শূন্য পাশের ২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ড
গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে এনসিপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তলব করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমি...
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তকরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। গত মে মাসে...
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুথ ফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে অর্থনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
এ সেবার দায়িত্ব পেতে প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়াতে কাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’।
দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ও সফল এই অধিনায়ককে ছাড়াই ভবিষ্যৎ রূপরেখা মাথায় রেখে নতুন দল সাজিয়েছেন প্রধান কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। দীর্ঘ দুই দশক পর মেসিকে ছাড়া জাতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়া...
সকাল ৫টায় শুরু হওয়া এই পরিশ্রম শেষ হয় রাত ১১টায়। দিন শেষে মজুরি পান ৪০০ টাকা।
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/orth-jogade-himsim-tbuoo-ntun-betn-kathamo</figure>
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/ovijngder-ovinyer-jaygata-thaka-ucit</figure>
<p>গণতন্ত্র রক্ষা ও একে সুসংহত করতে বিরোধী দলের এবং একই সূত্রে সরকারি দলেরও ভূমিকা নিয়ে আলোচনার সময় আমরা প্রায়ই একটি মৌলিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাই: আমরা ঠিক কোন ধরনের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই? </p><p>গণতন্ত্রের রূপ নানাবিধ হতে পারে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক যাত্রার কেবল সূচনাই ঘটে; কিন্তু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনও দুটি ভিন্ন রূপ নিতে পারে। একদিকে ক্ষমতা একক দল বা ব্যক্তির হাতে পুঞ্জীভূত হয়ে তৈরি হতে পারে ‘সংখ্যাগুরুর স্বৈরতন্ত্র’; অন্যদিকে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গিয়ে জন্ম নিতে পারে ‘অভিজাতদের স্বৈরতন্ত্র’, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রান্তিক হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রের মূল সংগ্রামটিই হলো এই দুই চরমপন্থার মাঝখানে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে নেওয়া। লক্ষ্য একটাই, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণের সময় জনগণের আসল কণ্ঠস্বর ও উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটে। তাই গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ‘আদর্শ’ ভূমিকা কেমন হবে, তা নির্ভর করে আমরা রাষ্ট্রে ঠিক কোন ধরনের গণতান্ত্রিক কাঠামো দেখতে চাই, তার ওপর।</p><p>বাংলাদেশে অনেকের কাছেই গণতন্ত্রের ধারণাটি অত্যন্ত সংকুচিত। পাঁচ বছর পরপর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার রদবদল ঘটলেই এখানে রাষ্ট্রকে ‘গণতান্ত্রিক’ বলে ধরে নেওয়া হয়। গণতন্ত্রের এই ন্যূনতম সংজ্ঞাকে পুরোপুরি ভুল বলা যাবে না। তবে আমাদের মনোযোগ যদি কেবল নির্বাচনের দিনটিতেই নিবদ্ধ থাকে, তবে মধ্যবর্তী সময়ে বিরোধী দলের কাছ থেকে গঠনমূলক কিছু আশা করা অর্থহীন। এমন ব্যবস্থায় প্রতি পাঁচ বছর পরপর ভোট হবে ঠিকই, কিন্তু দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকবে ক্ষমতাসীনদের হাতে; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হারাবে স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের ভূমিকা কেবল ব্যালট পেপারে সিল মারাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। এই কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিরোধী দল পাঁচ বছর ধরে নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহির আওতায় আনার কোনো সুযোগ পায় না, অথচ পাঁচ বছর পর বিশাল ক্ষমতা নিয়ে সরকার গঠনের দৌড়ে নেমে পড়ে। এমন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় বিরোধীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করা যায় না।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/68g2nkos/Prothomalo-Atol28.jpeg"></figure><p>অন্যদিকে আমরা যদি গণতন্ত্রকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখি যেখানে সরকারি নীতি নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে, যেখানে একক আধিপত্যের সুযোগ থাকবে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে নির্বাহী বিভাগের ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে, তাহলেই বিরোধী দলের কার্যকর ভূমিকার সুযোগ তৈরি হয়। মূলত আমরা এমন এক প্রতিনিধিত্বমূলক উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাই, যা রাজনীতিকে ‘বিজয়ীই সব নিয়ে নেয়’ নীতি থেকে সরিয়ে ‘কিছু জেতো কিছু হারো’ নীতির ওপর দাঁড় করায়।