ফুটবল

প্যারিসে দাঙ্গার উত্তাপ, বিমান ওড়ার আগে বার্সেলোনার দুই বাধা

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্যারিসে দাঙ্গার উত্তাপ, বিমান ওড়ার আগে বার্সেলোনার দুই বাধা
প্যারিসে দাঙ্গার উত্তাপ, বিমান ওড়ার আগে বার্সেলোনার দুই বাধা
এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনা ও পিএসজি দুই দলই লিগ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে জিতেছে। আগামীকাল তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা তাদের।

Prothomalo

View more
ইশরাকের পদত্যাগ কিসের ইঙ্গিত দিয়ে গেল?
ইশরাকের পদত্যাগ কিসের ইঙ্গিত দিয়ে গেল?

<p><strong>আলোচক: </strong></p><p>মো. জালালউদ্দিন শিকদার </p><p>শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়</p><p><strong>সঞ্চালক: </strong></p><p>শামসউজজোহা</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মুখোশধারীরা, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট
কক্সবাজারে সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মুখোশধারীরা, ৫০-৬০ যানবাহনে লুটপাট

<p>কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি জনপদের ভেতর দিয়ে যাওয়া ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে একদল ডাকাত। আজ সোমবার সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের কবলে পড়ে অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। এগুলোর বেশির ভাগই সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।</p><p>ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাঁদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, কয়েক ঘণ্টা ধরে এভাবে লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ছিল না।</p><p>ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। তাঁদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে মোট কতটি যানবাহনে লুটপাট হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।</p><p>একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর দুজনকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের শরীর তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/td469vp0/WhatsApp-Image-2026-10-19-at-9.34.04-PM.jpeg"><figcaption>ডাকাতদের মারধরে আহত দুই মোটরসাইকেল আরোহী</figcaption></figure><p>রবিউল ইসলামের ভাষ্য, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতেরা ৫০ থেকে ৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার সময় সড়কে পুলিশের টহল ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।</p><p>আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম বলেন, তাঁরা তিনজন একটি অটোরিকশায় করে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র ডাকাতেরা তাঁদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাঁদের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।</p><p>ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল হাকিম বলেন, এ সড়কে প্রায়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও অহরহ ঘটছে। অথচ যাত্রীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেই।</p><p>ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি ডাকাতদের কবলে পড়ে। এ সময় তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।</p><p>ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের ভাষ্য, সোমবার সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় এ সড়কে লুটপাট চালানো হয়। দুই দফায়  আড়াই ঘণ্টার মতো ডাকাতি চলে। তাঁদের দাবি, অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের যাত্রীরা এ সময় ডাকাতের কবলে পড়েন।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
১০ দিনে সৌদিগামী ১২৬ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ১৯ হাজারের বেশি যাত্রী
১০ দিনে সৌদিগামী ১২৬ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ১৯ হাজারের বেশি যাত্রী

<p>হুতিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে ১০ দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১২৬টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৫৯টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৬৭টি।</p><p>আজ সোমবার সন্ধ্যা সাতটার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর আগের দিন রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া তথ্যে ১১৮টি ফ্লাইটে চলাচলে বিঘ্নের কথা জানানো হয়েছিল। তখন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৩৬২।</p><p>বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।</p><p>ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৪টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।</p><p>১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে দফা দফায় হামলা চালাচ্ছে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। হুতিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের মতো ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি যাত্রীরাও। এর আগে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে।</p><p>বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসনসংখ্যা বাড়িয়েছিল।</p><p>বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। অন্যদিকে দাম্মামগামী ফ্লাইট ২১ অক্টোবর থেকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভর করছে। এ ছাড়া রিয়াদগামী বেসরকারি ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা রয়েছে।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৪৬ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৪৬ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য: সারাহ কুক

<p>রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য অন্যতম বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেন, ৯ বছরে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৪৬ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা) সহায়তা দিয়েছে।</p><p>আজ সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা দেখতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সারাহ কুক।</p><p>যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি যখন ভালো হবে, তখন রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।</p><p>বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জানিয়ে সারাহ কুক বলেন, ‘আমাদের দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমাদের শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে।’</p><p>কুমুদিনীতে দুর্গাপূজা দেখতে এসে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানান যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ‘এখানে এটি আমার তৃতীয় সফর। এখানকার চমৎকার সব আয়োজন দারুণ উপভোগ করছি।’</p><p>এর আগে সারাহ কুক বিকেলে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছান। কুমুদিনী লাইব্রেরিতে চা–চক্র শেষে কমপ্লেক্সের রেস্টহাউসে যান তিনি। সেখান থেকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বের হন। তিনি বজরা নৌকায় চেপে লৌহজং নদের উত্তর পার থেকে দক্ষিণ পারে যান। এ সময় সুইজারল্যান্ডের উপমিশন প্রধান দীপক এলমারও নৌকায় ছিলেন।</p><p>নৌকা থেকে নেমে দুজন পূজামণ্ডপের সামনে আশানন্দ হলে যান। সেখানে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাঁদের স্বাগত জানান। এ সময় কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক শ্রীমতী সাহা, শম্পা সাহা ও প্রতিভা মুৎসুদ্দি উপস্থিত ছিলেন।</p><p>অতিথিরা আশানন্দ হলে বসে পূজামণ্ডপের সামনে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় আরতি উপভোগ করেন।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ময়মনসিংহে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির নেতারাই প্রশ্ন তুলছেন
ময়মনসিংহে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির নেতারাই প্রশ্ন তুলছেন

<p>ময়মনসিংহে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন একজন সংসদ সদস্যের ভাই ও মামা। এ ছাড়া ধান-চালের ব্যবসায়ী ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলারও সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্য ও নেতারা।</p><p>জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে গত কয়েক দিনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।</p><p>বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ ৯ অক্টোবর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার কিছু ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু ইউনিয়নে ফ্যাসিস্টের দোসরদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিস্টের দোসরদের নাম স্থানীয় প্রশাসন ১ নম্বর ক্রমিকে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আমি কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কথা বলে জেনেছি, স্থানীয় প্রশাসন যাদের নাম ১ নম্বর ক্রমিকে পাঠিয়েছে, মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে তাদেরই ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় তাদের নাম ১ নম্বরে গেল?’</p><p>অনিয়মের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের ভাই ও স্বজনের ডিলারশিপ পাওয়া প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ গতকাল সোমবার রাতে মুঠোফোনে <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন হলেই তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পাবেন না, এমন নয়। তাঁরা যোগ্য হলে এবং তাঁদের চেয়ে যোগ্য কেউ না থাকলে বিষয়টি ভিন্ন। যদি এর ব্যত্যয় হয় তাহলে সেটি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। তিন মাস পর তো পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।</p><p>বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, ‘সারের ডিলার নিয়োগে যেখানে যেখানে অনিয়ম হয়েছে, সেখানে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তদন্তপূর্বক পুনর্বিবেচনার জন্য। আমি শুনেছি সরকার সে ব্যাপারে তদন্ত করছে।’</p><p>ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট জেলার ১৪টি উপজেলার ১৪৫টি ইউনিয়নে ১৫৬ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ জন্য আবেদন জমা পড়ে ১ হাজার ৭৪৪টি। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকার সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশ এবং সারসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হয়। নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের ডিলারশিপ প্রথমে অস্থায়ীভাবে দেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর্যবেক্ষণের পর সন্তোষজনক বিবেচিত হলে তা স্থায়ী করার কথা রয়েছে।</p><aside><cite>সৈয়দ এমরান সালেহ, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব</cite>সংসদ সদস্যের আত্মীয়স্বজন হলেই তাঁরা ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পাবেন না, এমন নয়। তাঁরা যোগ্য হলে এবং তাঁদের চেয়ে যোগ্য কেউ না থাকলে বিষয়টি ভিন্ন। যদি এর ব্যত্যয় হয় তাহলে সেটি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। তিন মাস পর তো পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।</aside><p>তালিকা প্রকাশের পরই বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ৯ অক্টোবর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে ডিলার নিয়োগে প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, ‘কে কোথা থেকে কত পারসেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি।’</p><p>রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হবে, আর অর্থের বিনিময়ে সার ডিলারশিপ দেওয়া হবে—এমনটা হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/uks677cn/00-3.jpg"></figure><h3>এমপির ভাই ও মামা পেলেন ডিলারশিপ</h3><p>ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের ভাই ও মামা সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন। তালিকা অনুযায়ী গফরগাঁওয়ের লংগাইর ইউনিয়নে মেসার্স এসএম এন্টারপ্রাইজের নামে ডিলারশিপ পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান। তিনি সংসদ সদস্যের ছোট ভাই এবং দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।</p><p>উস্থি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন সংসদ সদস্যের মামা মো. মনিরুজ্জামান। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম জাহিদুল স্যানিটারি অ্যান্ড হার্ডওয়্যার। অন্যদিকে যশরা ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছে সেলিম ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল রানা গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। স্থানীয়ভাবে তিনি সংসদ সদস্যের চাচাতো শ্যালক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।</p><p>নিজের ভাই ও স্বজনেরা ডিলারশিপ কীভাবে পেলেন এমন প্রশ্নে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ‘রাজনৈতিক ত্যাগ, ব্যবসায়িক যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গোডাউন করার সক্ষমতা যাচাই করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার কোনো চাচাতো শ্যালক নেই। ভাই ও মামা তাঁদের যোগ্যতায় পেয়েছেন। সবচেয়ে নির্যাতিত লোকদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা সুবিধাবাদী।’</p><h3>খুচরা ডিলার ও ধান ব্যবসায়ীর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন</h3><p>হালুয়াঘাট উপজেলার শাকুয়াই বাজারে মেসার্স সালমান ইসলামীয়া স্টোরকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হোসাইন আহম্মদ সালমান আগে খুচরা সার ডিলার ছিলেন। অবৈধভাবে সার বিক্রির অভিযোগও আছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।</p><p>হোসাইন আহম্মদ সালমান বলেন, নতুন ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন করার পর কর্তৃপক্ষ তাঁকে যোগ্য মনে করায় নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন ডিলারশিপ পাওয়ার আগে খুচরা ডিলারশিপ প্রত্যাহার করে টাকা তুলে নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।</p><p>তবে হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, ওই খুচরা ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল হয়নি। প্রত্যাহারের কোনো আবেদনও তাঁর কাছে জমা পড়েনি। খুচরা ডিলার থাকা অবস্থায় কীভাবে নতুন করে ডিলারশিপ পেয়েছেন, তা জেলা কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।</p><aside><cite>মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, সংসদ সদস্য, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও)</cite>রাজনৈতিক ত্যাগ, ব্যবসায়িক যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গোডাউন করার সক্ষমতা যাচাই করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমার কোনো চাচাতো শ্যালক নেই। ভাই ও মামা তাঁদের যোগ্যতায় পেয়েছেন। সবচেয়ে নির্যাতিত লোকদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা সুবিধাবাদী।</aside><p>ফুলপুরের ভাইটকান্দি ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেসার্স সাদিকা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার এবং ধান-চালের ব্যবসায়ী।</p><p>ভাইটকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান বলেন, প্রকৃত সার ব্যবসায়ী না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে সাখাওয়াত হোসেনকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলো, তা প্রশাসনের কাছে জানতে চান তাঁরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-19/wrjiwonl/00-2.jpg"></figure><p>তবে নীতিমালা অনুযায়ী ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে দাবি করেন সাখাওয়াত হোসেন। সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় গত কয়েক দিনে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিয়োগ না পাওয়া আবেদনকারী ও বিএনপি নেতারা। ডিলার নিয়োগে ‘অলিখিত বাণিজ্য’ হয়েছে বলে তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন।</p><p><strong>অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা</strong></p><p>নীতিমালার বাইরে কাউকে নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হয়েছে—এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।</p><p>সংসদ সদস্যের স্বজনদের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, কে কার আত্মীয়, সেটি বিবেচ্য নয়; নীতিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড অনুসরণ করেই প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। গড়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ১২ থেকে ১৩ জন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু জেলা কমিটির সুপারিশ করার সুযোগ ছিল একজনের জন্য। এ কারণে অন্য আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। নীতিমালা অনুসরণ করেই ডিলার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।</p>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
সমান্তরাল আদালত, পলাতক রাষ্ট্র
সমান্তরাল আদালত, পলাতক রাষ্ট্র

