<p>পাঠাগার শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি মুক্তচিন্তা ও সামাজিক পরিবর্তনের মূল কেন্দ্র। তাই প্রতিটি জনপদে পাঠাগারকে যুক্তিবোধের চর্চাকেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন’–এর আত্মপ্রকাশ ও প্রথম জাতীয় সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘একটাই মন্ত্র জনগণতন্ত্র, একটাই যুক্তি শোষণমুক্তি’ স্লোগানে এই আয়োজন করা হয়।</p><p> সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, ‘আমরা শোষণমুক্ত ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক বাংলাদেশ চাই। আমাদের নবীন প্রজন্মই সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’</p><p>পাঠাগার আন্দোলনের সূচনাকে নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বলেন, সঠিক ইতিহাস জানা এবং মানুষের মননশীলতা তৈরিতে পাঠাভ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। নতুন প্রজন্মকে বইপড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে গ্রাম, শহর ও বস্তির ঘরে ঘরে পাঠচক্র গড়ে তুলতে হবে। শুধু মুঠোফোনে একা একা পড়া নয়; সম্মিলিত পাঠ ও পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়েই চিন্তা ও চেতনা শাণিত হয়। পাঠ থেকে পাওয়া জ্ঞানকে সামাজিক পরিবর্তন ও ন্যায়ের সংগ্রামে কাজে লাগাতে হবে।</p><p>লেখক ও গবেষক নিতাই দাস বলেন, মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, যুক্তিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা বাড়িয়ে আধুনিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভরতার কারণে মানুষ এখন গভীর পাঠ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নতুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিদ্যমান পাঠাগারগুলোকেও সক্রিয় করে তুলতে হবে।</p><p>ত্রৈমাসিক সাময়িকী ‘শিক্ষাবার্তা’র সম্পাদক এ এন রাশেদা বলেন, ‘সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে পিছিয়ে পড়া ও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তাদের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা পাঠচর্চার অংশ করা দরকার। সাধারণ মানুষের সংকট ও লড়াই নিয়ে বই-পুস্তিকা প্রকাশ করা হলে পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে।’</p><p>শিশু-কিশোর ও মায়েদের এই আন্দোলনে যুক্ত করার তাগিদ দেন লেখক ও অধ্যাপক আবু তাহের খান। তিনি বলেন, সন্তানদের বই পড়ার উপকারিতা বোঝাতে প্রথমে মায়েদের সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের মধ্যে পড়ার আগ্রহ ও নতুন স্বপ্ন তৈরি করা জরুরি।</p><p>ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, ‘জ্ঞান হোক সবার, পাঠাগার হোক প্রতিটি জনপদে’ স্লোগানকে ধারণ করে তাঁরা দেশের ৬৮ হাজার গ্রামে পাঠাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। এর পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা আট হাজারের বেশি সুপ্ত পাঠাগারকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান তিনি।</p><h3>৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি </h3><p>সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনটির ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষাবার্তার সম্পাদক অধ্যাপক এ এন রাশেদা। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান রিপন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল।</p><p>সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আকমল হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রস্তুতি পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল। অনুষ্ঠানে সংহতি জানিয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স), বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা নিখিল দাস এবং বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান।</p><p>উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর গণসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা হয়। আলোচনা শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সম্মেলন থেকে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাঠাগার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।</p>
<p>জাপানের বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও মডেলের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ঢাকায়। এতে রয়েছে টয়োটা প্রিয়াস, করোলা ক্রস, হ্যারিয়ার, নোয়া, ভক্সি, আলফার্ডসহ আরও অনেক আকর্ষণীয় মডেলের গাড়ি।</p><p>রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বারভিডা কার এক্সপোতে এই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি প্রদর্শিত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিন দিনের এই প্রদর্শনী শুরু হয়। কাল শনিবার প্রদর্শনী শেষ হবে। গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।</p><p>প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন গাড়ি দেখার পাশাপাশি মডেল ভেদে বৈশিষ্ট্য, প্রযুক্তি, সুযোগ-সুবিধা ও দাম তুলনা করতে পারছেন। একই জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দেখার মাধ্যমে ক্রেতারা নিজেদের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী সঠিক গাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।</p><p>গতকাল প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বারভিডার সভাপতি আবদুল হক। আরও বক্তব্য দেন বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী খসরু, মো. হাবিব উল্লাহ ডন ও বারভিডার সাবেক মহাসচিব মাহাবুল হক চৌধুরী। সভা সঞ্চালনা করেন বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান।</p><p>নীতি প্রণয়নকালে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বারভিডার সাবেক ও বর্তমান নেতারা বলেন, ৬৬০ সিসির জাপানি কে কার নামে পরিচিত ছোট আকৃতির কার আমদানিতে সুবিধা দেওয়া হলে শহরের জঞ্জাল নামে পরিচিত ব্যাটারিচালিত রিকশার ভয়াবহতা থেকে নগরকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।</p><p>আয়োজকেরা জানান, শনিবার বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীরা বিনা মূল্যে প্রদর্শনীতে প্রবেশ করতে পারবেন।</p>
<p>ছড়াকার আখতার হুসেন তাঁর যে রচনার সম্পদ রেখে গেছেন, তা চিরকাল মানুষের মুক্তির পথযাত্রায় অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাই শারীরিকভাবে চলে গেলও তিনি কখনো আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন না। তিনি থাকবেন সংগ্রামে, আদর্শে, প্রগতির পথযাত্রায় চিরকালের সঙ্গী হয়ে। আজ শুক্রবার বিকেলে আখতার হুসেনের নাগরিক শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা এভাবেই তাঁকে স্মরণ করলেন।</p><p> রাজধানীর সেগুনবাগিচার কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার দাদা ভাই সম্মেলনকক্ষে এই নাগরিক শোকসভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আখতার হুসেনের স্বজনেরা এই আয়োজন করেন। বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি যেসব সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন, সেই কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের নবীন-প্রবীণ নেতা–কর্মী, সংগঠক, শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। স্মৃতিচারণা, কাজের মূল্যায়ন আর সংগীত ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রয়াত শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, গীতিকবি, নাট্যকার, সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার হুসেনের প্রতি।</p><p>অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল আখতার হুসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। মঞ্চের সামনেই ছিল শিল্পী মাশুক হেলালের আঁকা তাঁর প্রতিকৃতি। সেখানে অর্পণ করা হয় পুষ্পস্তবক। খেলাঘর, উদীচী ও সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘আগুনের পরশমণি’।</p><p>আলোচনা ও স্মৃতিচারণা পর্ব শুরু হয়েছিল কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের চেয়ারপারসন কাজী মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে। প্রথমেই তাঁর জীবনী পাঠ করেন শিখা সেনগুপ্তা।</p><p>আলোচনায় উদীচীর একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম বলেন, আখতার হুসেন ১৯৬৮ সালে উদীচীর গঠন পর্বে যুক্ত ছিলেন। অনেক অসাধারণ নাটক রচনা করেছেন উদীচীর জন্য। তাঁর গান ও নাটকে প্রবল শক্তিমত্তার প্রকাশ ছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে সেই শক্তি আন্দোলন–সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর এসব রচনা অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে। তিনি চলে গেলেও আমাদের সঙ্গে আছেন, থাকবেন।