activities

হাবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে হুমায়ূন আহমেদের ‘আশাবরী’

অক্টোবর ৯, ২০২৬
হাবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে হুমায়ূন আহমেদের ‘আশাবরী’
হাবিপ্রবি বন্ধুসভার পাঠচক্রে হুমায়ূন আহমেদের ‘আশাবরী’
পাঠচক্রে উপন্যাসের মূল ভাবনা ধরে আলোচনায় উঠে আসে সমাজের নানা বাস্তব চিত্র, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মানবিক অনুভূতির গল্প। ভাবগম্ভীর আলোচনার পাশাপাশি হাসি-আনন্দের আমেজে আড্ডাটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

Prothomalo

View more
হাল ফ্যাশন লাইফস্টাইল গাইডলাইন: ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে কী জিজ্ঞেস করতে পারেন আর কী পারেন না, হয়রানি হলে কী কী করবেন
হাল ফ্যাশন লাইফস্টাইল গাইডলাইন: ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে কী জিজ্ঞেস করতে পারেন আর কী পারেন না, হয়রানি হলে কী কী করবেন

বাংলাদেশের কন্টেক্সট বিবেচনা করলে ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে কী জিজ্ঞেস করতে পারেন আর কী পারেন না, হয়রানি হলে কী কী করবেন এসব বিষয় আগেই জেনে যাওয়া ভালো।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

এ হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
রাজধানীতে অটোরিকশার কাচ ভেঙে মাথায় আঘাতে প্রাণ গেল চালকের
রাজধানীতে অটোরিকশার কাচ ভেঙে মাথায় আঘাতে প্রাণ গেল চালকের

রাতে অটোরিকশা চালিয়ে যাওয়ার সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের ধাক্কা লাগে। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় সানোয়ার রাস্তায় পড়ে ছিলেন।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস
মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস

জনতার ভেতরে একধরনের সমষ্টিগত আবেগ কাজ করে, যা ব্যক্তিকে তার নিজস্ব যুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
পূর্বাচলে মিষ্টিমুখের নতুন ঠিকানা, পাবেন নানা স্বাদের মিষ্টি
পূর্বাচলে মিষ্টিমুখের নতুন ঠিকানা, পাবেন নানা স্বাদের মিষ্টি

<p>পূর্বাচলের নীলা মার্কেটের মিষ্টির সেই পুরোনো স্বাদ ও ঐতিহ্য যেন নতুন করে ফিরেছে মহারাজা সুইটসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাহারি মিষ্টির সমাহারে দোকানটি হয়ে উঠছে মিষ্টিপ্রেমীদের নতুন ঠিকানা।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/u0b39wmj/040A9777.JPG"><figcaption>সম্প্রতি পূর্বাচলে নীলা মার্কেটের কাছেই গড়ে উঠেছে নতুন এক মিষ্টির দোকান—মহারাজা সুইটস</figcaption></figure><p>ছোট ছোট ছাউনির নিচে গড়ে ওঠা মিষ্টির দোকানগুলো ছিল একসময় পূর্বাচলের নীলা মার্কেটের মূল আকর্ষণ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই কড়াইয়ে মিষ্টি ভাজার দৃশ্য, গরম রসের ঘ্রাণ আর ক্রেতাদের ভিড়ে জায়গাটি বেশ রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকত। </p><p>এখানকার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল কড়াই থেকে সদ্য তুলে দেওয়া গরম-গরম মিষ্টি। অনেকেই শুধু এই মিষ্টি খাওয়ার উদ্দেশ্যেই সেখানে যেতেন। এখানে পাওয়া যেত রসগোল্লা, স্পঞ্জ মিষ্টি, ছানার মিষ্টি, চমচম, মালাই চপ, সন্দেশ, লেংচা, রাজভোগ, জিলাপি, দইসহ নানা ধরনের মিষ্টি। বিশেষ করে বড় আকৃতির বালিশ মিষ্টি নীলা মার্কেটের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। </p><p>একটা সময় হাঁসের মাংস নীলা মার্কেটের জনপ্রিয় খাবার হয়ে উঠলে মিষ্টির সেই ক্রেজে কিছুটা ভাটা পড়ে। তবে সম্প্রতি পূর্বাচলে নীলা মার্কেটের কাছেই গড়ে উঠেছে নতুন এক মিষ্টির দোকান—মহারাজা সুইটস। যেই দোকানে শুধু নীলা মার্কেটের মিষ্টিই নয়, পাবেন বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মিষ্টি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/1x96ttxfsw">এই গরমে ঢাকার যেখানে মিলবে ডাবের আইসক্রিম</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/fseqlqud/040A9817.JPG"><figcaption>দোকানটির দেয়ালে আঁকা হয়েছে দেয়ালচিত্র</figcaption></figure><p>সেই মিষ্টির স্বাদ নিতে গত সোমবার আমিও গিয়েছিলাম। নীলা মার্কেট বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ১০ টাকার অটো ভাড়ায় চলে আসি পূর্বাচলের বড়ুলিয়া চত্বর। এখান থেকে একটু দূরেই চোখে পড়ে মহারাজা মিষ্টির দোকান। সামনে এগোতেই গেটের দুপাশে গাড়ির সারি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, ভেতরের মানুষজন সব মহারাজার সুইটসে মিষ্টিমুখ করছেন। </p><p>আমিও কাচের দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ি। ভেতরটা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। দোকানটির দেয়ালে আঁকা হয়েছে পালকির আদলে গড়া দেয়ালচিত্র, আছে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি। সুন্দর করে টেবিল-চেয়ার দেওয়া আছে, রয়েছে একসঙ্গে প্রায় ১৫০ জনের খাওয়ার ব্যবস্থা। মিষ্টি ঘিরে যাত্রা শুরু করা মহারাজা এখন বেকারি আইটেম, কাবাব, কফিসহ অনেক রকম খাবার নিয়ে এসেছে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/5pdfe10403">ঢাকার যেসব জায়গার হান্ডি না খেলেই নয়</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/c3sz9y4s/040A9696.JPG"><figcaption>কাচের শোকেসবন্দী হরেক রকমের মিষ্টি </figcaption></figure><p>যেহেতু মিষ্টির খোঁজে এসেছি, শুরুতেই তাই ক্যাশ কাউন্টারের পাশে কাচের শোকেসবন্দী হরেক রকমের মিষ্টি দেখতে গেলাম। মিষ্টির নাম এবং দাম দেখে লোভ সামলানো দায়! রসে ডোবানো রসমালাই থেকে শুরু করে মালাই রোল, মালাই কেক, মতিচুর, মতিনাট লাড্ডু, রাবড়ি জামুন, হাঁড়িভাঙা, স্পঞ্জ, ছানার আমৃতি, চমচম, কাজু কাটলি, কাঁচাগোল্লাসহ কতশত মিষ্টি! </p><p>গরমে ঘেমে-নেয়ে এসেছি বলে মিষ্টি না চেয়ে বরং এক গ্লাস মাঠা অর্ডার করি। মাঠায় চুমুক দিতে দিতে মহারাজার প্রতিষ্ঠাতা মায়িশা রহমান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর স্বামী নওসাদ হাসনাইনের সঙ্গে কথা হয়। মায়িশা রহমান জানান, অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে করোনার সময় একপ্রকার আটকে পড়েন। তখন ভাবলেন, ভিনদেশে পাড়ি না জমিয়ে দেশে কিছু একটা করবেন। নিজেদের অন্যান্য ব্যবসা থাকার পরও নতুন কিছু করার চিন্তাভাবনা থেকে ঠিক করলেন মিষ্টি নিয়ে কাজ করবেন। সেই থেকেই সাত হাজার বর্গফুটের নিজেদের এই জায়গায় গড়ে তোলেন মিষ্টির কারখানা। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/44d71v2nri">ফুড কার্ট দিয়ে যাত্রা শুরু, এখন দেশের জনপ্রিয় বার্গারের ঠিকানা চিলক্স</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/qqaj352z/040A9869.JPG"><figcaption>মহারাজার ভেতরে আছে খোলামেলা ও পরিচ্ছন্ন আবহ</figcaption></figure><p>সামনে খাওয়ার জায়গা আর পেছনে মূল কারখানা। মাত্র একজন কারিগর ও তাঁর সহকারী নিয়ে যাত্রা শুরু করা মহারাজা সুইটসে এখন কাজ করছেন ১০ জন কারিগরসহ ৪০ জন কর্মী। অটোরিকশাচালকদের কাছে বিরান প্রান্তরে গড়ে ওঠা জায়গাটা শুরুতে ছিল ‘এসিওয়ালা মিষ্টির দোকান’। </p><p>ধীরে ধীরে মহারাজা মিষ্টির স্বাদে তৃপ্ত গ্রাহকেরা বারবার এখানে ছুটে আসতে শুরু করেন। বেলা ১১টা থেকে শুরু করে মিষ্টি খাওয়ার এই আয়োজন চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। কখনো কখনো রাত ১টা–২টা পর্যন্তও গড়ায়। বিশেষ করে শুক্রবারসহ ছুটির দিনগুলোতে ভিড় থাকে দেখার মতো। বসে খাওয়ার পাশাপাশি যে কেউ চাইলে বাসাবাড়ির জন্য বা নিমন্ত্রণে যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্যাকেটজাত করে মিষ্টি নিয়ে যেতে পারেন। </p><p>দরদাম কেজি হিসেবে মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর প্রতি পিস মিষ্টি খাওয়ার সুযোগ রয়েছে ৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া ফরমায়েশি বিয়েবাড়ির আয়োজনের জন্য মিষ্টির ডালা সাজিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কিছুদিন আগে প্রায় ২০ কেজি ওজনের এক ডালা সাজিয়ে নেন উত্তরার এক বাসিন্দা। বড় সেই ডালা চারজন মিলে পিকআপে করে নিয়ে যেতে হয়েছিল! মিষ্টির ডালার ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে—কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে জানাতে হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার নিশ্চিত করতে হবে। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/fashion/jqi8fvex4x">টাঙ্গাইলের পুরোনো এক জমিদারবাড়ি যেভাবে হয়ে উঠল ভাইরাল শুটিং স্পট </a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-07/93t8cafb/040A9809.JPG"><figcaption>দূর–দূরান্ত থেকে ক্রেতারা মিষ্টি কিনতে আসেন</figcaption></figure><h3>যেভাবে যাবেন</h3><p>শুরুতেই ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে আসতে হবে কুড়িল বিশ্বরোডে। সেখান থেকে মাত্র ৩০ টাকা ভাড়ায় চলে আসুন নীলা মার্কেট বাসস্ট্যান্ড। নীলা মার্কেট যে পাশে, তার ঠিক উল্টো পাশ থেকে অটোতে চেপে মাত্র ১০ টাকা ভাড়ায় চলে আসতে পারবেন মহারাজা সুইটসে। আর যাঁদের নিজস্ব গাড়ি আছে, তাঁরা তো জ্যামহীন রাস্তায় সরাসরি চলে আসতে পারবেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/xofomt0vv1">ঢাকার যেসব এলাকায় মিলবে পতেঙ্গার খাবার</a></aside>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
উদ্ভাবনপটু দেশপ্রেমী
উদ্ভাবনপটু দেশপ্রেমী

<p>বহুকাল আগের কথা।</p><p>এক দেশে ছিল এক রাজা।</p><p>একদিন রাজার দরবারে হাজির হলো এক লোক। সে ছিল বুদ্ধিমান ও উদ্ভাবনপটু এক দেশপ্রেমী।</p><p>রাজদরবারে এসে নিজের জামার পকেট হাতড়ে এক টুকরা কাগজ বের করল লোকটি। রাজার উদ্দেশে বলল, ‘মহারাজ, আমি খুব শক্ত বর্ম বানানোর একটা ফর্মুলা আবিষ্কার করেছি। সেটা এত শক্ত হবে যে দুনিয়ার কোনো বন্দুকের গুলি তা ভেদ করতে পারবে না। এই বর্ম যদি রাজকীয় নৌবাহিনীতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে আপনার যুদ্ধজাহাজগুলো হয়ে উঠবে অভেদ্য। কেউ আপনাকে আর পরাজিত করতে পারবে না। আপনার মন্ত্রীরাও সেটা পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই যে এখানে এই বর্ম সম্পর্কে আপনার মন্ত্রীদের প্রশংসাপত্র আছে। তাঁরাই এর সঠিক মূল্য বুঝতে পেরেছেন। মাত্র এক লাখ টুমটুম মুদ্রার বিনিময়ে আমি এই আবিষ্কারটার স্বত্ব বিনিময় করতে চাই।’</p><p>কাগজটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেটা এক পাশে সরিয়ে রাখলেন রাজা। রাজকোষাগার থেকে ওই দেশপ্রেমীকে এক লাখ টুমটুম দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন।</p><p>এবার জামার আরেকটা পকেট হাতড়াতে লাগল দেশপ্রেমী। কিছুক্ষণ পর তার হাতে আরেক টুকরা কাগজ উঠে এল। সেটা দেখিয়ে রাজাকে বলল, ‘মহারাজ, এখানে আমার উদ্ভাবন করা একটা বন্দুকের নকশা রয়েছে। এই বন্দুক দিয়ে আগের ওই শক্ত বর্মটাও অনায়াসে ছিদ্র করে ফেলা সম্ভব—যাকে বলে অপ্রতিরোধ্য বন্দুক। আপনার ভাই, মানে ব্যাংয়ের মহারাজা, এটি কিনতে আগ্রহী। কিন্তু মহামান্য, আপনার এবং আপনার সিংহাসনের প্রতি আনুগত্যের কারণে তাঁকে আমি এ ফর্মুলা দিইনি। এর বিনিময়মূল্যও বেশি নয়, মাত্র এক লাখ টুমটুম মুদ্রা।’</p><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/v64ehj8r61">ক্রাইম অন মার্স</a></aside><blockquote>কাগজটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেটা এক পাশে সরিয়ে রাখলেন রাজা। রাজকোষাগার থেকে ওই দেশপ্রেমীকে এক লাখ টুমটুম দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন। </blockquote><p>অচিরেই দেশপ্রেমীকে রাজকোষ থেকে আরও এক লাখ টুমটুম মুদ্রা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।</p><p>সে প্রতিশ্রুতি পেয়ে গদগদ দেশপ্রেমী আবারও জামার পকেটে হাত ঢোকাল। আরেক টুকরা কাগজ বের করে এনে বলল, ‘মহামান্য সম্রাট, এই অপ্রতিরোধ্য বন্দুকের দাম আরও বেশি হতে পারত। কিন্তু আপনার মহিমায় আমি আরেকটা ফর্মুলা উদ্ভাবন করেছি। সেই ফর্মুলাটা ব্যবহার করলে আগের বর্মটা এই বন্দুকের গুলিও ঠেকিয়ে দিতে পারবে। একদম কার্যকরভাবে। এই ফর্মুলা মাত্র...।’</p><p>কিন্তু মুখের কথা শেষ করতে পারল না দেশপ্রেমী। তার আগেই সেনাপতিকে এগিয়ে আসতে ইঙ্গিত করলেন রাজা। হুংকার দিয়ে বললেন, ‘এই লোককে এক্ষুনি তল্লাশি করো। গুনে দেখো, ওর জামায় কতগুলো পকেট আছে।’</p><p>‘৪৩টি মহারাজ।’ পরীক্ষা শেষে জবাব দিল সেনাপতি।</p><p>‘দয়া করুন, মহারাজ,’ আতঙ্কিত হয়ে উদ্ভাবনপটু দেশপ্রেমী চিৎকার করলে বলল, ‘পকেটগুলোর মধ্যে একটিতে আমার তামাক আছে।’</p><p>‘লোকটাকে উল্টো করে ধরে জোরে জোরে ঝাঁকাও,’ কঠোর নির্দেশ দিলেন রাজা, ‘তারপর তাকে ৪২ লাখ টুমটুম মুদ্রা দাও। এরপর দ্রুত ওর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করো। আর সব কাজ শেষে এমন একটা ফরমান জারি করো, যাতে এর পর থেকে উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।’</p><h4>*লেখাটি ২০২৫ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত</h4><aside><a href="https://www.bigganchinta.com/sciencefiction/rg1ouxo5ab">নীল রঙের সেই বোতল</a></aside>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
তৃণমূলের ১০ বিধায়কের পদ বাতিলের আবেদন খারিজ করলেন স্পিকার
তৃণমূলের ১০ বিধায়কের পদ বাতিলের আবেদন খারিজ করলেন স্পিকার

এই ১০ বিধায়ক জানান, বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় পুরোনো আইন নিয়ে বিধায়ক পদ খারিজের আবেদন করেছেন। তা এখন কার্যত অকার্যকর।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
ছুটির দিনের সকালেই বাড়ল সোনার দাম
ছুটির দিনের সকালেই বাড়ল সোনার দাম

<p>ছুটির দিন শুক্রবার সকালে বাড়ল সোনার দাম। এবার ভরি সোনার দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা। নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।</p><p>বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি সোনার মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সকালেই জানিয়েছে। এর আগে ৫ অক্টোবর সোনার দাম ভরিতে কমানো হয়েছিল ১ হাজার ৬৩৩ টাকা। তার চারদিনের মাথায় সোনার দাম বাড়ল। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির জন্য দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার কথা জানিয়েছে সমিতি।</p><p>নতুন দাম অনুযায়ী, ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করায় ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।</p><p>একইভাবে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়নার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত এই ক্যারেটের সোনার ভরি ছিল ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা।</p><p>অন্যদিকে ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা। গতকাল পর্যন্ত ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।</p><p>এদিকে সোনার দাম বাড়ানো হলেও রুপার গয়নার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ১৪১ টাকা। সোনা ও রুপার দামের সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত রয়েছে</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
কীভাবে সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তুলবেন
কীভাবে সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাবলম্বী করে তুলবেন

<p>প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি আয়োজন বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা সভা। এ আয়োজনের আওতায় ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রথম আলোর কার্যালয় কারওয়ান বাজারে ১৮২তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপস্থিত থেকে পরামর্শ প্রদান করেন বিশিষ্ট শিশু-কিশোর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহমেদ হেলাল। এইবারের বিষয়টি ছিল—‘সন্তানের আচরণ ও বন্ধু নির্বাচন: অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।’ উক্ত অনুষ্ঠান থেকে একটি পরামর্শ তুলে ধরা হলো।</p><p><strong>বন্ধু নির্বাচন কিংবা সমাজে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সন্তানের নিজের আচরণ কেমন হওয়া উচিত? কীভাবে তাকে স্বাবলম্বী মানসিকতার করা যায়?</strong></p><p>এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. আহমেদ হেলাল বলেন, ‘সন্তানের নিজের আচরণ হতে হবে দৃঢ় ও সুস্পষ্ট। এর অর্থ হলো—সে যেন কোনো ধরনের ভয়, লজ্জা বা অতিরিক্ত বিনয়ী হয়ে নিজেকে গুটিয়ে না রাখে, আবার উগ্র বা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিও প্রকাশ না করে। সে যেন মার্জিতভাবে নিজের মতামত পরিষ্কার করে প্রকাশ করতে পারে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তাকে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। অন্যায় বা ক্ষতিকর প্রস্তাবে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলার মানসিকতা থাকতে হবে।’ </p><p>তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বে বহু বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্যের মানুষ ও বন্ধু থাকবে। সন্তান যদি কেবল একই মানসিকতার বা সীমিত গণ্ডির বন্ধুদের সাথেই মেলামেশা করে, তবে সে বাইরের বিশাল পৃথিবীকে সঠিকভাবে অন্বেষণ করতে পারবে না। তাই তার বন্ধুদের পরিধি বড় হওয়া উচিত। বন্ধু পরিমণ্ডলে বিভিন্ন ধরনের আচরণ থাকলেও ক্ষতিকর দিকগুলো এড়িয়ে ভালো পথে সবাইকে নিয়ে চলার মনোভাব গঠন করতে হবে।’</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন