<p>আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাভাষীদের ড্রাইভিং থিওরি পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ করতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে ‘আইরিশ রোড রুলস’ বই। একই নামে চালু হয়েছে একটি মোবাইল অ্যাপ। বই ও অ্যাপের মাধ্যমে ইংরেজি প্রশ্নের অর্থ বাংলায় বুঝে আইরিশ সড়ক আইন, ট্রাফিক সাইন এবং সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে শেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বইটি লিখেছেন ও অ্যাপ তৈরি করেছেন আয়ারল্যান্ডপ্রবাসী লেখক সাদিয়া ইসলাম ইরা। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইরা টেক লিমিটেডের উদ্যোগে তৈরি আইরিশ রোড রুলস অ্যাপটি আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।</p><p>আয়ারল্যান্ডে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ায় থিওরি বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে অনেক বাংলাভাষীকে ইংরেজি প্রশ্নের অর্থ বোঝা, সড়কসংক্রান্ত পরিভাষা শেখা এবং বিভিন্ন ট্রাফিক নিয়ম আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও ইংরেজিতে তুলনামূলক কম দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য বিষয়গুলো বুঝে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হতে পারে।</p><p>এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বই ও অ্যাপটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীদের ইংরেজি প্রশ্নের অর্থ বাংলায় বুঝতে সাহায্য করা, যাতে তাঁরা শুধু উত্তর মুখস্থ না করে সড়ক আইন ও ট্রাফিক নিয়মের বিষয়বস্তুও বুঝে শিখতে পারেন। বই ও অ্যাপে ট্রাফিক সাইন, রোড মার্কিং, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কের নিয়মকানুন সম্পর্কে শেখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় পাঠকেরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী শেখার মাধ্যম বেছে নিতে পারবেন।</p><p><a href="https://apps.apple.com/us/app/irish-road-rules/id6807400720" target="_blank" rel="nofollow">অ্যাপটি অ্যাপল অ্যাপ স্টোর</a> ও <a href="https://play.google.com/store/apps/details?id=com.eratechltd.irishroadrules" target="_blank" rel="nofollow">গুগল প্লে স্টোরে</a> পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাপটির এককালীন মূল্য ২৪.৯৯ ইউরো।</p><p>বই ও অ্যাপের মাধ্যমে একই বিষয়ে শেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবহারকারীরা মুদ্রিত বই পড়ার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এর ফলে শেখার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও সুবিধাজনক হতে পারে।</p><p>তবে ড্রাইভিং থিওরি পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বই ও অ্যাপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুসরণ করা প্রয়োজন।</p>
<p>সুস্থ ও সতেজ ত্বকের জন্য অনেক উপকরণের দরকার নেই। শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরজুড়েই মূলত চারটি প্রাথমিক ধাপ, অর্থাৎ ‘সি-টি-এম-এল’ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/0fxoowtj/KBRH1507.JPG"><figcaption>শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরজুড়েই মূলত চারটি প্রাথমিক ধাপ, অর্থাৎ ‘সি-টি-এম-এল’ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট</figcaption></figure><p>ত্বকের টানই জানান দিচ্ছে শীত আসছে। সিরাম, অ্যাম্পুল, পেট্রোলিয়াম জেলি, ভারী ময়েশ্চারাইজার, জলপাই তেল বা বাদাম তেল ব্যবহার করে যেভাবে হোক রুক্ষতা থেকে ত্বককে বাঁচাতে হবে। </p><p>তবে একগাদা পণ্য নয়, আজকাল রূপচর্চার দুনিয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ‘স্কিনিমালিজম’ বা পরিমিত রূপচর্চা। অতিরিক্ত উপকরণের ভিড়ে না গিয়ে খুব কম সামগ্রীতে ত্বকের মৌলিক চাহিদা মেটানোই এ ধারার মূল ধারণা।</p><p>কিন্তু কনকনে শীতে এত কম পণ্যে ত্বকের যত্ন নেওয়া কি আদৌ সম্ভব? </p><p>বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি জানান, স্কিনিমালিজম কোনো সাময়িক ট্রেন্ড নয়; এটি ত্বকের একটি সর্বজনীন ও স্বাস্থ্যকর প্রস্তুতি। </p><p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চটকদার প্রচারণায় অনেকেই আজকাল ৮ থেকে ১০ ধাপের জটিল রূপচর্চায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ সুস্থ ও সতেজ ত্বকের জন্য এত উপকরণের দরকার নেই। </p><p>শীত হোক বা গ্রীষ্ম, বছরজুড়েই মূলত চারটি প্রাথমিক ধাপ, অর্থাৎ ‘সি-টি-এম-এল’ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট। </p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/x26gk1c0gz">শীত আসছে, চাই ত্বকের যত্ন</a></aside><h3>চার ধাপের প্রস্তুতি </h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/nk5buase/KBRH0932.JPG"><figcaption>ত্বকের যত্ন এখন থেকে নিলে শীতেও ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত</figcaption></figure><p>সি-টি-এম-এল পদ্ধতির ধাপগুলো হলো—</p><p><strong>সি (ক্লিনজিং বা পরিষ্কার করা):</strong> সুস্থ ত্বকের প্রথম শর্তই হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। শীতে ত্বকে ধুলাবালু ও মরা চামড়া জমে বেশি। এ সময় ফোম ক্লিনজারের চেয়ে তেলভিত্তিক ক্লিনজার ভালো কাজ করে। সম্ভব হলে ‘ডাবল ক্লিনজিং’ বেছে নেওয়া যায়। প্রথমে তেলভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে মালিশ করে ময়লা আলগা করে নিয়ে পরে জেল বা পানিভিত্তিক ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।</p><p> <strong>টি (টোনিং):</strong> মুখ ধোয়ার পরপরই সরাসরি ময়েশ্চারাইজার লাগানো উচিত নয়। পরিষ্কারের সময় মৃদু ঘষাঘষিতে ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করতে, ত্বককে কোমল ও টান টান রাখতে প্রয়োজন টোনার। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় পানিভিত্তিক টোনারই সবচেয়ে মানানসই বলে জানান শারমিন কচি। </p><p><strong>এম (ময়েশ্চারাইজিং):</strong> টোনার ব্যবহারের পর ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার দিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে। </p><p><strong>এল (লিপ কেয়ার বা ঠোঁটের যত্ন):</strong> মুখের মতো ঠোঁটের পাতলা ত্বকও সরাসরি বাইরের শুষ্ক আবহাওয়ার সংস্পর্শে থাকে। ফলে শীতে ঠোঁট দ্রুত আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং ফেটে যায়। তাই নিয়মিত লিপবাম বা লিপজেল ব্যবহার স্কিনিমালিজমের এক আবশ্যকীয় অংশ। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/b72t2kkg/KBRH1230.JPG"><figcaption>ত্বকের যত্নে অনেক পণ্য ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নেই</figcaption></figure><h3>ত্বকভেদে ভিন্ন ভিন্ন উপকরণ </h3><p>তবে স্কিনিমালিজমেও ত্বকের নিজস্ব ধরন অনুযায়ী সঠিক উপকরণ বাছাই করা জরুরি বলে জানান রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি।</p><p><strong>তৈলাক্ত ও সংবেদনশীল ত্বক:</strong> তৈলাক্ত ত্বকে ভারী বা তেলযুক্ত ক্রিম রোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের উপদ্রব বাড়াতে পারে। তাই হালকা পানিভিত্তিক জেল বেছে নেওয়া ভালো। ত্বকে ব্রণ বা মেছতা থাকলে সানস্ক্রিন লাগানো অত্যাবশ্যক। তেলবিহীন অথবা পাউডার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা তাই সবচেয়ে নিরাপদ।</p><p><strong>শুষ্ক ত্বক:</strong> শীতে শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। এ ধরনের ত্বকেরই তাই শীতকালে বেশি যত্নের প্রয়োজন পড়ে। শুষ্ক ত্বকের সুরক্ষায় পুষ্টিকর উপাদানসমৃদ্ধ তেলভিত্তিক বা ক্রিমভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। </p><p><strong>মিশ্র ত্বক:</strong> মিশ্র ত্বকে খুব বেশি ভারী প্রসাধনী এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। হালকা, পানিপ্রধান ফর্মুলার ময়েশ্চারাইজার দিয়ে তেল ও আর্দ্রতার সমতা রক্ষা করলেই মিশ্র ত্বক থাকে সতেজ ও লাবণ্যময়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/beauty/tfcxqvgt3e">কোরিয়ান গ্লাস স্কিন কী? বাড়িতে ত্বকের যত্ন নিয়ে কি তা পাওয়া সম্ভব?</a></aside><h3>শীতেও সানস্ক্রিন </h3><p>শীতের মিষ্টি রোদে অনেকেই সানস্ক্রিন মাখার কথা ভুলে যান। তবে রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, সানস্ক্রিন কোনো ঋতুভিত্তিক প্রসাধনী নয়। বাইরে কড়া রোদ না থাকলেও ত্বকে রোদ ও আলোর প্রভাব পড়ে। </p><p>এমনকি দীর্ঘক্ষণ রান্নাঘরের চুলার তাপে থাকলেও ত্বকে মেছতা ও কালচে ছোপ পড়তে পারে। তাই ভৌগোলিক অবস্থান ও রোদের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে শীতের দিনেও এসপিএফ ৩০+ থেকে ৫০+ মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-26/iu1lnj18/KBRH0892.JPG"><figcaption>শীতেও আবশ্যক সানস্ক্রিন</figcaption></figure><h3>আগে থেকেই প্রস্তুতি </h3><p>পুরোদমে শীত নামার পর তড়িঘড়ি না করে শীতের আগাম আভাস পেলেই যত্ন শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ, বলছিলেন শারমিন কচি। আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক হওয়ার আগে থেকেই যদি নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার, টোনিং ও আর্দ্রতা বজায় রাখা যায়, তবে ত্বকের গভীরে প্রয়োজনীয় জলীয় কণা সঞ্চিত থাকে। এতে তীব্র শীতেও ত্বক রুক্ষ বা খসখসে হয়ে পড়ে না। </p><p>অহেতুক প্রসাধনীর জটলায় ত্বককে ক্লান্ত না করে সঠিক নিয়মে অল্প কিছু উপকরণের নিয়মিত ব্যবহারে শীতেও ত্বক থাকবে স্বাভাবিক, কোমল ও লাবণ্যময়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/n6uo2ir48e">৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সে যেভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন</a></aside>
শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা বা পদমর্যাদা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যোগ্য কর্মকর্তাদের পেশাগত অগ্রগতি এবং শিক্ষা প্রশাসনের দক্ষতা ও জনবল ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন।
আজ সকাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট দেখা যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামীকাল প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
রাহুল লিখেছেন, ‘সরকার মেট্রো স্টেশন ও রাস্তা বন্ধ করে রাজধানীতে লকডাউন চালু করেছে। যখন সাধারণ মানুষের ভোট চুরি হয়, তখন কোনো কিছুই নিরাপদ থাকে না।’
জামায়াতের অভিযোগ, সমাবেশের মাত্র পাঁচ দিন আগে জেলা প্রশাসক আবার স্টেডিয়ামের প্রসঙ্গ তুলে নতুন করে জটিলতা তৈরি করছেন।
রোড শোতে তৈরি পোশাকের নতুন ক্রেতা খোঁজার পাশাপাশি যেসব ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কম কিনছে, তারা যাতে বেশি কেনে, সে চেষ্টা করা হবে, এমনটাই জানালেন বিজিএমইএর সভাপতি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”