ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার মুখে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা-রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র হাতে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানের পর থেকে আলোচনায় আসা এলাকাটিতে আগে ১৫ জনকে সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে যে আবার হামলা হতে পারে, সে খবর প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস।
<p>স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখতে শুক্রবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।</p><p>বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।</p><p>কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক রাষ্ট্রপতিকে মঈন খানের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।</p><p>এ সময় মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।</p><p>শ্বাসকষ্ট ও হৃদ্রোগজনিত জটিলতা নিয়ে গত বুধবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।</p>
<p>জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকায় রিকশাচালক হাফিজুল শিকদারকে হত্যার মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন দুই দিনের রিমান্ড শেষে দীপু মনিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ঢাকা মেট্রো উত্তরের পরিদর্শক রিদুয়ানুল হক।</p><p>বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জি এম ফারহান ইশতিয়াকের আদালত এই মামলায় দীপু মনির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর এই রিমান্ড কার্যকর করার জন্য আদালতে আবেদন করেন।</p><p>আদালত আবেদন গ্রহণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার দীপু মনিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত দীপু মনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।</p><p>মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডার প্রগতি সরণি এলাকায় যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন অটোরিকশাচালক হাফিজুল শিকদার (২৮)। এ সময় আন্দোলন দমনে আসামিদের ছোড়া গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় ওই বছরের ২১ আগস্ট হাফিজুলের বাবা মো. আবুবকর শিকদার বাদী হয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।</p>
এর আগে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ রানে আটকে দিয়েও আফগানরা জিতেছিল ৭ উইকেটে।
<p>যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি ‘যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন’ বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের ওলেশকি শহরে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। শহরটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার দখলে রয়েছে।</p><p>হোয়াইট হাউস থেকে শুক্রবার এই ঘোষণার পর ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, শিগগিরই ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রণাঙ্গনে এটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ নিয়ে সামরিক বাহিনী কাজ করছে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে এমন ঘোষণা এল। এই কৌশলের অধীনে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্প্রতি রাশিয়াকে বেশ কিছু ছাড়ও দেওয়া হয়েছে।</p><p>হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ওলেশকির পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ওলেশকি একটি সম্মুখযুদ্ধের শহর, যা ধ্বংসের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘ওলেশকির সাধারণ মানুষ সীমিত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন, মাইন পাতা সড়কের মধ্যে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত সামরিক হামলার শিকার হচ্ছেন। এটি একদম স্পষ্ট ছিল যে আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রবীণদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া অসম্ভব হতো।’</p><p>ফার্স্ট লেডি আরও জানান, তাঁর প্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে এই ‘যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নির্ধারণ করতে সরাসরি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করেছেন।’</p><p>মেলানিয়া বলেন, শহরের সাধারণ মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে দুই দেশের বেসামরিক নেতারা একসঙ্গে কাজ করবেন।</p><p>যুদ্ধের আগে ওলেশকি শহরের জনসংখ্যা ছিল ২৪ হাজার। শহরটি যুদ্ধক্ষেত্রের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর প্রথম দিনেই শহরটি দখল করে নেয়। এর পর থেকে শহরটি গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছে।</p>
<p>প্রশাসনের উচ্ছেদ–আতঙ্ক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদে জুমার নামাজ পড়েছেন মুসল্লিরা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন এই মসজিদ ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। মসজিদটির চারপাশের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়েই আজ শুক্রবার সেখানে জড়ো হন সাধারণ মুসল্লিরা।</p><p>নামাজ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও মুসল্লিদের একটি বড় অংশের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।</p><p>রেসকোর্স মসজিদটিকে অবৈধ ঘোষণা করে সম্প্রতি উচ্ছেদের নোটিশ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। এরপর নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার আগেই মসজিদসংলগ্ন এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু বসতবাড়ি ও দোকানপাট। সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু রাজধানী দিল্লিতেই নয়, ভারতের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়ও অবৈধ দখলের অভিযোগ তুলে মূলত মুসলিমদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, যাঁদের একটি বড় অংশই বাংলাভাষী মুসলিম।</p><p>উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার রেসকোর্স মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। ফলে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত এবং যেকোনো ধরনের বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে জুমার নামাজের নির্ধারিত সময়ে পুলিশ কিছুটা নমনীয় হয়ে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়।</p><p>নামাজ শেষে আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা আমানতউল্লাহ খান দাবি করেন, দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড, এনডিএমসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ঐতিহাসিক এই মসজিদ পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। স্থানীয় মুসল্লি ও তাঁদের সমর্থকেরা মসজিদে নামাজ পড়তে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-23/3eq22inx/Race-Course-Masjid-2.JPG"><figcaption>বুলডোজার দিয়ে একাধিক বসতবাড়ি ও দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর রেসকোর্স মসজিদের চারপাশের দৃশ্য। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট ও কংক্রিটের ভগ্নস্তূপ</figcaption></figure><p>তবে উপস্থিত অনেক মুসল্লি তাঁদের ক্ষোভ গোপন করেননি। বিহার থেকে আসা আশরাফুল খান বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও মুসলিমদেরই বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে। একই অভিযোগ তুলে আমানুল্লাহ নামের এক যুবক বলেন, ‘এর চেয়ে বরং সরকার সরাসরি বলে দিক যে মুসলিমরা এ দেশে অবাঞ্ছিত। তাদের জন্য প্রশাসনের কোনো সহমর্মিতা নেই।’</p><p>পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ও দিল্লিতে কর্মরত বাগান পরিচর্যাকারী মইদুল আলম সেখানকার ভীতিজনক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আলো নেই, পানি নেই, পাশে শুধু ভগ্নস্তূপ। মসজিদ চত্বরে যেন আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমাদের নামাজ পড়ানোর সময় ইমাম সাহেবের চোখে পানি এসে গিয়েছিল। আমরা সকলেই তা দেখে খুবই বিষণ্ন হয়ে পড়েছি।’</p><p>৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর ১৫ অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্টে সংযোগ পুনর্বহালের আবেদন জানানো হলে আদালত তা খারিজ করে দেন। আদালত জানান, ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর ওই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে; তাই এ অবস্থায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দিলে তা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। আদালতের এই আদেশের পর থেকেই এলাকাটিতে আধা সামরিক বাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।</p><p>মসজিদের ইমাম মৌলভি হারুনের অভিযোগ, ১৭ অক্টোবর ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তরের এক কর্মকর্তা তাঁকে মাত্র ছয় দিনের মধ্যে মসজিদ খালি করে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। ইমামের দাবি, এটি ওয়াক্ফ তালিকাভুক্ত নিবন্ধিত সম্পত্তি এবং এর সপক্ষে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে তাঁরা জেনারেটর চালিয়ে কার্যক্রম সচল রেখেছেন।</p><p>অন্যদিকে সরকারি সূত্রের দাবি, মসজিদ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়নি। এর আগে দিল্লি ওয়াক্ফ বোর্ড কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় এনডিএমসির কাছে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে আদালত জানিয়েছেন, মসজিদের ইমাম ব্যক্তিগতভাবে এই রিট করার আইনি অধিকার (লোকাস স্ট্যান্ডাই) রাখেন না এবং ওয়াক্ফ বোর্ড সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়নি।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন