বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
সভায় জানানো হয়, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরাসরি নিয়োগযোগ্য ১৬টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন করার কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ১৫৫টি পদে সরাসরি নিয়োগের প্রক্রিয়া সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিনোদনজগতে।
ঢাকার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পুলিশের প্রায় ৫০ সদস্য আহত হয়েছেন।
গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধানের আংশিক সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক...
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক...
জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর কাছে এবারের পূজার ছুটির সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল স্কুলজীবনের বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়া।
সকাল ৫টায় শুরু হওয়া এই পরিশ্রম শেষ হয় রাত ১১টায়। দিন শেষে মজুরি পান ৪০০ টাকা।
২৫ অক্টোবর রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীকে কল করে ভাইকে জীবিত ফেরত দিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব যানবাহনের জন্য নির্ধারিত ছয় ঘণ্টা টোল-ফ্রি সুবিধা কার্যকর থাকবে।
<p>ইসরায়েলে ২০১৫ সালের মার্চে ভোটের দিন ২৮ সেকেন্ডের একটি বিতর্কিত ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, আরব নাগরিকেরা ‘দলে দলে’ ভোট দিতে যাচ্ছেন। ডানপন্থী ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।</p><p> এর এক সপ্তাহ পর নেতানিয়াহু ক্ষমা চান, যদিও নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল করে সেবার তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। নেতানিয়াহু ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন, আরব জনগোষ্ঠীকে সামগ্রিকভাবে আঘাত করার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না।</p><p> ১১ বছর ও ছয়টি নির্বাচনের পর আবারও একই কৌশল নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু, এবার অনেক বড় পরিসরে। কিন্তু এবার তিনি আগেরবারের মতো সফল হতে পারেননি।</p><p> গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন দেশটির ক্ষমতাসীন জোট।</p><p> সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর থেকে নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা ভোট নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, ঘুষ, বিদেশি অর্থায়ন ও জালিয়াতির মাধ্যমে আরব দলগুলো নির্বাচন ‘চুরি করে নিজেদের পক্ষে নিয়েছে’।</p><p>কট্টর ইহুদি ডানপন্থী দলগুলো এ ঘটনায় তদন্ত ও গ্রেপ্তার দাবি করেছেন। এমনকি কট্টরপন্থীদের কেউ কেউ নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোট আয়োজনের দাবিও তুলেছেন।</p><p>যদিও নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা এখন পর্যন্ত তাদের ‘ভোট চুরির’ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট—আরবদের দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম–এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা।</p><p>আরব এই দুটি দল এবার রেকর্ডসংখ্যক আসনে জিতেছে। ইসরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টায় দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।</p><p>আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্র জোটের ‘ভোট চুরির’ অভিযোগের বিষয়ে বিরোধী জোটের প্রধান গাদি আইজেনকট বলেছেন, তারা নির্বাচনে হেরে গেছে বলেই এসব করছে।</p><blockquote>নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা এখন পর্যন্ত তাদের ‘ভোট চুরির’ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট—আরবদের দুই দল জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম–এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। দল দুটি এবার রেকর্ডসংখ্যক আসনে জিতেছে।</blockquote><p>গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় আইজেনকট এ কথা বলেন। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী জোট ৪৮টি আসনে জিতেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ৫৩টি আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী ক্ষমতাসীন জোট।</p><p>ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন। তাই সরকার বা বিরোধী কোনো জোটই আদতে এই নির্বাচনে হারেনি বা জেতেনি। জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম মিলে ১৯টি আসন পেয়েছে। সরকার বা বিরোধী যেকোনো জোটকেই নিজেদের মতো করে সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন লাগবে।</p><p>আগামীকাল ৪ নভেম্বর ইসরায়েলে সরকারিভাবে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। কিন্তু খুব শিগগির যে নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না, তা মোটামুটি নিশ্চিত। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য দেশটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে চলেছে, যা কয়েক মাসে গড়াতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/ww4a2d2qre">ইসরায়েলের রাস্তায় হাজারো মানুষ, ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবি</a></aside><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/mf2cwtmx/netaniahu.jpg"><figcaption>ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির নির্বাচনী সদর দপ্তরে বক্তব্য দিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও দলটির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সময় তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন একজন সহকারী। ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ </figcaption></figure><p>প্রায় ১৯ বছর ধরে ইসরায়েলের ক্ষমতায় রয়েছেন নেতানিয়াহু। মাঝে একটিমাত্র সরকার নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছিল—২০২১ সালে গঠিত নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের সরকার। ওই জোট সরকারে রাআম দলও ছিল। কিন্তু এক বছর পরই ওই সরকার ভেঙে যায়।</p><p>নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের পর তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলো ইহুদি ও আরবদের মধ্যে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতাকে অবৈধ হিসেবে তুলে ধরা এবং তা ঠেকানো। এমন সহযোগিতা তাঁর ক্ষমতার ভিত দুর্বল করে দিতে পারে।</p><p>তাই ভোটের দিন নয়, বরং আরব দলগুলোকে ঠেকানোর প্রচেষ্টা আরও আগে থেকেই শুরু করেছিলেন নেতানিয়াহু।</p><p>অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে নেতানিয়াহু ও রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান বেজালেল স্মোট্রিচ আরব অধ্যুষিত এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২ হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তাঁরা এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন, যেন আরবদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে জালিয়াতির আশঙ্কা রয়েছে।</p><aside><cite>গাদি আইজেনকট, বিরোধী জেটের প্রধান নেতা</cite>তারা (নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন জোট) নির্বাচনে হেরে গেছে বলেই এসব করছে।</aside><p>নির্বাচনের দিন সকালে ভোটের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার অভিযোগে রাআমের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।</p><p>পরে ইসরায়েলের চ্যানেল১২ নিউজ জানায়, গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের কাছে প্রথম তথ্য দিয়েছিলেন নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ। তিনি নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।</p><p>অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপে পুলিশের বেশির ভাগ আবেদন আদালত নাকচ করে দেন। গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনকে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারশিবির ঘটনাটিকে কাজে লাগায়।</p><blockquote>ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য ৬১টি আসন প্রয়োজন। তাই সরকার বা বিরোধী কোনো জোটই আদতে এই নির্বাচনে হারেনি বা জেতেনি। জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম মিলে ১৯টি আসন পেয়েছে। সরকার বা বিরোধী যেকোনো জোটকেই নিজেদের মতো করে সরকার গঠন করতে হলে আরব দলগুলোর সমর্থন লাগবে। </blockquote><p>গ্রেপ্তারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করে নেতানিয়াহুর জোট দাবি করে, নির্বাচনে ‘চুরি করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার’ চেষ্টা চলছে।</p><p>ভোট গণনার সময়ও এই প্রচার চলতে থাকে, বরং আরও জোরদার হয়। বুধবার নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি জানায়, রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের বিরুদ্ধে ঘুষ, হুমকি, সহিংসতা ও জালিয়াতির অভিযোগসংবলিত শত শত সাক্ষ্যপ্রমাণ তারা জমা দিয়েছে।</p><p>অন্যদিকে নেতানিয়াহুপন্থী চ্যানেল১৪ জানায়, বিদেশি কোনো একটি সূত্র থেকে কয়েক লাখ নয়, কয়েক কোটি শেকেল আসার বিষয়ে সন্দেহ করা হচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/middle-east/tjekrkdzag">ইহুদি-আরব জোট সরকার গঠনের পক্ষে ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি</a></aside><p>এরপর ফাঁস হয় একটি চিঠি।</p><p>কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের উপপ্রধান বিচারপতি নোয়াম সলবার্গ দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে বিদেশি অর্থায়নের ‘গুরুতর সন্দেহের’ বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়।</p><p>পরে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানায়, এর আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর জিনি নিজেই ওই চিঠি লেখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।</p><aside><cite>নোয়াম সলবার্গ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান</cite>ভোটের মাধ্যমে আপনারা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তার সম্মান জানানো হবে।</aside><p>সলবার্গ চিঠিতে লিখেছিলেন, অভিযোগের পক্ষে থাকা তথ্যপ্রমাণ কতটা গুরুতর, তা তিনি যাচাই করতে পারেননি।</p><p>তবে লিকুদ ও অন্যান্য ডানপন্থী রাজনীতিকদের কাছে বিষয়টি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তাঁরা চিঠিটিকেই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন।</p><p>গত রোববার নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান শিন বেতের প্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এক বিশেষ বিবৃতিতে হাজির হন। সেখানে তাঁরা বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের সত্যতা মিললেও তা নির্বাচনের ফল পাল্টে দেবে না বা পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করবে না।</p><p>সলবার্গ বলেন, ‘ভোটের মাধ্যমে আপনারা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তার সম্মান জানানো হবে।’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/world/asia/nl3agybg94">পার্লামেন্টে প্রথম দিনই স্পিকারকে হটাতে একমত আরব দলসহ নেতানিয়াহু বিরোধীরা</a></aside>
এসব মামলায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে শিগগিরই আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
<p>প্রথম আলোর শুরু থেকেই ‘নকশা’র সঙ্গে যুক্ত <strong>কানিজ আলমাস খান</strong>। নিজের কাজে দীর্ঘ পথচলায় দেখেছেন সৌন্দর্যচর্চার বদলে যাওয়া ধারা, মানুষের রুচি ও পছন্দের পরিবর্তন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন <strong>রয়া মুনতাসীর</strong></p><p>আপনি যখন কাজ শুরু করেছিলেন, সেই সময়ের সঙ্গে সৌন্দর্যসেবায় এখনকার গ্রাহকদের চাহিদার কী পরিবর্তন দেখছেন? </p><p>এখন আমরা অনেক বেশি যন্ত্র ব্যবহার করি। সেবাগুলোয় যেখানে সম্ভব, সেখানেই নানা ধরনের যন্ত্র ও প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। মেকআপে এখন এয়ারব্রাশ ব্যবহার করা হয়। ত্বকের যত্নেও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে। পণ্যের পরিবর্তন এসেছে, সেবার ধরন বদলেছে, নতুন নতুন সেবাও যুক্ত হয়েছে।</p><p>তবে আমার মনে হয়, যে কাজটি করছেন, সেটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা জরুরি। আন্তরিকতার সঙ্গে যদি আরও একটু পেশাদারত্ব ও ভালোবাসা যুক্ত হয়, তাহলে সেবার মানও বাড়বে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/4pxtaeiplg">জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কিসের আশঙ্কা</a></aside><p>এখন তো অনলাইন থেকে সৌন্দর্যচর্চার নানা পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন? </p><p>অনেক সময় দেখা যায়, চুলের কোনো তেল বা পণ্য সম্পর্কে বলা হচ্ছে, ১০ দিন, ১৫ দিন কিংবা এক মাস ব্যবহার করলেই মাথায় নতুন চুল গজাবে। বাস্তবে এগুলো সম্ভব নয়। এসব পণ্যের বিষয়ে আরও নজরদারি থাকা প্রয়োজন।</p><p>অনলাইনে প্রশিক্ষণমূলক ভিডিও, বিভিন্ন কৌশল ও পরামর্শ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। তবে সবকিছু অন্ধভাবে অনুসরণ করা ঠিক নয়। বেশির ভাগ সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞ যখন কোনো টিউটোরিয়াল দেখান, তখন তাঁরা নিজেদের পছন্দের পণ্য ব্যবহার করেন এবং সেই পণ্যের ভিত্তিতেই ভালো-মন্দের কথা বলেন। সেখান থেকে তাঁদের কৌশল ও কাজের ধরন শেখা যেতে পারে। কিন্তু পণ্যের ক্ষেত্রে নিজের বিবেচনাবোধ কাজে লাগাতে হবে।</p><p>আপনি একসময় নিয়মিত কনেদের সাজাতেন। তখনকার কনে আর এখনকার কনেদের সাজে কী পরিবর্তন দেখছেন? </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/ux00d26l/KBRH3772.JPG"><figcaption>সাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে</figcaption></figure><p>আমরা যখন কাজ শুরু করেছিলাম, তখন ক্লায়েন্টদের চাহিদা ছিল একটু উজ্জ্বল বা বেশি ফুটিয়ে তোলা সাজ। অনেক সময় সাজ শেষ হওয়ার পর মনে হতো, কিছুটা বেশি করে ফেলা হয়েছে। অবশ্য তখনো বিভিন্ন ধরনের ক্লায়েন্ট ছিলেন। কেউ খুব স্বাভাবিক সাজ পছন্দ করতেন, সেখানে সামান্য কিছু বিষয় ফুটিয়ে তুলতে চাইতেন। কেউ মাঝামাঝি ধরনের সাজ চাইতেন।</p><p>এখন সবাই স্বাভাবিক সাজ পছন্দ করেন। আমার মনে হয়, সৌন্দর্য সম্পর্কে মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হয়েছেন। অতিরিক্ত মেকআপ করলে নিজের স্বাভাবিক চেহারাটাই হারিয়ে যেতে পারে—এই বিষয় মানুষ এখন বুঝতে পারছেন।</p><p>স্বাভাবিক সাজ মানে কিন্তু মেকআপের কোনো ধাপ বাদ দেওয়া নয়। সব ধাপই অনুসরণ করা হয়, তবে প্রতিটি ধাপে পণ্যের ব্যবহার থাকে পরিমিত। এখন এমন অনেক পণ্য আছে, যেগুলো পাতলা করে বা প্রয়োজন অনুযায়ী মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। ফলে ত্বকের ওপর খুব পাতলা একটি প্রলেপ তৈরি করা সম্ভব। এসব সুবিধার কারণেও সাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। সব মিলিয়ে কাজের ধরন ও কনের চাহিদা—দুই ক্ষেত্রেই অনেক পরিবর্তন হয়েছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/recipe/oke484qsyz">ছিল ঘিয়ের ব্যবসা, এখন তৈরি করে ১৮৫ রকম মিষ্টি, চার প্রজন্মের গল্পে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার</a></aside><p>আগের প্রজন্মের সঙ্গে জেনারেশন জেডের সৌন্দর্যচর্চার কী পার্থক্য চোখে পড়ে? </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/emkg820u/KBRH3802.JPG"><figcaption>মডেল মৃদুলাকে সাজিয়েছেন কানিজ আলমাস খান </figcaption></figure><p>এখনকার তরুণীরা সাজ একটু কম করেন, কিন্তু ত্বকের যত্নের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। আগে অনেক মেয়েকেই দেখেছি, ঠিকমতো সানস্ক্রিন ব্যবহার করতেন না। বাইরে থেকে বাসায় ফিরে রাতে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার বা টোনার ব্যবহারের অভ্যাসও সবার ছিল না।</p><p>এখন দেখি, তাঁরা সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন। চোখে আইলাইনার, ঠোঁটে লিপস্টিক ও ব্লাশঅন পছন্দ করছেন।</p><p>সবাইকে নিয়ে তো বলতে পারব না, তবে বেশির ভাগকেই দেখি ত্বক পরিষ্কার করে টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার করছেন। চুল ভালোভাবে আঁচড়ে, বেঁধে ঘুমাতে যাচ্ছেন। এখনকার মেয়েরা অনেক বেশি বুঝেশুনে সৌন্দর্যচর্চা করছেন।</p><p>পণ্যের ক্ষেত্রেও একটা পরিবর্তন দেখছি। আগে হয়তো একটি তরুণীর পক্ষে টোনার, ময়েশ্চারাইজার বা মুখ পরিষ্কারের পণ্য—সবকিছু কেনা সম্ভব হতো না। এখন অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরাও সন্তানদের এসব পণ্য কিনতে সাহায্য করছেন। বাবা-মায়েরাও চান, শুরু থেকেই সন্তানের ত্বক ভালো থাকুক। তাই তাঁরা ত্বকের যত্নের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন।</p><p>পারসোনায় অনেক তারকা সাজসজ্জা করেছেন। তাদের সাজানোর সময় কোনো চাপ অনুভব করতেন? </p><p>তারকাদের সাজানোর সময় সব সময় তাঁদের পরিচিত চেহারা বা লুক থেকে একটু বের করে আনতে চাইতাম। প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব ইমেজ থাকে। মানুষ তাঁদের একেকভাবে দেখেন। কারও পোশাক, সাজ, চুলের ধরন কিংবা মেকআপের মধ্য দিয়ে একটি নির্দিষ্ট পরিচিতি তৈরি হয়। আমি চেষ্টা করতাম, সেই পরিচিত লুকের বাইরে গিয়ে কীভাবে তাঁকে একটু অন্যভাবে উপস্থাপন করা যায়।</p><p>সে জন্য কখনো চোখের ভ্রুর আকারে, চোখের মেকআপে পরিবর্তন করার চেষ্টা করতাম, ঠোঁটের সাজ বদলাতাম। কনট্যুরিংয়ের মাধ্যমেও চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতাম। কারও মুখ গোল হলে কনট্যুরিং দিয়ে একটু ধারালো বা শার্প লুক আনার চেষ্টা করতাম। চুলের সাজও বদলাতাম। কারণ, হেয়ারস্টাইলের ওপর পুরো চেহারার অনেক কিছু নির্ভর করে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই করে সাজের পরিবর্তন তো করতেই হতো। তবে সব সময় মাথায় থাকত, তাঁর পরিচিত লুক থেকে কীভাবে একটু ভিন্ন কিছু করা যায়।</p><p>প্রথম আলো ও মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমরা সঙ্গে থেকেছি। পুরস্কারের মঞ্চে তারকাদের সাজ, পোশাক, চুলের ধরন—সবকিছুতেই একটু ভিন্নতা আনার সুযোগ থাকত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/ku302hqsu4">শীতলক্ষ্যা থেকে গভীর রাতে ডাঙায় উঠে আসত যে রহস্যময় মাছ</a></aside><p>প্রথম আলোর শুরু থেকেই নকশার সঙ্গে আপনার কাজের সম্পর্ক। এত বছর ধরে এই পথচলাকে কীভাবে দেখেন? </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-03/0lloqfau/KBRH3516.JPG"><figcaption>রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান</figcaption></figure><p>প্রথম আলোর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আমার কাজও শুরু হয়েছিল। এক-দুটি বাদে প্রায় সব নকশাতেই তখন কাজ করেছি। মাসে চারটি নকশা হলে হয়তো দুটিতে থাকতাম, কখনো তিনটিতে। আবার বিশেষ কোনো আয়োজন থাকলে চারটিতেই কাজ করা হয়েছে।</p><p>নকশার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অনেকটা নিজের কাজের মতো। ক্যানভাস–এর কাজ যেমন আমি নিজের কাজ মনে করে করি, নকশার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনই অনুভব করেছি। মনে হতো, এটা আমারই কাজ। মঙ্গলবারের নকশায় আমার কাজ আছে, সেটা আমাকে করতেই হবে। অনেক সময় সেভাবেই প্রস্তুতি রাখতাম। অন্য কাজ থাকলে বলতাম, ওই দিন আমার জন্য রেখো না, নকশার কাজ আছে।</p><p>নকশা আমার পরিচিতি বাড়িয়েছে, পাঠকদের কাছে, যাঁরা আমাকে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। নকশার মাধ্যমে আমি সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। এ জন্য আমি সব সময় কৃতজ্ঞ। এমন একটি পত্রিকার সঙ্গে এত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারাটাও অনেক বড় ব্যাপার। এখনো মনে হয়, নকশা আমাকে ভালোবাসে। এত বছর পরও তারা আমাকে দূরে সরিয়ে দেয়নি।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/3qo9tj6mve">একটু একটু করে চমৎকার এই খামারবাড়ি গড়ে তুলেছে কানিজ আলমাস খানের পরিবার</a></aside>
বিচারপতিরা বলেছেন, হাইকোর্টের নির্দেশেই ওই আতশবাজিবিরোধী প্রচারাভিযান চালানো হয়েছিল। অথচ দিয়া মির্জার ভিডিও বার্তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আ.লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে ভয় দেখাতেন ‘সমন্বয়ক’
<p>যুক্তরাষ্ট্রের পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী সংবাদমাধ্যম <em>ইনসাইড ক্লাইমেট নিউজ</em>-এ এ বছর ইন্টার্নশিপের জন্য দুটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলাম। আমার প্রথম সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মাইকেল কোডাস। তিনি পুলিৎজার জয়ী সাংবাদিক দলের সদস্য। দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন ইনসাইড ক্লাইমেট নিউজ এর নির্বাহী সম্পাদক ভার্নন লোয়েব। </p><p>যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদপত্র <em>দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, দ্য ফিলাডেলফিয়া ইনকোয়ারার</em> ও <em>হিউস্টন ক্রনিকল</em>-এ দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা ও সম্পাদক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। কাজ করেছেন দ্য আটলান্টিকেও।</p><p>সাক্ষাৎকারের সময় আমি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মন্টানায় পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিকতা নিয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছিলাম। আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি সংবাদমাধ্যমে কাজের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। </p><p>যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড কিংবা কলম্বিয়ার মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে নিজের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করছিলাম। আমার সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার বড় অংশই যে বাংলাদেশের একটি বাংলা সংবাদপত্র।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/x8r5io97vz">স্বাধীন সাংবাদিকতায় অবিচল থাকবে প্রথম আলো</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/vtblyq0wpv">যখন যারা ক্ষমতাবান, তাদের কাছে অপছন্দ প্রথম আলো</a></aside><p>সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হয়। বাংলাদেশের একটি জাতীয় সংবাদপত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক, সেটিও ছিল আলোচনার বিষয়। আমি তাঁদের <em>প্রথম আলো</em>র কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংবাদপত্রগুলোর একটি <em>প্রথম আলো</em>। তবে এটি শুধু একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক নয়। এর সাংবাদিকতা, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্পাদক মতিউর রহমানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রয়েছে।</p><p>এরপর বলেছিলাম আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রথম আলোর উপস্থিতির কথা। যুক্তরাষ্ট্রের <em>দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট</em>, বার্তা সংস্থা <em>রয়টার্স</em>, যুক্তরাজ্যের <em>বিবিসি</em> এবং যুক্তরাষ্ট্রের <em>এনবিসি নিউজ</em> এর মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।</p><p>এসব আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের আলোচনায় <em>প্রথম আলো</em>র প্রকাশিত তথ্য, এর সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন এবং প্রতিষ্ঠানটির ওপর আক্রমণের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে।</p><blockquote>বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এমন সহযোগিতা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এখানে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শুধু তথ্যের স্থানীয় উৎস হিসেবে কাজ করেনি, আন্তর্জাতিক একটি অনুসন্ধানে সক্রিয় অংশীদার হয়েছে।</blockquote><p>বাংলাদেশের একটি বাংলা সংবাদপত্র কীভাবে বিশ্বের বড় সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারে, সেটিই তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম। উদাহরণ হিসেবে বলেছিলাম প্রথম আলোর অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তারের কথা। </p><p>২০২১ সালের ১৭ মে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৩ সালে প্রথম আলোর সাভার প্রতিনিধি শামসুজ্জামান শামসকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনের মনোযোগ আকর্ষণ করে।</p><p>আমি প্রথম আলোর আন্তর্জাতিক যৌথ অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছিলাম। বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্র শুধু বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশ করে না, বরং আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানের জন্য নিজস্ব তথ্য, উৎস ও সাংবাদিকতার দক্ষতা দিয়েও অবদান রাখতে পারে।</p><p>সাক্ষাৎকারের পর আমি ইনসাইড ক্লাইমেট নিউজ ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাই। সেখানে কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ হয়েছে। নিয়োগের পেছনে কোন অভিজ্ঞতাটি কতটা ভূমিকা রেখেছে, সেটি নিশ্চিত করে বলা কঠিন।</p><p>কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রথম আলোর পরিচয় ও কাজের গুরুত্ব তুলে ধরতে পেরেছিলাম, সেটি আমার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2021-05/defe0bc5-952d-46ff-b1c9-afa3e66fdaf4/C_01.png"><figcaption>দণ্ডবিধি ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম</figcaption></figure><p>প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়েছে। ১৯৯৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রথম আলোর যাত্রা শুরু। এরপর প্রায় তিন দশকে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জগতে অনেক পরিবর্তন এসেছে। </p><p>সংবাদ পড়ার ধরন বদলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার ঘটেছে, ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের গুরুত্ব বেড়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে প্রথম আলো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদপত্র হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে।</p><p>বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের গণমাধ্যমবিষয়ক জনমত জরিপ অনুযায়ী, দেশের সংবাদপত্র পাঠকদের ৫৭ শতাংশের বেশি প্রথম আলো পড়েন। জরিপে ৬১টি জেলায় এটি সবচেয়ে অধিক পঠিত সংবাদপত্র হিসেবে উঠে এসেছে। </p><p>তবে একটি সংবাদপত্রের প্রভাব কেবল পাঠকসংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। এর সাংবাদিকতা কতটা জনস্বার্থ রক্ষা করেছে, ক্ষমতাকে কতটা জবাবদিহির মুখে ফেলেছে, আন্তর্জাতিক পরিসরে কতটা গুরুত্ব পেয়েছে এবং সংকটের সময় পাঠকের কাছে কতটা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/m7zv2og1s2">বাংলাদেশের নিজস্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক কেন প্রয়োজন</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/8zyl8pvci2">শেখ হাসিনার আমলে সাংবাদিকতা ও প্রথম আলো</a></aside><p>প্রথম আলোর আন্তর্জাতিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতা। ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য টাইমস এর সঙ্গে যৌথভাবে ব্রিটিশ রাজনীতিক টিউলিপ সিদ্দিকের বাংলাদেশি নাগরিকত্বসংক্রান্ত নথি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম আলো। </p><p>এতে তাঁর বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার নিবন্ধন এবং পাসপোর্টসংক্রান্ত তথ্য উঠে আসে। টিউলিপ সিদ্দিক অবশ্য সংশ্লিষ্ট অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।</p><p>বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এমন সহযোগিতা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এখানে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শুধু তথ্যের স্থানীয় উৎস হিসেবে কাজ করেনি, আন্তর্জাতিক একটি অনুসন্ধানে সক্রিয় অংশীদার হয়েছে।</p><p>আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রথম আলোর তথ্যের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম আলোর প্রকাশিত হতাহতের তথ্য উদ্ধৃত করেছিল। </p><p>ওই সময় বিশ্বের সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের আন্দোলন, সহিংসতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর মাঠপর্যায়ের তথ্য আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/cvc3o17ymh">প্রথম আলো নিয়ে দ্য ডিসেন্টের লেখার একটি সমালোচনামূলক পাঠ</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/reaction/2g4tvz5v6o">প্রসঙ্গ প্রথম আলো: মারদিয়া মমতাজের প্রতিক্রিয়া ও লেখকের বক্তব্য</a></aside><p>এটি কেবল প্রথম আলোর জন্য নয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব প্রতিবেদক থাকলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগ্রহ করা তথ্য অনেক সময় আন্তর্জাতিক সংবাদ তৈরির ভূমিকা রাখে।</p><p>অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও প্রথম আলো উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের (ইনমা) গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে তিনটি পুরস্কার পায় প্রথম আলো। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘বেস্ট ইন সাউথ এশিয়া’ স্বীকৃতি। পাঠকের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগের জন্যও প্রথম পুরস্কার অর্জন করে পত্রিকাটি।</p><p>একই বছরের অক্টোবরে জার্মানির মিউনিখে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজ পাবলিশার্স বা ওয়ান-ইফরার আয়োজনে দুটি বিভাগে সর্বোচ্চ পুরস্কার পায় প্রথম আলো। তরুণ পাঠকদের সম্পৃক্ত করা এবং রাজধানীর বাইরের পাঠক ও স্থানীয় বাজারকে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগের জন্য এসব স্বীকৃতি আসে।</p><p>এ ধরনের আন্তর্জাতিক পুরস্কারের গুরুত্ব শুধু একটি সংবাদপত্রের সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের একটি বাংলা সংবাদপত্রের সাফল্য দেশের সংবাদমাধ্যম শিল্পের সক্ষমতাকেও তুলে ধরে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-05-23/b1z1iwnz/20250522223121.jpg"><figcaption>সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ‘ইনমা গ্লোবাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’-এ প্রথম আলো পেয়েছে ‘দক্ষিণ এশিয়ার সেরা’র পুরস্কার। </figcaption></figure><p>ডিজিটাল সাংবাদিকতায় প্রথম আলোর উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এর নিয়মিত পাঠক। ফলে বাংলাদেশের ভেতরে প্রকাশিত একটি সংবাদ দ্রুতই বিশ্বের নানা প্রান্তে পৌঁছে যায়।</p><p>এই ডিজিটাল পাঠক সম্পৃক্ততার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। আন্দোলনের সময় মানুষ সংবাদপত্র ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতিনিয়ত খবর খুঁজছিলেন। প্রথম আলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের ৩৬ দিনে এর ওয়েবসাইটে ৩১ কোটি পেজভিউ হয়। আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫ কোটিতে। </p><p>ওই সময় ওয়েবসাইটের পাঠকদের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন তরুণ। ছাপা সংস্করণের প্রচারও প্রায় দেড় লাখ কপি বেড়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। সংকটের সময় বিপুল পাঠকের এই উপস্থিতি সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তার একটি দিক তুলে ধরে। তবে বিপুল পাঠকসংখ্যা আর নিঃশঙ্ক আস্থা এক বিষয় নয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-12-23/bsbeg7en/1.JPG"><figcaption>সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথম আলো ভবনের দোতলা ও তিনতলায় ভাঙচুর–লুটপাট। </figcaption></figure><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/9lc2nrzmve">প্রথম আলো সময় ও সমাজের দায় কতটুকু পূরণ করতে পারল</a></aside><p>২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। একই রাতে হামলার শিকার হয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারও। ভবনে আটকা পড়েন সংবাদকর্মীরা। পরদিন প্রথম আলোর ছাপা সংস্করণ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এই হামলার খবরও দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যায়।</p><p><em>রয়টার্স</em> ও <em>অ্যাসোসিয়েটেড</em> <em>প্রেস</em>সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে আগুনে আটকা পড়া সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা, সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা।</p><p>এখানে একটি বড় বৈপরীত্য রয়েছে। যে সংবাদপত্র আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়ে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছে, সেই সংবাদপত্রের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনাও বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশকে আলোচনায় এনেছে। একটি ঘটনা বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অর্জনের পরিচয় দেয়। অন্যটি সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তাহীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকট তুলে ধরে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/y3t77xwaai">প্রথম আলো কেন বারবার আক্রোশের শিকার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/6xj2xd89m3">প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা এবং পুরোনো রাজনীতির নতুন পোশাক</a></aside><p>প্রথম আলোকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নানা মত রয়েছে। কেউ এর সাংবাদিকতার প্রশংসা করেন, কেউ সমালোচনা করেন। সংবাদপত্রটির সম্পাদকীয় অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু মতভিন্নতার কারণে সাংবাদিকদের ভয় দেখানো, গ্রেপ্তার করা কিংবা সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।</p><p>একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করা। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য যেমন স্বাধীনতা প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন পাঠকের কাছে জবাবদিহি। প্রথম আলোর মতো বড় সংবাদপত্রের জন্য দুটি বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p><p>প্রথম আলোর সম্পাদক আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত হয়েছেন। সংবাদপত্রটি বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যৌথ অনুসন্ধান করেছে। এর তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদে ব্যবহৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পেয়েছে। আবার এর সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচিত হয়েছে।</p><p>যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে বিষয়টি নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে। আমি বুঝেছি, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শুধু বাংলাদেশের পাঠকদের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা তথ্য, অনুসন্ধান ও অভিজ্ঞতাও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতায় মূল্যবান হতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/solq6xk5pz">বাক্স্বাধীনতা, প্রথম আলো ও আমাদের গণতন্ত্র</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/aganhjdcd1">প্রথম আলো, সমাজ ও রাজনীতি</a></aside><p>প্রায় তিন দশক আগে যাত্রা শুরু করা প্রথম আলো আজ শুধু বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের অংশ নয়। এর অর্জন, অনুসন্ধান, পাঠক এবং এর ওপর আঘাতের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের সাংবাদিকতার একটি বড় বাস্তবতাকেও তুলে ধরে।</p><p>একটি সংবাদপত্রের আন্তর্জাতিক প্রভাব শুধু বিশ্বের কত দেশে তার পাঠক রয়েছে, তা দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং তার সাংবাদিকতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার তথ্য কতটা দূর পর্যন্ত পৌঁছায়, তার কাজ কতটা স্বীকৃতি পায় এবং তার স্বাধীনতা আক্রান্ত হলে কত দূর পর্যন্ত উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে—সেসব দিয়েও বিচার করতে হয়।</p><p>প্রথম আলোর ২৮ বছরের পথচলা সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। প্রথম আলো বাংলাদেশের সংবাদপত্র। কিন্তু এর সাংবাদিকতার অর্জন, প্রভাব এবং সংকটের প্রতিধ্বনি বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে পৌঁছেছে।</p><ul><li><p><strong>মোসাব্বের হোসেন</strong> সাংবাদিক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটি অব মন্টানা, যুক্তরাষ্ট্র</p></li></ul><p>*মতামত লেখকের নিজস্ব</p>
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী মেয়াদের নির্বাচনে আগাম ভোট দিয়েেছন সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ। অন্যদিকে ঢাকা ও গাজীপুরে আজ চতুর্থ দিনের মতো গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিক্ষোভ-অবরোধের খবর পাওয়া গেছে এবং কয়েকটি জায়গায় সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ আছে। এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপের কয়েকটি এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন বা ১২০০ কোটি ডলার হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখছে বিবিসি ভেরিফাই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির ভোটারদের কাছে এবার অর্থনীতিই প্রধান ইস্যু, যারা জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ মূল্য নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সেদেশের অর্থনীতির কী অবস্থা?
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যাতে প্রায় ২০ হাজার ব্যালট আলাদা করে রাখার কথা বলা হয়েছিল। সরকারের দাবি ছিল, এগুলো এমন ব্যক্তিদের ভোট, যারা "সম্ভবত" অ-নাগরিক।
বাংলাদেশে ৬৯০টির মতো পোশাক কারখানা বন্ধ এবং এই অস্থিরতার পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার- এ ধরনের খবর আজ প্রায় সব পত্রিকার প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছে।
বাংলাদেশে মুসলিমদের এমন অনেকেই আছেন, যারা শুধু কবুল পড়ে অথবা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিড করে বিয়ে করেন। আইনজীবী এবং কাজী অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মসজিদে গিয়ে বর-কনে কবুল বলে বিয়ে করলে সেটি রেজিস্ট্রি না করলেও শরীয়তসম্মত। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে এ ধরনের বিয়ে কী বৈধ?
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধিসহ কয়েকদফা দাবিতে গত কয়েকদিনের মতো সোমবারও সকাল থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ করেছে পোশাক শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবারও ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তেসরা নভেম্বর মার্কিন ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, যে নির্বাচন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনের জন্য ছয় ঘণ্টা টোল মওকুফ করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে মিনি জিমনেসিয়াম স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।
ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান।
ফুটবল মাঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বদলে নেমে এলো শোকের ছায়া। ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগুয়েল।
পেশাগত জীবনে ছিলেন ব্যাংকার। কর্মজীবনের ব্যস্ততা পেরিয়ে যুক্ত হন রাজনীতিতে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলেন মির্জা ফয়সল আমিন।
এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অনলাইনে পরিচয়, এর পর প্রেম। সেই সম্পর্কের টানে চীনের জিয়াংসি থেকে বাংলাদেশের সিলেটে এসে বিয়ে করেছেন লিও ফাভিন নামের এক চীনা তরুণ। তবে, ভিন্ন দেশের নাগরিককে বিয়ে ও ধর্ম পরিচয় নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হলে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ধর্মান্তর ও বিয়ের কাগজপত্র যাচাই করে তাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।