গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে প্রথম আলোর অনেক আলোচিত সংবাদ হয়তো আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। তাই আজ দিনের শুরুতেই পড়তে পারেন দেশ-বিদেশের আলোচিত পাঁচ খবর ও বিশ্লেষণ।
<p>শেয়ারবাজারে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত দুই এসএমই কোম্পানির অর্থের অপব্যবহারের তদন্তে নেমেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানি দুটি হলো ওয়েব কোটস ও কৃষিবিদ সিড। কোম্পানি দুটি যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রস্তাব বা কিউআইও পদ্ধতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে শেয়ারবাজারে এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয়।</p><p>কোম্পানি দুটি মিলে শেয়ারবাজার থেকে ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কৃষিবিদ সিড সংগ্রহ করে ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আর ওয়েব কোটস সংগ্রহ করে ৫ কোটি টাকা। ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও চলতি মূলধন হিসেবে এসব অর্থ খরচ করার কথা জানিয়েছিল কোম্পানি দুটি। তবে কিউআইওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না—এ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য গঠন করা হয়েছে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি। ২ নভেম্বর এই কমিটি গঠন করা হয়।</p><p>বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিডের বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএসইসির উপপরিচালক মওদুদ মোমেন ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেনকে। আর ওয়েব কোটসের তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজা।</p><p>বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, কিউআইওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ যে উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই খাতে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির দাখিল করা আর্থিক বিবরণী পরীক্ষা করে অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে যেসব প্রকল্প, সম্পদ বা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তা সরেজমিনে যাচাই করতে হবে। এমনকি কিউআইওর অর্থ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শনাক্ত করতে বলা হয়েছে তদন্ত দলকে। সেই সঙ্গে কোম্পানি দুটির ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও পরীক্ষা করবে তদন্ত দল।</p><p>বিএসইসির আদেশে আরও বলা হয়েছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম ঘটে থাকলে তার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন, বিধি বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোন কোন নির্দেশনার ব্যত্যয় হয়েছে এবং তার সঙ্গে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষক কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির ভূমিকা কী, তা-ও সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করতে হবে তদন্ত দলকে।</p><p>শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষিবিদ সিড শেয়ারবাজারের এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হয় ২০২২ সালে। আর ওয়েব কোটস তালিকাভুক্ত হয়েছিল ২০২৪ সালে। তালিকাভুক্তির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের আগে কোম্পানি দুটি কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় করবে এবং কত দিনের মধ্যে ব্যয় করবে, তার পরিকল্পনা দিয়েছিল।</p>
ইনস্টাগ্রামে ভিডিও বার্তায় টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ভারতের পেসার মোহাম্মদ শামি।
সেন্টকম বলেছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানী, গবেষক ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
অটোরিকশার ভিড়ের মধ্যে প্যাডেলচালিত রিকশা নিয়ে মগবাজারের দিকে এগোচ্ছিলেন বকুল আলী। কথা বলতে চাইলে হাসিমুখে বললেন, ‘বলেন, বলেন, কী কথা।’
তবে মূল ক্ষতের নিরাময় করতে হলে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের। অনুপযোগী বাসগুলো সড়ক থেকে চিরতরে সরাতেই হবে।
<p>ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৮ সালে ১৪ কিশোরীকে নিয়ে ফুটবল একাডেমি গড়েন সুইহলামং মারমা। এখন সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ৪২ জন। এই একাডেমি থেকে আটজন বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে।</p><p>ফুটবল অনুশীলনে ব্যস্ত একদল কিশোরী। কেউ বল নিয়ে ছুটছে, কেউ সতীর্থকে পাস দিচ্ছে। মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে বাঁশি হাতে নির্দেশনা দিচ্ছেন কোচ। সম্প্রতি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা পরিষদ মাঠে এক সকালে গিয়ে দেখা গেল এ দৃশ্য।</p><p>কথা বলে জানা যায়, এ একাডেমির কিশোরীরা প্রতিদিন দুই বেলা অনুশীলন করে। তাদের অনেকের স্বপ্ন জাতীয় দলের হয়ে খেলা। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া কোচের নাম সুইহলামং মারমা (৫১)। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি এ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০১৮ সালে মাত্র ১৪ জন কিশোরীকে নিয়ে শুরু হওয়া এ একাডেমিতে বর্তমানে খেলোয়াড় রয়েছে ৪২ জন। তারা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/399h6ae8/WhatsApp_Image_2026_11_06_at_6_22_07_PM.jpeg"><figcaption>সুইহলামং মারমা</figcaption></figure><p>সুইহলামং মারমা ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন কোচের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয় তাঁর। এ একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিশোরীদের কেউ কেউ ইতিমধ্যে আনসার, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিমানবাহিনীতে চাকরির সুযোগ পেয়েছে। আবার জাতীয় নারী ফুটবল দলের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছে আটজন।</p><h3>ঋণের টাকায় শুরু </h3><p>একাডেমি প্রতিষ্ঠার জন্য আনসার ও ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন সুইহলামং। বর্তমানে একটি ভাড়া বাসায় তাঁর একাডেমির আবাসন কার্যক্রম চলছে। এ জন্য তাঁকে মাসে ২০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়।</p><p>একাডেমি পরিচালনায় শুরু থেকেই অর্থসংকট ছিল তাঁর। নিজের ও স্ত্রীর বেতনের বড় একটি অংশ তিনি একাডেমি চালানোর জন্য ব্যয় করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) ও সমবায় সমিতি থেকেও ঋণ নিতে হয়েছে তাঁকে। সেই টাকায় খেলোয়াড়দের জুতা, জার্সি ও বল কেনেন তিনি।</p><p>শুরুতে খেলোয়াড়দের বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়া ও পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হতো। তবে গত বছর থেকে যেসব খেলোয়াড়ের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে তারা মাসে এক থেকে দেড় হাজার টাকা দিচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান একাডেমিকে এককালীন আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে।</p><aside><cite>সুইহলামং মারমা, কোচ ও প্রধান সুইহলামং একাডেমি</cite>‘যে সুবিধাগুলো এই একাডেমিতে আছে, তা যদি সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আরও বড় পরিসরে বাড়ানো যায়, তবে এই একাডেমি থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের বহু ঋতুপর্ণা, মনিকা ও রূপনা।’</aside><p>সুইহলামং মারমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাডেমি থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছে আটজন নারী ফুটবলার। এ ছাড়া সেনাবাহিনীতে ছয়জন, পুলিশে একজন, বিমানবাহিনীতে একজন এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ৫০ জন খেলোয়াড় কোটায় চাকরি পেয়েছে।</p><p>এ ছাড়া তাঁর একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আনসার ফেন্সিং দলে আটজন, জুডোতে চারজন এবং সাইক্লিস্ট হিসেবে একজন রয়েছে। একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ছয়জন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।</p><p>বর্তমান জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা, রূপনা চাকমা, মনিকা চাকমা, আনাই মোগিনী ও আনুচিং মোগিনীর প্রশিক্ষণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন সুইহলামং। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাঁদের ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। তিনি ঋতুপর্ণাদের সহকারী কোচ ছিলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/rcoyuct9/WhatsApp-Image-2026-11-06-at-6.10.12-PM.jpeg"><figcaption>খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সুইহলামং মারমা। সম্প্রতি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে তোলা</figcaption></figure><h3>জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তাদের </h3><p>একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া খেলোয়াড়দের অনেকেরই স্বপ্ন জাতীয় দলের হয়ে খেলা। বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে আসা আনিষা তঞ্চঙ্গ্যা তাদের একজন। সে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আনসার একাডেমির ফেন্সিং ইভেন্টে খেলার সুযোগ পেয়েছে।</p><p>আনিষা বলে, ‘আমাদের বান্দরবান থেকে এর আগে এভাবে কেউ মূলধারার খেলায় সুযোগ পায়নি। পাহাড়ি গ্রাম থেকে এসে সুইহলামং স্যারের কাছে কঠোর অনুশীলন করেছি। স্যারের সঠিক দিকনির্দেশনায় আমি বাংলাদেশ আনসার একাডেমির ফেন্সিং টিমে খেলার সুযোগ পেয়েছি। তবে আমার মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন—একদিন ঋতুপর্ণা আপুদের মতো দেশের জার্সিতে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামব।’</p><blockquote>সুইহলামং মারমা ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন কোচের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয় তাঁর।</blockquote><p>খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি থেকে আসা অর্কি চাকমাও জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার হতে চায়। সে বলে, ‘এখানে স্যারের অধীনে আমাদের নিয়মিত খুব কঠোর অনুশীলন করতে হয়। কোনো ছাড় নেই। কিন্তু অনুশীলনের বাইরে স্যার আমাদের অভিভাবকের মতো যত্ন নেন। স্যারের নিবিড় দিকনির্দেশনায় নিজেকে প্রতিদিন প্রস্তুত করছি, যেন ভবিষ্যতে দেশের সেরা খেলোয়াড় হতে পারি এবং রূপনা ও মনিকা আপাদের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারি।’</p><p>রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার আকর্ষণী চাকমাও এই একাডেমির খেলোয়াড়। সে বলে, ‘এই একাডেমি আমাদের শুধু অনুশীলনেই সীমাবদ্ধ রাখে না, নিয়মিত বিভিন্ন জেলা ও আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ করে দেয়। আমি জাতীয় বয়সভিত্তিক দল থেকে চিঠি পেয়েছি। এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি দেশকে সেরা খেলাটা উপহার দিতে চাই।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/6hmqejod/WhatsApp-Image-2026-11-06-at-6.14.33-PM.jpeg"><figcaption>সুইহলামং একাডেমির কিশোরীরা খেলতে চায় জাতীয় দলে। সম্প্রতি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা পরিষদ মাঠ থেকে তোলা</figcaption></figure><p>একাডেমির সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সুইহলামং মারমা বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি কিশোরীদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা ও ফুটবলের জন্য সুপ্ত সম্ভাবনা রয়েছে। দরকার কেবল সঠিক দিকনির্দেশনা ও সঠিক পরিচর্যা। আজ যে সুবিধাগুলো এই একাডেমিতে রয়েছে, তা যদি সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আরও বড় পরিসরে বাড়ানো যায়, তবে এই একাডেমি থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের বহু ঋতুপর্ণা, মনিকা ও রূপনা। তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরবে।’</p><p>একাডেমির কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসনও। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সুইহলামং মারমার এই উদ্যোগ পাহাড়ের মেয়েদের স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিশোরীদের প্রয়োজনীয় ক্রীড়াসামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। তাদের আবাসিকে খাবারের সুব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক সমর্থন ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।</p>
দীর্ঘদিনের দরপতন কাটিয়ে উত্তরাঞ্চলের সমতলের চা–শিল্পে ফিরেছে সুদিন। কাঁচা চা–পাতার ন্যায্য দাম, উৎপাদন বৃদ্ধি ও তৃতীয় চা নিলাম কেন্দ্র ঘিরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে
লর্ডসের ঐতিহাসিক ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে জার্সি খুলে উল্লাস করেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ২৪ বছর পর সেই মুহূর্তই জড়িয়ে গেছে দুটি সিনেমার গল্পে, তৈরি হয়েছে আইনি বিরোধ।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।