ট্রাম্পের মূলশক্তি ছিল রিপাবলিকান সমর্থকদের ওপর তার অন্ধ প্রভাব—যার কারণে ভোটাররা তাকে চোখ বন্ধ করে অনুসরণ করত। মঙ্গলবার রাতের ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ব্যবধান যদি কোনো সংকেত হয়, তবে ভোটাররা আর তাকে আগের মতো অনুসরণ করছে না।
২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
আগামীকাল ঢাকায় শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এর আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে এমন মজার মন্তব্য করেন মুতাইরি।
<p>দেশে ২০২৬ সালের মার্চে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আট মাসে এই দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/u1gcdogr/lpg_header__1_.jpg"></figure><p>তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা <a href="https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-berc/2026/10/1c619233-2f38-4425-aebf-cf6ca86f05c3.pdf" rel="nofollow">বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকা</a> হয়েছে ২ নভেম্বর। দেশে এখন পর্যন্ত এই সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ দাম এটা। প্রতি মাসেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম সমন্বয় করে। এর আগে <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/627c68dwrr" rel="nofollow">অক্টোবরেও দাম বেড়েছিল</a> ২৫২ টাকা।</p><p> দেশের বাজারে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে এলপিজি সরবরাহে ঘাটতি চলছে, সরকার-নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।</p><p> এখানে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন চলে আসে, যেমন দাম এত বাড়ছে কেন? দামের এই বৃদ্ধি কি কোনো আকস্মিক ঘটনা, নাকি ধারাবাহিকভাবেই এলপিজির দাম বারবার বাড়ছে? দাম একবার বাড়লে কি আর কখনো কমে?</p><p> এ রকম নানা বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এলপিজির দাম খতিয়ে দেখেছে প্রথম আলো। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/jwh2qxh5/LPGfiveyears.jpg"></figure><p> ২০২১ সালের এপ্রিলে হাইকোর্টের নির্দেশে বিইআরসি প্রথমবারের মতো বেসরকারি এলপিজির দাম ঠিক করে দেয়। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৭৫ টাকা। এরপর প্রতি মাসে দাম বেড়েছে বা কমেছে। যে ৬৩ বার দাম সমন্বয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ৩২ বারই দাম বেড়েছে, কমেছে ২৬ বার এবং ৫ বার অপরিবর্তিত ছিল।</p><p>২০২৬ সালের মার্চে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আট মাসে এই দাম বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। ২০২১-২২ সালের চার মাসের দামের তথ্য নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি, তাই গ্রাফের ওই অংশটুকু ফাঁকা রাখা হয়েছে।</p><p>এই গ্রাফ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, চলতি বছর এলপিজির দাম একটু বেশিই বাড়ছে। এর পেছনে কি শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দায়ী? এটা সবিস্তারে দেখানো হয়েছে নিচের ছবিতে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/igciu8hl/LPGwaryear.png"></figure><p>সামগ্রিক চিত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে দুবার—একবার জানুয়ারিতে, আরেকবার এই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। দুবারই দোকানে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার পাননি ক্রেতারা, যখন পেয়েছেন, তখন কিনতে হয়েছে সরকার-নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি দিয়ে। তবে এই দুই সংকটের কারণ এক নয়। বিষয়টা খুলে বলা যাক।</p><p><strong>জানুয়ারি সংকট: এলপিজি দেশে আসেনি, কারণ ঋণপত্র খোলা যায়নি</strong></p><p>বিদেশ থেকে এলপিজি কিনতে আমদানিকারককে ব্যাংকে ঋণপত্র বা এলসি খুলতে হয়। এলসি হলো ব্যাংকের দেওয়া নিশ্চয়তা যে বিদেশি বিক্রেতা টাকা পাবেন। এলসি খুলতে না পারলে এলপিজি নিয়ে জাহাজ আসে না।