‘আমার মনে কষ্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’—ফেসবুকে এমন পোস্ট দেওয়ার জেরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল বারী ওরফে রুবেল চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন দম্পতি। মোটরসাইকেলের পেছনে ছেলেকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন মা।
গতকাল দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে লুলা পেয়েছেন ৫১ শতাংশের বেশি ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ডলারের দাম সামান্য বেড়েছে। বাজারে ডলারের গড় দাম ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা।
<p>বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ১১তম অভিযুক্ত প্রাঞ্জল ঠাকরানকে (২২) ইন্দোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার তাঁকে মুম্বাইয়ের এসপ্ল্যানেড আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।<br> তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ১৮ অক্টোবর টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালানোর পর অভিযুক্তেরা ট্যাক্সিতে মুম্বাইয়ের কান্দিভলি থেকে সুরাটে পৌঁছেছিলেন। সেখানে রেললাইনের কাছে অস্ত্রগুলো ফেলে তাঁরা ট্রেনে দিল্লি চলে যান। এক শুটারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/72x1p4fwvx">বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি, ঘটনাস্থলে আহত ২</a></aside><p><strong>প্রাঞ্জলের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ</strong><br> পুলিশের অভিযোগ, হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা প্রাঞ্জল শুটারদের দেশি পিস্তল সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলার মূল অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং অপরাধের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছিলেন। </p><p>এর আগে জিগানা পিস্তল সরবরাহের অভিযোগে কুণাল সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অস্ত্র সরবরাহের শৃঙ্খল এবং ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এ পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১১ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।<br>বাবা সিদ্দিকি হত্যা ও সালমান খানের বাড়িতে গুলির ঘটনাতেও জিগানা পিস্তল<br>মুম্বাই পুলিশের দাবি, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনাতেও জিগানা পিস্তল ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। ২৫ অক্টোবর সুরাট রেলস্টেশনের কাছে ঝোপ থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল এবং ১০টি অব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর সময় জিগানা পিস্তলটি আটকে গিয়েছিল এবং দুটি কার্তুজ বাইরে পড়ে যায়। শুটারদের ওই পিস্তল চালানোর বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল না বলেও পুলিশের ধারণা। তবে অস্ত্রগুলো ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/9tmecoiz97">গুগলে তারকাদের বাড়ির খোঁজ, নিশানায় সালমান? শঙ্কায় বলিউড</a></aside><p><strong>কী এই জিগানা পিস্তল</strong><br>জিগানা তুরস্কে তৈরি একটি আধা স্বয়ংক্রিয় পিস্তল। ভারতে একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনায় এই অস্ত্রের নাম উঠে এসেছে। একটি ম্যাগাজিন থেকে এই পিস্তলে সর্বোচ্চ ১৫টি গুলি ছোড়া যায়। ভারতে এর দাম আনুমানিক ২ লাখ থেকে ৭ লাখ রুপি। ২০২৩ সালে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে গ্যাংস্টার আতিক আহমেদ ও তাঁর ভাই আশরাফের হত্যাকাণ্ডেও জিগানা পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছিল। বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ড এবং সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনাতেও এই পিস্তল ব্যবহারের কথা সামনে এসেছিল। টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহের পুরো শৃঙ্খল এবং অভিযুক্তদের পারস্পরিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।</p><p><strong>হাসপাতালে রাত কাটাতেন প্রাঞ্জল</strong><br>পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে প্রাঞ্জল বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। হোটেলে না থেকে তিনি ইন্দোরের একটি হাসপাতালে রাত কাটাতেন। সেখানে তাঁর ভাইয়ের চিকিৎসা চলছিল। হোটেলে থাকলে পুলিশ সহজেই তাঁর কাছে পৌঁছে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি এই পন্থা অবলম্বন করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2023-10/b631da29-44f7-428e-8928-23ad78877cf4/Untitl42ed.png"><figcaption>‘টাইগার থ্রি’–এর সিনেমায় সালমান। ভিডিও থেকে </figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/entertainment/bollywood/iib9zn7od9">সালমানের বাসায় গুলি: আনমোল বিষ্ণোইকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন পুলিশ</a></aside><p><strong>প্রাঞ্জল সম্পর্কে আরও যা জানা গেছে</strong><br>পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রকৌশলী নিয়ে পড়াশোনা করা প্রাঞ্জল প্রায় পাঁচ দিন আগে সোনিপত থেকে ইন্দোরে এসেছিলেন তাঁর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য। সোনিপতের যে হাসপাতালে তাঁর ভাই ভর্তি ছিলেন, সেখান থেকে তাঁকে ইন্দোরের মালওয়া মিল চৌরাস্তার কাছে অঙ্কুর স্টেপ-ডাউন সেন্টারে রোবোটিক অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছিল।<br>মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা আগেই প্রাঞ্জলের খোঁজ করছিল। তিনি সোনিপত ছেড়ে ইন্দোরে চলে যাওয়ায় মুম্বাই পুলিশ তাঁর অবস্থান জানতে পারে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইন্দোর পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুম্বাই পুলিশ। এরপর দুই দলের সমন্বয়ে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার প্রায় চারজন কর্মকর্তা এবং ইন্দোর পুলিশের আটজন সদস্য অংশ নেন। ইন্দোর পুলিশের অপরাধ দমন শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার রাজেশ দণ্ডোতিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, মুম্বাইয়ে গুলি চালানোর ঘটনায় প্রাঞ্জলের সন্দেহজনক ভূমিকার বিষয়ে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা ইন্দোর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। </p><p>মূল অভিযুক্ত অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং জিগানা পিস্তল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে প্রাঞ্জলের বিরুদ্ধে। গতকাল এসপ্ল্যানেড বা কিলা আদালত তাঁকে ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠান। অন্য অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং কথিত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।</p><p><strong>গুলি চালানোর ১৫ দিন আগে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও</strong><br>পুলিশের দাবি, ১৮ অক্টোবর টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর প্রায় ১৫ দিন আগে প্রাঞ্জল ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে তাঁর গলায় বুলেট ঝোলানো ছিল এবং হাতে ছিল একটি পিস্তল। নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অনুরাগী বলে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে কথাবার্তা বলতেও দেখা গিয়েছিল। নিজেকে হিন্দু কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সভাপতি বলেও পরিচয় দিতেন তিনি।<br>এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চে পানিপথের একটি মুদ্রা বিনিময় দপ্তরে গুলি চালানোর ঘটনাতেও প্রাঞ্জলের নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। এই সব দিক খতিয়ে দেখে মামলার বিভিন্ন সূত্রের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মুম্বাই পুলিশ।</p>
<p>বাংলাদেশের জন্মলগ্নে যাঁদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে, তাঁরা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের সেই ভয়াল দিনগুলোয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বর্বরতা ও হত্যাযজ্ঞের মধ্যে স্বাধীনতার লড়াই শুরু করেছিলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁদের অনেকের হাতে প্রশিক্ষণ ছিল না, ছিল না আধুনিক অস্ত্র। ছিল শুধু বুকভরা সাহস আর একটি স্বাধীন দেশের স্বপ্ন। সেই সাহসকেই একমাত্র অস্ত্র করে তাঁরা যুদ্ধে নেমেছিলেন। মানিক পশারী ছিলেন এমন মুক্তিযোদ্ধাদেরই একজন।</p><p>৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, লাখো শহীদের আত্মত্যাগ আর অগণিত মানুষের সীমাহীন কষ্টের বিনিময়ে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। এই দেশের পতাকা, মানচিত্র, আমাদের আত্মপরিচয়, সবকিছুর পেছনে আছে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাম, রক্ত আর তাঁদের শহীদ সহযোদ্ধাদের আত্মদান।</p><p>অথচ সেই মানিক পশারীকে শেষযাত্রায় যে অসম্মানের মুখোমুখি হতে হলো, তা খুবই লজ্জাজনক। একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যে ছবি আমরা দেখলাম, তা নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।</p><p>গণমাধ্যমের খবর বলছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গোপালগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই ২৪ অক্টোবর তিনি মারা যান। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনারের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাধায় তা হতে পারেনি। পরে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে গার্ড অব অনার দেওয়ার কাজটি সারা হয়। প্রতিবেদন বলছে, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে প্রায় ১৫ ঘণ্টা তাঁর দাফন আটকে থাকে। শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতে, পুলিশ পাহারায়, রাতের আঁধারে তাঁকে কবর দিতে হয় (প্রথম আলো, ২৫ অক্টোবর ২০২৬)।</p><blockquote>মানিক পশারীর কবর খুঁড়তে তাঁর মেয়ে ও বোনদের বাধ্য হওয়ার দায় আমাদের নিজেদের কাঁধেও পড়ে। একটি সমাজ কতটা সুস্থ, তা বোঝা যায় সে তার দুর্বল ও প্রয়াত মানুষদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, তা দেখে। মানিক পশারীর ঘটনা আমাদের সেই আয়নার সামনে দাঁড় করিয়েছে, আর সেই আয়নায় যে ছবি ফুটে উঠছে, তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।</blockquote><p>আমাদের সমাজে সাধারণত কবর খোঁড়ার কাজ করেন পুরুষেরা, বিশেষ করে প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়স্বজন। সবচেয়ে মর্মস্পর্শী বিষয়টি হলো, এই বীর মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে হয়েছে তাঁর মেয়ে ও বোনকে। বাংলাদেশের সমাজে এমন দৃশ্য বিরল।</p><p>একবার দৃশ্যটি ভাবুন। একজন মানুষ, যিনি একদিন এই দেশের জন্য জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাঁর নিথর দেহ পড়ে আছে, অথচ পাড়া-প্রতিবেশী কেউ জানাজা-দাফনে এগিয়ে আসছেন না। কী অদ্ভুত প্রতিদান আমরা মানিক পশারীকে দিলাম!</p><p>খবর বলছে, মানিক পশারী একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী ছিলেন। এই সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এখন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী । ফলে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর প্রতি যেভাবে প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখিয়েছেন, তাকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/gzxde238/manikposarihome.jpg"><figcaption>বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী</figcaption></figure><p>এই ঘটনা আমাদের বেশ কয়েকটি প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। যে রাষ্ট্র একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিয়ে সম্মান জানায়, সেই রাষ্ট্র কেন তাঁর মর্যাদাপূর্ণ দাফন নিশ্চিত করতে ১৫ ঘণ্টা সময় নিল? কেন দিনের আলোয় নয়, রাতের আঁধারে লুকিয়ে কবর দিতে হলো? একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কি মুক্তিযুদ্ধ করে অপরাধ করেছেন যে তাঁকে লোকচক্ষুর আড়ালে কবর দিতে হবে? পুলিশ পাহারা ছাড়া যদি একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনই সম্ভব না হয়, তাহলে এই দেশ যে মূলনীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা-ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।</p><p>রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, গণতন্ত্রে তা স্বাভাবিক। কিন্তু মৃত্যুর পরও কি বিরোধ থামবে না? একজন মানুষের কবর দেওয়া নিয়েও কি রাজনীতি করতে হবে? মৃত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁর দাফনে বাধা না দেওয়া, এগুলো তো আমাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও মানবিকতার সবচেয়ে মৌলিক শিক্ষা। </p><p>তাহলে যাঁরা কথায় কথায় ধর্মের কথা বলেন, রাজনীতির মাঠে ধর্মকে টেনে আনেন, সেই দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা কোথায়?</p><p>একাত্তরে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা যে অপরাধ করেছিলেন, সেই অপরাধে তাঁদের অনেকের বিচার ও শাস্তি হয়েছে। এই বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। কিন্তু এই বিষয়কে ঘিরে দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যে অবস্থান নিলেন, তাতে প্রশ্ন জাগে, দলটি কি আজও একাত্তরের বিরোধী অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে?</p><p>এ ঘটনা ইঙ্গিত দেয়, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মের নেতা-কর্মীদের একটি অংশও পূর্বসূরিদের উত্তরাধিকারই বয়ে বেড়াচ্ছেন, অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত নন। যাঁদের বিরুদ্ধে এই বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের দলের দায়িত্বশীল নেতৃত্বের উচিত ছিল বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। </p><p>জামায়াতে ইসলামী যদি সত্যিই একাত্তরের কলঙ্কিত অবস্থান থেকে নিজেদের সংশোধন করত, তাহলে আজ মানিক পশারীর জানাজায় নিজেরাই শরিক হতে পারত। কিন্তু সেই পরিচয় তারা দিতে পারেনি। বরং এমন আচরণ দলটির পুরোনো ক্ষতকেই আবার সামনে আনছে, আর তাতে শেষ পর্যন্ত দলটি নিজেরই ক্ষতি করছে।</p><p>মানিক পশারীর কবর খুঁড়তে তাঁর মেয়ে ও বোনদের বাধ্য হওয়ার দায় আমাদের নিজেদের কাঁধেও পড়ে। একটি সমাজ কতটা সুস্থ, তা বোঝা যায় সে তার দুর্বল ও প্রয়াত মানুষদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে, তা দেখে। মানিক পশারীর ঘটনা আমাদের সেই আয়নার সামনে দাঁড় করিয়েছে, আর সেই আয়নায় যে ছবি ফুটে উঠছে, তা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।</p><p>স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে এসে আমরা উন্নয়নের কথা বলি, অগ্রগতির কথা বলি। কিন্তু যে চেতনার ওপর বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, সেই চেতনার ধারকদের যদি শেষবিদায়ে এমন অবমাননা সইতে হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের ভিত কতটা মজবুত, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। মুক্তিযোদ্ধারা আজ বয়সের ভারে ন্যুব্জ, প্রতিদিন তাঁদের সংখ্যা কমছে। আর কিছু বছর পর হয়তো একজন জীবিত মুক্তিযোদ্ধাও থাকবেন না। তাঁরা চলে যাওয়ার আগে অন্তত এটুকু নিশ্চয়তা কি আমরা দিতে পারি না যে মৃত্যুর পর তাঁরা নিজের মাটিতে সম্মানের সঙ্গে শায়িত হতে পারবেন?</p><p>কবরে আগুন দেওয়া, কবর থেকে লাশ তুলে ফেলা কিংবা কাউকে কবর দিতে না দেওয়া যে সমাজে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, সেই সমাজ টিকিয়ে রাখা কঠিন। এমন অমানবিক রাষ্ট্র নিশ্চয়ই আমরা কেউ চাই না।</p><p>মুক্তিযুদ্ধে মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে? যেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে পুলিশ পাহারা লাগে, যেখানে তাঁর মেয়েকে নিজ হাতে বাবার কবর খুঁড়তে হয়, সেটি কি সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সবাইকে খুঁজতে হবে, বিশেষ করে রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোকে। নইলে ইতিহাস একদিন আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না।</p><ul><li><p><strong>ড. নাদিম মাহমুদ</strong>, গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ই-মেইল: nadim.ru@gmail.com<br>মতামত লেখকের নিজস্ব</p></li></ul>
মানুষ যখন দেখে, সৎভাবে ব্যবসা করতে গিয়েও কোনোমতে দিন পার করছে, অথচ যারা ধর্মীয় বিধানের তোয়াক্কাই করে না, তারাই সফল সফল হচ্ছে—তখন হতাশা আসে।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ব্যক্তিদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”