জেলা

ষষ্ঠীর দিনেও প্রতিমার কাজ বাকি, নির্ঘুম রাত কাটাবেন অনেক শিল্পী

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ষষ্ঠীর দিনেও প্রতিমার কাজ বাকি, নির্ঘুম রাত কাটাবেন অনেক শিল্পী
ষষ্ঠীর দিনেও প্রতিমার কাজ বাকি, নির্ঘুম রাত কাটাবেন অনেক শিল্পী
<p>পাবনার বেড়ায় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর দিনেও কয়েকটি প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। আজ শুক্রবার সন্ধ্যার পর পৌর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, কোথাও প্রতিমার রং করার কাজ চলছে, কোথাও চলছে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। প্রতিমাশিল্পীরা সহকারীদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারও কাজ শেষ হবে রাতের মধ্যে, আবার কারও হয়তো পুরো রাতই কাটবে প্রতিমা তৈরির কাজে।</p><p>বেড়া পৌর এলাকার চরপাড়া মহল্লার একটি বাড়ির পূজামণ্ডপে শুক্রবার রাত আটটার দিকে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমার কাঠামো ও মাটির কাজ শেষ হলেও রং করার কাজ অনেকটাই বাকি। প্রতিমাশিল্পী কানাই পাল সহকারীদের নিয়ে কাজ করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ করতে রাতভর কাজ করতে হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/orikpa4vnw">শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু, আজ ষষ্ঠী </a></aside><p>একই মহল্লার চরপাড়া বারোয়ারি পূজামণ্ডপে দুই সহকারীকে নিয়ে প্রতিমায় রং করছিলেন শিল্পী বিনয় পাল। তিনি বলেন, ‘এবার বেশির ভাগ প্রতিমাশিল্পীর কাজই এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। আমি চারটি প্রতিমা তৈরির কাজ হাতে নিয়েছিলাম। অন্য তিনটির কাজ শেষ করে দিয়েছি। শুধু নিজের মহল্লার প্রতিমাটির কাজ বাকি। রাতের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। প্রায় প্রতিবছরই এমন হয়।’</p><p>বেড়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিমাশিল্পী রয়েছেন ১৫ জন। তাঁদের বাড়ি উপজেলার মালদাপাড়া, আমিনপুর ও চরপাড়া গ্রামে। তাঁদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন আরও ২০ থেকে ২৫ জন। বেড়ার প্রতিমার সুনাম থাকায় এসব শিল্পীকে স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মণ্ডপের জন্যও প্রতিমা তৈরি করতে হয়। একেকজন শিল্পী আট থেকে দশটি পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-16/qx5tdzno/PABNAPROTIMA%E2%80%932.JPG"><figcaption>শেষ মুহূর্তে তুলির আঁচড়ে সাজানো হচ্ছে প্রতিমা। শুক্রবার রাতে পাবনার বেড়ার চরপাড়া মহল্লার চরপাড়া বারোয়ারি পূজামণ্ডপে</figcaption></figure><p>দুর্গাপূজার সময় ছাড়া বছরের অন্য সময়ে এসব শিল্পী ও তাঁদের সহযোগীরা মাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন। তবে সেসব পণ্যের চাহিদা আগের মতো নেই। ফলে সারা বছর মৃৎশিল্পের কাজ করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে তাঁদের। দুর্গাপূজার মৌসুমে একসঙ্গে অনেক প্রতিমা তৈরির ফরমাশ পাওয়ায় কাজের চাপ বাড়ে। সেই চাপ সামলাতেই ষষ্ঠীর রাতেও শেষ তুলির আঁচড় দিতে ব্যস্ত থাকতে হয় তাঁদের।</p><p>প্রতিমাশিল্পী ধনু পাল এবার ১০টি প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। সর্বশেষ প্রতিমার কাজটি করতে তিনি পাবনা শহরে গিয়েছেন। শুক্রবার রাত নয়টার দিকে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আরোকে বলেন, ‘প্রতিমার কাজ শেষের দিকে। হয়তো ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে। বাকি প্রতিমাগুলোর কাজ আগেই শেষ করেছি। প্রতিবছরই এমন হয়। ষষ্ঠী থেকে পূজা শুরু হলেও মূল পূজা সপ্তমীতে। সপ্তমীর আগে প্রতিমা তৈরি শেষ করতে পারলেই আমরা স্বস্তি পাই।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/8x0iamis0o"> প্রতিমা গড়ার কাজে অভাব ঘুচেছে শ্রীকান্তের, শেখাচ্ছেন অন্যদেরও</a></aside><p>মালদাপাড়ার আরেক প্রতিমাশিল্পী ষষ্ঠী পাল বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যে ৯টি প্রতিমার কাজ শেষ করেছি। আটটির কাজ আগেই শেষ হয়েছিল। শেষ প্রতিমাটির কাজও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শেষ করেছি। তবে অনেক শিল্পীর কাজ এখনো বাকি।’</p><p>বেড়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি ভৃগুরাম দাস বলেন, ‘বেড়ার প্রতিমাশিল্পীদের সুনাম আশপাশের জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে আছে। এ কারণে তাঁদের বেড়ার বাইরেও অনেক প্রতিমা তৈরি করতে হয়। প্রতিবছরই দেখা যায়, শেষ প্রতিমাটির কাজ শেষ করতে ষষ্ঠীর রাতে তাঁদের জেগে থাকতে হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণেই এমনটা হয়।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/55qdg3xc8i">এবার সারা দেশে দুর্গাপূজা ৩৩ হাজার ৮৫১টি, ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি</a></aside>

Prothomalo

View more
সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার শাসকদের মধ্যে গভীর ঐক্য রয়েছে: আনু মুহাম্মদ
সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার শাসকদের মধ্যে গভীর ঐক্য রয়েছে: আনু মুহাম্মদ

সমাবেশে ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানানো হয়।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সাংবাদিক আলিফ হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি আসকের
সাংবাদিক আলিফ হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি আসকের

আসক বলেছে, একজন সাংবাদিককে হত্যা কেবল একটি জীবনের ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও জনগণের জানার অধিকারের জন্যও এক বিপজ্জনক বার্তা।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জে সাহেব আলীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: অস্ত্রসহ মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জে সাহেব আলীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: অস্ত্রসহ মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাহেব আলীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রনিকে পিস্তল, গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উসকানিদাতা ও জড়িতদের বিচার দাবি ব্লাস্টের
সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উসকানিদাতা ও জড়িতদের বিচার দাবি ব্লাস্টের

১২ অক্টোবর শামীম ও তাঁর স্ত্রীর একটি ব্যক্তিগত কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
নাসরীন জাহানের নতুন উপন্যাস ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’র প্রচ্ছদ উন্মোচন
নাসরীন জাহানের নতুন উপন্যাস ‘ফিনিক্স তোমাকে মায়াবাসি’র প্রচ্ছদ উন্মোচন

হেমিংওয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘মুভেবল ফিস্ট’ বা ‘চলমান উৎসব’-এর কথা স্মরণ করে মাজহারুল বলেন, নাসরীন জাহান জীবনকে ঠিক তেমনি এক নিরন্তর উৎসবের মতো যাপন করেছেন।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
কিছু মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে মতপার্থক্য রয়ে গেছে
কিছু মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে মতপার্থক্য রয়ে গেছে

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি বিরোধী দলের। ভিন্নমতসহ যেভাবে জুলাই সনদ সই হয়েছিল, সেভাবেই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় সরকারি দল।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা
চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা

নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানির মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের আহ্বান আইএফজের
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের আহ্বান আইএফজের

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্তরাইল বাজারে ১৫ অক্টোবর রাত আটটার দিকে আলিফের ওপর গুলি করে অজ্ঞাতপরিচয় দুই বন্দুকধারী।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
স্ত্রীর ডিভোর্সের হুমকিতে নিজের গায়ে আগুন দিলেন যুবক, অবস্থা আশঙ্কাজনক
স্ত্রীর ডিভোর্সের হুমকিতে নিজের গায়ে আগুন দিলেন যুবক, অবস্থা আশঙ্কাজনক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক মো. হারুনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, আগুনে শাহাদতের শরীরের ৯৭ শতাংশ পুড়ে গেছে।

অক্টোবর ১৭, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন