আড্ডার মাঝেই মন খরাপ করে দিলেন প্রয়াত অভিনয়শিল্পী এটিএম শামসুজ্জামান, পারভিন সুলতানা দিতি, সায়েমরা।
শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের উত্তর নওতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
<p>দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে... <br></p><figure></figure>
‘সেই মিছিল নিয়ে আমরা জনাব তারেক রহমানকে (প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান) ঘেরাও করে আমাদের দাবি আদায় করে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ,’ বলেছেন তিনি।
<p>বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসারে অনটন এবং চার লাখ টাকার ঋণ ও কিস্তি পরিশোধের চাপে দুই মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মা।</p><p> গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।</p><p> চলতি বছরের ৩ মার্চ বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) এবং তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইতি ডাকবাংলোর অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। তিনি পৌরসভার কালীবাড়ি সড়কের বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী।</p><p> ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ইতি রানীর মৃত্যুর বিষয়ে বলা হয়েছে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় এবং তা আত্মহত্যাজনিত। দুই মেয়ে আরাধ্যা ও অনুরাধার মৃত্যুর কারণ হিসেবে একই ধরনের রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার পাশাপাশি শ্বাসরোধে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মৃত্যু হত্যাজনিত বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। তবে কারও ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।</p><h3>ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা </h3><p>পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস পেশায় সুপারি ব্যবসায়ী ও দরজি। তাঁর ছোট দরজি দোকান এবং সীমিত পরিসরের সুপারি ব্যবসা থেকে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন ছিল। তাঁদের পুরোনো বসতভিটা প্রায় ৩০ বছর আগে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এর পর থেকে তাঁরা সরকারি জায়গায় বসবাস করছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।</p><p>পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইতি রানী পাঁচটি বেসরকারি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা (এনজিও) থেকে মোট ২ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা আর দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস একটি এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। এ ছাড়া অনিল রায় ও বাবুল রায় নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকেও এক লাখ টাকা ধার করেন। সব মিলিয়ে তাঁদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকা। ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে ইতি রানী দুশ্চিন্তায় ভুগতেন।</p><p>পুলিশের তদন্তে বলা হয়, সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও স্বামীকে সহযোগিতার জন্য আত্মহত্যার প্রায় দুই মাস আগে মাসে তিন হাজার টাকা বেতনে বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দেন ইতি রানী। পারিবারিক আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে হতাশা থেকে সন্তানদের হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেন।</p><h3>সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে </h3><p>জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর ক্লোজ সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখেছে, ঘটনার দিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ইতি রানী দুই মেয়েকে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা তৃতীয় তলায় যান। সকাল ১০টা ৫০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে বড় মেয়ে আরাধ্যা ৩ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পর ইতি রানী ছোট মেয়ে অনুরাধাকে ৪ নম্বর কক্ষে রেখে ৩ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। বেলা ১১টা ১৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের সময় ইতি রানী ৩ নম্বর কক্ষ থেকে বেরিয়ে ১১টা ১৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ৪ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁদের কাউকেই জীবিত অবস্থায় কক্ষ থেকে বের হতে দেখা যায়নি।</p><p>পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতি রানী দুই মেয়েকে কোমল পানীয় অথবা খাবার পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পান করানোর পর শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজেও চেতনানাশক ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন।</p><h3>ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান </h3><p>ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বিষয় পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কী লেখা এসেছে, তা–ও জানি না। ঋণের কারণে আমার স্ত্রী দুই সন্তানকে মেরে ফেলবে, তা হতে পারে না। আমি এই ময়নাতদন্ত রিপোর্ট মানি না। এটা প্রত্যাখ্যান করলাম। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’</p><p>বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা যা পেয়েছেন, তা আমরা জানিয়েছি। যেহেতু আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়েছি, এখন আমরা পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করব।’</p><p>মামলার বাদীর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মুকিত হাসান খান বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তো আমরা দিইনি। এটা মেডিক্যাল থেকে দেওয়া হয়েছে।’</p>
<p>জীববৈচিত্র্যে ভরপুর সুন্দরবনের নদী ও খালে মাছের প্রজাতির বৈচিত্র্য কম নয়; কিন্তু ভেটকি, পোয়া ও পাঙাশের মতো বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অন্তত আট প্রজাতির মাছ অতিরিক্ত আহরণের চাপে রয়েছে। ছোট মাছ ও পোনা ধরা এবং নদী-খালে বিষ প্রয়োগও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সুন্দরবনের জলজ সম্পদ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নতুন সাত প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকেরা। যেগুলো উপকূলীয় জলসীমায় আগে থেকেই ছিল।</p><p>সরকারের সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১৬ মাস ধরে সুন্দরবনের নদী-খালের মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বৈচিত্র্য, বিস্তৃতি, আহরণের প্রবণতা এবং জলজ পরিবেশের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করা হয়। গত ১৩ আগস্ট খুলনার আভা সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে ‘সুন্দরবনের জলজ সম্পদের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষকেরা।</p><p><strong>পাঁচ মাছ ও দুই চিংড়ির প্রজাতি শনাক্ত</strong></p><p>মাছের প্রজাতি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে গবেষকেরা ডিএনএ বারকোডিং–পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। ডিএনএ হলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী উপাদান। গবেষক দলের প্রধান ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক এম এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ডিএনএ বারকোডিংকে অনেকটা জীবের আঙুলের ছাপের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কোনো জীবের ডিএনএর নির্দিষ্ট একটি অংশের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে তা পরিচিত প্রজাতির ডিএনএ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এভাবে দেখতে প্রায় একই রকম হলেও ভিন্ন প্রজাতির মাছকে আলাদা করে শনাক্ত করা সম্ভব।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-02-24/tjlbka76/KhulnaDH159620250224koyra-Sundarban-kakra-sikar.jpg"><figcaption>সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া শিকার করে লোকালয়ে ফিরেছেন এক জেলে। খুলনার কয়রার সুন্দরবন–সংলগ্ন দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার শাকবাড়িয়া নদীর তীরে। </figcaption></figure><p>গবেষকেরা বাংলাদেশের উপকূলীয় জলসীমায় নতুন রেকর্ড হিসেবে পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ি শনাক্ত করেছেন। মাছ পাঁচটি হলো বড় আঁইশ পারশে (<em>Planiliza macrolepis</em>), ফোঁটা বাটা (<em>Crenimugil seheli</em>), বার্মিজ এক ঠুঁইটা (<em>Dermogenys burmanica</em>), কুলি বেলে বা চ্যাপ্টা মাথা বেলে (<em>Butis humeralis</em>) এবং সবুজ ফোঁটা বেলে (<em>Acentrogobius viridipunctatus</em>)। চিংড়ি দুটি হলো মাকড়সা চিংড়ি (<em>Cloridos scorpio</em>) ও ফোঁটা চিংড়ি (<em>Nematopalaemon tenuipes</em>)।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/environment/5zxyiqacxc">সুন্দরবনে ৩৯% সুন্দরী গাছ রোগে আক্রান্ত </a></aside><p>গবেষক এম এনামুল হক বলেন, এই মাছ ও চিংড়িগুলো সুন্দরবনে আগে থেকেই ছিল। তবে আগে সেগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। দেখতে একই রকম হলেও মাছের প্রজাতিভেদে জিনগত পার্থক্য থাকতে পারে। ডিএনএ বারকোডিং–পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই পার্থক্য শনাক্ত করা হয়েছে। যেমন এক ঠোঁটা বা বাটা মাছের মতো দেখতে একাধিক প্রজাতি রয়েছে। ট্যাংরা, পুঁটি ও পাঙাশের ক্ষেত্রেও এমনটা দেখা যায়। বাহ্যিক চেহারা বা নামে মিল থাকলেও জিনগতভাবে সেগুলো আলাদা প্রজাতি হতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-03/78fdc2f7-8aa7-4703-93b6-430c90b96a78/KHULNA_DH0630_20230224_KHULNA_SUNDORBON_2_JPG.JPG"><figcaption>সুন্দরবন থেকে মাছ ধরে ফিরছেন জেলেরা।</figcaption></figure><p>গবেষণায় ৮৩টি মাছ ও ২৮টি ক্রাস্টেশিয়ানের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ক্রাস্টেশিয়ান হলো শক্ত খোলসবিশিষ্ট অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের একটি গোষ্ঠী, যার মধ্যে চিংড়ি ও কাঁকড়াও রয়েছে। এসব নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তার উপাদানগুলোর বিন্যাস নির্ণয় করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিএনএ সিকোয়েন্সিং’। এতে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর প্রজাতি শনাক্ত করা যায়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/s8dhlq95y8">সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরলেও প্রমাণ করা যায় না </a></aside><p>গবেষকেরা জানান, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জীবের ডিএনএ বারকোড সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে। পাঁচ প্রজাতির মাছ ও দুই প্রজাতির চিংড়ির ডিএনএ সিকোয়েন্স আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক জিন ব্যাংক হলো যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন পরিচালিত বিভিন্ন জীবের ডিএনএ সিকোয়েন্স সংরক্ষণকারী উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার। চূড়ান্ত কর্মশালার পর বন বিভাগের মাধ্যমে সিকোয়েন্সগুলো সেখানে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।</p><p><strong>৩৮২ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি </strong></p><p>গবেষণায় সুন্দরবনের ৬৫টি নদী ও খাল থেকে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি খুলনার কয়রা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর এবং বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলার মাছ অবতরণকেন্দ্র থেকেও তথ্য নেওয়া হয়। বর্তমান জরিপে ২৫১ প্রজাতির মাছ ও ৫১ প্রজাতির ক্রাস্টেশিয়ানের উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে।</p><p>বন বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, এর আগে ২০২০ সালের দিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও সুন্দরবনের জলজ প্রাণীর প্রজাতি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে ডিএনএ বারকোডিং পদ্ধতিতে গবেষণা করেছিলেন। বর্তমান গবেষণা সুন্দরবনের জলজ সম্পদ সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানো এবং তা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/g3bylb8kji">সুন্দরবন রক্ষায় সমন্বিত চেষ্টা দরকার </a></aside><p>বন বিভাগ বলছে, ২০২০ সালের ও বর্তমান গবেষণার তথ্য মিলিয়ে সুন্দরবনে মোট ৩৮২ প্রজাতির মাছের উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবনে ৮৮ প্রজাতির শেলফিশের (শক্ত খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী) উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে ২৭ প্রজাতির চিংড়ি, ২৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ১৬ প্রজাতির গ্যাস্ট্রোপড, ১৫ প্রজাতির বাইভালভ, পাঁচ প্রজাতির সেফালোপড, এক প্রজাতির বার্নাকল ও এক প্রজাতির কাইটন রয়েছে।</p><p>সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পের পরিচালক ও খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, গবেষণার সুপারিশের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।</p>
<p>মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রাণ গেছে গোলাপ হোসেন ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে তোয়াবার। স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে ১১ মাসের আরেক মেয়েকে কোলে নিয়ে আহাজারি করছেন শিউলি আক্তার। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে...</p><figure></figure>
গত মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী মেরিন ড্রাইভের ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ খননের সময় আগুনের সূত্রপাত হয়।
২৯ অক্টোবর রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।