হালকা সাজ, রঙিন পোশাক আর মিষ্টি হাসিতে তাঁর ছবিগুলোয় ধরা দিয়েছে বসন্ত ঋতুর আবেশ। বসন্তের এই সাজে তটিনীর কিছু মুহূর্ত।
<p>আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় যোগ্য সব আবেদনকারীর নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হবে। আজ শনিবার নদীয়া জেলায় একটি কালীপূজা প্যান্ডেলের উদ্বোধনে গিয়ে এই ঘোষণা দেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সিএএ বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করায় প্রায় আড়াই লাখ আবেদন এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।</p><p>বিজেপির অভিযোগ, সীমান্তবর্তী নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় কথিত বাংলাদেশ থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস রয়েছে।</p><p>শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেবল এই দুটি জেলাতেই প্রায় আড়াই লাখ আবেদন বিবেচনাধীন। তবে কোনো যোগ্য আবেদনকারী নাগরিকত্ব থেকে বাদ পড়বেন না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই তাঁদের হাতে নাগরিকত্ব সনদ তুলে দেওয়া হবে।</p><p>পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এ লক্ষ্যে তাঁর প্রশাসন ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকদের (ডিএম) প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসকেরা (এসডিও) মাঠপর্যায়ে সব আবেদন যাচাই এবং এ–সংক্রান্ত গণশুনানি তদারক করবেন।</p><p>২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতের পার্লামেন্টে সিএএ বিল পাস হয়। এতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হলেও মুসলিমদের রাখা হয়নি। এ আইন পাসের পর পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক বিক্ষোভ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল।</p><p>পরে ২০২৪ সালের ৬ মার্চ কেন্দ্র সরকার এ আইনের বিধিমালা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশের মাধ্যমে তা কার্যকর করে। বিশেষ করে নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে এই নাগরিকত্বের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।</p><p>২০২৬ সালের জুন মাসে বর্তমান প্রশাসন সিএএবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাগুলো আবার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং এ জন্য পুলিশের একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।</p>
<p>চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের (খাতা চ্যালেঞ্জ) জন্য আবেদন করেছেন ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী। তাঁরা মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র (বিষয়) পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন চেয়েছেন।</p><p>পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ ৭ নভেম্বর পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের শেষ সময় ছিল। তবে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান আজ রাতে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/examination/6xg2a4l10z">এইচএসসির ফলাফলে ২২ বছরে এত বড় অবনতি যেসব কারণে</a></aside><p>এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। এবার প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।<br>পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদনও করেছেন বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কর্তৃপক্ষ পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে। এ জন্যই সময় বাড়ানো হয়েছে, যাতে আগ্রহী কোনো শিক্ষার্থী বাদ না পড়ে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/39446qlmdh">এইচএসসিতে পাস কম, উচ্চশিক্ষায় খালি থাকবে ৮ লাখের বেশি আসন</a></aside><p>এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছিল। নতুন করে জিপিএ–৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী। আর ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৮৫ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। আর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের।<br>এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন মোট পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিল ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/examination/02mauylt2d">ফেল থেকে পাস ৪০৮৫, নতুন করে জিপিএ–৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থী</a></aside>
