বিয়ের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পড়াশোনা। ১৪ বছর পর আবার পড়াশোনায় ফিরে সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলে এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়েছেন রীতি খাতুন।
‘মুরাসু’ নামটি দিয়েছে ভারতই। এটি আজ সোমবার সন্ধ্যার দিকে অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে।
গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পৃথক দুটি অভিযানে এসব সোনা জব্দ করা হয়।
এবারের ফল বিপর্যয়ের বড় কারণ হলো ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ ফল। ঢাকা বোর্ড বাদে বাকি আটটি শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে গড় পাসের হার ৫৪ শতাংশ।
সৈকতে এই প্রাণহানির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ অসচেতনতা ও প্রশাসনের সতর্কবার্তা না মানার প্রবণতা।
সারা দিন উড়ে বেড়ায় বকটি। সন্ধ্যা হলেই ফিরে আসে মাছ বিক্রেতা জসিমের কোলে। খাঁচা ছাড়াই ছয় মাসের এই বন্ধুত্ব
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর আগে ২০২৩ সালেই দেশ ছাড়েন তিনি। কোন মাসে ছেড়েছেন, তা তিনি বলেননি।
<p>কক্সবাজারের প্রবালসমৃদ্ধ সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আশির দশকে জেনারেটরভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করেছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। দ্বীপের মধ্যভাগে পশ্চিম উত্তরপাড়ায় বাতিঘরের দক্ষিণ পাশে প্রায় পাঁচ একর জমিতে স্থাপিত ওই কেন্দ্রে ছিল দুটি জেনারেটর। সেখান থেকে তখন প্রায় ৬০০ গ্রাহককে সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হতো।</p><p> ১৯৯৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেঙে পড়ে দেড় শতাধিক খুঁটি, ছিঁড়ে যায় বিদ্যুতের তার। এরপর আর সচল করা হয়নি কেন্দ্রটি। টানা ৩২ বছর ধরে অচল পড়ে আছে সরকারি এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।</p><p> এরপর ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি উদ্যোগে দ্বীপের কোনারপাড়া এলাকায় প্রায় দুই একর জমিতে স্থাপন করা হয় ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। ৯১৫টি সৌর প্যানেল নিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় এক হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে ১৪০টি হোটেল, ২০টি রেস্তোরাঁ, ৬০০টি বাসাবাড়ি, ১৫৭টি দোকানপাট, ছয়টি সেচপাম্প ও ১৫টি ইজিবাইক চার্জিং পয়েন্ট।</p><p> দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন মূলত এই বেসরকারি প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পর্যটন মৌসুম শুরু হলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালানোর খরচের কথা বলে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।</p><p><strong>পর্যটন মৌসুমে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে</strong></p><p>১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন দ্বীপ খুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যটন মৌসুমে দ্বীপে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৪০০ থেকে ৫০০ কিলোওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। অথচ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে পাওয়া যাচ্ছে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ। বাকি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালাতে হবে। এ পরিস্থিতিতে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।</p><p>গ্রাহকদের অভিযোগ, বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৪২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৫২ টাকা দিতে হচ্ছে। ১ নভেম্বর থেকে উভয় শ্রেণির গ্রাহকের জন্য ইউনিটপ্রতি আরও ১০ টাকা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৫২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৬২ টাকা।</p><p>হঠাৎ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ২১ অক্টোবর বিকেলে দ্বীপের ইউরো বাংলা রিসোর্টের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন দেড় শতাধিক গ্রাহক। এতে বক্তব্য দেন সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল আলম, টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ ইকবালসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।</p><blockquote>দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন মূলত এই বেসরকারি প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পর্যটন মৌসুম শুরু হলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই বাড়তি চাহিদা মেটাতে জেনারেটর চালানোর খরচের কথা বলে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।</blockquote><p>সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, ব্লু মেরিন এনার্জি বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ৪২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫২ টাকা আদায় করছে। ১ নভেম্বর থেকে উভয় শ্রেণির গ্রাহকের জন্য আরও ১০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিটের দাম ৫২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৬২ টাকা হবে। এমনিতেই বিদ্যুতের দাম বেশি, তার ওপর নতুন করে দাম বাড়ানোর ঘোষণায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।</p><p>হোটেলমালিক আবদুর রহিম ও রহিম উল্লাহ বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের টাকা থেকে বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেওয়া এবং মিটার চার্জ আদায় নিয়েও গ্রাহকদের অসন্তোষ রয়েছে। অথচ সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল।</p><p>আরও কয়েকজন গ্রাহক বলেন, দ্বীপের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের উচ্চ মূল্যের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। একদিকে নিয়মিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে দামও বাড়ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/bc3s2sj6r9">পর্যটক বাড়ছে, সেন্ট মার্টিন ঝুঁকিতে</a></aside><p>অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেড ও ব্লু মেরিন রিসোর্টের মালিক জাফর আহমদ পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে সিস্টেম লস বাদ দিয়ে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৩৮ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই বিদ্যুৎ দিয়ে এক হাজারের বেশি গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।</p><p>জাফর আহমদ পাটোয়ারী বলেন, দ্বীপে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক বা টমটমের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তাঁর অভিযোগ, টমটমের ব্যাটারি চার্জের তিন ভাগের দুই ভাগই চোরাই সংযোগের মাধ্যমে নেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রায় ৬০০টি বাসাবাড়ির মিটার থেকে কয়েক শ বাসাবাড়িতে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কর্মীরা বাসাবাড়ি কিংবা ব্যাটারি চার্জের গ্যারেজে গেলে তাঁদের মারধর করা হয়।</p><p>প্রকল্পের ব্যাটারির অবস্থাও খারাপ বলে জানান জাফর আহমদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, প্রকল্পের অধিকাংশ ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেছে। ১০ বছর মেয়াদের ব্যাটারিগুলো সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যেই অচল হয়ে পড়েছে। নতুন ব্যাটারি চীন থেকে আনার জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। ব্যাটারি আসতে আরও দেড় মাসের মতো সময় লাগতে পারে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-11-01/ksxb0mot/WhatsApp-Image-2026-11-02-at-12.02.51-AM.jpeg"><figcaption>সেন্ট মার্টিন দ্বীপ</figcaption></figure><p>ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা দাম বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে জাফর আহমদ পাটোয়ারী বলেন, সম্প্রতি টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক কমে যায়। কখনো সফটওয়্যার বা সার্ভারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। তখন উচ্চক্ষমতার দুটি জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হয়।</p><p>জাফর আহমদ পাটোয়ারী বলেন, পর্যটন মৌসুমে দ্বীপে পর্যটক আসবেন। তখন ২৩০টির বেশি হোটেল-রিসোর্ট, ২০০টির বেশি রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট চালু হবে। এতে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোওয়াটে পৌঁছাতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ১৮০ কিলোওয়াট। বাকি বিদ্যুৎ জেনারেটর চালিয়ে সরবরাহ করতে হবে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা। টেকনাফ থেকে দ্বীপে ডিজেল আনতে লিটারে আরও ৪০ টাকা খরচ হয়। এসব ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।</p><p>জাফর আহমদ পাটোয়ারীর দাবি, প্রকল্পে প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেননি তিনি। সরকারি-বেসরকারি বা ব্যক্তি উদ্যোগে দ্বীপে আরও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ কমত, তাঁরাও লোকসানের মুখে পড়তেন না।</p><p><strong>জেনারেটরের শব্দে কাছিমের প্রজননে বাধা</strong></p><p>বঙ্গোপসাগরের মধ্যে প্রায় আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নানা কারণে পরিবেশগত সংকটে রয়েছে। ১৯৯৯ সালে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক প্রবাল ও কাছিমের প্রজননক্ষেত্র রক্ষায় পুরো এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সরকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, এ এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে—এমন কার্যক্রম নিষিদ্ধ।</p><p>তবে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ নির্মিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিকল্প জ্বালানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে ডিজেলচালিত জেনারেটর ব্যবহার করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত জেনারেটরের একটানা শব্দ ও কম্পনে সৈকতে ডিম পাড়তে আসা মা কাছিমের স্বাভাবিক প্রজননপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবেশকর্মীদের।</p><p>পরিবেশ অধিদপ্তরের সেন্ট মার্টিনে পরিচালিত কাছিম প্রজনন কেন্দ্রের স্বেচ্ছাসেবীদের সুপারভাইজার আবদুল আজিজ বলেন, জেনারেটরের শব্দ ও কম্পনে ভয় পেয়ে অনেক সময় মা কাছিম ডিম না পেড়েই গভীর সমুদ্রে ফিরে যায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের জেনারেটর বড় ধরনের ক্ষতি করছে। তাঁর হিসাবে, বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বর্তমানে দ্বীপে ৩০০টির বেশি জেনারেটর রয়েছে।</p><p>পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ১ নভেম্বর থেকে তিন মাসের জন্য সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ সময় জেনারেটরের শব্দদূষণ এবং ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।</p><aside><cite>আবদুল কাদের গণি, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজার</cite>নানা কারণে সেন্ট মার্টিনের অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করা সম্ভব হয়নি। সেখানে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে।</aside><p><strong>সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ চান দ্বীপবাসী</strong></p><p>সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দ্বীপের পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সৈকত এলাকায় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা গেলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। বর্তমানে ব্যক্তিমালিকানাধীন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ছাড়া দ্বীপে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা নেই।</p><p>সেন্ট মার্টিনের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পিডিবির পরিত্যক্ত পাঁচ একর জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রভাবশালী একটি মহলের বাধায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। ১৯৯৪ সালের ২ মে ঘূর্ণিঝড়ে সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর গত ৩২ বছরে সেটি আর সংস্কার করা হয়নি। দ্বীপের প্রায় ১১ হাজার বাসিন্দার দুর্ভোগ কমাতে ওই জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ বা বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা প্রয়োজন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/bw2rbdki8i">যে কারণে ১ নভেম্বর সেন্ট মার্টিন যাওয়া হচ্ছে না পর্যটকদের</a></aside><p>এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণি প্রথম আলোকে বলেন, নানা কারণে সেন্ট মার্টিনের অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সচল করা সম্ভব হয়নি। সেখানে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে।</p><p>কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সদস্য লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নাঈম মোহাম্মদ তালাত প্রথম আলোকে বলেন, সেন্ট মার্টিনকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ কাজ করছে। মহাপরিকল্পনায় দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে কীভাবে উন্নয়ন করা যায়, সে বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে।</p><p>আবু নাঈম মোহাম্মদ তালাত বলেন, দ্বীপে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করতে হলে বিপুল পরিমাণ জমির প্রয়োজন, যা সেখানে পাওয়া কঠিন। এ ক্ষেত্রে দ্বীপের চারপাশের সমুদ্রে ১০টি বায়ুকল বা উইন্ড টারবাইন স্থাপন করা গেলে পুরো দ্বীপের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে। এতে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।</p>
প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয় নুরুইল বিল থেকে তাজা মাছ ধরে এনে বাজারে বসেন স্থানীয় জেলে ও বিক্রেতারা।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।