</p><p>তবে কোনো ক্ষমতাসীন দলই স্বেচ্ছায় নিজেদের ক্ষমতা সীমিত করতে চায় না। তাই এই রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার যৌক্তিকতা তুলে ধরা, নাগরিক সমাজের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তোলা এবং কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করাই বিরোধী দলের মূল কাজ হতে হবে। </p><p>তবে প্রতিনিধিত্বমূলক উদার গণতন্ত্রেরও একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রায়ই এই ব্যবস্থা অভিজাতদের দর-কষাকষির ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল করে ফেলে এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের সরাসরি প্রভাবের পথ সংকুচিত করে। প্রতিনিধিরা যেন সুনির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক সংকীর্ণ দাবির ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এই তত্ত্বের সুযোগ নিয়ে বাস্তবে নাগরিকদের মতামতকে উপেক্ষিত রাখা হয়। এই সীমাবদ্ধতা থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের’ ভাবনা, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই ধারা হতে পারে বেশ পরিবর্তনকামী, যেমন নাগরিক সমাবেশ বা নিয়মিত গণভোটের মাধ্যমে বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া। আবার এটি হতে পারে একটি কার্যকর পরামর্শমূলক ব্যবস্থা, যেখানে নাগরিকেরা সহজেই তাঁদের দাবি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। অবশ্যই এমন অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক সুরক্ষার আওতায় রাখতে হয়, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠের চাওয়ায় সংখ্যালঘুর অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। আমরা যদি এমন প্রাণবন্ত গণতন্ত্র গড়ে তুলতে চাই, তবে বিরোধী দলকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি আসতে হবে।</p><p>গণতন্ত্রের এই তিন ধরন নির্বাচনী—উদার প্রাতিষ্ঠানিক এবং অংশগ্রহণমূলক পরস্পরের বিরোধী নয়। অবাধ নির্বাচন যদি ভিত্তিপাথর হয়, তবে উদার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হলো ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের বর্ম, আর অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থা হলো সাধারণ মানুষের ক্ষমতার চাবিকাঠি। আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই তিন মাত্রাকে একটি সুতায় গাঁথা। আমরা যত বেশি নিছক ‘ভোটকেন্দ্রিক’ চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে নীতিনির্ধারণে নাগরিককে সম্পৃক্ত করার দিকে যাব, বিরোধী দলের গুরুত্ব ততটাই বাড়বে। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরোধীদের ভূমিকা আরও বেশি সংবেদনশীল ও জরুরি। শাসক দল যখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্নির্মাণে অনিচ্ছুক, সমালোচনা সহ্য করতে নারাজ, আমলাতন্ত্রের দলীয়করণে ব্যস্ত, দল ও সরকারকে একাকার করে ফেলছে এবং নিজস্ব কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ, তখন ক্ষমতাসীন দল নিজে থেকে কোনো সংস্কার করবে, এমন আশা করা ভুল। স্বৈরাচারী প্রবণতার মুখে ক্ষমতার লাগাম টানতে বিরোধী দলকেই রাজপথ ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে এক শক্তিশালী প্রতিরোধ ও বিকল্প ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করতে হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/xb5qttsz/Supply-2.png"><figcaption>অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান</figcaption></figure><p>প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে বর্তমান বাস্তবতায় বিরোধী দলগুলো কি সেই দায়িত্ব পালন করছে? দুঃখজনকভাবে বিরোধীদের রাজনীতি এখনো সংঘাতকেন্দ্রিক এবং নাগরিকমুখী চিন্তাভাবনা থেকে দূরে। একটি প্রগতিশীল ও গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতি বাস্তবায়নে তাদের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জোর দেওয়া জরুরি।</p><p>প্রথমত, শুধু সরকারি কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে কীভাবে একটি টেকসই রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আনা যায়, তার স্পষ্ট যৌক্তিকতা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা। ক্ষমতাসীন অভিজাত জোটে ফাটল ধরাতে সুশীল সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারদের নিয়ে একটি পাল্টা সংস্কারবাদী রাজনৈতিক অক্ষ গড়ে তোলা প্রয়োজন।</p><p>দ্বিতীয়ত, ‘লংমার্চ’ বা শক্তি প্রদর্শনের চিরাচরিত কর্মসূচির রাজনৈতিক কার্যকারিতা এখন তলানিতে। কেবল নিজেদের সমর্থক জমায়েত না করে বিরোধী দলকে পৌঁছাতে হবে আপামর জনগণের দোরগোড়ায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা কিংবা দুর্নীতির মতো দৈনন্দিন সংকটগুলো যে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থারই ফসল, তা সাধারণ মানুষকে প্রাঞ্জল ভাষায় বোঝাতে হবে। এই ক্লান্তিহীন ও ধৈর্যশীল কাজ ছাড়া গণ–আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।</p><p>তৃতীয়ত, একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ভিশন থাকা চাই। জনতুষ্টিবাদ, ধর্মীয় চরমপন্থা কিংবা বৈষম্যমূলক মানসিকতার ওপর ভর করে কোনো দল গণতান্ত্রিক কাঠামো ব্যবহার করলেও তা শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরতন্ত্রেই রূপ নেয়। বিরোধী দলকে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করতে হবে যে ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গপরিচয়–নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং ভিন্নমতকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণের এক উদার সংস্কৃতি তারা গড়ে তুলবে। সংখ্যালঘুর অধিকার সুরক্ষা ছাড়া কোনো রাষ্ট্রই উদার গণতান্ত্রিক হতে পারে না।</p><h3>বাংলাদেশের বর্তমান বিরোধী দলগুলো এই জায়গায় কতটুকু সফল?</h3><p>সবচেয়ে বড় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জামায়াতে ইসলামীর কথাই ধরা যাক। দলটি রাজনৈতিক সমঝোতা কিংবা বস্তুনিষ্ঠ সংস্কার প্রস্তাবের চেয়ে মুখোমুখি সংঘাত ও আবেগসর্বস্ব রাজনীতিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ‘সংস্কার’ শব্দটিকে তারা রাজনৈতিক মুখরোচক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করলেও নিজেদের আদর্শের সঙ্গে মেলে না এমন সংস্কার প্রস্তাব (যেমন নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন) তারা স্রেফ এড়িয়ে যায়। গঠনমূলক বিকল্প নীতি উপস্থাপন না করে ১৯৯০-এর দশকের পুরোনো কৌশল নিয়েই তারা হাঁটছে।</p><blockquote>তুলনামূলক তরুণ রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) অবস্থান কিছুটা আলাদা। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতি তাদের আন্তরিকতা রয়েছে এবং তাদের তরুণ সংসদ সদস্যরা সংসদে যুক্তিনিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখছেন।</blockquote><p>একই সঙ্গে জামায়াত যে সমাজের স্বপ্ন দেখায়, তা একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা দলে প্রচুর নারী নেতৃত্বের দাবি করলেও নির্বাচনে নারী প্রার্থী মনোনয়নে নীরব থাকে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংখ্যালঘুদের আস্থা অর্জনে তারা চরমভাবে ব্যর্থ। বাংলাদেশ যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও মূলত একটি সর্বজনীন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না—এই সত্য গ্রহণে দলটির ঐতিহাসিক দ্বিধা রয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধাবাদের অংশ হিসেবে তারা সমাজে সাংস্কৃতিক বিভাজন বাড়াতে এবং ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী জনস্রোতে ভাসতে মুখিয়ে থাকে। ফলে তাদের পরিবর্তনকামী রূপরেখা কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়।</p><p>এর বিপরীতে তুলনামূলক তরুণ রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) অবস্থান কিছুটা আলাদা। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতি তাদের আন্তরিকতা রয়েছে এবং তাদের তরুণ সংসদ সদস্যরা সংসদে যুক্তিনিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখছেন। তাঁরা বিকল্প নীতির রূপরেখাও তুলে ধরছেন। তবে দলটি নাগরিকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া কিংবা তাদের দৈনন্দিন চাহিদার সঙ্গে সংস্কার এজেন্ডাকে যুক্ত করার দিকে খুব কমই মনোযোগ দিচ্ছে। নাগরিকদের উদ্বুদ্ধ না করেই তারা একটি অসম্ভব যুদ্ধ জেতার চেষ্টা করছে। তদুপরি এনসিপি একটি স্পষ্ট ‘হ্যামলেটীয় দ্বিধা’র মুখোমুখি হচ্ছে বলে মনে হয়, যেখানে একদিকে বহুত্ববাদ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সব নাগরিকের সমান অধিকারের প্রতি তাদের ঘোষিত অঙ্গীকার এবং অন্যদিকে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ মনোভাবকে তুষ্ট করার রাজনৈতিক চাপ—এই দুইয়ের মাঝখানে তারা আটকে পড়ছে।</p><blockquote>একটি দেশে বিরোধী দলের প্রকৃত শক্তি শুধু সরকার ফেলার ক্ষমতা বা নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে না। তা পরিমাপ করা হয় প্রতিষ্ঠান গড়ার অঙ্গীকার, নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অজনপ্রিয় হলেও সত্য ও অন্যের অধিকার রক্ষার সৎ সাহসের মাধ্যমে।</blockquote><p> দলটি প্রকাশ্যে নারীর অধিকার এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রক্ষা করার কথা বললেও প্রায়ই নিজেদের নীতিগত অবস্থানে অবিচল থাকতে ব্যর্থ হয় এবং দ্রুতই আপস করার পথ বেছে নেয়। শেক্সপিয়ারের হ্যামলেটের মতো এনসিপি কোনো একটি নীতিগত অবস্থানের দিকে এগোয় ঠিকই, কিন্তু সেই অবস্থানের জন্য যখন রাজনৈতিক সাহসের প্রয়োজন হয়, তখনই তারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জামায়াতের সঙ্গে তাদের জোট অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার নীতির বিষয়ে তাদের অবস্থানকেও ক্ষুণ্ন করেছে।</p><p>এনসিপি অন্য একটি সমস্যায়ও ভুগছে। তাদের কোনো কোনো নেতা কেবল জনতুষ্টিবাদী বক্তব্যই গ্রহণ করেননি, বরং ব্যক্তিগত অপমান, কুরুচিপূর্ণ নামে ডাকা এবং ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে দেওয়ার মতো তথাকথিত কাদা–ছোড়াছুড়ির রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। এনসিপির কিছু নেতা তাঁদের সহকর্মীদের চর্চিত এই রাজনীতির দায় নিতে অস্বীকৃতি জানালেও দলটি এ পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়নি। এ ধরনের রাজনীতি সমাজে রাজনৈতিক বিভাজন আরও বাড়ায় এবং ‘আমরা বনাম তারা’ নামের এক ক্ষতিকর সামাজিক মনস্তত্ত্ব তৈরি করে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এটি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।</p><p>এ ছাড়া সংসদের বাইরে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির কথা বললে বামপন্থী দলগুলোর রয়েছে তীব্র সাংগঠনিক সক্ষমতার অভাব; চরম-ডানপন্থী দলগুলোর দর্শন উদার গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত; আর তরুণ রাজনৈতিক মঞ্চগুলোর সদিচ্ছা ও আধুনিক মূল্যবোধ থাকলেও রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে তাদের আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।</p><p>একটি দেশে বিরোধী দলের প্রকৃত শক্তি শুধু সরকার ফেলার ক্ষমতা বা নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে না। তা পরিমাপ করা হয় প্রতিষ্ঠান গড়ার অঙ্গীকার, নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অজনপ্রিয় হলেও সত্য ও অন্যের অধিকার রক্ষার সৎ সাহসের মাধ্যমে। বাংলাদেশের আজ এমন এক বিরোধী রাজনীতি প্রয়োজন, যা ক্ষমতার লড়াইয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জবাবদিহি, সুশাসন ও সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেবে। এমন বিরোধী দল ছাড়া ‘গণতন্ত্র’ কেবল ভোটের দিনের একটি আনুষ্ঠানিকতা হয়েই থাকবে, আর প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। l</p><p><strong>* আসিফ মোহাম্মদ শাহান: </strong>অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়</p>
<p>কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় আইন ও আদালতের একটা প্রধান উপযোগিতা রেজিমের বৈধতা প্রদান করা। তা করার একটি বিশেষ উপায় হলো রাষ্ট্রের প্রধান ও গুরুতর রাজনৈতিক বিতর্কগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আদালতনির্ভরতা। তাত্ত্বিকেরা এর নাম দিয়েছেন ‘রাজনীতির বিচারিকীকরণ’। এ প্রক্রিয়ায় ‘রাজনৈতিক আদালত’–এর উত্থান ঘটে এবং রাজনৈতিক পরিসরকে ব্যাপকভাবে বিভাজিত করা হয়। সরকার তার ক্ষমতা ও বৈধতা-সংক্রান্ত প্রধান প্রশ্নগুলো বা সংস্কারের ইস্যুগুলো আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে সমাধান করে নেয়। বাজেট, নিয়োগ ও পদোন্নতি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে রেখে, উচ্চ আদালতে বেঞ্চ পুনর্গঠন করে কিংবা অবসর-পরবর্তী নিয়োগের প্রলোভন সামনে রেখে বিচার বিভাগকে নতজানু করে রাখা হয়। ঘটে ‘বিচারব্যবস্থার রাজনীতিকরণ’।</p><p>এই দুই প্রক্রিয়ার মিথস্ক্রিয়ায় আরও একটা লক্ষণ প্রকট হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক পরিসরে আইনি ডিসকোর্স, বাগাড়ম্বর, বিধি, প্রক্রিয়ার বিস্তৃতি ঘটে এবং নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়াও আধা বিচারিক বিধিবিধান ও প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হয়।</p><p><strong>২</strong></p><p>বাংলাদেশে রাজনীতির বিচারিকীকরণ নিয়ে কিছু আলোচনা হলেও এর যে প্রধান প্রবণতা এখনো চিহ্নিত করা হয়নি, তা হলো বিচার বিভাগের ‘কৌশলগত দলবদল’। অর্থাৎ, রেজিমের জারি করা সাংবিধানিক সংশোধনীগুলোতে সাধারণত হাত না দেওয়া, এড়িয়ে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনে বৈধতা দেওয়া। গত তিন দশকের বিভিন্ন তুলনামূলক গবেষণায় দেখা যায়, বিচারকেরা সাধারণত সব রাজনৈতিক পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেন। তাঁরা তাঁদের ক্ষমতার ব্যাপ্তি ও সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং ক্ষমতাসীনদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পতনের অপেক্ষায় থাকেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/jimlylnx/Prothomalo-Atol28.jpeg"></figure><p>কর্তৃত্ববাদী আমলে আদালত শাসকদের হাতের খেলনায় রূপান্তরিত হন, এই পূর্বানুমানও বিচারকদের মধ্যে একধরনের বাড়তি দায়মুক্তির বোধ তৈরি করে। ফলে দেখা যায়, সংবিধানে ব্যাপক কাঁটাছেঁড়া কিংবা সামরিক শাসন জারি হওয়ার পরও সংস্কারমনস্ক বিচারকেরা কখনো কখনো রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য সূক্ষ্ম চাপ প্রয়োগ করেন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নির্বাহী স্বেচ্ছাচারের ওপর প্রগতিশীল রুল জারি করেন; কিন্তু আইনে জুডিশিয়াল রিভিউর পূর্ণ ক্ষমতা থাকলেও সামরিক আইন কিংবা জরুরি অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে কোনো রায় দেন না।</p><p>কর্তৃত্ববাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হলে বিচারকেরা কৌশলী ভূমিকায় সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন; রেজিম দুর্বল হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। ফলে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর প্রতি আপাত–আনুগত্য প্রদর্শন করলেও রেজিমের পতনের রেখা স্পষ্ট হলেই তার মৌলিক স্বার্থগুলো চ্যালেঞ্জ করা হয়।</p><p><strong>৩</strong></p><p>বাংলাদেশের রাজনীতির বিচারিকীকরণের একটা প্রধান ক্ষেত্র হলো সংবিধান সংশোধনের রাজনীতি। বিচার বিভাগ কীভাবে বিচারিক রক্ষণশীলতা ও কৌশলগত দলবদলের মাধ্যমে ক্ষমতার হাত ধরে চলেছে, তার একটা খোঁজ পাওয়া যাবে সংবিধান সংশোধনী–সংক্রান্ত মামলাগুলোর পটভূমি বিশ্লেষণে। বাংলাদেশে সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার। উচ্চ আদালত কর্তৃক সংশোধনী বাতিলের ঘটনা ঘটেছে ছয়বার। একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশোধনীগুলো বাতিল করা হয়েছে চলমান রেজিমের চূড়ান্ত পতনের কালে কিংবা অনেক পরের ভিন্ন রেজিমে কিংবা। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/wy9t3zan/Supply-10.png"><figcaption>রাশেদ রাহম</figcaption></figure><p>সংবিধানের মৌল কাঠামোর প্রথম আমূল পরিবর্তন করা হয় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এই সংশোধনী আদালতের পর্যবেক্ষণের আওতায় আসে। বিচার্য বিষয় বাহাত্তরের সংবিধানের ১০২ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত হাইকোর্টের ‘ইন্টেরিম অর্ডার’ পাস করার ক্ষমতা চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে কি না। কিছুটা সংশয়, কিছুটা জটিলতার ইঙ্গিত দিলেও ‘জাতির পিতার দ্বিতীয় বিপ্লব’–এর প্রতি অনুমোদনের স্বরই উঠে আসে বিচারপতি মুনীম ও বিচারপতি সায়েমের পর্যবেক্ষণ থেকে। কিন্তু রেজিম পড়ে যাওয়ার পরে ১৯৮১ সালের হাইকোর্ট ঠিকই স্বীকার করে নেন, চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে যে একে ‘আগের সংবিধান বলে চেনাই মুশকিল’ হয়ে পড়েছিল।</p><p>পাকিস্তানের সাবেক প্রধান বিচারপতি (১৯৫৪-৬০) মুনীরের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সামরিক শাসনকে বৈধতা দান করেছিলেন ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ দিয়ে। বাংলাদেশের বিচারালয়ে সেই তত্ত্ব সর্বরোগ নিরাময়কারী মহৌষধ হিসেবে পুনরাবৃত্ত হয়ে চলেছে। এমনকি চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরও সংস্কার কিংবা পুনর্গঠনের পক্ষ-বিপক্ষনির্বিশেষে বহু মহাজনকে এই তত্ত্বের ব্যবহার করতে দেখা যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জারি করা সামরিক শাসন বলবৎ থাকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত। পঞ্চম সংশোধনী জারি করে সব সামরিক ফরমান ও কার্যক্রমের বৈধতা দেওয়া হয়। বিভিন্ন মামলায় সামরিক শাসনের বিষয়টি সামনে আসে। আদালত যথারীতি তার রক্ষণশীলতার বর্ম পরে জানান, সামরিক শাসন আইনবিজ্ঞানের ‘পরিচিত ধারণা’; ‘সাধারণ আইনের আওতার বাইরে কিছু সংশোধনমূলক/সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের স্বার্থে’ জারি করা যায়, কিংবা আদালতের ‘সুপারভাইজরি ক্ষমতা’ সামরিক আইন দ্বারা ‘সম্পূর্ণভাবে বাতিল’ হয়ে যায়।</p><blockquote>২০১০ সালে আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ মর্মে প্রদত্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। সরকারি-বেসরকারি প্রচারযন্ত্রে বিপুলভাবে উদ্যাপিত এই ‘ঐতিহাসিক রায়ের’ মাধ্যমে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনৈতিক বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিরাট পুঁজি হাসিল করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ।</blockquote><p>হাসিনাশাহির কবজা করা আদালত জিয়াউর রহমানকে ‘ক্ষমতা-দখলকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার বেসামরিকীরণে বিচার বিভাগেরও ভাগ আছে। বাংলাদেশ আর্মি রেগুলেশন (ভলিউম ১, রুলস)-এর ২৯৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কোনো নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না, মর্মে প্রধান সামরিক শাসক সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমাদানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। আদালত তা খারিজ করে দেন।</p><p>২০০৫ সালে খায়রুল হক-ফজলে কবীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ যখন ১৯৭৫-৭৯ পর্বের সামরিক শাসনকে বৈধতাদানকারী ৫ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন, তত দিনে হাইকোর্টের নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করার দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে পড়েছে, অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াকে দলীয় নিয়োগের প্রবেশদ্বার বানানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারকে কেন্দ্র করে বিচার বিভাগের চূড়ান্ত দলীয়করণের প্রাতিষ্ঠানিকীরণ ঘটে গেছে। ২০১০ সালে আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ মর্মে প্রদত্ত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। সরকারি-বেসরকারি প্রচারযন্ত্রে বিপুলভাবে উদ্যাপিত এই ‘ঐতিহাসিক রায়ের’ মাধ্যমে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির রাজনৈতিক বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিরাট পুঁজি হাসিল করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। </p><blockquote>২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। বিচার বিভাগ পৃথক্করণের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির আংশিক বাস্তবায়নের বিনিময়ে উচ্চ আদালতের নিরঙ্কুশ আনুগত্য অর্জন করে।</blockquote><p>১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ সামরিক শাসন জারি করে সংবিধান স্থগিত করেন। তিনি এপ্রিলেই প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের চার বিচারপতিকে সরিয়ে তাঁর আজ্ঞাবহ বিচারপতি মুনীমকে প্রধান বিচারপতি করেন। বিনিময়ে সামরিক শাসনের বৈধতা দেন বিচারপতি মুনীম। এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দিয়ে জারি করা সপ্তম সংশোধনীও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয় খায়রুল হক কোর্টে (২০১১-১২)। হাইকোর্টে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক (পরবর্তীকালে রাজনৈতিক বিবেচনায় ২১ জনকে ডিঙিয়ে আপিল বিভাগে নিযুক্ত) এবং আপিল বিভাগে দুজনকে ডিঙিয়ে প্রধান বিচারপতি হওয়া খায়রুল হকের প্রযোজনায়। সংবিধানের একচ্ছত্র রক্ষক হিসেবে আওয়ামী লীগের অবস্থান আরও পোক্ত হয়। প্রধান বিরোধী দলের পাশাপাশি তৃতীয় শক্তিশালী রাজনৈতিক দলকেও সামরিক শাসন–জাত দল হিসেবে কলঙ্কিত করে খেলার পুতুলে পরিণত করা যায় সহজেই।</p><p>এরশাদ যাবতীয় কলাকৌশল ব্যবহার করেও বিরোধীদের বাগে আনতে ব্যর্থ হয়ে শেষ রাজনৈতিক চাল হিসেবে দুটি প্রধান ক্ষমতাকেন্দ্রকে প্রভাবিত করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। ১৯৮৮ সালের ৭ জুনের অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ করার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে ধর্ম-প্রশ্ন চিরস্থায়ীভাবে গেঁথে দেন এবং হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিরোধী রাজনীতির একটা বড় শক্তি আইনজীবী সমাজকেও বাগে আনার উদ্যোগ নেন। এই সংশোধনী পাস হওয়ার দিনেই বিরোধী সব পক্ষ এই সংশোধনীকে নাকচ করে আন্দোলন শুরু করে। কৌশলগত দলবদলের এ রকম মোক্ষম সময়ে এসেই কেবল প্রথমবারের মতো আদালতকে সংবিধান-দলনকারী কোনো শাসকের বিরুদ্ধে কথিত ‘সংবিধানের অভিভাবক’–এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায়। আপিল বিভাগ অষ্টম সংশোধনীর হাইকোর্ট-সংক্রান্ত বিধান অবৈধ ঘোষণা করে। কিন্তু তত দিনে এরশাদের আয়ুরেখা শেষ দিকে, পতন অবশ্যম্ভাবী। </p><p>২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। বিচার বিভাগ পৃথক্করণের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির আংশিক বাস্তবায়নের বিনিময়ে উচ্চ আদালতের নিরঙ্কুশ আনুগত্য অর্জন করে। জরুরি অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট হয়। আদালত সরকারকে ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা দিতে বলে তার দুই বছরের ‘সংস্কার’ প্রকল্পে সহায়তা করেন। </p><p>ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সাংবিধানিক বৈধতা হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয় ১৯৯৮ সালে। ২০০৪ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ও সাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের পর ২০০৫ সালেই আপিল হয়। কিন্তু তার শুনানি হয় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলে—২০১০ সালের ১ মার্চ। সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রধান বিচারপতির আসনে খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১০ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেন। রায় লেখেন এক সপ্তাহ পরে পদত্যাগ করতে যাওয়া প্রধান বিচারপতি, এদিন কেবল সংক্ষিপ্ত রায়ে অবৈধ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে ঘোষণা করেন। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় তাঁর অবসর গ্রহণের ১৬ মাস <br>পর ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। তার আগেই সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণার মাস দেড়েকের মধ্যেই ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলুপ্তিসহ ৫৪টি সংশোধনীসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের জেলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ৫ম ও ৭ম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করার মাধ্যমে ইতিমধ্যে সরকারের আইন ও সংবিধাননিষ্ঠা এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অগণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে ব্যাপক সম্মতি উৎপাদন করে ফেলা হয়। রাজনীতির চরম বিচারিকীকরণের মাধ্যমে দেশে চূড়ান্ত কর্তৃত্ববাদী শাসন সংহত হয়, পরের নির্বাচনগুলো রূপান্তরিত হয় প্রহসনে। সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষার বুলিতে দেশ বিভোর-বিহ্বল হয়ে ওঠে, কিন্তু নাগরিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান উধাও হয়ে যায়। রাজনীতি ও নীতি পরিণত হয় বিচারিক বা আধা বিচারিক বিধিবিধান ও প্রক্রিয়ায়। কিন্তু এ বিষয়ে বিচার বিভাগের ঘুম ভাঙতে একটা অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হয়।</p><p>২০১৬-১৭ সালে এসে বিচার বিভাগ অভূতপূর্বভাবে কর্তৃত্ববাদী রেজিমের অসাংবিধানিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। বিবাদের বিষয় বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে সংসদের হাতে ন্যস্ত করে জারি করা ২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনী। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে এই সংশোধনীকে অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করে। সরকারপক্ষের প্রবল প্রতিক্রিয়া, নিরাপত্তা বাহিনীর হুমকি-ধমকি ও চরম অপমানের মুখে প্রধান বিচারপতি সিনহা চার মাসের মাথায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।</p><p>বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রশ্নে বিচারপতি সিনহার অনমনীয় অবস্থানকে এই নিগ্রহের কারণ হিসেবে পড়া যায়। কিন্তু তাঁর নিজের ভাষ্যেই জানা যায়, কীভাবে ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার ও যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে বিচারব্যবস্থার রাজনীতিকীকরণের বিস্তৃত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তার প্রধান কুশীলবের একজন হয়ে উঠেছিলেন। শেষ পর্যন্ত কেবল চাওয়া-পাওয়ার হিসাবটাই মেলেনি। </p><p><strong>৪</strong></p><p>রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে গণ–অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। কিন্তু সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার ভূত গণ–অভ্যুত্থানকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় বিচারের রাজনীতিকরণ ও রাজনীতির বিচারিকীকরণের পথে। আন্দোলনের মুখে ১০ আগস্ট পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি ছিলেন হাসিনাশাহীর ‘রাজনৈতিক আদালতে’র ঘুঁটি। তাঁদের প্রত্যেককেই আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে, একান্ত দলীয় বিবেচনায়। কিন্তু পদত্যাগ করানোর আগে তাঁদের কাছ থেকেই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের বৈধতা নিতে হয়, যে সরকারের প্রধান ম্যান্ডেটই ছিল সংস্কার বা রাষ্ট্র পুনর্গঠন-প্রক্রিয়ার তদারকি করা। এর মাধ্যমেই রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতিকে পুনরায় আইন-আদালতের কাছে সমর্পণ করা হয়, করা হয় এর বিচারিকীকরণ।</p><p>আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসসহ আদালত প্রাঙ্গণই হয়ে ওঠে সংস্কার–প্রক্রিয়ার প্রধান কেন্দ্র। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহাল, পঞ্চদশ সংশোধনী কিংবা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহালের মাধ্যমে পুরোনো ব্যবস্থাকে প্রয়োজনীয় ঘষামাজা-মেরামত করে অক্ষুণ্ন রাখার যাবতীয় নির্দেশনা আসে আদালতের বরাতে। ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই সনদ, গণভোটের রায় হয়ে ওঠে ফলস লাইন মাত্র। এভাবে গণ–অভ্যুত্থান, নতুন বন্দোবস্ত, সংস্কার আদালত প্রাঙ্গণে গোত্তা খেতে থাকে। অনুমিতভাবেই নির্বাচনী বৈতরণি পার হয়ে নতুন সরকার গঠন করে ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা’। সংস্কারও চলতে থাকে, ‘অক্ষরে অক্ষরে’ পুরোনো ছক মেনে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইন আকারে পাস হয়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগবিধি হয় না। গুম প্রতিরোধ কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ হয় না; হতে থাকে সাইবার সুরক্ষা আইন, র্যাব থেকে এসআরবি ইত্যাদি। কারণ, নব-অঙ্গশোভাপ্রাপ্ত পুরোনো ব্যবস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের দরকার কাঁধে বন্দুক রেখে আরাম হয় এমন নমনীয় বিচার বিভাগ, বৈধতা উৎপাদনের সফেদ কারখানা।</p> <p><strong>* রাশেদ রাহম: </strong>আইনের ইতিহাসবিষয়ক গবেষক</p>
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/trun-pesarder-nahider-updes</figure>
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা যেকোনো দলের সামনেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকত—একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন।
বস্তুত, সংস্কার ব্যর্থ হয়নি; বরং সংস্কার ঠেকানোর প্রকল্প সফল হয়েছে। তাই আসল প্রশ্ন দুটি—কে, কীভাবে সেই সাফল্য নিশ্চিত করল, আর এখন কী করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুথ ফেরত জরিপে দেখা যাচ্ছে অর্থনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
মোটা দাগে বলতে গেলে, আমেরিকানদের মতামত জানানোর পর তিনটি সম্ভাব্য ফলাফল রয়েছে। সেগুলো কী হতে পারে, ফলাফল আসতে শুরু করলে প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী হতে পারে এবং সেদেশের জন্য এর অর্থ কী হতে পারে, তা এখানে তুলে ধরা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনের আগে জনমত জরিপ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অন্যান্য বিষয়ের গভীর বিশ্লেষণ, যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শেষ দুই বছরকে সংজ্ঞায়িত করবে।
২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১২০০ কোটি ডলার হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখছে বিবিসি ভেরিফাই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির ভোটারদের কাছে এবার অর্থনীতিই প্রধান ইস্যু, যারা জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ মূল্য নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সেদেশের অর্থনীতির কী অবস্থা?
বাংলাদেশে মুসলিমদের এমন অনেকেই আছেন, যারা শুধু কবুল পড়ে অথবা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিড করে বিয়ে করেন। আইনজীবী এবং কাজী অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মসজিদে গিয়ে বর-কনে কবুল বলে বিয়ে করলে সেটি রেজিস্ট্রি না করলেও শরীয়তসম্মত। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়ে কী বৈধ?
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ কয়েকদফা দাবিতে গত কয়েকদিনের মতো সোমবারও সকাল থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবারও ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তেসরা নভেম্বর মার্কিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, যে নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, প্রার্থনাসভায় বাধা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তকরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। গত মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তলব করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর গত পাঁচ বছরের শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাসের হার, শিক্ষকসংখ্যা ও শিক্ষা কার্যক্রমের তথ্য চাওয়া হয়েছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে এনসিপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তি’। শ্রমমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তিন দিনের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়াতে কাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’।
এ সেবার দায়িত্ব পেতে প্রতিযোগিতায় রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা।
দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা ও সফল এই অধিনায়ককে ছাড়াই ভবিষ্যৎ রূপরেখা মাথায় রেখে নতুন দল সাজিয়েছেন প্রধান কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। দীর্ঘ দুই দশক পর মেসিকে ছাড়া জাতীয় দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট গণনা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা নিয়ম রয়েছে। কিছু অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিনের আগেই আগাম ভোট গণনার প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার পর এ কাজ শুরু হয়। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রতিটি ভোট যাচাই, প্রক্রিয়াকরণ ও গণনা করেন। এ পুরো প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ক্যানভাসিং’।
ইউরোপিয়ান গ্রেট টিট, কবুতর এবং ম্যাগপাইসহ মোট ৩৭টি প্রজাতির পাখির ওপর এই পর্যবেক্ষণটি চালানো হয়। ফলাফলে দেখা যায়, পাখিরা ভয় পেয়ে উড়ে যাওয়ার আগে নারীদের তুলনায় পুরুষরা তাদের প্রায় এক মিটার বেশি কাছাকাছি যেতে সক্ষম হয়।