<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/bajare-et-chennra-not-ken</figure>
<p>নিজের চেহারা ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে ছবি ও ভিডিও তৈরির সুযোগ চালু করেছে জেমিনাই। জেমিনাই অ্যাপের নতুন ‘পারসোনাল অ্যাভাটার’–সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা চাইলেই নিজেদের চেহারা ও কণ্ঠস্বরের আদলে ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করতে পারবেন। পরে সেই অ্যাভাটার ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ছবি ও ভিডিও তৈরি করা যাবে। ফলে প্রতিবার নতুন করে নিজের ভিডিও ধারণ করার প্রয়োজন হবে না।</p><p>নতুন এ সুবিধার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নিজের তৈরি অ্যাভাটার অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে। বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা সহকর্মীদের জিমেইল ঠিকানায় আমন্ত্রণ পাঠিয়ে অ্যাভাটার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে। ফলে তারাও নিজেদের তৈরি এআই ছবি ও ভিডিওতে অ্যাভাটারের মালিকের চেহারা ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কে অ্যাভাটার ব্যবহার করতে পারবেন এবং কত দিন পর্যন্ত ব্যবহারের অনুমতি পাবেন, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন অ্যাভাটারের মালিক।</p><p>গুগলের তথ্যমতে, ব্যক্তিগত অ্যাভাটার তৈরির জন্য প্রথমে নিজের চেহারার ছবি তোলার পাশাপাশি কণ্ঠস্বর ধারণ করতে হবে। কম্পিউটার থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু করলে জেমিনাই একটি কিউআর কোড দেখাবে। স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট দিয়ে কোডটি স্ক্যান করার পর ফোনে কণ্ঠস্বর ধারণ করতে হবে। এরপর জেমিনাইয়ের মাধ্যমে অ্যাভাটার তৈরি হয়ে গেলে সেটি পরে নতুন ছবি ও ভিডিও তৈরির সময় ব্যবহার করা যাবে। তবে ব্যক্তিগত অ্যাভাটার ব্যবহার করে ভিডিও তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে গুগল এআই প্ল্যান।</p><p>নিজের অ্যাভাটার অন্য কাউকে ব্যবহারের সুযোগ দিতে হলে তাঁর জিমেইল ঠিকানায় আমন্ত্রণ পাঠাতে হবে। আমন্ত্রণ গ্রহণ করা ব্যক্তিরা অ্যাভাটারটি নিজের তৈরি এআই কনটেন্টে ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাভাটার ব্যবহারের অনুমতি নিয়ন্ত্রণের জন্য জেমিনাইয়ের সেটিংসে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যাভাটার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করতে পারবেন অ্যাভাটারের মালিক। অনুমতি বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নতুন করে ওই অ্যাভাটার কাজে লাগিয়ে নতুন ছবি বা ভিডিও তৈরি করতে পারবেন না। তবে আগে তৈরি করা ছবি ও ভিডিওগুলো অক্ষত থাকবে। অর্থাৎ অ্যাভাটার ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করলেও আগে তৈরি কনটেন্ট মুছে যাবে না।</p><p>সূত্র: নিউজ১৮</p>
১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড নামের সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি চালু হয়েছে
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের হলিদাগাছি গ্রামের একটি বাগানে ঢুকতেই চোখে পড়ে সারি সারি আনারগাছ।
এজেআর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিসের পল্লবী কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে একজন আহত।
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/besik-bzangk-kelenkari-atlantiker-oopar-theke-za-bllen-baccu</figure>
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/sngsarer-khrc-barche-sncy-dhre-rakhben-zevabe</figure>
<p>চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়া, পাশাপাশি প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে ছিল চট্টগ্রামের নানা অঙ্গনের মানুষের মিলন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান।</p><p> ১ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের রমফোর্ডের মেফেয়ার মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী ও চট্টগ্রামের সন্তান রবি চৌধুরীর সংগীত পরিবেশনা উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বকে প্রাণবন্ত করে তোলে।</p><p>উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।</p><p>আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান। সম্মাননা পাওয়া গুণীজনেরা হলেন মিজানুর রহমান, মির্জা সালমান ইস্পাহানী, আতিক চৌধুরী, কাজী আবুল হোসেন, রবি চৌধুরী, মোহাম্মদ আলমগীর ও ওয়াজিদ হোসেন সেলিম।</p><p>চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও কমিউনিটির উন্নয়নে অবদান রাখায় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। আয়োজকদের আশা, গুণীজনদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকেও নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।</p><blockquote>দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com</blockquote><p>অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার চট্টগ্রামের ডেপুটি ইনচার্জ মো. মনজুর কাদের, মনোয়ার হোসেন, উৎসব কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী রেজা, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, সুজন বড়ুয়া, মাসুদুর রহমান, জামাল উদ্দিন, আরশাদ মালেক, অনুপম রায় প্রমুখ।</p><p>উৎসব কমিটির পক্ষে মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গৌরব আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। উৎসবটি সফল করতে শুরু থেকেই বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।</p><p>আয়োজকদের ভাষ্য, চট্টগ্রাম উৎসব কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়োজন নয়; এটি প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর সম্মিলিত পরিচয়, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতিফলন। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের শিকড়ের পরিচয় তুলে ধরতে এ উৎসব ভূমিকা রাখবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/c993xf11/3.jpeg"></figure><p>শুধু সাংস্কৃতিক আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না উদ্যোক্তারা। তাঁদের পরিকল্পনায় রয়েছে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে কর্মরত চট্টগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনকে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।</p><p>ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে, উন্মুক্ত স্থানে এবং বেশি মানুষের অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। সে আয়োজনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানসহ আঞ্চলিক খাবার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা উপাদান আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে চান তাঁরা।</p>
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, সরকার ও মালিকপক্ষ মজুরি বোর্ড গঠনের নামে দলীয়করণ করে নিজেদের লোক বসিয়েছে, শ্রমিকেরা এটা মানছেন না।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।