<p>বন্ধুদের সঙ্গে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। ২৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় দেখা যায় তাঁকে। বিস্তারিত ভিডিওতে...</p><figure></figure>
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।
<p>ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আজ শনিবার ঢাকার মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। </p><p>শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর ১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মিরপুর ১ নম্বরের শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। সেখানে কয়েকটি মার্কেট ও পোশাক কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। কালশী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা।</p><p>পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে মিরপুর ১১, ১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নেন। এতে এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবী মানুষসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।</p><p>দুপুরের দিকে শ্রমিকেরা মিরপুর ১০ থেকে সরে শাহ আলী এলাকায় জড়ো হন। বেলা ২টার পর শাহ আলী থানাধীন এলাকায় পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে কারখানাটিতে ভাঙচুর চালান শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁরা একটি বিপণিবিতানে ভাঙচুর চালান।</p><p>বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে পল্লবী থানাধীন কালশীর আদর্শনগর এলাকার ২২ তলা পোশাক কারখানায়ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন শ্রমিকেরা।</p><p>পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, শ্রমিকেরা ওই কারখানায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে শ্রমিকেরা পালিয়ে যান।</p><p>মিরপুর ১০ নম্বর থেকে শ্রমিকেরা সরে যাওয়ার পর মিরপুর ১ নম্বরের মাজারসংলগ্ন বাজার ও মার্কেট এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাছের বলেন, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p>
<p>২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ৬টি বোর্ডে পাসের হার অর্ধেকের নিচে। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
সিনেমায় দেখা আর বইয়ের পাতায় পড়া প্রাচীন সব ক্যাসল, প্যালেস আর টাওয়ারে আজও ঘুরে বেড়ায় অশরীরীর গল্প।
<p>আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়ে ইরানে চিঠি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই চিঠি পাঠিয়েছেন। ওয়াশিংটনের এই চিঠিকে তেহরান ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।</p><p>কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাঠানো একটি চিঠি পর্যালোচনা করেছে ইরান। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং আরও বিস্তৃত সমঝোতার দ্বার উন্মোচনে ওয়াশিংটনের এই চেষ্টা ইতিবাচক পদক্ষেপ।</p><p>তবে আরাগচি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই চিঠি পাঠানোর পেছনে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য যদি বিভেদ সৃষ্টি করা হয়, তবে এটি তাদের আগের ভুলগুলোর মতো আরও একটি ভুল হবে।</p><p>আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চিঠি পাঠালেও ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফায় মার্কিন হামলার আশঙ্কাকে নাকচ করে দিচ্ছেন না আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না, সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অস্ত্রশস্ত্রের আধুনিকায়ন করেছি, আমাদের দুর্বলতাগুলো সংশোধন করেছি এবং নতুন অস্ত্র পরীক্ষা করেছি। আমাদের বাহিনীর সর্বোচ্চ স্তরের প্রস্তুতি রয়েছে।’</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে স্বীকার করলেও আরাগচি বলেন, ইরান ‘আত্মসমর্পণ করবে না’। তিনি বলেন, ‘আমরা অবিচল থাকতে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। আমরা আমাদের নিজস্ব সক্ষমতার মাধ্যমে এই কঠিন পরিস্থিতি অতিক্রম করব।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/mz1kz94etp">যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধ করতে ইরান প্রস্তুত আছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি</a></aside><h3>কাতার যাচ্ছে তেহরানের প্রতিনিধিদল </h3><p>ইরানের প্রতিনিধিদল মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে কাতারের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ‘আমার সহকর্মীরা ইতিমধ্যে আলোচনা চালিয়ে যেতে বর্তমানে কাতারে রয়েছেন। কাতার ও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আমাদের শর্তাবলি সম্পর্কে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’</p><p>আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি–সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন। যেগুলো নিয়েও আলোচনা চলছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/4e6h7eeuye">ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা </a></aside><h3>মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই </h3><p>ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আপাতত মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে যা ছড়ানো হচ্ছে, তা কেবলই সংবাদমাধ্যমের জল্পনাকল্পনা।</p><p>আরাগচি বলেন, ‘আপাতত আমেরিকানদের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো প্রয়োজন আমরা দেখছি না। আমাদের শর্তাবলি স্পষ্ট, মধ্যস্থতাকারীরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ নাকি পরোক্ষ আলোচনা হবে—সেই সিদ্ধান্ত ইরানের শর্তগুলো পূরণের ওপর নির্ভর করছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/ril9kyq0pv">দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফেদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও</a></aside>
<blockquote>শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ৩২৫/৮। পাকিস্তান: ৪৮.৩ ওভারে ৩৩১/৭। ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।</blockquote><p>শুরুটা করেছিলেন ফখর জামান। তবে বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিটাও একসময় মনে হচ্ছিল যথেষ্ট হবে না।</p><p>লাহোরে তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্নটা আবার একটু একটু করে উজ্জ্বল হচ্ছে। পাকিস্তানের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ফখর ও সালমান আগা ফিরে গেছেন। ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান পড়েছে চাপে। এমন সময়ে উইকেটে দুই তরুণ। হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস।</p><p>বড় ম্যাচের চাপ? ফাইনালের স্নায়ুযুদ্ধ? আরাফাতের ব্যাটিং দেখে মনে হলো, এসব আবার কী!</p><p>মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে শ্রীলঙ্কার জয়ের স্বপ্নটা এক ফুৎকারেই উড়িয়ে দিলেন আরাফাত। তাঁর ২৮ বলে ফিফটি আর হাসানের সঙ্গে ৯৪ রানের জুটিতে পাকিস্তান পৌঁছে গেল জয়ের বন্দরে। শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।</p> <p>লাহোরে আজকের ফাইনালে আগে ব্যাট করে কামিন্দু মেন্ডিসের সেঞ্চুরি আর পবন রত্নায়েকের বড় ফিফটিতে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। জবাবে পাকিস্তান ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে করেছে ৩৩১ রান।</p><p>ওয়ানডে ফাইনালের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারত। আর পাকিস্তান সর্বশেষ ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিল ঢাকায়। ২০০৮ সালের কিটপ্লাই কাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে।</p> <p>অথচ আজ পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। শ্রীলঙ্কার পেসার দিলশান মাদুশঙ্কা শুরুতেই ফিরিয়ে দেন মাজ সাদাকাত ও বাবর আজমকে। পাকিস্তান তখন বিপদে।</p><p>সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ফখর জামান। অবশ্য ভাগ্যদেবীও তাঁর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনবার জীবন পেয়েছেন ফখর। শ্রীলঙ্কাকে সেই সুযোগ নষ্টের মূল্যও দিতে হয়েছে ভালোভাবেই। </p><p>তরুণ সাদ বেগকে নিয়ে ১৪০ বলে ১৪৯ রানের জুটি গড়েন ফখর। সাদ খেলেন ৭৫ বলে ৭৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। এরপর ফখর নিজেই বদলে ফেলেন ব্যাটিংয়ের গতি। তুলে নেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডে ফাইনালে দুটি সেঞ্চুরি করার কীর্তিও গড়ে আউট হন ৯৯ বলে ১২৭ রান করে। ১১টা চারের সঙ্গে ৬টা ছক্কা তাঁর ইনিংসে। মাদুশঙ্কা ফিরে এসে ফখরকে আউট করতেই ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা। কিছুক্ষণ পর সালমান আগাও ফিরে গেলে পাকিস্তানের জয় নিয়ে সংশয় আরও বাড়ে।</p> <p>সেই সংশয় দূর করার দায়িত্বটা নিজেদের কাঁধে তুলে নেন হাসান ও আরাফাত। চাপের মুখে দুজনের ৯৪ রানের জুটি ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দেয়। বিশেষ করে আরাফাতের ব্যাটে তখন রীতিমতো ঝড়। শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদির মিডউইকেটের ওপর দিয়ে মারা ছক্কায় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের জয়। উল্লাসে ফেটে পড়ে লাহোরের গ্যালারি।</p><p>শ্রীলঙ্কার অবশ্য আক্ষেপ করার কারণ আছে। কামিন্দু মেন্ডিসের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পেয়েছিল তারা। কামিন্দু করেন ১৩১ রান। পবন রত্নায়েকে ৬৫ বলে খেলেন ৭৭ রানের ইনিংস। দুজনের ১৪৬ বলে ১৪৬ রানের জুটিতে ৪১ ওভারেই শ্রীলঙ্কার রান পৌঁছে যায় ২৫৫-তে।</p><p>তখন মনে হচ্ছিল, ৩৫০ রানও হয়তো ছাড়িয়ে যাবে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু শেষ দিকে পাকিস্তানের পেসাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ৭০ রান যোগ করতে পারে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু ও রত্নায়েকের জুটি ভাঙার পর ৫২ রানে হারায় ৫ উইকেট। শেষ ১১ বল খেলতে হয় লেজের ব্যাটসম্যানদের। আফ্রিদি নেন ৫০ রানে ২ উইকেট। শেষের ওই ২০ থেকে ২৫ রানই হয়তো ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।</p>
<p>রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে একটি মেসে রান্নার চুলা ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে মারধর ও কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় নিরব হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।</p><p>নিরব পেশায় মিস্ত্রি ছিল। সে রায়েরবাজারের গ্রিন গলির একটি মেসে থাকত। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার বাবা রংমিস্ত্রি এনায়েত হোসেন মুন্সি।</p><p>নিরবের বড় ভাই পিয়াল হোসেনের ভাষ্য, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটার দিকে মেসে গ্যাসের চুলায় ভাত রান্না করছিল নিরব। এ সময় একই মেসের রংমিস্ত্রি আলমগীর (২৮) রান্না করতে আসেন। চুলা ব্যবহার নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। নিরব ভাত রান্নার পর ডিম সেদ্ধ করতে চেয়েছিল। আলমগীর একই চুলায় রান্না করতে চাইলে বিরোধ বাধে। পরে নিরব নিজের কক্ষে চলে যায়।</p><p>পিয়াল হোসেন বলেন, রাতে তিনি ও নিরব বিছানায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ আলমগীর, তার ছোট ভাই শিমুল এবং তাদের ভাতিজা নাজিম ও ফাহিম মিলে নিরবকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে শিমুল কাঁচি দিয়ে নিরবের ঘাড়ে দুটি আঘাত করেন। তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।</p><p>গুরুতর আহত নিরবকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই রাতেই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে ২২ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার মৃত্যু হয়।</p><p>এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। পিয়াল জানায়, পুলিশ আলমগীরকে আটক করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।</p><p>মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম কবির বলেন, নিরবের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হত্যাচেষ্টার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।</p><p>তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিরব ছিল সবার ছোট।</p>
<p>২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ১২টি ক্যাডেট কলেজেই পাসের হার শতভাগ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৬৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩৬ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯৪ দশমিক ২০ শতাংশ।</p><p>আজ শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাডেট কলেজসহ সেনাবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর এ তথ্য জানানো হয়।</p><p>বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাডেট কলেজগুলো ছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গড় পাসের হার ৯৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলা মাধ্যমের ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৭ হাজার ২১৩ জন এবং ইংরেজি মাধ্যমের ১২টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৮২৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারী ১৮ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ হাজার ৪১০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৬১৯ জন।</p><p>আইএসপিআর আরও জানায়, ক্যাডেট কলেজগুলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল ও ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ক্যাডেটদের চৌকস ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এসব প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এ কারণে ক্যাডেটদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে লেখাপড়ার পাশাপাশি চরিত্র গঠন ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত যুগোপযোগী শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম যুক্ত হচ্ছে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।