কারিগর। বদরপুর, ফরিদপুর, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/56ywzx7n/4.-Faridpur-vagetable.jpg"><figcaption> এক বিঘা জমিতে ঢ্যাঁড়স চাষ করেছেন কৃষক সিরাজ শেখ। ভালো ফলন হওয়ায় শুরু করেছেন বিক্রি। ধোপাকান্দি, ফরিদপুর, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/layft539/5.-Sirajgonj-flower.jpg"><figcaption>চারদিকে লাল রং ছড়িয়ে ফুটেছে কলাবতী ফুল। ষোলমাইল, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ৪ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/od7hsel2/6.-Barishal-boat.jpg"><figcaption>মাছ শিকার শেষে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় বাড়ি ফিরছেন জেলেরা। টুঙ্গিবাড়িয়া, বরিশাল, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/djbbeeh0/7.-Khulna-Shapla.JPG"><figcaption>বিল থেকে শাপলা তুলে বাড়ি ফিরছে দুই শিশু। গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খুলনা, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/lmn2o56j/8.-Khulna-bird.JPG"><figcaption>ঘেরের বাঁশের বেষ্টনীর ওপর বিশ্রাম নিচ্ছে পানকৌড়ি। গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খুলনা, ৩ নভেম্বর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/9f0dfbt1/9.-Narayangonj-Garments-protest.jpg"><figcaption>৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। কাঠেরপুল, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ, ৪ নভেম্বর</figcaption></figure>
<p>রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০০ কোটি টাকা খরচ করে আরও তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন বানাবে সরকার। ১৩ তলাবিশিষ্ট এসব ভবনে মোট ১৮৪টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৮৫০ বর্গফুট। ১০ম থেকে ১২তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের আবাসন সুবিধার জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।</p><p>আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এসব প্রকল্পের মোট খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকা।</p><p>পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবাসন ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এসব ভবন তৈরিতে অর্থ দেবে সরকার। প্রকল্পের জন্য জিগাতলায় প্রায় ২ দশমিক ৪৪ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জিগাতলা সরকারি কলোনির ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ভবন ভেঙে নতুন তিনটি বহুতল ভবন তৈরি করা হবে। এর মধ্যে পুরোনো চারটি ভবন অপসারণের অনুমোদন দিয়েছে ভবন কনডেমনেশন কমিটি।</p><p>এদিকে বিগত সরকারের সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বেশ কিছু আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের কাঠের কারখানা এলাকায় পাঁচটি বহুতল ভবন, শিয়ালবাড়ি এলাকায় ছয়টি ভবন। এই দুই এলাকার ১১টি ভবনের প্রতিটি ১৪ তলা। এ ছাড়া নোয়াখালী ও নারায়ণগঞ্জে নির্মাণ করা হয় ১৫টি বহুতল ভবন।</p><p>জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, আবাসনসংকট বা ঘাটতি আছে। তবে ভবন যদি ব্যবহার না হয় বা ঠিকমতো বরাদ্দ না হয়, সেটার কারণ খুঁজে দেখা দরকার। কেন ভবন তৈরি হয় আর খালি পড়ে থাকে—সেই সমস্যার সমাধান আগে করা প্রয়োজন। তারপর নতুন করে প্রকল্প নেওয়া উচিত।</p><p>নতুন তিনটি ভবন নির্মাণ ছাড়াও আজকের একনেক সভায় মোট ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি টাকা, প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে নতুন ১১টি এবং সংশোধিত দুটি।</p>
<p>নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও ভারত থেকে সার্ভারে তথ্য প্রবেশাধিকারের (অ্যাকসেস) অভিযোগে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ডিজিই পেকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নেয়।</p><p>সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল ডিজিই পের অফিসে নিরীক্ষার জন্য যায়। নিরীক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা কথা বলে। এরপর ওই দিনই ডিজিই পেকে এনপিএসবি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।</p><p>ডিজিই পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ মাহমুদ জানান, এনপিএসবি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি তাঁরা গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছেন। অডিট চলাকালে বা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিত বা মৌখিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানায়নি। তবে এনপিএসবি-ভিত্তিক লেনদেন ছাড়া অন্যান্য সেবা চালু রয়েছে বলে জানান তিনি।</p><p>এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান প্রথম আলোকে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এসেছে। এ জন্য জাতীয় লেনদেনব্যবস্থায় তাদের যুক্ত রাখা নিরাপদ নয়। তাদের নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এরপরই তাদের লাইসেন্স নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।</p><p>ডিজিই পের সিইও রাশেদ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মূলত ভারতে অবস্থানরত তাদের ডেভেলপমেন্ট টিম নিয়ে আপত্তি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের টিম অডিট শেষে আমাদের মিড লেভেলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমাদের সিস্টেমে একটা ডেভেলপমেন্ট এবং হ্যান্ডওভার প্রসেস চলছিল। ভেন্ডর হিসেবে একটি ভারতীয় কোম্পানি কাজ পেয়েছে। ডেভেলপমেন্টের কাজের জন্য তাদের যদি ন্যূনতম অ্যাক্সেস দেওয়া না হয়, তবে তারা কাজ করবে কীভাবে? এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’</p><p>রাশেদ মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের অনেক সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকেও ভারতীয় ভেন্ডর দিয়ে অপারেশন মেইনটেইন করা হয়। তারপরও নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যেভাবে চেয়েছেন, ‘আমরা (ডিজিই-পে) সে অনুযায়ী গত সোমবার রাতেই ভারতীয় ডেভেলপমেন্ট টিমের কাছ থেকে সিস্টেমের দায়িত্ব ও হ্যান্ডওভার বুঝে নিয়েছি। ফলে আমাদের চলমান ডেভেলপমেন্ট কাজ আপাতত আটকে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তির জায়গাটি আমরা মিট করেছি।’</p><p>উল্লেখ্য, এনপিএসবি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত কেন্দ্রীয় পেমেন্ট নেটওয়ার্ক, যা দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের জন্য যুক্ত করে। আর ২০২৩ সালের আগস্টে পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স পায় ডিজিই-পে সার্ভিসেস লিমিটেড। বর্তমানে নিয়মিত ৬০০ থেকে ১,০০০ মার্চেন্টকে সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিজিই-পে দীপণ গ্রুপের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।</p>
<p>বিয়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পরকীয়ার অভিযোগ উঠেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার র্যাপার ইয়াং হং-ওনের বিরুদ্ধে। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্ত্রী মডেল ওন হিউন-জুর সঙ্গে বিয়ের সব ছবি মুছে দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।</p><p>গত ১৮ অক্টোবর বিয়ে করেন ইয়াং হং-ওন ও ওন হিউন-জু। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা। ২০২৪ সালে এই দম্পতির ঘরে আসে কন্যাসন্তান।</p><p>বিয়ের পাঁচ দিন পরই ইয়াং হং-ওনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি অন্য এক নারীকে নিয়ে মোটেলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা। ইয়াংয়ের সংস্থা এপি অ্যালকেমি ওই নারীর সঙ্গে তাঁর মোটেলে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। তবে তাঁদের মধ্যে কোনো অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক বা প্রেমের সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করে সংস্থাটি। এক অভিযোগকারী অর্থ দাবি করেছিলেন এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করে তারা। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/offo6gbm19">ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে বিতর্ক থেকে প্রেম–বিচ্ছেদ, সাড়া ফেলেছিলেন নতুন পরিচয়েও</a></aside><p>এদিকে মঙ্গলবার ইয়াং হং-ওনের সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের কোনো ছবিই আর নেই। এর আগে বিয়ের ছবির সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনও মুছে ফেলেছিলেন তিনি। সেখানে লিখেছিলেন, ‘হিউন-জু, আমি তোমাকে ভালোবাসি। এখনো মনে হচ্ছে, আমি যেন চনহো-দংয়ের কোনো মোটেলে ঢুকছি।’ এবার ছবিগুলোও সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে সেপ্টেম্বরে বিয়ের ফটোশুটের প্রস্তুতির সময় ওনের একটি ছবি এখনো তাঁর অ্যাকাউন্টে রয়েছে।</p><p>অভিযোগ সামনে আসার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষ্ক্রিয় ওন হিউন-জু। নিজের আগের সব পোস্টও মুছে দিয়েছেন তিনি। দুজনই একে অপরকে আনফলো করেছেন।</p><p>গত শনিবার ড্রেকের ‘ডব্লিউএনবিএ’ গানটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন ইয়াং। গানটির কথায় দূরত্ব তৈরি হওয়া, কিন্তু সহজে সম্পর্ক শেষ করতে না পারার ইঙ্গিত রয়েছে। এটা নিয়েও তাঁদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।</p><p><sup>কোরিয়া টাইমস অবলম্বনে</sup></p>
<p>সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে এশিয়া ফাউন্ডেশন ও সাজেদা ফাউন্ডেশন। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত কর্মসূচিটির আওতায় ৯০ হাজারের বেশি উদ্যোক্তাকে সাইবার হাইজিন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।</p><p>ঢাকায় আজ বুধবার ‘সাইবাররেডি: সেলিব্রেটিং দ্য জার্নি অব সাইবার-সেফ এমএসএমই’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বক্তারা বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান (এমএসএমই) ক্রমেই ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাইবার হামলা, ফিশিং ও প্রতারণামূলক লেনদেনের কারণে ছোট ব্যবসায়ের আয় কমতে পারে, গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে, এমনকি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।</p><p>‘এপ্যাক সাইবার সিকিউরিটি ফান্ড’ শীর্ষক একটি প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের জনহিতৈষী সংস্থা গুগল ডট ওআরজির আর্থিক সহায়তায় এশিয়া ফাউন্ডেশন এপ্যাক সাইবার সিকিউরিটি ফান্ড পরিচালনা করছে। প্রকল্পটির স্থানীয় অংশীদার হলো সাজেদা ফাউন্ডেশন। তারাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে।</p><p>অনুষ্ঠানে এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও প্রতারণা ও শোষণ থেকে সুরক্ষা প্রয়োজন।</p><p>এশিয়া ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ইকোনমি প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যান্থিয়া মুলাকালা বলেন, সাইবার হাইজিন মানুষের জীবিকা রক্ষা, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থা বাড়ানোয় ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে প্রকল্পটির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।</p><p>সাইবার হাইজিন হলো সাইবার হুমকি থেকে ডিজিটাল ডিভাইস, নেটওয়ার্ক ও সংবেদনশীল তথ্য-উপাত্ত নিরাপদ রাখার নিয়ম ও কার্যপদ্ধতি মেনে চলার চর্চা।</p><p>সাজেদা ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মো. নোমানুজ্জামান এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ইজলাল হোসেন জানান, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজে লাগানোয় কর্মসূচিটি কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের আগে থেকেই আস্থা ও বোঝাপড়া থাকায় প্রশিক্ষণের জ্ঞান সহজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।</p><p>অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে এমএসএমইর জন্য সাইবার-সহনশীল ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা হয়। এতে ইনস্পিরা অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুনতাসির তাহমিদ চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধ এখন বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ব্যবসার জন্যও বড় হুমকি। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা, কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা জরুরি।</p><p>সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও ফজলুল হক বলেন, অনেক উদ্যোক্তা পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও অনলাইন ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়াই ডিজিটাল সেবা নিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রতারকেরা নিয়মিত কৌশল বদলানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।</p><p>অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. খাইরুল আনাম এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল স্কিলসবিষয়ক পরিচালক নাদিয়া সুব্রামানিয়াম।</p>
<p>পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগ, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।</p><p>বুধবার এক বিবৃতিতে জি এম কাদের বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ সরকার তাঁদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল না হয়ে দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।</p><p>গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তৌফিক নামের এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, নিহতের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।</p><p>বিবৃতিতে জি এম কাদের আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহসংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সমস্যায় পোশাকশিল্পের মালিকেরাও এখন তীব্র চাপে রয়েছেন। ফলে শ্রমিক ও মালিক—উভয় পক্ষের দাবির ন্যায্য সমাধানের দায়িত্ব সরকারের।</p><p>শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়ার প্রস্তাব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এ জন্য তিনি নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া অথবা রেশনিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ ও রান্নার জ্বালানি শ্রমিকদের মধ্যে সরবরাহের পরামর্শ দেন।</p>
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বড় ছেলের ঘরে আশ্রয় পেয়েছেন বৃদ্ধ শামসুল হক মোল্লা। আজ বুধবার দুপুরে বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা নিজ বাড়িতে তাঁর বাবাকে নিয়ে যান।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।