বিজ্ঞান

রাসায়নিক–নির্ভরতা থেকে জৈব বিকল্প খুঁজছে বাংলাদেশ

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রাসায়নিক–নির্ভরতা থেকে জৈব বিকল্প খুঁজছে বাংলাদেশ
রাসায়নিক–নির্ভরতা থেকে জৈব বিকল্প খুঁজছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে। বিশ্ববাণিজ্যে ব্যবহৃত ইউরিয়ার ৩০ শতাংশ ও অ্যামোনিয়ার ২৫ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ হয়।

Prothomalo

View more
যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগ
যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগ

<p>এখানে যে যোগাযোগমন্ত্রীর গল্প বলা হচ্ছে তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা এরশাদ আমলের মন্ত্রী নন। অন্য কোনো আমলের। তবে আনন্দের বিষয় সব আমলের জিনিস একই।—লেখক</p><p>যোগাযোগমন্ত্রী সালাহউদ্দিন খান ভুলু সাহেবের দুপুরে কিছুক্ষণ ঘুমানোর অভ্যাস। মন্ত্রীর কঠিন দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি এই অভ্যাস বহাল রেখেছেন। একটু উনিশ-বিশ অবশ্য হচ্ছে; আগে ঘুমানোর সময় একজন গায়ের ঘামাচি মেরে দিত, এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। প্রায়ই ভাবেন, পলিটিক্যাল পিএসকে ঘামাচি মারতে বলবেন। সে আগ্রহ নিয়ে কাজটা করবে। একটাই ভয়, কোনো পত্রিকায় যদি নিউজ চলে যায়! পত্রিকাগুলো চলে গেছে দুষ্টদের দখলে। তারা সম্মানিত মন্ত্রীদের ওপর টেলিস্কোপ ফিট করে রেখেছে। আরাম করে ১০ মিনিট ঘুমানোর উপায়ও নেই।</p><p>সালাহউদ্দিন খান ভুলু দিবানিদ্রা সেরে উঠেছেন। মন মেজাজ এখনো ধাতস্থ হয়নি। তিনি কয়েকবার হাই তুললেন। এই সময় তার পিএস (সরকারি) ঢুকলেন। বিনীত গলায় বললেন, স্যারের ঘুম ভালো হয়েছে? </p><p>মন্ত্রী বললেন, আমি আপনাকে অনেকবার বলেছি, দুপুরে আমি ঘুমাই না। চোখ বন্ধ করে এক ধরনের যোগব্যায়াম করি। শবাসন এই ব্যায়ামের নাম। এতে টেনশন কমে। </p><p>পিএস বললেন, স্যার, সরি। আমি যোগব্যায়ামের ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি। আপনার নাক ডাকার শব্দে বিভ্রান্ত হয়েছি। </p><aside><cite></cite>এরা বিখ্যাত হলো কবে? আমি তো নামও শুনি নাই। মিডিয়া এদের বিখ্যাত বানিয়েছে। সব মিডিয়ার কারসাজি। দেশটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে মিডিয়া। </aside><p>আর বিভ্রান্ত হবেন না। নাক ডাকা না। দ্রুত নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ফেলা যোগব্যায়ামেরই অংশ। আমার নাকে পলিপ আছে বলে দ্রুত নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সময় নাক ডাকার মতো শব্দ হয়। এখন ক্লিয়ার হয়েছে? </p><p>অবশ্যই, স্যার। </p><p>কোনো কাজে এসেছেন? </p><p>একটা রেড অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে। মাইক্রোবাস ভেঙে গুঁড়া হয়ে গেছে। পাঁচ জন মারা গেছে। </p><p>অ্যাকসিডেন্ট হলে মানুষ মারা যাবে, এটা নতুন কী? এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আপনি আমার কাছে এসেছেন? </p><p>অনেকেই আপনাকে দুষছে। রাস্তাঘাট ভাঙা, খানাখন্দে ভরা। এই কারণেই অ্যাকসিডেন্ট হচ্ছে। </p><p>এটা কী মাস? </p><p>ভাদ্র মাসের শুরু।</p><p>বৃষ্টি হচ্ছে না? </p><p>রোজ বৃষ্টি হচ্ছে। </p><p>এই বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ঠিক থাকে? </p><p>থাকে না, স্যার। </p><p>বাস্তবতা বুঝতে হবে। তুচ্ছ বিষয়ে মন্ত্রীকে দুষলে হবে না। বুঝেছেন? </p><p>জি স্যার। </p><p>খরা মৌসুম আসুক, রাস্তাঘাট ঠিক হবে। </p><p>সাংবাদিকেরা আপনার কাছ থেকে শুনতে চায়। </p><p>শুনতে চাইলেই আমি শোনাব না। আপনি বলে দিন, গতবারের সরকারের যোগাযোগ খাতে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে রাস্তাঘাটের আজ এমন বেহাল দশা। একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে দিন।</p><p>জি স্যার। স্টেটমেন্টের ব্যবস্থা করছি। তবে আপনাকে একটু কষ্ট করে হাসপাতালে যেতে হবে। </p><p>মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় কিছু বিখ্যাত মানুষ মারা গেছে। যাঁরা আহত, তাঁদের দেখতে যাওয়া উচিত।  </p><p>বিখ্যাত মানুষ কে মারা গেল?</p><p> পিএস বিখ্যাত মানুষদের তালিকা বললেন। </p><p>মন্ত্রী বিরক্ত গলায় বললেন, এরা বিখ্যাত হলো কবে? আমি তো নামও শুনি নাই। মিডিয়া এদের বিখ্যাত বানিয়েছে। সব মিডিয়ার কারসাজি। দেশটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে মিডিয়া। </p><p>যথার্থ বলেছেন। তবে মিডিয়াকে অগ্রাহ্য করা ঠিক হবে না। </p><p>হাসপাতালে গিয়ে কী বলব, ঠিক করে এনেছেন? উল্টাপাল্টা কিছু বলে ফেলতে পারি। মুডি মানুষ তো, মুডের ওপর চলি।</p><p>পিএস বললেন, আমি দুই ধরনের বক্তব্য তৈরি করে এনেছি, যেটা আপনার পছন্দ। আপনি বলবেন, আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে, আমাদের কী করার আছে? </p><blockquote>লোমের পয়েন্টে মামলা করতে পারেন। তবে এখন নতুন ঝামেলায় যাওয়া ঠিক হবে না। এরপর এরা নিউজ করে দেবে, কার্টুন ছবিতে মন্ত্রীর গায়ের লোম দেখানোয় এক কোটি টাকার মানহানির মামলা। </blockquote><p>মন্ত্রী বললেন, ভালো বক্তব্য। আল্লাহর ওপর কোনো কথা নেই। ধর্মভিত্তিক দল আমার এই বক্তব্য পছন্দ করবে। </p><p>অথবা আপনি বলবেন, মাইক্রোবাসের চালকের অদক্ষতাই দুর্ঘটনার কারণ। সে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে দোষটা ওদের ঘাড়ে গিয়েই পড়বে। </p><p>মন্ত্রী বললেন, এটাও খারাপ না। আমি বরং দুটো একত্র করে বলি। প্রথম বলি, মাইক্রোবাস চালকের ভুল। তারপর বলি, আল্লাহর মাল আল্লায় নিয়েছে। বুদ্ধিটা কেমন বের করেছি? </p><p>অসাধারণ। আপনার চিন্তাধারাই বৈপ্লবিক। </p><p>আমাদের এই মুডি মন্ত্রী নানা ধরনের কথাবার্তা বলা শুরু করলেন। মিডিয়া তাঁকে নিয়ে কিছু কাজকর্ম করল। মন্ত্রী যখন গাড়ি নিয়ে রাস্তার বেহাল দশা দেখতে গেলেন, তখন বদগুলো তার হাসিমুখের ছবি ছাপাল। রাস্তার বিশাল এক গর্তের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি হাসছেন—এ রকম ছবি। এই অপরাধ ক্ষমা করা যায়, কিন্তু তার পদত্যাগ চেয়ে প্রতিবেদন ক্ষমা করা যায় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করেছে? মন্ত্রীরা হলেন কচ্ছপ। কচ্ছপের মতো কামড় দিয়ে তারা মন্ত্রিত্ব ধরে রাখবেন। এটাই নিয়ম। </p><p>মন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক সচিবের পরামর্শে কিছু জটিল পদক্ষেপ নিয়ে নিলেন। একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। একটা ছোট্ট সমস্যা তাতে হলো; দেখা গেল, সবাই দুর্নীতিবাজ। রসুনের বোঁটা অবস্থা। একজনকে শাস্তি দিলে বাকিরা খেপে যাবে। ওদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। কাজেই অনেক ঝামেলা করে একজন সৎ কর্মচারী খুঁজে তাকে বরখাস্ত করা হলো। </p><p>মন্ত্রী মহোদয় সব পত্রিকায় তাঁর একটি ছবি পাঠালেন। সেই ছবিতে তিনি কোদাল দিয়ে ভাঙা রাস্তার পাশে দাঁড়ানো। নিচে লেখা, ’মন্ত্রী মহোদয় নিজেই রাস্তা মেরামতে নেমে পড়েছেন।’</p><p>কোনো পত্রিকা এই ছবি ছাপাল না, উল্টো এক বদ পত্রিকা এই ছবি নিয়ে কার্টুন বানিয়ে ছাপিয়ে ফেলল। কার্টুনে দেখা যাচ্ছে, রাক্ষস টাইপ চেহারার এক লোক খালি গায়ে খাকি হাফপ্যান্ট পরে বেলচা হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তার গায়ের এবং পায়ের বড় বড় লোম দেখা যাচ্ছে। কার্টুনের নিচে লেখা, যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন, আমি একাই ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করব, ইনশাআল্লাহ। </p><p>মন্ত্রী তাঁর পিএসকে ডেকে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, তিন কোটি টাকার একটা মানহানি মামলার ব্যবস্থা করুন। আমার ছবি বিকৃত করে ছেপে আমার মানহানি করেছে। </p><p>পিএস বললেন, বিকৃত করে তো ছাপে নাই, স্যার। কার্টুনে আপনাকে চেনা যায়। </p><p>আমাকে চেনা যায়?</p><p> জি স্যার। </p><p>আমার গাভর্তি লোম? </p><p>লোমের পয়েন্টে মামলা করতে পারেন। তবে এখন নতুন ঝামেলায় যাওয়া ঠিক হবে না। এরপর এরা নিউজ করে দেবে—কার্টুন ছবিতে মন্ত্রীর গায়ের লোম দেখানোয় এক কোটি টাকার মানহানির মামলা। </p><p>এক সকালবেলার কথা। মন্ত্রীর স্ত্রী সালমা বানু (বিশিষ্ট সমাজসেবী, পরিবেশ রক্ষাকর্মী, বিপন্ন হনুমান বাঁচাও আন্দোলনের সভানেত্রী) তার স্বামীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তীক্ষ্ণ গলায় বললেন, আমাকে না জানিয়ে, আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে তুমি কী করে এই কাজ করলে? </p><p>মন্ত্রী বললেন, কী কাজ করলাম? </p><p>পদত্যাগ করেছ, আমাকে না জানিয়ে।</p><p> পদত্যাগ করব কোন দুঃখে? </p><p>পত্রিকায় নিউজ এসেছে। এই দেখো। </p><p>মন্ত্রী মহোদয় হতভম্ব হয়ে পড়লেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগ’। নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী মহোদয় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। </p><p>হতভম্ব মন্ত্রী তাঁর পিএসকে টেলিফোন করলেন। অনেকবার রিং হলো, পিএস ধরলেন না। তিনিও নিউজ পড়েছেন। এখন যে মন্ত্রী নন তাঁর টেলিফোন কেন ধরবেন! আমজনতার টেলিফোন ধরার কিছু নেই। </p><p>মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পিএসকে টেলিফোন করলেন। পিএস তাঁর কোনো কথা না শুনেই বললেন, পদত্যাগ করে ভালো করেছেন। দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। আচ্ছা রাখি।  </p><p>মন্ত্রী লাইন কেটে দেওয়ার পর অনেকবার চেষ্টা করলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব টেলিফোন ধরলেন না। </p><p>কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লক্ষ করলেন, পত্রিকার এই বানোয়াট খবর সবাই বিশ্বাস করে বসে আছে। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর সিগারেট ফুঁকছিল, তাকে দেখে সিগারেট ফেলে না দিয়ে শুধু পেছনে আড়াল করল। </p><p>মন্ত্রী মহোদয় প্রধানমন্ত্রীকে ধরার অনেক চেষ্টা করলেন। তার চেষ্টা দেখতে পেলে রবার্ট ব্রুসও লজ্জা পেত। একসময় চেষ্টা সফল হলো। প্রধানমন্ত্রী টেলিফোন ধরলেন এবং বললেন, আপনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। আপনাকে অভিনন্দন। মন্ত্রী না থেকেও জনগণের সেবা করা যায়। জনগণের সেবা করুন। </p><p>প্রধানমন্ত্রী টেলিফোন রেখে দিলেন। </p> <p><em>গল্পের মোরাল: মন্ত্রীদের বুকে এবং পায়ে লোম না-থাকা বাঞ্ছনীয়।</em></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2u3oqehj05">ক্রিকেট যেন অস্কারজয়ী অভিনেতাদের যৌথ মহড়া!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/72zdocu7yj">এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dkgc2prfwa">কোথায় কোথায় কালি মাখানো যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l7r2uxvti0">রস+আলো নোবেল ২০২৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/trarpa7245">দুটি কলেজের সংঘর্ষ বন্ধ করার বিভিন্ন পদ্ধতি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/mrplq2ed70">ইলিশ আছে, ইলিশ হ্যাজ!</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kdnfiunl2l">চাঁদাবাজের বর্ণ পরিচয়</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hiksaptred">গ্যাঞ্জাম of সায়েন্সল্যাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/1b2pl7u0b9">ভদ্র ছেলেরা কখনো হাফপ্যান্ট পরে বাইরে যায়?</a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও বিশ্বমঞ্চে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ
যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও বিশ্বমঞ্চে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/e7gazj97/8.jpeg"><figcaption>যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল</figcaption></figure><p>একটি আন্তর্জাতিক ডিগ্রি, বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কিংবা নতুনভাবে চিন্তা করতে শেখা—কোনটি আপনার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে? যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নয়; বরং নিজের দক্ষতা বাড়ানো, পেশাজগতের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ারও সুযোগ। তবে এসব সুযোগ কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচনের পাশাপাশি পড়াশোনার সময় থেকেই পরিকল্পনা করে এগোতে হবে।</p><p><strong>বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে শুধু র‍্যাঙ্কিং নয়</strong></p><p>যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের সময় শুধু বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং বা পরিচিত নামের দিকে তাকালে চলবে না। নিজের পছন্দের বিষয়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ভালো, সেখানে কী শেখানো হয়, ব্যবহারিক কাজ বা ইন্টার্নশিপের সুযোগ আছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা জরুরি। একই বিষয়ের নাম এক হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে কোর্সের কাঠামো, পড়ানোর পদ্ধতি ও বিশেষায়নের সুযোগ আলাদা হতে পারে।</p><p>সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোর্সের বিস্তারিত, ভর্তির যোগ্যতা, মূল্যায়নপদ্ধতি, শিক্ষক ও গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে জানা যায়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন, একাডেমিক সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও ক্যারিয়ার পরামর্শের ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয়ও এক রকম নয়। তাই টিউশন ফির সঙ্গে আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বাজেট তৈরি করতে হবে। কোর্স ও বৃত্তির তথ্য খুঁজতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্টাডি ইউকে ওয়েবসাইট কাজে লাগতে পারে।</p><p>যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও পড়াশোনা শেষে ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। এ সম্পর্কে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ক্যাম্পেইন মার্কেটিং ম্যানেজার (এশিয়া প্যাসিফিক) মুতাম্মীম আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইংরেজি ভাষার কোর্স, আইইএলটিএস প্রস্তুতি ও পরীক্ষা আয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন, বৃত্তি এবং প্রি-ডিপার্চার গাইডেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। আইইএলটিএস পরীক্ষার ফল সাধারণত দুই দিনের মধ্যে পাওয়া যায়।’</p><p>মুতাম্মীম আহমদ আরও বলেন, ‘অ্যালামনাই ইউকে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটরা পেশাগত যোগাযোগ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। এ ছাড়া স্টাডি ইউকে অ্যালামনাই অ্যাওয়ার্ডসের মাধ্যমে সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা গ্র্যাজুয়েটদের স্বীকৃতিও দেওয়া হয়।’</p><p><strong>পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ</strong></p><p>যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগও রয়েছে। তবে কাজের অনুমতি নির্ভর করে শিক্ষার্থীর ভিসার শর্ত, কোর্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরনের ওপর। সাধারণত ডিগ্রি পর্যায়ের পূর্ণকালীন কোর্সে অধ্যয়নরত যোগ্য শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন; ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগও থাকতে পারে। তবে নিজের ভিসার শর্ত যাচাই না করে কাজ শুরু করা উচিত নয়।</p><p>খণ্ডকালীন কাজের সুযোগের মধ্যে দোকান, রেস্তোরাঁ, গ্রাহকসেবা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সহকারী হিসেবে কাজ থাকতে পারে। তবে কাজ পাওয়া নিশ্চিত নয়। তাই পড়াশোনার খরচ মেটানোর একমাত্র উপায় হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরির ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।</p><p>শুধু চাকরি করলেই ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয় না। কোর্সের সঙ্গে সম্পর্কিত ইন্টার্নশিপ, স্বেচ্ছাসেবা, গবেষণা, দলগত প্রকল্প কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ কাজের সুযোগ খুঁজতে হবে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে নিজের কাজের নমুনা, পেশাগত যোগাযোগ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্যারিয়ার পরামর্শ ও কর্মসংস্থান প্রস্তুতির বিভিন্ন সহায়তাও পাওয়া যায়।</p><p>যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিটিশ কাউন্সিলের হায়ার এডুকেশন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সরকার আসিফ ইকবাল প্রথম আলোকে জানান, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নতুনভাবে চিন্তা করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং পেশাগত সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ দেয়।’ তাঁর নিজের অভিজ্ঞতায়, ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন (টিএনই) পদ্ধতিতে বাংলাদেশে থেকেই কর্মজীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।</p><p>শিক্ষার্থীদের নিজের লক্ষ্য, আর্থিক সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী কোর্স বাছাই এবং ডিগ্রির স্বীকৃতি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন সরকার আসিফ ইকবাল। এর পাশাপাশি যোগাযোগ, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করা এবং নিয়মিত নতুন কিছু শেখার মানসিকতা ক্যারিয়ারে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।</p><p><strong>আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি শুরু হোক পড়াশোনাকালীনই</strong></p><p>আন্তর্জাতিক কর্মজগতে শুধু ভালো ফল নয়, নিজের দায়িত্ব ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা, বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করা, তথ্য বিশ্লেষণ, সময় ব্যবস্থাপনা ও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই ক্লাসের বাইরের সুযোগগুলো কাজে লাগানোর পাশাপাশি নিজের অর্জনগুলো নথিবদ্ধ করা উচিত। কোন প্রকল্পে কাজ করেছেন, কী সমস্যা সমাধান করেছেন এবং সেই কাজে আপনার অবদান কী ছিল—এসব তথ্য ভবিষ্যতে জীবনবৃত্তান্ত ও চাকরির সাক্ষাৎকারে কাজে আসবে।</p><p>পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যে থাকতে বা কাজ করতে চাইলে তখনকার অভিবাসন নীতিমালা ও নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী ভিসার পথ যাচাই করতে হবে। আবার দেশে ফিরে কিংবা অন্য দেশে কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাভিত্তিক যোগ্যতা ও নিয়োগদাতাদের চাহিদা সম্পর্কে আগে থেকে জানা প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের ডিগ্রি সুযোগ তৈরি করতে পারে কিন্তু বৈশ্বিক ক্যারিয়ারের নিশ্চয়তা নয়। সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য পরিকল্পনা, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ আর বাতি, তাতেই বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা
দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ আর বাতি, তাতেই বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা

‘চলতি মাসে বিদ্যুৎ বিলের কপি হাতে পেয়ে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। বাতি–ফ্যান চালিয়ে কীভাবে এক লাখ টাকার বেশি বিল আসতে পারে।’

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্স কেন আন্দোলনকারীদের ওপর এত সহিংস হয়ে উঠছে
ফ্রান্স কেন আন্দোলনকারীদের ওপর এত সহিংস হয়ে উঠছে

জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদক ফরাসি কর্তৃপক্ষকে আন্দোলনকারীদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
পূজার সাজে দেশি তারকারা, দেখুন ১৭টি ছবি
পূজার সাজে দেশি তারকারা, দেখুন ১৭টি ছবি

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/913kuf2z/8551641221866934891839372513485689009528916n.jpg"><figcaption>উৎসব ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দুটি ভিন্ন ধারার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট অনুসরণ করেছেন চিত্রনায়িকা মন্দিরা। তিনি বলেন, ‘(সাজে) আধুনিকতা ও বাঙালি সনাতন সংস্কৃতিকে যুক্ত করেছি। লাল রঙের জমকালো সিল্ক শাড়িতে সেজেছি দেবীর আরাধনার আবহে।’</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/8g4vd9bt/85538230318669346485060638156749783562633445n.jpg"><figcaption>মন্দিরার শাড়ি সোনালি জরির সূক্ষ্ম কাজের এবং পাড় ধ্রুপদি ধাঁচের। এই সাজের মূল আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালংকার। গলায় পরেছেন বেশ কয়েকটি স্তরের ভারী সীতাহার ও নেকলেস, কানে ঝুমকা, নাকে সূক্ষ্ম নথ এবং হাতে হাতপদ্ম, রতনচূড়সহ একাধিক সোনার বালা।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/pmvmmlnt/85533978518669349518393664293087579106158562n.jpg"><figcaption>মাথায় মুকুটের ছোঁয়া এবং তাতে সোজা হয়ে থাকা সাদা পালক রূপটিকে দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী লুক। গাঢ় মেকআপ, কপালে চন্দনের সূক্ষ্ম নকশা ও টিপ এবং পায়ে আলতার ছোঁয়া উৎসবমুখর লুকে পূর্ণতা যোগ করেছে। মন্দিরা বলেন, ‘পূজামণ্ডপের প্রাণবন্ত ও মিষ্টি এক সনাতনি আমেজের সাজ নিয়ে সপ্তমীর অনুষ্ঠানে অংশ নিই। এখানে পরেছি লাল ও অফ-হোয়াইট (বাসন্তী-সাদা) চেকের হালকা সিল্ক শাড়ি, যার সঙ্গে কনট্রাস্ট করে পরেছি লাল ব্লাউজ।’</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/6bxnmjdc/85543681318669344151727533459471412262484875n.jpg"><figcaption>সপ্তমীর দিন পরা মন্দিরার শাড়ির লাল পাড় ও জ্যামিতিক নকশায় পুরো লুকে এসেছে মার্জিত ও নান্দনিক ভাব। সাজ ছিল কিছুটা হালকা কিন্তু অভিজাত। গলায় একটি ঝুলন্ত চাঁদ-আকৃতির খোদাই করা সোনার হার, হাতে কয়েকটি সোনালি চুরি ও আংটি এবং কানে ঝুমকা।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/dj33a307/mim.jpg"><figcaption>ঢালিউড তারকা বিদ্যা সিনহা মিম ধরা দিয়েছেন ধ্রুপদি সাজে। পূজার ঐতিহ্যবাহী লাল রংকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি এই লুকে আভিজাত্য ও নান্দনিকতার মেলবন্ধন হয়েছে। ফ্যাশন ডিজাইনার ওয়াহিদা নূরের আউটফিট এবং মেকআপ আর্টিস্ট আকলিমা খানের কাছে সেজেছেন মিম। তাঁর শাড়িটিতে ফুটে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী পূজার সাজ। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/vp1m3i2c/85541456916973808150808376286344122634902986n.jpg"><figcaption>গাঢ় চেরি লাল বা ব্রাইট ক্রিমসন কালারের জমকালো সিল্ক শাড়িতে সেজেছেন মিম। শাড়ির জমিনজুড়ে ফুটে উঠেছে রুপালি-সোনালি জরির সুতায় বোনা চমৎকার পদ্ম ফুলের কাজ। পূজার আবহে পদ্মের এমন উপস্থিতি লুকটিতে ধর্মীয় ও নান্দনিক মাত্রা যোগ করেছে।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/y5p2aztg/mim2.jpg"><figcaption>শাড়ির পাড় ও আঁচলে আছে চওড়া জ্যাকার্ড বর্ডার। বর্ডারের শেষ প্রান্তে স্ক্যালপড বা ঢেউখেলানো নিখুঁত লেসের কাজ। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে মিম পরেছেন মানানসই লাল ব্লাউজ, যাতে আছে ডিপ-নেকলাইন এবং হাতের বর্ডারে শাড়ির পাড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সোনালি সুতা ও জরির সূক্ষ্ম কাজ।</figcaption></figure><figure><img alt="পূজার সাজ" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/gd7j0exq/857248571_1697380741747511_3762757556646969521_n.jpg"><figcaption>মিমের মেকআপ ফ্ললেস ও গ্লোয়িং ফিনিশড। চোখের সাজে নরম শিমারি শেড, সুনির্দিষ্ট আইলাইনার ও আইল্যাশ ব্যবহার করেছেন। ঠোঁটে শাড়ির সঙ্গে রং মিলিয়ে পরেছেন গাঢ় লাল লিপস্টিক। কপালে ছোট লাল টিপ এবং সিঁথিতে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুরের ছোঁয়া পূজার সাজে এনেছে পূর্ণতা। মিমের গলায় শোভা পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের সোনালি চোকার নেকলেস এবং কানে মানানসই ছোট ঝুমকা। দুই হাত ভর্তি করে পরেছেন গাঢ় লাল রেশমি চুড়ি, যার দুই প্রান্তে জড়িয়ে আছে সোনালি ও সাদা বালা।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/hc1gawoe/puja-chery.jpg"><figcaption>শারদীয় দুর্গোৎসবের সপ্তমীর রাতে চিত্রনায়িকা পূজা চেরী ধরা দিয়েছেন অভিজাত ও স্নিগ্ধ এক লুকে। সনাতন ঐতিহ্য ও উৎসবের রাজকীয় আবহ ফুটিয়ে তুলতে বেছে নিয়েছেন ভিন্নমাত্রিক রং ও শৈল্পিক কারুকাজের পোশাক। উৎসবের আমেজে পূজা চেরীর এই উপস্থিতি ভক্ত ও অনুরাগীদের নজর কেড়েছে।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/89xhikk6/puja-chery2.jpg"><figcaption>উৎসবের সাধারণ রং লাল বা সাদার বাইরে গিয়ে পূজা চেরী বেছে নিয়েছেন গাঢ় বেগুনি বা ডিপ পার্পল শেডের চমৎকার জর্জেট ও অরগেঞ্জা মিক্সড শাড়ি। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/bitlx7g2/8553404141658189282342493792944700029047569n.jpg"><figcaption>শাড়ির জমিনজুড়ে সোনালি জরির সূক্ষ্ম জ্যামিতিক নকশা এবং ছোট ছোট বুটির বুটিক কাজ। শাড়ির পাড়ে সোনালি রঙের রাজকীয় বর্ডার। শাড়ির আঁচলে সোনালি সুতার হালকা নকশা এবং শেষ প্রান্তে চমৎকার টারসেল। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে পরেছেন ম্যাচিং ডিপ পার্পল রঙের কনুই-দৈর্ঘ্যের হাফ-শিফন বা জর্জেট হাতার ব্লাউজ।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/9wa790kt/puja-chery3.jpg"><figcaption>পূজা চেরী স্টাইলিং করেছেন পূজার স্নিগ্ধতা বজায় রেখে। গলায় পরেছেন চমৎকার একটি সোনালি পেনডেন্টযুক্ত লকেট নেকলেস বা চেইন, যা নেকলাইনে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। কানে পরেছেন ঐতিহ্যবাহী সোনালি ঝুমকা, যা তাঁর মুখের গড়নকে আরও মায়াবী করে তুলেছে। দুই হাত ভর্তি করে পরেছেন কাচের চুরি।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/gl1o234h/85534006316581890056758546715904014331594731n.jpg"><figcaption>পূজা চেরী হালকা গ্লোয়িং মেকআপের সঙ্গে চোখ সাজিয়েছেন সুনির্দিষ্ট আইলাইনারে। ঠোঁটে ব্যবহার করেছেন সফট মেটালিক বা ন্যুড-গোলাপি লিপস্টিক। কপালে একটি ছোট্ট টিপ এবং সিঁথিতে সিঁদুরের রেখা তাঁর লুকে পূর্ণতা দিয়েছে। চুলগুলো পেছনের দিকে আলতো করে বেঁধে আধখোলা স্টাইলে রেখেছেন।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/daound9b/puja5.jpeg"><figcaption>এবার পূজার পাঁচ দিনে পঞ্চতত্ত্বের ভাবধারাকে রূপ দিতে চেয়েছেন নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্ত, যার মধ্যে আছে মাটি, পানি, বায়ু, অগ্নি ও শূন্য বা মহাশূন্য। উৎসবের প্রথম দিন কাদামাটি রঙের একটি সুতি শাড়ি পড়েছেন পূজা, আর সপ্তমীর শুভক্ষণে বেছে নিয়েছেন প্রদীপ্ত আগুন রঙের উজ্জ্বল শাড়ি।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/z5rdyvgs/puja4.jpeg"><figcaption>পূজার ফ্যাশনে ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের সমন্বয় বরাবরই অগ্রাধিকার পায়। সপ্তমীর দ্বিতীয় দিনে বেছে নিয়েছেন সোনা ও রুপার সূক্ষ্ম তার এবং সবুজ রেশমি সুতার চোখধাঁধানো কারুকাজ করা ঐতিহ্যবাহী চান্দেরি সিল্ক শাড়ি। মিলিয়ে পরেছেন চান্দেরি ব্লাউজ।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/r8min93e/puja3.jpeg"><figcaption>অলংকার নির্বাচনেও ছিল সনাতনি ছোঁয়া। কানে সোনার বেণি ঝুমকা, আঙুলে মানানসই আংটি আর হাতে ধ্রুপদি সোনার বালা। অতিরিক্ত কৃত্রিমতা এড়িয়ে পুরো সাজে ধরে রেখেছেন একটি ছিমছাম লুক।</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/e1ci3sjy/puja.jpeg"><figcaption>লুকটিকে আরও অনন্য ও প্রাণবন্ত করে তুলতে কপালে পড়েছেন পোশাকের বৈপরীত্যে বৈচিত্র্যময় কনট্রাস্ট কালারের সবুজ টিপ। হাতে ছিল গুজরাট থেকে কেনা সূক্ষ্ম হাতের কাজ করা ঐতিহ্যবাহী বটুয়া।</figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/kj6ns15ds2">সপ্তমীর সাজে বিদ্যা সিনহা মিমের ৮টি ছবি</a></aside>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, চোখে মরিচের গুঁড়া—বিমানের সাবেক এমডির বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতনের বর্ণনা অভিযোগপত্রে
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, চোখে মরিচের গুঁড়া—বিমানের সাবেক এমডির বাসায় গৃহকর্মী নির্যাতনের বর্ণনা অভিযোগপত্রে

<p>‘বাথরুমে আটকে রাখত’, ‘গলায় গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিত’, ‘পুতা (নোড়া) দিয়ে দাঁত ভেঙে দিয়েছে’, ‘চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিত’—নির্যাতনের এই বর্ণনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করা ১১ বছর বয়সী শিশুর।</p><p>সে আরও বলেছে, তার বাবা যখন তাকে দেখতে আসতেন, তখন নির্যাতনের চিহ্ন আড়াল করার জন্য তাঁকে বড় পোশাক পরানো হতো।</p><p>শিশুটির এই বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে আদালতে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে। গত ৩১ আগস্ট ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা-পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোবেল মিয়া। এতে সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তার এবং বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়েছে।</p><p>আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন। মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোহেল রানার কাছে পাঠানো হয়েছে।</p><p>মানলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়ে অভিযোগপত্রে তুলে ধরেছি। দুই আসামি জবানবন্দিতে নির্যাতনের বর্ণনা স্বীকার করেছেন।’</p><p>শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়টি সামনে আসে গত ৩১ জানুয়ারি। ওই দিন বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমানের বাসা থেকে নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার বাবা। পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি শিশুটির বাবা তাঁর সন্তানকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন।</p><p>মামলায় সাফিকুর রহমান, তাঁর স্ত্রী বীথি আক্তার এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।</p><p>মামলার এজাহার ও শিশুটির স্বজন সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসার ছোট শিশুদের দেখাশোনার জন্য নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর ১১ বছর বয়সী ওই শিশুকে গৃহকর্মী হিসেবে খুঁজে দেন।</p><p>মেয়েটির বিয়ে ও অন্যান্য খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাঁর হোটেলকর্মী বাবা গত বছরের জুন মাসে তাকে ওই বাসায় পাঠান।</p><p>এজাহারে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়েকে দেখতে ওই বাসায় গিয়েছিলেন বাবা। এরপর আর মেয়েকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি সাফিকুরের স্ত্রী ফোন করে শিশুটির অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে নিয়ে যেতে বলেন।</p><p>মেয়েকে আনতে গিয়ে শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান বাবা। এজাহারে বলা হয়, এরপর শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।</p><p>শিশুটির বাবার মামলার পর রাতেই আসামি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমান এবং গৃহকর্মী রুপালী খাতুন। সাফিকুরের স্ত্রী বীথি আক্তার এবং আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম কারাগারে রয়েছেন।</p><p>নির্যাতনের শিকার শিশুটি গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে জবানবন্দি দেয়। অভিযোগপত্রে ওই শিশুর ওপর নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।</p><p>জবানবন্দিতে শিশুটি জানায়, সাফিকুর রহমানের বাসায় সে কাজ করছিল আট মাস ধরে। তার কাজ ছিল ‘এমডি স্যারের’ বাচ্চাকে দেখাশোনা করা। বাচ্চা মাটিতে কিছু ফেললে তা তুলে রাখা। কিন্তু বাসায় যাওয়ার পর থেকেই গৃহকর্ত্রী বীথি আক্তার তাকে মারধর ও নির্যাতন করতেন।</p><p>শিশুটির জবানবন্দির বরাতে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাফিকুরের বীথি গরম খুন্তি দিয়ে তার (শিশুটির) শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিতেন। চিৎকার করলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারতেন। ঊরু, দুই হাতে ও পিঠে আঘাত করতেন। চোখের মধ্যে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিতেন।</p><p>একপর্যায়ে পুতা বা নোড়া দিয়ে তার দাঁত ভেঙে দেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে জানায় শিশুটি। সে বলেছে, বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীও তাকে নির্যাতন করতেন।</p><p>শিশুটির বরাত দিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেছেন, শিশুটিকে শৌচাগারে আটকে রাখা হতো। বাঁচার জন্য সে শৌচাগারের পানি ও টুথপেস্টও খেয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/rb024g899u">বিমানের এমডির বাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গৃহকর্মী রুপালী রিমান্ড শেষে কারাগারে</a></aside><p><strong>সাফিকুরের ভূমিকা নিয়ে কী বলা হয়েছে</strong></p><p>অভিযোগপত্রে বিমানের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, তাঁর স্ত্রী দিনের পর দিন শিশুটির ওপর নির্যাতন চালাতেন। তিনি তা দেখেও না দেখার ভান করে ছিলেন। স্ত্রীর অন্যায় ও অপরাধের দায় তিনি এড়াতে পারেন না বলে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।</p><p>এ অভিযোগের বিষয়ে সাফিকুর রহমানের আইনজীবী আরিফুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে সে বলেছে, এমডিকে কখনো দেখেনি। এমডি সাহেব তো আর তাঁকে মারেননি। যেহেতু চার্জশিট এসেছে, আমরা ট্রায়াল ফেস করব।’</p><p><strong>বীথি ও সুফিয়া যা বলেছেন</strong></p><p>ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইলের কাছে গত ২১ ফেব্রুয়ারি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রী বীথি আক্তার। সেখানে তিনি শিশুটিকে তিন-চার দিন মারধর করার কথা স্বীকার করেন। তবে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।</p><p>বাসার আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, শিশুটি তাঁর বিরুদ্ধে নারকেল তেল ও সাবান চুরির মিথ্যা অভিযোগ করেছিল। এ কারণে তিনি দুই দিন শিশুটিকে মারধর করেন।</p><p>সুফিয়া তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রী বীথি বিভিন্ন সময়ে ওই শিশুকে মারধর করতেন। তাঁদের সামনেই মারতেন।</p><p>তিনি বলেন, ‘একদিন ম্যাডাম আমাকে বলে খুন্তি গরম করে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। আমি তখন রান্না ঘরে কাজ করছিলাম। আমি খুন্তি নিয়ে যাইনি। পরে ম্যাডাম নিজেই রান্নাঘরে এসে খুন্তি গরম করে নিয়ে ওই শিশুর বাঁ পায়ের ঊরুতে ছ্যাঁকা দেন।’</p><p>কী কারণে ছ্যাঁকা দিয়েছেন, তা জানা নেই উল্লেখ করে সুফিয়া বলেছেন, শিশুটির চিৎকার শুনে গিয়ে তিনি তার ঊরুতে ঠান্ডা পানি ও ক্রিম লাগিয়ে দেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/p1jbuuhxse">বিমানের সাবেক এমডির বাসায় নির্যাতনের শিকার শিশুটি এখন কেমন আছে</a></aside><p><strong>শাস্তি চান বাবা</strong></p><p>মামলার বাদী ও শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়ের শরীরের ক্ষতের দাগগুলো এখনো রয়ে গেছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ে। একটা মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি, কিন্তু চোখে কম দেখে।’</p><p>গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘টাকার অভাবে মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারছি না। ওর দাগগুলো দেখে ভয় লাগে। আমি সর্বোচ্চ বিচার চাই আসামিদের। যেন আর কেউ এমন মারধরের শিকার না হয়।’</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইউরোপের দেশে দেশে কেন বিক্ষোভ করছেন মানুষ
ইউরোপের দেশে দেশে কেন বিক্ষোভ করছেন মানুষ

একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বাইরে আরও অনেকে এই বিক্ষোভে যোগ দেন। জ্বালানিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আওয়াজ তোলেন তাঁরা।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায় আনিসা
বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায় আনিসা

<p>ইচ্ছা থাকলে যে দারিদ্র্যও স্বপ্নকে আটকাতে পারে না, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. আনিসা খাতুন। গ্রামের অতি সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হয়েও তার চোখে এখন মানুষের সেবা করার বড় স্বপ্ন। গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী আনিসা। তার বাবা মো. শাহজাহান একজন কৃষক এবং মা মোছা. উম্মেতুন নেসা গৃহিণী। অভাবের সংসারে থেকেও পড়াশোনার প্রতি তার গভীর আগ্রহ সকলের নজর কেড়েছে।</p><p>আনিসা জানায়, আমাদের গ্রামে ভালো ডাক্তার নেই। অসুস্থ হলে মানুষকে অনেক দূরে যেতে হয়। গত কয়েক বছর আগে আমার দাদি বিনা চিকিৎসায় খুব কষ্ট পেয়েছেন। তখন থেকেই আমি ভেবেছি, বড় হয়ে আমি ডাক্তার হব, যাতে আমার গ্রামের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।</p><p>তার এই মানবিক চিন্তা শিক্ষকদেরও মুগ্ধ করেছে। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হওয়ায় বিজ্ঞান বিষয় তার সবচেয়ে প্রিয়। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, আনিসা খুবই শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী। তার এই সেবা করার মানসিকতাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হওয়ায় উচ্চশিক্ষার পথ তার জন্য সহজ নয়। ডাক্তার পড়তে হলে এসএসসি ও এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভালো ফলাফল করতে হবে এবং আর্থিক সংকট তার বড় বাধা। তবুও সে হাল ছাড়তে নারাজ।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
‘পাপের লাশ’ বলা এমপি কেন ইউটার্ন নিলেন
‘পাপের লাশ’ বলা এমপি কেন ইউটার্ন নিলেন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুজন নাগরিকের বিচার হলো, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো, সেই দণ্ড কার্যকরও হয়ে গেল।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন