অন্য খেলা

পদকের শীর্ষে চীন–জাপানই, বাংলাদেশ কততম

অক্টোবর ৪, ২০২৬
পদকের শীর্ষে চীন–জাপানই, বাংলাদেশ কততম
পদকের শীর্ষে চীন–জাপানই, বাংলাদেশ কততম
আইচি-নাগোয়ার এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছে মোট ৪৫টি দেশ, সঙ্গে একটি শরণার্থী দল। এর মধ্যে পদক জিতেছে মোট ৪০টি দেশ।

Prothomalo

View more
ডেঙ্গুতে মেয়ের অবস্থা খারাপ হচ্ছে—এমন কোনো লক্ষণই বুঝতে পারেননি চিকিৎসক মা–বাবা
ডেঙ্গুতে মেয়ের অবস্থা খারাপ হচ্ছে—এমন কোনো লক্ষণই বুঝতে পারেননি চিকিৎসক মা–বাবা

<p> চিকিৎসক মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হানের কাছে ডেঙ্গু নিয়ে কেউ পরামর্শ চাইলে বলতেন, পেটে ব্যথা আছে কি না, রক্ত বমি হচ্ছে কি না, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে কি না—এসব খেয়াল রাখতে হবে। এই চিকিৎসকের মেয়ে ফামইয়া মাশনুর রুমাইসার ডেঙ্গু হওয়ার পর এসব কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। অবস্থা খারাপ হচ্ছে, তা বুঝতে পারার আগেই মেয়েটা মারা গেল।</p><p> ফামইয়া মাশনুরের বয়স হয়েছিল ৮ বছর ১০ মাস ১৪ দিন। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায় তৃতীয় (ইংলিশ ভার্সন) শ্রেণিতে পড়ত। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে জ্বর বাড়ে। তিন দিনের মাথায় ১ অক্টোবর বিকেলে সে মারা যায়।</p><p> মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ–বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন। রাজধানীর ভিশন আই হাসপাতালে চক্ষুবিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন তাঁর স্ত্রী ফারজানা সুলতানা। এই দম্পতির বড় মেয়ে ছিল ফামইয়া মাশনুর। আগামী ১৭ নভেম্বর জন্মদিন পালনের জন্য মেয়ে কক্সবাজারে ঘুরতে যাবে, কেক কাটবে, মা–বাবা আর ছোট বোনের সঙ্গে সময় কাটাবে—এমন অনেক পরিকল্পনা করে রেখেছিল। মায়ের সঙ্গে গিয়ে জন্মদিনে পরবে বলে নিজের ও বোনের জন্য জামাও কিনে রেখেছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/g3uoup2a/Famyea-Dengue-02.jpeg"><figcaption>ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ফামইয়া মাশনুর রুমাইসা রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায় তৃতীয় (ইংলিশ ভার্সন) শ্রেণিতে পড়ত ছবি: পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া</figcaption></figure><p>মুহাম্মদ ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়ের ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পর ওর অবস্থা খারাপ হচ্ছে—এমন কোনো সাইনই (লক্ষণ) তো ছিল না। বুঝতেই তো পারলাম না। স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর পিআইসিইউতে আধা ঘণ্টাও ছিল না, তার আগেই মারা গেল।’</p><p>এই চিকিৎসক দম্পতির ছোট মেয়ে ফারজিন মাহনুর ওয়ারিসার বয়স ৫ বছর ৮ মাস। সারাক্ষণ বোনের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে থাকত। বড় বোন গোসল করিয়ে দিত। বোন কোথায় চলে গেছে, তা বুঝতেই পারছে না ফারজিন। বোনকে সে ‘ইয়া’ বলে ডাকত। তাকে বলা হয়েছে, ইয়া আল্লাহর কাছে চলে গেছে। সে তার মতো করে কিছু একটা বুঝে নিয়েছে।</p><blockquote>মা ফারজানা সুলতানা সারা ঘরে মেয়ের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। মেয়েটা গুছিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে পছন্দ করত। কোনো জিনিস সহজে ফেলতে চাইত না। এখন ঘরময় শুধু স্মৃতি না, মেয়েটাও স্মৃতি হয়ে গেছে।</blockquote><p>ওমর ফারুক ও ফারজানা সুলতানা দম্পতি জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে ফামইয়া মাশনুর জ্বর জ্বর লাগছে বলে জানায়। পরদিন সোমবার সকালে জ্বর বাড়ে। স্কুলে যেতে পারে না। মঙ্গলবার পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। বাসায় ক্যানুলা করে স্যালাইন দেওয়া হয়। ওমর ফারুক জরুরি কাজে ঢাকার বাইরে থাকায় বুধবার কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/l9ezranw/Famyea-Dengue-03.jpeg"><figcaption>জন্মদিনে পরার জন্য এই পোশাক পছন্দ করে কিনে রেখেছিল মাশনুর রুমাইসা। ওই পোশাক আলমারিতেই রয়ে গেছে। তার আর পরা হয়নি </figcaption></figure><p>ওমর ফারুক জানান, বৃহস্পতিবার মেয়ে খারাপ লাগছে বলে। খিঁচুনি শুরু হওয়ার পরপর তাকে বনশ্রীতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা পিআইসিইউ না থাকায় আরেক হাসপাতাল ঘুরে পরে স্কয়ার হাসপাতালে পিআইসিইউ পাওয়া যায়। যানজট ঠেলে এ হাসপাতালে আসতে আসতে মেয়ের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। তারপর তো সব শেষ। এর আগ পর্যন্ত এসব কোনো লক্ষণই ছিল না। সবার সঙ্গে কথা বলেছে, দাদির পাঠানো ডাব খেয়েছে।</p><p>মা ফারজানা সুলতানা সারা ঘরে মেয়ের স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। মেয়েটা গুছিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে পছন্দ করত। কোনো জিনিস সহজে ফেলতে চাইত না। এখন ঘরময় শুধু স্মৃতি না, মেয়েটাও স্মৃতি হয়ে গেছে।</p><p>এই মা–বাবা মেয়ের এভাবে চলে যাওয়াকে নিজেদের কপাল আর এতটুকুই আয়ু ছিল বলে নিজেদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মারা যাওয়ার আগের দিন আমের জুস খেতে চেয়েছিল, খেতে পারেনি, জন্মদিনের জামা কিনলেও তা আলমারিতেই পড়ে রইল, এমন আক্ষেপগুলো শুধু একটু পরপর মাথাচাড়া দিয়ে মনে করিয়ে দিচ্ছে তাঁদের। গত বছরের এই সময় পরিবারের সবাই মিলে হজ করতে গিয়েছিলেন, জুলাই মাসে সাজেকে বেড়াতে গিয়ে মা–বাবা ও বোনের সঙ্গে মেয়ে সর্বশেষ সেলফিটা তুলেছিল—এমন স্মৃতিগুলো ভুলতে পারছেন না তাঁরা।</p><blockquote>ফামইয়া মাশনুরের বয়স হয়েছিল ৮ বছর ১০ মাস ১৪ দিন। রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায় তৃতীয় (ইংলিশ ভার্সন) শ্রেণিতে পড়ত। ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে জ্বর বাড়ে। তিন দিনের মাথায় ১ অক্টোবর বিকেলে সে মারা যায়।</blockquote><p>ওমর ফারুক বলেন, ‘মেয়েটা খুব সংবেদনশীল ছিল। অসুস্থতার মধ্যে বমি করার পর বাসায় কাজের সহায়তাকারীর সামনে জামা পাল্টে দিলে সে মাকে বলেছিল, ওই আপুর সামনে জামা পাল্টানোতে তার লজ্জা লাগছে।’ এই বাবা বলেন, মেয়ের ডেঙ্গু হওয়ার আগে তার মায়ের ডেঙ্গু হয়। বাসায় ক্যানুলা করে স্যালাইনসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নিলে ভালো হন। কিন্তু মেয়ের বেলায় কোনো ব্যবস্থাই কাজে লাগেনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/u98y3bmf/Famyea-Dengue-04.jpeg"><figcaption>বৃষ্টিতে ভিজতে পছন্দ করত মাশনুর রুমাইসা। এগুলো এখন মা–বাবার কাছে কেবলই স্মৃতি</figcaption></figure><p>হাসপাতালগুলোতে পিআইসিইউ থাকলে, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া গেলে এবং ডেঙ্গুর মৌসুম শুরুর আগে থেকেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সরকার পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিলে হয়তো পরিস্থিতি পাল্টে যেত বলে মনে করছেন মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান। বনশ্রীতে নিজের বাসার পাশেই ময়লার ভাগাড় এবং সেখানে পানি জমে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো তো দেখার কেউ নেই।</p><p>মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান বলেন, কষ্ট হবে বলে মেয়েকে পড়া নিয়ে কখনো চাপ দেওয়া হতো না। বার্ন ইনস্টিটিউটে কাজের অভিজ্ঞতায় পুড়ে যাওয়া ছোট ছোট শিশুদের দেখে মেয়ে রান্নাঘরে ঢুকলে যদি মেয়েরও কিছু হয়ে যায়, সেই ভয়ে থাকতেন। মেয়ে যাতে রান্নাঘরে না যায়, তা নিয়ে বারবার বলতেন। এই বাবার আক্ষেপ, মেয়েটা ছোট্ট এক মশার কামড়ে সেই কষ্ট পেয়েই মারা গেল।</p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইন্দোনেশিয়ায় লড়ছে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল
আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ইন্দোনেশিয়ায় লড়ছে বাংলাদেশের ১৬ সদস্যের দল

<p>শুরু হয়েছে ২৩তম আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার দিপক শহরে ২ অক্টোবর এই আসর শুরু হয়েছে। চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য ১৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল পৌঁছে গেছে ইন্দোনেশিয়ায়।</p><p>এবারের বাংলাদেশ গণিত দলে রয়েছে সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আট শিক্ষার্থী। তারা হলো অরিজিৎ সাহা, মো. নবীহ হোসাইন, ইহান আবরাদ রহমান, মো. সামিন সাইফ, ইরতিশ জায়েদ লিয়াম, শারাফ বিন আনোয়ার, আলী ওমর ও মো. শাহিদ মোরসালিন।</p><p>বিজ্ঞান দলে আছে মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তাহমিদ হাসান, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অভিজ্ঞান রায় গল্প, সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের রাইয়ান আফরাদ, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাহাবী ইবনে কাব্য, সিরাজগঞ্জের বনওয়ারী লাল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের রাফসান শফিক তালুকদার, বাসিরাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আরহাম আবিদ, ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মো. মিফতাহুল ইসলাম এবং এ.জি. চার্চ স্কুলের মোহাম্মদ মুশরিফ আলম। এদের মধ্যে অরিজিৎ সাহা ও তাহমিদ হাসান গতবার মালয়েশিয়ায় রৌপ্যপদকজয়ী দলের সদস্য ছিল। নিজেদের সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এবারও তারা অংশ নিচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/yg4id74of8">রোবট প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনের চমক, দক্ষিণ কোরিয়া যাচ্ছে টিম বাংলাদেশ</a></aside><p>এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য দল বাছাই করা হয় বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর মাধ্যমে। গত ৮ আগস্ট ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুরে একযোগে জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এরপর অনলাইন ক্যাম্প শেষে ২১ ও ২২ আগস্ট ঢাকায় দল নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে গণিত ও বিজ্ঞান বিভাগে ৮ জন করে মোট ১৬ জনকে নিয়ে চূড়ান্ত বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়।</p><p>নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে গত ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তিন দিনের আবাসিক প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাতেকলমে পরীক্ষাগার অনুশীলন ও সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রস্তুতি শেষে দলটি গত ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে আগামী ৯ অক্টোবর তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।</p><p>প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আয়োজনটি ২০০৩ সালে ইন্দোনেশিয়ায় আসিয়ান গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড নামে যাত্রা শুরু করে। ২০১১ সাল থেকে এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্প্রসারিত হয়। ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার কেদাহ প্রদেশে অনুষ্ঠিত ২২তম আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই শতভাগ সাফল্য পায়। সেবার দলের ১২ জন শিক্ষার্থীর সবাই পদক জেতে, যার মধ্যে ছিল ২টি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জপদক।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/14ntnfaz8t">৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা</a></aside><p>আইএমএসও ২০২৬-এ বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দলনেতা হিসেবে আছেন বিডিওএসএনের সভাপতি ও আইএমএসও বাংলাদেশের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মুনির হাসান। সহকারী দলনেতা হিসেবে রয়েছেন মো. তানভীরুল ইসলাম, বিজ্ঞান মেন্টর মিম নাজ রহমান ও গণিত মেন্টর সামিরা সুমাইয়া।</p><p>বিডিএমএসওর লক্ষ্য নিয়ে মুনির হাসান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল মুখস্থবিদ্যা নয়, বরং খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে গণিত ও বিজ্ঞানের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া, তাদের অনুসন্ধিৎসু মন তৈরি করা এবং যৌক্তিক চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ানো।’</p><p>বিডিএমএসও ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করছে এসপিএসবি, বিডিওএসএন ও ম্যাসল্যাব। আয়োজনের পাওয়ার্ড বাই পার্টনার পুষ্টি। সহযোগিতায় রয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টিবিএস গ্র্যাজুয়েটস, বিজ্ঞানচিন্তা, কিশোর আলো, টেমস একাডেমি, রিফ্লেকটিভ টিনস, শৈশব ও নিত্য উপহার। ইন্দোনেশিয়ায় ২৩তম আইএমএসওর আয়োজক হিসেবে রয়েছে ম্যাথমেটিকস এডুকেশন ক্লিনিক এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/events/anijegvggm">মাইলস্টোন কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত</a></aside>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা জেলায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

<p>আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝালকাঠি, সাতক্ষীরা জেলায় কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে প্রথম আলোর উদ্যোগে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় এ উৎসবের আয়োজন করা হবে। আজকের আয়োজন নিয়ে ছবির গল্প...</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/gbfpky8u/1.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/y0vn0qvf/2.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption> শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছবির ফ্রেমে ছবি তুলছেন শিক্ষার্থীরা। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/yzhqkees/3.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট হাতে শিক্ষার্থীরা। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/qmuc4xpd/4.-Chapainawabganj%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করে তিথি মালী। সাটু মিলনায়তন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/ixb592gn/5.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>একক নৃত্য পরিবেশন করছেন এক শিল্পী। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/fqsj518q/6.-Barishal%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/4vh9x5uy/7.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেলফি তুলছে দুই শিক্ষার্থী। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/7le3npgj/8.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption> জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/q88inw2t/9.-Barishal-%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption>কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিল চরকিসহ নানা খেলার আয়োজন। সরকারি কলেজ মিলনায়তন, ঝালকাঠি, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/pcyzdmh0/10.-Satkhira%E2%80%93meritorious-studentsreceptionProthom-Alo04102026.jpg"><figcaption> শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্যান্ডসংগীত পরিবেশন করা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি , সাতক্ষীরা, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-04/d1es5vt7/11-Satkhira-gpa-five-3.jpg.jpeg"><figcaption>জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় আসা অতিথিরা। জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সাতক্ষীরা, ৪ অক্টোবর</figcaption></figure>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
খুলনার প্রথম দল হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে নড়াইলের ‘দুরন্ত’ মেয়েরা
খুলনার প্রথম দল হিসেবে চূড়ান্ত পর্বে নড়াইলের ‘দুরন্ত’ মেয়েরা

দুরন্তের হয়ে আঞ্চলিক ফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছেন ফরোয়ার্ড পূর্ণিমা রানী মন্ডল। এটি এবারের আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
ধানমন্ডিতে আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু
ধানমন্ডিতে আকিজ ইনসাফ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে মাতবর ক্ষুব্ধ, ছাড়পত্র নিল ২৬ শিশুশিক্ষার্থী
বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে মাতবর ক্ষুব্ধ, ছাড়পত্র নিল ২৬ শিশুশিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুরে ভাষানচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হঠাৎ ২৬ শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নিয়েছে।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়েও রাজনৈতিক পদে, আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি কলেজের শিক্ষক হয়েও রাজনৈতিক পদে, আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন

সরকারি কলেজের শিক্ষকের রাজনৈতিক দলের এমন পদে থাকায় বিষয়টি নিয়ে কলেজের ভেতরে ও বাইরে বেশ সমালোচনা চলছে।

অক্টোবর ৪, ২০২৬
আমাদের অভিভাবক করীম স্যার
আমাদের অভিভাবক করীম স্যার

<p>স্কুলের পেছনে একটি আমগাছ, পাশে নারকেল গাছ—চারপাশে ঝোপঝাড়। লুকানোর জন্য যেন আদর্শ জায়গা। সেদিন স্কুল ছুটি হয়ে গেছে, বন্ধুরা সবাই চলে গেছে। আমি আমগাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে শাবানার হাত ধরে বসে আছি। আমি তাকে ভালোবাসতাম, সে ভালোবাসত কিনা জানি না; তবে হাত ধরায় আপত্তি করেনি। হঠাৎ কাশির শব্দ। ফিরে দেখি, আমাদের হেড স্যার দাঁড়িয়ে আছেন। গম্ভীর মুখে বললেন, ‘তোরা এখানে কী করিস?’ বুক ধড়ফড় করতে লাগল। শাবানা দ্রুত সরে গেল। স্যারও চলে গেলেন, যেন কিছুই দেখেননি। প্রশ্নের জবাবও শুনলেন না। সারা রাত চোখে ঘুম এল না।</p><p>পরের দিন স্যার যথারীতি ক্লাস নিলেন। তাঁর ক্লাসে টুঁ শব্দ হতো না—ভয়ে নয়, আনন্দে। তাঁর কথা আমরা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। কী এমন বলতেন, আজও বুঝি না; তবে এমনভাবে পড়াতেন যে ক্লাসেই পড়া হয়ে যেত। ক্লাস শেষে তিনি আমার হাত ধরলেন, বললেন, ‘চল, আমার রুমে।’ ভয়ে তখন আমার অবস্থা খারাপ। স্যার শান্ত গলায় বললেন, শাবানার সঙ্গে তোর এত ঘনিষ্ঠতা কেন? শোন বাবা, ভালোবাসা অন্যায় নয়; কিন্তু তোদের এই বয়স ভালোবাসার নয়।’ সেদিনই শাবানাকে বললাম, এখন আর নয়, তুমি তোমার পথ দেখো। জবাবে সে বলেছিল, ‘বেইমান’! কষ্ট পেয়েছিলাম, আমিও রেগে গিয়েছিলাম। ছোটবেলার সেই মারামারি বেশিক্ষণ টেকেনি।</p><p>কিছুদিন পর স্যার স্কুলে কয়েকটি গাছের চারা এনে সবাইকে ডাকলেন। কেন গাছ লাগাতে হয় বুঝিয়ে বললেন। আমরা আনন্দ নিয়ে গাছ লাগালাম। তিনি বললেন, ‘অকারণে কখনো গাছ কাটবি না, একটি পাতাও ছিঁড়বি না।’ গরিব স্কুল—ফান্ডে টাকা থাকত না। স্যার নিজের টাকায় মুড়ি-চানাচুর কিনে আমাদের খাওয়াতেন। খাবার সামান্য হলেও সেই স্বাদ আজও জিভে লেগে আছে। স্যার খুব কমই মারতেন; ভয় দেখাতেন, বুঝিয়ে বলতেন।</p><p>কৈশোরে সিগারেট খাওয়ার কৌতূহল জাগল। গোপনে সিগারেট আনলাম। এক বন্ধু বেইমানি করে খবর দিল। হেড স্যার হাতেনাতে ধরলেন। চিৎকার করে বললেন, ‘তোদের আজ পিটিয়ে মানুষ বানাব।’ দপ্তরি আবুলকে বেত আনতে বললেন। সবাই জড়ো হলো, শাবানাও ছিল। আমরা ভয়ে কাঁপছি—মার নয়, বাসায় খবর গেলে কী হবে সেই ভয়। স্যার কয়েকটা বেত মেরে আমাদের রুমে নিলেন। তারপর বেত ফেলে দিয়ে বললেন, ‘ব্যথা পেয়েছিস? তোদের মারলে আমারই কষ্ট হয়।’ তাঁর চোখে জল ছিল। তারপর সুন্দর করে বুঝিয়ে বললেন, সিগারেট কেন খারাপ। সেই ঘটনার পর ৩৭ বছর কেটে গেছে, আজও সিগারেট ছুঁইনি; আর তিনি আমাদের বাসায় কিছুই জানাননি।</p><blockquote>নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: ns@prothomalo.com</blockquote><p>একদিন বন্ধু রিপন ফুটবল খেলতে গিয়ে নাক ফাটিয়ে ফেলল। রক্ত ঝরছে। স্যার দৌড়ে এলেন। রিপনের বাবা লাঠি হাতে এসে ছেলেকে মারতে উদ্যত হলে স্যার আগলে রাখলেন। চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তবেই বাড়ি পাঠালেন।</p><p>স্যার শুধু শিক্ষক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক। কথায়, ভালোবাসায়, দায়িত্বে তিনি আমাদের আগলে রেখেছিলেন। বহু বছর হয়ে গেছে, তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় হেড স্যার করীম স্যার যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।</p><p><strong>লেখক: বেসরকারী চাকরিজীবী</strong></p>

অক্টোবর ৪, ২০২৬
গানটি হোক নারী ফুটবলারদের জন্য শক্তি আর অনুপ্রেরণা
গানটি হোক নারী ফুটবলারদের জন্য শক্তি আর অনুপ্রেরণা

বিনোদনজগতের তারকাদের সমসাময়িক কাজ, সাফল্য আর স্বপ্ন-পরিকল্পনার গল্প নিয়ে প্রথম আলো ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘মেরিল ক্যাফে লাইভ’

অক্টোবর ৪, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন