টেলিভিশন

হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’তে আজ ফিরছে ২৩ বছর আগের গান

নভেম্বর ৬, ২০২৬
হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’তে আজ ফিরছে ২৩ বছর আগের গান
হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’তে আজ ফিরছে ২৩ বছর আগের গান
<p>ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ের বড় সর্দারবাড়ির সামনে নির্মিত মঞ্চ, চারপাশে কয়েক হাজার দর্শক। সেই আয়োজনে এক মঞ্চে গান গেয়েছিলেন দুই ভিন্ন ধারার শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ ও চিশতী বাউল। ছিল সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে বিশেষ আয়োজন। ২০২১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ধারণ করা জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র সেই পর্বের নির্বাচিত অংশ আবার দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শক। আজ শুক্রবার রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) প্রচারিত হবে বিশেষ সংকলিত পর্বটি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।</p><p>‘ইত্যাদি’র এই সংকলনে সোনারগাঁয়ের পর্বের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে প্রচারিত আরও কয়েকটি পর্বের নির্বাচিত অংশ রাখা হয়েছে। গান, নাচ, মানবিক প্রতিবেদন, সামাজিক সচেতনতামূলক আয়োজন ও ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ মিলিয়ে সাজানো হয়েছে অনুষ্ঠানটি। ‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।</p><p><strong>সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক পরিবেশে আয়োজন</strong><br> একসময় বাংলার রাজধানী হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁ ইতিহাস, স্থাপত্য ও লোক–ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। প্রাচ্যের ড্যান্ডি নামে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলার এই ঐতিহাসিক জনপদে ২০২১ সালের অক্টোবরে ধারণ করা হয়েছিল ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব।</p><p>বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণের ঐতিহাসিক বড় সর্দারবাড়ির সামনে নির্মাণ করা হয়েছিল অনুষ্ঠানের নান্দনিক মঞ্চ। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিখ্যাত ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্মের আদলে তৈরি ভাস্কর্যকে ঘিরে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল আমন্ত্রিত দর্শকের জন্য।<br>কয়েক হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে ধারণ করা হয় অনুষ্ঠানটি। সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ও উঠে আসে এই আয়োজনে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-10/e3dc055a-de9f-4a25-9c85-751b5be7ea5a/5__2_.jpg"><figcaption>ইত্যাদির দৃশ্যে কুমার বিশ্বজিৎ, হানিফ সংকেত ও চিশতী বাউল</figcaption></figure><p><strong>কুমার বিশ্বজিৎ ও চিশতী বাউলের গান</strong><br>সংকলিত পর্বে থাকছে তিনটি গান। এর মধ্যে একটি গানে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন আধুনিক গানের জনপ্রিয় শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ ও লোকসংগীতশিল্পী চিশতী বাউল। নিজের শিকড় ও অস্তিত্বের সন্ধানের বিষয়টি উঠে এসেছে গানটিতে। মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের লেখা গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন ইবরার টিপু।<br>সোনারগাঁয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে থাকছে আরেকটি বিশেষ গান। মনিরুজ্জামান পলাশের লেখা এই পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্থানীয় অর্ধশতাধিক নৃত্যশিল্পী। গান ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে সোনারগাঁয়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়।<br>এ ছাড়া ২০০৩ সালের জুনে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’র একটি পর্ব থেকে নেওয়া হয়েছে শিল্পী সান্টুর গাওয়া একটি গান। লিটন অধিকারী রিন্টুর লেখা গানটি একসময় দর্শকের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছিল। ব্যতিক্রমী পরিবেশনার জন্য সান্টু ছিলেন ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত ও পরিচিত মুখ। দীর্ঘদিন আগের সেই পরিবেশনাও নতুন করে দেখার সুযোগ পাবেন দর্শক।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/rza3dcbj/5__8_.jpg"><figcaption>২০০৩ সালের জুনে প্রচারিত ‘ইত্যাদি’র একটি পর্ব থেকে নেওয়া হয়েছে শিল্পী সান্টুর গাওয়া একটি গান</figcaption></figure><p><strong>থাকছে পাঁচটি বিশেষ প্রতিবেদন</strong><br>গান ও নাচের পাশাপাশি সংকলিত পর্বে গুরুত্ব পেয়েছে মানবিক, শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন।<br>নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নিয়ে থাকছে দুটি প্রতিবেদন। এতে ঐতিহাসিক এই জনপদের পরিচয়, স্থাপত্য ও লোকশিল্পের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।<br>সোনারগাঁয়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে থাকছে আরেকটি প্রতিবেদন। এতে তুলে ধরা হয়েছে আত্মপ্রত্যয়ী তরুণ শাহেদ কায়েসের কাজ। অবহেলিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে তাঁর উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার কথা জানতে পারবেন দর্শক।<br>পরিবেশসচেতনতার অংশ হিসেবে থাকছে প্রকৃতিপ্রেমী বৃক্ষসেবক খাইরুল আলমকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন। গাছের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং বৃক্ষ পরিচর্যার কাজ তুলে ধরা হয়েছে এতে।<br>২০১৯ সালের অক্টোবরে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নির্মিত একটি ব্যতিক্রমী বিদ্যালয় নিয়েও থাকছে ফলোআপ প্রতিবেদন। হাওরের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে নেওয়া উদ্যোগটির পরবর্তী অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।<br>আরেকটি মানবিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দুর্গম গাবুরা ইউনিয়নের মানুষের জীবনসংগ্রাম। উপকূলীয় এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে ভুগছেন। নিরাপদ পানির জন্য তাঁদের প্রতিদিনের দুর্ভোগ ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।</p><p><strong>থাকছেন নানি-নাতি, মামা-ভাগনে</strong><br>‘ইত্যাদি’র দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার অন্যতম অনুষঙ্গ সামাজিক অসংগতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ। এবারের সংকলিত পর্বেও বিভিন্ন সময়ে প্রচারিত এমন কয়েকটি নাট্যাংশ রাখা হয়েছে।<br>সমাজের নানা অনিয়ম, অসংগতি ও সমসাময়িক ঘটনা হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এসব পরিবেশনায়। পাশাপাশি থাকছে অনুষ্ঠানের পরিচিত দর্শক পর্ব।<br>এ ছাড়া ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত আয়োজন নানি-নাতি, মামা-ভাগনে ও চিঠিপত্র বিভাগও থাকছে এই সংকলনে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-03-15/8zdk8vme/038A0820.JPG"><figcaption>হানিফ সংকেত। ছবি: খালেদ সরকার</figcaption></figure><p><strong>চার দশকের কাছাকাছি পথচলা</strong><br>১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করে ‘ইত্যাদি’। শুরু থেকেই অনুষ্ঠানটি হাস্যরস, ব্যঙ্গ, গান, অভিনয়, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে নিজস্ব পরিচয় তৈরি করেছে।<br>হানিফ সংকেতের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরার জন্যও পরিচিত। বিশেষ করে প্রচারের আড়ালে থাকা সমাজসেবী ও উদ্যোগী মানুষদের কাজ দর্শকের সামনে আনার ক্ষেত্রে ‘ইত্যাদি’র দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে।<br>স্টুডিওর বাইরে দেশের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠান ধারণের ধারাও ‘ইত্যাদি’র অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সেই ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক বড় সর্দারবাড়ির সামনে ধারণ করা হয়েছিল ২০২১ সালের পর্বটি।</p>

Prothomalo

View more
বরিশালে স্টেডিয়ামের নতুন রূপ, ক্রিকেটে পরিবর্তন দেখার অপেক্ষা
বরিশালে স্টেডিয়ামের নতুন রূপ, ক্রিকেটে পরিবর্তন দেখার অপেক্ষা

বিসিবির সূচি অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর টি-টুয়েন্টি সংস্করণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডি-থ্রি টুর্নামেন্ট।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
জাতীয় চার নেতার নামে থাকা কোস্ট গার্ডের জাহাজের নাম পরিবর্তন
জাতীয় চার নেতার নামে থাকা কোস্ট গার্ডের জাহাজের নাম পরিবর্তন

সব মিলিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচটি জাহাজের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি থেকে এই তথ্য জানা যায়।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
উত্তরায় লাইভ করেন চীনের নাগরিকেরা, কী বলেন
উত্তরায় লাইভ করেন চীনের নাগরিকেরা, কী বলেন

উত্তরায় লাইভ করেন চীনের নাগরিকেরা, কী বলেন

নভেম্বর ৬, ২০২৬
দুই বছর বয়সে মা–বাবার বিচ্ছেদ, নানির কাছে বড় হয়ে বদলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ধারা
দুই বছর বয়সে মা–বাবার বিচ্ছেদ, নানির কাছে বড় হয়ে বদলে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির ধারা

রিপাবলিকান জন ম্যাককেইনকে হারিয়ে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন বারাক ওবামা। তাঁর জয় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
মানুষের বেঁচে থাকার গল্প
মানুষের বেঁচে থাকার গল্প

সব নাগরিকের জন্য মানবিক ও সহনশীল রাষ্ট্র গড়ে তোলা গেল না। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরতে পরতে সামাজিক–অর্থনৈতিক বৈষম্যসহ নানা ধরনের বৈষম্য ক্রিয়াশীল।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
বেসরকারি সংস্থা পপিতে ৪৮০ জনের চাকরির সুযোগ, সর্বোচ্চ বেতন ৭৩ হাজার
বেসরকারি সংস্থা পপিতে ৪৮০ জনের চাকরির সুযোগ, সর্বোচ্চ বেতন ৭৩ হাজার

বেসরকারি সংস্থা পপি ৫টি পদে মোট ৪৮০ জনকে নিয়োগ দেবে।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
রাহুলের চ্যালেঞ্জ মোদিকে, জবাব দিতে এগিয়ে এলেন অমিত শাহ
রাহুলের চ্যালেঞ্জ মোদিকে, জবাব দিতে এগিয়ে এলেন অমিত শাহ

রাহুল বলেছিলেন, ‘চ্যালেঞ্জ জানানোর পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেছে মোদিজি। সাড়া দেননি। এবার আপনি মিথ্যাচার বন্ধ করুন। বিদেশি সাহায্যেই আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।’

নভেম্বর ৬, ২০২৬
দ্য ভিজিট
দ্য ভিজিট

<p>‘বাবা, তুমি কি মনে করো সময় ভ্রমণ সম্ভব?’ বিলি জিজ্ঞেস করল। ‘স্পেস ক্যাডেট জ্যাকের মতো?’</p><p>‘সম্ভবত টেলিভিশন বা মুভিতে বিষয়টা যেভাবে ঘটে, সে রকম নয়।’ ছেলের মাথার চুল এলোমেলো করে দিলেন বাবা। তারপর টেলিস্কোপটা ঠিক করলেন। দ্রুত অন্ধকার হয়ে আসছে আকাশ। শুক্র ও বৃহস্পতি জ্বলছে মাথার ওপর। এমনকি মঙ্গল গ্রহও এখন দৃশ্যমান। বাবা গাড়ির ট্রাংক থেকে রান্নাঘরের ছোট প্লাস্টিকের টুল টেনে আনলেন, যাতে বিলি ওটার ওপর দাঁড়িয়ে টেলিস্কোপের আইপিসে চোখ রাখতে পারে। বৃহস্পতি বিলির পছন্দের গ্রহ। বাবার টেলিস্কোপের মাধ্যমে এর ব্যান্ডগুলো দেখা যাবে। আরও দেখা যাবে চারটি তারা, যেগুলো আসলে গ্যালিলিওর চাঁদ; এমনকি কখনো কখনো গ্রেট রেড স্পটও দেখা যাবে। ছবিতে গ্রহটা শুধু লাল দেখাচ্ছিল। অথচ টেলিস্কোপে দেখলে পুরো গ্রহটা হলুদ হয়ে যায়।</p><p>‘কেন নয়?’</p><p>বাবা একটু ভাবলেন। উত্তরে তিনি টেলিস্কোপের ট্রাইপড ঘুরিয়ে পূর্ণ চাঁদের দিকে নির্দেশ করলেন। আসলে লেজার ডায়োড ব্যবহার না করলেও চলে, কিন্তু ব্যবহার করছেন, যাতে বিলি দেখে শিখতে পারে। ‘ঠিক আছে, সোনা,’ তিনি বললেন। ‘আইপিস দিয়ে তাকাও। কী দেখতে পাচ্ছ?’</p><p>বিলি টুলের ওপর আঙুলের ডগায় ভর দিয়ে দাঁড়াল। বলল, ‘কিছু না।’</p><p>‘অপেক্ষা করো,’ বাবা বললেন।</p><p>কয়েক মুহূর্ত কেটে গেল। ‘চাঁদ!’ বিলি উত্তেজিত গলায় বলল। ‘আমি পার্শ্বরেখা দেখতে পাচ্ছি!’</p><p>‘দেখতে থাকো,’ বাবা বললেন।</p><p>আরও কয়েক সেকেন্ড কেটে গেল। ‘এখন আরও বেশি কিছু দেখতে পাচ্ছি,’ বিলি বলল, ‘বৃত্তের মতো করে ঘুরছে!’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/ju01xcqyqj">অনুরূপী</a></aside><blockquote>আসলে লেজার ডায়োড ব্যবহার না করলেও চলে, কিন্তু ব্যবহার করছেন, যাতে বিলি দেখে শিখতে পারে। ‘ঠিক আছে, সোনা,’ তিনি বললেন। ‘আইপিস দিয়ে তাকাও। কী দেখতে পাচ্ছ?’</blockquote><p>‘ভিউ ফিল্ড,’ বাবা বললেন। ‘হ্যাঁ, দেখতে থাকো।’</p><p>এক মিনিট পর বিলি বলল, ‘ওটা প্রায় চলে গেছে।’</p><p>‘ঠিক আছে। চলে গেল কেন?’</p><p>বিলি একটু চিন্তা করে বলল, ‘টেলিস্কোপ কি নড়ছে?’</p><p>বাবা হাসলেন। ‘ভালো অনুমান! কিন্তু না। ট্রাইপডে লক করা আছে।’</p><p>‘তাহলে চাঁদ নড়ছে!’</p><p>‘হ্যাঁ। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।’</p><p>‘কিন্তু টাইম ট্রাভেলের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?’</p><p>‘পৃথিবীও একই কাজ করছে, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। এমনকি এখন, এই মুহূর্তেও সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবী। সূর্যের ওপরে ঘুরছে। তাই এখন রাত।’ বাবা তাঁর হাত দিয়ে সামান্য নড়াচড়া করলেন, যেন একটা অদৃশ্য বলের চারপাশে কিছু ঘুরছে। ‘এটা হলো সূর্য,’ সে তার অন্য মুঠি ধরে বলল। ‘এটা পৃথিবী।’ তিনি প্রথমে পৃথিবী ঘুরিয়ে বললেন, ‘রাত্রি।’ তারপর একই হাতে অন্য বৃত্ত তৈরি করলেন। বললেন, ‘গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত, বসন্ত।’</p><p>‘আমি এখনো বুঝতে পারিনি,’ বিলি বলল। ‘বলতে চাচ্ছি, ঋতু এবং অন্যান্য জিনিস আমি বুঝতে পারি, কিন্তু সময় ভ্রমণ বুঝতে পারি না।’</p><p>বাবা শুক্রের দিকে টেলিস্কোপটি আবার তাক করলেন। ‘জ্যাক যখন তার সময়ে ফিরে যায়, তখন সে সব সময় একই জায়গায় থাকে। সে যদি টেবিলে বসে থেকে তার কবজিতে টাইম-শিফট বোতামে চাপ দেয় আর পাঁচ মিনিট পেছনে লাফ দেয়, তবে সে এখনো টেবিলে বসে আছে, তা–ই না?’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/hoitszkwpv">সন্দেশ</a></aside><blockquote>বাবা তাঁর হাত দিয়ে সামান্য নড়াচড়া করলেন, যেন একটা অদৃশ্য বলের চারপাশে কিছু ঘুরছে। ‘এটা হলো সূর্য,’ সে তার অন্য মুঠি ধরে বলল। ‘এটা পৃথিবী।’ তিনি প্রথমে পৃথিবী ঘুরিয়ে বললেন, ‘রাত্রি।’</blockquote><p>‘ঠিক, ঠিক!,’ বিলি চেঁচিয়ে বলে উঠল। ‘সে সিটের ওপর কিছু আঠা রাখল। কারণ, সে জানত, সোরান দ্য সরোনিয়ান এসে বসবে এবং সবাইকে বোকা বানাবে!’</p><p>‘ঠিক,’ বাবা বললেন। ‘কিন্তু এটা নিয়ে ভাবো। টেবিলটা কেন এখনো সেখানে থাকবে? একই জায়গায়। জ্যাক যেখানে বসে ছিল, ঠিক সেই জায়গায়?’</p><p>‘আমি এখনো বুঝতে পারিনি।’</p><p>বাবা তার মুঠি ধরে বললেন। ‘জ্যাক এখানে সেই টেবিলে বসে আছে।’ তিনি তাঁর তর্জনীর গাঁটের দিকে ইশারা করলেন। ‘বর্তমানে ঠিক এখানে, তা–ই তো?’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-05/rak7vj8u/1.png"></figure><p>‘হ্যাঁ।’</p><p>‘এখন, পৃথিবী তো ঘুরবে, তা–ই না? তাহলে সে যদি পাঁচ মিনিট পিছিয়ে যায়,’ বাবা একটু থামলেন, তারপর ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে হাত ঘোরালেন। ‘টেবিলটি পাঁচ মিনিট আগে যেখানে ছিল, সেখানে ফিরে আসবে। ঠিক যেমন চাঁদ যেখানে ছিল, সেখানে ফিরে আসবে, যখন তুমি পাঁচ মিনিট আগে চাঁদকে প্রথমবার ভিউ ফিল্ডে দেখেছিলে। এতক্ষণে এটি সেখানে পৌঁছে গেছে।’ তিনি ইশারা করলেন চাঁদ এখন কোথায়। ‘তুমি সম্ভবত কোনোমতে দেখতে পাচ্ছ, কিন্তু দেখতে পাচ্ছ। এ মুহূর্তে ওটা বৃক্ষের মতো দেখতে তার শাখার ওপরে আছে, দেখো? দেখতে ‘ভি’র (V) মতো? এক মিনিট পর আবার নড়তে শুরু করবে। দেখো।’</p><p>বিলি সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাল এবং দেখল ‘ওহ!’ চেঁচিয়ে বলল সে।</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/xbvldhm307">নেতা</a></aside><blockquote>‘এখন, পৃথিবী তো ঘুরবে, তা–ই না? তাহলে সে যদি পাঁচ মিনিট পিছিয়ে যায়,’ বাবা একটু থামলেন, তারপর ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে হাত ঘোরালেন।</blockquote><p>বাবা হাত আবার মুঠি করলেন। ‘ঠিক আছে,’ তিনি বললেন, ‘এটা সূর্য।’ তিনি তাঁর অন্য মুঠি ধরে রাখলেন। ‘এটা পৃথিবী। ধরা যাক, গ্রীষ্মকাল। জ্যাক যদি ছয় মাসের মধ্যে ফিরে আসে, তখন পৃথিবী কোথায় থাকবে?’</p><p>বিলি ভাবল। ‘সূর্যের ওপরে!’ সে চেঁচিয়ে বলল। ‘এবার বুঝতে পেরেছি!’</p><p>বাবা পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞেস করলেন, ‘জ্যাক যদি ছয় মাস পিছিয়ে যায়, তারপরও একই জায়গায় থাকে, তাহলে তাকে কোথায় পাওয়া যাবে?’</p><p>‘মহাকাশে!’</p><p>‘হ্যাঁ। ভালো কথা, তার কাছে তো একটা স্পেসস্যুট আছে, তাই না?’</p><p>‘বাহ, আমি এটা নিয়ে কখনো ভাবিনি!’</p><p>‘অনেক মানুষই তা ভাবে না। আসলে এটা অনেক বেশি জটিল। এটা ঠিক না যে পৃথিবীই শুধু সূর্যের চারপাশে ঘুরছে। সবকিছুই ঘুরছে। সূর্য ঘুরছে। পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি ঘুরছে। আমার বয়স ৪৫ বছর। আমার জন্মের সময় থেকে এখন পর্যন্ত—এর মধ্যে পৃথিবী ট্রিলিয়ন মাইল স্থানান্তরিত হয়েছে। তুমি যদি আমার পিতামহের সময়ে ফিরে যেতে চাও, তাহলে তোমাকে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করতে হবে। তিনি যখন জীবিত ছিলেন, তখন পৃথিবী আসলে যেখানে ছিল, সেখানে পৌঁছানোর জন্য পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ সময়।’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/hdss9hwack">উদ্ভাবনপটু দেশপ্রেমী</a></aside><blockquote>বাবা পরীক্ষা করার জন্য জিজ্ঞেস করলেন, ‘জ্যাক যদি ছয় মাস পিছিয়ে যায়, তারপরও একই জায়গায় থাকে, তাহলে তাকে কোথায় পাওয়া যাবে?’</blockquote><p>‘ওহ, বাহ,’ বিলি বলল। তারা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বাবা মঙ্গল গ্রহের দিকে মনোনিবেশ করলেন, তাকে দেখাচ্ছিলেন মাঠে বরফের ছিদ্রগুলো কীভাবে উজ্জ্বল রংধনুর মতো দেখায়। কিন্তু যখন তারা সব যন্ত্রপাতি গুছিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল, তখন তাকে হতাশা পেয়ে বসল। ‘আমার খুব খারাপ লাগছে যে ভবিষ্যতের লোকেরা আমাদের সঙ্গে কখনোই দেখা করবে না।’</p><p>বাবা বিলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। ‘হয়তো তারা পারবে,’ তিনি বললেন। ‘তবে গাণিতিক হিসাব-নিকাশগুলো নিয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে। তাহলেই তারা পৃথিবীতে আসতে পারবে। বুঝতেই পারছ, এর বদলে…তারা যদি পৃথিবীর সামনে বা অন্য কোথাও…এর কক্ষপথে পা—’</p><p>‘দেখো!’ বিলি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল। ‘একটা খসে পড়া তারা!’</p><h4>অনুবাদ: হাসান খুরশীদ রুমী</h4><h4>*লেখাটি ২০২৪ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/oom91r0w22">মৃত গ্রহ</a></aside>

নভেম্বর ৬, ২০২৬
চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে নিজেদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য
চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে নিজেদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য

ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার কাজ আরও সহজ করতে চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে ভয়েস–সুবিধা যুক্ত করেছে ওপেনএআই।

নভেম্বর ৬, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।