নেপালে অভিষেকে ব্যাটে-বলে আলো ছড়ালেন সাকিব-মেহেদী

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালোই পারফরম্যান্স করেছেন সাকিব আল হাসান ও শেখ মেহেদী হাসান।

৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
খুলনায় ক্লিনিকের পর এবার রেস্টুরেন্টে হামলা

ক্লিনিকে হামলার পর এবার খুলনা নগরীর আহসান আহমেদ রোডের পিটিআই মোড়সংলগ্ন চাইনিজ প্যালেস রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল যুবক। 

খুলনায় ক্লিনিকের পর এবার রেস্টুরেন্টে হামলা
সব চোখ সাদমানের দিকে, সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে এই ওপেনার

আর মাত্র এক রান! টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির এতটা কাছে এসে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাদমান ইসলামকে দিনের খেলা শেষ করতে হয়েছিল মাঠে আলোকস্বল্পতায়।

সব চোখ সাদমানের দিকে, সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে এই ওপেনার
অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

যশোরের অভয়নগরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকের ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেনি।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃ...

কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় আজ

সারা দেশ

View more
পর্যটক বরণে প্রস্তুত সেন্টমার্টিন, জেটি নিয়ে শঙ্কা
পর্যটক বরণে প্রস্তুত সেন্টমার্টিন, জেটি নিয়ে শঙ্কা

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন।

Video news

Rss feed news

বিভিন্ন কর অঞ্চলে ২৩৪ পদে নিয়োগ, চলছে আবেদন
বিভিন্ন কর অঞ্চলে ২৩৪ পদে নিয়োগ, চলছে আবেদন

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন কর অঞ্চলে ২৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
১৮ বছর আগে সব হারিয়েছিলেন, এখন ৪ কোটির সিনেমা বানান
১৮ বছর আগে সব হারিয়েছিলেন, এখন ৪ কোটির সিনেমা বানান

মুম্বাইয়ের একটি গ্যারেজে বসে ১৯ বছর বয়সে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন নমিত মালহোত্রা, কয়েক দশক পর সেই স্বপ্নই তাঁকে নিয়ে গেছে হলিউডের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
রাষ্ট্র যখন তার স্রষ্টাদের সম্মান জানাতে সংকটে পড়ে
রাষ্ট্র যখন তার স্রষ্টাদের সম্মান জানাতে সংকটে পড়ে

<p>বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সীমিতকরণ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক-অর্থনৈতিকভাবে হয়তো দেশ-বিদেশে সবাই প্রায় মেনে নিয়েছে, তবে এর সামাজিক ফল হতে পারে উদ্বেগজনক। সার্বভৌমত্ব সীমিতকরণ প্রক্রিয়াকে ইংরেজিতে ‘ডি-সভেরেনাইজেশন’ বলে উল্লেখ করা যায়। এটা হতে পারে স্বেচ্ছামূলকভাবে, জবরদস্তিমূলক পথেও। বাংলাদেশে উভয়ের মিশ্র পদ্ধতিতে হচ্ছে। ফলাফল একই দাঁড়াচ্ছে। </p><p>রাজনীতি ও সমাজজীবনে এ দেশে ঐতিহাসিকভাবে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের উত্তাপ ও ব্যবহার অত্যধিক। তার আড়ালেই সার্বভৌমত্ব সংকোচন বহুকাল ধরে ধীরলয়ে এগোচ্ছে এবং এখন লাজলজ্জার মোড়ক ভেঙে সেটা বেশ স্পষ্ট অবয়ব পেয়েছে।</p><p>সার্বভৌমত্ব হাতছাড়া হওয়ার বিষয় বহু বিশ্বগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতায় আছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক অনেক কাঠামো সার্বভৌমত্বের পরম ধরন বহু আগে খাটো করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন, বিভিন্ন সনদে সম্মতির জন্য দেশীয় বিধিবিধান সংশোধন নিয়ন্ত্রিত সার্বভৌমত্বের কথা জানায়। রাষ্ট্রসমূহ অনেক সময় লাভ-লোকসানের তুলনামূলক হিসাব কষে কর্তৃত্বের ছাড় দেয় অনেকটা জাতীয় সম্মতিতে। ইইউর মতো আঞ্চলিক ‘মুক্তাঞ্চল’ রাষ্ট্রীয় একক সার্বভৌমত্বকে সীমিত করে ভিন্ন ধাঁচের যৌথ সার্বভৌমত্বের মডেলও তুলে ধরছে।</p><p>তবে বাংলাদেশে ঘটছে ভিন্ন ধরনের কিছু। ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা যেভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শুল্কচুক্তি করল এবং এর পক্ষে যেভাবে সমাজের একটা সমর্থক গোষ্ঠী দেখা গেল কিংবা সম্প্রতি যেভাবে সৌদি আরব তথ্য-উপাত্ত না দিয়ে দুজন বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল এবং বাংলাদেশের একজন নীতিনির্ধারক যেভাবে এতে শিক্ষণীয় উপাদান দেখলেন বা অতীতে যেভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনের সময় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এসে ভোটের ধরন বাতলে দিতেন, এসবই ডি-সভেরেনাইজেশনের বার্তা দেয়।</p><p>গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা লিজ, ভাড়া বা বেসরকারীকরণও সার্বভৌমত্বের কমবেশি সংকোচন কি না, সেটা বোঝা যেত, যদি ওই সব চুক্তি জনসমক্ষে আসত। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে বা জনগণের সম্পদ বড় আয়তনে ব্যয় হয়, এমন যেকোনো ধরনের চুক্তি যে ঘোষণা দিয়ে গোপন রাখতে হচ্ছে, সেটা স্পষ্টত সার্বভৌমত্বের ঘাটতির কথা জানায়। তবে রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব নিশ্চিতভাবে আরও বড় আয়তনে নাজুকতার কথাও বলছে, যখন সে তার স্রষ্টা মুক্তিযোদ্ধাদের লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেয়। পিরোজপুরের মানিক পশারীর বেলায় তেমনটা বেশ স্পষ্ট দেখা গেল। এ–ও একধরনের ডি-সভেরেনাইজেশন কি না, সেটা রাষ্ট্রচিন্তায় উঠতে বাধ্য। কিন্তু এ তো স্পষ্ট, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ‘কর্তৃত্বের’ প্রয়োগ অভ্যন্তরীণভাবে যেমন বাধার মুখে সংকুচিত হচ্ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও নিজস্ব অধিকারের সার্বভৌম প্রকাশ থমকে যাচ্ছে।</p><p>জাতীয়তাবাদী জনপদে সার্বভৌমত্বের আবেগ বেশ তীব্র থাকে। সে জন্য আস্তে আস্তে তাদের জোয়াল পরানো হয়। অভ্যস্ত হওয়ার পালা শুরু হয় সীমিত সংকোচনের মাধ্যমে। সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জকারী রাজনৈতিক শক্তি যেমন এ অবস্থা তৈরি করতে পারে, তেমনি নানান প্রাপ্তি ও সমৃদ্ধির স্বপ্নও সার্বভৌমত্বের সীমিতকরণকে গতি দিতে পারে। </p><p>একদা আমাদের এখানে ইপিজেডগুলোয় দেশীয় শ্রম আইনের ঊর্ধ্বে কিছু সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইপিজেড কর্মসংস্থান বাড়াবে, প্রযুক্তি হস্তান্তর ঘটাবে। সে জন্য বিশেষ আইন করা হয় এ রকম উদ্যোগের জন্য। তাতে এসব শিল্পাঞ্চলে সংঘ গঠনের অধিকার, শ্রম পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা শর্তাধীন করা হয়। অর্থাৎ জাতীয় শ্রম আইন, মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক হাত সীমিত করা হয় সেখানে। সেটা অনেকাংশে মেনেও নিয়েছি আমরা। এভাবে এগোতে এগোতে এখন বিমান কিনব কি কিনব না, সেই নীতিনির্ধারণী ক্ষমতার বেলাতেও অন্যের নির্দেশনা শুনি। ইপিজেড গড়তে দিয়েছি আমরা হয়তো বেকারি কমানো ও প্রযুক্তিগত দারিদ্র্য ঘোচাতে; কিন্তু এত এত বোয়িং কিনছি কেন, সেটা কম নাগরিকই জানে বা জানতে চায়। তারা ডি-সভেরেনাইজেশনে অভ্যস্ত এখন।</p><p>আশপাশের কোনো দেশ সীমান্তভূমির দু–এক শতক জায়গা দখল করলে আমাদের জাতীয় অহং নিশ্চিতভাবেই জেগে উঠত এবং সেটাই সংগত। কিন্তু নীতিগত সিদ্ধান্তের অধিকার বিঘায় বিঘায় বেদখল হলেও তার ন্যায্যতা দিতে জাতীয় বুদ্ধিজীবীর অভাব হয় না আজকাল। </p><p>একসময় জনগণকে নিরন্তর বোঝানো হয়েছিল, পাটকল ও চিনিকলগুলো বন্ধ করা বা বেসরকারি খাতে দেওয়া কেন জরুরি। সেই অধ্যায়ের দু–তিন দশক পর আজ পাট ও চিনি খাতের অবস্থা স্পষ্ট। একই বুদ্ধিজীবী দল এখন বোঝাচ্ছে, বন্দর ইত্যাদি লিজ দেওয়া কতটা লাভজনক হবে। </p><p>আগের আমলে বোঝানো হয়েছিল, প্রতিবেশীদের করিডর দিয়ে আমরা কত উপায়ে লাভবান হতে পারি। অথচ শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা নির্বিঘ্ন করতেই সেসব দেওয়া হচ্ছিল। একদিকে সিগন্যাল দিয়ে অন্যদিকে গাড়ি চালিয়ে চলে যাওয়া বাংলাদেশের কুলীন সমাজের কৌশল হিসেবে নতুন নয়।</p><p>আজকে গুরুত্বপূর্ণ খাত ও সংস্থা ইজারার পেছনে পণ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করার কথাই জোরেশোরে প্রচারিত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে বিদেশিদের উপস্থিতি সহজতর করার কথা নিশ্চয়ই এখন আমরা কোনো বিশেষজ্ঞ থেকে জানার আশা করতে পারি না। সেটা জানবে হয়তো পরের প্রজন্ম।</p><p>গত মাসেই অন্তত কয়েক ডজন টক শো হয়েছে সৌদিদের মক্কা সামরিক জোটে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে, ওই বিষয়ে। কিন্তু ওই দেশে দুজন বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের বিষয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো খুব যত্নের সঙ্গে মুখে সিলমোহর মেরে রেখেছে। অচিন্তনীয় এই রাষ্ট্রীয় অপমানে নাগরিক সমাজও নিশ্চুপ।</p><p>অনেকের হয়তো মনে আছে, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০২৩ সালে কাতারে আটজন ভারতীয়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে নয়াদিল্লি অবিশ্বাস্য এক উদ্যোগে তার নাগরিকদের আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করে বড় ধরনের দেশীয় সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল। যদিও পুরো ঘটনায় তাদের নাগরিকেরা ছিল অপরাধে অভিযুক্ত।</p><p>অথচ শিরশ্ছেদ হওয়ার আগে বাংলাদেশ তার নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সুইটি আখতারের অপরাধটুকুর কথাও জানতে পারল না। আমাদের জাতীয় বিদেশনীতি কীভাবে ডি-সভেরেনাইজেশনের কবলে আছে, তার মোটাদাগের এক নজির এটা।</p><p>বাংলাদেশ এখনো বলতে পারছে না তার নাগরিকেরা প্রাণবধের শিকার হলো কেন? এ রকম ‘না জানতে পারা’ হলো ডি-সভেরেনাইজেশনের পদ্ধতিগত ফল। নীতিগত অবক্ষয়ের শিকার দেশগুলোর সরকার ক্রমে ক্রমে এভাবে আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থ দেখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এমনকি তার নাগরিক সমাজও এ রকম অপমানে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এর বড় একটা ক্ষতিকর অভ্যন্তরীণ পার্শ্বফলও থাকে। যেটা দেখলাম আমরা পিরোজপুরে।</p><p>নাগরিকদের সুরক্ষা ও সম্মান জানাতে রাষ্ট্রের অভিভাবকতুল্য ভূমিকা না থাকলে জনগণের মধ্যে স্থায়ী নৈরাজ্যিক মনস্তত্ত্ব তৈরি হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গণবিশৃঙ্খলার যেসব আলামত ক্রমে বাড়ছে, তার সঙ্গে সমকালীন ‘সার্বভৌমত্ব সংকোচন’ বাস্তবতার গভীর যোগ আছে। রাষ্ট্রীয় গৌরব এবং নীতিনির্ধারকদের অভিভাবকতুল্য সামর্থ্য হারিয়ে যাচ্ছে বলেই মানুষ এখন আর স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মানতে চাইছে না। </p><p>সার্বভৌমত্বের পুনঃপুন সংকোচন দেশবাসীর মন থেকে জাতীয় গৌরববোধ লুপ্ত করে। এতে সমাজ থেকে জাতীয় সরকারের নৈতিক কর্তৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা লোপ পেতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক পরিসরে অপমানের ট্রমা এ রকম দেশের নাগরিক সমাজকে যেকোনো অবস্থায় প্রটোকলের বাইরে চালিত করে। মানসিক হতাশাগ্রস্ত এরূপ জনসমাজ সহিংসতার ক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। </p><p>সার্বভৌমত্বের সংকোচন বাংলাদেশের জনসমাজকে আত্মবিশ্বাসহীন, আত্মমর্যাদাহীন নৈরাজ্যিক এক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করছে। অথচ এ অবস্থার জন্য দায়ী সাধারণ জনগণ নয়, কুলীন সমাজ—তথা রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা।</p> <p>●<strong> আলতাফ পারভেজ</strong> গবেষক ও লেখক</p> <p><em>* মতামত লেখকের নিজস্ব</em></p>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
রোদের শেষ রেখা
রোদের শেষ রেখা

<p>‘দ্য মোর আই সি ইউ, আই অ্যাম ইন লাভ।’ কতবার ফোনের দিকে তাকিয়েছি। যতটা ভেঙে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আর দাঁড়ানো যায় না, এখন সেখানে আমি। পাজামার ফিতে নেমে এসেছে, অন্তর্বাসহীন শরীর, হাত–পা থরথর কাঁপছে। তাকিয়ে আছি দেয়ালের ছবিটার দিকে—ছ’ফুট উচ্চতার যুবায়ের হাসান—আমার নিঃশব্দ আততায়ী।</p><p> আগামীকাল রাতেই ওর ফ্লাইট। তাহলে আমরা একই শহরে শ্বাস নিচ্ছি বিশ ঘণ্টারও কম সময়। ছাইভরা অ্যাশট্রেটা পড়ে আছে। দুমাস ধরে যুবায়ের এখানে থাকে না। অ্যাশট্রেটায় এখনো ওর ঠোঁটের শেষ মার্লবোরো। অ্যাশট্রেটা ওর মেরিল্যান্ডের বাসায় ছিল। আমিই কিনে দিয়েছিলাম।</p><p> মেরিল্যান্ডে বাসাটা ছিল ছোট, সাত-আট ফুটের ঘর। একজন কালো মিক্সড রুমমেট ছিল ওর, যার চেহারা অনেকটা বব ডিলানের মতো আর ছেলেটার বান্ধবী—কালো মেয়েটা, যার অপুষ্ট শরীরের ওপর থেকে বেরিয়ে থাকত শীর্ণ নদীর মতো ক্লিভেজ। ছেলেটার ছিল ব্রেইড করা চুল। একটু কাছে গেলেই উৎকট নারকেল তেলের গন্ধ আর প্রতি রাতে ওদের দেয়াল ভেদ করে আসত নীল ছবির মতো শীৎকার।</p><p> ফিলাডেলফিয়া থেকে মাঝে মাঝেই যেতাম ওকে দেখতে, সন্ধ্যায় যে ট্রেনটা ছাড়ে, তাতে। বাস স্টপেজ থেকে একটা সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসতে হতো, যে সিঁড়ির এক পাশের হাতল নেই। তারপর সিঁড়িগুলো কয়েক দিকে ভাগ হয়ে একদিক এসে মিশেছে রেলস্টেশনে। স্টেশনের এক পাশে সাদা ম্যাগনোলিয়ার ঝাড়। আর রাস্তার ওপাশে যেখানে ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটি, সেখানে দাঁড়িয়ে এক পাইন।</p><p>স্টেশনটা অনেক পুরোনো। হঠাৎ করে ঢুকলে মনে হবে একটা কাঠের আলমারিতে ঢুকে পড়েছি। দেয়াল, ছাদ, চেয়ার—চারদিকেই কাঠ। ট্রেন এলেই হুইসেল শুনে ওপরে ওঠার সিঁড়িতে হুড়মুড় করত কিছু কালো মানুষ। এক প্রশস্ত নাকের ইথিওপিয়ান আমাদের টিকিট দেখত আর আমরা নকল হাসি দিয়ে থ্যাঙ্ক ইউ বলতাম। কম্পার্টমেন্টে উঠে গেলে সহজেই চোখে পড়ত স্টেশনের পাশের নিচের রাস্তা, যেখানে রাত নামলেই ফুটপাতটা বুকে জড়িয়ে শুয়ে থাকত কিছু গৃহহীন মানুষ।</p><p>যুবায়ের নিতে আসত স্টেশনে। আর সব হারিয়ে যখন একটু একটু করে গুছিয়ে নিচ্ছি, তখনো যেন সে এল আমার জীবনের এক থেমে থাকা স্টেশনে, যে স্টেশন হারিয়ে গিয়েছিল শহরের মানচিত্র থেকে, সেই স্টেশনের এক বিকল ইঞ্জিনে ধোঁয়া তুলল সে।</p><p>স্টেশন থেকে বেরিয়ে যুবায়েরের করনার্ডস হিলের স্টুডেন্ট হাউজিংয়ে যাওয়ার আগে যে রাস্তাটা পড়ে, ওখানে একদিন তুষারে হেঁটেছিলাম। চাকরি করলেও ও খরচ বাঁচাতে ছাত্রদের সঙ্গেই থাকত। যেদিন প্রথম নিতে এল, যুবায়েরের ওই দীর্ঘ শরীরটা সেই তুষারের খোলা রাতের হু হু বাতাসকে উষ্ণ করে তুলেছিল আর কিছুটা উষ্ণ ও আমাকে করে তুলছিল। ওই রাতে ওর কাছে আমি ছিলাম সাদা কাচের জারে সাজানো পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান ওয়াইন, যার ওকে খুব দরকার।</p><p>যুবায়েরের সঙ্গে পরিচয়টা এ দেশে এসে। বাংলাদেশি ডায়াস্পোরাদের নিয়ে একটা কাজে। ইউনিভার্সিটি কমিউনিটির একটা কাজে সে ফোন করেছিল কয়েকবার। অনেকটা সামাজিক বিরতির পর, আমার কণ্ঠস্বর তখনো ফিকে, মানুষের সঙ্গে কথাবার্তায় ঠিক অভ্যস্ত হতে পারিনি। গান গাইতে জানি বলে, এখানকার মোবাশ্বের ভাই জোর করে, বিএসএর কালচারাল প্রেসিডেন্ট করে দিয়েছে। তাতে খুব যে অস্বস্তিতে পড়েছি তা নয়, তবে কখনো ভাবিনি এভাবে আবার জনারণ্যে ফিরতে পারব!</p><p>একটা উদ্দাম ঘোড়ার মতো অথচ নিঃশব্দে ছুটতে হয়েছে বিগত কয়েক বছর। কোর্টের এ বারান্দা থেকে ও বারান্দা। না, জয়ী হতে পারিনি। শেষমেশ এই স্কলারশিপটাই নতুন করে বাঁচার পথ দিল। আমার ছেলে আরিয়ানের তখন চার বছর, কাস্টডি মামলায় হেরে অতটুকুন বাচ্চাটাকে রেখেই চলে এলাম। আমার সাবেক স্বামীর সঙ্গে লড়াইয়ে ক্রমেই ক্লান্ত আর আর্থিকভাবেও কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না। মা–বাবা, ভাইয়েরা অনেকটাই অসন্তুষ্ট। ভাই তো বলেই দিল, ‘ও তো ওর বাবার কাছে ভালোই আছে, তুই কেন বাড়াবাড়ি করছিস। ছেলের কাস্টডি পেলে কি খুব ভালো হবে তোর? কেউ বিয়ে করবে, দায়িত্ব নিতে চাইবে?’ ভাইয়া কিন্তু আরিয়ানকে ভালোই বাসত। তবে তার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙাটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।</p><p>যুবায়ের যখন ফোন করত, স্পষ্টত বুঝতে পারছিলাম প্রয়োজনের চেয়ে বেশিই ফোন করা হচ্ছে এবং যথাসম্ভব দূরত্ব রেখে কথা বলেও বুঝতে পারছিলাম, দূরত্বটা কেন জানি থাকছে না।</p><p>একদিন মন খারাপ ছিল। খুব টেনেটুনে চলি, মামলার খরচ, কিছু ঋণ হয়েছিল। সামনে আরিয়ানের বার্থডে, ওকে একটা কিডস কার কিনে দিতে হবে, আরিয়ান গাড়ি খুব পছন্দ করে। বিগত দুবছর ওকে কিছু দিতে পারিনি, আর ওর বাবাও দিতে দেয়নি, কত করজোড় করেছি!</p><p>কিছু খেতে ইচ্ছা করছিল না, তবু ফ্রিজ খুললাম। ফোনে রিং বাজছে। যুবায়েরের টেক্সট—ফ্রি আছ? একটা ডিম বের করতে করতে উত্তর দিলাম ‘হুম’। ফ্রাইপ্যানটা বসিয়ে ডিম ছাড়লাম ফোন কানে নিয়েই। যুবায়ের কথা বলে চলেছে—ওর সেই কণ্ঠস্বর—যেন এক নির্জন অরণ্যে হাঁটছে কেউ, দূর থেকে ভেসে আসছে তার প্রতিধ্বনি। নাকি বহুদিন কোনো পুরুষের সঙ্গে একান্ত আলাপন নেই বলে এ আমার হ্যালুসিনেশন!</p><blockquote>একটা উদ্দাম ঘোড়ার মতো অথচ নিঃশব্দে ছুটতে হয়েছে বিগত কয়েক বছর। কোর্টের এ বারান্দা থেকে ও বারান্দা। না, জয়ী হতে পারিনি। শেষমেশ এই স্কলারশিপটাই নতুন করে বাঁচার পথ দিল। আমার ছেলে আরিয়ানের তখন চার বছর, কাস্টডি মামলায় হেরে অতটুকুন বাচ্চাটাকে রেখেই চলে এলাম। আমার সাবেক স্বামীর সঙ্গে লড়াইয়ে ক্রমেই ক্লান্ত আর আর্থিকভাবেও কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না।</blockquote><p>—কেন মন খারাপ করে আছ?</p><p>ও বলে চলেছে—</p><p>—জানো, তোমার সঙ্গে কথা বললে মনে হয় এক শান্ত দিঘির পাশে বসে আছি, যার জল নীরবে বয়ে যাচ্ছে।</p><p>কিছু বলিনি অনেকক্ষণ, ওপরতলার অ্যাপার্টমেন্টের বাচ্চারা খেলছে, ধুপধাপ শোনা যাচ্ছে।</p><p>—কথা বলছ না যে?</p><p>কিঞ্চিৎ অস্বস্তি নিয়ে বললাম, কতজনকে বলেছ এই কথা?</p><p>—তাও তো গোটা দশেক হবেই। দাঁড়াও মেসেঞ্জার ঘেঁটে সঠিক সংখ্যাটা জানাই।</p><p>এটুকু বলে হাসল কিছুটা।</p><p>—মাইন্ড করলে? না, এগজাক্ট এই কথা বলিনি কাউকে। তবে ধরো অন্য কিছু বলেছি। আরও তীব্র গভীর কিছু।</p><p>—আমি কি তা জানতে চেয়েছি!</p><p>—বাহ, ভারি ডিপ্লোম্যাট তো তুমি! উত্তর জেনে নিয়ে এখন বলছ জানতে চাও না।</p><p>—আচ্ছা ফোন রাখো, জানতে চাই না কিছুই।</p><p>সত্যি আর কথাও বলতে ইচ্ছা করছিল না। যুবায়ের আমার ব্যাচমেট, অবিবাহিত। ও আমার সম্পর্কে কিছুই জানে না, কথাতে এটুকু বুঝেছি। আচ্ছা, ওকে কি বলা উচিত সব? কিন্তু কীভাবে বলব? ও হয়তো আমাকে নিয়ে কিছুই ভাবছে না। বহুদিন তো মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক কথা হয় না, আমিই হয়তো সব বেশি বেশি ভাবছি। স্পষ্ট স্বরে বললাম, রাখছি।</p><p>যুবায়েরের কণ্ঠ একটু দ্বিধান্বিত—</p><p>—রেখে দেবে সত্যি?</p><p>—হ্যাঁ, তাই তো বললাম। শুনতে পাওনি?</p><p>—না পাইনি।</p><p>—রেখে দেওয়ার কথা বলছি তো।</p><p>—এবারও শুনতে পাইনি।</p><p>—আশ্চর্য ব্যাপার তো। ইয়ার্কি করছ?</p><p>—না, সমুদ্রের ঢেউ গুনছি। তুমি কথা বললে মনে হয় ঢেউ ভেসে আসছে অনেক দূরের সমুদ্র থেকে, আর সেখানে দাঁড়িয়ে তুমি খোলা চুলে, আর তোমাকে খুব স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমি।</p><p>—ভালো ফ্লার্টিং জানো তো। কিছুক্ষণ আগেই দিঘি আর এখন সমুদ্র বলছ! আর এদিকে আমি কোনো দিন সমুদ্রেই যাইনি।</p><p>জানি না কথাটা কীভাবে বলেছিলাম। ওর কণ্ঠে আর্দ্র সহানুভূতি।</p><p>—যাওনি তো কী হয়েছে। মনে মনে তো যেতে পারো। মনে মনে চাইলেই সবখানে যাওয়া যায়। মনের জগৎ অনেক বড়, বিনা পয়সায় সব ঘুরে আসতে পারো।</p><p>ও কী সব বলে চলেছে! সামারে বাসার সামনে থেকে একটা সোফা কুড়িয়ে এনেছিলাম, সেটাতে হেলান দিয়ে ভাবছি—সমুদ্রে গেছি আরিয়ানের সঙ্গে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আরিয়ানকে পানি থেকে তুলতে পারছি না।</p><p>চুপ ছিলাম হয়তো অনেকক্ষণ।</p><p>—সিলভি, কথা বলছ না যে, খুব জ্ঞান দিয়ে ফেললাম নাকি? নাকি মাইন্ড করেছ?</p><p>—কিছুটা তো দিয়েছ অবশ্যই। সরি, ঘুম পাচ্ছে, তুমি তো কাজের কথা কিছু বলছ না।</p><p>—আরেকটু থাকো না প্লিজ?</p><p>—কোথায়?</p><p>—বুকের বাঁ পাশে।</p><p>বিরক্তি দেখিয়ে ফোন কেটে দিলাম। না, কী করছি আমি? এসব ছেলেমানুষি তো বছর পাঁচ–ছয় আগেই পার করে এসেছি।</p><p>যুবায়েরই আবার ফোন দিল, কয়েকবার। সে রাতে আরও কিছু কথা হলো। শুয়ে পড়ার পর মনে হচ্ছিল আমার ফেসবুকের ছবিগুলো নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে যুবায়ের দেখেছে। নিশ্চয়ই আমি ওকে আকর্ষণ করেছি। আকৃষ্ট না হলে ছেলেরা কি কথা বলে? আচ্ছা, ছবিগুলো দেখার সময় ও কি দেখেনি আরিয়ানের ছবিগুলো। ও কি কিছু বুঝতে পারেনি, নাকি আমার ভাইয়ের বাচ্চা ভেবে গুলিয়ে ফেলেছে? নাহ, ও যদি জানেই আরিয়ানের কথা, তাহলে কি আর এভাবে কথা বলবে!</p><p>ফেসবুকে ওর একটা ছবি ছিল নববর্ষে স্কাই ব্লু পাঞ্জাবি পরে তোলা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছি ওর মন্তব্যের ঘর। এত দ্বিধাদ্বন্দ্ব, তবু কেন পড়েছি জানি না। বুঝতে পারছি, আমার এত দিনের প্রতিরক্ষাবলয়, রূঢ়তার শিকল সব ভেঙে যাচ্ছে, ক্রমেই মোহাবিষ্ট হয়ে মায়া জমাচ্ছে, জেগে উঠছে এক একাকী শরীর। কিন্তু ওর হিউমার, সপ্রতিভ আচরণ—ওকে দাবি করতে সাহস হতো না ঠিক। ও আবার তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে ছেড়ে যাবে না তো আমাকে? ও কি ভাবতে পারবে আমিও দামি, আমার সাহচর্যই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান!</p><p>এর মাঝে সপ্তাহখানেক কথা হয়নি। ল্যাব নিয়ে খুব ব্যস্ততা ছিল, ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়। এসে ডিনার বানিয়ে মাকে হয়তো ফোন করে মামলার আপডেট নিই হেয়ারিং থাকলে। ফ্রাইডে সন্ধ্যায় যুবায়ের ফোন দিল, ওর গলার স্বর স্বাভাবিক ছিল না। ওর মায়ের কথা বলল, মাকে হারিয়েছিল ছোটবেলায়—কণ্ঠস্বরে নিশ্চুপ বিষণ্ণতা, কুয়াশায় মোড়া একটা অস্বচ্ছ দূরের পৃথিবী থেকে যেন কথা বলছিল সেদিন। বলল, সৎভাইবোনদের খুব ভালোবাসে। ও যখন ওর ভাইবোনদের কথা বলত, মনে মনে ভাবতাম ওই বাড়িতে বউ হয়ে হাঁটছি আর ওরা আমাকে ঘিরে হট্টগোল করছে আর যুবায়ের সেই হট্টগোলেও কাকে যেন খুঁজছে। তারপর হঠাৎ আমাকে পেয়ে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গেছে ছাদে, একটা চিল আমাদের দেখে আকাশে উড়ে গেল বিস্তৃত ডানায় আর ও আমার কানের লতি চুম্বন করে ফিসফিস করে বলছে—</p><p>—সিলভি, এইবার তুমি মুক্ত স্বাধীন, আবার ওড়ো, স্বপ্ন দেখো, যা ইচ্ছা তা–ই করো।</p><p>যুবায়ের সেদিন যা বলেছিল, সেই শব্দগুলো আমি শুনেছিলাম আরও একবার অন্য আরেকজনের কাছে। কিন্তু সে তো থাকেনি!</p><p>—সিলভি, আমার একটা নারী চাই, নিজস্ব নারী, নদীর মতো নারী, উইল ইউ বি মাই গার্ল ফর এভার?</p><p>যুবায়েরের আকুতি ছিল ‘উই ফেল ইন লাভ ইন অক্টোবর’ এর সেই গানের মতো। বাইরেও তখন সত্যি হেমন্ত এসেছে। বাড়িগুলোর খয়েরি ছাদে হলুদ কমলা পাতারা রঙিন ঝাঁকালো চুলের মতো ছেয়ে আছে। সামনের লেটার বক্সগুলোর ওপর ম্যাপলের পাতার ঝুরি লাগিয়ে ডেকোরেশন করেছে কেউ কেউ। আর পিচের রাস্তায় ঝরাপাতারা উড়ছে। এর মধ্যে আমার ছেলে আরিয়ানের সঙ্গে এই এক বছরে কথা বলতে পারিনি এক দিনও, ওর বাবা দেয়নি।</p><blockquote>যুবায়েরই আবার ফোন দিল, কয়েকবার। সে রাতে আরও কিছু কথা হলো। শুয়ে পড়ার পর মনে হচ্ছিল আমার ফেসবুকের ছবিগুলো নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে যুবায়ের দেখেছে। নিশ্চয়ই আমি ওকে আকর্ষণ করেছি। আকৃষ্ট না হলে ছেলেরা কি কথা বলে? আচ্ছা, ছবিগুলো দেখার সময় ও কি দেখেনি আরিয়ানের ছবিগুলো। ও কি কিছু বুঝতে পারেনি, নাকি আমার ভাইয়ের বাচ্চা ভেবে গুলিয়ে ফেলেছে?</blockquote><p>মাঝে মাঝে বেশ ঠান্ডা পড়ে। পুলওভার চাপিয়ে সেই ঝরাপাতায় হাঁটতে বের হই। বিকেলের দিকে এখনো কিছু বাচ্চা ব্যাকইয়ার্ডে খেলে। যুবায়ের ফোন দিলে, হাঁটতে হাঁটতে কথা বলতাম। যুবায়ের একদিন হঠাৎ এত কাতর হয়ে পড়ল। ধাতব কিছুতে ধার দিলে যেমন আর্তনাদের মতো শব্দ হয়, ওর কণ্ঠে তেমন বিষণ্ণতা। হঠাৎ আবদার জানাল—</p><p>—সিলভি, তুমি কি সন্ধ্যার ট্রেনটা ধরে এক্ষুনি আসতে পারবে?</p><p>ওর কথায় হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। যুবায়ের বলে চলেছে—</p><p>—ডিসেম্বরের ছুটি পর্যন্ত তো অপেক্ষা করতে পারব না। আমার যে এক্ষুনি তোমাকে চাই।</p><p>ও খুব ছুঁতে চাইত। বলত, তুমি চোখ বন্ধ করো। তারপর মনের জগতে যেখানে ইচ্ছা যাওয়া যায়, সেই খেলাটা খেলত। পাহাড় পর্বত কত কিছু ঘুরিয়ে আনত। একদিন বলল, এই মিথ্যে খেলা আর ভালো লাগছে না। আমার সত্যি পুতুলটাকে চাই। ওটা চাবি দিয়ে ঘোরাব এক্ষুনি। আমার শহরে আসবে? রাখবে এই অভুক্ত বালকের কথা?</p><p>—আচ্ছা, আসব। কবে বলে দাও?</p><p>—বললাম না? আজই।</p><p>—সে কি আর হয়? উইন্টার ব্রেক হলে আসি।</p><p>ওর উচ্ছ্বসিত কণ্ঠ—</p><p>—তুমি কিন্তু শাড়ি পরে আসবে। আর সেদিন উন্মাদ হব আমি। তুমি আটকাতে পারবে না।</p><p>—মানে?</p><p>—তুমি জানো না সিলভি, কী এক প্রচণ্ড ঝোড়ো ভিজে বাতাস হব সেদিন আমি, তুমি কিছুতেই আমাকে আটকাতে পারবে না। আমি তোমাকে ভেজাবই, তোমার ঘাড়ে গালে চুমু খাব, পেছন থেকে তোমার কোমর জড়িয়ে ধরব। আর আর কি করব জানো?</p><p>চোখ ভিজে যাচ্ছিল আমার। ডিসেম্বরের শীত তখন জেঁকে বসেছে। জানালা দিয়ে দেখছি একজন লোক ড্রাইভওয়েতে এই ঠান্ডায়ও গাড়ি পরিষ্কার করছে। সেদিকে তাকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করছি, নিজেকে কি ক্রমাগত এক অবধারিত সর্বনাশের দিকে টেনে নিচ্ছি? কেন ভুলে যাচ্ছি, আমি একজন পাঁচ বছরের ছেলের মা। না, আমি এখনো ওকে কথাটা বলে উঠতে পারিনি, আমার আরিয়ানের কথাটা!</p><p>যুবায়ের বলে চলেছে—</p><p>—বাড়িতে আমার মা সব সময় খুব শাড়ি পরত জানো? আমি মায়ের আঁচল ধরে থাকতাম, তারপর একদিন হঠাৎ দেখলাম আঁচলটা নেই।</p><p>চুপ ছিলাম, আর কী বলা যায় এ রকম গভীর শূন্যতার উত্তরে!</p><p>—আমাকে কোনো দিন প্রত্যাখ্যান করবে না তো সিলভি? আচ্ছা, এখন কি তোমার হাতটা ধরতে পারি? চলো আজ প্যারিস যাই। ভেবে নাও, ইকোনমি ক্লাসে আমার কাঁধে মাথা রেখেছ তুমি।</p><p>হঠাৎ অনেকটা জোরালো কণ্ঠে বলে উঠলাম।</p><p>—তুমি আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না যুবায়ের।</p><p>কথাটা বলে নিজের কণ্ঠে নিজেই চমকে গেলাম যেন।</p><p>—কী জানতে হবে? না জানলেও অসুবিধা নেই। শুধু জানি, আমার প্রিয়তমা সিলভি, পৃথিবীর সব ফুল যার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়েছে আর তার সুঘ্রাণে দস্যুর মতো তাকে ছিন্ন–বিচ্ছিন্ন করছি আমি।</p><p>—যুবায়ের! আমি বলছি…</p><p>—না, আজ কিছু শুনব না, আজ তোমার হাত ধরবই। তারপর শুরু করব তোমার পায়ের আঙুল থেকে …</p><p>—একটু শোনো কথাটা…</p><p>না, বলতে পারিনি সেদিনও।</p><p>ওর আচরণ ধীরে ধীরে উন্মাদের মতো হয়ে যেতে লাগল। তাহলে, যুবায়েরের মতো সুদর্শন এক পুরুষ সত্যি সিলভির মতো স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে ভালোবাসে? সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আমার শরীরের খবর নিত। জিজ্ঞেস করত পায়ের লোম তুলেছি কি না। আর ওর সব প্রশ্ন আমাকে যেন ক্রমেই আরও নারী করে তুলত।</p><p>এভাবে কেটে গেল কয়েক মাস। মামলা চলছিল। মা জানাল, কোর্টের কাগজপত্র নাকি এখন আমার পক্ষেই যাচ্ছে। যেহেতু আমি স্বাবলম্বী ও বাচ্চার বয়স এখনো ছয় হয়নি। তবে ছয় হয়ে গেলে, ওর বাবার কাছে কাস্টডি চলে যাবে। আরিয়ানকে এর আগেই আমার আনতে হবে, অর্থনৈতিকভাবেও গুছিয়ে উঠতে হবে। একটুও তো দম ফেলার সময় নেই, কিন্তু একি করছি আমি? নিজেই কি নিজের চিতা জ্বালাচ্ছি?</p><p>ল্যাবে আমার পারফরম্যান্স বেশ খারাপ হয়ে পড়েছে। রাত জেগে কথা বলে শরীরেও কুলাতে পারছি না। আগের কাজগুলোই গোঁজামিল দিয়ে চালাচ্ছি যেন। যুবায়েরের বলয় থেকে বের হতে পারছি না কিছুতেই। আমি তো কিশোরী নই, টিনএজার নই। একটা দীর্ঘদিনের বিরতির পর এই বত্রিশ বছরের জীবনের মরচেধরা চাকাটা কত কষ্ট করে আবার ঘোরাতে পেরেছি! সব ঠিক রাখতে না পারলে আরিয়ানকে আনতে পারব না। কাস্টডি মামলায় জিতলেই ভিসার অ্যাপ্লাই করব ভাবছি।</p><p>আমেরিকাতে ডেমোক্র্যাটদের তখন অবস্থা কিছুটা বেহাল। প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হলে সব আবার অনেক কঠিনও হয়ে পড়তে পারে। যুবায়েরের সঙ্গে এই সীমান্ত নীতি নিয়েও কথা হতো। বলত, ‘আচ্ছা সিলভি, তুমি কল্পনা করতে পারো, টেক্সাসে ওই রিও ডি জেনিরো থেকে ভেসে আসছে একই সঙ্গে পানামার জঙ্গল পেরিয়ে আসা কিছু মানুষ। একেবারে শেষ ধাপে ওরা ভেসে যাচ্ছে। আর বাকিরা—তারা তাকিয়ে আছে সেদিকে, তারপর মৃত্যু অবধারিত জেনেও ওরা নেমে পড়ছে পানিতে।’ ওর কথা শুনতে শুনতে মনে হতো আমিও ওই ঠিকানাহীন মানুষ, যে খরস্রোতা জলে নেমে পড়েছে।</p><p>ধীরে ধীরে বুঝতে পারছিলাম আমার সঙ্গ পাওয়ার জন্য সে আকুল হয়ে উঠেছে। বিয়ের জন্য সে দেরি করতে চাইল না কিছুতেই। কিছুটা ভয় হচ্ছিল যদি কাস্টডি মামলা অন্যদিকে মোড় নেয় এই সিদ্ধান্তে। আর এদিকে এই লং ডিসট্যান্স রিলেশনে কাজের তালও রাখতে পারছিলাম না।</p><p>তারপর সেদিন কথাটা লিখে পাঠালাম, আরিয়ানের কথাটা। উত্তর এল—‘সিলভি আমি জানি, সবই জানি, তুমি তো তোমার প্রোফাইলেই দিয়ে রেখেছ।’</p><blockquote>চোখ ভিজে যাচ্ছিল আমার। ডিসেম্বরের শীত তখন জেঁকে বসেছে। জানালা দিয়ে দেখছি একজন লোক ড্রাইভওয়েতে এই ঠান্ডায়ও গাড়ি পরিষ্কার করছে। সেদিকে তাকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করছি, নিজেকে কি ক্রমাগত এক অবধারিত সর্বনাশের দিকে টেনে নিচ্ছি? কেন ভুলে যাচ্ছি, আমি একজন পাঁচ বছরের ছেলের মা। না, আমি এখনো ওকে কথাটা বলে উঠতে পারিনি, আমার আরিয়ানের কথাটা!</blockquote><p>ভেতরের এক বিরাট গুমোট যেন বেরিয়ে গেল। তার মানে সব জেনেই ও আমাকে গ্রহণ করতে চায়। আরিয়ানের জন্য একটা বাবা দরকার। এই দেশে ওকে আনতে পারলে, আমি, যুবায়ের আর আরিয়ান—একটা সুন্দর সংসার হবে আমার। এবার খুব সুন্দর করে সংসার করব, সব ছাড় দেব, সব ছাড়। ঝগড়া, জেদ, কিছুই করব না—বেঁচে ওঠার এই শেষ ভেলাটা হারাব না কিছুতেই।</p><p>যুবায়ের বুদ্ধি দিল ওর শহরের ভার্সিটিতে যেতে। ফান্ড জোগাড় হলো না ঠিক, তবু চলে গেলাম। যাওয়ার পর যেই ট্রেনে উঠে দেখতে যেতাম ওকে, যে ট্রেনে একবার উঠে পড়লেই যুবায়ের আবিষ্কার করতে পারত আমার শরীর, সেই ট্রেনটা যে রেললাইন দিয়ে গিয়ে স্টেশনে থামত, আমরা ওখানে হাঁটতাম।</p><p>আমরা বিয়ে করেছিলাম এখানে, মোবাশ্বের ভাইয়েরা সব আয়োজন করল। প্রথম তিন মাস ভালোই কাটল। যুবায়ের যখন জানাল ঘটনাটা ওর বাসায়, ওর বাবা মেনে নিল না। এদিকে আমার লেখাপড়ার অবস্থা এত খারাপ হয়ে গিয়েছিল। স্কলারশিপ বন্ধ হবার অবস্থা। যুবায়ের বলল, তার রিমোট, অল্প বেতনের চাকরি, তাতে সে পুরো সংসারের ভার নিতে পারবে না, দেশেও তার অনেক দায়িত্ব, আমি যেন পড়া ছেড়ে দিই। স্কলারশিপ বন্ধের পর ওর আচরণ আরও বদলাল। একদিন বলেই বসল, ‘এভাবে তো হয় না সিলভি!’</p><p>তারপর যেই হাতে সে চুমু খেত, সেই হাত দিয়ে যেন খুব ভালো বাসন মাজতে পারি, তাই নিয়ে গেল শহরের সব রেস্তোঁরায়। এক রুমের বাসা। অনেকটা ও একাই সব ভার নিচ্ছে সংসারের। খুব খিটখিটে মেজাজ থাকে ওর। লোন করে সেমিস্টার ফি দিয়েছি। ল্যাবে কাজ করার চেষ্টা করছি, যদিও টাকাপয়সা পাই না। সামারে ও হঠাৎ বলল, বাড়ি যাবে, বাবার অসুখ।</p><p>ওর পরিবারের সঙ্গে আমার কথা হয়নি কোনো দিন, ওর বাবা আমাকে নিয়ে অনেক অপমানজনক কথা বলেছিল, যা খুব বিদ্ধ করত আমাকে।</p><p>রেস্টুরেন্টে কাজ, ক্লাস, ল্যাব সব মিলিয়ে এত কাহিল লাগত। যুবায়ের তখন দেশে, একদিন লইয়ার জানাল, বিয়ে করাতে নাকি আরিয়ানের কাস্টডি মামলা আমার বিপক্ষে চলে গেছে। আমি হেরে গেছি, চূড়ান্ত রায় কিছুদিনের মধ্যেই। আমার পরাজয়ের কারণ হিসেবে কোর্টের একটা ভিডিও লইয়ার পাঠাল—সেখানে আরিয়ান বলছে, ‘আই হেট মাই মাদার।’ ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ছে, ওর সৎমাকে নিয়ে চমৎকার সংসার নাকি ওদের, ঠিক যেই সংসারটা আমি যুবায়েরের কাছে চেয়েছিলাম। মা–বাবাও আমাকে সেখানে অশান্তি না করতে পরামর্শ দিয়েছে, ছেলে বড় হলে নাকি আমাকে ঠিকই দেখতে আসবে একদিন। সেই ছেলেটা, যেই ছেলেটাকে আমি জন্ম দিয়েছি, তিন বছর পর্যন্ত প্রতিপালন করেছি, সে একদিন আমাকে দেখতে আসবে, এটাই যথেষ্ট? এটাই যথেষ্ট এই সমাজের কাছে!</p><p>প্রফেসর হেরল্ড মাঝে মাঝে জিজ্ঞেস করার চেষ্টা করেছে—ঠিক আছি কি না? কিন্তু বলে উঠতে পারিনি। যদি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না—এই ভেবে একেবারে বাদ দিয়ে দেয়। এই মুহূর্তে লেখাপড়া না চালালে ভিসা স্ট্যাটাস হারাব।</p><p>এক মাস পর যেদিন দেশ থেকে ও ফিরল, জানাল, আনতে যেতে হবে না। একাই উবার নেবে। তারপর একটা কাজ সেরে আসবে। সন্ধ্যা গড়াল, এল না। রাতে টেক্সট করল, উঠেছে এখানকার ব্যাচেলরদের বাসায়। সেদিনই জানাল ডিভোর্স দিয়েছে আমাকে এইবার দেশে গিয়ে, ওর মা–বাবার ইচ্ছা, ওর কিছু করার ছিল না। ওর টেক্সটের শেষ লাইন—‘সিলভি আমাকে ক্ষমা করো’—এটুকুই।</p><p>তারপর, আমাদের আর দেখা হয়নি এই এক শহরে থেকেও। যুবায়েরকে আর বলতে পারিনি আমার দ্বিতীয় সন্তান আগমনের কথা। এখানে এবরশন ইলিগ্যাল। আমার দ্বিতীয় সন্তান, তাকে যদি পৃথিবীতে আনি, সে কি একই কথা বলবে?—‘আই হেট মাই মাদার।’</p><p>যুবায়েরের অন্যত্র চাকরি হয়েছে, ইন পারসন জব নাকি। আজ কিছু জিনিসপত্র নিতে আসবে, তাই লিখেছে বহুদিন পর। আমি কি আজ দেখতে পাব ওকে? ওর নাকের ঘাম, ও কাছে এলে ওর প্রিয় পারফিউমের ঘ্রাণ, সব পাব? ও কি শেষবারের মতো আমাকে একটা আলিঙ্গন করতে পারে, ঠিক যেরকম প্রথম দিন ও আমাকে ভেঙে চুরমার করে ফেলেছিল।</p><p>আজ খুব রোদ উঠেছে। জানালা দিয়ে রোদের রেখারা আসছে। এই ঐশ্বর্যময় পৃথিবীর কিছুই আর আমার আয়ত্তে নেই—এক দীনহীন, ব্যর্থ মা যাকে বলে। পেটটাকে উন্মুক্ত করে জানালার খুব কাছে এসে দাঁড়ালাম। সিলিংটাতে ঝুলে যাবার আগে লিখেছি শেষ চিঠিটা ওকে। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি আমার জীবনের অনেকটা বছর পর পুরুষের স্পর্শ দেবার জন্য। ছাদের ঠিক যেখানে ফ্যানটা, রোদের রেখাগুলো মিশেছে। সেখানে হাত রেখেই পৃথিবীর শেষ রোদ ছোঁব। আরেকটা চিঠি লিখেছি ছেলেকে। আরিয়ান কি ক্ষমা করবে আমাকে? আরিয়ান, আমার চিঠিটা তোমার কাছে পৌঁছাবে কি না জানি না, বাবা। চিঠিটা হাতে পেলে তুমি কি আবার বলবে—‘আই হেট মাই মাদার’, যেটা তুমি কোর্টের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলেছিলে?</p>

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফ্লাভিও বললেন, ‘আমিই ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা’
পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফ্লাভিও বললেন, ‘আমিই ব্রাজিলের প্রকৃত নেতা’

গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন ফ্লাভিও। ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা জয়ী হয়েছেন।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রাণ না কাড়লেও তীব্র যন্ত্রণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ কোন অস্ত্র
প্রাণ না কাড়লেও তীব্র যন্ত্রণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এ কোন অস্ত্র

অস্ত্রটির উদ্দেশ্য কাউকে আহত বা হত্যা করা নয়। অস্বস্তি তৈরি করে এবং তীব্র যন্ত্রণা দিয়ে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরে যেতে বাধ্য করা।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার
তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

গতকাল বুধবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাঁর নাম কে এম তাহসিন সাউরি (২৮)। তিনি অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
জীবনের স্থবিরতার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ, ‘দৃষ্টিপ্রদীপ’ নিয়ে পাঠচক্র
জীবনের স্থবিরতার বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ, ‘দৃষ্টিপ্রদীপ’ নিয়ে পাঠচক্র

১৯৪৫ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিতুর জীবনসংগ্রাম নিয়েই আবর্তিত হয় আলোচনা। বাবার চাকরি হারানো, জ্যাঠামশায়ের আশ্রয়ে যাওয়া, ভাইয়ের মৃত্যু কিংবা মালতীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েও অসুখী থাকা—এমন নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনি।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু, তিন দিনের শোক ঘোষণা
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু, তিন দিনের শোক ঘোষণা

স্পেনে মাদ্রিদের কাছে দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে, ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের বেশিরভাগ ভোট গণনায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জোট কোনোটিই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্টতা পায়নি।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে ফ্লাভিও বোলসোনারোর দাবি, ব্রাজিল থেকে তিনি পালাননি
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে ফ্লাভিও বোলসোনারোর দাবি, ব্রাজিল থেকে তিনি পালাননি

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রোববার হেরে যাওয়ার পর দেশটির সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গেছেন। সেখানে পৌঁছেই তিনি দাবি করেছেন যে, মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার ছিল না।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
পত্রিকা: 'চিকিৎসা খরচের চাপে দারিদ্র্যসীমার নিচে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ'
পত্রিকা: 'চিকিৎসা খরচের চাপে দারিদ্র্যসীমার নিচে ১ কোটি ৮ লাখ মানুষ'

চিকিৎসাবাবদ খরচের চাপে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি; আইইডিসিআরে 'মব' করে পরিচালককে মারধর; আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার আবেদন– আরো যেসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকায়।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
আমাজনের গহীনে এক সভ্যতায় লাখ লাখ মানুষের বাস ছিল একসময় - জানালো লেজার প্রযুক্তি
আমাজনের গহীনে এক সভ্যতায় লাখ লাখ মানুষের বাস ছিল একসময় - জানালো লেজার প্রযুক্তি

আমাজন রেইনফরেস্টের নিচে হাজার হাজার বছর আগে নির্মিত এমন সব কাঠামো আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা, যা এখানকার মানব বসতির ইতিহাস নতুন করে লিখতে সাহায্য করে।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যা, ছেলে রিমান্ডে যাওয়ার পর কী বলছেন বিএনপি'র এমপি
নাটোরে ছাত্রদল নেতা হত্যা, ছেলে রিমান্ডে যাওয়ার পর কী বলছেন বিএনপি'র এমপি

এ ঘটনায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলেকে আটকের পর রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। পাশাপাশি গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দিতে বাড়তি টাকা কোথা থেকে আনছে সরকার?
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল দিতে বাড়তি টাকা কোথা থেকে আনছে সরকার?

নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী পহেলা নভেম্বর থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়তি বেতন দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। আর এর জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ টাকা ঋণ করতে হচ্ছে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
লগি-বৈঠা সহিংসতার ২০ বছর: আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আগে যা যা ঘটেছিল
লগি-বৈঠা সহিংসতার ২০ বছর: আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আগে যা যা ঘটেছিল

২০০৬ সাল, সেই বছরের ২৮শে অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ ঘিরে রীতিমত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল ঢাকার পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকা। লাঠি-সোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সেখানে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দল দু’টির নেতাকর্মীরা।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
জ্বালানির দামের কারণে যাত্রী নিয়ে মাঝ সাগরে আটকা বিলাসবহুল জাহাজ
জ্বালানির দামের কারণে যাত্রী নিয়ে মাঝ সাগরে আটকা বিলাসবহুল জাহাজ

টানা ৭৫০ দিন সাগরে চলার পর জ্বালানির আকাশছোঁয়া দামের কারণে 'ভিলা ভি ওডিসি' তার যাত্রা স্থগিত করেছে। জাহাজের পরিচালনাকারী সংস্থা বলছে, এশিয়ার কিছু অংশে প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি খরচ ১৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৮০০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে।

অক্টোবর ২৮, ২০২৬
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় আজ
কুষ্টিয়ায় ৬ হত্যা: হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় আজ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেনি।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
অভয়নগরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

যশোরের অভয়নগরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকের ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
সব চোখ সাদমানের দিকে, সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে এই ওপেনার
সব চোখ সাদমানের দিকে, সেঞ্চুরি থেকে এক রান দূরে এই ওপেনার

আর মাত্র এক রান! টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির এতটা কাছে এসে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সাদমান ইসলামকে দিনের খেলা শেষ করতে হয়েছিল মাঠে আলোকস্বল্পতায়।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
খুলনায় ক্লিনিকের পর এবার রেস্টুরেন্টে হামলা
খুলনায় ক্লিনিকের পর এবার রেস্টুরেন্টে হামলা

ক্লিনিকে হামলার পর এবার খুলনা নগরীর আহসান আহমেদ রোডের পিটিআই মোড়সংলগ্ন চাইনিজ প্যালেস রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে একদল যুবক। 

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ৮ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
নেপালে অভিষেকে ব্যাটে-বলে আলো ছড়ালেন সাকিব-মেহেদী
নেপালে অভিষেকে ব্যাটে-বলে আলো ছড়ালেন সাকিব-মেহেদী

নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালোই পারফরম্যান্স করেছেন সাকিব আল হাসান ও শেখ মেহেদী হাসান।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা

বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং ও ট্রাফিক আইন অমান্য করে গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমাতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অক্টোবর ২৯, ২০২৬