<p>রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জেমসের নগরবাউলসহ ৭ ব্যান্ডের কনসার্ট চলছে। কনসার্টটির আয়োজন করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিস্তারিত ভিডিওতে..</p><figure></figure>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/azff2hsm/IMG_20261015_140530_1792082466759edit_jpg.jpeg"><figcaption>রান্নার জ্বালানি জোগাতে গাছের ডালপালা থেকে খড়ি সংগ্রহ করছেন কৃষিশ্রমিক মারিয়া মর্মু। সম্প্রতি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ফুরকুটিডাংগা এলাকায়</figcaption></figure><p>সড়কের পাশের একটি আমগাছে উঠে ডাল কাটছিলেন রমেশ বাস্কী। বাগানমালিকের কাছ থেকে আগেই অনুমতি নেওয়া ছিল। নিচে দাঁড়িয়ে সেই ডালগুলো কেটে এক জায়গায় জড়ো করছিলেন তাঁর স্ত্রী মারিয়া মুর্মু। তাঁরা রান্নার লাকড়ি সংগ্রহ করছিলেন। একসময় তাঁরা যে মাঠে ধান রোপণ, কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, সেই মাঠের অনেকটাই এখন আমবাগান। ফলে কৃষিশ্রমিকের কাজ কমেছে। আমের মৌসুম শেষ হলে কাজের সন্ধানে অন্যের জমিতে ছুটতে হয়। সারা বছর কাজ মেলে না।</p><p> নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ফুরকুটিডাংগা গ্রামের বাসিন্দা মারিয়া (২৬) ও তাঁর স্বামী রমেশ (৩০) কৃষিশ্রমিক। তাঁরা সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ। বরেন্দ্র অঞ্চলের ধানখেতে বহু প্রজন্ম ধরে যাঁরা শ্রম দিয়ে আসছেন, তাঁদের বড় একটা অংশ সাঁওতালসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। মারিয়া ও রমেশের আবাদি জমি নেই, আছে শুধু বসতভিটা। দুই মেয়েকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার। বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর, ছোটটির মাত্র তিন মাস। মারিয়ার উপার্জন বন্ধ থাকলে স্বামীর একার আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।</p><p> সম্প্রতি ফুরকুটিডাংগায় কথা হয় এই দম্পতির সঙ্গে। সংসারের আয়-ব্যয়ের কথা বলতে গিয়ে মারিয়া বলেন, দিন যত যাচ্ছে, সংসার চালানো তত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগে দুজনের আয় দিয়ে কোনো রকমে চলে যেত। এখন তো এলাকায় কাজই নাই। তিন বেলা শাক-ভাত জোটানোর ব্যবস্থাও হয় না।</p><p>বিয়ের পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জাতাহার গ্রামের বাবার বাড়ি থেকে সাপাহারে আসেন মারিয়া। তখন আশপাশের মাঠে আমন ও বোরো ধানের চাষ হতো। কৃষিশ্রমিকেরা ধান রোপণ, কাটা ও মাড়াইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের আবাদেও কাজ পেতেন।</p><blockquote>মারিয়া ও রমেশের জীবনে কাজের নিশ্চয়তার চেয়ে অনিশ্চয়তাই বেশি। আমের মৌসুমে কিছু টাকা জমলেও তা দিয়ে সারা বছরের সংসার চালানো সম্ভব হয় না।</blockquote><p>মারিয়া বলেন, ‘যখন বিয়া হয়ে স্বামীর বাড়িত আসি, তখন গাঁয়ের আশপাশের মাঠত বর্ষালি ধান ও ইরি আবাদ হতো। তখন বছরের চার-পাঁচ মাস ধান লাগানো, কাটা-মাড়াইয়ের কাজ থাকত। আবার মাঠত সারা বছর অন্যান্য আবাদও হতো। কিন্তু দেখতে দেখতে এলাকার সব মাঠ আমবাগান হয়ে গেল। এখন আর মাঠত আবাদ তেমন নাই। লোকজন কামত নেয় না।’</p><h3>আমের মৌসুমেই আয়ের ভরসা</h3><p>এখন মারিয়া আম পাড়ার মৌসুমে এক-দুই মাস কাজ পান। সব মিলিয়ে ৪০ থেকে ৫০ দিন। দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। সে হিসাবে আমের মৌসুমে আয় হয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অথচ আগে ধানের আবাদের সময় চার-পাঁচ মাসের কৃষিকাজ থেকে আয় হতো প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা।</p><p>আম পাড়ার কাজ শেষ হলে উপার্জনের পথ সংকুচিত হয়ে আসে। তখন অন্যের ধানখেতে রোপণ, কাটা বা মাড়াইয়ের কাজ খোঁজেন। কিন্তু ধানের আবাদ কমে যাওয়ায় সেই কাজও আগের মতো মেলে না। তিন মাসের শিশুকে সামলে কাজ করা আরেক চ্যালেঞ্জ। সন্তান রেখে দূরে গিয়ে কাজের সুযোগ নেই, আবার কাজ না করলে সংসার চলে না। তাই স্থানীয়ভাবে কাজের অপেক্ষায় থাকতে হয় তাঁকে।</p><h3>ধানখেতের জায়গায় আমবাগান</h3><p>স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় সাপাহার ও পোরশা উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে ধানসহ নানা ফসলের চাষ হতো, শ্রমিকেরা কাজ পেতেন। দিনে দিনে অনেক জমিতে আমবাগান গড়ে উঠেছে। তাঁদের হিসাবে, দুই উপজেলার ফসলি মাঠের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ এখন আমবাগান। কৃষি বিভাগের চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলের হিসাবে, সাপাহার ও পোরশায় আমবাগান আছে প্রায় ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে, পুরো জেলায় ৩০ হাজার ৬০০ হেক্টরে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/7qd9cnxq/omor-FarukeNaoga.jpeg"><figcaption>ওমর ফারুক, প্রথম আলোর নওগাঁ প্রতিনিধি</figcaption></figure><p>রমেশ বাস্কী বলেন, আমবাগানের শুরুতে পরিচর্যা আর সেচে শ্রমিক লাগে। গাছ বড় হলে কাজ কমে আসে; থাকে শুধু মুকুলের আগে-পরে কীটনাশক দেওয়া, গোড়ায় সার আর সেচের মতো কিছু কাজ। অথচ ধানের আবাদে জমি তৈরি থেকে মাড়াই পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শ্রমিক লাগে। তাঁর হিসাবে, জমির ব্যবহার বদলে যাওয়ায় কৃষিশ্রমিকদের কাজ বছরে কয়েক মাস কমে গেছে।</p><h3>কাজের খোঁজে দূরের জেলায়</h3><p>নিজের এলাকায় কাজ না পেলে রমেশকে জীবিকার সন্ধানে দূরে যেতে হয়। কখনো রাজশাহী গিয়ে পানের বরজে কাজ করেন, কখনো পঞ্চগড়ে পাথর তোলার কাজে যান। এসব কাজের সুযোগ কখন আসবে, কত দিন চলবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না। তাঁর দৈনিক মজুরি প্রায় ৬০০ টাকা। তবে প্রতিদিন কাজ না মেলে না।</p><blockquote>ফলের বাগান বেড়েছে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষিশ্রমিকদের সারা বছরের কাজের নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। তাই আমের মৌসুম শেষ হলেই মারিয়ার সামনে নতুন করে শুরু হয় কাজের সন্ধান।</blockquote><p>মারিয়া ও রমেশের জীবনে কাজের নিশ্চয়তার চেয়ে অনিশ্চয়তাই বেশি। আমের মৌসুমে কিছু টাকা জমলেও তা দিয়ে সারা বছরের সংসার চালানো সম্ভব হয় না। অন্যদিকে কৃষিকাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় বিকল্প কাজের সন্ধানে তাঁদের ছুটতে হচ্ছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়।</p><p>নিজেদের আবাদি জমি নেই, স্থায়ী কর্মসংস্থানও নেই। অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করেই চলে এই দম্পতির সংসার। ফলের বাগান বেড়েছে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষিশ্রমিকদের সারা বছরের কাজের নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। তাই আমের মৌসুম শেষ হলেই মারিয়ার সামনে নতুন করে শুরু হয় কাজের সন্ধান।</p><h3>সোহরাই আর কারামের অপেক্ষা</h3><p>এত অনিশ্চয়তার মধ্যে আনন্দ কোথায় খুঁজে পান? মারিয়া বলেন, ‘সৎভাবে পরিশ্রম করে উপার্জন করে স্বামী-সন্তানের মুখেত দুবেলা খাবার জোটলেই হামরা অনেক খুশি। এর বাইরে বছরের বিভিন্ন সময় হামাগের পালাপার্বণে সবাই মিলে আনন্দ করি। বিশেষ করে অগ্রহায়ণ মাসে সোহরাই আর ভাদ্র মাসে ডালপূজা বা কারামপূজার সময় অনেক আনন্দ হয়। এই দুইটা উৎসবের জন্য হামাগের সম্প্রদায়ের মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করে।’ সোহরাই সাঁওতালদের ফসল কাটার উৎসব।</p><p>বড় মেয়ে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। দুই মেয়েকেই লেখাপড়া করাতে চান মারিয়া। তিনি বলেন, ‘হামাগের বাপ-দাদা, মা-চাচিরা অন্যের জমিত কৃষিকাজ করে খাইছে। এখন হামরাও সেটাই করোছি। এসব কাজ করে তো উন্নতি হছে না। সামর্থ্য থাকলে মেয়ে দুটাক লেখাপড়া করাতে চাই। লেখাপড়া করাতে পারলে ওরা হয়তো চাকরি-বাকরি করে নিজের জীবনে উন্নতি করতে পারবে।’</p>
<figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-07/l8dmdpom/Mamunul-Haq.jpeg"><figcaption>বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন। পুরানা পল্টন, ঢাকা। ৭ নভেম্বর ২০২৬</figcaption></figure><p>স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিরোধী জোটের দলগুলো আলাদা আলাদা প্রার্থী দিলে ১১ দলীয় ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দলগুলো আলাদা আলাদা প্রার্থী দিলে ঐক্যে দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে বিভেদ দেখা দিতে পারে।</p><p>আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক এসব কথা বলেন।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে মামুনুল হক বলেন, আন্দোলনে ঐক্যের স্বার্থেই নির্বাচনী সমঝোতা প্রয়োজন। এর জন্য বড় দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। সমঝোতা না হলে ব্যর্থতার দায়ও তাদের নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন মামুনুল হক। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদুল আলম সিদ্দিক। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে দলটির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক।</p><p>মামুনুল হক আরও বলেন, সারা দেশে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র, চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে দলের প্রার্থী বাছাইপ্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যদি সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়, সে ক্ষেত্রে আলোচনার দরজা খোলা রাখা হবে বলেও জানান তিনি।</p><p>সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ ও রেজাউল করিম, যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন ও আতাউল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক ও মো. ফয়সাল প্রমুখ।</p>
<p>প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা পরাজিত হয়েছে তারা আবার মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া দিনের গুরুত্বপূর্ণ খবর শুনুন অডিও সংবাদে।</p><figure></figure>
<figure>https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/kuriye-pawa-takar-maliker-khonnje-maiking-tekstail-srmiker</figure>
<p>কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বসতবাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে আতাউল মালিথা (৫৬) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা দুইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ডাংমড়কা মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।</p><p>নিহত আতাউল মালিথা ওই গ্রামের মৃত রাহাতুল্লাহ মালিথার ছোট ছেলে।</p><p>পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতবাড়ির জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ দুপুরে আতাউলের বসতবাড়ির পেছনে এ নিয়ে বড় ভাই তোফাজ্জেল মালিথার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে তোফাজ্জেল দা দিয়ে আতাউলের মাথায় কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।</p><p>পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা আতাউলকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সেখানে তিনি মারা যান।</p><p>দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই গুরুতর আহত হন। পরে কুষ্টিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। থানায় হত্যা মামলা নেওয়া হচ্ছে।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।
অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে।