stories

বৃষ্টির রাত

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বৃষ্টির রাত
বৃষ্টির রাত
<p> জুন মাসের ২৬ তারিখ। শনিবার।</p><p> আকাশ সকাল থেকে মেঘলা। মনে হচ্ছে শহরের ওপর কেউ ভেজা, ভারী কম্বল চাপিয়ে দিয়েছে। বাতাসে গুমোট ভাব। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আচমকা শুরু হয়েছে বৃষ্টি—আকাশভাঙা একটানা, বিরামহীন বৃষ্টি।</p><p> আমরা হাহা হিহি করছি। সবাই একসাথে কথা বলছি। কে কার কথা শুনছে বা আদৌ শুনছে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। আমাদের ফ্যামিলি গেট-টুগেদার হচ্ছে। বিশাল কিছু নয়, হালকা ধরনের আয়োজন। এ রকম আয়োজন আমাদের ফ্যামিলিতে প্রায় প্রতিবছরই হয়। কোনো এক উপলক্ষ জুটিয়ে নিয়ে আমরা ফ্যামিলির সবাই একসাথে হয়ে যাই।</p><p> জারা এক পিস কেক এনে আমাকে দিয়েছে। বললাম, ‘কেক খেতে চাইছি না রে। ক্রিম অ্যাভয়েড করতে চাইছি।’</p><p> জারা বলল, ‘তুমি পুরোপুরি পারফেকশনিস্ট। এত মাপজোখ করে লাইফ লিড করা যায়!’</p><p> জারা আমার চাচাতো বোন। আমি হাসলাম। হেসে বললাম, ‘আমার প্রফেশন আমাকে এভাবেই শেপ-আপ করে ফেলেছে। সব সময় মানুষের জন্য মিথ্যা স্বপ্ন লিখি, এই ফোনটা কিনলেই জীবন বদলে যাবে, এই কফি খেলেই সকালটা সুন্দর হবে। এই সব মিথ্যা এত নিখুঁতভাবে বলতে হয়, যেন মানুষ সত্য বলে বিশ্বাস করে।’</p><p> জারা হাসছে। আমি এক বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটারের কাজ করি। আমার কাজের ধরনই এ রকম। জারা হাসতে হাসতে বলল, ‘তোমাকে দেখে মনে হয় তুমি আগে থেকেই সবকিছু প্ল্যান করে রেখেছ। কী খাবে, কী পরবে, কোথায় যাবে—সব। তুমি ঠিক বাস্তবের মানুষ নও, কোনো এক উপন্যাসের চরিত্র।’</p><p>আমিও হেসে ফেলেছি। বললাম, ‘দে, তোর এত চমৎকার কমপ্লিমেন্টের পরে কেক না খেলে অন্যায় হবে।’</p><p>সবাই হাসছে। আমার আরেক চাচাতো বোন তিতলি বলল, ‘জারা তোমাকে ডোবাল নাকি ভাসাল! জারা বলল বলেই কমপ্লিমেন্ট হিসেবে নিয়ে নিলে!’</p><p>কেকে কামড় দিয়ে হাসতে হাসতে বললাম, ‘এই কথাটাই তুই বললে আমি ইনসাল্ট হিসেবে নিতাম।’</p><p>আমার সাথে সাথে সবাই হো হো করে হেসে উঠেছে। কেবল তিতলি হাসেনি। অমনি তার গাল ফুলে গেছে। তিতলির দিকে আমার আধা খাওয়া কেক এগিয়ে দিয়ে বললাম, ‘স্যরি, মাইন্ড করিস না। এই কেকটুকু খেয়ে নে। আমার ভালোবাসা তোকে দিচ্ছি। আর কাউকে দেব না।’</p><p>তিতলি কিছু না বলে উঠে চলে গেল।</p><p>রাত সাড়ে ১১টায় আমরা বের হলাম। রাইসা আর আমি। রাইসা আমার স্ত্রী। বৃষ্টি তখন আরও বেড়েছে। গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। রাইসা চুপ করে আছে। বেশ কিছুক্ষণ সে কোনো কথা বলেনি। গাড়ির গ্লাসে বৃষ্টির ফোঁটা এসে আছড়ে পড়ছে। ল্যাম্পপোস্টের আলো সেই পানির ওপর পড়ে ভেঙে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।</p><p>রাইসা কোনো কথা বলছে না। আমি কয়েকবার কথা শুরু করতে গিয়েও থেমে গেলাম। বৃষ্টির রাত আমাকে টেনে ডিফারেন্ট মুডে নিয়ে গেছে। ভাব উদয় হয়েছে মনে। মনে হলো, রাইসা তার মতো করে চুপচাপ আছে, থাক। এমন কিছু নীরবতা আছে, যেগুলো ভাঙতে গেলে আরও গভীর কোনো নীরবতা তৈরি হয়।</p><p>বাসায় পৌঁছানোর পর ফ্রিজ খুলে বিয়ারের ক্যান বের করলাম। রাইসা তখনো গা থেকে রেইনকোট খোলেনি। সে বারান্দার কাচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।</p><blockquote>রাত সাড়ে ১১টায় আমরা বের হলাম। রাইসা আর আমি। রাইসা আমার স্ত্রী। বৃষ্টি তখন আরও বেড়েছে। গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। রাইসা চুপ করে আছে। বেশ কিছুক্ষণ সে কোনো কথা বলেনি। গাড়ির গ্লাসে বৃষ্টির ফোঁটা এসে আছড়ে পড়ছে। ল্যাম্পপোস্টের আলো সেই পানির ওপর পড়ে ভেঙে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।</blockquote><p>বললাম, ‘রেইনকোটটা খুলে ফেলো।’</p><p>রাইসা আমার কথা শুনতে পেয়েছে কি না, বুঝতে পারলাম না। সে ঘুরল না। যেমন দাঁড়িয়ে ছিল, সে রকমই স্থির হয়ে থাকল। তাকে নিশ্চল মূর্তির মতো দেখাচ্ছে।</p><p>খানিক বাদে বলল, ‘তোমার কখনো মনে হয়েছে অভীক, আমরা একে অপরকে বুঝতে পারি কি না!’</p><p>থমকে গেলাম। রাইসার কী হয়েছে জানি না। এক ঢোঁক বিয়ার গলায় ঢেলে গিলে ফেললাম। শান্ত চোখে বললাম, ‘তুমি কী বলছ, মানে কী মিন করছ, আমি ফলো করতে পারিনি।’</p><p>রাইসা বলল, ‘মানে...আমরা একে অন্যের যতটা কাছে থাকি, ততটা কাছে কি সত্যিই পৌঁছাতে পারি?’</p><p>আমি তার এই কথার কোনো উত্তর দিতে পারলাম না। ঠিক তখনই ঘরের কোণে রাখা পুরোনো রেকর্ড প্লেয়ারটা ক্যাঁচক্যাঁচ করে উঠেছে। এটা আমার বিলাসী শখ বলা যায়। বহু পুরোনো এক গ্রামোফোন বাঁচিয়ে রেখেছি। বাসায় এসে ফ্রিজ থেকে বিয়ারের ক্যান বের করার আগে গ্রামোফোনে বব ডিলানের গাওয়া অনেক আগের একটা গানের রেকর্ড বসিয়েছিলাম। পিন আটকে ছিল। এখন সেটা চলতে শুরু করেছে। বব ডিলানের গান বাজছে রেকর্ডে, ‘লুক আউট ইয়োর উইন্ডো, অ্যান্ড আইল বি গন/ ইউ আর দ্য রিজন আই অ্যাম ট্রাভেলিন অন/ ডোন্ট থিঙ্ক টুইস, ইটস অলরাইট।’</p><p>রাইসা অবসন্ন গলায় বলল, ‘আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে।’</p><p>সত্যি কথা হচ্ছে চমকে উঠেছি। থেমে বললাম, ‘কার কথা?’</p><p>রাইসা এবার ঘুরে তাকিয়েছে। তার চোখে অদ্ভুত ক্লান্তি। গায়ের রেইনকোট খুলতে খুলতে বলল, ‘আরিয়ান।’</p><p>এই নাম আমার কাছে একদম অপরিচিত। আমি চুপ করে আছি। রাইসা রেইনকোট বাথরুমের হুকে ঝুলিয়ে রেখে এসেছে। ধীর পায়ে এসে শরীর ছেড়ে দিয়ে সোফায় বসল। যেন কোন অতল থেকে কথা বলছে এমন গলায় বলল, ‘আমাদের বাড়ির ওখানে এক ছেলে ছিল। খুব সাধারণ। তোমার মতো চাকরি, টাকা, লাইফস্টাইল কিছুই ছিল না তার। একটা পুরোনো গিটার ছিল। সেটাই ছিল তার পৃথিবী।’</p><p>আমি শুনছি। আমার বিয়ারের ক্যান খালি হয়ে গেছে। ফ্রিজ খুলে আরেকটা ক্যান আনব কি না, ভাবছি। রাইসা বলল, ‘বিকেল হলেই আমাদের বাড়ির পেছনের লেকটার ধারে বসে গিটার বাজাত। কখনো কখনো জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। সেই ছেলের গিটার বাজানো শুনতাম। কী যেন মিস্টিরিয়াস অ্যাট্রাকশন ছিল সেই মিউজিকে।’</p><p>রাইসা হাসল। শুকনো ম্লান হাসি। নিচের ঠোঁট মুখের ভেতর নিয়ে আবার আলগা করে দিয়ে বলল, ‘আমরা যখন ঢাকায় চলে আসি, তার আগের রাতেও প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল। এমন ভয়ংকর বৃষ্টি...রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছিল না। রিকশার চাকা পানিতে ডুবে যাচ্ছিল।’</p><p>রাইসা চুপ করে আছে। আমি উঠে গিয়ে ফ্রিজ থেকে আরেক ক্যান ঠান্ডা বিয়ার নিয়ে এলাম। হাত দিয়ে নিজের মাথার চুল নাড়িয়ে রাইসা বলল, ‘সেই রাতে আরিয়ান আমাদের বাড়ির সামনে এসেছিল। সেই ঝুম বৃষ্টির ভেতর।’</p><p>বিয়ারের ক্যান খুলে চুমুক দিয়েছি। কিছু বললাম না। রাইসা বলল, ‘আরিয়ান বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে হয়ে গিয়েছিল। থিরথির করে কাঁপছিল। হাতে ছোট কাগজের খাম। জানালার নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচিয়ে আরিয়ান সেই খাম আমাকে দিয়েছিল।’</p><p>স্থির গলায় জিজ্ঞেস করলাম, ‘খামের ভেতর কী ছিল?’</p><p>রাইসা আমার দিকে তাকাল। তাকে কেমন অদ্ভুত উদ্ভ্রান্তের মতো লাগছে। অতিপ্রাকৃত। যেন সে এখানে নেই। বাতাসে ভেসে আছে। ভেসে চলে যাবে। খাদে পড়ে যাওয়া গলায় রাইসা বলল, ‘ছোট্ট এক নুড়িপাথর!’</p><blockquote>আমি শুনছি। আমার বিয়ারের ক্যান খালি হয়ে গেছে। ফ্রিজ খুলে আরেকটা ক্যান আনব কি না, ভাবছি। রাইসা বলল, ‘বিকেল হলেই আমাদের বাড়ির পেছনের লেকটার ধারে বসে গিটার বাজাত। কখনো কখনো জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। সেই ছেলের গিটার বাজানো শুনতাম। কী যেন মিস্টিরিয়াস অ্যাট্রাকশন ছিল সেই মিউজিকে।’</blockquote><p>বিস্মিত হয়ে গেছি। আমার হাতে বিয়ারের ক্যান। চুমুক দিতে ভুলে গেছি। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলাম। রাইসা খুব আস্তে বলল, ‘লেকের পাড় থেকে কুড়িয়ে এনেছিল। বলেছিল, তুমি চলে গেলে এটা রেখে দিয়ো। আমার দেওয়া কিছু তাহলে তোমার কাছে থাকবে।’</p><p>এতক্ষণে বৃষ্টি কমে যাওয়ার কথা। বৃষ্টির তোড় আরও বেড়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টি। তবু মনে হচ্ছে কোথাও কোনো আওয়াজ নেই। নিস্তব্ধ হয়ে আছে পুরো ঘর। বব ডিলানের গান শেষ হয়ে রেকর্ড আটকে আছে। রাইসা বলল, ‘আরিয়ানকে চলে যেতে বলেছিলাম।’</p><p>আবার সব চুপচাপ। রাইসা বলল, ‘বলেছিলাম এসব পাগলামি বন্ধ করতে।’</p><p>কেন জানি না, অমনি আমার বুকের খুব ভেতরে হিম ঠান্ডা অনুভব করলাম। ধীর গলায় বললাম, ‘তারপর?’</p><p>রাইসা ভেঙে পড়া ধ্বংসস্তূপের মতো শরীর সোফা থেকে টেনে তুলে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। বাইরে উথালপাতাল বৃষ্টি। এই বৃষ্টি আজ পুরো শহর ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। বিষণ্ন গলায় রাইসা বলল, ‘তিন মাস পর আরিয়ান টাইফয়েডে মারা গেল।’</p><p>আমি চুপ করে আছি। আচমকা আমার প্রবল তৃষ্ণা পেয়েছে। ঢকঢক করে অনেকখানি বিয়ার একবারে খেয়ে ফেললাম। রাইসা বলল, ‘মাত্র একুশ বছর বয়স। একটা পুরোনো গিটার। এক ঘোর বর্ষার রাত। আর ছোট্ট নুড়িপাথর। এগুলো আমার কাছে আমার পুরো জীবনের চেয়েও অনেক বড় হয়ে গেল।’</p><p>এত দিন ভেবেছিলাম, রাইসাকে আমি খুব ভালো চিনি। আমার কনফিডেন্ট প্রবল—সহজেই মানুষ চিনতে পারি। সাধারণ চেনা নয়, আড়ালে থাকা গভীরের মানুষ।</p><p>আমরা একসঙ্গে আছি। একই বিছানায় ঘুমাচ্ছি। এক টেবিলে খাচ্ছি। ছুটির দিনে একসঙ্গে থিয়েটার দেখি। কে কোন খাবার পছন্দ করি, কোন গান শুনলে রাইসার মন ভালো হয়—সব, সব জানি। তবু এই প্রথম বুঝলাম, একজন মানুষের পাশে থাকা আর একজন মানুষের ভেতরে পৌঁছানো এক ব্যাপার নয়।</p><p>রাইসার ভেতরে একদম তার নিজের এক ঘর আছে, সেই ঘরে আমি কোনো দিন ঢুকিনি। সেই ঘরে কোনো দামি আসবাব নেই। ওয়াইন, করপোরেট লাইফ কিংবা আমার ওভার কনফিডেন্ট— কিচ্ছু নেই। শুধু আছে গিটার হাতে একুশ বছরের একজন ছেলে। ঝিম রাত্তিরে আকাশ থেকে মুষলধারে নেমে আসা বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে ছোট্ট নুড়িপাথর।</p><p>নিজের দিকে তাকালাম। আমার এত দিনের নিখুঁত জীবনটা কেমন যেন হাস্যকর মনে হলো। যা কিছুকে জীবন ভেবেছি—করপোরেট চাকরি, টাকা, শহর, ফ্ল্যাট, ক্লাব, সোসাইটি, পরিচিতি—সবকিছু যেন খুব পলকা দেয়াল। হালকা ধাক্কায় ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে যাবে। দেয়ালের ওপাশে অন্য এক পৃথিবী। যেখানে আমার কোনো প্রবেশাধিকার নেই।</p><p>রাইসা তখনো জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। বৃষ্টির বেগ কমে আসছে। বাতাস ছেড়েছে। শীতল বাতাস। রাইসার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আলতো করে পিঠের ওপর হাত রেখেছি। কিছু বললাম না। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টাও করিনি।</p><p>অনেকক্ষণ পর রাইসা আমার হাত ধরল। খুব নরমভাবে। তার হাত শক্ত করে ধরলাম। তবু জানি না কেন, মনে হলো আমি যেন তার হাত নয়—রাইসার বহু বছর আগের কোনো অসমাপ্ত ঘনঘোর বৃষ্টির এক রাত ধরে আছি।</p><p>কাচের ওপাশে বৃষ্টি থেমে আসছে। স্ট্রিটলাইটে দেখলাম ঢাকার রাস্তা পানিতে ভাসছে। নিয়ন আলো পানির ওপর কেঁপে যাচ্ছে। সুনসান রাত। কোথাও কেউ নেই। আবছা আলোঢাকা ঘরে স্ত্রীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি তাকে চিনব বলে।</p><blockquote>আমি চুপ করে আছি। আচমকা আমার প্রবল তৃষ্ণা পেয়েছে। ঢকঢক করে অনেকখানি বিয়ার একবারে খেয়ে ফেললাম। রাইসা বলল, ‘মাত্র একুশ বছর বয়স। একটা পুরোনো গিটার। এক ঘোর বর্ষার রাত। আর ছোট্ট নুড়িপাথর। এগুলো আমার কাছে আমার পুরো জীবনের চেয়েও অনেক বড় হয়ে গেল।’</blockquote><p>রাতে ঘুম এল না। রাইসা ঘুমিয়ে পড়েছে। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টি ছেড়ে গেছে। অদ্ভুতভাবে আমার মনে হলো, যদি আরিয়ান সত্যিই কোথাও থেকে আমাদের দেখতে পায়, তাহলে হয়তো সে প্রশান্তি নিয়ে হাসছে। সে কাউকে হারায়নি। হারিয়ে ফেলেছি আমি অথবা আমরা। ভালোবাসার সবচেয়ে সহজ ব্যাপারটাই হারিয়ে ফেলেছি—কারও কাছে পুরোপুরি পৌঁছানোর ক্ষমতা।</p><p>জানি না সেই নুড়িপাথরটা এখন কোথায়। হয়তো রাইসার কাছে আছে। না রেখে ফেলেও দিতে পারে। তবে এটাও ঠিক, কিছু জিনিস হারিয়ে গেলেও হারায় না। থেকে যায়। গন্ধ হয়ে।</p><p>গান হয়ে। বর্ষার নিকষ কালো রাত হয়ে। অথবা বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকা একুশ বছরের একজন ছেলের মুখ হয়ে।</p><p>ভোর হয়ে এসেছে। ঘুম আসেনি। ভোরের আলোয় জানালার কাচে নিজের মুখ দেখলাম। নিজেকে খুব অচেনা লাগছে। জীবনে প্রথমবার মনে হলো, মানুষ আদতে বলেকয়ে যতটা বাঁচে, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু না-বলা ভালোবাসার ভেতর বেঁচে থাকে। আর কিছু মানুষ চলে যায়। তবু তাদের রেখে যাওয়া ছোট্ট এক নুড়িপাথর কখনো কখনো সারা জীবন বুকের ভেতর বৃষ্টি হয়ে থেকে যায়।</p>

Prothomalo

View more
লেদারের কোট আর ফার স্কার্ফ: দেশি বিউটি কুইনের উষ্ণতা ছড়ানো 'ফল ফ্যাশন'
লেদারের কোট আর ফার স্কার্ফ: দেশি বিউটি কুইনের উষ্ণতা ছড়ানো 'ফল ফ্যাশন'

লেদার জ্যাকেট আর ফার স্কার্ফে দেশি বিউটি কুইনের বিদেশ ভ্রমণের ফল ফ্যাশন লুক দুটি সত্যিই উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন যাওয়া হচ্ছে না পর্যটকদের, জাহাজ চলাচলের অনুমোদন মেলেনি
১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন যাওয়া হচ্ছে না পর্যটকদের, জাহাজ চলাচলের অনুমোদন মেলেনি

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
১০টি হাঁসের ডিম থেকে ১৬ একরের খামার গড়লেন নোয়াখালীর বিবি রহিমা
১০টি হাঁসের ডিম থেকে ১৬ একরের খামার গড়লেন নোয়াখালীর বিবি রহিমা

<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/10ti-hannser-dim-theke-16-ekrer-khamar-grlen-noyakhaleer-bibi-rhima</figure>

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ কাল, যেভাবে জানা যাবে
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ কাল, যেভাবে জানা যাবে

আগামীকাল শনিবার বেলা ১১টায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী। অনলাইন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানা যাবে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
৬৩ বছর পর নতুন রূপে হিচককের ‘দ্য বার্ডস’
৬৩ বছর পর নতুন রূপে হিচককের ‘দ্য বার্ডস’

ছয় দশকের বেশি সময় পর সেই গল্পই নতুনভাবে পর্দায় ফিরছে। এবার চলচ্চিত্র নয়, টেলিভিশন সিরিজ।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
‘জায়গাজমিন আইবো–যাইবো, স্বামী–সন্তান তো আর আইবো না’
‘জায়গাজমিন আইবো–যাইবো, স্বামী–সন্তান তো আর আইবো না’

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমার বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় গোলাপ হোসেন ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে তোয়াবা নিহত হয়েছেন। স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে স্ত্রী শিউলি আক্তার দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে সাইবার হামলা
বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে সাইবার হামলা

বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
প্রথমবারের মতো স্পর্শনির্ভর পর্দার ম্যাকবুক ল্যাপটপ আনার ঘোষণা দিল অ্যাপল
প্রথমবারের মতো স্পর্শনির্ভর পর্দার ম্যাকবুক ল্যাপটপ আনার ঘোষণা দিল অ্যাপল

প্রথমবারের মতো ‘ম্যাকবুক প্রো উইথ প্রোলেড এক্সডিআর ডিসপ্লে’ মডেলের স্পর্শনির্ভর ম্যাকবুক আনার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতা, তিন বছর পর ঢাকায় কিসিঞ্জার
বাংলাদেশের জন্মের বিরোধিতা, তিন বছর পর ঢাকায় কিসিঞ্জার

স্বাধীনতার তিন বছর পর সেই হেনরি কিসিঞ্জারই বাংলাদেশ সফরে আসেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ অক্টোবর তিনি ঢাকায় পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে।

অক্টোবর ৩০, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।