রাজনীতি

জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত: শফিকুর রহমান

অক্টোবর ২০, ২০২৬
জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত: শফিকুর রহমান
জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত: শফিকুর রহমান
<p>পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।</p><p>মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত।</p><p>ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’</p><p>পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তরুণদের জাগার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’</p><p><strong>বিভাগীয় তদন্তের দাবি</strong></p><p>এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে একই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।</p><p>বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধের যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।</p><p>এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।</p>

Prothomalo

View more
ভারতে জয়শঙ্কর-রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
ভারতে জয়শঙ্কর-রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

মুম্বাইয়ে জয়শঙ্কর ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বৈঠকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ছাড়াও আমিরাতকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় অংশীদারত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার তরুণের মা বললেন, ‘ছেলেকে ফাঁদে ফেলে এই কাজ করানো হয়েছে’
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার তরুণের মা বললেন, ‘ছেলেকে ফাঁদে ফেলে এই কাজ করানো হয়েছে’

সাংবাদিকদের কাছে গ্রেপ্তার একজনের মা দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে এই নোংরা কাজের ফাঁদে ফেলা হয়েছে।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের মিলনমেলা
জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাংবাদিকদের মিলনমেলা

বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালকে দাফন
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী সাঈদা কামালকে দাফন

এ সময় সাঈদা কামালের বড় বোন মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, সাঈদা কামালের মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অক্টোবর ২১, ২০২৬
কুমিল্লায় আকিজ সিরামিকস ও অরার নতুন শোরুম
কুমিল্লায় আকিজ সিরামিকস ও অরার নতুন শোরুম

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/zj4ad0d6/Akij-CeramicsCumilla%E0%A7%A6%E0%A7%A7.jpg"><figcaption>আকিজ সিরামিকস কুমিল্লার হোমনায় নতুন শোরুম উদ্বোধন করেছে</figcaption></figure><p>বাংলাদেশের সিরামিক টাইলসশিল্পের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড আকিজ সিরামিকস কুমিল্লার হোমনায় এবং সুপরিচিত ব্র্যান্ড ‘অরা’ কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জে দুটি নতুন শোরুম উদ্বোধন করেছে।</p><p>গত রোববার  হোমনায় আকিজ সিরামিকসের সিদ্দিক অ্যান্ড সন্স এবং কোম্পানীগঞ্জে অরার ফুয়াদ এন্টারপ্রাইজ শোরুমের উদ্বোধন করা হয়।</p><p>আকিজ সিরামিকসের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আশরাফুল হক শোরুমগুলো উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিদ্দিক অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী মো. জামাল হোসেন, ফুয়াদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবদুল্লাহ আল মারুফ এবং আকিজ সিরামিকসের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/brvwquto/Akij-Ceramicsshowroom%E0%A7%A8.jpg"><figcaption>কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জে ‘অরা’ নতুন শোরুম উদ্বোধন করেছে</figcaption></figure><p>শোরুম দুটি সাজানো হয়েছে আধুনিক ডিজাইনের টাইলস ও নতুন সব পণ্য দিয়ে। বর্তমানে আকিজ সিরামিকস সারা দেশে ৩০০টির বেশি ‘স্টেট অব দ্য আর্ট’ লেভেলের নিজস্ব ও পার্টনার শোরুম পরিচালনার মাধ্যমে সর্বোচ্চ মানের গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করছে।</p><p>পরপর সাতবার ‘বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড’ এবং দুবার ‘সুপারব্র্যান্ডস অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া টাইলস ব্র্যান্ড আকিজ সিরামিকস ‘প্রমিজ অব পারফেকশন’–এর অঙ্গীকারে নতুনত্ব ও গুণগত মান বজায় রেখে বাজারে সেরা মানের এবং সেরা ডিজাইনের টাইলস সরবরাহ করে আসছে।</p>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
মাদক পার্টি: সরানো হলো অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে
মাদক পার্টি: সরানো হলো অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে

মাদক পার্টি: সরানো হলো অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে

অক্টোবর ২১, ২০২৬
শরীয়তপুরে হোটেল থেকে শিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ
শরীয়তপুরে হোটেল থেকে শিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ

<p>শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার (৩৯) নামের এক স্কুলশিক্ষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর তাঁর পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।</p><p>মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা একটার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির ব্যবস্থাপক মামুন পলাতক।</p><p>নিহত আবুল বাশার গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত জনাব আলী তালুকদার।</p><p>পরিবারের সদস্যরা জানান, আবুল বাশারের পূর্বপুরুষদের বসতি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায়। ছুটিতে মাঝেমধ্যে সেখানে বেড়াতে আসতেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার সকালে শরীয়তপুরের উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার।</p><p>পরিবারের ভাষ্য, রোববার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি স্ত্রীকে জানান, নাঈম নামের এক বন্ধুর বাসায় রাতের খাবার খাচ্ছেন এবং সেখানেই থাকবেন। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। সোমবার সকাল থেকে তাঁর স্ত্রী একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি সাড়া দেননি।</p><p>পরে ওই দিন বেলা তিনটার দিকে আবুল বাশারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোনে কল আসে। অপর প্রান্তের এক ব্যক্তি বলেন, আবুল বাশার আহত হয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসার জন্য দুই হাজার টাকা প্রয়োজন। টাকা পাঠানোর নম্বর চাইলে ওই ব্যক্তি কোনো নম্বর দেননি। কিছুক্ষণ পর আবুল বাশারের রক্তাক্ত একটি ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার।</p><p>এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে জানতে পারে, আবুল বাশার শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আশপাশে রয়েছেন। পরে রাতে পরিবারের সদস্যরা শরীয়তপুরে এসে ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ তাঁদের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের মরদেহ উদ্ধার করে।</p><p>আবুল বাশারের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, আবুল বাশার শরীয়তপুরে বেড়াতে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর কয়েক দফায় তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ থেকে কল করে কে বা কারা টাকা দাবি করে। পরে বিষয়টি থানায় জানালে তারা অবস্থান শনাক্ত করে জানায়, আবুল বাশার ভেদরগঞ্জে আছেন। পরে ভেদরগঞ্জ থানা-পুলিশের সহযোগিতায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।</p><p>নিহত ব্যক্তির ভাগনে মো. কবির হোসেন খান বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, মামাকে অপহরণ করে টাকার জন্য হত্যা করা হয়েছে। যারা তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, আমরা তাদের বিচার চাই।’</p><p>শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) সামছুল আরেফিন বলেন, আবাসিক হোটেল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে নাকে-মুখে রক্ত আছে এবং দৃশ্যমান কোনো ছুরিকাঘাত বা শ্বাসরোধ—এ রকম কোনো বিষয় পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p><p>পুলিশ কর্মকর্তা সামছুল আরেফিন আরও বলেন, আবুল বাশারের যাওয়ার কথা ছিল নড়িয়ায়। তিনি কেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করে ভেদরগঞ্জ এসেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।</p>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
এএসিওবিবির নতুন নির্বাহী কমিটি
এএসিওবিবির নতুন নির্বাহী কমিটি

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/vh66cw3w/AACOBB.jpg"><figcaption>ঢাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সর্বসম্মতিক্রমে এএসিওবিবির নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়</figcaption></figure><p>অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার্স অব ব্যাংকস ইন বাংলাদেশের (এএসিওবিবি) ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।</p><p>সম্প্রতি সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্যামেলকো মাহিয়া জুনেদকে চেয়ারপারসন এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্যামেলকো ফারুক আহাম্মদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে। এর আগে গত আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সর্বসম্মতিক্রমে বিভিন্ন ব্যাংকের ১৫ জন ক্যামেলকোকে নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।</p><p>কমিটিতে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিএমডি ও ক্যামেলকো রইস উদ্দিন আহমদ কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি ও ক্যামেলকো চৌধুরী মঈনুল ইসলাম এবং অগ্রণী ব্যাংকের জিএম ও ক্যামেলকো সুপ্রভা সাঈদ যথাক্রমে প্রথম সহসভাপতি ও দ্বিতীয় সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।</p><p>এ ছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিএমডি ও ক্যামেলকো মাহমুদুন নবী চৌধুরী এবং সিটি ব্যাংক এনএর ক্যামেলকো মো. সাইফুল হাসান যথাক্রমে প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ও দ্বিতীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।</p><p>নির্বাহী কমিটির অবশিষ্ট আটজন সদস্য হিসেবে এইচএসবিসি, ব্যাংক এশিয়া, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক এবং কমিউনিটি ব্যাংকের ক্যামেলকোরা নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ক্যামেলকো হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ পাচার রোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নিয়োজিত প্রধান কর্মকর্তা।</p>

অক্টোবর ২১, ২০২৬
৯ বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান, টিকিট কেটে ঢুকতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের
৯ বছর পর খুলল ওসমানী উদ্যান, টিকিট কেটে ঢুকতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের

<p>উন্নয়নের নামে ৯ বছর বন্ধ রাখার পর অবশেষে খুলেছে ওসমানী উদ্যান। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্যানটি উদ্বোধন করেন। এরপর আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে উদ্যানটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্যানে সাধারণ জনগণের প্রবেশের ক্ষেত্রে জনপ্রতি ১০ টাকা ফি নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দীর্ঘদিন পর উদ্যানটি খুললেও প্রবেশমূল্য নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন দর্শনার্থীদের কেউ কেউ।</p><p>স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা বলছেন, উদ্যানটির উন্নয়নকাজ করতে গিয়ে ৯ বছর নগরবাসীকে উদ্যান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এখন আবার প্রবেশের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/fuynriyw/2.JPG"><figcaption>ওসমানী উদ্যানে হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে। গুলিস্তান, ঢাকা। ২০ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ফেসবুকে উদ্যানটি খুলে দেওয়ার খবর দেখে সকালে সন্তানকে নিয়ে ওসমানী উদ্যানে ঘুরতে আসেন রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন। ফটকে প্রবেশের সময় তাঁকে টিকিট কিনতে বলায় বিস্মিত হন তিনি। রাবেয়া খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফেসবুকে দেখলাম, পার্কটি খুলে দেওয়া হয়েছে। বাচ্চা নিয়ে পার্কে এলাম। গেটেই দুজন থামিয়ে হাতে টিকিট ধরিয়ে দিয়ে বলেন, দুজনের জন্য ২০ টাকা দেন। এত বছর বন্ধ রাখার পর চালু হলো, কিন্তু ঢুকতে আবার টাকা দিতে হবে—এটা কেমন নিয়ম?’</p><p>উদ্যানের ফটকে যাঁরা টিকিট দিয়ে টাকা রাখছেন, তাঁদের একজন মোহাম্মদ হানিফ। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পার্কে উন্নয়ন করতে গিয়ে এত টাকা খরচ হয়েছে। টাকা না দিলে এই টাকা সরকার ওঠাবে কীভাবে? সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আমরা দায়িত্ব পালন করছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/t0ocnoez/4.JPG"><figcaption>সংস্কারকাজ শেষ করে উদ্যান চালু করা হলেও ভেতরের জলাশয়ে আবর্জনা ও শেওলা জমে থাকতে দেখা যায়। পানির ওপর ভাসছে প্লাস্টিক বর্জ্য। গুলিস্তান, ঢাকা। ২০ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>ওসমানী উদ্যানের অবস্থান রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাঝখানে। আয়তন ২১ দশমিক ৮৫ একর। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর নামে উদ্যানটির নামকরণ করা হয়। অনেকে ওসমানী উদ্যানকে ঢাকার ফুসফুসও বলে থাকেন।</p><p>রাজধানী ঢাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে খেলার মাঠ ও ফাঁকা জায়গা কম। হাঁটাচলা ও বিশ্রামের জন্য নগরবাসীর জন্য রাজধানীতে কয়েকটি পার্ক রয়েছে। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক অন্যতম। বড় এই পার্ক দুটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। ওসমানী উদ্যান বন্ধ হওয়ার আগেও কোনো প্রবেশ ফি নেওয়া হতো না। তবে সংস্কার ও উন্নয়নকাজের পর এখন প্রবেশের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া হচ্ছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/2s8msmry/5.JPG"><figcaption>জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ওসমানী উদ্যানের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। ব্রোঞ্জ ধাতুর ওপর খোদাই করা হয়েছে শহীদদের নাম। গুলিস্তান, ঢাকা। ২০ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>উদ্যানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফি নেওয়া জনগণকে পার্কে আসার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা জনগণের সঙ্গে প্রহসন। পার্ক, খেলার মাঠ ইত্যাদি জনস্বাস্থ্যবিষয়ক অবকাঠামো নির্মাণ করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। সেখানে জনগণের কাছ থেকে ফি নেওয়া অন্যায্য। যাঁরা রেগুলার (নিয়মিত) পার্কে হাঁটাচলা করতে যান, ফি নেওয়া হলে তাঁরা নিয়মিত যাবেন না। সে ক্ষেত্রে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, পার্কে প্রবেশের ফি নির্ধারণ না করে সরকারের উচিত, কেন একটি উদ্যানে অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে টাকা অপচয় করা হলো, কেন কংক্রিট দিয়ে পার্কের চরিত্র নষ্ট করা হলো—তার তদন্ত করা।</p><p>আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে উদ্যানে ঘুরে দেখা গেছে, উদ্যানের মধ্যে থাকা দুটি জলাশয়ের একটিতে কোনো পানি নেই। আর দুই নম্বর জলাশয়ে পানি থাকলেও সেটি আবর্জনায় ভরা। পানির ওপর কচুরিপানা ও প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে দেখা গেছে। এ ছাড়া উদ্যানের মধ্যে যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাদের নির্মাণসামগ্রী রাখা রয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/g2s2ofx7/6.jpeg"><figcaption>ওসমানী উদ্যান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও ভেতরে নির্মিত এ গ্রন্থাগার এখনো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। গুলিস্তান, ঢাকা। ২০ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>কমেছে সবুজ</strong></p><p>ওসমানী উদ্যানকে অনেকে ঢাকার ফুসফুস বলে থাকেন। এ উদ্যানে একসময় অনেক গাছপালা ছিল। তবে গত কয়েক বছর উন্নয়নের নামে পার্কের সংস্কার ও নির্মাণকাজ করতে গিয়ে বহু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।</p><p>যদিও সে সময় পরিবেশবাদীরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাঁরা ‘ওসমানী উদ্যানের ১১ হাজার গাছ রক্ষা আন্দোলন’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে আন্দোলনও করেছিলেন। তবে তাঁদের আপত্তিতে কান দেয়নি তৎকালীন আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার। এতে পার্কটি অনেকটাই কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।</p><p>নগর-পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, পার্কটির উন্নয়নকাজে ইমারত বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি। বিধিমালা অনুযায়ী, পার্কের আয়তনের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা যায়। তবে তা এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/u7vwjf1b/%E0%A7%AD.JPG"><figcaption>ওসমানী উদ্যানের ভেতরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি নিয়ে নির্মিত ম্যুরাল ঘুরে দেখছেন কয়েকজন দর্শনার্থী। পেছনে দেখা যাচ্ছে উদ্যানের সবুজ গাছপালা। গুলিস্তান, ঢাকা। ২০ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p><strong>দুই বছরের প্রকল্পে ৯ বছর পার</strong></p><p>ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তখনকার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ‘গোস্বা নিবারণী পার্ক’ নাম দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে।</p><p>২০১৭ সালে উন্নয়নকাজের দায়িত্ব পেয়েছিল ‘দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। পরে ২০২৩ সালে পিএফ করপোরেশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়।</p><p>এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ ও দুটি ফটক নির্মাণ শুরু করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আনার ফলে নির্মাণ ব্যয় কমে দাঁড়ায় ৩৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ গত ৯ বছরে কয়েক দফায় পার্কটিতে প্রায় ১৪৭ কোটি টাকার বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-20/ymob37om/%E0%A7%AE.JPG"><figcaption>ওসমানী উদ্যানে উন্নয়নকাজের আওতায় লাল ইটের গাঁথুনিতে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক আধুনিক চত্বর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছেন দর্শনার্থীরা। গুলিস্তান, ঢাকা। ২০ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যেসব কাজ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, নগর জাদুঘর, একটি গ্রন্থাগার, ১২টি দোকান, জিমনেসিয়াম, গাড়ি পার্কিংয়ের স্থান, লেকের পাড় উন্নয়ন, ঘাট তৈরি, হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের উপকেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বরাদ্দ ৩৯ কোটি টাকায় ৯০ ফুট উচ্চতার ব্রোঞ্জ ধাতুর ওপরে জুলাই শহীদদের নাম খোদাই করা ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও পার্কের দুই পাশের প্রবেশপথে ‘২৪’-এর ইংরেজি অক্ষরের অনুরূপ আকৃতির দুটি ফটক নির্মাণ করা হয়েছে।</p><p>পার্কটি উদ্বোধন করা হলেও জাদুঘর, গ্রন্থাগার, জিমনেসিয়াম, পার্কিং ও খাবারের দোকানগুলো এখনো চালু হয়নি।</p><p>এ বিষয়ে পার্কের সংস্কার ও উন্নয়নকাজের প্রকল্প পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগকে পার্কটি বুঝিয়ে দিয়েছি। যত দিন না কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা বা অপারেট (পরিচালনা) করার জন্য দেওয়া হচ্ছে, তত দিন সিটি করপোরেশন নিজেরা এটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে—এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই ফটকে টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’</p>

অক্টোবর ২০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন