ফ্যাশন

কেমন ছিল ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ’

অক্টোবর ৯, ২০২৬
কেমন ছিল ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ’
কেমন ছিল ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ’
রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে ৬ ও ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো ‘ডিজাইন ইন বাংলাদেশ সপ্তাহ ২০২৬’। এ আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে রইল বিস্তারিত...

Prothomalo

View more
এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থীর প্রকল্প
এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থীর প্রকল্প

বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থীর তৈরি ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন কোপাইলট’ প্রকল্প এরই মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ‘এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’–এর চূড়ান্ত পর্বে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের পর উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ
চাঁদা না দেওয়ায় মারধরের পর উল্টো চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ

<p>রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন মালিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের একজন ইয়াকুব আলীর অভিযোগ, প্রতিদিন একটি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ জন মিলে তাঁকে মারধর করেছে। পরে তাঁকে চাঁদাবাজ সাজিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মুক্তি পেয়ে হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।</p><p> আজ শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলী। তিনি বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি। হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানান তিনি।</p><p>ইয়াকুব আলী বলেন, গত ৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর লেগুনার চালক গাড়িতে সমস্যার কথা জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রতি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বলেন। এতে আপত্তি জানালে তাঁকেসহ নজরুল ইসলাম ও বাবুল নামের আরও দুজন লেগুনার মালিককে মারধর করেন চাঁদা দাবিকারীরা। একপর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাঁদের গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরায় আগ্নেয়াস্ত্র বের করার দৃশ্য দেখা গেছে।</p><p>নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে ইয়াকুব আলী বলেন, মারধরের পর তাঁকেই চাঁদাবাজ সাজিয়ে দারুস সালাম থানা–পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। কিন্তু চাঁদাবাজির অভিযোগের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি হামলার ঘটনায় দারুস সালাম থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও গ্রহণ করা হয়নি। পরে তিনি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।</p><p>অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মারধরের সময় ইয়াকুব আলীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। জামিনের পর থানায় অভিযোগ দিতে আসেন। তাঁর অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই বলে অভিযোগ নেওয়া হয়নি।’</p><p>পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন ইয়াকুব আলী। সেটা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান ওসি।</p><h3>বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ </h3><p>লেগুনা মালিক–শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ, ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠী মিরপুর–১ এলাকার পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁদের অভিযোগ, স্ট্যান্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে এবং চাঁদা দিতে মালিকদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। মাসে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, কানা পলাশ, রাসেল, শামীম, মজিবর রহমানসহ ৬০ থেকে ৭০ জন এই কাজের সঙ্গে জড়িত।</p><p>নিজেকে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতা। তাঁদের মধ্যে সোলেমান দেওয়ান শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, মহব্বত আলী দারুস সালাম থানা শ্রমিক দলের বর্তমান সদস্যসচিব এবং মাভেল ভূঁইয়া শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের সাবেক আহ্বায়ক। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।</p><p>সাইদুর রহমানের অভিযোগ, লেগুনা স্ট্যান্ডের পাশাপাশি মিরপুর-১-এর কাঁচাবাজার, ফুটপাত, ভ্যানগাড়ি রাখার জায়গা এবং বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবসা থেকেও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।</p><p>সাইদুর রহমান আরও বলেন, ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ডে অবস্থান করে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁরা আক্রমণ করেন। এ কারণে সাধারণ মালিকেরা সেখানে যেতে পারছে না। তারা সরকার ও প্রশাসনের সহায়তা চান।</p><p>অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোলেমান দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের ঘটনায় তিনি জড়িত নন। রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় বিতর্কিত হয়ে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। তিনি কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।</p><p>এ বিষয়ে এস এ সিদ্দিক সাজু প্রথম আলোকে বলেন, লেগুনাশ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে মারামারি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাঁরা কেউ সম্পৃক্ত নন বলেও জেনেছেন। তিনি যেহেতু রাজনীতি করেন, তাঁর অনুসারী থাকতেই পারে। তবে কেউ লেগুনা ব্যবসা বা ওই ঘটনায় জড়িত নন।</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
একটি বড় দলের সাধারণ সম্পাদকের ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে: ডিএনসিসি প্রশাসক
একটি বড় দলের সাধারণ সম্পাদকের ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

<p>একটি বড় দলের সাধারণ সম্পাদকের ৭০০ অটোরিকশা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। ৯ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে ‘লেটস রিমেক জুলাই গ্রাফিতি’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিস্তারিত ভিডিওতে... </p><figure></figure>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
একঝলক (৯ অক্টোবর ২০২৬)
একঝলক (৯ অক্টোবর ২০২৬)

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/mpxdx0cu/1.BarishalDH049620261009BarishalPhoto-12.jpg"><figcaption>নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। তাই অবসর সময়ে সড়কের পাশে বসে জেলেরা ছিঁড়ে যাওয়া জাল মেরামত করে নিচ্ছেন। চরআইচা, শায়েস্তাবাদ, বরিশাল, ৯ অক্টোবর। ছবি: সাইয়ান</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/l6aw1n68/2.BoguraDH049320261009IMG-20261009-WA0017.jpg"><figcaption>ফসলের খেতে পাখি তাড়াতে বসানো হয়েছে কাকতাড়ুয়া। মালিপাড়া গ্রাম এলাকা, শাজাহানপুর, বগুড়া, ৯ অক্টোবর। ছবি: সোয়েল রানা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/k952alxa/3.BoguraDH049320261009IMG-20261009-WA0028.jpg"><figcaption>খালের পানি কমে গেছে। জাল ফেলানোর তাড়া নেই মাছশিকারিদের। কালুডাঙ্গা গ্রাম, গাবতলী, বগুড়া, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/g2dkp6gu/4.CumillaDH051520261009Daudkandi-9-10-26-C-11-2.jpg"><figcaption>নিজ প্রতিষ্ঠান নিউ টুম্পা যন্ত্রসংগীতের দোকানে বসে ঢোল তৈরি করছেন শ্যামল চন্দ্র দাস। ইলিয়টগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, দাউদকান্দি, কুমিল্লা, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/1birg7ag/5.SirajgonjDH128820261009IMG20261009121358.jpg"><figcaption>কৃষকের পাটখেতে ফুটেছে মেস্তা বা কেনাফ পাটগাছের ফুল। চৌবাড়ী, কামারখন্দ, সিরাজগঞ্জ, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/gahnd8dc/6.KhulnaDH063020261009Khulna-Kashbon-7.JPG"><figcaption>বালুর মাঠে জন্মানো কাশবন কেটে কাশ সংগ্রহ করছেন পানচাষিরা। এগুলো দিয়ে পানের বরজের ছাউনি তৈরি করা হবে। শিরোমণি, খুলনা, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/syimvh4k/7.RajbariDH054420261009Rajbari-07.10.2026-Photo-11.jpg"><figcaption>রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গত মঙ্গলবার বিকেলে ২২ কেজি ওজনের এ বাগাড়টি ২৮ হাজার ৬০০ টাকায় কিনে ৩০ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সোহেল মোল্লা। দৌলতদিয়া, রাজবাড়ী, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/08im7wo1/8.RangamatiDH04882026100911.jpg"><figcaption>পাহাড়ি কিষানি। ঝুড়ি আর দা নিয়ে কাজ করতে গন্তব্যে ছুটেছেন। রাঙাপানি গ্রাম, রাঙামাটি, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/ur0zqb4q/9.SylhetDH048620261009Sylhet-Sports-Pic-11.JPG"><figcaption>প্রথম আলো–স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্টের সিলেট পর্বের দ্বিতীয় দিনের আঞ্চলিক সেমিফাইনাল খেলা। মাঠে লড়ছে সিটি তৃণমূল ফুটবল একাডেমি সিলেট ও রাগীব-রাবেয়া বাংলাদেশ স্পোর্টস একাডেমি। সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, সিলেট, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/6qev6ypp/10.SirajgonjDH061020261009IMG20261009082727.jpg"><figcaption>প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে অনুশীলনে ব্যস্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী প্রমীলা ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়েরা। নিমগাছী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ৯ অক্টোবর</figcaption></figure>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
শৈশবে ৫টি ডোজ নেওয়ার পরও কেন আবার ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়া লাগে
শৈশবে ৫টি ডোজ নেওয়ার পরও কেন আবার ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়া লাগে

<p>অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশেও হঠাৎ ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাসের পর বিশ্বব্যাপী টিকাদানের হার কিছুটা কমে যাওয়া, টিকার কার্যকারিতা দীর্ঘ মেয়াদে হ্রাস পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আধিক্যই এই প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ার নতুন কিছু স্ট্রেইনের বিস্তারও এর পেছনে দায়ী হতে পারে।</p><p>বাংলাদেশের জন্য ডিপথেরিয়া কোনো নতুন রোগ নয়। ২০১৭–১৮ সালের দিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই রোগের একটি বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, যা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে অনেকেরই, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের বুস্টার ডোজ না নেওয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে এসেছে। ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হওয়ায় আমাদের এখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সব সময়ই বেশি থাকে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/mxsuxy9j6r">টিকা কি আসলে হৃদ্‌রোগীদের সুরক্ষা দিতে পারে?</a></aside><h3>ডিপথেরিয়া কতটা মারাত্মক?</h3><p>কোরিনেব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরিয়া নামক ব্যাকটেরিয়াজনিত অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী একটি রোগ ডিপথেরিয়া। এটি প্রধানত নাক ও গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে আক্রমণ করে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, আক্রান্ত ব্যক্তির গলায় ধূসর রঙের একটি শক্ত আস্তরণ বা সিউডোমেমব্রেন তৈরি হয়, যা শ্বাসনালি বন্ধ করে শ্বাসরোধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়ার নিঃসৃত টক্সিন বা বিষ রক্তে মিশে হৃৎপিণ্ড, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এই রোগে মৃত্যু ঘটে।</p><h3>সুরক্ষিত থাকার উপায়</h3><p>এই মারাত্মক রোগ থেকে বাঁচতে আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় পর্যায়ে সচেতন হতে হবে।<br><strong>১. টিকাদান নিশ্চিত করা:</strong> ডিপথেরিয়া প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো টিকা। শিশুদের ‘পেন্টাভ্যালেন্ট’ টিকার মাধ্যমে এর সুরক্ষা দেওয়া হয়। তবে মনে রাখা জরুরি, শৈশবের টিকার মেয়াদ আজীবন থাকে না। তাই শৈশবের পাঁচটি ডোজ সম্পন্ন করার পর, ১১–১২ বছর বয়সে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ১০ বছর পরপর টিডি বা টিড্যাপ বুস্টার ডোজ নেওয়া উচিত।<br><strong>২. সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি:</strong> হাঁচি–কাশির সময় রুমাল ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।<br><strong>৩. দ্রুত চিকিৎসা:</strong> তীব্র গলাব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা গলায় ধূসর আস্তরণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।<br>সচেতনতা ও সঠিক সময়ে টিকাদানই পারে আমাদের এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে মুক্ত রাখতে।</p><p><strong><sup>ডা. কাকলী হালদার, </sup></strong><sup>মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/4mkqqcvooq">শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে সার্ফার ফাতেমার লড়াইয়ের যেসব গল্প শুনেছি</a></aside>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে মোদি সরকার কি চাপে?
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে মোদি সরকার কি চাপে?

<p>ভোট জালিয়াতির অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ করছে ককরোচ জনতা পার্টি। এবার কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠির আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা মোদি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
‘ছেলে হারানোর শোক বুকে চেপে মেয়ের সাফল্য উদ্‌যাপনে এসেছি’
‘ছেলে হারানোর শোক বুকে চেপে মেয়ের সাফল্য উদ্‌যাপনে এসেছি’

প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত হচ্ছে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
মা হওয়ার পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, অবশেষে মুখ খুললেন ক্যাটরিনা
মা হওয়ার পর শরীর নিয়ে কটাক্ষ, অবশেষে মুখ খুললেন ক্যাটরিনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের নানা মন্তব্য যেন নিজের সম্পর্কে ধারণা কিংবা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন ক্যাটরিনা।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, কৌতুক করে বললেন নাভি পিল্লাই
নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, কৌতুক করে বললেন নাভি পিল্লাই

নাভি পিল্লাই কৌতুক করে বলেন, ‘এটি নিশ্চয়ই একটি কৌতুক!...আপনাদের এই করতালি আমার কাছে অনেক মূল্যবান। আমি বিষয়টি যাচাই করে নিতে চাই।’

অক্টোবর ৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন