শৈশবের জ্বরে থমকে গেল চার ভাই-বোনের জীবন, কাটছে না দুর্ভোগ
ইউসুফ (আ.) যখন মিসরের ক্ষমতার অধিকারী হলেন এবং তাঁর অত্যাচারী ভাইয়েরা খাদ্যশস্যের প্রয়োজনে মিসরে উপস্থিত হলো, তখন তিনি কোনো প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। শুধু শারীরিক শাস্তি দিলে তাদের অপরাধবোধ জাগ্রত হতো না।
<p>আবার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, দেশজুড়ে তোলপাড়। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়ে যদি অন্য কিছু ফাঁস হতো, কেমন হতো?</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/klarlsp0/Untitled-1-07.jpg"></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/buhulrdjhi">বড় ভাইকে দল থেকে বহিষ্কার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l2v7tpucaz">চাঁদ দখল</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/kjqv1isuow">বন্ধু ফার্মেসি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/g9j6k83pp1">ডাব সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/9yko8mw3h1">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d4fl17cod8">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6ivlyjbko1">চাঁদা নিয়ে বিখ্যাত কবি–সাহিত্যিকেরা যা লিখতেন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/u86yf3kq5z">অজুহাতের কামব্যাক</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/dkgc2prfwa">কোথায় কোথায় কালি মাখানো যায়?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/72zdocu7yj">এলাকার ট্যালেন্টেড বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/z87t7zqecu">স্মার্টফোনের অবসর চেয়ে আবেদন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l7r2uxvti0">রস+আলো নোবেল ২০২৬</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/bdeu25pngs">রসচিঠি</a></aside>
<p>মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলতে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল তৈরি করেছে টু্ইটারের (বর্তমানে এক্স) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জ্যাক ডরসির মালিকানাধীন ব্লক ইনকরপোরেশন। ব্লকের দাবি, ‘ডেসা’ নামের এআই মডেলটি মানুষের ভঙ্গিতে কথা বলার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর কথা শুনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তর দিতে পারে। শুধু তা–ই নয়, কথোপকথনের সময় মডেলটি হাসতে বা বিস্ময় প্রকাশ করাসহ ব্যবহারকারী কথা বলতে গিয়ে থেমে গেলেও আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।</p><p> সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নতুন এআই মডেলটির বিষয়ে জ্যাক ডরসি জানান, যোগাযোগের সবচেয়ে স্বাভাবিক মাধ্যম হলো কণ্ঠস্বর। ডেসা একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিমুখী কথোপকথনভিত্তিক স্পিচ মডেল, যা মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার জন্য তৈরি করা হয়েছে। ডেসার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, আকারে ছোট হওয়ায় এটি ল্যাপটপেও চালানো যায়। </p><p>ব্লকের দাবি, ডেসা বাস্তব সময়ের চেয়ে দ্রুত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীর কথা শোনা ও উত্তর দেওয়ার জন্য সময়ের ব্যবধান খুব কম হয়। মানুষের কথোপকথনের অডিও শোনানোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ডেসাকে; অর্থাৎ কোনো লিখিত তথ্য বা আগে থেকে প্রশিক্ষিত এআই মডেল ব্যবহার করা হয়নি। মডেলটির বিশেষত্ব হলো, এটি একই সময়ে কথা শুনতে ও বলতে পারে; অর্থাৎ ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর গ্রহণ করে সরাসরি নিজ কণ্ঠস্বরে উত্তর দেয়। বর্তমানে ডেসা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকায় শুধু নির্দিষ্টসংখ্যক আগ্রহী ব্যক্তিরা মডেলটি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন।</p><p>ডেসার তথ্যমতে, বিশ্বের শক্তিশালী এআই মডেলগুলো ব্যবহারকারীর কণ্ঠস্বর শুনে তার অনুভূতি বুঝতে পারে না। ফলে কথোপকথন স্বচ্ছন্দে করা যায় না। এমনকি অনেক সময় ব্যবহারকারীর অনুভূতি বুঝতে না পারার কারণে ভুল প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ডেসাই বিশ্বের প্রথম এআই মডেল, যেটিকে শুধু মানুষের কণ্ঠস্বর শোনানোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আর তাই মডেলটির সঙ্গে বাস্তব মানুষের মতো সরাসরি কথোপকথন করা যায়।</p><p>ডেসার ওয়েবসাইটে একজন ব্যবহারকারীর সঙ্গে মডেলটির কথোপকথনের একটি অডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, কখন কথা বলতে হবে, কী বলতে হবে এবং কীভাবে বলতে হবে, তা নিজেই নির্ধারণ করছে ডেসা। কথোপকথনের সময় মজার কোনো প্রসঙ্গ এলে কথা বলার মাঝখানেই স্বাভাবিকভাবে হেসে উঠেছে ডেসা। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিস্ময় প্রকাশের মতো শব্দ ব্যবহারের পাশাপাশি সহানুভূতিও জানিয়েছে।</p><p>সূত্র: <strong>ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস</strong></p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2024-08/4cb2cca2-a40f-4688-8438-0cec7d62f0ea/Australia.jfif"><figcaption>অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যায় বার্ধক্য, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিবাসন অপরিহার্য</figcaption></figure><p>অস্ট্রেলিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অভিবাসন ও ভিসানীতিতে বিভিন্ন সংস্কার, বিশেষত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন, অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে অনিশ্চয়তা, হতাশা ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। এসব উদ্বেগ অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্নও সামনে আসে, অভিবাসীরা কি শুধু অস্ট্রেলিয়ায় প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেবেন, নাকি এসব সুযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাবে?</p><p> অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যায় বার্ধক্য, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিবাসন অপরিহার্য। তবে অভিবাসনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবদান স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অভিবাসননীতি অপরিবর্তিত থাকতে হবে।</p><p><strong>অভিবাসননীতিতে সংস্কার কেন প্রয়োজন—</strong></p><p>অর্থনৈতিক, জনমিতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসননীতির সংস্কার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যেকোনো সরকারের দায়িত্ব হলো জাতীয় স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও অভিবাসনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।</p><p>অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক সংস্কারগুলোর অন্যতম উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার মান ও ভিসাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা এবং অস্থায়ী অভিবাসনের সুযোগের অপব্যবহার প্রতিরোধ করা।</p><p>২০২৪ সালের মার্চে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ বা প্রকৃত শিক্ষার্থীসংক্রান্ত শর্ত চালুর পর শিক্ষার্থী ভিসার কিছু আবেদনপদ্ধতিতে আরও পরিবর্তন এসেছে। এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে এমন প্রচেষ্টা থেকে পৃথক করা, যেখানে শিক্ষার্থী ভিসাকে মূলত কর্মসংস্থান বা দীর্ঘদিন অবস্থানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।</p><p>এসব সংস্কারের ফলে কিছু প্রকৃত আবেদনকারীও অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন। তবে অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করা যায় না। কারণ, একটি গ্রহণযোগ্য অভিবাসনব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক সুনামের পাশাপাশি প্রকৃত শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখে।</p><p><strong>আন্তর্জাতিক শিক্ষা: জ্ঞানার্জন, নাকি অভিবাসনের মাধ্যম—</strong></p><p>অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে কর্মরত শিক্ষক হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান প্রত্যক্ষ করি। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্থানীয় অর্থনীতি ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজকে সমৃদ্ধ করেন। অসংখ্য শিক্ষার্থী আন্তরিকতার সঙ্গে পড়াশোনা করেন, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেন এবং পরবর্তী সময়ে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।</p><p>তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কিছু আচরণ নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।</p><p>ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেই ভর্তির ভিত্তিতে ভিসা পেলেন। কিন্তু দেশটিতে পৌঁছানোর পর তিনি অপেক্ষাকৃত কম খরচের অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হলেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/xxenfd6t/28.jpeg"></figure><p>প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা কোনো অনৈতিক কাজ নয়। আর্থিক অসুবিধা, শিক্ষার উপযোগিতা কিংবা ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে একজন শিক্ষার্থীর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু নৈতিক প্রশ্ন দেখা দেয় তখনই, যখন প্রথম প্রতিষ্ঠানে প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনা করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না; ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা।</p><p>এ ধরনের আচরণ প্রকৃত শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং দায়িত্বশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।</p><p>একইভাবে কিছু শিক্ষার্থী পড়াশোনার তুলনায় কর্মসংস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় বিবেচনায় পড়াশোনার পাশাপাশি অনুমোদিত সীমার মধ্যে কাজ করা সম্পূর্ণ বোধগম্য। কিন্তু যখন কাজ করাই প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় এবং শিক্ষা গ্রহণ কেবল অবস্থানের একটি আনুষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন শিক্ষার্থী ভিসার মৌলিক উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়।</p><p>শিক্ষার্থী ভিসার প্রধান উদ্দেশ্য শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া; বিকল্প কর্মসংস্থান ভিসা হিসেবে কাজ করা নয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা এজেন্ট—সবারই দায়িত্ব রয়েছে।</p><p><strong>ভিসা আবেদন, আপিল ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা—</strong></p><p>অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যান বা বাতিলের কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আইনি সুযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বৈধ আপিলের অধিকার প্রয়োগ এবং কোনো গ্রহণযোগ্য আইনি ভিত্তি ছাড়া কেবল অবস্থানের সময় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াগত সুযোগের অপব্যবহার এক বিষয় নয়।</p><p>ভিসার নতুন আবেদন, ব্রিজিং ভিসা কিংবা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অধিকার নির্দিষ্ট আইনগত শর্তের অধীন। তাই এসব প্রক্রিয়া ব্যবহার করলেই অনির্দিষ্টকাল অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়।</p><p>সমাধান হলো প্রকৃত আবেদনকারীদের আপিলের অধিকার সংকুচিত করা নয়; বরং ন্যায়সংগত, দ্রুত ও ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত অপব্যবহার নিরুৎসাহিত করা।</p><p>একটি বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসনব্যবস্থায় আবেদনকারীর অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা—উভয়ই সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-25/zusxtp03/Study_Abroad_Fair_1.jpg"></figure><p><strong>স্বাগতিক দেশের আইন ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধা—</strong></p><p>অভিবাসন বিষয়ে একটি সহজ নীতির কথা মনে রাখা প্রয়োজন। আমরা যখন কারও বাড়িতে অতিথি হিসেবে যাই, তখন সেই বাড়ির নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রত্যাশা থাকে। আতিথেয়তা গ্রহণের পাশাপাশি নিজেদের সুবিধামতো সব নিয়ম পরিবর্তনের দাবি করা যুক্তিসংগত নয়।</p><p>আন্তর্জাতিক অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কিছুটা একই নীতি প্রযোজ্য, যদিও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত বাড়ির তুলনার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।</p><p>অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব আইন ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার আওতায় কে দেশটিতে প্রবেশ, পড়াশোনা, কাজ কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন, তা নির্ধারণ করার সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। যাঁরা স্বেচ্ছায় এসব সুযোগ গ্রহণ করেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট শর্তগুলোও মেনে চলা উচিত।</p><p>তবে আইন মেনে চলার অর্থ সরকারি নীতির সমালোচনা করার অধিকার ত্যাগ করা নয়। অস্ট্রেলিয়া একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, গঠনমূলক সমালোচনা এবং আইনসম্মতভাবে নীতি পরিবর্তনের দাবি জানানো নাগরিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিক।</p><p>সুতরাং ন্যায়সংগত নীতির পক্ষে কথা বলা এবং ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য প্রচলিত আইন অমান্যের প্রত্যাশা করা—এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।</p><p><strong>অভিবাসী সমাজ, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব—</strong></p><p>অভিবাসননীতির পরিবর্তন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার এবং নতুন অভিবাসীদের সচেতন করার ক্ষেত্রে প্রবাসী সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা এজেন্ট ও প্রতিষ্ঠিত অভিবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।</p><p>অভিবাসনসংক্রান্ত আলোচনায় কখনো কখনো হতাশা, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অবাস্তব প্রত্যাশা প্রাধান্য পায়। প্রতিটি নীতিগত পরিবর্তনকে অভিবাসীবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন না করে প্রবাসী নেতৃত্বের উচিত সঠিক তথ্য প্রদান, আইন মেনে চলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা এবং গঠনমূলক আলোচনায় উৎসাহ দেওয়া।</p><p>আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তাঁদের ভিসার শিক্ষাগত উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। অস্থায়ী কর্মীদের কর্মসংস্থান ও ভিসার শর্ত মেনে চলতে হবে। একইভাবে সম্ভাব্য অভিবাসীদেরও বাস্তবসম্মত যোগ্যতা ও আইনি সুযোগ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।</p><p>অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। ভিসানীতির পরিবর্তন সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান, প্রকৃত আবেদনকারীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা এবং যথাসময়ে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/csmgkzlzce">কেমন শিক্ষাব্যবস্থা চাই? </a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/dkapiw48/prothomalo-bangla2026-09-0253ejd6fqRajibnew.avif"></figure><p>ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্তে দীর্ঘসূত্রতা প্রকৃত শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। এর ফলে তাঁরা বিকল্প গন্তব্য হিসেবে অন্য দেশকে বেছে নিতে পারেন। একইভাবে নীতির স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা প্রচলিত নিয়মের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও শিক্ষাগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য যুক্তিসংগত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা উচিত।</p><p>বাংলাদেশ সরকারেরও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়ন ও দক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষায় দুই দেশের সরকারের মধ্যে নিয়মিত ও গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ভিসানীতির পরিবর্তন, আবেদনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সমস্যা এবং দক্ষ জনশক্তির বৈধ অভিবাসনের সম্ভাবনা তুলে ধরতে পারে।</p><p>এ ধরনের আলোচনার উদ্দেশ্য অস্ট্রেলিয়ার সার্বভৌম অভিবাসননীতিতে হস্তক্ষেপ করা নয়; বরং পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশ হাইকমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।</p><blockquote>২০২৪ সালের মার্চে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ বা প্রকৃত শিক্ষার্থীসংক্রান্ত শর্ত চালুর পর শিক্ষার্থী ভিসার কিছু আবেদনপদ্ধতিতে আরও পরিবর্তন এসেছে। এসব পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষাকে এমন প্রচেষ্টা থেকে পৃথক করা, যেখানে শিক্ষার্থী ভিসাকে মূলত কর্মসংস্থান বা দীর্ঘদিন অবস্থানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।</blockquote><p>পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অননুমোদিত ও প্রতারণামূলক অভিবাসন এবং শিক্ষা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কিছু অসাধু মধ্যস্থতাকারী বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা স্থায়ী বসবাসের অবাস্তব নিশ্চয়তা দিয়ে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। কেউ কেউ ভিসার শর্ত, প্রকৃত ব্যয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা অভিবাসনের বাস্তব সম্ভাবনা সম্পর্কে অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য প্রদান করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে।</p><p>এর ফলে শুধু আবেদনকারীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন না; আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রকৃত শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীদের বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।</p><p>এ সমস্যা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অননুমোদিত কার্যক্রম শনাক্ত করা, প্রতারণার অভিযোগ কার্যকরভাবে তদন্ত করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদেশে শিক্ষা ও অভিবাসনসংক্রান্ত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।</p><p>একই সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তির ব্যবস্থা, অনুমোদিত সেবাদাতাদের পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ এবং সম্ভাব্য শিক্ষার্থী ও অভিবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। বৈধ শিক্ষা পরামর্শ ও প্রতারণামূলক অভিবাসনসেবার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করাও জরুরি।</p><p>এভাবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতা, দায়িত্বশীল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সচেতন আবেদনকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা একটি অধিকতর স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।</p><p><strong>টেকসই অভিবাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ—</strong></p><p>অস্ট্রেলিয়াকে মেধাবী শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী, গবেষক ও পরিবারগুলোর জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে ধরে রাখতে হবে। অতিরিক্ত কঠোর কিংবা অনিশ্চিত নীতি আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত, দক্ষ অভিবাসন এবং দেশটির বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।</p><p>অভিবাসন সংস্কারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা; প্রকৃত আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করা নয়।</p><p>বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকাগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নর্দার্ন টেরিটরির মতো অঞ্চলে দক্ষ কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়। চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি স্থানীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অবদান রাখে। তাই জাতীয় ভিসাব্যবস্থার মান বজায় রেখেও আঞ্চলিক চাহিদাগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/5dp552hmbv">উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে যে ১০ বিদেশি ভাষা শিক্ষা এগিয়ে রাখবে আপনাকে </a></aside><p>পরিশেষে অভিবাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব নির্ভর করে পারস্পরিক আস্থার ওপর। অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং প্রতারণামূলক মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে অভিবাসীদেরও সংশ্লিষ্ট আইন, শর্ত ও দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।</p><p>অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী প্রয়োজন, আর অভিবাসীদের প্রয়োজন সুযোগ। এই পারস্পরিক সম্পর্ক টেকসই করতে সংঘাত কিংবা শর্তহীন আনুগত্য নয়; প্রয়োজন জবাবদিহি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ন্যায়সংগত নীতি এবং সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা।</p><p>লেখক: শিক্ষক ও গবেষক। বর্তমান কর্মস্থল: চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া। সাবেক অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।</p>
<p>সময় বড় নিষ্ঠুর। একদিন যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে গোটা ফুটবল–বিশ্বকে নিজের পায়ের কাছে এনে ফেলেছিলেন, সেই মঞ্চ এখন আর টানে না, সেখানে যাওয়ার তেমন আগ্রহ থাকে না।</p><p>লিওনেল মেসির কথাই ধরুন। ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা প্রায় দুই দশকের। আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন। ফুটবল ইতিহাসে আর কেউ পারেননি। সেই মেসি এবার ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে নেই। অথচ সেরা পাঁচে ঠিকই আছেন!</p><p>৩৯ বছর বয়সে, ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পরও বিশ্বের পঞ্চম সেরা ফুটবলার হওয়া কি চাট্টিখানি কথা!</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/facfiyyw70">কে কোন পুরস্কার জিতলেন, দেখে নিন এক নজরে</a></aside><p>গতরাতে লন্ডনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডকে এই পুরস্কার এনে দিয়েছেন। সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন। কেইনের পেছনে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। চতুর্থ তাঁর বার্সেলোনা ও স্পেন সতীর্থ রদ্রি। আর পাঁচে মেসি।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-27/q3op0xyq/2026-10-26t222243z870216419up1emaq1q5t43rtrmadp3soccer-ballon.jpg"><figcaption>এবার ছেলেদের ব্যালন ডি’অর জয়ী হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখ)</figcaption></figure><p>এটাও কম নয় আসলে। যে বয়সে অনেক ফুটবলার কোচিংয়ের পরিকল্পনা করেন, টেলিভিশনে ফুটবল বিশ্লেষণ করেন কিংবা অবসরজীবনের আরাম খোঁজেন, সেই বয়সে মেসি এখনো বিশ্বের সেরা পাঁচে। কীভাবে?</p><p>উত্তরটা খুঁজতে ফিরে যেতে হবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে। মেসির জাদুতে ইন্টার মায়ামি জিতেছিল এমএলএস কাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নিজের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার পর আর্জেন্টিনার জার্সিতেও দেখিয়েছেন পুরোনো সেই জাদু। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে। আট ম্যাচে ৮ গোল, সঙ্গে ৪টি গোলে সহায়তা। সব মিলিয়ে ১২ গোলে সরাসরি অবদান। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল পান রদ্রি। সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল্ডেন বুট এমবাপ্পে। দুটো পুরস্কারেই মেসি দ্বিতীয়। জিতেছেন সিলভার বল ও সিলভার বুট। অথচ বিশ্বকাপের সময় তাঁর বয়স ৩৯!</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/dceu5978eb">ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কি তাহলে ‘স্যার’ হ্যারি কেইন</a></aside><p>তারপর ব্যালন ডি’অরের ভোটেও মেসি পেছনে ফেলেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা পিএসজির দুই তারকা খিচা কাভারাস্কেইয়া ও উসমান দেম্বেলেকে। পেছনে পড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড, বায়ার্নের মাইকেল ওলিসে ও পিএসজির ফাবিয়ান রুইজও। কিন্তু এতে মেসির খুব একটা হেলদোল থাকার কথা নয়। আটবার যিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, তাঁর কাছে পঞ্চম হওয়ার আনন্দ আর কতটুকু!<br>সেটার একটা ইঙ্গিত পাওয়া গেল সোমবারই।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-09-16/fnz1foon/850956-01-02.jpg"><figcaption>সর্বোচ্চ আট বার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন লিওনেল মেসি</figcaption></figure><p><br>লন্ডনে ব্যালন ডি’অরের জমকালো অনুষ্ঠানে যাননি মেসি। কেন যাননি, তা অবশ্য তিনি নিজে জানাননি। তবে পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা যে কম, সেটা হয়তো বুঝেছিলেন। তা ছাড়া মঙ্গলবার ইন্টার মায়ামির এমএলএস ম্যাচ ছিল। শুধু অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ারও তেমন যুক্তি ছিল না।</p><p>মেসি বরং বেছে নিলেন অন্য এক মঞ্চ। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত মেসি কাপের দ্বিতীয় আসরে হাজির হলেন। অনূর্ধ্ব–১৬ বছর বয়সী ফুটবলারদের এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা ১৬টি দল অংশ নিচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে চলবে ভবিষ্যতের তারকাদের লড়াই। লন্ডনে যখন ফুটবলের বর্তমান তারকাদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, মেসি তখন সময় কাটাচ্ছেন ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকাদের সঙ্গে।<br>একদিকে ১৯ বছরের ইয়ামাল উঠে আসছেন ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে; অন্যদিকে ৩৯ বছরের মেসি দেখছেন আগামী দিনের ইয়ামালদের।</p><h3>২০২৬ ব্যালন ডি’অরের সেরা ৩০</h3><p>১. হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ, ইংল্যান্ড)<br>২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ, ফ্রান্স)<br>৩. লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা, স্পেন)<br>৪. রদ্রি (বার্সেলোনা, স্পেন)<br>৫. লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি, আর্জেন্টিনা)<br>৬. খিচা কাভারাস্কেইয়া (পিএসজি, জর্জিয়া)<br>৭. উসমান দেম্বেলে (পিএসজি, ফ্রান্স)<br>৮. আর্লিং হলান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি, নরওয়ে)<br>৯. মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ, ফ্রান্স)<br>১০. ফাবিয়ান রুইজ (পিএসজি, স্পেন)<br>১১. জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ, ইংল্যান্ড)<br>১২. পাউ কুবারসি (বার্সেলোনা, স্পেন)<br>১৩. আশরাফ হাকিমি (পিএসজি, মরক্কো)<br>১৪. ভিতিনিয়া (পিএসজি, পর্তুগাল)<br>১৫. ডেকলান রাইস (আর্সেনাল, ইংল্যান্ড)<br>১৬. ফেরান তোরেস (পিএসজি, স্পেন)<br>১৭. ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ, ব্রাজিল)<br>১৮. মার্ক কুকুরেয়া (রিয়াল মাদ্রিদ, স্পেন)<br>১৯. জোয়াও নেভেস (পিএসজি, পর্তুগাল)<br>২০. উইলিয়ান পাচো (পিএসজি, ইকুয়েডর)<br>২১. গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল, ব্রাজিল)<br>২২. লাওতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান, আর্জেন্টিনা)<br>২৩. নুনো মেন্দেস (পিএসজি, পর্তুগাল)<br>২৪. লুইস দিয়াজ (বায়ার্ন মিউনিখ, কলম্বিয়া)<br>২৫. মার্কিনিওস (পিএসজি, ব্রাজিল)<br>২৬. দায়োত উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ, ফ্রান্স)<br>২৭. ব্রুনো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পর্তুগাল)<br>২৮. হুলিয়ান কিনিয়োনেস (কাদসিয়া, মেক্সিকো)<br>২৯. সাদিও মানে (আল নাসর, সেনেগাল)*<br>২৯. উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল, ফ্রান্স)*</p><p>* সমান ভোট</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/sports/football/8wf198055f">কেইন ও পুতেয়াসের মুখে ব্যালন ডি’অর জয়ের হাসি</a></aside>
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁর রিপাবলিকান পার্টির এক আইনপ্রণেতার দাবির পুনরাবৃত্তি করেন।
দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (২৩) মারা গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে ছিলেন মানিক পশারী।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”