<p>হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর জিনসের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কাপড় দিয়ে সেলাই করে লুকিয়ে রাখা ১২ কেজি ৬০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। এসব সোনার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা। আজ বুধবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা কাস্টমস হাউসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।</p><p>ঢাকা কাস্টমস হাউসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাই থেকে এমিরেটসের ইকে৫৮৬ ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হতে পারে বলে গোপন তথ্য পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এর ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নজরদারি শুরু করে তারা।</p><p>একপর্যায়ে চেন লিইউন ও মো জিয়াওইউ নামের দুই যাত্রী ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ এলে তাঁদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁদের জিনসের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কাপড় দিয়ে সেলাই করে লুকিয়ে রাখা নরম হলুদ রঙের সোনার পেস্ট উদ্ধার করা হয়।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা সোনার বিশুদ্ধতা প্রাথমিক পরীক্ষায় ২৪ ক্যারেট বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।</p><p>আটক সোনা ও দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং ফৌজদারি আইনে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।</p>
<p> ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনাগুলোর একটি ছিল দেশটির প্রধান দুই আরব দলের জোরালো অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানাতে দল দুটির সমর্থকেরা রেকর্ডসংখ্যক ভোট দিয়েছেন।<br> মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বুথফেরত জরিপ থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, আরব দল দুটি এবার বড় সাফল্য পেতে যাচ্ছে। দল দুটি হলো সামাজিকভাবে রক্ষণশীল ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাআম) এবং বামপন্থী জয়েন্ট লিস্ট।<br> বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দল দুটি ইসরায়েলের পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারে। এতে দেশটির প্রধান দুই জোটের মধ্যে কারা সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।<br> বুথফেরত জরিপ হলো ভোট দেওয়ার পর কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ভোটারদের ওপর চালানো সমীক্ষা। এতে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা কাকে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের উত্তর বিশ্লেষণ করে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।</p><p>রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আরব ভোটারদের এই উপস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, তাঁরা নিজেদের ‘হতাশা ও নিরাশা’কে ‘আশায়’ রূপান্তর করেছেন। ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই আরব।<br>আব্বাস বলেন, তিনি ‘সম্ভাব্য সব উপায়ে’ নেতানিয়াহুর সরকারের পরিবর্তন চান। তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার হলো এমন একটি সরকার গঠনের সুযোগ নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।</p><p>আরব দলগুলোর এই সাফল্য সরকার গঠনে তাদের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবে ইসরায়েলে আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠন এখনো জটিল বিষয়। অনেক ইসরায়েলি ইহুদি মনে করেন, পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/xz7ywo2jc1">আরব দলগুলোকে বিরোধী শিবিরের জোটে টানার সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য</a></aside><p>ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের বেশির ভাগই ফিলিস্তিনিদের বংশধর। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধের সময় এই ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ঘরবাড়ি না ছেড়ে সেখানে থেকে গিয়েছিলেন।</p><p>এখন আরব নাগরিকদের বেশির ভাগই ইহুদি ইসরায়েলিদের থেকে আলাদা শহরে বাস করেন। তাঁরা সহিংসতা ও আবাসনসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক নীতির শিকার হন।</p><p>ইসরায়েলের ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয়সহ নানা বিষয়ে দেশটির আরবদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এসব কারণে কয়েক দশক ধরে অনেক আরব ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।</p><blockquote>ইসরায়েলের ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয়সহ নানা বিষয়ে দেশটির আরবদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এসব কারণে কয়েক দশক ধরে অনেক আরব ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।</blockquote><p>তবে এ সপ্তাহে অনেক আরব ভোটার বলেছেন, পশ্চিম তীর ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি নেতানিয়াহুর আচরণে তাঁরা ক্ষুব্ধ। ইসরায়েলের ভেতরেও ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হয় বলে মনে করেন তাঁরা। এ জন্য তাঁরা সরকারের বিভিন্ন নীতিকে দায়ী করেন। নির্বাচনী প্রচারজুড়েও নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আরববিদ্বেষী মনোভাব কাজে লাগিয়ে ভোট চেয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/t2uf1uyh/candidate-Yousef-Jabareen.jpg"><figcaption>নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের ফল দেখে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি বামপন্থীদের দল জয়েন্ট লিস্ট প্রার্থী ইউসেফ জাবারিনসহ অন্যরা</figcaption></figure><p>গত মঙ্গলবার লোদ শহরে ভোট দেন ৩৯ বছর বয়সী আরব-ইসরায়েলি খুলুদ আল-জেইনাতি। শহরটিতে ইহুদি ও আরব—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। সেখানকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।</p><p>খুলুদ বলেন, ‘আমি খুব আশাবাদী। মানুষ বুঝতে পারছে, এটা সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়। আমরা পরিবর্তন চাই।’<br>এই আরব-ইসরায়েলি আরও বলেন, ‘জীবনের নানা ক্ষেত্রে আরব সম্প্রদায়কেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়। তাই আমাদের ঘর থেকে বেরিয়ে ভোটে অংশ নেওয়া জরুরি।’</p><aside><cite>খুলুদ আল-জেইনাতি, আরব-ইসরায়েলি ভোটার</cite>জীবনের নানা ক্ষেত্রে আরব সম্প্রদায়কেই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়। তাই আমাদের ঘর থেকে বেরিয়ে ভোটে অংশ নেওয়া জরুরি।</aside><p>খুলুদ বলেন, ‘আমি আশা করি, পরবর্তী সরকার কেমন হবে, তা ঠিক করতে আমাদের ভোট সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমাদের সবার জীবনে ভালো পরিবর্তন আনবে।’</p><p>মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নজিরবিহীন ভালো ফলের আভাস পাওয়া দুই আরব দলের মধ্যে শুধু রাআমই কেবল এর আগে দেশটির জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল। ২০২১ সালে দলটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের স্বল্পস্থায়ী নেতানিয়াহুবিরোধী জোট সরকারের অংশ ছিল তারা।</p><p>রাআম ওই সরকারের শরিক হওয়ায় অনেক ডানপন্থী ইহুদি ভোটার ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। প্রায় এক বছর পর বেনেটের সরকারের পতন হয়। এরপর ওই ভোটাররা নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেন। তিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে উগ্র ইহুদিবাদী সরকার গঠন করেন।</p><p>এখন নেতানিয়াহুর সেই সরকারেরই ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর যে নির্বাচনী ফল এই সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আরব ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/75dmmzx96e">ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি</a></aside>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/3l2hs12i/thakurgaonBNP.jpg"><figcaption>ঠাকুরগাঁও–১ আসনের উপনির্বাচনের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির প্রার্থীর মির্জা ফয়সল আমীন। বুধবার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে</figcaption></figure><p>মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনের আগের দিন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান দুই প্রার্থী। আজ বুধবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পৃথক সংবাদ সম্মেলনে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো, প্রভাব বিস্তারসহ নানা অভিযোগ করেন। দুই পক্ষই অভিযোগ অস্বীকার করে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।</p><p>বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে থাকা ৯৮৯টি ভোটকক্ষে ভোট দিতে পারবেন ভোটাররা।</p><p>নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ পুলিশ সদস্য ও ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে থাকবেন। চার বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ ১৭৭ দেশি-স্থানীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।</p><p>ভোটের আগের দিন বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শহরের একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি বলেন, প্রচারণার শুরু থেকেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন স্থানে তাঁর গণসংযোগেও বাধা দেওয়া হয়েছে।</p><p>দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী গণসংযোগের সময় আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এলজিইডির কর্মকর্তাকে ফোন করে এক মাসের মধ্যে একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর কথা বলেছেন এবং অন্য একটি স্থানে অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ১৩ অক্টোবর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁকে বাধা ও লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ২০ অক্টোবর আখানগরে জামায়াতের নির্বাচনী সভা শেষে বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাঁদের একজন কর্মীকে আহত করেছেন বলে দাবি করেন।</p><p>জামায়াতের এই প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, সরকারি চাকরিজীবীরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারলেও ২৪ ও ২৫ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে বিএনপি তিনটি চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া ভোটারদের কাছে পরিবার কার্ড, কৃষি কার্ড, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাওয়া এবং ভোটার স্লিপ দেওয়ার সময় টাকা বিতরণের অভিযোগও করেন তিনি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/6rokgjgq/thakurgaonJamat.jpg"><figcaption>ঠাকুরগাঁও–১ আসনের উপনির্বাচনের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। বুধবার বিকেলে শহরের একটি চায়নিজ হোটেলে</figcaption></figure><p>দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আরও বলেন, এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিচারিক অনুসন্ধান কমিটির কাছে তাঁরা অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি। প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার ওপর আগামীকালের নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার বিষয়টি নির্ভর করছে।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আবদুল হাকিম, বর্তমান আমির বেলাল উদ্দিন প্রধান, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আলমগীর, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কফিল উদ্দিনসহ দলটির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।</p><h3>‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা’ </h3><p>এদিকে বুধবার রাত নয়টার দিকে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলটির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি বলেন, উপনির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও ১১–দলীয় ঐক্যজোটের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন। এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশন ও বিচারিক অনুসন্ধান কমিটির কাছেও দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর তাঁদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।</p><p>বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, সাধারণত উপনির্বাচনে ভোটারের আগ্রহ ও উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে এই নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আর সেটি দেখে বিরোধী প্রার্থী নানা অপপ্রচারের মাধ্যমে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।</p><p>জামায়াতের প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফয়সল বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। নির্বাচনের আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিচ্ছেন। এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলেও তাঁরা প্রতিকার পাননি।</p><p>মির্জা ফয়সল বলেন, ‘আমরা চাই দল-মত, শ্রেণি-পেশা ও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’</p><p>বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদ, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভিন, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদসহ দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে গম আমদানির জন্য দুটি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব এসেছে। এ জন্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর–কষাকষির কার্যক্রম শুরু করতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।</p><p>আজ বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমাতে এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে গম আমদানি বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের সঙ্গে পাঁচ বছরের সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। এতে বছরে সাত লাখ টন গম আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।</p><p>খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের গম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশন অনুমোদিত দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে দরপ্রস্তাব নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল ও লুই ড্রেফাস কোম্পানি।</p><p>এত দিন অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে পাঁচ বছর মেয়াদি জিটুজির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের গম আমদানি করা হচ্ছিল। সম্প্রতি লুই ড্রেফাস কোম্পানিকেও অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে গম সরবরাহের জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক থেকে বেড়ে দুটি হয়েছে। গম কেনার অর্থায়ন হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।</p><p>তবে গমের দাম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জিটুজি ব্যবস্থায় ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনার মূল্য নির্ধারণ করা হয় প্রতি টন ৩২২ ডলারে। একই সময়ে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে অন্য দেশ থেকে ৫০ হাজার টন গম কেনা হয়। প্রতি টনের দাম পড়ে ২৯৭ দশমিক ৯২ ডলার। অর্থাৎ প্রতি টনে দামের পার্থক্য প্রায় ২৪ ডলার। এই ব্যবধানের কারণে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম কেনায় সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫৩ লাখ ডলার।</p><p><strong>ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক</strong></p><p>এদিকে আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ মৌসুমে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও বস্তায় ভরার জন্য নতুন এক কোটি পাটের বস্তা কিনবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৬৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। প্রতিটি বস্তার গড় মূল্য পড়বে ৬৩ টাকা ৪২ পয়সা। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।</p><p>ক্রয় কমিটিতে কানাডা ও রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ৭০৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯০ টাকা। কৃষি ভর্তুকি খাতের বাজেট থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।</p><p>অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুই চালানে মোট ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকেও দুই চালানে ৩৫ হাজার টন করে মোট ৭০ হাজার টন সার আমদানি করা হবে। কানাডা ও রাশিয়া উভয় দেশ থেকেই প্রতি টন সার ৩৮২ দশমিক ৩৮ মার্কিন ডলার দরে কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া কাতারের প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এক জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে ক্রয় কমিটি।</p>
<p>স্থায়ী পার্কিংয়ের জায়গার দাবিতে ধর্মঘট পালন করেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকেরা। এতে জরুরি রোগী পরিবহন ও মৃতদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। হাসপাতালের সামনে বিকল্প যানবাহনে রোগী নেওয়ার চেষ্টা থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষা সব মিলিয়ে বড় দুর্ভোগে পড়েন তাঁরা। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায়</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/n52nv2bf/01.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের ধর্মঘটের কারণে রোগী নিতে ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/93pjfkfg/02.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/2p1uz8hg/03.jpg"><figcaption>হাসপাতালের সামনে যানবাহনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/umqvp1qi/04.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অসুস্থ শিশুকে নিয়ে রিকশায় অন্য হাসপাতালে যাচ্ছেন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/77noeh6j/05.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রোগীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/8tvzsnof/06.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ও চালকদের ধর্মঘটের কারণে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/y9m5scd2/07.jpg"><figcaption>হাসপাতালের সামনে রিকশায় রোগীকে তোলার কাজে স্বজনদের সহায়তা করছেন চালক। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/y5tyyxlt/08.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে ভ্যানে করে রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/mqb8x070/09.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ও চালকদের ধর্মঘটের কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রোগী নেওয়া হয়। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/k23ik6jt/10.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রিকশায় করে রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/ouc5nihy/11.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ও চালকদের ধর্মঘটের কারণে ট্রাকে করে মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা। </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/v28fond9/12.jpg"><figcaption>অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রিকশায় করে জরুরি বিভাগে রোগীকে নিয়ে আসছেন স্বজনেরা।</figcaption></figure>
<p>বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের শেয়ার, সঞ্চয়পত্রসহ অন্য সব আর্থিক হিসাবের লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।</p><p>বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে, মোশাররফ হোসেন এবং তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির হিসাব খোলার ফরম, লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠাতে হবে। মানি লন্ডারিং আইনে এ তথ্য দিতে বলা হয়েছে।</p><p>বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে অপেশাদার আচরণের বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনা তদন্তাধীন। প্রথম ঘটনা গত ২৬ ফেব্রুয়ারির; নতুন গভর্নর নিয়োগের দিন। ওই দিন মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে জোরপূর্বক কিছু আদেশে সই করতে বাধ্য করেন মোশাররফের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।</p><p>তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের দ্বিতীয় ঘটনাটি ছিল তদবিরের। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, সে জন্য একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির নিয়ে যান তিনি। এ ক্ষেত্রে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দেন। এ ঘটনায় বিএফআইইউ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়।</p>
২৯ অক্টোবর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি অপেক্ষায় থাকা ওয়েব ফিল্মটির মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে লাক্স সুপারস্টার ২০২৫-এর সেরা তিন প্রতিযোগীর।
<p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অনুদান চুক্তিসহ ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।</p><p>আজ বুধবার রাতে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপপ্রেসসচিব শাহাদাত স্বাধীন এসব তথ্য জানান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ অক্টোবর ৪ দিনের সফরে জাপানে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।</p><p>আজ স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান রয়েছে। এ ছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।</p><p>জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।</p><p>দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।</p><p>এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদার করতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।</p><p>অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০ কোটি ৮ লাখ ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এ ছাড়া উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের সমান।</p><p>এসব দলিল, সহযোগিতা স্মারক ও ঋণের প্রতিশ্রুতিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।</p><p>সফরকালে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।</p><p>সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।</p><p>অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।</p>
<p>আইইডিসিআরের পরিচালকের কক্ষে ঢুকে মারধর, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন। বাংলাদেশের ৫ অগ্রাধিকার খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে...</p><figure></figure>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।