</p><p>কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক প্রণয় সাহা বলেন, আখতার হুসেন তাঁর লেখায় ও সাংগঠনিক কাজে সারা জীবন চেষ্টা করেছেন শিশুরা যেন বড় হয়ে দেশকে ভালোবাসে, মানবিক গুণাবলি অর্জন করে, একজন ভালো মানুষ হয়ে উঠতে পারে। সে কারণে তাঁর জীবন সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের সামনে যত আলোচনা হবে, নতুন প্রজন্ম ততই সমৃদ্ধ হবে।</p><p>খেলাঘরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজ বলেন, আখতার হুসেনের সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল অসাধারণ। খেলাঘর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে যে সংগঠকেরা ব্যাপক পরিশ্রম করেছিলেন, আখতার হুসেন ছিলেন তাঁদের অন্যতম। অসামান্য প্রতিভা ছিল তাঁর।</p><p>সভাপতির বক্তব্যে কাজী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তিনি সবার কাছে ছিলেন ‘আখতার ভাই’। ‘ভাই’ হতে পারেন সেই মানুষটি, যিনি সবচেয়ে আপন। যার কাছে স্বাচ্ছন্দ্যে যাওয়া যায়। আখতার ভাই তেমনই মানুষ ছিলেন। সহজ–সরল, অনাড়ম্বর আন্তরিক। তাঁর প্রতি আমাদের ভালোবাসা কখনো শেষ হবে না।</p><p>আলোচনা পর্বে আরও অংশ নেন খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রথীন চক্রবর্তী, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার প্রমুখ।</p><p>দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। খেলাঘর ও ছাত্র ইউনিয়ন— এই দুই সংগঠনেরই দলীয় সংগীত লিখেছিলেন আখতার হুসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই খেলাঘরের কর্মীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করে তাদের দলীয় সংগীত ‘আমরা তো সৈনিক শান্তির সৈনিক’। পরের গানটি ছিল তাঁর লেখা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা’। সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’, ‘তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম’। শেষে ছিল ছাত্র ইউনিয়নের দলীয় সংগীত ‘আমরা তো ঐক্যের দৃঢ় বলে বলীয়ান’। যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় সৈয়দা রত্নার আবৃত্তি দিয়ে শেষ হয় শোক ও শ্রদ্ধার এই আয়োজন।</p><p>আখতার হুসেন প্রায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/9ouyfq9sj8">চলে গেলেন নিবেদিতপ্রাণ শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন </a></aside>
<p>নোয়াখালীর কবিরহাটে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের এক নেতাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার বেলা ১টার দিকে কবিরহাট বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মহিন উদ্দিন ওরফে জাসেদ (৩০) কবিরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।</p><p>স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১টার দিকে মহিন উদ্দিন কবিরহাট বাজারে গেলে ছয়-সাতজনের একটি দল তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে আশপাশের লোকজনের সহায়তায় স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ডেকে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।</p><p>কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক কবিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আলা বক্স টিটো প্রথম আলোকে বলেন, মহিন উদ্দিন যুবলীগের ওয়ার্ড কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি পৌরসভার কাউন্সিলরও ছিলেন। হামলাকারীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। এ কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে মহিন উদ্দিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। একটি বাড়িতে রেখে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।</p><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া শুক্রবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার বিষয়টি দেখেছেন। তবে কখন, কোথায় এবং কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।</p>
<p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অভিশংসন ঠেকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মনে হচ্ছে, নিজের বিপদ আরও ডেকে আনছেন। তাঁর আচার–আচরণ যেন সমালোচকদের যুক্তিগুলোকেই আরও শক্তিশালী করে তুলছে।</p><p>গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওতে হেগসেথ অঙ্গীকার করেন, ‘আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়াই, আমরা লড়াই করি।’</p><p>অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের চরম পরাজয়ের দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হতে পারে, এমন গুঞ্জনের মধ্যেই হেগসেথ এই মন্তব্য করলেন।</p><p>প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সাংবাদিকদের বলেছেন, ফক্স নিউজের সাবেক এই সঞ্চালক পেন্টাগনে ‘অসাধারণ কাজ’ করছেন। অবশ্য বিদায়ী রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ আগামী সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে অভিশংসিত করার পক্ষে ভোট দিতে পারে বলে আলোচনা ক্রমে বাড়ছে।</p><p>ট্রাম্প ছাড়া ওয়াশিংটনের খুব কম মানুষই প্রকাশ্যে হেগসেথের পক্ষ নিতে ইচ্ছুক। বিশেষ করে এমন এক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অতি আগ্রহে চালানো ইরান যুদ্ধের প্রতি জনগণ তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাই হেগসেথ নিজ দায়িত্বে একটি ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিলেন মূলত একজনমাত্র দর্শক, তিনি ট্রাম্প।</p><p>ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে যেসব অভিশংসনের শিকার হয়েছেন, সেগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি নিজেকে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে চক্রান্তের শিকার হওয়া এক সহযোদ্ধা হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন, ‘এটা পুরোটাই ব্যক্তিগত ধ্বংসাত্মক রাজনীতির খেলা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই ধ্বংসাত্মক খেলা কাজ করেনি, আমার বিরুদ্ধেও করবে না। এ নিয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’</p><p>মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিপর্যয় নিয়ে ওয়াশিংটন যখন উত্তাল এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল যখন যুদ্ধ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত, ঠিক তেমনই এক অস্থির রাজনৈতিক মুহূর্তে ভিডিওটি প্রকাশ ছাড়লেন হেগসেথ।</p><p>এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার দেওয়া চমকপ্রদ এক পোস্টে রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের জন্য যুদ্ধকে দায়ী করেন। তিনি সতর্ক করে লিখেছেন, যাঁরা এই যুদ্ধ সমর্থন করেছেন, তাঁরা ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/kwmrqmkq/heg1.jpg"><figcaption>মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ</figcaption></figure><p>ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিশৃঙ্খলা আরেকটি বড় বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে, সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক লড়াইয়ে ট্রাম্প যে হেরে গেছেন, তা এখন পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরও ইসলামি প্রজাতন্ত্র টিকে থাকার ক্ষমতা ট্রাম্পের ওপর বিশাল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে।</p><p>ফলাফল দাঁড়িয়েছে, যুদ্ধ এড়ানোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী একজন প্রেসিডেন্টকে এখন তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছে আটকে থাকতে হবে। প্রেসিডেন্ট তো আর পদত্যাগ করছেন না। তাই রাজনৈতিক সমীকরণ বলছে, অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে এই ব্যর্থতার দায়ভার বহন করতে হতে পারে।</p><p>তবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি হেগসেথকে বরখাস্ত করার কথা ভাবছেন না। চলতি বছরের শুরুর দিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় হেগসেথের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।</p><p>এরপরও হেগসেথ ২০০৬ সালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের পরিণতি বরণ করার ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে মনে হচ্ছে। ২০ বছর আগে আরেক অজনপ্রিয় ইরাক যুদ্ধের জন্য প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে শাস্তি দিতে ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁকে বড় পরাজয় উপহার দেন। এরপরই রামসফেল্ডকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন বুশ।</p><p>পেন্টাগনের নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় সামলানোর মতো বিলাসিতা ট্রাম্পের এখন নেই। কারণ, ইরান যুদ্ধে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—তা নিয়ে তিনি এক জরুরি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। নির্বাচনের আগে এমন গুঞ্জন ছিল, ভোট গণনার পরপরই তিনি সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেবেন, যাতে তেহরানকে আলোচনায় বসতে বা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যায়।</p><p>কিন্তু এখন হামলা চালাতে গেলে তিনি একেবারে একা হয়ে পড়বেন। কারণ, যুদ্ধ নিয়ে জনগণ ইতিমধ্যে তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং তাঁর মন্ত্রিসভার বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে পিছিয়ে আসা মানেই ট্রাম্পকে লজ্জাজনক পরাজয় স্বীকার করতে হবে। কারণ, তেহরান তাঁর আকাঙ্ক্ষিত মার্কিন বিজয়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।</p><p><strong>পছন্দের মাধ্যমে ট্রাম্পের কাছাকাছি পৌঁছানো</strong></p><p>টেলিভিশনের পুরোনো অভিজ্ঞ উপস্থাপক হেগসেথ জানেন, তাঁর বসের কোন আবেগে ঘা দিতে হবে। তাঁর ভিডিওটি ছিল আক্রমণাত্মক এবং এমন কিছু কঠোর সাংস্কৃতিক আক্রমণে পূর্ণ, যা শুরু থেকেই তাঁকে ট্রাম্পের প্রিয় করে তুলেছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্প যে হত্যাচেষ্টায় বেঁচে গিয়েছিলেন, সেই ঘটনার প্রতীকী রূপ তিনি নিজের মধ্যে ফুটিয়ে তোলেন। ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁদের নেতার মধ্যে যে শক্ত রূপ দেখতে পান, হেগসেথ নিজেকে ঠিক সেই রূপেই উপস্থাপন করেন।</p><p>হেগসেথ বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) সত্যি সত্যিই এই দেশের জন্য গুলি খেয়েছেন। তিনি হাত উঁচিয়ে বলেছিলেন “লড়াই, লড়াই, লড়াই”। আর আমরাও সেটাই করব।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/is5zxbzs/hakeem1.jpg"><figcaption>প্রতিনিধি পরিষদের সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটদলীয় স্পিকার হাকিম জেফ্রিস</figcaption></figure><p>হেগসেথের বক্তব্যের পাশাপাশি তাঁর সহযোগীদের পক্ষ থেকে সমর্থনে ভরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একগুচ্ছ পোস্ট শেয়ার করা হয়, যা দেখে বোঝা যাচ্ছে, এটি তাঁর চাকরি বাঁচানোর একটি সুসংগঠিত প্রচারের অংশ। ট্রাম্প এবং ‘মাগা’ আন্দোলনের প্রতি বার্তাটি একদম পরিষ্কার, হেগসেথকে বলির পাঁঠা বানালে তা হবে প্রেসিডেন্টের জন্য এক বিরাট পরাজয়।</p><p>বৃহস্পতিবার সিএনএনের সাংবাদিক হ্যালি ব্রিটস্কিকে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস আজ রাতে তাদের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার করে দিয়েছে। তারা হেগসেথের সমর্থনে জোরালো ভূমিকা নিচ্ছে। আর এটাই আপনার যা জানার প্রয়োজন, তা বলে দিচ্ছে।</p><p>মাগা আন্দোলন যে হেগসেথের জন্য এবারই প্রথম মাঠে নেমেছে, তা নয়। গত বছর যখন তাঁর মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তখন তাদের আগ্রাসী অবস্থানের কারণেই তাঁর পদ বেঁচে গিয়েছিল।</p><p>তবে হেগসেথের এবারের আত্মরক্ষা রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে ভুল প্রমাণিত হতে পারে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে কোটি কোটি মার্কিন ভোট দেওয়ার মাত্র দুই দিন পর পেন্টাগনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এবং পেছনে ‘যুদ্ধ বিভাগ’ লেখা একটি সাইন ঝুলিয়ে হেগসেথ এই উত্তপ্ত ভাষণ দেন, যা খুবই বেমানান শোনাচ্ছিল। এমন চড়া সুর হয়তো ট্রাম্পের ক্ষমতার শীর্ষ সময়ে কাজ করত। কিন্তু এখন তা সময়ের প্রেক্ষাপটে বেখাপ্পা বলে মনে হচ্ছে।</p><p>ট্রাম্প থেকে ভ্যান্সের দূরত্ব বজায় রাখার পর হেগসেথের এই বক্তব্য নেতৃত্বের শূন্যতার দিকেও ইঙ্গিত করছে। বিশেষ করে কমান্ডার-ইন-চিফ নির্বাচনের পর থেকে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটান তাঁর ব্যক্তিগত শখের প্রকল্পে, যার মধ্যে রয়েছে হোয়াইট হাউসের বলরুম। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প এক ঘোষণার মাধ্যমে মন্ত্রসিভা কক্ষ ও ওভাল অফিসকে জাতীয় ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করেন। সম্ভবত এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, সোনা দিয়ে মোড়ানো তাঁর নতুন সাজসজ্জাকে রক্ষা করা।</p><p><strong>প্রতিরক্ষা ব্যয় বরাদ্দকে জটিল করছে হেগসেথের কৌশল</strong></p><p>হেগসেথ–সংক্রান্ত সংকটের গভীরতা আগামী সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে। ট্রাম্পবিরোধী হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা টমাস মেসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব আনার কথা বলেছেন। এই মেসি দলীয় প্রাইমারিতে ট্রাম্পসমর্থিত প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন।</p><p>ক্ষুব্ধ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা ওয়াশিংটনে ফেরার পর ক্যাপিটল হিলে হেগসেথের প্রতি তাঁদের সমালোচনা চরম রূপ নিতে পারে। যে যুদ্ধ তাঁদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিয়েছে, সেই যুদ্ধের স্থপতিকে রক্ষার জন্য পরাজিত বা টেনেটুনে টিকে যাওয়া আইনপ্রণেতাদের কী আর স্বার্থ থাকতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/v6c87s5d/iran.jpg"><figcaption>ইরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী একটি ম্যুরালের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তেহরান</figcaption></figure><p>সিনেটে অভিশংসন বিচারে হেগসেথকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যাবে, এমন ইঙ্গিত এখনো নেই। তবে এ সপ্তাহের নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন শুনানিতে হেগসেথের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ক্যাপিটল হিলে তাঁর মিত্রের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।</p><p>আইনপ্রণেতারা হেগসেথের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধের কৌশল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার বিস্তারিত তথ্য গোপনের অভিযোগও এনেছেন। প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলে তাঁর পদে থাকা রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।</p><p>বৃহস্পতিবার বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পিট হেগসেথ এখনো দায়িত্বে আছেন কেন?’</p><p>গত সপ্তাহে এই মন্তব্যকে দলীয় কাদা–ছোড়াছুড়ি বলে উড়িয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু জেফ্রিস এখন প্রতিনিধি পরিষদের হবু স্পিকার হিসেবে কথা বলছেন। আগামী জানুয়ারি থেকে প্রশাসনের অর্থায়নের অনুমোদন আসবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মাধ্যমে। তাই পেন্টাগনকে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই চলতে হবে।</p><p>নর্থ ক্যারোলাইনার বিদায়ী রিপাবলিকান সিনেটর টম টিলিস বুধবার সিএনএনকে বলেন, ‘আমার মনে হয় না বাজেট পাস করানোর মতো পর্যাপ্ত সম্পর্ক তিনি মার্কিন সিনেট বা কংগ্রেসে গড়ে তুলতে পেরেছেন।’</p><p>টিলিস আরও বলেন, এটা কেবল ইরান যুদ্ধের বিষয় নয়। এটা হলো ডিওডির সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট নিশ্চিত করার বিষয়।</p><p>টিলিস আরও যোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সদস্যরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মনে করেন। হেগসেথ এই পদের জন্য সঠিক ব্যক্তি নন।</p><p>নতুন বছরে ক্ষমতা হাতে পাওয়ার আগেই নড়বড়ে হেগসেথকে আঘাত করে ট্রাম্পকে একটা বার্তা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন ডেমোক্র্যাটরা।</p><p>অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গ্যালেগো বৃহস্পতিবার সিএনএনের জেইক টেপারকে বলেন, ‘হেগসেথের ভিডিওটি তাঁর কর্তৃত্বকে আরও ক্ষুণ্ন করেছে। আপনি এই মুহূর্তে একটি যুদ্ধ পরিচালনা করছেন। আর আপনার প্রতিক্রিয়া হচ্ছে যেন আপনি ফক্স নিউজে আছেন।’</p><p>রুবেন আরও যোগ করেন, ‘এটা হাস্যকর।...তিনি অভিশংসিত না হওয়ার পক্ষে যুক্তি দিতে চাইলেন কি না পরিষ্কার নয়। তিনি যা করেছেন, তাতে নিজের অভিশংসন নিজেই ডেকে এনেছেন।’</p>
<p>খুলনা নগরের যশোর রোডে রেলস্টেশনের দেয়ালে আঁকা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মীরা। তবে কারা প্রতিকৃতিটি বিকৃত করেছে, তা এখনো জানা যায়নি।</p><p>এর আগে গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে গিয়ে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব এ এন এম আয়াসসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। আটক অন্যরা হলেন মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার (২৭)। এ ঘটনায় করা মামলায় তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়।</p><aside><cite>অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির, শিক্ষাবিদ</cite>রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের আদি নিবাস খুলনায়, তাঁর শ্বশুরবাড়িও এ জেলায়। খুলনায় তাঁর প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া খুলনাবাসীর জন্য লজ্জার বিষয়।</aside><p>সরেজমিন দেখা যায়, খুলনা নগরের যশোর রোডের পাশে রেলস্টেশনের দেয়ালে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান, ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাটশিল্প, সুন্দরবনের গ্রাফিতির পাশাপাশি চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।</p><p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির দুই পাশে দুটি পোস্টার লাগানো রয়েছে। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামের পোস্টার দুটিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা হয়েছে। পোস্টারে রবীন্দ্রনাথের ‘শিবাজি উৎসব’ কবিতা উল্লেখের পাশাপাশি তাঁর একটি ছবিও দেওয়া হয়েছে। পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘তিতুমীরের বাংলায় মুসলিম ও পূর্ব বাংলা বিদ্বেষী রঠার ঠাঁই নাই/ ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই।’</p><p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন স্থানে সৌন্দর্য বর্ধনের অংশ হিসেবে এসব দেয়ালচিত্র আঁকিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। দেয়ালচিত্রগুলোতে স্থান পেয়েছেন দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এগুলো নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেয়ালচিত্রগুলো নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছিল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-06/o05twiq9/khulna2.jpg"><figcaption>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিকর্মীরা</figcaption></figure><p>রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ফেসবুকে ওমর ফারুক নামের একজন লিখেছেন, ‘স্বাধীন দেশে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ জেসমিন আক্তার নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘কালি লেপন করে যারা, তারা রবীন্দ্রনাথ কী, তা জানে না।’</p><p>খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এ অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে খুলনায় বেড়াতে আসা মানুষকে পরিচিত করতেই গুরুত্বপূর্ণ দেয়ালগুলোতে গ্রাফিতি ও প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এসব দেয়ালচিত্র আমাদের শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশে ভূমিকা রাখবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে যারা কালি লেপন করেছে, তারা নিজেদের সংকীর্ণ মনন ও অসুস্থতার পরিচয় দিয়েছে।’</p><p>খুলনা সিটির প্রশাসক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওখানে আমরা আবার ভালো করে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি আঁকব।’</p><p>খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কারা এ কাজ করেছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।</p><p>শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা এ কাজ করেছে, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাদের জানাশোনা সীমিত অথবা ভুল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির কথা চিন্তা করা যায় না।’ তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের আদি নিবাস খুলনায়, তাঁর শ্বশুরবাড়িও এ জেলায়। খুলনায় তাঁর প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া খুলনাবাসীর জন্য লজ্জার বিষয়।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/118dbu3avl">রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে</a></aside>
<p>পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে সফল পপুলিস্ট উগ্র ডানপন্থী দলগুলোর নেতাদের মধ্যে এমন একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায়। ইতালির মাত্তেও সালভিনি, ফ্রান্সের জর্ডান বারদেলা, সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের জিমির আকিসন এবং বেলজিয়ামের ‘ফ্লামস বেলাং’-এর টম ভ্যান গ্রিকেন—তাঁরা সবাই এখন যে দলগুলোর প্রধান, অতীতে সেগুলোর যুব সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। </p><p>ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ছিলেন উগ্র ডানপন্থী যুব সংগঠনের সাবেক নেতা। তিনি বলছিলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে ওঠার চেয়েও একজন মানুষ ও ইতালীয় হিসেবে আমার আত্মপ্রকাশের পেছনে আমার যুব সংগঠন অ্যাকটিভিজমের অবদান সবচেয়ে বেশি। এর চেয়ে ভালো রাজনৈতিক শিক্ষার জায়গা আর হতে পারে না।’ আমাদের নতুন বই <em>ইয়ুথ উইংস অব দ্য পপুলিস্ট র্যাডিক্যাল রাইট</em>–এর গবেষণায় আমরা ইউরোপের এমন ১০টি সংগঠন বিশ্লেষণ করেছি। আমরা দেখেছি, এগুলো উগ্র ডানপন্থীদের তৃণমূল কর্মী, প্রতিনিধি এবং ভবিষ্যতের নেতাদের সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও পদোন্নতিতে সাহায্য করে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/xfjrk35an5">ইউরোপ কেন যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে</a></aside><p>আমরা লক্ষ করেছি যে ২০২০-এর দশকে উগ্র ডানপন্থী দলগুলো যখন সম্প্রসারিত হচ্ছে, তখন যুব সংগঠনের নেতা ও তাঁদের সাধারণ কর্মীরা দলীয় তিনটি মূল লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছেন: আন্তর্জাতিকীকরণ, পেশাদারত্ব এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জন (অথবা স্বাভাবিকীকরণ)।</p><p>প্রথমত, এই যুব সংগঠনগুলো তাদের মূল দলের চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে নতুন আন্তদেশীয় জোট গড়ে তুলছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২২ সাল থেকে বুদাপেস্টে প্রতিবছর আয়োজিত ‘ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক প্যাট্রিয়ট সামিট’।</p><p>এসব সম্মেলন ইউরোপ, ভারত, ইসরায়েল, লাতিন আমেরিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুবনেতাদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে, যাতে তারা সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করতে পারে এবং তাদের ক্যারিয়ারজুড়ে টিকে থাকার মতো পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। </p><p>দ্বিতীয়ত, তারা আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণে গভীরভাবে যুক্ত। একসময় যাদের ‘অপেশাদার’ বলে উপহাস করা হতো (কিছু ক্ষেত্রে যা সঠিকও ছিল), সেই উগ্র ডানপন্থীরা এখন পেশাদারত্ব গড়ে তুলতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। দলে যোগ দেওয়া তরুণদের কেবল নীতি ও ইতিহাস সম্পর্কেই নয়, বরং তাদের বক্তৃতাকলা ও মিডিয়া যোগাযোগও শেখানো হচ্ছে। তাঁদের হবু রাজনীতিবিদ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে আর আকিসন, বারদেলা, মেলোনি ও সালভিনিদের সাফল্যই এর বাস্তব প্রমাণ।</p><p>তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষিত তরুণদের দলে ভেড়ানো হচ্ছে। তাদের চেহারা ও কথাবার্তা সংবাদমাধ্যমে দেখানো উগ্র ডানপন্থী ক্রুদ্ধ তরুণদের গতানুগতিক ভাবমূর্তির চেয়ে একেবারেই আলাদা। এটি উগ্র ডানপন্থীদের সমাজে সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করছে। আরও স্পষ্টভাষী, পেশাদার এবং মার্জিত চেহারার নেতা তৈরি করার ফলে ভোটারদের কাছে এই দলগুলোকে আর অবৈধ বা চরমপন্থী মনে হয় না, বরং গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা দেয়।</p><p>ফ্রান্সের জঁ-মারিন লো পেন বা ইতালির উম্বার্তো বোসির মতো অতীতে অমার্জিত নেতাদের থেকে তারা নিজেদের যত দূর সরিয়ে নিতে পারছে, তত বেশি তাদের মতো সাধারণ তরুণদের আকৃষ্ট করতে পারছে।</p><p>তবে এই উগ্র ডানপন্থীরা হয়তো তাঁদের দলীয় আচরণের রুক্ষ ভাব কিছুটা মসৃণ করার উপায় খুঁজে পেয়েছেন, কিন্তু তাঁদের মূল আদর্শ এখনো চরম জাতীয়তাবাদী ও পরমত–অসহিষ্ণু। অন্য কথায়, যুব সংগঠনগুলোর মাধ্যমে উগ্র ডানপন্থীদের এই পুনর্জন্ম উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/j5epcydyux">বিশ্ব চালাবে কে—চীন নাকি ইউরোপ</a></aside><p>চাকরির অনিশ্চয়তা এবং আবাসনসংকটের কারণে ইউরোপের তরুণদের একটি বড় অংশ তাঁদের ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এখনো বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে মূলধারার দলগুলো তাঁদের জীবনের উন্নয়ন ঘটাতে পারবে—এমন আশায় তরুণেরা যে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এর বিপরীতে আমাদের সাক্ষাৎকার দেওয়া তরুণ উগ্র ডানপন্থী কর্মীরা জানিয়েছেন যে তাঁদের দলগুলো সরাসরি তাঁদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলে এবং সমাধানের পথ দেখায়। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোরও এখন ঠিক একই কাজ করা উচিত।</p><p>●<strong> ক্যাস মুডে</strong> জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অধ্যাপক</p><p>●<strong> ডানকান ম্যাকডোনেল</strong> অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে অবস্থিত ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ</p><p><em>দ্য গার্ডিয়ান </em>থেকে সংক্ষেপে অনূদিত</p>
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিভাইনের পরিচিতি ছিল ‘ক্লিকি পন্টিং’ নামে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের নামের সঙ্গে মিল রেখেই তাঁকে এই নামে ডাকতেন অনেকে।
গুরুতর আহত পুলিশ সদস্য আবুল কালামকে আহত অবস্থায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।