সাতক্ষীরার দেবহাটায় শামীমের মৃত্যু কি রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের অনুপস্থিতি, নাকি এক সমান্তরাল আইনের উপস্থিতির ঘোষণা? নাকি আদতে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নাই হয়ে যাওয়ার ঘোষণা? কে অসুস্থ? শামীম, উসকানিদাতা নাকি রাষ্ট্র? নাকি আসলে আমাদের এই পুরো সমাজই এখন এক জটিল বিকৃতিতে অসুস্থ?

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইশরাকের পদত্যাগ: অস্ত্র হাতে সাফাই
ইশরাকের পদত্যাগ: অস্ত্র হাতে সাফাই

ইশরাকের পদত্যাগ: অস্ত্র হাতে সাফাই

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
কুমারী পূজার উৎসব–আমেজ ময়মনসিংহের মণ্ডপগুলোতে
কুমারী পূজার উৎসব–আমেজ ময়মনসিংহের মণ্ডপগুলোতে

<p>উলুধ্বনি, শঙ্খ আর ঢাকের বাদ্যে মহাষ্টমীতে মুখরিত ময়মনসিংহের পূজামণ্ডপগুলো। নগরের রামকৃষ্ণ মিশনে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজায় ৬ বছরের সরসী চক্রবর্তীকে পূজিত করা হয় দেবী রূপে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বস্তা থেকে সাপ বের করছিলেন, হঠাৎ ছোবলে সাপুড়ের মৃত্যু
বস্তা থেকে সাপ বের করছিলেন, হঠাৎ ছোবলে সাপুড়ের মৃত্যু

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সাপের কামড়ে লগেন হাসদা (৫৫) নামের এক সাপুড়ের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

অক্টোবর ১৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন