ক্রিকেট

হকি মাঠের অপূর্ণ স্বপ্ন আর ক্রিকেটের বিশ্বজয়ী সাম্রাজ্য: অন্য এক শাহরুখ খানের গল্প

নভেম্বর ২, ২০২৬
হকি মাঠের অপূর্ণ স্বপ্ন আর ক্রিকেটের বিশ্বজয়ী সাম্রাজ্য: অন্য এক শাহরুখ খানের গল্প
হকি মাঠের অপূর্ণ স্বপ্ন আর ক্রিকেটের বিশ্বজয়ী সাম্রাজ্য: অন্য এক শাহরুখ খানের গল্প
আজ শাহরুখ খানের জন্মদিন। সিনেমার পর্দার বাইরের শাহরুখের আরেকটি পরিচয় আছে, যেটি ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।

Prothomalo

View more
এইচএসসিতে এমন ভয়াবহ ফল বিপর্যয় কেন অশনিসংকেত
এইচএসসিতে এমন ভয়াবহ ফল বিপর্যয় কেন অশনিসংকেত

<p>ছোটবেলায় ছাত্রজীবন রচনা লেখার সময় সূচনা হিসেবে লিখেছিলাম, ‘ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ’—অর্থাৎ অধ্যয়নই (পড়াশোনা) ছাত্রদের তপস্যা। বিবিধ বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের মোক্ষম সময় ছাত্রজীবন, কারণ এ সময়ে সাধারণত সাংসারিক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে মানসিক চাপ থাকে না। ফলে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করে এবং দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।</p><p>কিন্তু এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল আমাদের সব ধারণা পাল্টে দিয়েছে। ২২ বছরের মধ্যে এত বড় অবনতি দেশকে হতবাক করেছে। শুধু তা-ই নয়, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে কমেছে। কেউ পাস করেনি—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এই চিত্রই দেখা গেছে।</p><p>এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী; গত বছর পেয়েছিলেন ৬৩ হাজার। এর অর্থ হলো, উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।</p><blockquote>সুতরাং শুধু সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে সুশিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিটি পরিবার ও অভিভাবককে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কারণ, সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে হলে চাই আলোকিত মানুষ, যারা গড়বে আগামী বাংলাদেশ।</blockquote><p>মোট পরীক্ষার্থী ছিল প্রায় সাড়ে ১০ লাখ; পাস করেছেন ৫ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ফেল করেছেন! এটি উদ্বেগজনক। এককথায়, বিষয়টিকে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এর মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে।</p><p>শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষায় এমন ভয়াবহ ফল বিপর্যয় পুরো বাংলাদেশের জন্য লজ্জার এবং অশনিসংকেত। এর অর্থ কি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকার? এসব প্রশ্নের উত্তর গভীরভাবে অনুসন্ধান করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।</p><p>অবকাঠামোগত ত্রুটি, পাঠদানের ঘাটতি, শিক্ষকস্বল্পতা ও বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আমি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করতে চাই। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/py7hr8lrfp">এইচএসসি পরীক্ষা: ফেল করা মানেই জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়া নয়</a></aside><p>২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীসময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেকে বিভিন্ন আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো পক্ষ তাদের উৎসাহও দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অনেকের পড়াশোনায় ভাটা পড়তে শুরু করে। কথায় কথায় আন্দোলনে জড়িয়ে পড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাগামহীন অপব্যবহার, অপরিণত বয়সে মুঠোফোন ব্যবহার, অভিভাবকদের গাফিলতিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার এবং তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার—এসবও অনেকাংশে দায়ী।</p><p>প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে মুঠোফোন এখন যত্রতত্র ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে মুঠোফোন-আসক্তি, আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসবের কুফল এবারের ফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।</p><p>অনিয়ন্ত্রিত ফেসবুক ব্যবহার, কিছু অভিভাবকের প্রশ্রয় এবং সঠিক সময়ে সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা না করা—এসব কিশোরসমাজকে অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত পথে যেতে উৎসাহিত করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লেখাপড়ায়, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। এবারের উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষায় এর মারাত্মক প্রভাব দেখা যাবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-31/voujfo4p/WhatsApp-Image-2026-10-31-at-14.05.02.jpeg"><figcaption>এইচএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সেলফি। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ৩১ অক্টোবর ২০২৬</figcaption></figure><p>আমাদের নিজেদের দুটি চিকিৎসাশিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও ইউনিভার্সেল নার্সিং কলেজ) পরিচালনার অভিজ্ঞতায় যে বিষয়টি আমার চোখে পড়ছে, তা হলো কিছু কিছু বাবা–মায়ের দায়িত্বহীনতা, শৈথিল্য ও সন্তানকে অতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া তাদের স্বাভাবিক ছাত্রজীবনের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে এবং অন্যান্য শিক্ষাকার্যক্রমে ব্যাপক অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। </p><p>কলেজ থেকে যোগাযোগ করা হলে বেশির ভাগ পিতা-মাতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এমনকি তাঁরা সন্তানের অছাত্রসুলভ আচরণের পক্ষেও অবস্থান নেন। এসব আচরণ পেশাগত পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে এবং উন্নত ভবিষ্যতের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।</p><p>আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন এ ধরনের ঘটনা ভাবনারও অতীত ছিল। অভিভাবকেরা জানতে পারলে তো রক্ষা ছিল না!</p><p>আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে। ১৫ বছর ধরে সেখানে আমার পিতার পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে ‘আশুতোষ চক্রবর্ত্তী স্মারক শিক্ষাবৃত্তি’ প্রদান করে আসছি। সেখানে স্থানীয় ১০ থেকে ১৫টি সেরা স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবছর ১০০ জনকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/vxbynf867h">এইচএসসির ফল ও শিক্ষার গলদ নিয়ে যেসব কথা না বললেই নয়</a></aside><p>একজন মন্ত্রী বা সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ের এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই সঙ্গে প্রকাশিত হয় একটি স্মরণিকা, যেখানে বৃত্তিপ্রাপ্ত সব শিক্ষার্থীর ছবি ও ফলাফলের বিবরণ থাকে।</p><p>দুঃখজনক হলেও সত্য, স্মরণিকা সম্পাদনা করতে গিয়ে দেখেছি—কোনো কোনো স্কুলের প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ পায়নি, যা উদ্বেগজনক। এই তথ্যেই দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মানের চিত্র ফুটে ওঠে। তাই রাষ্ট্রকে এই সংকটময় অধ্যায় গভীরভাবে উপলব্ধি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।</p><p>শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই হবে না। সামাজিক ও পারিবারিক নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে আমি মনে করি। এত দিন আমরা শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত হয়েছি। কিন্তু সামাজিক অবক্ষয়ের নানা দিকের পাশাপাশি মানহীন শিক্ষা ও নজরদারির অভাবও স্পষ্ট। এই ক্রান্তিলগ্নে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বিপর্যয় নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/rvhgazayvj">মাধ্যমিক শিক্ষা যেভাবে সংস্কার করা দরকার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/vlz56033xq">মাধ্যমিক শিক্ষার প্রতি এত অবহেলা কেন</a></aside><p>এর সঙ্গে হতাশাজনিত আত্মহত্যার মতো ঘটনাও যুক্ত হতে পারে, যা কখনোই কাম্য নয়।</p><p>সুতরাং শুধু সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে সুশিক্ষিত সমাজ গড়ে তুলতে প্রতিটি পরিবার ও অভিভাবককে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাকে মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে এবং পড়াশোনায় মনোযোগী করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কারণ, সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে হলে চাই আলোকিত মানুষ, যারা গড়বে আগামী বাংলাদেশ।</p><ul><li><p><strong>ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী</strong> ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা এবং ইউনিভার্সেল মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া</p><p><br>*মতামত লেখকের নিজস্ব</p></li></ul>

নভেম্বর ২, ২০২৬
বন্ধুত্বের উষ্ণতায় কাটল এক আড্ডামুখর বিকেল
বন্ধুত্বের উষ্ণতায় কাটল এক আড্ডামুখর বিকেল

স্কুল-কলেজজীবনের দুরন্ত দিনের গল্প দিয়ে শুরু হওয়া এ আড্ডায় এরপর উঠে এসেছে চট্টগ্রামের পুরোনো দিনের স্মৃতি, বর্তমান জীবনের নানা অভিজ্ঞতা আর অর্জনের গল্প। রীতিমতো জমে ওঠে আসর। এর মধ্যেই গানের কলি আর কৌতুকের ঝলকে হাসির রোল পড়ে যায়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার মজাদার সংলাপ আড্ডার আমেজ আরও বাড়িয়ে তোলে।

নভেম্বর ২, ২০২৬
তিন দশকের রাজত্ব, আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলিউড বাদশা শাহরুখ খান
তিন দশকের রাজত্ব, আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলিউড বাদশা শাহরুখ খান

তিন দশকের রাজত্ব, আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলিউড বাদশা শাহরুখ খান

নভেম্বর ২, ২০২৬
ডেঙ্গু জ্বরে দেশে ছেলের মৃত্যু, একই দিনে সৌদি আরবে মারা গেলেন বাবা
ডেঙ্গু জ্বরে দেশে ছেলের মৃত্যু, একই দিনে সৌদি আরবে মারা গেলেন বাবা

ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু হয় সাত মাসের ছোট্ট শিশুর। এ খবর পেয়ে সৌদি আরবে প্রবাসী বাবা অসুস্থ হয়ে মারা যান। শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একই দিনে আরেক স্বজনের মৃত্যু।

নভেম্বর ২, ২০২৬
তিন দশকের রাজত্ব, আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলিউড বাদশা শাহরুখ খান
তিন দশকের রাজত্ব, আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলিউড বাদশা শাহরুখ খান

তিন দশকের রাজত্ব, আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী বলিউড বাদশা শাহরুখ খান

নভেম্বর ২, ২০২৬
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে মুখোশধারী লোক অনুপ্রবেশ করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে মুখোশধারী লোক অনুপ্রবেশ করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভে মুখোশধারী লোক অনুপ্রবেশ করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নভেম্বর ২, ২০২৬
সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে
সন্তান জন্মের তৃতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন মা, নবজাতক আইসিইউতে

গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নভেম্বর ২, ২০২৬
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নভেম্বর ২, ২০২৬
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা
নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান, বিপুল মজুতের আশা

নভেম্বর ২, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।