ভারত

সাত দিন পর ককরোচের দুই নেতার মুক্তির নির্দেশ আদালতের

অক্টোবর ২১, ২০২৬
সাত দিন পর ককরোচের দুই নেতার মুক্তির নির্দেশ আদালতের
সাত দিন পর ককরোচের দুই নেতার মুক্তির নির্দেশ আদালতের
<p>ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের মামলায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম)। আজ বুধবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে পাঁচ দিন হেফাজতে থাকার পর সোমবার (১৯ অক্টোবর) তাঁদের আটকের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ানো হয়েছিল।</p><p>সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে ১৩ অক্টোবর আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ।</p><p>আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম বার অ্যান্ড বেঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) রিতু রাজ। সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে জামিনের নিশ্চয়তা গ্রহণ করে তিনি তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন।</p><p>এর আগে দিল্লি পুলিশ তাঁদের বিচারিক হেফাজতের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন করেছিল।</p><p>মুক্তির নির্দেশ পাওয়ার পর সৌরভ দাস বলেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-21/tu1g4dx8/Saurav-Das-and-Ashutosh.jpg"><figcaption>পুলিশের গাড়িতে করে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) সামনে হাজির করার জন্য মন্দির মার্গ থানায় নেওয়া হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই সহসমন্বয়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে। নয়াদিল্লি, ২১ অক্টোবর</figcaption></figure><p><strong>সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেপ্তার</strong></p><p>ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমের (এসআইআর) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তাব্যবস্থা লঙ্ঘন করে যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ১৩ অক্টোবর তাঁদের আটক করে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।</p><p>১৯ অক্টোবর এসইএম আদালত তাঁদের বিচারিক হেফাজতের মেয়াদ আরও দুই দিন বাড়ান। দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, তাঁদের মুক্তি দেওয়া হলে ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা’ বিঘ্নিত হতে পারে।</p><p>ওই আদেশে এসইএম আদালত বলেন, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আচরণে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার অভাব প্রকাশ পেয়েছে। জনশান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার আশঙ্কা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।</p><p>আদালত আরও উল্লেখ করেন, বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে স্বীকৃত নয়, এমন এলাকায় বারবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাঁদের।</p><p>এ ছাড়া সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার পক্ষে দেওয়া জামিনের নিশ্চয়তাও প্রত্যাখ্যান করেন আদালত। আদালতের মতে, যাঁরা জামিনের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, তাঁরা উপযুক্ত ছিলেন না।</p>

Prothomalo

View more
এমন ব্যাটিং করে কী আর ফাইনালে যাওয়া যায়
এমন ব্যাটিং করে কী আর ফাইনালে যাওয়া যায়

সমীকরণ মিলিয়ে জয় তো দূর, শারজায় কাল আফগানিস্তানের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর হতাশাজনক বোলিংয়ে গড়তে পারেনি ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
কন্ট্রোল রুমে মেরামতকাজের তথ্য দেওয়া হয়নি, প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত
কন্ট্রোল রুমে মেরামতকাজের তথ্য দেওয়া হয়নি, প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
আনন্দ–বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়, বিসর্জন দেখতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল
আনন্দ–বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়, বিসর্জন দেখতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল

<p>বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা আয়োজনে বিদায় দেওয়া হয়েছে দেবী দুর্গাকে। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ২২, ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর: ইজারার চুক্তি সংসদে আলোচিত হলো না কেন
চট্টগ্রাম বন্দর: ইজারার চুক্তি সংসদে আলোচিত হলো না কেন

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি সংসদে উপস্থাপনের বিধান রয়েছে।

অক্টোবর ২২, ২০২৬
চট্টগ্রামের ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ ঘুরে যা বললেন অভিনেত্রী পূজা চেরী
চট্টগ্রামের ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ ঘুরে যা বললেন অভিনেত্রী পূজা চেরী

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-21/yqu3mfoz/WhatsApp_Image_2026_10_21_at_11_06_47_PM.jpeg"><figcaption>‘রিপু রজনী’ দেখতে চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলীর শ্রী শ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরে পূজা চেরী। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে</figcaption></figure><p>চট্টগ্রাম নগরের উত্তর কাট্টলীর শ্রীশ্রী সেবা খোলা ও বৈকুণ্ঠধাম মন্দিরের ব্যতিক্রমী পূজামণ্ডপ ‘রিপু রজনী’ ঘুরে দেখেছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পূজা চেরী। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি মণ্ডপে যান। পরে তিনি কৈবল্যধাম পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।</p><p>স্থানীয় বাসিন্দা আবির সরকার এ সময় অভিনেত্রীর বক্তব্য ভিডিও করেন। পরে তিনি তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। মণ্ডপ ঘুরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ছবি পোস্ট করেন অভিনেত্রী পূজা চেরী।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-21/u30wzmcs/WhatsApp-Image-2026-10-21-at-11.08.59-PM.jpeg"><figcaption>পূজা চেরী</figcaption></figure><p>‘রিপু রজনী’ থিমের প্রশংসা করে পূজা চেরী বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটি অন্যতম সেরা একটি মণ্ডপ হয়েছে। মূলত এ কারণেই এটি দেখতে ঢাকা থেকে ছুটে আসা। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আমি এই ভাবনাটিকে সাধুবাদ জানাই।’</p><p>মানুষের মনের ভেতরে থাকা ছয়টি রিপু—লোভ, মোহ, ক্রোধ, হিংসা, অহংকার ও কামনাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় ‘রিপু রজনী’ মণ্ডপ। মানুষের ভেতরের অন্ধকার, বিবেকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং আত্মশুদ্ধির বার্তা তুলে ধরাই ছিল এ আয়োজনের মূল ভাবনা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-21/gv17614x/WhatsApp-Image-2026-10-21-at-11.09.21-PM.jpeg"><figcaption>মণ্ডপ ঘুরে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ছবি পোস্ট করেন অভিনেত্রী পূজা চেরী</figcaption></figure><p>আয়োজকেরা জানান, নিজেদের শারদীয় দুর্গোৎসবের ৫৮তম বর্ষে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করেন তাঁরা। প্রচলিত ধর্মীয় অনুষঙ্গের সঙ্গে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও আত্মশুদ্ধির ভাবনাকে যুক্ত করা হয় এতে। দেবী দুর্গার আগমনকে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে ফিরে আসার প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরা হয়। মণ্ডপটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যতিক্রমী ভাবনা দেখতে প্রতিদিন ভিড় ছিল দর্শনার্থীদের।</p><p>আয়োজকদের মতে, ‘রিপু রজনী’ কেবল প্রতিমা দর্শনের আয়োজন নয়; মানুষের নিজের ভেতরের অন্ধকারকে চিনে নেওয়ারও আহ্বান। ষড়্‌রিপুর প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে শুভবোধ, সংযম ও আত্মোপলব্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার বার্তাই তুলে ধরেছে এই মণ্ডপ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/video/bangladesh/c0x2pc70f1">দুর্গাপূজায় এক মণ্ডপে ‘অবিনশ্বর’, অন্যটিতে ‘রিপু রজনী’</a></aside>

অক্টোবর ২২, ২০২৬
টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ
টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ

<p>টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। তাদের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে তারা। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে তিন বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে তিন বিষয়

<p>যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়েও দেখা দিয়েছে তীব্র বিরোধ। বিষয়গুলো আগামী ৩ নভেম্বর দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতেই থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটদের।</p><p>বর্তমানে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের চারটি করে আসন বৃদ্ধি করতে হবে। যদিও নির্বাচনের ফল নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ওপর। তবে নির্বাচনী প্রচারের মূল আলোচনায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।</p><p><strong>ডোনাল্ড ট্রাম্প</strong></p><p>নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিকে জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকলেও প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্স/ইপসোসের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমে সর্বকালের সর্বনিম্ন ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি বারবার ভোটারদের এমনভাবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ব্যালটের কাগজে তাঁর নিজের নামও রয়েছে।</p><p>ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করা। তবে উল্টো ফলও আসতে পারে। এতে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে আরও ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা এরই মধ্যে বলেছেন, কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেবেন তাঁরা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।</p><p><strong>জীবনযাত্রার ব্যয়</strong></p><p>নির্বাচনী প্রচারপর্বে জীবনযাত্রার ব্যয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ভোটাররা। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের অর্ধেক বলেছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওই একই জরিপে পরিবারের প্রধান ব্যয়ের খাত হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি, খাদ্য ও বাসস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন ভোটাররা।</p><p>ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথমার্ধে রিপাবলিকানদের অন্যতম সাফল্য হলো করছাড়ের মেয়াদ বৃদ্ধি করা। তবে একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মসূচির ব্যয় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি বৃদ্ধি করার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় গত বছর অচলাবস্থার মুখে পড়েছিল সরকার।</p><p>যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম এখন ৪ দশমিক ২৮ ডলার। এক বছর আগের তুলনায় তা ১ দশমিক ২০ ডলার বেশি; আর যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মুদিপণ্যের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে বাড়ির দাম বেড়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ।</p><p><strong>অভিবাসন</strong></p><p>যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ের তুলনায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে আটক অভিবাসীর সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরে এই প্রথম সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটক অভিবাসীদের কাউকে ছেড়ে দেয়নি। তবে মেইন, মিনেসোটা ও টেক্সাসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিবাসীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।</p><p>চলতি বছর অভিবাসন খাতে অর্থায়ন নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকানরা এককভাবে সাত হাজার কোটি ডলারের একটি বিল পাস করেছেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত বাহিনীর অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। রিপাবলিকানরা এ অভিযোগও করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা সীমান্ত উন্মুক্ত করার পক্ষে।</p><p>চলতি মাসে প্রতিনিধি পরিষদে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটনের বাড়িতে অভিযান চালান কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা ব্যাপক নিন্দা জানিয়েছে। ইলহানের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তদন্তের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করে তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/usa/0ow42f99dh">ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে, নারী ভোটাররা মুখে ফিরিয়ে নিচ্ছেন তাঁর থেকে: রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ</a></aside>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
হাইকোর্টের আদেশে ফুডপ্যান্ডা ও ডেলিভারি হিরোর ৫ কর্মকর্তার দুই মামলার কার্যক্রম স্থগিত
হাইকোর্টের আদেশে ফুডপ্যান্ডা ও ডেলিভারি হিরোর ৫ কর্মকর্তার দুই মামলার কার্যক্রম স্থগিত

<p>দেশের অন্যতম অনলাইন খাবার সরবরাহকারী ফুডপ্যান্ডা (বাংলাদেশ) ও ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা দুটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। মামলা দুটির কার্যক্রম বাতিল চেয়ে ওই পাঁচ কর্মকর্তার করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গত রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন।</p><p>এই পাঁচ কর্মকর্তা হলেন ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দা আম্বারীন রেজা, সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের পরিচালক মোহাম্মদ তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক মো. সাজেদুল হক।</p><p>আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে ফুডপ্যান্ডা ও ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৩ জুলাই ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা দুটি করেন আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির। আদালত মামলা দুটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্তের পর পাঁচ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে গত ২২ জুন ও ২৬ জুলাই আদালতে পৃথক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে গুলশান থানা–পুলিশ। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে ওই দুই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে পৃথক আবেদন করেন তাঁরা। এর শুনানি নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ছয় সপ্তাহের জন্য আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। পরে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তাঁরা।</p><p>মামলা দুটি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। ওই দুই মামলায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগ আমলে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে মামলা দুটির কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন পাঁচ কর্মকর্তা।</p><p>মামলা বাতিল চেয়ে করা পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি নিয়ে ১৮ অক্টোবর (গত রোববার) হাইকোর্ট রুল দিয়ে মামলা দুটির কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য স্থগিত করেন। আদালতে পাঁচ কর্মকর্তার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম ও মশিউর রহমান।</p><p>হাইকোর্ট মামলা দুটির কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন বলে জানান পাঁচ কর্মকর্তার আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম। তিনি বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফুডপ্যান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) লিমিটেড, যেটি প্যান্ডামার্ট নামে পরিচিত। পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলা দুটির কার্যক্রম কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মামলার বাদীকে (শিহাব মাহমুদ বশির) চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে।’</p>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
ডিআইজির বাসায় অভিযান, মাদক উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন
ডিআইজির বাসায় অভিযান, মাদক উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন

ডিআইজির বাসায় অভিযান, মাদক উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন

অক্টোবর ২১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন