রাজনীতি

আলেমদের অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ

অক্টোবর ৯, ২০২৬
আলেমদের অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ
আলেমদের অন্যের ‘গেমের ঘুঁটি’ না হয়ে ‘নিজস্ব গেমের প্লেয়ার’ হতে বললেন হাসনাত আবদুল্লাহ
<p>ভোট এলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ‘মোর দ্যান ইসলামিক’ হয়ে যান উল্লেখ করে তরুণ আলেমদের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ভোট এলে সবাই একটু বেশি কৃষক হয়ে যান, একটু বেশি আলেম হয়ে যান।</p><p> এর মাধ্যমে একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মনে করেন কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত। এই প্রেক্ষাপটে তরুণ আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের নিজস্ব রাজনীতি নির্মাণ করতে হবে। আমরা যেন আরেকজনের রাজনীতির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত না হই, আরেকজনের গেমের (খেলা) ঘুঁটি যেন আমরা না হই। বরং আমরা যেন নিজস্ব গেমের প্লেয়ার (খেলোয়াড়) হতে পারি।’</p><p>আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদে বায়তুল মোকাররমে চলমান ইসলামি বইমেলার মঞ্চে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও তাঁর পরবর্তী আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর স্মরণে এনসিপির সহযোগী সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে প্রকাশিত পত্রিকা ‘তুরাস’–এর প্রথম সংখ্যার (উত্তরাধিকার, পর্ব–১) মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।</p><p>অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে আলেম–ওলামাদের ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মম অত্যাচার করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো নিয়ে ওই অর্থে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক কোনো কাজ হয়নি। সে ক্ষেত্রে ওলামা অ্যালায়েন্সের প্রকাশিত বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।</p><p>আলেমদের পেশাগতভাবে বহুমুখী হওয়ার আহ্বান জানান হাসনাত। তিনি বলেন, কওমি সনদের কার্যকারিতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোর মধ্য দিয়ে তাঁরা যেন রাষ্ট্রের মূলধারার পেশাগুলোর মধ্যে অংশগ্রহণ করে জাতীয় ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা রাখার জন্যও তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে। জুলাই যে উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছে, সমন্বিত উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তা কাজে লাগাতে হবে। বিভাজিত না হয়ে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।</p><h3>পরমত সহিষ্ণুতাসহ কিছু পরামর্শ </h3><p>আওয়ামী লীগ চলে গেলে অন্য ধর্মের মানুষেরা অনিরাপদ—এই প্রচার যে মিথ্যা, তা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রমাণ করা, পরমতসহিষ্ণু হওয়াসহ কিছু পরামর্শ দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। আলেমদের নিজস্ব গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম তৈরি করার প্রয়োজনীতাও তুলে ধরেন তিনি।</p><p>হাসনাত ছিলেন অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় একটা কার্ড খেলত যে তারা যদি না থাকে, তাহলে বাংলাদেশে থাকা অন্য ধর্মাবলম্বীরা অন্যদের কাছে, অর্থাৎ আমাদের কাছে অনিরাপদ। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা দেশে অন্য ধর্মের উপাসনালয়গুলো রাত জেগে পাহারা দিয়ে আমাদের আলেম–ওলামা ভাইয়েরা প্রমাণ করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মিথ্যার ওপর রাজনীতি করেছে।’</p><p>এই দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা এবং আলেম–ওলামারা এক্সট্রিমিস্ট (উগ্রবাদী), প্রতিক্রিয়াশীল এবং তাঁদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়—৫ আগস্টের পর থেকে এমন বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে আলেমদের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘এটা যে মিথ্যা, তা আমাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। আপনাদের ১ নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, অন্য ধর্মের যাঁরা আছেন, তাঁদের ধর্মীয় আচার–আচরণ, কালচার–কৃষ্টি যেন তাঁরা যথাযথভাবে পালন করতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রাখা।’</p><p>আসন্ন দুর্গাপূজার কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘সামনে পূজা, একটা বৃহত্তর প্রোগ্রাম (উৎসব)। এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মেরও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থাকে। এই জায়গাগুলোতে আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা যেটা আমরা পালন করে আসছি, তা অব্যাহত রাখতে হবে।’</p><p>হাসনাতের দ্বিতীয় পরামর্শ হচ্ছে, আলেমরা ‘পরমতসহিষ্ণু নন’, এই দোষারোপ যাতে কেউ না করতে পারেন, তা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করা। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে এসে ভিন্নমতের সঙ্গে আমাদের তর্কবিতর্ক হবে, কথা হবে। কিন্তু কোনোভাবেই যেন এই ট্যাগটা এই আওয়ামী সেট–আপের মিডিয়া দিতে না পারে, সেটা আমাদের দায়িত্ব ও কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। আমাদের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে, আমাদের নিজস্ব গণমাধ্যম তৈরি করতে হবে।’</p><p>বক্তব্যের পর হাসনাতসহ এনসিপি ও ওলামায়ে অ্যালায়েন্সের নেতারা ‘তুরাস’-এর প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন। হাসনাতের আগে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রয়াত জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হাসান, তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী ইয়াকুব, হেফাজতে ইসলামের পল্টন জোনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, প্রথম আলোর ধর্ম বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মনযূরুল হক, ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদী, সদস্যসচিব সানাউল্লাহ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।</p>

Prothomalo

View more
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা ও কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অক্টোবর ৯, ২০২৬
নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, কৌতুক করে বললেন নাভি পিল্লাই
নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি, কৌতুক করে বললেন নাভি পিল্লাই

মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অক্টোবর ৯, ২০২৬
অসহায় মেয়েদের নিজ খরচে বিয়ে দেন রুহুল আমিন, হলো ১১৩তম বিয়ে
অসহায় মেয়েদের নিজ খরচে বিয়ে দেন রুহুল আমিন, হলো ১১৩তম বিয়ে

অসহায় দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের আনন্দঘন পরিবেশে বিয়ে সম্পন্ন করে দেওয়া নাটোরের ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের নেশায় পরিণত হয়েছে।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অভিষেকের ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক সাহিবজাদা
নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক অভিষেকের ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক সাহিবজাদা

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তাদের সামনে ১৮২ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ওই রান ৭ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
প্রেমের নামে এখন সবই হচ্ছে, শুধু প্রেমই হচ্ছে না...
প্রেমের নামে এখন সবই হচ্ছে, শুধু প্রেমই হচ্ছে না...

<p>প্রেমের নামে অনেক কিছুই হচ্ছে, কিন্তু প্রেমটাই কি হচ্ছে? সম্পর্কের চাওয়া-পাওয়ার হিসাবের ভিড়ে দুজন মানুষ কি একজন আরেকজনের আশ্রয়, আস্থা কিংবা নিরাময়ের জায়গা হয়ে উঠতে পারছেন? এমন প্রশ্ন আর দুজন পরিণত মানুষের সম্পর্কের গল্প নিয়ে মঞ্চে এল হান্ট থিয়েটারের নতুন নাটক ‘তবুও প্রেম আসে’। গত বুধবার জাতীয় নাট্যশালার  স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে নাটকটির দুটি প্রদর্শনী হয়। নাটকটির গল্প ও নির্দেশনায় ডায়না ম্যারেলিন, নাট্যরূপ দিয়েছেন শাফী বিন কবির।</p><p>কথা হয় নির্দেশকের সঙ্গে। ‘তবুও প্রেম আসেতে’ ভালোবাসাকে শুধু আবেগ কিংবা চাওয়া-পাওয়ার সমীকরণ হিসেবে দেখেননি তিনি, দুজন পরিণত মানুষের সম্পর্কে একজন আরেকজনের আরাম, আশ্রয় ও আস্থার জায়গা হয়ে ওঠার গল্প বলতে চেয়েছেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/nzco3lvl/WhatsApp_Image_2026_10_07_at_5_22_35_PM.jpeg"><figcaption>বুধবার জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে নাটকটির দুটি প্রদর্শনী হয়</figcaption></figure><p>ডায়না ম্যারেলিন বলেন, ‘আমরা একটা প্রেমের গল্প বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু প্রেমের গল্প বলতে গিয়ে দেখি, প্রেমের নামে এখন সবই হচ্ছে, শুধু প্রেমই হচ্ছে না! দুজন পরিণত মানুষ একজন আরেকজনের আরাম হবে, বিশ্রামের জায়গা হবে, আস্থার ঠিকানা হবে। একজন আরেকজনকে নিরাময় করতে তার ক্ষতে প্রলেপ দেবে। এই সহজ সত্য দূরে সরিয়ে আমরা চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে ব্যস্ত হয়ে আছি।’</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-09/ji2jq24u/WhatsApp_Image_2026_10_07_at_5_22_39_PM.jpeg"><figcaption>নাটকটির গল্প ও নির্দেশনায় ডায়না ম্যারেলিন, নাট্যরূপ দিয়েছেন শাফী বিন কবির</figcaption></figure><p>প্রেমকে জীবনের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন নির্দেশক। তাঁর ভাষায়, ‘প্রেম তো আর আলাদা কিছু নয়, এটা একটা লাইফস্টাইল। নিত্যদিনের ব্যস্ততায় একটুকরা খোলা আকাশ, একটা বিশ্বস্ততার সিলমোহর। ক্ষণস্থায়ী হোক বা দীর্ঘস্থায়ী, মুখোমুখি প্রেম বা দূরত্বের সম্পর্ক, একসঙ্গে বুড়ো হওয়া কিংবা তীব্র ভালোবাসা—সম্পর্কে এটুকু সততা তো রাখাই যায়।’</p><p>নাটকটিতে অভিনয় করেছেন সারাহ জেবীন, সুপ্তি দাস, ডায়না ম্যারেলিন, নিয়ন আহসান, সাইম বিন মুজিব ও জেরম প্রজ্ঞা। গানে কণ্ঠ দিয়েছেন সুমেল চৌধুরী, সাজ্জাদ কবির ও রেশমী চাকমা।<br>হান্ট থিয়েটার এর আগে গত এপ্রিলে মঞ্চে এনেছিল ‘ক্যাফে দ্য ভলতে’। প্রচলিত মঞ্চভাষার বাইরে গিয়ে উপস্থাপনার ধরন, নির্দেশনা ও অভিনয়ের কারণে প্রযোজনাটি ঢাকার মঞ্চপাড়ায় আলোচনা তৈরি করেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর এবার ‘তবুও প্রেম আসে’ দিয়ে সম্পর্ক ও ভালোবাসার গল্প মঞ্চে আনল তারা।</p>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
ডিসির সভায় এমপির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি
ডিসির সভায় এমপির প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি

ডিসির মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিয়েছেন অস্ত্র আইনের মামলার আসামি। পটুয়াখালীতে সম্প্রতি ঘটা এ ঘটনার পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৬
ভোট চুরির সব প্রমাণ আছে দাবি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর
ভোট চুরির সব প্রমাণ আছে দাবি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপির সব প্রমাণ তাঁদের কাছে আছে

অক্টোবর ৯, ২০২৬
সুন্দর কণ্ঠ যথেষ্ট নয়, উপস্থাপনায় চাই জানাশোনা ও নিজস্বতা
সুন্দর কণ্ঠ যথেষ্ট নয়, উপস্থাপনায় চাই জানাশোনা ও নিজস্বতা

‘দ্য আর্ট অব কমিউনিকেশন ইজ দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ অব লিডারশিপ’—যোগাযোগের শিল্পই নেতৃত্বের ভাষা। উপস্থাপনার ক্ষেত্রেও কথাটি বেশ প্রাসঙ্গিক। একজন উপস্থাপক শুধু একটি লেখা পড়েন না, তিনি একটি সংবাদ, একটি অনুষ্ঠান, একজন অতিথি কিংবা একটি গল্পকে দর্শকের কাছে জীবন্ত করে তোলেন।

অক্টোবর ৯, ২০২৬
এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক
এআই কি দাজ্জাল? প্রযুক্তির নতুন জোয়ারে পুরোনো আতঙ্ক

<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভূতপূর্ব বিপ্লব দেখে ইদানীং অনেকেই সংশয়ে পড়ে প্রশ্ন তুলছেন, এআই-ই কি তবে শেষ জামানার দাজ্জাল? কেউ কেউ ‘এ আই’ মানে ‘এক চোখ’ অর্থও করছেন। যদিও ব্যাকরণ বিচারে এমন অর্থ ভুল। কেননা, তখন ‘অ্যান আই’ হওয়ার কথা।</p><p>তবে প্রযুক্তির রূপান্তর দেখে তাকে ধর্মীয় ফিতনা বা দাজ্জালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার এই প্রবণতা মোটেও নতুন কিছু নয়।</p><p>বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যখন টেলিভিশন মানুষের বাসাবাড়িতে পৌঁছাতে শুরু করেছিল, তখনও তৎকালীন সমাজের এক শ্রেণির মানুষ একই ধরনের দাবি তুলেছিল। </p><p>তাদের বক্তব্য ছিল, ড্রয়িংরুমে রাখা এক চোখের এই যে কাচের বাক্সে সারা পৃথিবীর ছবি ফুটে উঠছে, এটিই নাকি হাদিসে বর্ণিত ‘এক চোখের দাজ্জাল‘!</p><p>পরবর্তীকালে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের বিশ্বব্যাপী বিস্তারের সময়েও একই ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াতে দেখা গেছে।</p><p><strong>দাজ্জাল কোনো প্রযুক্তি নয়</strong></p><p>ইসলামের আলোকে দাজ্জাল কোনো রূপক ধারণা বা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়। মহানবী মহানবী (সা.) দাজ্জালের পরিচয় দিতে গিয়ে তাকে আদম সন্তানের মধ্য থেকেই একজন মানুষ হিসেবে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন।</p><p>মহানবী (সা.) দাজ্জালের শারীরিক গঠন, চোখের অবস্থা, মাথার চুল এবং চেহারার এমন নিখুঁত বিবরণ দিয়ে গেছেন, যা শুধু একজন জ্যান্ত মানুষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।</p><p>তিনি বলেছেন, দাজ্জাল হবে একজন লালচে-সাদা রঙের মানুষ, তার চুল হবে অত্যন্ত কোঁকড়ানো এবং সে ডান চোখে অন্ধ হবে; তার চোখটি দেখতে ভেসে ওঠা আঙুরের মতো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৯)</p><p>এমনকি মহানবী (সা.) তৎকালীন আরবের খুজাআ গোত্রের ‘ইবন কাতান’ নামে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, দাজ্জাল দেখতে অবিকল ওই লোকটির মতো হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৯)</p><aside><cite>ইমাম নববি (রহ.)</cite>দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদিসগুলোতে তাঁর দৈহিক রূপ, চোখ ও অবস্থানের যে বিবরণ এসেছে তা অলংকার বা রূপক নয়; বরং তিনি একজন সত্যকারের মানুষ, যাকে মহান আল্লাহ অলৌকিক কিছু ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠাবেন মানুষের পরীক্ষা হিসেবে।</aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/na7b9z67qk">কোরআনের ব্যাখ্যায় এআই ব্যবহারে সতর্কতা</a></aside><p>এ ছাড়া সাহাবি তামিম আদ-দারি (রা.)-এর দীর্ঘ হাদিস থেকে দাজ্জালের দৈহিক সত্তার চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি সমুদ্রে পথ হারিয়ে এক দ্বীপে পৌঁছে শৃঙ্খলিত অবস্থায় এক বিশালদেহী মানুষকে দেখতে পেয়েছিলেন, যে নিজেকে দাজ্জাল হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল এবং মহানবী (সা.) সাহাবিদের সামনে তামিম আদ-দারির এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৪২)</p><p>সুতরাং দাজ্জাল কোনো প্রযুক্তি বা কাল্পনিক বিষয় নয়, বরং মহান আল্লাহর সৃষ্টি এক শারীরিক সত্তা। কোনো যন্ত্র বা প্রযুক্তিগত অ্যালগরিদমকে কখনো মানব গোত্রের কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব নয়।</p><p><strong>পূর্বসূরি মনীষীদের অবস্থান</strong></p><p>হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি উল্লেখ করেছেন যে দাজ্জাল হলেন আদম সন্তানেরই একজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি, যিনি শেষ জামানায় আত্মপ্রকাশ করবেন এবং মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে মানুষের ইমান পরীক্ষা করবেন। (আল-আসকালানি, <em>ফাতহুল বারি, </em>১৩/৯১, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৩৭৯ হি.)</p><p>ইমাম নববি লিখেছেন, দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদিসগুলোতে তাঁর দৈহিক রূপ, চোখ ও অবস্থানের যে বিবরণ এসেছে তা অলংকার বা রূপক নয়; বরং তিনি একজন সত্যকারের মানুষ, যাকে মহান আল্লাহ অলৌকিক কিছু ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠাবেন মানুষের পরীক্ষা হিসেবে। (ইমাম নববি, <em>আল-মিনহাজ শারহু সহিহ মুসলিম,</em> ১৮/৫৮, দারুল ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত, ১৯৯৫)</p><p>ইবনে কাসিরও তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে দাজ্জালকে প্রবঞ্চক এক মিথ্যাবাদী মানুষ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, যে নিজেকে প্রভু হিসেবে দাবি করবে। (ইবনে কাসির, <em>আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, </em>১৯/১২১, দার আলম আল-কুতুব, রিয়াদ, ২০০৩)</p><p>ফলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলামি মনীষীদের যে ঐক্যবদ্ধ মতামত চলে আসছে, তার আলোকেও এআই বা অন্য কোনো প্রযুক্তিকে দাজ্জাল বলার কোনো সুযোগ নেই।</p><p><strong>টেলিভিশন থেকে এআই: নতুন প্রবঞ্চনা</strong></p><p>তাহলে কেন মানুষ বারবার প্রযুক্তিকে দাজ্জাল বলে ভুল করে? এর প্রধান কারণ হলো, দাজ্জালের প্রধান চরিত্র হলো প্রতারণা বা চাতুর্য। আর আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন—টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা এআই ব্যবহার করে মানুষ খুব সহজেই মিথ্যা ও বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/w3t2r748li">এআই যুগে ইসলাম: চিন্তাকে গভীর করতে নবীজির শেখানো ৫ অভ্যাস</a></aside><blockquote>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য বা ভিডিও দেখলেই তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।</blockquote><p>কিন্তু হাতিয়ার আর হাতিয়ারের ব্যবহারকারী কখনোই এক জিনিস নয়।</p><p>যেমন টেলিভিশন আবিষ্কৃত হওয়ার পর তার মাধ্যমে অশ্লীলতা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু একই টেলিভিশনের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি মানুষের কাছে কোরআন পাঠ, ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় শিক্ষাও পৌঁছে গেছে; যা দাজ্জালের মাধ্যমে হওয়ার কথা নয়।</p><p>ঠিক একইভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিজেই দাজ্জাল নয়; এটি মানুষের তৈরি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল হাতিয়ার মাত্র।</p><p>কোরআনে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশ্রিত না করতে এবং জেনেবুঝে সত্য গোপন না করতে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪২)</p><p>এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ যেমন ভুয়া তথ্য বা ডিপফেক ভিডিও বানিয়ে সত্যকে মিথ্যার রূপ দিতে পারে, তেমনই একে জটিল গবেষণা ও মানবকল্যাণেও ব্যবহার করা যায়। </p><p>প্রযুক্তিকে দাজ্জাল বানিয়ে দিলে মানুষের মূল দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার একটি মানসিক সুযোগ তৈরি হয়। অথচ প্রযুক্তি অপব্যবহারের জন্য দায়ী মানুষের নিজস্ব নীতিজ্ঞান ও ইমানের ঘাটতি।</p><p><strong>প্রকৃত প্রস্তুতি ও করণীয়</strong></p><p>শেষ জামানায় ফিতনা ও বিভ্রান্তি এত তীব্র হবে যে, সঠিক পথ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। মহানবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, মানুষের কাছে এমন এক ধৈর্যের সময় আসবে, যখন নিজের ধর্মকে আঁকড়ে ধরে রাখাটা হাতের তালুতে জ্বলন্ত অঙ্গার রাখার মতো কঠিন হবে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২২৬০)</p><p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য বা ভিডিও দেখলেই তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।</p><p>কোরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশ হলো, কোনো অবিশ্বস্ত সংবাদ এলে তা প্রচার করার আগে ভালোভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই করা। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৬)</p><p>তাই টেলিভিশন কিংবা এআই-এর মতো প্রযুক্তিকে ‘দাজ্জাল’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। আমাদের উচিত রাসুলের সুন্নত অনুসরণ করা। দাজ্জাল এক সুনির্দিষ্ট মানব সত্তা, যার ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য তিনি প্রতি নামাজের শেষ বৈঠকে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দিয়েছেন।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/religion/islam/jmbv6yf051">ইসলামি গবেষণায় এআই কতটা কার্যকর</a></aside>

অক্টোবর ৯, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন