মধ্যপ্রাচ্য

হুতিদের ঠেকাতে আবার একজোট সৌদি আরব-আমিরাত: ইয়েমেন যুদ্ধ নিতে পারে নতুন মোড়

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
হুতিদের ঠেকাতে আবার একজোট সৌদি আরব-আমিরাত: ইয়েমেন যুদ্ধ নিতে পারে নতুন মোড়
হুতিদের ঠেকাতে আবার একজোট সৌদি আরব-আমিরাত: ইয়েমেন যুদ্ধ নিতে পারে নতুন মোড়
<p>ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অগ্রগতির মুখে আবারও তাদের সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত হতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ইয়েমেনের কয়েকটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সরকারপন্থী কিছু বাহিনীকে আবারও অর্থ দেওয়া শুরু করবে আমিরাত। বিনিময়ে হুতিবিরোধী এসব বাহিনীকে আকাশপথে সুরক্ষা দেবে সৌদি আরব।</p><p>ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে। নতুন এ সহযোগিতা সেই বিরোধ কমানোর প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ। ইয়েমেনজুড়ে হুতিদের অগ্রগতি উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী শাসকদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।</p><p>সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। হুতিদের এসব হামলায় দেশটির বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।</p><blockquote>ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে গভীর মতবিরোধ রয়েছে। নতুন এ সহযোগিতা সেই বিরোধ কমানোর প্রথম দৃশ্যমান লক্ষণ।</blockquote><p>ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’কে একসময় প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন দিত আরব আমিরাত। এটিকে হুতিবিরোধী সামরিক জোটের অন্যতম কার্যকর বাহিনী হিসেবে ধরা হয়। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইয়েমেনের ভেতরে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা চালানো থেকে সরে যায় আমিরাত। তখন জায়ান্ট ব্রিগেডসকে দেশটির দেওয়া অর্থায়নও বন্ধ হয়ে যায়।</p><p><strong>ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বিরোধ এখনো কাটেনি</strong></p><p>ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ সপ্তাহে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের দাবি জানিয়েছে। তবে সৌদি আরব বা আমিরাত—কেউ এ পর্যন্ত সে দাবির জবাব দেয়নি। এমন গণভোট হলে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত যে সীমান্তে ইয়েমেন দুটি আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ছিল, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।</p><p>বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)’ এখনো পুরোনো ইয়েমেনের (সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেন) দক্ষিণাঞ্চলের সীমানার বাইরে তাদের সেনাদের লড়তে দিতে রাজি হয়নি। তবে সৌদি আরব যদি স্পষ্টভাবে গণভোটে সম্মতি দেয়, তবে এ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হতে পারে।</p><aside><cite>মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি, ইয়েমেন সরকারের তথ্যমন্ত্রী</cite>গত শুক্রবার দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের যাত্রাবাহী উড়োজাহাজ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার এবং রানওয়ের মাঝামাঝি জায়গা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে।</aside><p>এডেনভিত্তিক জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার গত সপ্তাহে রাজধানী সানা থেকে হুতিদের হটাতে পাল্টা অভিযান শুরু করে। তবে মারিবের কাছে মাজজার এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি এলাকায় এখন পর্যন্ত তাদের সাফল্য সীমিত।</p><p>এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির সঙ্গে সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগও নেই। গত জানুয়ারিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।</p><p>এ ঘটনার জবাবে এসটিসি বাহিনীর জন্য আমিরাতের পাঠানো অস্ত্রের চালানে বোমা হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব। এরপর ইয়েমেনের সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারও আল-জুবাইদিকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেছিল।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/qowg311tet">এডেন বিমানবন্দরে হামলা, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ৫০০ মিটার দূরে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্র</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/65b7nodd/Yemeni-Southern-Giants.jpg"><figcaption>অস্ত্র হাতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের জায়ান্ট ব্রিগেডসের যোদ্ধারা</figcaption></figure><p><strong>তাইজ ও মারিব দখলে নিতে চায় হুতিরা</strong></p><p>যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হুতিরা শেষ পর্যন্ত তাইজ ও মারিব দখলে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেনের সীমানার বাইরে থাকা দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এগুলো।</p><p>গত শুক্রবার হুতিদের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এডেন বিমানবন্দরে আঘাত হানে। তখন একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।</p><p>ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের উড়োজাহাজটি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার এবং রানওয়ের মাঝামাঝি জায়গা থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে পড়ে।</p><p>এর এক দিন আগে এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হুতিদের হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হন।</p><blockquote>এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদির সঙ্গে সৌদি কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই। গত জানুয়ারিতে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং দুই বছরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবুধাবিতে পালিয়ে যান।</blockquote><p><strong>সৌদির পাশে থাকার কথা মিসরের</strong></p><p>মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেছেন, সৌদি আরবকে রক্ষায় দেশটির সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকছেন তিনি।</p><p>তবে সিসি জোর দিয়ে বলেন, মিসর কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে না। শুধু সৌদি আরবকে রক্ষায় ব্যবস্থা নেবে।</p><p>সৌদি আরব সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে আরও সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তা নিয়ে যুক্তরাজ্যেও আলোচনা চলছে। দেশটি ইতিমধ্যে আকাশে উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত একটি আরএএফ ভয়েজার উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে। তবে আঞ্চলিক কূটনীতিকেরা যুক্তরাজ্যকে আরও বেশি ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।</p><p>একই সঙ্গে ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/om2qes3vt2">এবার সৌদি আরবের অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি হুতিদের, দুই ক্রু নিহত</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/ewppjsa0/People-unload.jpg"><figcaption>ট্রাক থেকে গমের আটা নামাচ্ছেন কয়েকজন। সম্প্রতি ইয়েমেনের তাইজ শহরে। অবরুদ্ধ শহরটিতে খাদ্য সরবরাহ ক্রমশ কমে আসছে</figcaption></figure><p><strong>ব্রিটিশ সহায়তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন</strong></p><p>ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন বিমান অভিযানে যুক্তরাজ্য ব্যাপকভাবে সমর্থন দিলে তার আইনি প্রভাব কী হতে পারে, সেটি বিবেচনা করা হচ্ছে।</p><p>যুক্তরাজ্যের আপিল আদালত ২০১৯ সালে রায় দিয়েছিলেন, ২০১৫–১৬ সালে ইয়েমেনে সৌদি বোমা হামলার সময় অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার বেআইনিভাবে কাজ করেছিল।</p><p>অস্ত্রবাণিজ্যবিরোধী সংগঠন ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট আর্মস ট্রেডের অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি যুক্তরাজ্য। পরে ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রক্রিয়া সংশোধন করে।</p><p>সৌদি আরবের দাবি, এর পর থেকে তারা তাদের সামরিক পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। দেশটি আরও বলছে, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তারা আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করছে।</p><blockquote>ওমান, কাতারসহ অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।</blockquote><p>জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৫ অক্টোবর একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি গ্রহণ করে। এতে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকার করা হয়।</p><p>ইয়েমেনে আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নতুন করে যুদ্ধে এ পর্যন্ত কত মানুষ নিহত হয়েছেন, তার নির্ভুল হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে জাতিসংঘের হিসাবে, দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এতে এডেনভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ ক্রমে বাড়ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/b99crfed8r">ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ৫, আহত ১৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/4fgz6cli9l">হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র</a></aside>

Prothomalo

View more
সাড়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইনু ও হাছান মাহমুদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সাড়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইনু ও হাছান মাহমুদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

<p>বাংলাদেশ বেতারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জের ম্যুরাল নির্মাণের নামে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় সাবেক দুই তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও মোহাম্মদ হাছান মাহমুদসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে।</p><p>আজ রোববার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।</p><p>দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো উপাদান অপরিহার্য হলে তা ডিপিপি সংশোধন করে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কিন্তু ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য নির্মাণ অপরিহার্য ছিল না। নীতিমালা লঙ্ঘন করে এটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।</p><p>মামলার অন্য আসামিরা হলেন বাংলাদেশ বেতারের সাবেক দুই মহাপরিচালক এ কে এম নেছার উদ্দিন ভূঞা ও নারায়ণ চন্দ্র শীল, সাবেক সিনিয়র প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, উপস্টেশন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রহমান, প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস।</p><p>মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে সাত কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই বছরের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্পের আওতায় ম্যুরাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির সভায় কাজটি মূল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।</p><p>দুদকের অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০১৯ সালের ৭ মে বাংলাদেশ বেতারের তৎকালীন মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলের নির্দেশে ব্রোঞ্জের ম্যুরাল নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক প্রবাল কান্তি দাস দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেন। ওই বছরের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ম্যুরালের নকশা অনুমোদন করা হয়।</p><p>এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের ১২ জুন পর্যন্ত নয়টি বিলের মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা তুলে নেয়। কিন্তু দুদক অনুসন্ধানকালে বাংলাদেশ বেতারের আগারগাঁও কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শন করে সেখানে ম্যুরালের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি।</p><p>দুদক জানায়, প্রকল্পের অপরিহার্য অংশ না হওয়া সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে ম্যুরাল নির্মাণের কাজটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এভাবে পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫
স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/bo1r765h/WhatsApp-Image-2026-10-18-at-6.35.58-PM.jpeg"><figcaption>যুবদল কর্মী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন</figcaption></figure><p>চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল কর্মী তারেক হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন এ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। গত শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।</p><p>আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মো. মাসুদ আলম বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তারেককে গুলি করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলবার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।</p><p>গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন আরিফ হোসেনের সহযোগী ফখরুল ইসলাম, আবদুল মান্নান, আরিফুল ইসলাম ও মো. ইফতেখার।</p><p>গত শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড় এলাকায় তারেক হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা মো. ইমন গুলিবিদ্ধ হন। নিহত তারেক উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার বাসিন্দা কুরবান আলীর বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে। আহত ইমন একই এলাকার ইউসুফের ছেলে।</p><p>প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রাতে খাবার খেয়ে তারেক তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। ইমনকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন তারেককে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্যরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।</p><p>এ সময় ইমন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে তারেকের বুকে গুলি করা হয়। আরেকজনও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তারেক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।</p><p>গুলির শব্দ শুনে কাছাকাছি থাকা তাফসির আলম তারেককে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তারেক ও তাফসির দুজনই গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। হামলাকারীরা তাঁদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাঁরা পালিয়ে যান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/jb95o13syu">যুবদল নেতার কার্যালয়ে আসেন দুই কর্মী, কিছুক্ষণ পরই গুলিতে প্রাণ গেল একজনের</a></aside><p>চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এসব বিষয় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরিফসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।</p><p>সীতাকুণ্ড এলাকায় আড়াই শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদনপ্রক্রিয়া শেষে অবশিষ্ট, বাতিল বা অব্যবহৃত ধাতব অংশ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হয়। এসব স্ক্র্যাপের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময়ে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
প্যারিসের অস্থিরতা: ক্ষোভের শরীরে আগুনের চেহারা
প্যারিসের অস্থিরতা: ক্ষোভের শরীরে আগুনের চেহারা

<p>আজ সকালেই কথা হচ্ছিল বন্ধু এমদাদ রহমানের সঙ্গে। দীর্ঘদিন সে প্যারিসে বাস করে আসছে। এখনকার মতো এত বাজে পরিস্থিতি আগে কখনো দেখেনি। শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্যারিসের আফ্রিক, তিউনিসীয় আর আলজেরীয় তরুণেরাই সবচেয়ে সহিংস হয়ে উঠেছে। রয়টার্স একে দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ সহিংসতাগুলোর একটি বলেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে। কয়েক লাখ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করেছেন, আর সহিংসতা ঘটিয়েছে তুলনামূলক ছোট কিছু গোষ্ঠী। অর্থাৎ ‘প্যারিসে দাঙ্গা’ কথাটা আংশিক সত্য। এটি একটি বিশাল গণ–আন্দোলন, যার প্রান্তে বা ভেতরে সহিংসতা ঢুকে পড়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সারা দেশে প্রায় ৫,৫০,০০০ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, প্যারিসে প্রায় ১,১০,০০০। সিজিটি ইউনিয়ন বলছে সংখ্যাটা ৮,০০,০০০। রয়টার্সের তুলনা অনুযায়ী এই জমায়েত ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের চূড়ার চেয়ে বড়, কিন্তু ২০২৩ সালের পেনশনবিরোধী আন্দোলনের চেয়ে ছোট।</p><blockquote>শিক্ষকস্বল্পতা আর জীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ ক্রমে বৈষম্য, সরকারি ব্যয় ও জীবনযাত্রার মানের বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সূচনাবিন্দু ছিল সেন-সাঁ-দ্যনি। এটি প্যারিসের উত্তরের একটি দরিদ্র জেলা। আউবারভিলিয়ের একটি স্কুলে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে অঙ্ক, ইংরেজি আর খেলাধুলার ক্লাস বন্ধ ছিল বলে জানানো হয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, এই জেলার দুই-তৃতীয়াংশ স্কুলে শিক্ষকের পদ খালি। তাপপ্রবাহে ক্লাসরুম অসহনীয় গরম হয়ে ওঠার অভিযোগও ছিল।</blockquote><p><strong>স্কুল থেকে রাজপথ: আগুন যেভাবে ছড়াল</strong></p><p>আন্দোলনের শুরুটা বিস্ফোরক কোনো ঘটনায় নয়। তাই এটি ২০০৫ বা ২০২৩-এর দাঙ্গা থেকে আলাদা। ওই দুই ক্ষেত্রেই ট্রিগার ছিল পুলিশের হাতে বা পুলিশের তাড়ায় কিশোরদের মৃত্যু। এবার আন্দোলন শুরু হয় গত মাসে প্যারিসের উত্তরের শ্রমজীবী উপশহরের উচ্চবিদ্যালয়গুলোতে। শিক্ষকস্বল্পতা আর জীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ ক্রমে বৈষম্য, সরকারি ব্যয় ও জীবনযাত্রার মানের বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সূচনাবিন্দু ছিল সেন-সাঁ-দ্যনি। এটি প্যারিসের উত্তরের একটি দরিদ্র জেলা। আউবারভিলিয়ের একটি স্কুলে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে অঙ্ক, ইংরেজি আর খেলাধুলার ক্লাস বন্ধ ছিল বলে জানানো হয়েছে। ইউনিয়নের দাবি, এই জেলার দুই-তৃতীয়াংশ স্কুলে শিক্ষকের পদ খালি। তাপপ্রবাহে ক্লাসরুম অসহনীয় গরম হয়ে ওঠার অভিযোগও ছিল। সময়সূচি, ক্লাসের আকার আর শিক্ষকস্বল্পতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলের সামনে অবরোধ শুরু করে। ১৬ বছরের এক ছাত্রীর কথা সংবাদে এসেছে। সে বলেছে, ‘আমরা উপশহরের সন্তানেরা পরিত্যক্ত, অবহেলিত।’ স্কুলের অবস্থাকে সে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলেছে।</p><p>২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় পর্যায়ে সরকারি খাতের ধর্মঘট ছিল। সেদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ৩,৭০০ স্কুলের মধ্যে ৪০০টি অবরোধ বা ব্যাঘাতের শিকার হয়েছে। এভাবে ছাত্র আন্দোলন আর শ্রমিক-শিক্ষকের ধর্মঘট একসঙ্গে মিশে যায়। সিএনএন জানায়, এক শর বেশি হাইস্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে&lt;bha&gt;;&lt;/bha&gt; শুধু প্যারিস অঞ্চলেই ক্ষতি আনুমানিক ৭০ লাখ ইউরো। তখনই বোঝা গিয়েছিল ক্ষোভ স্কুলের চৌহদ্দিতে আটকে থাকবে না। ১৭ অক্টোবর তার সঙ্গে যোগ হয় আরেকটি ধারা। ট্রেড ইউনিয়ন এবং ‘ইয়েলো ভেস্ট’ পরিচয়ধারী নাগরিকেরা জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে নেমেছেন। ইউরোনিউজ এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছে। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের ক্ষোভ, মজুরির ক্ষোভ আর জ্বালানির ক্ষোভ একই রাস্তায় এসে মিলেছে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/bhe494wb/Paris.avif"><figcaption>ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে কাঁদানে গ্যাসের শেল সরানোর চেষ্টা করছেন এক বিক্ষোভকারী। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ </figcaption></figure><p><strong>কারা জড়িত: এক ভিড়ের ভেতরে অন্তত চার স্তর</strong></p><p>‘কারা করছে’ প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই। প্রতিবেদন ও প্রেক্ষাপট থেকে চারটি স্তর আলাদা করা যেতে পারে। চতুর্থ স্তরের পরিচয় নিয়ে প্রমাণ সবচেয়ে কম, তাই সেটা কেবল অনুমান।</p><p>প্রথম স্তর: বিপুল শান্তিপূর্ণ অংশ। শিক্ষক, অভিভাবক, ইউনিয়ন কর্মী, কৃষক, অবসরপ্রাপ্ত মানুষ ও ইয়েলো ভেস্ট সমর্থকেরা এর মধ্যে পড়েন। ভাঙচুরের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নেই। ১৯ বছরের এক বিক্ষোভকারী রয়টার্সকে বলেছেন, জীবনযাত্রার খরচ আর জ্বালানির দাম খুব বেশি, আর স্কুলছাত্রদের ওপর পুলিশের আক্রমণ তাঁকে ক্ষুব্ধ করেছে। দ্বিতীয় স্তর: স্কুলছাত্র ও উপশহরের তরুণেরা। আন্দোলনের আদি ইঞ্জিন তারাই। তাদের কেউ কেউ স্কুলের সামনে ময়লার ঝুড়ি আর সাইকেলে আগুন দিয়েছে, ঢিল ছুড়েছে। তবে সরকারি তথ্য এই ছকের সীমা দেখায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সহিংস ঘটনার পর প্রায় ৪০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে এবং তাদের বেশির ভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। সুতরাং ‘উপশহরের কিশোরদের দাঙ্গা’ বলে পুরো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা যায় না। তৃতীয় স্তর: সংগঠিত, কালো পোশাকের মুখোশধারী গোষ্ঠী। প্যারিসে বেশির ভাগ তরুণ কালো পোশাক, হুডি, মুখোশ ও কাঁদানে গ্যাস থেকে বাঁচতে গগলস পরে ছিল। এই পোশাক-কৌশল ইউরোপে ‘ব্ল্যাক ব্লক’ ধরনের চরমপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পরিচিত। তবে সংবাদগুলোতে এই নাম সরাসরি দেওয়া হয়নি। সরকার এদের দিকে ইঙ্গিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সহিংসতার জন্য ‘বাম চরমপন্থী’ ও অপরাধীদের দায়ী করেছেন। তিনি এটা বলেছেন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, তাই এটি দাবি, প্রমাণিত সিদ্ধান্ত নয়। অন্য পক্ষ বলছে, বিক্ষোভকারীদের অনেকে মনে করেন বেশির ভাগ মানুষ শান্তিপূর্ণ ছিল আর সহিংসতার পেছনে ছিল যারা ক্ষতি করতে ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে এসেছিল তারা। চতুর্থ স্তর: সুযোগসন্ধানী লুটেরা (অনুমান)। দাঙ্গার ইতিহাসে ভিড়ের আড়ালে ছোট অপরাধী গোষ্ঠী সব সময়ই থাকে। সবকিছু সরকারি নজরদারির বাইরে চলে গেলে তারা সুযোগ নেয়। মুঠোফোনের দোকান লুট এবং সুপারমার্কেট লুটের মতো ঘটনা আদর্শিক প্রতিবাদের চেয়ে সুযোগসন্ধানী অপরাধের সঙ্গে বেশি মেলে। অথচ ব্যাংক ভাঙচুর বা সিটি হলে হামলা স্পষ্টতই প্রতীকী। এই পার্থক্য খেয়াল রাখা জরুরি।</p><blockquote>সবকিছু সরকারি নজরদারির বাইরে চলে গেলে তারা সুযোগ নেয়। মুঠোফোনের দোকান লুট এবং সুপারমার্কেট লুটের মতো ঘটনা আদর্শিক প্রতিবাদের চেয়ে সুযোগসন্ধানী অপরাধের সঙ্গে বেশি মেলে। অথচ ব্যাংক ভাঙচুর বা সিটি হলে হামলা স্পষ্টতই প্রতীকী। এই পার্থক্য খেয়াল রাখা জরুরি।</blockquote><p><strong>ক্ষোভের মূল কারণ</strong></p><p>ক. শিক্ষা ও আঞ্চলিক বৈষম্য</p><p>এটিই আন্দোলনের সূচনা। অভিযোগ আছে ২০২৭ সালের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কম হারে, মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ, বাড়ানো হয়েছে। সেটা কাগজে ছোট সংখ্যা মনে হলেও বাস্তবে এর মানে ক্রয়ক্ষমতার হিসাবে বরাদ্দ কমে যাওয়া। ধনী এলাকার স্কুল অভিভাবকদের চাঁদা, অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ভালো সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এই ঘাটতি সামলে নিতে পারে। দরিদ্র উপশহর পারে না। ফলে বৈষম্য বাড়ে, আর কিশোরেরা সেটা প্রতিদিন নিজের ক্লাসরুমে অনুভব করে।</p><p>খ. জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম</p><p>জ্বালানির দাম ফ্রান্সের রাজনীতিতে স্পর্শকাতর বিষয়। ২০১৮ সালের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন শুরু হয়েছিল জ্বালানি কর নিয়েই। যাঁদের গাড়ি ছাড়া কাজে যাওয়ার উপায় নেই, বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপশহর এলাকায়, তাঁদের জন্য দামের ধাক্কা সরাসরি আয়ে আঘাত। এবার সেই ধাক্কা এসেছে ইরানে যুদ্ধের প্রভাবে। এটা সরকারের হাতের বাইরের বাহ্যিক কারণ, তবু ক্ষোভ গিয়ে পড়ছে সরকারের ওপরেই।</p><p>গ. রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার সংকট</p><p>গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘Bloquons tout’ (সবকিছু অবরোধ করো) আন্দোলনের সময় সরকারের ৪ হাজার ৩৮০ কোটি ইউরোর ব্যয়সংকোচ পরিকল্পনা প্রধান কারণ ছিল এবং শেষে বায়রু সরকারের পতন হয়। সেই পতনের পর লেকর্নু প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি দুই বছরেরও কম সময়ে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকদের চোখে সরকার বদলায় কিন্তু নীতির দিক বদলায় না। যে ব্যবস্থায় ভোট দিয়েও বদল আসে না, সেখানে রাস্তার ক্ষমতা ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-17/tm9x8vx5/French-riot-police.jpg"><figcaption>জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় জ্বলন্ত বস্তুর পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ </figcaption></figure><p>ঘ. রাষ্ট্রীয় ঋণ ও কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ</p><p>ঋণ কমানোর ফরাসি প্রচেষ্টা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। সরকারের ঋণ-ব্যয় দুই দশকেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর মানে সরকারের হাতে সামাজিক খাতে খরচ বাড়ানোর জায়গা সংকুচিত। একদিকে বাজার ব্যয় কমানোর চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকেরা বলছেন স্কুল-হাসপাতালে আয় ব্যয় কমানো যায় না। দুই দাবির মাঝখানে সরকার আটকা।</p><p>ঙ. পুলিশি সহিংসতা: ক্ষোভের জ্বালানি</p><p>সহিংসতা শুধু একদিক থেকে আসছে না। এক কিশোর স্টান গ্রেনেড তুলতে গিয়ে হাত হারিয়েছে। পুলিশ-নজরদারি সংস্থা অন্তত দুই ডজন পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করছে। একই সময়ে পুলিশ নিজেও চাপে। লেকর্নু জানিয়েছেন আগের বিক্ষোভগুলোতে ৯০০-এর বেশি পুলিশ আহত হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়ন বলছে, বাহিনী ভেঙে পড়ার মুখে। ছাত্রদের ওপর কঠোর দমন ক্ষোভকে আরও জ্বালিয়েছে, আর পুলিশের ওপর আক্রমণ সরকারকে আরও কঠোর হতে ঠেলছে। এই চক্র থামানো কঠিন।</p><blockquote>সহিংসতা শুধু একদিক থেকে আসছে না। এক কিশোর স্টান গ্রেনেড তুলতে গিয়ে হাত হারিয়েছে। পুলিশ-নজরদারি সংস্থা অন্তত দুই ডজন পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করছে। একই সময়ে পুলিশ নিজেও চাপে। লেকর্নু জানিয়েছেন আগের বিক্ষোভগুলোতে ৯০০-এর বেশি পুলিশ আহত হয়েছে। পুলিশ ইউনিয়ন বলছে, বাহিনী ভেঙে পড়ার মুখে। ছাত্রদের ওপর কঠোর দমন ক্ষোভকে আরও জ্বালিয়েছে, আর পুলিশের ওপর আক্রমণ সরকারকে আরও কঠোর হতে ঠেলছে। এই চক্র থামানো কঠিন।</blockquote><p><strong>কেন ভাঙচুর, লুট, আগুন: সহিংসতার যুক্তি</strong></p><p>তিনটি আলাদা ধরনের লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে, আর প্রতিটির আলাদা যুক্তি আছে।</p><p>রাষ্ট্রের প্রতীক। লিমোজে সিটি হল পুড়েছে, মার্সেইয়ে কালো পোশাকের বিক্ষোভকারীরা সিটি হলে ঢুকে অরাজকতাবাদী গ্রাফিতি এঁকেছে, লিয়ঁয়ে পর্যটন দপ্তরে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখানে বার্তা স্পষ্ট: রাষ্ট্র আমাদের কথা শোনে না, তাই রাষ্ট্রের ভবনই লক্ষ্য।</p><p>সম্পদ ও পুঁজির প্রতীক। দাঙ্গাকারীরা গালেরি লাফায়েৎ ডিপার্টমেন্ট স্টোরে ঢোকার চেষ্টা করেছে, ব্যাংক ভাঙচুর করেছে, লাকোস্ট দোকান তছনছ করেছে। প্যারিসের বিলাসী বাণিজ্যিক এলাকা আর ধনী-গরিবের দূরত্ব এখানে এক বিন্দুতে মিলেছে। যাঁদের স্কুলে শিক্ষক নেই, তাঁদের চোখে বিলাসী দোকানের কাচ ভাঙা ক্ষমতার প্রতীক ভাঙা।</p><p>পুলিশ। পুলিশের গাড়ি ও সদস্যদের ওপর হামলা। পুলিশকে সরকারের দৃশ্যমান বাহু হিসেবে দেখার প্রবণতা ফ্রান্সের উপশহরে বহু দশকের, এবং সেটা অনেকটাই পারস্পরিক অবিশ্বাস।</p><p>এখানে একটি অস্বস্তিকর সত্যও স্বীকার করা দরকার। সহিংসতার কিছু অংশ রাজনৈতিক বার্তা নয়, নিছক সুযোগ আর উত্তেজনার আনন্দ। সব ভাঙচুরকে ‘প্রতিবাদের ভাষা’ বলা যেমন ভুল, সব ভাঙচুরকে ‘নিছক অপরাধ’ বলাও ভুল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/9u7vbi51/france-5.jpg"><figcaption>বিক্ষোভ করছেন ফ্রান্সের উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ৬ অক্টোবর ২০২৬, নঁত, ফ্রান্স</figcaption></figure><p><strong>রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও নির্বাচনী রাজনীতি</strong></p><p>সরকারের ভাষা কঠোর। লেকর্নু বলেছেন যারা সহিংসতাকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘ওয়ার্ম আপ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, সরকার তাদের কাছে ভয় পাবে না। মাখোঁ অপরাধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্যারিস পুলিশ বলেছে তারা ‘পিছু হটবে না’।</p><p>এই ভাষায় নির্বাচনের ছায়া স্পষ্ট। ফ্রান্সে আগামী বছর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আর শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয় ইতিমধ্যে প্রধান ইস্যু। সরকারের কাছে সহিংসতাকে ‘বাম চরমপন্থা’ হিসেবে চিহ্নিত করা সুবিধাজনক, কারণ তাতে মূল দাবি (স্কুলের অবস্থা, মূল্যবৃদ্ধি) থেকে আলোচনা সরে যায়। বিরোধী বামপন্থীদের জন্যও সুবিধা আছে: সংঘর্ষের ছবি তাদের আখ্যানকে জোর দেয় যে সরকার ব্যর্থ। দুই পক্ষই ঘটনাকে নিজের রাজনৈতিক হিসাবে সাজাচ্ছে, তাই কোনো পক্ষের একতরফা ব্যাখ্যাকেই চূড়ান্ত ধরা ঠিক হবে না।</p><p>আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়: ফ্রান্স একা নয়। বেলজিয়াম, পর্তুগাল ও ইতালিতেও ছোট পরিসরে বিক্ষোভ হয়েছে। পর্তুগালে ২০১৭ সাল থেকে বাড়ির দাম দ্বিগুণ হয়েছে, আর আলবেনিয়ায় ছাত্রেরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছে। ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন সংকট আর তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার একটা সাধারণ ধারা দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্সের ঘটনা তাই শুধু ফরাসি সমস্যা নয়।</p><p><strong>কী বুঝব, কী বুঝব না</strong></p><p>আমার বিশ্লেষণের মূল কথাগুলো এই যে:</p><p>এটি একক কোনো ঘটনা নয়। এটি একটি বহুস্তরীয় আন্দোলন, যার মূলে শিক্ষাবৈষম্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়, আর যার ওপরে রাজনৈতিক অনাস্থা ও নির্বাচনী উত্তাপ। সহিংসতা সংখ্যালঘুর হাতে, কিন্তু সেই সংখ্যালঘু এক রকম নয়। রাষ্ট্রের প্রতীকে হামলাকারী, পুঁজির প্রতীকে আঘাতকারী আর সুযোগসন্ধানী লুটেরাকে এক ঝুড়িতে ফেলা বিশ্লেষণের দুর্বলতা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক, তাই ঘটনাটিকে শুধু কিশোর বা শুধু উপশহরের সমস্যা বলা ভুল। আবার ছাত্র আন্দোলনই যে এর সূচনা, সেটাও ভোলা যাবে না। পুলিশি আচরণ এই চক্রের একটি অংশ, তবে পুলিশও বড় চাপে। কোনো পক্ষকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বা সম্পূর্ণ দোষী ধরলে বাস্তবতা হারিয়ে যায়।</p><p>যা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারছি না: ভাঙচুরকারীদের সঠিক সাংগঠনিক পরিচয়, আন্দোলন কত দিন চলবে, আর সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা করবে নাকি আরও কঠোর হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মামলা এগোলে এবং পুলিশ-নজরদারি সংস্থার তদন্ত শেষ হলে অনেক ধারণা বদলাতে পারে। যে সমাজে ক্লাসরুমে শিক্ষক নেই, আর রাস্তায় আগুন জ্বলছে, সেখানে আগুন নেভানোর চেষ্টা আর কারণ সারানোর চেষ্টা আলাদা কাজ। প্রথমটি পুলিশ করতে পারে, দ্বিতীয়টি করতে হবে নীতির মাধ্যমে। ফ্রান্সের সামনের সপ্তাহগুলো দেখাবে সরকার কোনটিতে বেশি মনোযোগ দেয়।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
গণিত ভাইয়ার প্রশ্ন: পর্ব ১৭
গণিত ভাইয়ার প্রশ্ন: পর্ব ১৭

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/1eljz9n8/WhatsApp-Image-2026-10-18-at-5.43.18-PM.jpeg"></figure><p>গণিত ভাইয়া প্রথম আলো গণিত ইশকুলের একটি জনপ্রিয় ক্যারেক্টার। গণিত ভাইয়া তোমাদের গণিতকে আনন্দের সঙ্গে শেখাতে সহায়তা করবে।</p><p>তোমাদের কাছে গণিত ভাইয়ার আজকের প্রশ্ন:</p><p>​বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের ম্যাচে 36000 ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে সমান সংখ্যক বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের সমর্থক আছে। প্রথম ইনিংস শেষে এক তৃতীয়াংশ সমর্থক বেরিয়ে যাওয়ায় জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশের সমর্থকদের অনুপাত হয় 2:3। জিম্বাবুয়ের কতজন সমর্থক বের হয়ে যায়?</p><p>গণিত ইশকুলের ফেসবুক পেজে পোস্টের মন্তব্যে ঘরে তোমাদের উত্তরটি জানিয়ে দাও।</p><p>ফেসবুক পেজের <a href="https://www.facebook.com/PA.GonitIshkul" target="_blank" rel="nofollow">লিংক</a>।</p><p>গণিত ভাইয়া সিরিজের প্রশ্নগুলোর সর্বোচ্চ সঠিক উত্তরদাতাদের জন্য প্রতি মাসে গণিত ভাইয়ার পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ পুরষ্কার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/study/6y46it8rjt">গণিত ভাইয়ার প্রশ্ন:পর্ব ১৬</a></aside>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
‘মনোনয়ন পাওয়াটাই আমার কাছে বড় পুরস্কার’
‘মনোনয়ন পাওয়াটাই আমার কাছে বড় পুরস্কার’

<p><strong>অতিথি:</strong></p><p>নুসরাত আফরিন ইয়ুমনা</p><p>অভিনয়শিল্পী</p><p><strong>সঞ্চালক:</strong></p><p>নীল হুরেজাহান</p><figure></figure>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মেক্সিকোর ভুতুড়ে এই দ্বীপে কেন এত পুতুল
মেক্সিকোর ভুতুড়ে এই দ্বীপে কেন এত পুতুল

মাত্র এক একরের এই ছোট্ট দ্বীপে গেলে দেখা যায়, প্রতিটি গাছের ডালে শত শত পুরোনো ও ভাঙা পুতুল ঝুলে আছে। কোনো পুতুলের হাত নেই, কোনোটার পা নেই, আবার কোনোটার চোখ উপড়ানো

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
‘শুধু শোক নয়, আমরা বিচার চাই, জবাবদিহি চাই’
‘শুধু শোক নয়, আমরা বিচার চাই, জবাবদিহি চাই’

প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের পরিবেশ। শোকের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
একসময়ের শান্তিময় শহর কুমিল্লায় এখন যানজট–জলজট ও জনজট
একসময়ের শান্তিময় শহর কুমিল্লায় এখন যানজট–জলজট ও জনজট

৩০-৪০ বছর আগেও কুমিল্লা ছিল শান্তির শহর, স্বস্তির শহর। তারও আগে ছিল ব্যাংক ও ট্যাংকের (জলাশয়) শহর, শিল্প ও সংস্কৃতির শহর। আজ সবই কেবল স্মৃতি।

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
৩৯ মন্ত্রণালয়ের ৩০০ চালকের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগ, লক্ষ্য দুর্ঘটনার ‘ঝুঁকি কমানো’
৩৯ মন্ত্রণালয়ের ৩০০ চালকের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষার উদ্যোগ, লক্ষ্য দুর্ঘটনার ‘ঝুঁকি কমানো’

<p>জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস–২০২৬ উপলক্ষে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচি চলছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে। ১৮ থেকে ১৯ অক্টোবর এবং ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে এই কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ের চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনা মূল্যে চশমা দেওয়া হবে। কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করা হবে। দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে সড়কে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে এই কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।</p><p>আজ রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স কক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে সামাজিক প্রতিষ্ঠান ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ।</p><p>সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচি মোট পাঁচ দিনব্যাপী চলবে। ১৮-১৯ অক্টোবর এবং ২৫-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে এ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ের চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনা মূল্যে চশমা দেওয়া হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-18/mqixolk9/Driver-Examine-02.jpeg"><figcaption>চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। আজ রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স কক্ষে</figcaption></figure><p>সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে চালকদের সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে সড়কে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো এবং চালকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে।</p><p>অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিনও উপস্থিত ছিলেন।</p>

অক্টোবর ১৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন