পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মতবিনিময় সভায় অস্ত্র আইনের মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
<p>যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও নরওয়ে আগেই তাদের দেশে ইসরায়েলের উগ্র ইহুদিবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে কথা বলেছিলেন।</p><p> ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) স্মোতরিচ ও তাঁর চরম ডানপন্থী সহকর্মী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে জোটগতভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সেই মাসের শেষ দিকে ইইউ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাও দেয়।</p><p> ঠিক ওই সময় ভারত স্মোতরিচকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেয়। তাঁর জন্য কয়েকটি শহর সফরের আয়োজন করে। নয়াদিল্লিতে তিনি একটি বাণিজ্যচুক্তি সই করেন। মুম্বাইয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ ঘুরে দেখেন। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজ রাজ্য গুজরাটে গিয়ে একটি নতুন বিনিয়োগকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।</p><p> ইসরায়েল তখন গাজায় জাতিগত নিধন চালিয়ে যাচ্ছিল। স্মোতরিচের ভারত সফরের দিনগুলোতেও ইসরায়েল বোমা হামলা চালিয়ে কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা করেছে। তবু নয়াদিল্লি ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবসা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত ছিল।</p><p>কয়েক দশক ধরে ভারত ছিল ফিলিস্তিনের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থক দেশগুলোর একটি। অন্যদিকে ইউরোপ ছিল ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষকদের অন্যতম। ২০১৪ সালে মোদি ও তাঁর কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসে। তখন থেকে ভারতের অবস্থান স্পষ্টভাবে বদলে যেতে থাকে।</p><p>তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্মোতরিচের সফরের চিত্র আরও নাটকীয় একটি বিষয় সামনে এনেছে। ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ইউরোপও এখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার থেকে সরে এসেছে। অথচ এ সময়ে গাজায় জাতিগত নিধনের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ভারতের ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।</p><p>চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফর করেন। নেতানিয়াহু তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছিলেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।</p><p>জেরুজালেমে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে দুই নেতাই বক্তব্য দেন। সেখানে নেতানিয়াহু মোদিকে বলেন, ‘আপনি ইসরায়েলের মহান বন্ধু। আপনি বন্ধুর চেয়েও বেশি। আপনি একজন ভাই।’</p><h3>৭ অক্টোবরের হামলা যেভাবে সুর বদলে দিল </h3><p>তিন বছর ধরে গাজায় আগ্রাসন চালিয়ে ইসরায়েল অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু রয়েছে। এ সংখ্যা যুদ্ধের আগের জনসংখ্যার প্রায় ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ৩০ জনে প্রায় ১ জন।</p><p>ঐতিহাসিকভাবে ভারত বলে এসেছে, সংঘাত মীমাংসার পথ কূটনীতি ও সংলাপ। সেটা রাশিয়া-ইউক্রেন হোক, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হোক কিংবা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন। নয়াদিল্লির অবস্থান ছিল, যুদ্ধে কোনো সমাধান আসে না।</p><p>কিন্তু আল–জাজিরার অনুসন্ধান ও অন্যান্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজায় চলমান গণহত্যামূলক যুদ্ধের মধ্যেও নয়াদিল্লি ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি করেছে। মোদির আমলে ভারত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ক্রেতা হয়ে উঠেছে।</p><p>২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা চালানো হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোদি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই ‘সন্ত্রাসী হামলার’ নিন্দা জানান। তিনি বলেন, তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’।</p><p>চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল সফরে গিয়ে মোদি ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার প্রসঙ্গ টানেন। ওই হামলা পাকিস্তানভিত্তিক যোদ্ধারা চালিয়েছেন বলে ভারত অভিযোগ করে আসছে। নয়াদিল্লি এ হামলার জন্য পাকিস্তান সরকারকে দায়ী করেছিল। মোদি বলেন, ‘আপনাদের মতো আমাদেরও সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনো দ্বৈত মানদণ্ড ছাড়াই শূন্য সহনশীলতার ধারাবাহিক ও আপসহীন নীতি রয়েছে।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/rfgu7jss/modi-2.webp"><figcaption>একটি উদ্ভাবন সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্মেলনে ইসরায়েল ও ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা (সিইও) অংশ নেন। তেল আবিব, ইসরায়েল, ৬ জুলাই ২০১৭</figcaption></figure><p>বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলকে হামলার শিকার দেশ হিসেবে তুলে ধরার কৌশল মোদিকে সুবিধা দিয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি ভারতকে ইসরায়েলের আরও কাছে নেওয়ার যৌক্তিকতা দাঁড় করাতে পেরেছেন।</p><p>নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াই বলেন, কয়েক দশক ধরে মোদির বিজেপির রাজনীতির বড় অংশ কথিত ‘ইসলামপন্থী সম্প্রসারণবাদ বা ইসলামি সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে’।</p><p>মোদির ইসরায়েলনীতি ও তাঁর দেশীয় রাজনীতির যোগসূত্রের দিকে ইঙ্গিত করে কিদওয়াই বলেন, ‘তাই এটা (ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কে) সহায়ক হয়। এই সম্পর্ক ভারতে যে দেশীয় বয়ান দেখা যায়, তারই সম্প্রসারণ হিসেবে দেখুন।’</p><p>বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতের হিন্দু ডানপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে জায়নবাদী মতাদর্শ সমর্থন করে আসছে। মোদির বিজেপির শিকড় হিন্দুত্ববাদী দর্শনে। এই দর্শনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তর করা। সেই রাষ্ট্র হবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের হিন্দুদের স্বাভাবিক আবাসভূমি। ইসরায়েলও নিজেকে ঠিক এভাবে ইহুদিদের আবাসভূমি হিসেবে দেখে।</p><p>কিদওয়াই উল্লেখ করেন, ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ‘ভারতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব সেই জায়গা পূরণ করছে’। অবশ্য এই মনোভাবের সঙ্গে ‘নয়াদিল্লির বাস্তববাদও যুক্ত। কারণ, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী একটি পক্ষ’।</p><p>নবদ্বীপ সুরি ভারতের সাবেক কূটনীতিক। তিনি মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্কও ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। এই সম্পর্ক ‘বিশেষ করে ভারতীয় সমাজের সেই অংশের মধ্যে, যারা ইসরায়েলের পেশিশক্তিনির্ভর নীতির প্রতি গভীর অনুরাগী’।</p><p>ভারতের ডানপন্থী মহল থেকে মোদির প্রতি বারবার ইসরায়েলের মতো নীতি নেওয়ার আহ্বান এসেছে। ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দমন-পীড়ন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী পাকিস্তানে হামলা চালানো পর্যন্ত—নানা ক্ষেত্রে এমন দাবি উঠেছে।</p><p>সুরি বলেন, ইসরায়েলের দিকে ভারতের এই ঝুঁকে পড়া গাজায় চলমান জাতিগত নিধনের আগে থেকেই শুরু হয়েছে। সাবেক এই কূটনীতিকের ভাষায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির আমলে যে সম্পর্ক মূলত গোপন বা আড়ালে ছিল, তা এখন অনেক বেশি প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে।’</p><p>দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আরেকটি স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে সুরি আল–জাজিরাকে বলেন, ‘দিল্লি স্বীকার করে, ইসরায়েল খুবই শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা অংশীদার। নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে সত্যিকারের মিল রয়েছে।’</p><h3>ভারতের ‘নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নেওয়া উচিত’ </h3><p>ইউরোপে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠতম মিত্রদের কয়েকটি এখন শুধু সমালোচনায় থেমে নেই। গাজায় জাতিগত নিধন এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তারা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরোপের অন্তত ১১টি দেশ ও কানাডা অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।</p><p>অনেক দেশ অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ও তাদের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এসব বসতি স্থাপনকারী ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। স্মোতরিচ ও বেন-গভিরের মতো মন্ত্রীদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশগুলো।</p><p>ভারত অবশ্য উপদেশমূলক বক্তব্য আর যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে হামলার মৃদু বিরোধিতার বাইরে কিছুই করেনি।</p><p>কূটনৈতিকভাবে নয়াদিল্লি এখনো দ্বি–রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান সমর্থন করে। অঞ্চলটিতে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ ও শান্তির আহ্বানও জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক সুরি বলেন, নয়াদিল্লির ‘এসব বিষয়ে আরও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নিতে পারা উচিত’।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/mv63y60c/modi-3.webp"><figcaption>অতিথি খাতায় সই করছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (মাঝে)। পাশে দাঁড়িয়ে দেখছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁয়ে) ও ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট স্মৃতি জাদুঘরের চেয়ারম্যান দানি দায়ান। জাদুঘরের হল অব রিমেমব্রেন্সে শ্রদ্ধা জানানোর পর মোদি অতিথি খাতায় সই করেন। ইয়াদ ভাশেম হলোকাস্ট স্মৃতি জাদুঘর, জেরুজালেম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬</figcaption></figure><p>তবে নিজের দায়িত্ব পালনকালের অভিজ্ঞতা থেকে সুরি আরও বলেন, ‘ইসরায়েল ও ভারতের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে এতটাই ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে যে (ভারতে) ইসরায়েলের সমালোচনা করতে অনীহা দেখা যায়।’</p><p>সুরি আল–জাজিরাকে ব্যাখ্যা করে বলেন, এই অনীহা নানাভাবে প্রকাশ পায়। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সমালোচনা করতে অস্বীকৃতি; গাজায় নৃশংস বলপ্রয়োগের সমালোচনা করতে অস্বীকৃতি; ইরানে হামলার সমালোচনা করতে এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন তুলে ধরতে অস্বীকৃতি।</p><p>রাজনৈতিক বিশ্লেষক কিদওয়াই বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের পার্থক্য আছে। ভারতের বর্তমান নেতাদের ‘সেই ধরনের গতিশীল চিন্তার ঘাটতি রয়েছে; তাঁরা বরং অনেক বেশি গোঁড়া’।</p><h3>ভারতের অবস্থান বদল ও মোদির হিসাব-নিকাশ </h3><p>গাজায় নেতানিয়াহুর নৃশংস ও প্রাণঘাতী হামলায় এমনকি ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসও ক্ষুব্ধ হয়েছে। অথচ সেখানে দুই দলই ইসরায়েলকে সমর্থন করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবাননে ইসরায়েলের বোমা হামলায় সমর্থন বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। আবার একই সময়ে তিনি ইসরায়েলের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনও দিয়েছেন।</p><p>তবে কোনো কিছুই নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদির সৌহার্দ্যে চিড় ধরাতে পারেনি।</p><p>বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন চালানোর ঠিক আগে মোদি ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল সফর করেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরায়েল/ফিলিস্তিন কর্মসূচির পরিচালক ম্যাক্স রোডেনবেক আগে আল–জাজিরাকে বলেছিলেন, এই সফর ছিল ‘নেতানিয়াহুর প্রতি প্রায় ব্যক্তিগত অনুগ্রহ’। তাঁর মতে, ইসরায়েলে ঠিক যখন নির্বাচনী প্রচার শুরু হচ্ছে, তখন এই সফর ‘আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি বাড়িয়েছে’।</p><p>আগের দশকগুলোতে কোনো ভারতীয় নেতার কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ অকল্পনীয় ছিল।</p><p>১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল ভারত। একসময় নয়াদিল্লিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ককে ভালো চোখে দেখা হতো না। এর পেছনে ছিল ভারতের ঔপনিবেশিকতাবিরোধী অতীতের উত্তরাধিকার। তবে অন্তত ১৯৭০-এর দশক থেকে দুই দেশের মধ্যে গোপন সম্পর্ক ছিল।</p><p>১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জায়নবাদকে বর্ণবাদের একটি রূপ আখ্যা দিয়ে প্রস্তাব আনা হয়। ভারত সেই প্রস্তাব সমর্থন করেছিল। ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম অনারব দেশও ভারত। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে বিশ্বে সবার আগে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যেও ভারত ছিল। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ১৯৯২ সালে। এরপর বিভিন্ন সরকার ধীরে ধীরে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছে। তবে ২০১৭ সালে মোদিই প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটি সফর করেন।</p><p>কংগ্রেস এখন বিরোধী দলে। তবে মোদির আগে স্বাধীনতাপরবর্তী বেশির ভাগ সময় দলটিই ভারত শাসন করেছে। কিদওয়াই বলেন, কংগ্রেস ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনকে মুসলিম ভোটারদের কাছে টানার ক্ষেত্রেও সহায়ক মনে করত। শুধু ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানেই ভারতের চেয়ে বেশি মুসলিমের বাস। এর বিপরীতে মোদির হিন্দু-প্রথম রাজনীতি ভারতীয় মুসলিমদের ‘অপর’ করে তোলার ওপর ভর করে বিকশিত হচ্ছে।</p><p>কিদওয়াই আল–জাজিরাকে বলেন, মোদির দল মনে করে, ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নিয়ে তাদের লাভের কিছু নেই; বরং মোদি ইসরায়েলে হামলাকে তথাকথিত সন্ত্রাসের রাজত্ব ও ইসলামি উগ্রবাদের সঙ্গে জুড়ে দিতে চেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুক্তি দাঁড় করাতে চেয়েছেন। আর সেই গণ্ডির মধ্যেই সবকিছুর যৌক্তিকতা খুঁজে নেওয়া হয়।</p>
<p>প্রথম দেখা পরিচিত হওয়ার শুরু, তাই মুহূর্তটি নিয়ে কমবেশি সবার মধ্যেই চাপা উত্তেজনা কাজ করে। কী পরবেন, কী বলবেন, সামনে থাকা মানুষটি আপনাকে পছন্দ করবেন কি না—এসব ভাবনা তো থাকেই। তার সঙ্গে যোগ হয় নিজের জীবন নিয়েও নানা প্রশ্নের সম্ভাবনা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/oaokmxdt/Kabir-Hossain-Kabir-Hossain9.JPG"><figcaption>প্রথম ডেটেই সব বিষয় নিয়ে কথা বলা ঠিক নয়</figcaption></figure><p>আসলে প্রথম ডেট কোনো চাকরির সাক্ষাৎকার নয়। এখানে নিজের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে কাউকে সন্তুষ্ট করার প্রয়োজন নেই; বরং দুজন মানুষ কথা বলবেন, একে অপরকে জানবেন এবং দেখবেন—একসঙ্গে সময় কাটাতে তাঁরা কতটা স্বচ্ছন্দ। তাই কিছু বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে প্রথম দেখাতেই অতিরিক্ত ব্যাখ্যা বা কৈফিয়ত না দিলেও চলে।</p><h3>১. নিজের সীমারেখা</h3><p>প্রথম ডেটেই সব বিষয়ে স্বচ্ছন্দ হওয়া জরুরি নয়। আপনি হয়তো খুব ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলতে চান না কিংবা কোথায় দেখা করবেন, সে বিষয়েও নিজের পছন্দ আছে। এসব জানাতে গিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ‘এটা নিয়ে এখন কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না’—এ কথাটিই যথেষ্ট। </p><p>আপনার সীমারেখা অন্যজনের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে আলাদা যুক্তি দেখাতে হবে না; বরং প্রথম সাক্ষাতেই কেউ আপনার ‘না’কে সম্মান করছেন কি না, সেটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সুস্থ সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান। আপনার স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য অন্যজনের কারণ জানার প্রয়োজন নেই।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/2ye4dodeg4">২০-এর কোঠায় যাঁরা এই কাজ করতেন, ৮০ বছর বয়সে তাঁরাই ছিলেন সবচেয়ে সুখী</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/rg33jbyt/539A4856.jpg"><figcaption>প্রথম ডেটেই নিজেকে পাল্টানোর চেষ্টা করলে পরে সেই আচরণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে</figcaption></figure><h3>২. জীবন এখনো পুরোপুরি গোছানো নয়</h3><p>প্রথমবারের দেখাতেই যে নিজের সব সাফল্য কিংবা নিজের সব ঘাটতি প্রকাশ করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। চাকরি এখনো পছন্দমতো হয়নি, ক্যারিয়ার বদলানোর কথা ভাবছেন, পড়াশোনা শেষ হলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার নয়—এসব নিয়ে হয়তো মনে হতে পারে, অন্যজন কী ভাববেন। কিন্তু মানুষের জীবন সব সময় একই গতিতে থাকে না। </p><p>কারও ক্যারিয়ার আগে গোছানো হয়ে যায়, কারও ব্যক্তিগত জীবন; কেউ আবার দীর্ঘ সময় ধরে নিজের জায়গা খুঁজতে থাকেন। তাই প্রথম দেখাতেই নিজের বর্তমান অবস্থাকে ন্যায্য প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। আপনি এখন যেখানে আছেন, সেটি আপনার জীবনের একটি পর্যায় মাত্র। ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা থাকতে পারে, আবার কিছু বিষয় এখনো অনিশ্চিতও হতে পারে। নিজের এই অনিশ্চয়তাকে লুকিয়ে নিখুঁত একটি জীবন দেখানোর চেয়ে স্বাভাবিক থাকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/8a8h7q0r/Kabir-Hossain-0144.jpg"><figcaption>প্রথম ডেটেই বোঝা ভালো—সামনের মানুষটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনার স্বাভাবিক ছন্দকে সম্মান করেন কি না</figcaption></figure><h3>৩. মেসেজের উত্তর দিতে দেরি হয়েছে</h3><p>সম্পর্কের শুরুতেই মেসেজের উত্তর কত দ্রুত দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অনেক সময় অদৃশ্য এক হিসাব শুরু হয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা উত্তর দেওয়া হয়নি—কেন হয়নি, তার ব্যাখ্যাও যেন দিতে হবে। অথচ কাজের ব্যস্ততা, পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা—সবই জীবনের স্বাভাবিক অংশ। অবশ্যই কাউকে ইচ্ছা করে দিনের পর দিন উপেক্ষা করা আর ব্যস্ততার কারণে কয়েক ঘণ্টা পর উত্তর দেওয়া এক বিষয় নয়। </p><p>যোগাযোগে আগ্রহ থাকলে সেটি প্রকাশ করাও জরুরি। তবে প্রতিটি দেরির জন্য দীর্ঘ কৈফিয়ত দেওয়ার অভ্যাস সম্পর্কের শুরুতেই অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করতে পারে। একটি সম্পর্কের জায়গা এমন হওয়া উচিত, যেখানে মানুষ নিজের কাজ করতে গিয়ে অপরাধবোধে ভুগবেন না। তাই প্রথম ডেটেই বোঝা ভালো—সামনের মানুষটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনার স্বাভাবিক ছন্দকে সম্মান করেন কি না।</p><h3>৪. নিজের স্বভাবের জন্য ক্ষমা চাওয়া</h3><p>‘আমি একটু বেশি কথা বলি’, ‘আমি আসলে খুব চুপচাপ’, ‘আমি অনেক প্রশ্ন করি, কিছু মনে করবেন না’—প্রথম ডেটে নিজের স্বভাবের জন্য আগেই ক্ষমা চাওয়ার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই থাকে। অবশ্য নিজের আচরণে অন্য কেউ অস্বস্তি বোধ করলে তা বোঝার চেষ্টা করা দরকার। কিন্তু শুধু অন্যজনকে খুশি করার জন্য নিজের স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বকে ছোট করে দেখানোর প্রয়োজন নেই। </p><p>আপনি কথা বলতে ভালোবাসেন, একটু লাজুক, অনেক প্রশ্ন করেন কিংবা নিজের মতামত সরাসরি জানান—এসবই আপনার ব্যক্তিত্বের অংশ। প্রথম ডেটেই নিজেকে পাল্টানোর চেষ্টা করলে পরে সেই আচরণ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে; বরং প্রথম দেখার অন্যতম উদ্দেশ্যই হওয়া উচিত—দুজন মানুষ নিজেদের স্বাভাবিক অবস্থায় কতটা স্বচ্ছন্দ থাকতে পারেন, তা বোঝা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/travel/jj28dw2gvk">ঘুরে আসুন ঢাকার নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে, যেখানে আছে মাছ, পাখি ও জলপ্রপাত</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-08/2s8ybwrw/_SY_2996.JPG"><figcaption>মনে রাখবেন, প্রথম ডেট কোনো চাকরির সাক্ষাৎকার নয়</figcaption></figure><h3>৫. এখনো সিঙ্গেল কেন</h3><p>প্রথম ডেটেই ‘তুমি এখনো সিঙ্গেল কেন?’ এমন প্রশ্ন আসতে পারে। প্রশ্নটি শুনে অনেকেই নিজের পুরোনো সম্পর্ক, বিচ্ছেদ, কেন কোনো সম্পর্ক টেকেনি—সবকিছুর বিস্তারিত বলতে শুরু করেন। অথচ একা থাকা এমন কোনো বিষয় নয়, যার সমাধান বা ব্যাখ্যা দিতে হবে। হয়তো আপনি ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, হয়তো নিজের মতো থাকতে চেয়েছেন, আবার হয়তো উপযুক্ত মানুষের সঙ্গে এখনো দেখা হয়নি।</p><p>কারণ যা–ই হোক, সেটি কতটা বলবেন, তা আপনার সিদ্ধান্ত। প্রথম দেখাতেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতিহাস খুলে বলার বাধ্যবাধকতা নেই। আরেকটি বিষয়ও মনে রাখা ভালো যে কেউ সিঙ্গেল কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর শুনে তাঁকে বিচার করার প্রবণতা থাকলে সেটিও খেয়াল করার মতো বিষয়।<br>প্রথম ডেট শুধু কাউকে পছন্দ করানোর সুযোগ নয়; দুজনের একে অপরকে জানারও সময়। তাই নিজের জীবন, সিদ্ধান্ত বা ব্যক্তিত্বের প্রতিটি দিকের ব্যাখ্যা না দিয়ে কথোপকথনকে স্বাভাবিক হতে দিন। প্রথম দেখা কোনো পরীক্ষা নয়, নিজের মতো থাকার জন্য এখানে কোনো কৈফিয়তেরও প্রয়োজন নেই।</p><p><sup>টাইমস অফ ইন্ডিয়া অবলম্বনে হুমায়রা মাহজাবিন</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/ftzp3k00ic">শজনে ভেবে লাজনা খাচ্ছেন কি? দুটির পার্থক্য জেনে রাখুন</a></aside>
পরীক্ষার পদ্ধতি সহজ। ৮৪ জন মানুষকে বুনো পাখির ডাকের রেকর্ডিং শোনানো হলো। পাখি ছিল ১২৩ প্রজাতির। প্রতিটা ডাক শুনে তাঁদের নম্বর দিতে হলো, পাঁচের মধ্যে
<p>১৪ বছর বয়সে লেখালেখির শুরু। এরপর দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে গল্প, উপন্যাস ও ভ্রমণকাহিনিতে নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছেন <strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>। মুক্তিযুদ্ধসহ জীবনের নানা অভিঘাত তাঁর লেখকসত্তাকে সমৃদ্ধ করেছে। নিজের সাহিত্যিক জীবনকে তিনি বলেছেন, ‘স্রোতস্বিনী এক নদী’, যা কালের অভিজ্ঞতায় ধীরে ধীরে ‘ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নদের’ রূপ নিয়েছে। সাহিত্য, জীবন ও সময়ের নানা প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে<em> প্রথম আলো</em>র পক্ষে কথা বলেছেন <strong>ফিরোজ এহতেশাম</strong>।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আপনি একই সঙ্গে চিকিৎসক ও সাহিত্যিক। চিকিৎসা করতে গিয়ে মানুষের মন সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা আপনার সাহিত্যিক দৃষ্টিকে কতটা প্রভাবিত করেছে?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমি ১৪ বছর বয়স থেকেই লিখছি। তখনই বড়দের সাহিত্য পাতায় আমার লেখা স্থান পেয়েছে। ছোটদের পাতায় তো নিয়মিত একজন লেখক ছিলাম আমি। একটি লেখা নয়, অসংখ্য লেখা।</p><p>বড় হয়ে ডাক্তারি পাস করারও অনেক বছর পর মানসিক ব্যাধিবিদ্যায় জ্ঞান অর্জন করি। তার আগেই আমার দু–দুটো বই বেরিয়ে গেছে। অগ্রণী ব্যাংক–শিশুসাহিত্য পুরস্কারও আমার ঝোলায় এসে জুটেছে। সুতরাং এই ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে তাড়াতে হবে যে আমি মনোবিদ হওয়ার পর মানুষের মন জেনেছি, তারপর লিখেছি! আমি মনোবিদ হয়েছি মধ্য বয়সে। তবে হ্যাঁ, মানুষের যাপিত জীবনের অভিজ্ঞতা তার লেখায় ছায়া ফেলে। এই বিদ্যা আমাকে আরও বেশি করে আমার লেখায় মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে।</p><p>চিন্তা করে দ্যাখো, আমাদের বাংলা সাহিত্যে কজন মনোবিদ লেখক এখন পর্যন্ত লিখছেন। আর কজন মনোবিদ না হয়েও বাংলা সাহিত্যকে টেনে নিয়ে গিয়েছেন বিশ্বের দরবারে। সুতরাং এসব আলোচনায় না গিয়ে আমার সাহিত্যকে খোলাচোখে মূল্যায়ন করতে অনুরোধ করি।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>মানুষের গভীরতম ভয়, সংকট ও গোপন কথার মুখোমুখি তো আপনি হয়েছেন। সে অভিজ্ঞতা কি আপনার গল্প-উপন্যাসের চরিত্র নির্মাণে প্রভাব ফেলেনি?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: না, সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবে হ্যাঁ, মানুষের অনেক সংকট ও গোপন কথার মুখোমুখি হয়েছি সত্যি। তবে তার সবই মানুষের যাপিত জীবনের কথা, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ঘটে থাকে। বরং এটা বলা যায়, আমার পেশা কিছুটা আমার জীবনের অভিজ্ঞতাকে পোক্ত করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রত্যেক লেখকের নিজস্ব কলমের জাদু তাঁর লেখার ভেতরে মেশানো আছে।</p><blockquote>মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মাথার ওপরে বোমা পড়ছে, আমি তখন গাড়ি চালিয়ে এয়ারফোর্সের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রনে যাচ্ছি বাঙালি প্রসূতির বাচ্চা ডেলিভারি করতে! কাদা দিয়ে আমার গাড়িটিকে আমি লেপটে ফেলেছি, যেন ওপর থেকে না দেখা যায়। সেই রাস্তায় একটিও জনমানব নেই, শুধু আমি একাকী। আবার রাতের গভীর অন্ধকারে পাকিস্তানি ড্রাইভারের জিপে চড়ে চলেছি বাঙালি বন্দীদের চিকিৎসা করতে।</blockquote><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আপনার লেখায় নারীজীবন ও নারীর মনস্তত্ত্বের নানা জটিলতা উঠে এসেছে। একজন নারী হিসেবে কোন অভিজ্ঞতাগুলো আপনাকে সবচেয়ে বেশি লিখতে বাধ্য করেছে?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: নারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে আমি লিখেছি বটে, তবে পুরুষের মনস্তত্ত্ব নিয়েও কম লিখিনি। যেহেতু আমি অনেক লিখেছি এবং নারীর কথা প্রায়ই লিখেছি, তাই এই লেখা বেশি হয়েছে। আমি ছেলেবেলা থেকে নারীর দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, হতাশা এবং অহেতুক মারধরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত, তাই এই সব লেখা বেশি হয়েছে।</p><p>নারীর জীবনের অনেক হতাশা আছে, যা শুরু হয় তার শৈশব থেকে, যখন সে দেখে সে বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও তার খাবারের পরিমাণ তার ছোট ভাইয়ের চেয়ে অনেক কম, তার হাত খরচের পরিমাণ তার চার বছরের ছোট ভাইয়ের চেয়ে অনেক কম, তখন তার মনে প্রশ্ন জাগে, কেন? সেসব হতাশার ভেতর দিয়ে সাঁতার কেটে একজন মেয়েশিশুকে জীবনের পথে অগ্রসর হতে হয়। এসব অভিজ্ঞতা আমার লেখার ভেতরে হয়তো জারিত হয়ে আমাকে নারীদের বিষয়ে বেশি মনোযোগী করে তুলেছে।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আপনার সাহিত্যিক জীবনের শুরু এবং আজকের অবস্থানের মধ্যে ফিরে তাকালে কোন জায়গাটিকে সবচেয়ে বড় বাঁক বলে মনে হয়?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমার সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়েছিল স্রোতস্বিনী এক নদীর মতো। কালের অভিজ্ঞতায় সেই নদী হয়তো ধীরে ধীরে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ নদের রূপ নিয়েছে। সবচেয়ে বড় বাঁক আমার জীবনে আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আমার নাজুক অবস্থানের ওপর; বাঙালি মুসলমান হিসেবে আমার অসহায় অস্তিত্বের ওপর; স্বামীহীন, স্বজনহীন হয়ে বেঁচে থাকার সংকটের ওপর এবং নিজের জীবনের গভীরতম ঝুঁকি নিয়ে নিকট আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে নিরাপদে রাখার সংগ্রামের ওপর। প্রতিমুহূর্তের সেই সংগ্রামের কথা বলে শেষ করা যাবে না। সেই সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জীবনকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি।</p><p>মুক্তিযুদ্ধের সময় যখন মাথার ওপরে বোমা পড়ছে, আমি তখন গাড়ি চালিয়ে এয়ারফোর্সের মেডিক্যাল স্কোয়াড্রনে যাচ্ছি বাঙালি প্রসূতির বাচ্চা ডেলিভারি করতে! কাদা দিয়ে আমার গাড়িটিকে আমি লেপটে ফেলেছি, যেন ওপর থেকে না দেখা যায়। সেই রাস্তায় একটিও জনমানব নেই, শুধু আমি একাকী। আবার রাতের গভীর অন্ধকারে পাকিস্তানি ড্রাইভারের জিপে চড়ে চলেছি বাঙালি বন্দীদের চিকিৎসা করতে। সে সময় আমি মানুষ, মানুষের জীবন, ধর্ম, দেশ, সমাজ, দেশপ্রেম, আনুগত্য সবকিছুর ভেতরে নাগরদোলার মতো ঘুরপাক খাচ্ছি। আমাকে কেউ সাহায্য করার নেই। আমার জীবনসঙ্গীটিও সঙ্গে নেই, যার কাছ থেকে আমি ধার করতে পারি সাহস।</p><p>আমার পরবর্তী জীবনে কেউ এ জন্য আমাকে কোনো বাহবা দেয়নি—না আমার পরিবার, না আমার সমাজ। সেই সময়কার অভিজ্ঞতা আমাকে মানবের জীবন ও তার অস্তিত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।</p><blockquote>তিনি আমার আজীবনের জীবনসঙ্গী ছিলেন এবং সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে সাহিত্য রচনা করতেন। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে মিলত না। আমি সম্পূর্ণভাবে পৃথক ও স্বাবলম্বী ছিলাম। সত্যি বলতে আমরা বোধ হয় দুজনের কেউই এসব নিয়ে কোনো দিন কথা বলিনি। লেখার সময় তিনি এক ঘরে, আমি অন্য ঘরে। তবে হ্যাঁ, বাংলা বানান নিয়ে আমি তাঁকে খুব জ্বালিয়েছি!</blockquote><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>বাস্তব মানুষ ও সাহিত্যিক চরিত্রের মধ্যে সীমারেখাটি আপনি কীভাবে নির্ধারণ করেন?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: এটি একজন লেখকের নিজস্ব বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা ও কল্পনাশক্তির ওপরে নির্ভর করে। তবে আমি কখনোই মানুষের অভিজ্ঞতাকে আমার নিজের কল্পনার ক্ষমতায় আত্মস্থ না করে ব্যবহার করিনি। আমি চিকিৎসক না হয়ে যদি একজন চাকরিজীবীও হতাম, তাহলেও একইভাবে লেখার চেষ্টা করতাম। তা না হলে সাহিত্য আর সাংবাদিকতায় তফাত থাকত না। তবে ভবিষ্যতের কথা বলতে পারি না। কারণ, আজকাল অনেক সাংবাদিকতা সাহিত্যকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে! সৈয়দ শামসুল হকও একদিন বলেছিলেন, ভবিষ্যতের সাহিত্য হবে পরিশ্রুত সাংবাদিকতা।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>সৈয়দ শামসুল হকের মতো একজন শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র সাহিত্যিকের জীবনসঙ্গী হওয়ায় আপনার নিজের লেখকসত্তা অন্তরালে পড়ে গেছে বলে মনে হয়েছে কি কখনো?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: কখনোই না। তিনি আমার আজীবনের জীবনসঙ্গী ছিলেন এবং সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে সাহিত্য রচনা করতেন। তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা আমার সঙ্গে মিলত না। আমি সম্পূর্ণভাবে পৃথক ও স্বাবলম্বী ছিলাম। সত্যি বলতে আমরা বোধ হয় দুজনের কেউই এসব নিয়ে কোনো দিন কথা বলিনি। লেখার সময় তিনি এক ঘরে, আমি অন্য ঘরে। তবে হ্যাঁ, বাংলা বানান নিয়ে আমি তাঁকে খুব জ্বালিয়েছি! নিজের লেখাকে আমি কোনো দিন হেলাফেলাও করিনি। বাস্তব জগতে আমি অনেক পাঠকের ভালোবাসা পেয়ে ধন্য হয়েছি।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে সাহিত্য নিয়ে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল? আপনারা কি পরস্পরের লেখা নিয়ে নির্মোহ সমালোচনা করতেন?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমরা আমাদের কোনো লেখা নিয়ে কোনো দিন আলোচনা করবার যেন সময়ই পাইনি! শুনতে অবশ্যই আশ্চর্য মনে হবে, তবে এটাই সত্যি। তাঁর অধিকাংশ লেখার সময় হয় তিনি দেশে, আমি বিদেশে; অথবা তিনি বিদেশে, আমি দেশে। আর একসঙ্গে যখন ছিলাম, দুজনের লেখা বেরোত, আমার কেন জানি খুব লজ্জা হতো আমার কোনো লেখার কথা নিজ মুখে বলতে। তবে তিনি মাঝেমধ্যে বলতেন, আমার লেখার রেঞ্জ নাকি অনেক বড়। ব্যস, এইটুকু। আরেক দিন শুনলাম তিনি একজনকে বলছেন, আমার ভ্রমণকাহিনিগুলো নাকি দুর্দান্ত। তবে আমি যে ভালো লিখি, এ কথা তো আমি বাংলা একাডেমি বইমেলার সময় একবার নিজেই<strong> </strong>বলেছিলাম।<strong> </strong>বস্তুত বাংলা একাডেমি পুরস্কার আমি যে বয়সে পেয়েছি, সে বয়সে মানুষের কবরে থাকার কথা!</p><blockquote>সাফল্য জীবনে এল কি এল না, তা আমার মাথাব্যথা নয়। পৃথিবীর বহু লেখক ও শিল্পী তাঁদের জীবদ্দশায় সাফল্য চোখে দেখেননি, কিন্তু তাঁরা অমর হয়ে আছেন। আবার পৃথিবীর বহু লেখক জীবনে সাফল্য দেখেছেন, কিন্তু মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছেন। পাঠকের মনে থাকাটাই একজন লেখকের লেখার সাফল্য।</blockquote><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>একজন লেখকের ব্যক্তিজীবন কতটা তাঁর সাহিত্যের বিষয় হতে পারে? নিজের জীবনকে সাহিত্যে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কি আপনার কোনো সীমারেখা ছিল?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: সাহিত্য একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপাদানে তৈরি হয় বলে আমার ধারণা। জগৎ ও জীবন, বাস্তব অভিজ্ঞতা, বই পড়ার অভিজ্ঞতা, নিজের ব্যক্তিগত শৈশবের অভিজ্ঞতা, প্রেম, ভালোবাসা, ঈর্ষা, ক্ষয়, ক্ষোভ, মনোমালিন্য, রাজনীতি, যুদ্ধ—সবই লেখার উপজীব্য। তবে সাহিত্যে এর উপস্থাপন লেখকের হাতের জাদুর ওপর নির্ভর করে।</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আপনি যে বই বা চরিত্রগুলো সৃষ্টি করেছেন, সেগুলোর দিকে আজ ফিরে তাকালে কোন কাজটিকে নিজের সবচেয়ে কাছের বলে মনে হয়?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: সব কাজই আমার কাছের। কোনো কাজই হেলাফেলার নয়। সাহিত্যের প্রতিটি অক্ষরে আমার ঘাম ও মেধা জড়িত। যেন এরা সব নিজেরই ঔরসজাত সন্তান। তবে লিখে আনন্দ পেয়েছি<em> নিঃশব্দতার ভাঙচুর</em>, <em>ব্যবহৃতা</em>, <em>নখ</em>, <em>অস্থিরতার কাল</em>, <em>ভালোবাসার সময়</em>, <em>গুজরিপঞ্চম</em>, <em>ঘুমন্ত খেলোয়াড়</em>, <em>জলনুড়ি</em>—এই সব উপন্যাস আর কিছু ছোটগল্প, এখন আর সেসবের নাম মনে করতে পারছি না। সেদিন কে যেন বললেন, আমার বইয়ের সংখ্যা বর্তমানে নাকি দেড় শর মতো। আমি এসব ব্যাপারে চিরকাল অগোছালো। এখন তো আরও। আমি মানুষের চেহারা ও নাম মনে রাখতে পারি না, কয়েকবার দেখা না হওয়া পর্যন্ত। এসব নিয়ে আমাকে জীবনে বহুবার হেনস্তা হতে হয়েছে। সৈয়দ হক বেঁচে থাকা অবস্থায় আমাকে অপ্রতিভ হওয়ার অবস্থা থেকে বাঁচাতেন। এখন তো তিনি নেই। তাই আমি বর্তমানে অপ্রতিভ হয়েই চলেছি!</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>আজকের তরুণ লেখকদের লেখা পড়লে তাঁদের মধ্যে কোন পরিবর্তনটি আপনার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে? তাঁদের লেখায় আপনি কী সম্ভাবনা ও সংকট দেখেন?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: তরুণ লেখকেরা আমার নমস্য। আমি তাদের অধিকাংশের লেখা পছন্দ করি। হাতে পেলে পড়ি। আমি প্রশংসা করি তাদের সাহসী দৃষ্টিভঙ্গি ও ত্বরিতে নতুন নতুন উদ্ভাবনী শক্তির জন্য। আমার ধারণা, তারা অনেক দূর যাবে, তবে আঠার মতো লেগে থাকতে হবে!</p><p><strong>প্রথম আলো</strong>: <em>জীবনের এই পর্যায়ে এসে ‘সাফল্য’ শব্দটির অর্থ আপনার কাছে কী? পুরস্কার, পাঠকের ভালোবাসা, নাকি নিজের লেখা নিয়ে তৃপ্তি—কোনটি শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ?</em></p><p><strong>আনোয়ারা সৈয়দ হক</strong>: আমি ‘সাফল্য’ শব্দটির অর্থ বুঝি না, আমি বুঝি শুধু কাজ। আর এই কাজের জন্য বলতে গেলে আমি সব হারিয়েছি। মানুষের বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আতিথেয়তা, আত্মীয়স্বজনের কাছে নিজের দাম—সব। সাফল্য জীবনে এল কি এল না, তা আমার মাথাব্যথা নয়। পৃথিবীর বহু লেখক ও শিল্পী তাঁদের জীবদ্দশায় সাফল্য চোখে দেখেননি, কিন্তু তাঁরা অমর হয়ে আছেন। আবার পৃথিবীর বহু লেখক জীবনে সাফল্য দেখেছেন, কিন্তু মৃত্যুর পর হারিয়ে গেছেন। পাঠকের মনে থাকাটাই একজন লেখকের লেখার সাফল্য। আমি কোনো পাঠকের মনে আছি কি না জানি না, তবে না থাকার সম্ভাবনা শতকরা এক শ ভাগ। তবে আমার নিজেরই নিজের লেখার প্রতি একধরনের অতৃপ্তি আছে।</p>
‘দেউলিয়া’ ঘোষণা করলে পাওনাদাররা কি টাকা ফেরত পায়? আইন কী বলে?
জুমার দিনের কিছু কাজ থেকে বিরত থাকারও নির্দেশনা রয়েছে। জুমার দিনের পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রাখতে যেসব কাজ পরিহার করা উচিত। আলোচনা করা হলো।
ব্রাজিলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট ভাগ করেছে সান্তোস। জোড়া গোল করেন সান্তোস তারকা নেইমার।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন