নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে নেমে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
গাছ কাটার একপর্যায়ে আলম বক্তার মাটিতে বিদ্যুতের একটি ছিঁড়ে পড়ে থাকা তার দেখতে পান। সেটি সরাতে গেলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বাবাকে বিপদে পড়তে দেখে গাছের নিচে থাকা এক ছেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে নিজেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে গাছে থাকা অপর ছেলে বাবা ও ভাইকে বাঁচাতে নিচে নেমে এলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে দুই ভাই গুরুতর আহত হন।
কারো পাতে দামি মাছ, কারো পছন্দ সাধারণ পাঙ্গাস—খাবারের রুচি নিয়ে মানুষের ভাবনা যে একেক রকম, সেটিই যেন মনে করিয়ে দিলেন চিত্রনায়ক ওমর সানী।
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিংয়ের কাঠ খুলতে নেমে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
রাঙামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ এনে আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অর্ধদিবস সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ছাত্র-জনতার...
২২৫ রান তুলেও স্বস্তিতে থাকার উপায় ছিল না নিউজিল্যান্ডের। কারণ, লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত যে শুরু থেকেই চালিয়েছে পাল্টা আক্রমণ।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালগুলোই রোগটির সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাব্য ‘হটস্পট’ বা উৎস হয়ে উঠতে পারে। আইজিআই গ্লোবাল প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা গ্রন্থে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
মাগুরা পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত অনলাইন পোর্টালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভিন্টেজ ফ্যাশন, বিশাল সিল্কের বো আর ঝলমলে হীরার গয়না। অ্যাকাডেমি মিউজিয়াম গালায় কিম কার্দাশিয়ানের সাজে মিশেছে পুরোনো হলিউডের আভিজাত্য।
<p>কাগজে-কলমে আপনার বয়স ৩০, ৪০ কিংবা ৫০। কিন্তু শরীরের বয়স কি আদতে ততটাই? বিজ্ঞানীরা এখন জন্মগত বয়সের পাশাপাশি ‘বায়োলজিক্যাল এজ’ বা জৈবিক বয়সকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। শরীরের কোষ, টিস্যু ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কতটা ভালোভাবে কাজ করছে, তার ওপর ভিত্তি করে এই বয়সের ধারণা করা হয়। কিছু লক্ষণ ইঙ্গিত দিতে পারে, শরীর প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। তবে জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে এই প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব হতে পারে।</p><h3>১. বোতল বা বয়ামের ঢাকনা খুলতে কষ্ট হয়</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/r6xvzky0/pexels_photo_8728504.avif"><figcaption>হ্যান্ড গ্রিপ স্ট্রেন্থ সুস্থভাবে বয়স বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সূচক</figcaption></figure><p>আগের মতো সহজে শক্ত ঢাকনা খুলতে পারছেন না? ভারী ব্যাগ বহন করতেও কষ্ট হচ্ছে? এর পেছনে ‘হ্যান্ড গ্রিপ স্ট্রেন্থ’ বা হাতের আঁকড়ে ধরার শক্তি কমে যাওয়া একটি কারণ হতে পারে। হ্যান্ড গ্রিপ স্ট্রেন্থ সুস্থভাবে বয়স বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। হাত ও কনুইয়ের পেশি শক্ত রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম বা বিশেষ বল চেপে ধরার মতো সহজ অনুশীলন উপকারী হতে পারে।</p><h3>২. সিঁড়ি ভাঙা কঠিন লাগে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/tmfegphr/pexels_photo_7461474.avif"><figcaption>সিঁড়ি ভাঙার সময় পেশির শক্তি, ভারসাম্য, চলাফেরার সক্ষমতা ও ফিটনেস—সবকিছুরই পরীক্ষা হয়</figcaption></figure><p>সিঁড়ি ভাঙার সময় পেশির শক্তি, ভারসাম্য, চলাফেরার সক্ষমতা ও ফিটনেস—সবকিছুরই পরীক্ষা হয়। বয়সের সঙ্গে পেশির ভর কমে যাওয়াকে বলা হয় সারকোপেনিয়া। এর কারণে সিঁড়ি ভাঙা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/hr3x4o97kr">বয়স ৪০ পেরোলে দৃষ্টিশক্তির এসব সমস্যায় পড়েছেন কি না, খেয়াল করুন</a></aside><h3>৩. হাঁটার গতি কমে গেছে </h3><figure><img alt="হাঁটা" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-11-12/h97izghb/040A8906.jpg"><figcaption>হাঁটার গতি পায়ের পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে</figcaption></figure><p>হাঁটার গতি পায়ের পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। তুলনামূলক দ্রুত ও স্বচ্ছন্দে হাঁটতে পারা ভালো শারীরিক ও জ্ঞানীয় সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত।</p><h3>৪. ভারসাম্য রাখতে হাতল ধরতে হয় </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/08ipngg2/pexels-photo-5356178.avif"><figcaption>সিঁড়ি বা হাঁটার সময় ভারসাম্য রাখতে রেলিং বা অন্য কিছুর ওপর বেশি নির্ভর করতে হলে বিষয়টি খেয়াল করার মতো</figcaption></figure><p>সিঁড়ি বা হাঁটার সময় ভারসাম্য রাখতে রেলিং বা অন্য কিছুর ওপর বেশি নির্ভর করতে হলে বিষয়টি খেয়াল করার মতো। ভারসাম্য কমে যাওয়া পেশির শক্তি ও স্নায়ু-পেশির সমন্বয় কমার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।</p><h3>৫. ঘুম বারবার ভেঙে যায় </h3><figure><img alt="ঘুম" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-19/kdee9zv4/_SY_6901.JPG"><figcaption>রাতে বারবার অল্প সময়ের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া তুলনামূলক ‘বয়স্ক’ ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত</figcaption></figure><p>শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন, তা নয়, ঘুম কতটা নিরবচ্ছিন্ন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ১২ হাজার মানুষের ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, রাতে বারবার অল্প সময়ের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া তুলনামূলক ‘বয়স্ক’ ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা এবং ঘুমের আগে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ঘুমের মান উন্নত করতে পারে।</p><h3>৬. প্রিয় পোশাকের ফিট বদলে গেছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/9imcl2i7/Thumb.jpg"><figcaption>পেশি কমে গিয়ে পেটের আশপাশে চর্বি বাড়লে হৃদ্রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে</figcaption></figure><p>ওজন খুব একটা না বাড়লেও কোমরের কাছে পোশাক টাইট, অথচ শরীরের অন্য অংশে ঢিলেঢালা মনে হলে শরীরের গঠনে বয়সজনিত পরিবর্তন হতে পারে। পেশি কমে গিয়ে পেটের আশপাশে চর্বি বাড়লে হৃদ্রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/interior/q3mxsf64iw">অন্দরের প্রভাবে বয়স বাড়ছে না তো, জেনে নিন কোথায় হচ্ছে ভুলগুলো</a></aside><h3>৭. শরীরে অকারণে কালশিটে পড়ে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/gn6hkzqo/pexels_photo_7479954.avif"><figcaption>সামান্য আঘাতেই যদি কালশিটে পড়ে, তা ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে</figcaption></figure><p>সামান্য আঘাতেই যদি কালশিটে পড়ে, তা ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের সূর্যের ক্ষতিতে ত্বক পাতলা ও দুর্বল হয়ে রক্তনালিগুলো ভঙ্গুর হতে পারে। সানস্ক্রিন ব্যবহার ও শরীর ঢেকে রাখা উপকারী।</p><h3>৮. ত্বকে বয়সের ছাপ দ্রুত দেখা যাচ্ছে </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/vuasrtld/pexels-photo-7479967.avif"><figcaption>বলিরেখা, ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কালচে দাগ বয়স বাড়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে এসব প্রত্যাশার তুলনায় আগেই দেখা দিলে ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়ার ইঙ্গিত হতে পারে</figcaption></figure><p>বলিরেখা, ত্বক কুঁচকে যাওয়া বা কালচে দাগ বয়স বাড়ার স্বাভাবিক অংশ। তবে এসব প্রত্যাশার তুলনায় আগেই দেখা দিলে ত্বকের বয়স দ্রুত বাড়ার ইঙ্গিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ, ধূমপান, বায়ুদূষণ, মানসিক চাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। নিয়মিত সানস্ক্রিন, পুষ্টিকর খাবার ও ধূমপান এড়িয়ে চলা ত্বক সুরক্ষায় সহায়ক।</p><p><sup>সূত্র: দ্য হেলদি</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/1441kisaf2">ত্বক ভালো রাখতে কী ধরনের পুষ্টি দরকার, কোন কোন খাবারে তা মিলবে</a></aside>
<p>দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে... </p><figure></figure>
<p>ফেনীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী শহরের সহদেবপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>এর আগে আজ সকালে শহরতলির কালিপাল দশমীঘাট-সংলগ্ন এলাকায় ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে পুলিশ।</p><p>প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন তরুণ মিছিলে অংশ নেন। এ সময় তাঁরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি কালিপাল এলাকার সড়কের একাংশ প্রদক্ষিণ করে ব্যানার গুটিয়ে চলে যায়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/2minc30q/Police-arrest.jpg"><figcaption>নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ১৩ জন। আজ বিকেলে ফেনী মডেল থানায়</figcaption></figure><p>দুপুরের দিকে মিছিলের ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যানার হাতে একদল তরুণ সড়কে মিছিল করছেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও হাতে ছাত্রলীগের পতাকা ছিল। অনেকের মাথায় হলুদ ক্যাপ ও মুখে কালো মাস্ক দেখা যায়।</p><p>ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক সাজিদ কামাল বলেন, ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।</p><p>গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হেলাল তুহিন (১৯), এনায়েত হোসেন (২০), মো. হাসান (১৯), মো. ইব্রাহিম (২১), শাহাদাত হোসেন (১৯), মো. ইমাম হোসেন (১৯), রাকিবুল ইসলাম (২০), তারেক হোসেন (২২), শাহাদাত হোসেন (১৯) ও ১৭ বছরের চার কিশোর। পুলিশ জানায়, তাঁরা সবাই ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।</p>
লরেন্স বিষ্ণোইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে কোনো সংস্থা উপযুক্ত আদালতের নির্দেশে কেবল ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অথবা জেল প্রাঙ্গণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
কখনো তিনি ধনী ব্যবসায়ী, কখনো কঠোর বাবা, কখনো দুর্নীতিবাজ ভিলেন, আবার কখনো এমন এক মানুষ, যাঁর উপস্থিতিতেই হাসিতে ফেটে পড়ত প্রেক্ষাগৃহ।
<p>পাহাড় কেটে প্লট, জলাধার ভরাট করে স্থাপনা। চার দশকে নগর থেকে হারিয়েছে তিন হাজার জলাধার। ২৩ বছরে পাহাড় কাটার ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৩০টি। ১৩ বছরে চট্টগ্রাম জেলায় ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।</p><p>চট্টগ্রাম নগরের আরেফিন নগরে পাহাড় খুঁজতে গেলে প্রথমে চোখে পড়ে ঘরবাড়ি। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে শত শত ঘর। কোথাও ঢাল কেটে সমান করা হয়েছে জমি। কোথাও কাটা পাহাড়ের গায়ে টিনের ঘর। পাহাড় কেটেই তৈরি হয়েছে চলাচলের সড়ক।</p><p>সম্প্রতি এ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড় কেটে বসতি ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো অংশে পাহাড়ের ঢাল খাড়া হয়ে আছে। কোথাও মাটি কেটে ধাপে ধাপে জায়গা বের করা হয়েছে। সেই জায়গায় ঘর উঠেছে। কোথাও আবার নতুন কাটা মাটির পাশেই পুরোনো বসতি। এই পরিবর্তনের আরেকটি চিত্র ধরা পড়ছে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে।</p><p>সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম জেলায় ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১১ সালে এই তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৪৮ ডিগ্রি। ২০২৪ সালে পাওয়া গেছে ৩৪ দশমিক ২৭ ডিগ্রি।</p><p>এটি আবহাওয়া অধিদপ্তরের মাপা বাতাসের তাপমাত্রা নয়। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বলতে বোঝায় সূর্যের তাপে রাস্তার পিচ, ভবনের ছাদ, খোলা মাটি, ঘাসে ঢাকা জমি কিংবা অন্য কোনো পৃষ্ঠ কতটা গরম হয়েছে। </p><p>এই ১৩ বছরেই শুধু তাপের হিসাব বদলায়নি। তার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বদলেছে চট্টগ্রামের জমির ব্যবহার। পাহাড় কাটা হয়েছে। পুকুর-দিঘি ভরাট হয়েছে। গাছপালা কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে ভবন, সড়ক ও অন্যান্য পাকা অবকাঠামো। গবেষকেরা বলছেন, পাহাড়, গাছপালা ও জলাশয় থাকা জায়গার ভূপৃষ্ঠ তুলনামূলক ঠান্ডা। আর ভবন, সড়ক ও অন্যান্য পাকা অবকাঠামোয় ঢাকা জায়গা তুলনামূলক বেশি গরম।</p><blockquote>► গত দুই দশকে নগরের জলাশয় ২০.৫১ শতাংশ কমেছে। ► পাহাড় ও গাছপালা ধ্বংস করে ভবন ও কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণ করায় শহরের স্বাভাবিক শীতলতা নষ্ট হচ্ছে। ► অতিরিক্ত গরমে শ্রমজীবী মানুষের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে।</blockquote><p>চট্টগ্রামে গত কয়েক দশকে ঠিক এই দুই ধরনের পরিবর্তনই পাশাপাশি ঘটেছে। যেসব পাহাড়, গাছপালা ও জলাশয় শহরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, সেগুলো কমেছে। অন্যদিকে সূর্যের তাপ ধরে রাখে, এমন পাকা পৃষ্ঠ বেড়েছে।</p><p>স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দশক ধরেই আরেফিন নগরে এভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এখনো দিনে ও রাতে পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটে। এক জায়গায় বন্ধ হলে কিছুদিন পর অন্য জায়গায় কাটাকাটি শুরু হয়। তবে কারা পাহাড় কাটছেন, কার অনুমতিতে কাটছেন, এসব প্রশ্নে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।</p><p>পাহাড়ের মাটি কেটে সমতল জায়গা বের হলে শুধু পাহাড়ের উচ্চতা কমে না; সেই সঙ্গে সরে যায় গাছ, ঝোপঝাড় ও মাটির প্রাকৃতিক আবরণ। প্রাণীর আশ্রয়ও নষ্ট হয়। এরপর সেই জায়গায় যখন ঘর, সড়ক কিংবা অন্য স্থাপনা ওঠে, তখন বদলে যায় ভূমির চরিত্রও।</p><h3>পাহাড় কেটে প্লট, তারপর বসতি</h3><p>নগরের পশ্চিম খুলশীতেও পাহাড় কেটে জমি বের করে প্লট তৈরির ঘটনা পাওয়া গেছে। পশ্চিম খুলশীর রূপসী পাহাড় তার একটি উদাহরণ। প্রায় ৪০ ফুট উঁচু পাহাড়ের খাঁজ ও পাদদেশ কেটে অন্তত আটটি প্লট করা হয়েছে। রড-সিমেন্টের পিলার ও তিন-চার ফুট উঁচু সীমানাদেয়াল তুলে জায়গাগুলো আলাদা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এ ঘটনা ঘটেছে। </p><p>স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই এলাকায় প্রতি কাঠা প্লট ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। মালিকানাও বদলায়। কিন্তু পাহাড় কারা কাটছেন, কারা প্লট তৈরি করছেন এবং কারা বিক্রি করছেন—এসব প্রশ্নে তাঁরা নাম বলতে চান না।</p><p>শুধু রূপসী পাহাড় নয়; পশ্চিম খুলশীর কাঁঠালবাগান, বরইবাগান ও মাজার রোডের বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় কেটে প্লট তৈরির চিত্র পাওয়া গেছে। নগরের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বরইতলী এলাকায়ও পাহাড় কেটে জমি সমান করে ছোট ছোট প্লট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে সেখানে পাহাড়ের ঢালে ও কাটা অংশে টিনের ঘর দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কোনো কোনো প্লট ৭০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে হাতবদল হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/rs20acgg/Ctg-4.jpg"></figure><p>পাহাড় কাটার এই প্রবণতা শুধু নগরেই সীমাবদ্ধ নয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়ার দক্ষিণ নিশ্চিন্তপুর এলাকায় গিয়ে পাহাড় কাটার আরেক চিত্র দেখা যায়। রাঙ্গুনিয়া এভিয়ারি অ্যান্ড ইকোপার্কের কাছাকাছি এলাকায় পাহাড়ের ভাঁজে এরই মধ্যে কয়েক শ ঘর তৈরি হয়েছে।</p><p>কোথাও টিনের বেড়া দিয়ে চারপাশ আড়াল করা। সেই বেড়ার ভেতরে পাহাড় কেটে জমি সমান করা হচ্ছে। কোথাও কাটা পাহাড়ের পাদদেশে নতুন ঘর। আবার কোথাও পাহাড়ের গায়ের গাছপালা সরিয়ে মাটি খোলা করে রাখা হয়েছে।</p><p>স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কাটাকাটি চলে। তবে প্রকাশ্যে নাম বললে সমস্যা হতে পারে বলে তাঁরাও কারও নাম বলতে রাজি হননি। </p><p>অবশ্য পাহাড় কাটার ঘটনা যে প্রশাসনের অজানা, তা নয়। মামলা হয়েছে একের পর এক। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে পাহাড় কাটার ঘটনায় ১৩০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকের বেশি সময় ধরে মামলা হয়েছে, তদন্ত হয়েছে, কোনো কোনো ঘটনায় জরিমানাও হয়েছে। তারপরও আরেফিন নগর, পশ্চিম খুলশী, বায়েজিদ, আকবরশাহসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার অভিযোগ এখনো পাওয়া যাচ্ছে।</p><blockquote>২০০০ সালে পাহাড় কাটা হিসেবে চিহ্নিত এলাকার আয়তন ছিল ৬৭৯ হেক্টর। ২০১২ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ২৯৫ হেক্টর। অর্থাৎ ১২ বছরে পাহাড় কাটা হিসেবে চিহ্নিত এলাকার আয়তন বেড়েছিল প্রায় ৬১৬ হেক্টর।</blockquote><p>অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময়ে তৎকালীন কাউন্সিলর গাজী শফিউল আজমের অনুসারীরা পাহাড় কাটা ও নতুন ঘর নির্মাণে প্রভাব খাটাতেন। বর্তমানে হাটহাজারী উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক মো. রুবেলসহ বিএনপি ও শ্রমিক দলের পরিচয়ধারীরা পাহাড়ি জমি দখল, কাটা ও জায়গা হাতবদলে প্রভাব খাটান। তবে রুবেল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।</p><h3>চার দশকে হারিয়েছে ১২০টির বেশি পাহাড়</h3><p>চট্টগ্রামের পাহাড় কমে যাওয়ার হিসাবও নতুন নয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইদ্রিস আলম নগরের পাহাড় নিয়ে মাঠ জরিপ করেছেন। তাঁর ‘লোকেশনাল অ্যানালাইসিস অব হিল কাটিং এরিয়াস ইন চট্টগ্রাম সিটি, বাংলাদেশ’ শিরোনামের গবেষণাটি ২০১৭ সালে <em>জার্নাল অব আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেটিক চেঞ্জ</em> সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।</p><p>গবেষণার জন্য ২০১৫ সালে নগরের পাহাড়গুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখা হয়েছিল। সেই গবেষণায় উঠে আসে, তার আগের প্রায় চার দশকে চট্টগ্রাম নগর থেকে ১২০টির বেশি পাহাড় হারিয়ে গেছে। ২০১৫ সালের জরিপের সময় ৪০টির কিছু বেশি পাহাড় তুলনামূলক অক্ষত ছিল। আরও প্রায় ২৫টি পাহাড়কে গুরুতর ঝুঁকিতে পাওয়া যায়। সেগুলোর অর্ধেকের বেশি অংশ তখনই কাটা হয়ে গিয়েছিল।</p><p>গবেষণায় পাহাড় হারানোর পর সেই জমির কী হয়েছে, সেটিও দেখা হয়। কেটে ফেলা পাহাড়ের জায়গায় মূলত বসতি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাহাড়ের মাটি ব্যবহৃত হয়েছে নিচু জমি ভরাট ও ইট তৈরির কাজেও।</p><p>অন্য একটি গবেষণায় পাহাড় কাটার বিস্তার জমির আয়তন দিয়ে হিসাব করা হয়েছে। অধ্যাপক সিরাজুল হকের ‘হিল কাটিং ইন অ্যান্ড অ্যারাউন্ড চিটাগং সিটি’ গবেষণায় ২০০০ ও ২০১২ সালের ছবি তুলনা করা হয়।</p><p>২০০০ সালে পাহাড় কাটা হিসেবে চিহ্নিত এলাকার আয়তন ছিল ৬৭৯ হেক্টর। ২০১২ সালে তা বেড়ে হয় ১ হাজার ২৯৫ হেক্টর। অর্থাৎ ১২ বছরে পাহাড় কাটা হিসেবে চিহ্নিত এলাকার আয়তন বেড়েছিল প্রায় ৬১৬ হেক্টর।</p><p>গবেষকেরা বলছেন, একটি পাহাড়ে গাছপালা, ঝোপঝাড় ও খোলা মাটি থাকে। সেগুলো সরিয়ে যখন জমি সমান করা হয় এবং পরে সেখানে ছাদ, সড়ক, দেয়াল ও অন্য পাকা স্থাপনা তৈরি হয়, তখন সূর্যের তাপ গ্রহণ ও ছেড়ে দেওয়ার ধরনও বদলে যায়। এভাবে গাছপালা ও সবুজ এলাকা কমার কারণে ভৃপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে। </p><h3>পুকুর নেই, আছে শুধু নাম</h3><p>চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক জায়গা হারানোর আরেকটি বড় চিত্র দেখা যায় পুকুর ও দিঘির দিকে তাকালে।</p><p>আন্দরকিল্লায় এখনো একটি সড়কের নাম ‘দেওয়ানজি পুকুর লেন’। কিন্তু যে পুকুর থেকে সড়কের এই নাম, সেই পুকুর নেই।</p><p>স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় ৮৪ শতক আয়তনের পুকুরটি ১৯৯৮ সালের দিকে পুরোপুরি ভরাট হয়ে যায়। আজ সেখানে পানি নেই। নামটি শুধু ঠিকানায় রয়ে গেছে।</p><p>একই এলাকায় ছিল প্রায় তিন একরের ‘রাজাপুকুর’। স্থানীয় লোকজন বলেন, ১৯৯০ সালের দিকে পুকুরটি ভরাট করা হয়। পরে সেখানে বহুতল আবাসিক ভবন তৈরি হয়েছে। এখন ‘রাজাপুকুর লেন’ নামটি আছে, পুকুরটি নেই।</p><p>মুন্সি পুকুর, কারবালা পুকুর, হাজারি পুকুর, ধাম্মো পুকুর, মাইল্যার পুকুর—চট্টগ্রামের এমন আরও অনেক পুরোনো জলাধার এখন পানির জায়গা হিসেবে নয়, এলাকার নাম বা ঠিকানায় টিকে আছে। কিছু জলাধার আবার পুরোপুরি হারায়নি, তবে অনেকটাই সংকুচিত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/kmb2oge4wj">চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে প্লট–বাণিজ্য </a></aside><p>হালিশহরের রামপুর নয়াবাজার এলাকায় ‘হাজার দিঘি’র বড় অংশ ভরাট হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, চারপাশে দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দিঘিতে পানি নেই বললেই চলে।</p><p>সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার ইসহাক সওদাগরের পুকুর প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর আগে পুরোপুরি ভরাট হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।</p><p>চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, এই হারানো বিচ্ছিন্ন কয়েকটি পুকুরে সীমিত নয়। ১৯৮৪ সালের বাংলাদেশ সার্ভে জরিপে চট্টগ্রাম নগরে পুকুর ছিল ৪ হাজার ২৯৫টি। সর্বশেষ হালনাগাদ হিসাবে আছে ১ হাজার ৫১৯টি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/4sbvi20f/Ctg-2.PNG"><figcaption>চট্টগ্রাম নগরের কাজির দেউড়ি এলাকার ঐতিহ্যবাহী আসকার দিঘী দখল-ভরাটে ছোট হয়ে গেছে। পাড়ে উঠেছে বসতি। সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><p>অর্থাৎ প্রায় চার দশকে কমেছে ২ হাজার ৭৭৬টি পুকুর। কোনো কোনো ওয়ার্ডে ক্ষতি আরও স্পষ্ট। পূর্ব ষোলশহরে ৩৭৭টি পুকুরের জায়গায় এখন আছে ১০৫টি। উত্তর আগ্রাবাদে ২৮৬টি থেকে কমে হয়েছে ৫৮টি। চান্দগাঁওয়ে ৩৭১টির মধ্যে আছে ১৬১টি। শুলকবহরে ১৮৩টি পুকুরের জায়গায় এখন আছে মাত্র ২২টি। পুকুরের সংখ্যা কমার পাশাপাশি কমেছে জলাশয়ের মোট আয়তনও।</p><h3>দুই দশকে হারিয়েছে ৬৪১ হেক্টর জলাশয়</h3><p>চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. দানেশ মিয়া ও ইয়াকুব আলী নগরের জলাশয়ের পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁদের ‘টেম্পোরাল অ্যান্ড স্পেশাল ভেরিয়েশনস ইন সারফেস ওয়াটার অ্যান্ড ইটস ইন্টাররিলেশনস উইথ ল্যান্ড সারফেস টেম্পারেচার অ্যান্ড রেইনফল প্যাটার্নস ইন চট্টগ্রাম সিটি, বাংলাদেশ’ শিরোনামের গবেষণাটি <em>দ্য চিটাগং ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব সায়েন্স</em>-এ প্রকাশিত হয়েছে।</p><blockquote>২০০১ সালে নগরে জলাশয় ছিল প্রায় ৩ হাজার ১২৩ হেক্টর। ২০ বছর পর, ২০২১ সালে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৪৮৩ হেক্টর হয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকে প্রায় ৬৪১ হেক্টর জলাশয় হারিয়েছে।</blockquote><p>তাঁরা ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করেছেন। ২০০১ সালে নগরে জলাশয় ছিল প্রায় ৩ হাজার ১২৩ হেক্টর। ২০ বছর পর, ২০২১ সালে তা কমে প্রায় ২ হাজার ৪৮৩ হেক্টর হয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকে প্রায় ৬৪১ হেক্টর জলাশয় হারিয়েছে।</p><p>এই সময়েই উল্টো দিকে বেড়েছে ভবন, সড়ক ও অন্যান্য নগর অবকাঠামোয় ব্যবহৃত জমি। ২০০১ সালে এমন এলাকার আয়তন ছিল প্রায় ৫ হাজার ২৭৮ হেক্টর। ২০২১ সালে তা বেড়ে প্রায় ৭ হাজার ৬৭১ হেক্টর হয়েছে। অর্থাৎ দুই দশকে বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ হেক্টর। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/tuv3v2hpf3">ভবন তৈরির জন্য পাহাড় কাটা হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে</a></aside><p>গবেষকেরা পুরোনো জলাশয়ের জায়গাগুলো পরে কী হয়েছে, সেটিও দেখেছেন। ২০০১ সালে যেসব জায়গায় পানি ছিল, তার প্রায় ৩৭ শতাংশ জায়গা ২০২১ সালের মধ্যে ভবন, সড়ক ও অন্যান্য নগর ব্যবহারের এলাকায় পরিণত হয়েছে।</p><p>জলাশয় ও সবুজ জায়গার সঙ্গে তাপমাত্রার সম্পর্ক নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের মৌমিতা চৌধুরী, নাজনীন নাহার সুলতানা, তাজ সুলতানা ও অলক পালও গবেষণা করেছেন। তাঁদের ‘ইমপ্যাক্ট অব আরবান কুলিং আইল্যান্ড অন ল্যান্ড সারফেস টেম্পারেচার চেঞ্জ ইন চট্টগ্রাম সিটি’ গবেষণাটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে <em>চিটাগং ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস</em>-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, জলাশয় ও সবুজ বেশি থাকা জায়গা তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে। সময়ের সঙ্গে এমন এলাকার চরিত্রও বদলেছে।</p><p>অধ্যাপক অলক পাল <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, চট্টগ্রাম দ্রুত কংক্রিটনির্ভর নগরে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় জলাশয় ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণের উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে শহরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণটা সাধারণ। গাছ ছায়া দেয়। গাছপালা থেকে পানি বাষ্প হয়ে বাতাসে যায়, এতে আশপাশ কিছুটা ঠান্ডা থাকে। জলাশয়ও তাপ ধরে রাখা পাকা পৃষ্ঠের মতো আচরণ করে না। অন্যদিকে ভবনের ছাদ, পিচঢালা সড়ক ও কংক্রিট দিনের বেলায় সূর্যের তাপ নেয়। পরে ধীরে ধীরে সেই তাপ ছাড়ে। ফলে কংক্রিটে ঘেরা এলাকায় সূর্য ডুবে গেলেই গরম দ্রুত কমে না।</p><h3>মাত্র ১৩ বছরে বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস </h3><p>চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক তাপ পরিবর্তনের আরেকটি বড় ছবি পাওয়া যায় গবেষক মোছা. সানজিদা আলমের গবেষণায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্লার্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করে বর্তমানে পিএইচডি করছেন। ‘জিওস্পেশাল অ্যানালাইসিস অব আরবান হিট আইল্যান্ডস অ্যান্ড হিট ভালনারেবিলিটি ইন চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ: ইমপ্লিকেশনস ফর পাবলিক হেলথ রিস্কস’ শিরোনামের গবেষণাটি চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি স্প্রিঙ্গার নেচারের <em>এয়ার কোয়ালিটি, অ্যাটমোসফিয়ার অ্যান্ড হেলথ</em> সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়।</p><p>গবেষণায় ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০১১ সালে গবেষণা এলাকায় গড় ভূমিপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালে পাওয়া গেছে ৩৪ দশমিক ২৭ ডিগ্রি। পার্থক্য ১ দশমিক ৭৯ ডিগ্রি, অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি। </p><aside><cite>সানজিদা আলম, গবেষক </cite>চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জনঘনত্ব বেশি। গাছপালা কমেছে। কমেছে জলাশয়ও। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে তাপঝুঁকি বাড়ছে।</aside><p>মাত্র ১৩ বছরের ব্যবধানে ভূমিপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পাওয়া যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন গবেষকেরা। কারণ, এটি কোনো এক দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নয়; পুরো গবেষণা এলাকার গড় ভূমিপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পরিবর্তন। অল্প সময়ে এমন পরিবর্তন চট্টগ্রামের তাপ পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/frp3saxp18">জেলা প্রশাসনের তালিকা ‘অবাস্তব’</a></aside><p>গবেষণায় শুধু কোথায় বেশি গরম, সেটি দেখা হয়নি। কোন এলাকার মানুষ গরমে বেশি বিপদে পড়তে পারেন, সেটিও হিসাব করা হয়েছে। এ জন্য জনঘনত্ব, শিশু ও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা, নারী, বসতঘরের ধরন, সবুজ, জলাশয়, আয় এবং তীব্র গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাসহ ১৮টি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। </p><p>গবেষণায় দেখা গেছে, অতি উত্তপ্ত এলাকার বড় অংশ সদরঘাট, কোতোয়ালি ও ডবলমুরিংয়ের মধ্যাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। আবার খুব উচ্চ তাপঝুঁকির শ্রেণিতে পড়েছে গবেষণা এলাকার প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। উচ্চ তাপঝুঁকির ১৪টি এলাকার মধ্যে রয়েছে চকবাজার, খুলশী, পাঁচলাইশ, আকবরশাহ, সদরঘাট, চান্দগাঁও, ইপিজেড, পতেঙ্গা, বাকলিয়া, কোতোয়ালি, বন্দর, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও হালিশহর।</p><p>বিপরীতে ফটিকছড়ির কিছু এলাকা তুলনামূলক কম তাপঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে গাছপালা, কৃষিজমি, খোলা জায়গা ও আর্দ্র মাটির পরিমাণ বেশি এবং বসতিও তুলনামূলক ছড়ানো। </p><p>গবেষক সানজিদা আলম<em> প্রথম আলো</em>কে বলেন, চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জনঘনত্ব বেশি। গাছপালা কমেছে। কমেছে জলাশয়ও। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়ে তাপঝুঁকি বাড়ছে।</p><h3>গরমের মানচিত্রে মানুষের জীবন</h3><p>গবেষণায় বেশি তাপঝুঁকির এলাকা হিসেবে উঠে আসা সদরঘাটের এক পাশে কর্ণফুলী নদী। কিন্তু নদীর কাছে হয়েও এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। গুদাম, বাজার, দোকান ও পুরোনো ভবন পাশাপাশি। বড় খোলা জায়গা কম। বড় গাছও খুব বেশি চোখে পড়ে না।</p><p>সে এলাকার জহুরা বেগম তিনটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। সকাল থেকে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যেতে হয় তাঁকে। কাজ শেষ করে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।</p><aside><cite>এম এ সাত্তার, মেডিসিন বিভাগের প্রধান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল</cite>গরমের সময় হাসপাতালে রোগীর ধরনেও পরিবর্তন দেখা যায়।...শীতের তুলনায় গরমের মাসগুলোতে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।</aside><p>সদরঘাট এলাকার ২০ জন নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর থেকে বিকেলের সময়টা বেশি কষ্টকর। বাইরে গরম, আবার ঘরের ভেতরেও স্বস্তি নেই।</p><p>টিনের ঘরে থাকা কয়েকজন নারী বলেন, দুপুরে ঘরের ভেতরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় সন্ধ্যার পরও টিনের ঘর ঠান্ডা হয় না। শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট বেশি হয় বলেও জানান তাঁরা।</p><p>দিনমজুর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের অভিজ্ঞতা আরও কঠিন। সম্প্রতি সদরঘাটে নৌকা থেকে বস্তা টানছিলেন তিনি। একপর্যায়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার পর কয়েক দিন বিশ্রামে থাকতে হয়েছিল। চল্লিশোর্ধ্ব ইব্রাহিমের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট আছে। তিনি বলেন, গরমে এখন বেশিক্ষণ কাজ করতে পারেন না। অল্প সময় কাজ করলেই দুর্বল লাগে। মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ওই ঘটনার পর চিকিৎসায় তাঁর প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে।</p><p>চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এম এ সাত্তার <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, গরমের সময় হাসপাতালে রোগীর ধরনেও পরিবর্তন দেখা যায়। হাসপাতালের ভর্তির নথি বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেছেন, শীতের তুলনায় গরমের মাসগুলোতে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।</p><p>তাঁর মতে, খোলা আকাশের নিচে কাজ করা নির্মাণশ্রমিক, পরিবহনশ্রমিক ও দিনমজুরেরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তীব্র গরমে পেশিতে টান, তাপজনিত অবসাদ এবং হিটস্ট্রোক হতে পারে। অতিরিক্ত ঘামে পানি ও লবণ কমে গেলে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-22/w6ghiuox/Ctg-3.PNG"><figcaption>নগরজুড়ে কংক্রিটের বিস্তারের সঙ্গে কমছে পাহাড়ের সবুজও। পাহাড়ের গাছপালা ও সবুজ আচ্ছাদন কমে যাওয়ায় বাড়ছে তাপমাত্রা। আরিফিন নগর থেকে সম্প্রতি তোলা</figcaption></figure><h3>স্থানীয় পরিবর্তনের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতা</h3><p>চট্টগ্রামের ভূমিপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বদলের পুরো ব্যাখ্যা শুধু পাহাড় কাটা, জলাশয় ভরাট বা কংক্রিটের বিস্তারে সীমিত নয়। শহরটি এমন একটি সময়ে তার পাহাড়, জলাশয় ও গাছপালা হারাচ্ছে, যখন মানুষের কর্মকাণ্ডে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস বাড়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রাও বাড়ছে। </p><p>জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তসরকার প্যানেল আইপিসিসির ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগরায়ণ বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ না হলেও শহরের ভেতরে উষ্ণতার প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার ২০২৪ সালে <em>নেচার কমিউনিকেশনস</em>–এ প্রকাশিত বিশ্বের প্রায় ৫০০ বড় শহরের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নগরের সবুজ এলাকা থাকলে উষ্ণ মৌসুমে ভূমিপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম রাখতে পারে। অর্থাৎ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকা সময়ে কোনো শহর যদি একই সঙ্গে পাহাড়, জলাশয় ও সবুজ হারায়, তাহলে তাপ সামলানোর প্রাকৃতিক সক্ষমতাও কমে যায়।</p><aside><cite>শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রণালয়</cite>পাহাড় কাটলেই শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলাধার ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণেরও সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।</aside><p>এর সঙ্গে কোনো কোনো বছরে এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক জলবায়ুজনিত ঘটনা সাময়িকভাবে বাড়তি উষ্ণতা যোগ করতে পারে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো শুরু হয়। বছরের শেষ দিকে এটি শক্তিশালী হয় এবং ২০২৪ সালের প্রথম ভাগেও এর প্রভাব ছিল।</p><p>উল্লেখ্য, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠার একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার ওপর পড়তে পারে। কিন্তু এল নিনো সাময়িক। মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতা দীর্ঘমেয়াদি।</p><h3>‘পাহাড় কাটলেই শক্ত ব্যবস্থা’</h3><p>পাহাড় কাটা ও জলাধার ভরাটের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সম্প্রতি <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, অতীতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পাহাড় কাটা হয়েছে। তবে এখন আর কাউকে সে সুযোগ দেওয়া হবে না। পাহাড় কাটা বন্ধে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড় কাটলেই শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলাধার ভরাট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণেরও সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।’</p><p>সানজিদা আলমের গবেষণাটি পর্যালোচনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল। তিনি <em>প্রথম আলো</em>কে বলেন, অল্প সময়ে ভূপৃষ্ঠে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা বাড়ার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখন নগর–পরিকল্পনার সময় তাপের বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোথায় জলাশয় থাকবে, কোথায় গাছপালা ও খোলা জায়গা সংরক্ষণ করা হবে, কীভাবে পাহাড় রক্ষা করা হবে এবং কোথায় কত ঘন করে ভবন নির্মাণ করা যাবে—এসব বিষয় একসঙ্গে ভাবতে হবে। কারণ, একটি শহরের তাপ শুধু আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে না। শহরের ভেতরে কী আছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ—কোথায় পানি, কোথায় গাছ, কোথায় খোলা মাটি আর কোথায় ভবন ও সড়ক।</p><p>চার দশকে চট্টগ্রাম হারিয়েছে ১২০টির বেশি পাহাড়। বিলীন হয়েছে প্রায় তিন হাজার পুকুর ও জলাধার। ছড়িয়েছে ভবন, সড়ক ও কংক্রিট, কমেছে সবুজ। এই পরিবর্তনের মধ্যেই চট্টগ্রামের ভূমিপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি পাওয়া গেছে।</p><p>গরমের কথা উঠতেই দিনমজুর মোহাম্মদ হারুন বলেন, ‘গরমে বিশ্রাম নিতে মন চায়। কিন্তু পারি না। বসে থাকলে ভাত জুটবে না।’ তারপর আবার বস্তা কাঁধে তুলে নেন তিনি। শহরের তাপমাত্রা কতটা বদলেছে, সে হিসাব তাঁর জানা নেই। তবে বদলে যাওয়া গরমটা তিনি প্রতিদিন নিজের শরীর দিয়ে মাপছেন।</p>
প্রতিবছর এক থেকে চার মিটার পর্যন্ত বরফের স্তর পাতলা হয়ে যাচ্ছে, যা দ্বীপটির জন্য অশনিসংকেত।
আইসিসিকে এই পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন কয়েক দিন আগেই আদালতটির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন...
ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তাকে কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে না। লন্ডনে মেয়ের বাসায়.....
সার, ওষুধ, চামড়া ও বস্ত্রখাতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আলজেরিয়া। সেই সঙ্গে দেশটি তাদের বস্ত্রশিল্প পুনরুজ্জীবিত...
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা হলে আক্রমণাত্মক সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশের ব্যাডমিন্টনে সবচেয়ে বড় আসর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এবার ৪০তম আসরে অংশ নিচ্ছেন ৬১৬ শাটলার। ১০ লাখ টাকা প্রাইজমানির এই প্রতিযোগিতা আগামীকাল...
শুরুতে সমানে সমান লড়াই। ভারতের মেয়েদের উচ্চতার সুবিধাকেও উপেক্ষা করে চোখে চোখ রেখে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কমাতে পারেনি আনা...
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের নতুন আবেদন ঘিরে আলোচনা। অতীতে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের আবেদনে অনুমতি মেলেনি; এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে বার কাউন্সিল...
কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষ ও নারী-দুই বিভাগেই ‘বি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। দুই বিভাগেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কেনিয়া। আগামী ২৩ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের গুজরাট...
সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে নিহতদের মধ্যে একজন সৌদি নাগরিক ও একজন ভারতীয় বাসিন্দা রয়েছেন; অন্যদিকে আহতদের মধ্যে সৌদি, ভারতীয়, ইয়েমেনি, বাংলাদেশি ও নেপালি নাগরিকরা রয়েছেন।
মোহাম্মদ সাদিক হাসতে হাসতে বলেন, কখনও কখনও তিনি তার সব সন্তানের নামও মনে রাখতে পারেন না। প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের গুনে দেখেন, সবাই বাড়িতে আছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য।
স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই-এর প্রায় তিন লাখ ৭৫ হাজার ফাঁস হওয়া রেকর্ডের প্রাথমিক তদন্তে তিন হাজার ৮৯৭টি রেকর্ডে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত বেহাত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এই তথ্য ব্যবহার করে কীভাবে প্রতারণা করতে পারে অপরাধীরা, আর কীভাবে সতর্ক থাকবেন গ্রাহকরা?
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেটের ভিত্তি প্রযুক্তিতে গুরুতর ত্রুটি চোখের আড়ালে থেকে গিয়েছিল যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকাশ্যে আনতে সাহায্য করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সাইবার-নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হয়েছে।
রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ- অনেকের মধ্যেই দেখা যায় এই প্রবণতা। কিন্তু খাওয়ার পর এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। জেনে নিন কখন এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা নারী কর্মীদের নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলো বলছে, মূলত শারীরিক মানসিক নিপীড়ন, ঠিকমতো বেতন না পাওয়া কিংবা একেবারেই না পাওয়া এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াটাই অধিকাংশ নারী শ্রমিকের ফিরে আসার মূল কারণ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানাচ্ছে, বিভিন্ন সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিদেশি নাগরিকদের অনেকেরই মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেয়নি সৌদি সরকার। কিছুক্ষেত্রে মরদেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও স্বজনদের না জানানোর অভিযোগ পেয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার একটি জনসভায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তার কাছে পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দুই পক্ষ এক হয়ে গেছে। তার এই বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসছে।
বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী মিলে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। ৯৬-এর মতো আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাদারীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য তাইজুল সরদারকে (২৬) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও আলীনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিলন সরদার এবং তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেছেন, উত্তরাঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক।
কাশফুলে ছাওয়া যমুনার চর, বিকেলের নরম রোদ আর নদীর বাতাস; প্রকৃতির এমন মায়াবী পরিবেশে গান, কবিতা ও সাহিত্য আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন পাঠাগারের সদস্যরা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলছে সরকারি ছুটি। অনেকেই দর্শনীয় স্থানে ঘুরে-ফিরে ছুটি উপভোগ করছেন। রাজধানীর রমরমা অবস্থা রমনা উদ্যানের। সেখানে বিনোদনপ্রেমী মানুষের ঢল নেমেছে।
চাঁদপুর সদরের ইব্রাহীমপুরে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ঝিল তৈরি করে মাছ চাষের নামে দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ ও প্রিয় গিটারবাদক রাসেল খান মারা গেছেন।
বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আজিজুল হক (৮৫) নামে বৃদ্ধের ১৪ শতক কৃষিজমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।