</p><p>২০২৫ সালের শেষ দিকে কয়েকটি বড় আমদানিকারক এ জায়গায় আটকে যায়। প্রথম আলোর ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু কোম্পানি প্রায় দুই বছর ধরে এলসি খুলতে পারছে না। শতভাগ টাকা জমা না দিলে ব্যাংক এলসি দিচ্ছে না, আবার কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের এক <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/27v42ihzhg" rel="nofollow">প্রতিবেদনে</a> বিইআরসির তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ঋণসীমা শেষ হওয়ার পর ব্যাংক ১০ শতাংশের বদলে শতভাগ নগদ জামানত চেয়েছে। তাতে ইউনিটেক্সের আমদানি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১ লাখ ৫৫ হাজার টন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শূন্যে নেমেছে। একই সময়ে বসুন্ধরার আমদানি ১ লাখ ৩৮ হাজার টন থেকে কমে হয়েছে ১০ হাজার টন।</p><p>এর প্রভাব পড়ে পুরো বাজারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এলপিজি আমদানি আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ৪৪ শতাংশ কম ছিল। পুরো ২০২৫ সালে <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/05y1rmssdm">আমদানি কমেছে </a>প্রায় দেড় লাখ টন।</p><p>জানুয়ারির মাঝামাঝি সরকারি দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা, অথচ ঢাকার মোহাম্মদপুরে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে প্রায় ২ হাজার টাকায়। ৮ জানুয়ারি কয়েকটি জেলায় <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/e8ype01d2p">ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার বিক্রিই বন্ধ রাখেন</a>।</p><p>এরপর সরকার কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়। জ্বালানি বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংককে এলসি দ্রুত খোলার ব্যবস্থা করতে বলে। এনবিআরকে আমদানি পর্যায়ের ভ্যাট কমাতে বলা হয়। পাঁচটি কোম্পানির আমদানি বাড়ানোর আবেদনে অনাপত্তি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) সরকার থেকে <a href="https://www.prothomalo.com/business/industry/gnt8ngk8cm">সরকার পর্যায়ে আমদানির অনুমতি</a> দেওয়া হয় এবং মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক <a href="https://www.prothomalo.com/business/bank/nwuaeh9kj7">এলপিজি আমদানিতে একক গ্রাহকের ঋণসীমা তুলে নেয়</a>।</p><p>এরপর ফেব্রুয়ারিতে আমদানি আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ২১ শতাংশ বেড়েছিল, মার্চে বেড়েছিল ৩৮ শতাংশ। এভাবে জানুয়ারির সংকট কেটে যায়।</p><p><strong>সেপ্টেম্বর সংকট: গ্যাস আমদানি করা হয়েছে, কিন্তু দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই</strong></p><p>এ সময় এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবের হিসাবে চলতি বছরের আগস্ট মাসে এলপিজি আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন, প্রায় সমান। তবু ২০ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছে <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/6i0q3w5mjl">সরবরাহ কমাতে শুরু করে</a>। প্রথমে প্রায় ৩০ শতাংশ, পরে ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায় সরবরাহ। ডিপোর সামনে ডিলারদের ট্রাক সপ্তাহখানেক লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। সরকারি দাম তখন ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা, কিন্তু বাজারে <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/u6cs2ej66c">১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে</a> এর চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে।</p><p>অর্থাৎ গ্যাস দেশে এসেছিল, কিন্তু বাজারে পৌঁছাচ্ছিল না। প্রশ্ন হলো, কেন? এর উত্তরে কোম্পানিগুলো জানিয়েছিল, সরকারি দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হচ্ছে। আবারও একই প্রশ্ন, কেন?</p><p>বিইআরসি প্রতি মাসে একবার এলপিজির দাম সমন্বয় করে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর ঘোষিত মাসিক দাম ধরে। এই দামকে বলা হয় <a href="https://objectstorage.ap-dcc-gazipur-1.oraclecloud15.com/n/axvjbnqprylg/b/V2Ministry/o/office-berc/2026/9/2a5275e7-7da8-42af-9949-caa7c9f8a37d.pdf">সৌদি সিপি</a>। এর সঙ্গে যোগ হয় জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম। প্রিমিয়াম মানে সৌদি আরবের দামের ওপর গ্যাস বিক্রেতা বা ট্রেডার যে বাড়তি দাম নেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/20rzjlb2y3">এলপিজির আমদানিকারক-বিক্রেতা সবাই বাড়তি কমিশন চান, চলছে শুনানি</a></aside><p>সমস্যা হলো, দাম মাসে একবার ঠিক করা হলেও যুদ্ধের সময় খরচ বদলাচ্ছিল প্রায় প্রতিদিন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ। পারস্য উপসাগর থেকে গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ দিয়েই আসে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া আরও বেড়ে যায়।</p><p>সেপ্টেম্বরের দামে বিইআরসি জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম ধরেছিল টনপ্রতি ১৬০ ডলার। অথচ প্রথম আলোর ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে এই খরচ ছিল ২৬০ থেকে ৪০০ ডলার। একই প্রতিবেদন আরও বলছে, জাহাজভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে, কিছু আমদানিকারক আমদানি বন্ধ রেখেছেন। চুক্তিবদ্ধ আমদানিকারকেরা চুক্তির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম গ্যাস পাচ্ছেন, আর চাহিদার চেয়ে সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কম।</p><p>কোম্পানিগুলোর যুক্তি ছিল, এ অবস্থায় সরকারি দামে বিক্রি করলে লোকসান হয়।</p><p>প্রথম আলোর ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে এলপিজি মজুত করা শুরু হয়। ফলে সংকট তৈরি হয়ে দাম আগেই বেড়ে যায়। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের অভিযোগ, কয়েকটি কোম্পানি মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে এবং এক মাসে ৬০০ কোটি টাকার বেশি বাড়তি আয় করেছে। তিনি এ জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছেন।</p><p>বিইআরসির চেয়ারম্যান <a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/6i0q3w5mjl">জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেছেন</a>, কেউ মজুত করেছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। আমদানিকারক ১২টি কোম্পানির কাছে এক মাসের দৈনিক আমদানি ও সরবরাহের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই যাচাইয়ের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।</p><p>পরে ৪ অক্টোবর বিইআরসি অক্টোবর মাসের দাম ঘোষণা করে। কমিশনের কারিগরি কমিটি সুপারিশ করেছিল জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম আগের মতোই ১৬০ ডলার রাখতে। ওদিকে কোম্পানিগুলো চেয়েছিল ৩০০ ডলার। কমিশন সব দেখেশুনে জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম ধরে ২৫০ ডলার। ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে হয় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। প্রথম আলোর ৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পর কোম্পানিগুলো আবার বাড়তি সরবরাহ শুরু করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/p78bvrwm/03_committee.jpg"></figure><p>এ থেকে সরাসরি সিদ্ধান্তে আসা যায় না যে আসলে কী হয়েছিল। কারণ, আগের সরকারি দামে বিক্রি করার ফলে যদি লোকসান হয়ে থাকে, তবে দাম বাড়ার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ারই কথা। আবার মূল্যবৃদ্ধির জন্য চাপ দেওয়ায় দাম যেহেতু বেড়েই গেছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ার কারণ নেই। আসলে কী হয়েছে, তা বোঝা যাবে কেবল কোম্পানিগুলোর দৈনিক মজুত ও সরবরাহের তথ্য প্রকাশ পেলে।</p><p>কিন্তু কেন বারবার এমন সংকট হচ্ছে? এর পেছনে কয়েকটি কারণ লক্ষ করা যায়। দেখা যায়, এলপিজি সরবরাহের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের হাতে। বিইআরসি লাইসেন্স দিয়েছে মোট ৫২টি কোম্পানিকে, এর মধ্যে আমদানির অবকাঠামো রয়েছে ২৩টি কোম্পানির, কিন্তু নিয়মিত আমদানি করে মাত্র ৮ থেকে ১০টি কোম্পানি। আগস্টে আমদানি করেছিল ১৩টি কোম্পানি, সেপ্টেম্বরে ১০টি। এদের কয়েকটি সরবরাহ কমালেই পুরো বাজারে টান পড়ে।</p><p>আরেকটি সমস্যা সিলিন্ডার নিয়ে। প্রতিটি কোম্পানি নিজের সিলিন্ডারে শুধু নিজের গ্যাস ভরে। তাই কোনো কোম্পানি আমদানি বন্ধ করে দিলে তার গ্রাহকের সিলিন্ডার অচল হয়ে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী সব কোম্পানি যেকোনো সিলিন্ডার ফেরত নিতে বাধ্য, কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা বন্ধ কোম্পানির সিলিন্ডার নিতে চান না। ফলে অনেক গ্রাহককে নতুন সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। প্রথম আলোর হিসাবে বাজারে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ সিলিন্ডার আছে, যার প্রায় আড়াই কোটি অলস পড়ে আছে। দেশের মোট ১ লাখ ৮০ হাজার টন মজুত সক্ষমতার প্রায় ৪৭ শতাংশও ব্যবহৃত হচ্ছে না। কারণ, যাদের ট্যাংক আছে, তাদের অনেকে আমদানি করছে না।</p><p>সরকারের হাতে কোনো বিকল্প মজুত নেই। কারণ, সরকারি এলপিজি বাজারে ১ শতাংশের মতো। বিপিসির নিজের এলপিজি আমদানি বা মজুতের অবকাঠামো নেই। জানুয়ারিতে আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ দফা সরবরাহকারী খুঁজেও সাড়া পায়নি তারা। ৪ আগস্ট একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ হাজার টন সরাসরি কেনার কাজ দেওয়া হলেও সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত তা কবে আসবে, নিশ্চিত ছিল না। ফলে সংকটের সময় সরকার নিজে গ্যাস ছেড়ে দাম সামলাতে পারে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/r1kdg0mjuv">এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম মানছেন না কেউ </a></aside><p>দেশে এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন, আর ব্যবহৃত এলপিজির ৮০ শতাংশ যায় রান্নায়। ২০১৫ সাল থেকে বাসাবাড়িতে নতুন পাইপলাইনের গ্যাস-সংযোগ বন্ধ রয়েছে। আগস্টে পাইপলাইনের গ্যাসে সংকট দেখা দিলে আরও অনেক পরিবার সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।</p><p>আর দাম যে মাসে একবার সমন্বয় করা হয়, সেটা তো আগেই বলেছি। মোটা দাগে চক্রটা এমন: যুদ্ধে খরচ বাড়ে, সরকারি দাম সে তুলনায় কম নির্ধারিত থাকে। এতে কয়েকটি কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দেয়, তখন বাজারে সংকট দেখা দেয় এবং দাম বেড়ে যায়। পরের মাসে বিইআরসি দাম বাড়ায়, তারপর সরবরাহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে। সরকারের হাতে নিজস্ব মজুত না থাকায় এই চক্রটা ভাঙছে না। আর কোম্পানিগুলোর দৈনিক মজুত ও সরবরাহের তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এর কতটা সত্যিকারের খরচ, কতটা কৃত্রিম, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/hoy4ec22/LPG_Price.jpg"></figure><h3>বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির পেছনের কারণ </h3><p>ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরের ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে নভেম্বরে দাম কেন ২ হাজার ৬০ টাকা হলো। দুই মাসে বাড়তি ৪৭৫ টাকার মধ্যে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার কারণে এসেছে ১৭৭ টাকা, আর বিইআরসির দুটি সিদ্ধান্ত থেকে এসেছে ২৮৪ টাকা; বাকি ১৪ টাকা ডলারের দর ও অন্যান্য খরচের।</p><p>গ্রাফের নীল অংশ বিশ্ববাজারের দাম, এটি বাংলাদেশের হাতে নেই। লাল অংশটুকু বিইআরসির সিদ্ধান্ত। প্রথম সিদ্ধান্তটি অক্টোবরের: জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলারের বদলে ২৫০ ডলার ধরা হয়, তাতে সিলিন্ডারে বাড়ে প্রায় ১৪৩ টাকা। প্রিমিয়াম মানে সৌদি আরবের দামের ওপর গ্যাস বিক্রেতা বা ট্রেডার যে বাড়তি দাম নেন; বিইআরসির হিসাবে জাহাজভাড়া আর এই প্রিমিয়াম একসঙ্গে ধরা হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় গ্যাস আনতে হচ্ছে ঘুরপথে, মাঝসমুদ্রে এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তুলে, যুদ্ধের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে; তাই দুটোই বেড়েছে।</p><p>দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত নভেম্বরের: কোম্পানি, ডিলার ও দোকানদারের ভাগ বাড়ানো হয় এ সময়। ফলে তিন পক্ষ মিলিয়ে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়ে যায় ১৪১ টাকা। বিইআরসি নিজেই বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, নভেম্বরে শুধু সৌদি আরবের দাম বাড়ায় সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ৭৪ টাকার মতো।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/ufysa4w8/LPG_Prothomalo.jpg"></figure><p>এই ২ হাজার ৬০ টাকার মধ্যে কে কত টাকা পাচ্ছে, তা দেখা যাচ্ছে ছবি ৫-এ। বিইআরসির হিসাবে দামের ৫৫ শতাংশ বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম, ১৮ শতাংশ জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম, আর ৫ শতাংশের মতো ভ্যাট। বাকি ২১ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৩৭ টাকা পান দেশি কোম্পানি (২৮২ টাকা), ডিলার (৮৫ টাকা) ও দোকানদার (৭০ টাকা)।</p><p>কিন্তু সরকার যে দাম ঠিক করে দেয়, গ্রাহককে কিনতে হয় তার চেয়ে অনেক বেশি টাকায়। যেমন এপ্রিলে সরকার ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও খুলনায় গ্রাহককে কিনতে হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, অর্থাৎ ২৭২ থেকে ৩৭২ টাকা বেশি। অক্টোবরে সরকার-নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার ঢাকায় কিনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়, অর্থাৎ ৩৬৩ থেকে ৬৬৩ টাকা বেশি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/7o5a4t69/06market.jpg"></figure><p>একটা প্রশ্ন করেন অনেকে। দেশে একবার দাম বাড়লে কি আর কখনো কমে? সরকার-নির্ধারিত দাম কমে। স্বাভাবিক বছরে দাম সাধারণত শীতে বাড়ে, গরমকালে কমে। যেমন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা হওয়া দাম জুলাইয়ে কমে হয় ৯৯৯ টাকা। তবে বাজারে দাম কমে কি না, তা মাপার নিয়মিত তথ্য নেই। প্রথম আলোর যে কয়েকটি প্রতিবেদনে বাজারদর এসেছে, তাতে দেখা যায়, যে মৌসুমে সরকারি দাম কম থাকে, তখনো বেশি দাম দিতে হয়েছে: ২০২২ সালের আগস্টে সরকারি দামের চেয়ে ১৫০ থেকে ২৮০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বেশি দিতে হয়েছে ৬৬ থেকে ৩১৬ টাকা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/i9p340l7/LPGDemand.jpg"></figure><p>আর দামের ভেতরের কিছু অংশ একবারও কমেনি (ছবি ৮)। ২০২১ সালের এপ্রিলে সিলিন্ডারপ্রতি কোম্পানির ভাগ ছিল ১৪৩ টাকা, এখন ২৮২ টাকা। ডিলারের ভাগ ২০২৩ সালের আগস্টের আগে ছিল ৩৭ টাকা, এখন ৮৫ টাকা; দোকানদারের ভাগ ৩৮ টাকা থেকে হয়েছে ৭০ টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস পিএলসির সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২০২১ সালে ছিল ৫৯১ টাকা, এখন ১ হাজার ৮৬০ টাকা; এর মধ্যে ১ হাজার ৪ টাকা যাবে বিপিসির ‘এলপিজি খাত উন্নয়ন তহবিলে’। ফলে যুদ্ধ থেমে বিশ্ববাজারে দাম আগের জায়গায় ফিরলেও নভেম্বরের নতুন ভাগের কারণে সিলিন্ডারপ্রতি অন্তত ১৪১ টাকা বেশি দিতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/rpedm54w/LPG-onlyup.jpg"></figure>
<p>চাইলে একটু ভিন্ন আঙ্গিকেও বানাতে পারেন চা। সকাল–বিকেলের বাইরেও অতিথি আপ্যায়নে এমন চা জমবে ভালো। রেসিপি দিয়েছেন <strong>জেবুন্নেসা বেগম</strong></p><h3>উপকরণ</h3><ul><li><p>আপেল ১টি</p></li><li><p>অপরাজিতা ফুল ৬-৮টি</p></li><li><p>পানি ২ কাপ</p></li><li><p>চিনি ৩ চা-চামচ</p></li><li><p>বরফকুচি আধা গ্লাস</p></li><li><p>লেবুর রস ১ চা-চামচ</p></li></ul><h3>প্রণালি</h3><ul><li><p>১ কাপ পানি ফুটিয়ে তাতে সবুজ আপেল দিন। </p></li><li><p>২-৩ মিনিট ফুটিয়ে চিনি দিন। </p></li><li><p>১ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নেবেন। </p></li><li><p>অন্য পাত্রে ১ কাপ পানি ফুটিয়ে নিন। অপরাজিতা ফুল দিয়ে ১ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে দেবেন। </p></li><li><p>গ্লাসে বরফকুচি দিয়ে দিন। </p></li><li><p>এবার আগে থেকে বানানো ঠান্ডা আপেল সিরাপ ঢেলে দিন। </p></li><li><p>ওপরে অপরাজিতার চা ঢেলে দিন। চাইলে কিছুটা লেবুর রস মিশাতে পারেন।</p></li></ul><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/3i8vyg4xqt">গুড়ের চা–রসগোল্লা, শীতে আর কী চাই</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/mgm8h6gwzd">গুড়ের চায়ের রেসিপি</a></aside>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-04/ub56kl0d/Ctg_Raujan.jpeg"><figcaption>ভিডিওতে এসব অস্ত্র সামনে নিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে</figcaption></figure><p>‘সময় থাকতে পালিয়ে যাও, আমি তুফান’—৮ পিস্তল সামনে নিয়ে এভাবে হুমকি দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুলিশ সূত্র জানায়, হৃদয় ওরফে বুলেট হৃদয় নামের এক সন্ত্রাসী এই ভিডিও ছড়িয়েছেন।</p><p>চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাউজানের ফজল হক বাহিনীর মো. মামুনের সহযোগী বাদশার ছেলে হৃদয় ওরফে বুলেট হৃদয়।</p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে কাপড়ের ওপর সাজানো আটটি পিস্তল দেখা যায়। ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছো কোথায়? ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি। সময় থাকতে পালিয়ে যাও। আমি তুফান।’</p><p>পুলিশ সূত্র জানায়, অস্ত্রগুলো থানা লুটের অস্ত্র হতে পারে। বুলেট হৃদয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ রয়েছে।</p><p>চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আজ বুধবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিওটি বুলেট হৃদয়ের। তবে এটি কবে ছেড়েছে, আমরা তা যাচাই করছি। ধারণা করা হচ্ছে, পুরোনো ভিডিও। তারপরও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/7oc8q6erx4">‘তোর সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নে’—তিন দিন আগে হুমকি পেয়েছিলেন সরোয়ার</a></aside><p>আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০টি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে ঘটেছে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/9brhqtawer">সন্ত্রাসীদের দলে প্রশিক্ষিত শুটার, দুশ্চিন্তায় পুলিশ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/uwc7tvkuwz">গণসংযোগের ভিড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে খুন, সেই বাঁহাতি শুটার কেন ধরা পড়ছে না</a></aside>
কয়েক মিনিটের মধ্যেই চারজন সেনাসদস্যসহ কালো পোশাক পরা রিসালদার মোসলেহউদ্দিন জেলগেটে পৌঁছান।
<p>দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া’র ঘোষণাসংক্রান্ত দুদকের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা নিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।</p><p>সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আবেদনকারী হয়ে গত সেপ্টেম্বরে ওই রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ গত ২৯ সেপ্টেম্বর রিটটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। এরপর চলতি সপ্তাহে রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের নিয়মিত ওই বেঞ্চে দাখিল করা হয়।</p><p>আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, আইনজীবী ইউসুফ আলী ও জহিরুল ইসলাম। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান।</p><p>পরে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্ট রিটের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামী বুধবার (১১ নভেম্বর) তারিখ ধার্য করেছেন।</p><p>রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর ভাষ্য, দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং সহকারী পরিচালক গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুটি প্রেস ব্রিফিং করেন। ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে জানানো হয়। এই ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষা এবং দুদকের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন। গত ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রেস ব্রিফিংয়ের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করেই আসিফ মাহমুদ রিটটি করেন।</p><p>রিটের প্রার্থনায় ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের করা প্রেস ব্রিফিং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ ও ২০১১ সালের তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালার লঙ্ঘন হওয়ায় কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত চলমান অবস্থায় সে বিষয়ে কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ বিষয়েও রিটে রুল চাওয়া হয়েছে।</p><p>রিটে চলমান কোনো অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের প্রেস ব্রিফিং করা থেকে দুদককে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তী নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের ব্রিফিংয়ে আসিফ মাহমুদকে নিয়ে দুদকের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে একই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।</p><p>২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।</p><p>জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন আসিফ মাহমুদ। তিনি শুরুতে ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।</p><p>২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আসিফ মাহমুদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। তখন থেকে তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছেন।</p>
১৯৯৮ সালের এই দিনেই বেরিয়েছিল প্রথম আলোর প্রথম সংখ্যা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।