নবীজির বাল্যকালের একটি স্মৃতি, যা তিনি মদিনায় একটি ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্মরণ করেছিলেন। তিনি মেষ চরাতেন, পারিশ্রমিক নিতেন সামান্য। কখনো বন্ধুর দায়িত্বে মেষগুলো রেখে লোকালয়ে যেতেন।
বিনোদনজগতের তারকাদের সমসাময়িক কাজ, সাফল্য আর স্বপ্ন-পরিকল্পনার গল্প নিয়ে প্রথম আলো ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘মেরিল ক্যাফে লাইভ’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের শেয়ারের একটি অংশ জনকল্যাণমূলক তহবিলে দান করার পরিকল্পনা করেছিল। ইলন মাস্ক এর সমালোচনা করে বলেন, শেয়ার এভাবে কোনো ফান্ডে না দিয়ে সরাসরি মানুষের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।
পাকিস্তানের হারে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে ত্রিদেশীয় সিরিজের অন্য দল ইংল্যান্ড।
<p> ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’ আইজিপি অসতর্কতাবশত এমন কথা বলেছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’</p><p> গতকাল সোমবার রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।</p><p> এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/5otvvmeyc8">‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর</a></aside><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু) সহ্য করবে না।</p><p>স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার যা যা দরকার, সব করবে।</p><p>এর আগে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/politics/5cj1ffhask">আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর, আমাদের ভাবিয়ে তুলছে: রিজভী</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/ph8xdx2sn8">ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব: আইজিপি</a></aside><p>বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে।</p><p>গতকাল সোমবার ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের এই বক্তব্যের পরপর তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানায়।</p><p>আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। তাতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/gc1m4322jg">‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের নিন্দা-ক্ষোভ, প্রত্যাহারের দাবি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/ti50n32y30">ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য বিপজ্জনক বার্তা, প্রত্যাহার চায় টিআইবি</a></aside>
<p>জাতীয় গ্রিডের একাংশে বিপর্যয়ের কারণে আজ মঙ্গলবার দুই ঘণ্টার মতো সময় বিদ্যুৎহীন ছিল ঢাকার একাংশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। মেট্রোরেল লাইনের একটি সাবস্টেশনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে মেট্রোরেল চলাচলে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।</p><p> ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) বলছে, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশ বিদ্যুৎহীন হয়ে গেলেও মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হবে না।</p><p> আজ জাতীয় গ্রিডে আংশিক বিপর্যয়ের পর ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মেট্রোরেল চলাচল ব্যাহত হয়নি। তাঁরা উত্তরা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ পেয়েছেন।</p><p>ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল রুটে এখন মেট্রোরেল চলাচল করে। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে দুটি সাবস্টেশন রয়েছে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানিয়েছে, আজ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর মতিঝিলের সাবস্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। এ সাবস্টেশনে মানিকনগর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে উত্তরা সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ আসে টঙ্গী থেকে।</p><p>মতিঝিল সাবস্টেশন বন্ধ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা উত্তরা সাবস্টেশনের আওতায় চলে যায়। ফলে উত্তরা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত থাকে বলে জানিয়েছেন ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা।</p><p><strong>বিকল্প বিদ্যুতে চলবে তিন ঘণ্টা</strong></p><p>ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও মেট্রোরেল চালু রাখার জন্য দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। এর একটি ৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা। অন্যটি হলো ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম (ইএসএস)।</p><p>৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ডিএমটিসিএলের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে এই ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে। এর মাধ্যমে অন্তত দুই ঘণ্টা মেট্রোরেল চালু রাখা সম্ভব।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/kc2mnlkc4m">ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দুই ঘণ্টা পর সরবরাহ শুরু </a></aside><p>এই ব্যবস্থার বিদ্যুৎ সরবরাহ শেষ হলে চালু করা যাবে ইএসএস। এটি মূলত ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ব্যবস্থা। জরুরি পরিস্থিতিতে এই সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। এ ব্যবস্থায় আরও এক ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো সম্ভব।</p><p>অর্থাৎ, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে প্রথমে জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরে ব্যাটারিতে সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই দুই ব্যবস্থার বিদ্যুৎও শেষ হয়ে গেলে এবং এর মধ্যে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।</p><p>ডিএমটিসিএলের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় তিন ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো যাবে।</p>
<p>কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের দুধকুমার ও গঙ্গাধার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা মো. ফজলু মিয়ার স্বপ্ন এখন দেশের অন্যতম সেরা প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়াশোনা করা।</p><p>প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার এই শিক্ষার্থী প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে। ২০২৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে সে। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। ভালো ফলের আশা ও বুয়েটে ভর্তির লক্ষ্যে বিজ্ঞান বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে এখন।</p><p>ফজলু মিয়ার স্বপ্ন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চলের মানুষের কল্যাণে কাজ করা। তার এই স্বপ্ন, নিষ্ঠা ও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় চরাঞ্চলের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।</p><p>প্রথম আলো ট্রাস্টের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা যে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বপ্ন দেখার সাহস ও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে, ফজলু মিয়া তারই একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।</p><p>একটি ছোট্ট কুঁড়েঘর থেকে বুয়েটের স্বপ্ন দেখা ফজলু মিয়ার এই স্বপ্নযাত্রা সফল হোক—এটাই তার শিক্ষক ও পরিবারের প্রত্যাশা।</p>
<p>অবশেষে বিভ্রান্তি কাটল। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত যাপনও করতে পারবেন পর্যটকেরা। এ বিষয়ে আগে জারি করা আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তে আজ ২৭ অক্টোবর সংশোধন আনা হয়েছে।</p><p>পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ‘নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি–মার্চে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে থাকা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সেখানে সংশোধন করা হয়েছে। এখন পুরো সময়ই পর্যটকেরা দ্বীপে থাকতে পারবেন।’</p><p>গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ২৫ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছিল।</p><p>ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন। একই দিন ফিরে আসতে হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে। ফলে এবার পর্যটকদের যাতায়াতের সময়সীমা বাড়লেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে গত বছরের নিয়মই বহাল থাকছে বলে ধারণা তৈরি হয়। এটা নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে ‘প্রথম আলো’য় খবর প্রকাশের পর রাতযাপনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। এবার সে বিষয়ে সংশোধিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।</p><p>নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।</p><p>এবার দ্বীপে পর্যটক যাওয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।</p><p>এবারও সেন্ট মার্টিনে যেতে পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নিতে হবে। গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের একজন কর্মকর্তা ‘প্রথম আলো’কে জানান, গতবারের মতো এবারও ট্রাভেল পাস নিয়ে পর্যটকদের দ্বীপে যেতে হবে। এ বিষয়ে কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।</p><p>গত বছরের প্রজ্ঞাপনে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সেগুলো হলো—</p><ul><li><p>রাতে সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো যাবে না।</p></li><li><p>শব্দ সৃষ্টি করা ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না।</p></li><li><p>কেয়াবনে প্রবেশ এবং কেয়া ফল সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।</p></li><li><p>সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।</p></li><li><p>সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ।</p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/bp8ekq0989">এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে</a></aside>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”