সুস্থতা

হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন
হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন
<p>হুট করে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু। এমন আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর খবর আশপাশে প্রায়ই শোনা যায়। তবে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আগেও শরীর কিছু সংকেত পাঠায়। সেটা বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এখানে জেনে নিন এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন</p><p>বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর সংকেত পাঠায়। প্রথমে বুকে অল্প ব্যথার সঙ্গে অস্বস্তি থাকে। বেশির ভাগ সময় হার্ট অ্যাটাকে বুকের মাঝখানে চাপ বোধ হয়। কয়েক মিনিট ধরে ব্যথা থাকে। মাঝেমাঝে ব্যথা চলে যায় আবার ফিরে আসে।</p><p>একটা অস্বস্তিকর চাপ ও ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। অনেক সময় পিঠ, ঘাড়, চোয়াল ও পাকস্থলীতেও অস্বস্তি হয়। বুকে অস্বস্তির সঙ্গে শ্বাস ছোট হয়ে আসে। ঘাম দিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ও বমি ভাব হতে পারে।</p><p>উপসর্গ বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে বড় ক্ষতি এড়ানো যায়। মূলত হার্ট যখন অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালন করে, তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক চাপসহ নানা কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।</p><p>হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে ভয় পাবেন না। দ্রুত জোরে ও ঘন ঘন কাশি দেবেন, যেন কাশির সঙ্গে কফ বের হয়ে আসে। প্রতিবার কাশি দেওয়ার আগে দীর্ঘশ্বাস নিন।</p><p>এভাবে ঘন ঘন কাশি ও দীর্ঘশ্বাস—প্রতি দুই মিনিট পরপর করতে থাকুন। এতে করে আপনার হৃৎপিণ্ড কিছুটা হলেও নিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালন করবে।</p><p>হাসপাতালে নেওয়ার আগে এটি রোগীকে সাপোর্ট দেবে অনেকখানি। কারণ, দীর্ঘশ্বাসের ফলে আমাদের শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বেশি হয় এবং ঘন ঘন কাশি দেওয়ার ফলে বুকে যে চাপের সৃষ্টি হয়, তাতে হার্ট পর্যাপ্ত ও নিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/ajg5s7rikp">বয়স ত্রিশের পর গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা নাকি হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ</a></aside>

Prothomalo

View more
কুড়িগ্রামে শীতের সকালে সিঁদুরে মৌটুসির দেখা
কুড়িগ্রামে শীতের সকালে সিঁদুরে মৌটুসির দেখা

গভীর বনের পাখি সিঁদুরে মৌটুসি। সাতছড়ি উদ্যানে, সুন্দরবনে আছে। চট্টগ্রামের হাজারিখিলেও দেখা যায়।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
ভোটে প্রত্যাখ্যানের পরও কি ইসরায়েলে ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু
ভোটে প্রত্যাখ্যানের পরও কি ইসরায়েলে ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু

নির্বাচনী প্রচারে যাঁদের কণ্ঠ ও উদ্বেগের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত ছিল, সেই আরব ইসরায়েলিরাই এখন সরকার গঠনের মূল চালিকা শক্তি বা ‘কিংমেকার’ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাব হলো ৪টি
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাব হলো ৪টি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪
গাজীপুর কর অঞ্চলে চাকরি, পদ ৩৪

গাজীপুর কর অঞ্চলে ১৩ থেকে ২০ গ্রেডে ৩৪ পদে নিয়োগ; আবেদন শেষ তারিখ ১৮ নভেম্বর ২০২৬।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার
গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
৩৬ দিনের ‘শাটডাউন’ শেষে ক্লাসে ফিরলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা, চলবে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন
৩৬ দিনের ‘শাটডাউন’ শেষে ক্লাসে ফিরলেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা, চলবে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন

সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
একঝলক (২৮ অক্টোবর ২০২৬)
একঝলক (২৮ অক্টোবর ২০২৬)

<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/45ntgz2v/1.-Khulna-flower.JPG"><figcaption>বিলের পানিতে ফুটেছে সাদা শাপলা। রায়ের মহল, খুলনা, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/tmicjmrg/2.-Khulna-bird.JPG"><figcaption>গাছের মরা ডালে বসে আছে একটি পাখি। রায়ের মহল, খুলনা, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/j6y0etwl/3.-Rangpur-fisherman.JPG"><figcaption>সকালে মাছ ধরে জাল নিয়ে বাড়ি ফিরছেন এক ব্যক্তি। হারাটি, রংপুর, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/1v3ayx9j/4.-Rangamati-Duck.JPG"><figcaption>বাড়িতে পালন করা হাঁস-মুরগি ফেরি করে বিক্রি করছেন আবুল হোসেন। কাটাপাহাড়, রাঙামাটি, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/r0cv5d0b/5.-Rangamati-Traditional-Dress.JPG"><figcaption>রাঙামাটির সাপ্তাহিক হাট। পাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনোন ও হাদি কেনাবেচায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। বনরূপা, রাঙামাটি, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/g1ax6n2l/6.-Manikganj-Butterfly.jpg"><figcaption>মধু আহরণে ফুলে এসেছে প্রজাপতি। মানরা, মানিকগঞ্জ, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/jfpwfgjz/7.-Bogura-children.JPG"><figcaption>বিদ্যালয়ের ফটকে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করছেন এক ফেরিওয়ালা। ভান্ডার পাইকা এস এম উচ্চবিদ্যালয়, বগুড়া, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/bt5gdnmw/8.-Bogura-book.JPG"><figcaption>ছাপাখানায় বাঁধাইয়ের কাজে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। প্রেসপট্টি, বগুড়া, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/3smn5pbo/9.-Rangamati-Paddy-Field.JPG"><figcaption>শিশিরভেজা ধানখেত মাড়িয়ে ফসল তুলতে যাচ্ছেন এক পাহাড়ি কিষানি। ভুতের টিলা, রাঙাপানি, রাঙামাটি, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-28/kwpjy6mo/10.-Gazipur-bird.JPG"><figcaption>সবজিখেতের মাচায় বসে আছে দুটি পাখি। ইজ্জতপুর, শ্রীপুর, গাজীপুর, ২৮ অক্টোবর</figcaption></figure>

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
২৮ স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জ্ঞানের লড়াই
২৮ স্কুলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জ্ঞানের লড়াই

বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে তিনটি গ্রুপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ক’ গ্রুপে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি, ‘খ’ গ্রুপে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি এবং ‘গ’ গ্রুপে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
অফিস থেকে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন যুবক, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত
অফিস থেকে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন যুবক, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত

গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কার্তিক (৩৫) নামের এক পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নগরের গাছা থানার বড়বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”