অর্থনীতি

দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী

নভেম্বর ১, ২০২৬
দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী
দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী
<p>দেশে এক বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ছয় লাখ টন। সেই সঙ্গে বেড়েছে আমন ধান, রসুন, শীতকালীন মরিচ, ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন। তবে একই সময়ে আলু উৎপাদন কমেছে প্রায় তিন লাখ টন। গম উৎপাদনও কিছুটা কমেছে।</p><p> বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কৃষি বিভাগের ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে বিভিন্ন ফসলের আবাদ ও উৎপাদনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।</p><p> বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছিল ৩২ লাখ ২১ হাজার টন, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে ৫ লাখ ৯৯ হাজার টন বা ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ।</p><p>আলোচ্য সময়ে পেঁয়াজ আবাদের জমির পরিমাণও বেড়েছে। আগের অর্থবছরে যেখানে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯৯ একর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৭ একরে। পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ায় চলতি অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি বলে দাবি করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।</p><p>পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুন ও শীতকালীন মরিচের উৎপাদনও বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রসুন উৎপাদিত হয়েছিল ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন। গত অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৪৪৬ টন। অন্যদিকে একই সময়ে শীতকালীন মরিচের উৎপাদন ৫ লাখ ৬১ হাজার ৩৯৭ টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৪০ টনে।</p><blockquote>* এক বছরে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ টন বা ১৮.৬%।* একই সময়ে আলুর উৎপাদন কমেছে ৩ লাখ ১ হাজার টন।* আমন ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৮ লাখ ৪৫ হাজার টন, গমের কমেছে ১৩ হাজার টন।</blockquote><p>তবে আলু উৎপাদনে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ১ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছিল, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমে হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরে আলু উৎপাদন কমেছে ৩ লাখ ১ হাজার টন। একই সময়ে আলু আবাদের জমির পরিমাণও কমেছে।</p><p>কৃষি অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন হ্রাস–বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাজারমূল্য বড় ভূমিকা রাখে। পেঁয়াজ ও আলু উৎপাদনে সে প্রভাবই দেখা গেছে বলে মনে করেন তাঁরা।</p><p>জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কৃষকেরা আগের বছরে পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়েছিলেন। তাই পরেরবার উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী হয়েছেন। তা ছাড়া হিমাগারে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ভালো হয়েছে।’</p><p>তবে আলুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঠিক উল্টো ছিল বলে মনে করেন জাহাঙ্গীর আলম খান। তাঁর মতে, গত দুই বছর কৃষকেরা আলুর ন্যায্য দাম পাননি। হিমাগারে সংরক্ষণ করেও তাঁদের লোকসান হয়েছে। তাই আলুর চাষ কমিয়েছেন চাষিরা।</p><p><strong>আমন ধানের উৎপাদন বেড়েছে</strong></p><p>ধানের মধ্যে আমনের উৎপাদনে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে আমন ধান উৎপাদিত হয়েছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ ১৪ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৫৯ হাজার টনে। অর্থাৎ এক বছরে আমন উৎপাদন বেড়েছে ৮ লাখ ৪৫ হাজার টন। এ ক্ষেত্রে অনুকূল আবহাওয়া ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।</p><p>এদিকে গম উৎপাদন কমেছে। আগের অর্থবছরে যেখানে দেশে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন গম উৎপাদিত হয়েছিল সেখানে পরের অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ১০ লাখ ২৮ হাজার টন। অর্থাৎ এক বছরে গম উৎপাদন কমেছে ১৩ হাজার টন বা ১ দশমিক ২ শতাংশ। একই সময়ে গমের আবাদি জমির পরিমাণ ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৪ একর থেকে কমে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৫৬ একর হয়েছে।</p><p>অন্যান্য ফসলের মধ্যে শীতকালীন ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শীতকালীন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল ৪৮ লাখ ৭৩ হাজার টন। গত অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫০ লাখ ৪৮ হাজার টন। সয়াবিনের উৎপাদনও বেড়েছে। আগের অর্থবছরে ১ লাখ ৮ হাজার টন সয়াবিন উৎপাদন হয়, যা পরের অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৬ হাজার টন।</p><p><strong>কৃষিশ্রমিকের মজুরি</strong></p><p>ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষিশ্রমিকের মজুরির তথ্যও প্রকাশ করেছে বিবিএস। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত মার্চ মাসে পুরুষ কৃষিশ্রমিকের দৈনিক গড় মজুরি ছিল ৬২৮ টাকা এবং নারী শ্রমিকের ৪৬১ টাকা।</p><p>জুন মাসে এক বেলা খাবারসহ পুরুষ কৃষিশ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৬২২ টাকা, নারীর ৪৩৭ টাকা। দুই বেলা খাবারসহ পুরুষ শ্রমিকের মজুরি ছিল ৬৩৯ টাকা এবং নারী শ্রমিকের ৪৬০ টাকা। আর তিন বেলা খাবারসহ পুরুষ শ্রমিক পেয়েছেন ৬৬৪ টাকা, নারী শ্রমিক ৫১৫ টাকা।</p><p>বিবিএস জানিয়েছে, দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে নমুনাভিত্তিতে ১০ জন করে কৃষিশ্রমিকের সাক্ষাৎকার নিয়ে মজুরির তথ্য সংগ্রহ করা হয়। কোনো এলাকায় কৃষিশ্রমিক পাওয়া না গেলে কৃষিকাজে দৈনিক শ্রমিক নিয়োগ করেছেন এমন কৃষকদের কাছ থেকেও তথ্য নিয়েছে বিবিএস।</p>

Prothomalo

View more
সরকারি কাজে নতুনদের সুযোগ, বদলাচ্ছে ঠিকাদার বাছাই
সরকারি কাজে নতুনদের সুযোগ, বদলাচ্ছে ঠিকাদার বাছাই

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, বেশি বার্ষিক লেনদেন কিংবা আগে বড় কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই বলে তাঁদের অংশগ্রহণ আটকে দেওয়া যাবে না।

নভেম্বর ২, ২০২৬
১৪ বছর পর অ্যানফিল্ড জয় করে শীর্ষে আর্সেনাল
১৪ বছর পর অ্যানফিল্ড জয় করে শীর্ষে আর্সেনাল

লিভারপুলকে অ্যানফিল্ডে ১–০ গোলে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে পেছনে ফেলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে উঠেছে আর্সেনাল।

নভেম্বর ২, ২০২৬
ক্যারিয়ার সচেতনতা নিয়ে জানলেন শিক্ষার্থীরা
ক্যারিয়ার সচেতনতা নিয়ে জানলেন শিক্ষার্থীরা

‘স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি–প্রথম আলো তারুণ্যের পৃথিবী’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবহারের গুরুত্ব, স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রমের পরামর্শ এবং সফট স্কিল উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।

নভেম্বর ২, ২০২৬
নগদের অবরুদ্ধ ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়াতে আবেদন, বিরোধিতা করবে দুদক
নগদের অবরুদ্ধ ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়াতে আবেদন, বিরোধিতা করবে দুদক

সোমবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। শেয়ার অবমুক্ত করার আবেদনের বিরোধিতা করবে দুদক।

নভেম্বর ২, ২০২৬
কীভাবে ১৩ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়লেন শাহরুখ
কীভাবে ১৩ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়লেন শাহরুখ

হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি বা ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

নভেম্বর ২, ২০২৬
প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য
প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য

প্রতিষ্ঠানটির ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রথম ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।

নভেম্বর ২, ২০২৬
বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করেন, মেটলাইফের জরিপ
বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করেন, মেটলাইফের জরিপ

<p>দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে বড় ভরসা হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। দেশের বেসরকারি খাতের প্রায় ৫৫ শতাংশ বা অর্ধেকের বেশি কর্মী বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন। আর যাঁরা এআই ব্যবহার করছেন, তাঁদের প্রায় সবাই এর সুফল নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।</p><p> বহুজাতিক বিমা প্রতিষ্ঠান মেটলাইফ বাংলাদেশের করা সর্বশেষ ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।</p><p> রোববার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার, হেড অব কমিউনিকেশনস সাইফুর রহমান প্রমুখ।</p><p>চলতি বছরের আগস্ট মাসে মেটলাইফের ইবিটিএস ২০২৬ জরিপটি করা হয়। জরিপে দেশের বিভিন্ন খাতের মোট ৭০৯ জনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণকালীন কর্মী ছিলেন ৫৮৩ জন এবং নিয়োগকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধাসংক্রান্ত মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন ১২৬ জন। তৈরি পোশাক খাত, এনজিও, ব্যাংক, দ্রুত বর্ধনশীল ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি), টেলিকম, খুচরা বিক্রেতা প্রভৃতি খাতের কর্মীরা জরিপে তথ্য দিয়েছেন।</p><p>জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এআই ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯১ শতাংশ মনে করেন যে এটি তাঁদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারের ফলে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যে ও কর্মদক্ষতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে। যেমন ৫৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে এআই টুলস তাঁদের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত মানসিক চাপ কমাতে সরাসরি সাহায্য করছে। প্রায় ৪৮ শতাংশ কর্মী মনে করেন এআই তাঁদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে।</p><p>আবার দেখা গেছে ৪৬ শতাংশ কর্মী মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার তাঁদের কাজের অতিরিক্ত বোঝা বা হাতাশা থেকে মুক্ত রাখে। আর প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মী জানান, এআই তাঁদের গতানুগতিক কাজের চাপ কমিয়ে আরও বেশি অর্থবহ ও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এ ছাড়া ৩৪ শতাংশ কর্মী মনে করেন এটি তাঁদের মানসিক ক্লান্তি কমানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব রাখছে।</p><p><strong>পিছিয়ে আছে করপোরেট সমর্থন</strong></p><p>প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে কর্মীরা এআই ব্যবহারে বেশ দক্ষ। দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারকারীদের প্রায় ৮৪ শতাংশই এটি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতি বা ব্যবধান রয়ে গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া নিয়োগকর্তাদের মধ্যে মাত্র ৫৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কর্মীদের দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারে উৎসাহ বা সুযোগ দিচ্ছেন।</p><p>যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো কর্মক্ষেত্রে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালুর সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের জন্য আশার কথা হলো এই খাতের প্রায় ৬২ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই অদূর ভবিষ্যতে এআই টুলস গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। তারা আগামী ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।</p><p><strong>কর্মীরা চান ‘কেয়ার কালচার’</strong></p><p>গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে মানসিক শান্তি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহানুভূতিশীল সংস্কৃতি বা ‘কেয়ার কালচার’-এর বড় ভূমিকা রয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীরা মনে করেন তাঁদের প্রতি নিয়োগকর্তা বা ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপকদের সহানুভূতি ও যত্ন রয়েছে, সেখানে চাকরির সন্তুষ্টির হার অনেক বেশি। জরিপে এই সন্তুষ্টির হার ৯২ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।</p><p>মেটলাইফের জরিপ অনুযায়ী ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের সার্বিক কাজের সন্তুষ্টির হার হয়েছে ৮৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ।</p><p><strong>সুরক্ষামূলক সুবিধার বড় ঘাটতি</strong></p><p>প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মীরা জীবনবিমা, মৃত্যুর বিমা, অক্ষমতা ও গুরুতর অসুস্থতার মতো যেসব সুরক্ষাগুলোকে অত্যন্ত জরুরি বা ‘মাস্ট-হ্যাভ’ মনে করেন এবং নিয়োগকর্তারা বাস্তবে যা প্রদান করেন, তার মধ্যে একটি বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।</p><p>উদাহরণস্বরূপ দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৩ শতাংশ কর্মী জীবন বিমা অত্যন্ত জরুরি মনে করলেও মাত্র ৩৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে এর বাস্তব প্রয়োগ রয়েছে। একইভাবে স্থায়ী পঙ্গুত্ব ও গুরুতর অসুস্থতার বিমা সুবিধার ক্ষেত্রেও কোম্পানিগুলোর সুবিধা প্রদানে বড় ঘাটতি রয়েছে।</p><p>মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার বলেন, করোনার সময় থেকে স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের উদ্বেগ ও সচেতনতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিডনি রোগী, হৃদ্‌রোগ, ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষ উদ্বেগে রয়েছেন। এসব রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। এ জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাশা করেন। কর্মীরা এ ধরনের সুবিধা যত বেশি পাবেন, তত বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুগত হন।</p>

নভেম্বর ২, ২০২৬
মাঠের বাইরের ঝড় সামলে এমবাপ্পের গোল, রিয়ালের সহজ জয়
মাঠের বাইরের ঝড় সামলে এমবাপ্পের গোল, রিয়ালের সহজ জয়

কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে রেসিং সান্তান্দারকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে লা লিগায় নিজেদের জয়ধারা অব্যাহত রেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

নভেম্বর ১, ২০২৬
গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম
গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় যুব সম্মেলনে গঙ্গার পানিবণ্টন, সংবিধান সংস্কার ও মাতারবাড়ী চুক্তি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নভেম্বর ১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

পোশাকের ট্যাবু ভেঙে ‘সংস্কৃতির সমতার’ বার্তায় যবিপ্রবিতে ‘লুঙ্গি প্যারেড’

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।