পূজা-বড় জমায়েতে অসুস্থতা এড়াতে যে বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকা জরুরি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে দুটি স্পিডবোটে অগ্নিসংযোগ ও পরে মাঝনদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ডে কয়েকটি আলামতে গ্রেপ্তার দুই আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ পাওয়া গেছে।
<p>২০২১ সালে মাসে ৫০ হাজার টাকায় সংসার চলত আজহার হোসেনের (ছদ্মনাম)। এর বাইরে কিছু অর্থ হাতে থাকত, যা তিনি সঞ্চয় করতেন। কিন্তু কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা ও যাতায়াতের খরচ বেড়ে গেছে। এখন একই সংসার চালাতে মাসে ৭০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় মাসে অন্তত ২০ হাজার টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে তাঁকে। বছরে বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ অন্তত ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।</p><p> বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন আজহার হোসেন। গত পাঁচ বছরে তাঁর মাসিক ব্যয় বাড়লেও বেতন সেই হারে বাড়েনি। ফলে এখন সঞ্চয় ভেঙে চলতে হচ্ছে। কখনো কখনো বাড়তি আয়ের জন্য অতিরিক্ত কাজও করেন। এভাবে জোড়াতালি দিয়ে সংসার চললেও তাঁর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে। </p><p> চার বছরের বেশি সময় ধরে দেশের সাধারণ গড় মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে রয়েছে। ফলে আজহারের অভিজ্ঞতা শুধু তাঁর পরিবারের নয়। নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকেই আগের চেয়ে বেশি খরচ করতে হচ্ছে। কিন্তু কারও আয়ই সেভাবে বাড়েনি। এতে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।</p><p> এ পরিস্থিতিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। তবে সঞ্চয়ের কৌশল ঠিক করার আগে বুঝতে হবে, কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে এবং কোথায় খরচ কমানোর সুযোগ রয়েছে।</p><h3>কোন খাতে বেশি খরচ হচ্ছে </h3><p>সংসারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ হলো আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব রাখা। এ জন্য মাসের শুরুতে সম্ভাব্য খরচের তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। মাস শেষে সে তালিকার সঙ্গে প্রকৃত ব্যয়ের হিসাব মেলালে বোঝা যাবে, কোন খাতে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। এতে পরবর্তী মাসের জন্য ব্যয়ের পরিকল্পনা করা সহজ হবে।</p><p>সাধারণত পরিবারের খরচ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। নিয়মিত প্রয়োজনীয় খরচের মধ্যে রয়েছে বাসাভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, যাতায়াত ও সন্তানের পড়াশোনা। ব্যক্তিগত প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে চিকিৎসা, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা। বাইরে খাওয়া, বিনোদন, ঘোরাঘুরি ও তাৎক্ষণিক কেনাকাটা পরিবর্তনশীল ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সঞ্চয়, জরুরি তহবিল ও ঋণ পরিশোধের জন্যও অর্থ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।</p><p>প্রতিদিনের খরচ মুঠোফোনের নোট, খাতা বা স্প্রেডশিটে লিখে রাখা যায়। ছোট ছোট খরচ আলাদাভাবে খুব বেশি মনে না হলেও মাস শেষে তা বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। তাই নিয়মিত হিসাব রাখা জরুরি।</p><blockquote>ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের সূত্র: বহুল আলোচিত একটি পদ্ধতি হলো ৫০/৩০/২০ নিয়ম। সাবেক মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও তাঁর মেয়ে অ্যামেলিয়া ওয়ারেন তিয়াগি তাঁদের ‘অল ইয়োর ওর্থ: দ্য আলটিমেট লাইফটাইম মানি প্ল্যান’ নামে একটি বইয়ে এ পদ্ধতির কথা তুলে ধরেন। তাঁরা কর-পরবর্তী আয়ের ৫০% প্রয়োজনীয় খরচে, ৩০% ব্যক্তিগত পছন্দের খাতে এবং ২০% সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। </blockquote><h3>সঞ্চয়ের নিয়ম </h3><p>ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় বহুল আলোচিত একটি পদ্ধতি হলো ৫০/৩০/২০ নিয়ম। সাবেক মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও তাঁর মেয়ে অ্যামেলিয়া ওয়ারেন তিয়াগি তাঁদের ‘অল ইয়োর ওর্থ: দ্য আলটিমেট লাইফটাইম মানি প্ল্যান’ নামে একটি বইয়ে এ পদ্ধতির কথা তুলে ধরেন।</p><p>এ নিয়মে কর-পরবর্তী আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচে, ৩০ শতাংশ ব্যক্তিগত পছন্দের খাতে এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।</p><p>আরেকটি পদ্ধতি হলো ৮০/২০ সূত্র। এ ক্ষেত্রে মাসের শুরুতেই আয়ের ২০ শতাংশ সঞ্চয়ের জন্য সরিয়ে রেখে বাকি ৮০ শতাংশ দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করা হয়। তবে আয় কম হলে এই অনুপাত পরিবর্তন করা যেতে পারে। মূল কথা হলো, মাসের শেষে যা অবশিষ্ট থাকবে, শুধু তা সঞ্চয় না করে শুরু থেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ জমাতে পরিকল্পনা করবেন।</p><h3>জরুরি তহবিল কেন প্রয়োজন </h3><p>নিয়মিত খরচের বাইরে হঠাৎ চিকিৎসা, চাকরি হারানো, আয় কমে যাওয়া বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যে দেশের অর্থনীতির ৮০ শতাংশের বেশি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের, সেখানে মানুষের জীবনে আর্থিক অনিশ্চয়তা বেশি। জরুরি সময়ে সঞ্চয় না থাকলে ধার করতে হয় কিংবা ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে ভবিষ্যতের আয়ের ওপর ঋণ পরিশোধের চাপ তৈরি হয়।</p><p>এ জন্য ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় জরুরি তহবিল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত পরামর্শ হলো, পরিবারের অপরিহার্য ব্যয়ের তিন থেকে ছয় মাসের সমপরিমাণ অর্থ আলাদা করে রাখা। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। আয় অনিয়মিত হলে বা পরিবারে নির্ভরশীল সদস্য বেশি থাকলে আরও বড় তহবিল প্রয়োজন হতে পারে।</p><p>ঋণের খরচ সম্পর্কেও সচেতন থাকা দরকার। ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া, উচ্চ সুদের ব্যক্তিগত ঋণ কিংবা কিস্তিতে কেনাকাটার দায় ভবিষ্যতের আয়ের ওপর বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই নতুন ঋণ নেওয়ার আগে কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য ও মোট সুদের পরিমাণ হিসাব করে দেখা উচিত।</p><blockquote>ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের আরেকটি সূত্র: আরেকটি পদ্ধতি হলো ৮০/২০ সূত্র। এ ক্ষেত্রে মাসের শুরুতেই আয়ের ২০% সঞ্চয়ের জন্য সরিয়ে রেখে বাকি ৮০% দিয়ে সংসার চালানোর চেষ্টা করতে বলা হয়। তবে আয় কম হলে এই অনুপাত পরিবর্তন করা যেতে পারে। অর্থাৎ সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ জমানোর পরিকল্পনা করুন।</blockquote><p>উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই বাস্তবতায় পরিবার কী করতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হক বলেন, ব্যয় বেড়েছে ঠিক, কিন্তু সঞ্চয় যেন একেবারে বন্ধ হয়ে না যায়। কিছু টাকা হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করতে হবে। জরুরি নয়, এমন কিছু খাতে ব্যয় কমানো সম্ভব। যেমন প্রতি সপ্তাহে বাইরে খেতে না গিয়ে মাসে একবার বা দুবার যাওয়া। বাসার জন্য মাল্টা না কিনে দেশীয় ফল আমড়া কেনা। প্রোটিনের ক্ষেত্রেও বেশি দামের মাছের পরিবর্তে কম দামের মাছ কেনা যেতে পারে। এতে পুষ্টিমানের বিশেষ তারতম্য হবে না। জীবনমানের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়।</p><p>সায়েমা হক আরও বলেন, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ভোগের জন্য ঋণ না নেওয়াই ভালো। সেই সঙ্গে আগের ঋণের বোঝাও বেশি দিন টেনে নেওয়া উচিত নয়।</p><h3>স্বল্প আয়েও আর্থিক নিরাপত্তা </h3><p>স্বল্প আয়ে সঞ্চয়ের উদাহরণ হিসেবে ভারতের বেঙ্গালুরুর এক ব্যক্তির জীবনযাপনের গল্প আলোচনায় এসেছে। দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি পেশায় প্রুফরিডার। ২০০০ সালে মাত্র ৫ হাজার রুপি নিয়ে গ্রাম থেকে বেঙ্গালুরুতে আসেন তিনি। তখন তাঁর বয়স ছিল ২৭ বছর। মাসে ৪ হাজার ২০০ রুপি বেতনে কর্মজীবন শুরু করা ওই ব্যক্তির বেতন ২০২৫ সালে দাঁড়ায় ৬৩ হাজার রুপি।</p><p>প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ের ফলে তাঁর ব্যাংকে জমা অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ১ লাখ রুপি। বিনিয়োগ থেকে তাঁর মাসিক আয় ৬০ হাজার রুপি। তাঁর কোনো ঋণ নেই। ঋণ নেওয়া ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার এড়িয়ে চলা এবং নিজের খরচ সীমিত রাখার মাধ্যমে তিনি মিতব্যয়ী জীবন যাপন করেছেন।</p><h3>আর্থিক স্বাধীনতা মানেই বিপুল সম্পদ নয় </h3><p>সীমিত আয়ের মানুষের কাছে আর্থিক স্বাধীনতা মানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নয়; বরং ঋণগ্রস্ত না হওয়া, জরুরি পরিস্থিতি সামলানো এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছু অর্থ জমাতে পারাও বড় অর্জন।</p><p>তবে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের শৃঙ্খলাই সব সমস্যার সমাধান নয়। আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আর্থিক নিরাপত্তার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। একজন মানুষ কতটা সঞ্চয় করতে পারবেন, তা শুধু তাঁর খরচের অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং আয় ও পারিবারিক দায়িত্বের বাস্তবতার ওপরও নির্ভর করে।</p>
সত্যি বলতে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র মতো মাইলফলক সিনেমাকে চাপ মনে করিনি। বরং দর্শক ‘হঠাৎ বৃষ্টি’কে যেভাবে দেখেছেন, তা মাথায় রেখে নতুন করে দীপাকে বোঝার চেষ্টা করেছি।
<p>হলি ক্রস বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ২০২৬ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ছাত্রীদের বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভর্তির আবেদন ফরম ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ অক্টোবর ও আগামী ০১ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/scholarship/3dnnuny0gp">নেদারল্যান্ডস উচ্চশিক্ষায় দিচ্ছে স্কলারশিপ, আবেদন যেভাবে</a></aside><p><strong>জরুরি তথ্য জেনে রাখুন—</strong></p><p>১. পিতা অথবা মাতা যেকোনো একজনকে ভর্তির আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে হবে।</p><p>২. আবেদন ফরমের মূল্য ৩০০ টাকা, যা ফেরত দেওয়া হবে না।</p><p>৩. সঠিক পরিমাণ টাকা সঙ্গে আনতে হবে, কোনো ভাংতি দেওয়া যাবে না।</p><p>৪. এ বিদ্যালয় থেকে দেওয়া আবেদন ফরমটি ছাত্রীর নিজ হাতে পূরণ করতে হবে।</p><p><strong>প্রার্থীর যোগ্যতা—</strong></p><p># প্রার্থীর যোগ্যতা ২০২৭ সালে দিবা শাখায় নবম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৭ সালে ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে হতে হবে।</p><p># শিক্ষা বোর্ডের দেওয়া ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/xm2k17fat1">শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজে নার্সারিতে ছাত্রী ভর্তি, আবেদন শেষ ১৫ নভেম্বর </a></aside><p><strong>পূরণ করা ফরম জমা ও প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম—</strong></p><p># তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৬ শুক্রবার।</p><p># সময়: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। (উপস্থিত হতে হবে: দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে)।</p><p># বিষয়: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।</p><p><strong>পুরণ করা ফরমের সঙ্গে নিচের কাগজপত্র জমা দিতে হবে—</strong></p><p>১. জন্মনিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>২. খ্রিষ্টান প্রার্থীদের জন্মনিবন্ধন সনদের ‘ডিজিটাল রঙিন কপি’ এবং বাপ্তিস্ম সার্টিফিকেটের ‘অরিজিনাল কপি’ জমা দিতে হবে।</p><p>৩. প্রার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয়ের স্কুল ড্রেসে পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ‘রঙিন ছবি’ ফরমের সঙ্গে লাগিয়ে দিতে হবে।</p><p>৪. পিতা ও মাতার ‘এনআইডি’ একই পৃষ্ঠায় ফটোকপি করে জমা দিতে হবে।</p><p>৫. প্রার্থীর ২০২৬ সালে পড়াশোনা করা বিদ্যালয় হতে ‘প্রত্যয়নপত্র’ জমা দিতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/n22bjl1ztq">আগের নিয়মেই ফিরছে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষা, ২০২৭–এর সিলেবাস প্রকাশ</a></aside><p><strong>দরকারি তথ্য—</strong></p><p>১. ফলাফল ঘোষণার তারিখ ও ফলাফল <a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে</a> জানিয়ে দেওয়া হবে।</p><p>২. নবম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়ার সব তথ্য ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।</p><p>৩. ভর্তিপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সব ছাত্রীর পিতা-মাতা ও অভিভাবকেরা এই বিদ্যালয়ের প্রচলিত সব নিয়মকানুন মেনে নিতে সম্মত রয়েছেন বলে বিবেচিত হবেন।</p><p>৪. ওপরে দেওয়া সব নিয়মকানুনের সঙ্গে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করা সব শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা বা অভিভাবকদের সম্মতি রয়েছে বলে বিবেচিত হবে।</p><p>#<a href="https://holycrossgirlshighschool.com/" target="_blank" rel="nofollow">বিস্তারিত তথ্য জানতে ওয়েবসাইট: </a></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/admission/ia19yultx3">হলি ক্রস স্কুলে ২০২৭ সালে প্রথম, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি, ফরমের মূল্যসহ যা যা জানা প্রয়োজন</a></aside>
গবেষণাপত্র অনুযায়ী, যন্ত্রটির যন্ত্রাংশের খরচ ৯৯ মার্কিন ডলার। দূরবর্তী সার্ভার ব্যবহারে মাসে আরও প্রায় ১৩ ডলার ৫০ সেন্ট লাগে।
সৌদির বিভিন্ন শহরে ড্রোন–ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। ফলে যুবরাজ যে আঞ্চলিক অশান্তি পেছনে ফেলে সামনে এগোতে চেয়েছিলেন, এখন সেই সংঘাতের গভীরেই জড়িয়ে পড়ছে তাঁর দেশ।
সাত মাস বয়সে মা-বাবার বিচ্ছেদ, অষ্টম শ্রেণিতে বাবার মৃত্যু। অভাবের সংসারে ইট ভেঙেছেন, কৃষিকাজ করেছেন, টিউশনি করেছেন
<p>চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দার মেঝেতেই চলছে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা। কারও মাথার ওপর নেই ফ্যান, অধিকাংশের চারপাশে নেই মশারি। স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডেরও সংকট। গরমে হাঁসফাঁস করতে থাকা রোগীদের পাশ দিয়েই চলছে অন্য রোগী ও স্বজনদের যাতায়াত। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/7axu2zmh/1.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>ডেঙ্গু ওয়ার্ডের প্রবেশমুখে ফটিকছড়ি থেকে আসা এক রোগী। তিন দিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/xkn0wdus/2.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>ট্রলিতে করে রোগী আনা-নেওয়ার সময় বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের গা ঘেঁষে দাঁড়াতে হয় স্বজনদের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/0zvh7u44/3.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগীর জন্য নেই মশারি</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/nihtjlug/4.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>কিছুটা স্বস্তি পেতে নিজের খরচে মশারি ও চার্জার ফ্যানের ব্যবস্থা করেছেন এক রোগী</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/h4563t24/5.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>বারান্দায় চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য সংকট রয়েছে স্যালাইন দেওয়ার স্ট্যান্ডেরও</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/fh5fdi0b/6.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>জায়গার অভাবে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-11/ug2xcyd1/7.-chattogram-medical-college-hospital-dengue-treatment-jewel-palo-12102026.JPG"><figcaption>বারান্দায় ফ্যান না থাকায় ভ্যাপসা গরমে কষ্ট পাচ্ছেন ডেঙ্গু রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা </figcaption></figure>
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, একই সময়ে চলতি বছরের সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৯৩ জন। অন্যদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন কিংবা কম্পিউটার যুক্ত করতে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন অনেকেই, কিন্তু আপনারা কি জানেন? এই আধুনিক প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ইতিহাস। জড়িয়ে আছেন ডেনমার্কের এক ভাইকিং রাজার কাহিনী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর উপর একটি ক্ষেপনাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রী সেখানে অপেক্ষমান ছিল। দুই জন বাংলাদেশি এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
তেসরা ডিসেম্বর, সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলি করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, যা সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।
গত ৮৫ বছরে বিশ্বের বাংলাভাষীদের কাছে নানা সময়ে সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পাশে থেকেছে বিবিসি বাংলা। এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ১১ই অক্টোবর। এই সময়ে অনেক কিছু বদলেছে, কেবল বদলায়নি সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং দর্শক-পাঠক-শ্রোতাদের প্রতি বিবিসি বাংলার দায়বদ্ধতা।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে রোববার সকাল থেকে বিক্ষিপ্তভাবে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শনিবারের মতোই পুলিশ তাদের সরিয়ে দিচ্ছে। সিজেপি ও বাম সংগঠনগুলি শনিবারের পরে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার কথা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ডিজেল উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
খোরাকি ও ৩৫ রুপি মাসিক পারিশ্রমিক দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন নানা পাটেকর।
দুর্গাপূজা, মেলা, কনসার্ট কিংবা ফুটবল ম্যাচ; বড় কোনো আয়োজন মানেই দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা, মানুষের ভিড় আর অনেক ক্ষেত্রে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে চলাফেরা।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে দুটি স্পিডবোটে অগ্নিসংযোগ ও পরে মাঝনদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হবে এমন একটি ‘জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই এতে সম্মত হয়েছে। রবিবার ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর রাজারগাঁও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক শুভ চন্দ্র বর্মনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন ও টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও টিকিটের কালোবাজারি বন্ধের পাশাপাশি যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দিয়ে ডারবান টেস্টে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান করা সফরকারীরা তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৩৩ রান তুলেছে। তাতে সব মিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৩৯ রান। আলোর স্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় চতুর্থ দিনে নতুন করে ব্যাটিং শুরু করবে অস্ট্রেলিয়া।
গ্যাস সিলিন্ডার, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।