সম্পাদকীয়

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করুন

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করুন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি করুন
রাজনৈতিক পালাবদলের পর একশ্রেণির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছায়াতলে নতুন করে আবারও সক্রিয় হয়েছে এই গোষ্ঠীগুলো।

Prothomalo

View more
ব্যালন ডি’অর: কে কত পয়েন্ট পেলেন, কোন দেশ কাকে ভোট দিল
ব্যালন ডি’অর: কে কত পয়েন্ট পেলেন, কোন দেশ কাকে ভোট দিল

২০২৬ ব্যালন ডি’অরে ভোটের তালিকা প্রকাশ করেছে পুরস্কারটির আয়োজক ‘ফ্রান্স ফুটবল’ সাময়িকী।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
বুয়েটে ৫ পদে নিয়োগ, বেতনস্কেল ৫৮ হাজার থেকে ১,০০,০০০
বুয়েটে ৫ পদে নিয়োগ, বেতনস্কেল ৫৮ হাজার থেকে ১,০০,০০০

<p>বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ৫ ক্যাটাগরির পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি ক্যাটাগরিতে একজন করে মোট পাঁচজনকে নিয়োগ প্রদান করা হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০২৬।</p><h3>চাকরির বিবরণ</h3><p><strong>১. পদের নাম: প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার</strong></p><p>বিভাগ: ডাইরেক্টরেট অব কন্টিনিউইং এডুকেশন</p><p>পদসংখ্যা: ১</p><p>বেতন স্কেল: ১,০০,০০০-১,৪২,৪০০ টাকা।</p><p><strong>২. পদের নাম: সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার</strong></p><p>বিভাগ: ডাইরেক্টরেট অব কন্টিনিউইং এডুকেশন</p><p>পদসংখ্যা: ১</p><p>বেতন স্কেল: ৭১,০০০-১,৩৪,০০০ টাকা।</p><p><strong>৩. পদের নাম: সায়েন্টিফিক অফিসার</strong></p><p>বিভাগ: ডাইরেক্টরেট অব কন্টিনিউইং এডুকেশন</p><p>পদসংখ্যা: ১</p><p>বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/pmgdt15hp8">প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে</a></aside><p><strong>৪. পদের নাম: নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ)</strong></p><p>বিভাগ: প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়</p><p>পদসংখ্যা: ১</p><p>বেতন স্কেল: ৭১,০০০-১,৩৪,০০০ টাকা।</p><p><strong>৫. পদের নাম: ইন্সট্রুমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (সেন্ট্রাল ইন্সট্রুমেন্ট ওয়ার্কশপ)</strong></p><p>বিভাগ: ডিএইআরএস অফিস</p><p>পদসংখ্যা: ১</p><p>বেতন স্কেল: ৫৮,০০০-১,২৬,৮০০ টাকা।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/employment/f4lxd2c3x2">চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত</a></aside><h3>আবেদনের নিয়ম</h3><p>অনলাইনে <a href="https://recruitment.buet.ac.bd/" target="_blank" rel="nofollow">ওয়েবসাইটে</a>র মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।</p><p>আবেদন ফি</p><p>৬০০ টাকা।</p><p><strong>আবেদনের শেষ তারিখ</strong></p><p>২৫ নভেম্বর ২০২৬</p><p>বিস্তারিত দেখুন <a href="https://regoffice.buet.ac.bd/wp-content/uploads/2026/10/advertisementScan_0001.pdf" target="_blank" rel="nofollow">এই ঠিকানায়</a>।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-news/lz45qrucah">বেসরকারি চাকরিতে বেতন ‘আলোচনা সাপেক্ষে’, দর-কষাকষি কীভাবে করবেন চাকরিপ্রার্থীরা </a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/gdjtmpe5jp">প্রাথমিকে শিক্ষকতায় প্রকৌশলী-চিকিৎসক–এমফিল-পিএইচডিসহ ৩০ ধরনের ডিগ্রিধারীরা</a></aside>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
একটি সম্পর্ক, একটি মিথ্যা, যে কেলেঙ্কারিতে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ সরকার
একটি সম্পর্ক, একটি মিথ্যা, যে কেলেঙ্কারিতে কেঁপে উঠেছিল ব্রিটিশ সরকার

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ঘটনাটি পরিচিত ‘প্রোফুমো অ্যাফেয়ার’ নামে। যৌনসম্পর্কের গুঞ্জন দিয়ে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত এটি আর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কাহিনি থাকেনি।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
মৌসুমী–ওমর সানীর দুই সন্তান কে কোথায়, কী করছেন
মৌসুমী–ওমর সানীর দুই সন্তান কে কোথায়, কী করছেন

মৌসুমী ও ওমর সানী—পর্দার ব্যস্ততা শেষে ব্যক্তিজীবনে বরাবরই তাঁরা দুজন সন্তানদের ভবিষৎ নিয়ে সিরিয়াস। তবে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতি নন তাঁরা।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
৪০ কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, দুই বছরেও চালু হয়নি মেহেরপুর নার্সিং কলেজ
৪০ কোটি টাকার ভবন পড়ে আছে, দুই বছরেও চালু হয়নি মেহেরপুর নার্সিং কলেজ

একাডেমিক ভবন, চারতলা ছাত্রাবাসসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের ২৭ জুন।

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
আখরোট নাকি কাজুবাদাম—হৃদ্‌যন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো?
আখরোট নাকি কাজুবাদাম—হৃদ্‌যন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো?

<p>আখরোট ও কাজুবাদাম দুটোই পুষ্টিকর বাদাম। এগুলো হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতার দিক থেকে দুটোর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য আখরোট এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কাজুবাদাম কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে। </p><h3>মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে আখরোট</h3><figure><img alt="আখরোট" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2025-11-22/cyzr8keq/Cerneaux_de_noix.jpg"><figcaption>আখরোট</figcaption></figure><p>আখরোটে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। বিশেষ করে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড (এএলএ)। উদ্ভিজ্জ খাবারে পাওয়া এ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। প্রতি এক আউন্স (২৮ গ্রাম) আখরোটে প্রায় ২ দশমিক ৫৭ গ্রাম ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। </p><p>গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আখরোট খাওয়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার দক্ষতা ভালো থাকার সম্পর্ক আছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি কম থাকারও সম্পর্ক রয়েছে। আখরোটে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করতে পারে। </p><p>বিষয়টি যদি আরেকটু বুঝিয়ে বলি তাহলে, শরীরে ক্ষতিকর অণু ও সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে শরীরের কোষ, প্রোটিন ও ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। </p><h3>হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য দুটোই ভালো!</h3><p>আখরোট ও কাজুবাদাম দুটোতেই অসম্পৃক্ত চর্বি আছে যা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে গ্রহণ করলে হৃৎস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আখরোটে পলি–আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি। অন্যদিকে, কাজুবাদামে আছে প্রোটিনসহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। কাজুবাদাম রক্তচাপ ও রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। </p><h3>ওজন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে কাজুবাদাম</h3><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-29/ng8t03qw/prothomalo_bangla_2025_07_24_ivohu407_pexels_photo_4663476.avif"><figcaption>ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় কাজুবাদাম ভালো বিকল্প হতে পারে</figcaption></figure><p>একই পরিমাণ আখরোট ও কাজুবাদামের ভেতর কাজুবাদামে ক্যালরি ও চর্বি কম, আর প্রোটিন সামান্য বেশি। প্রোটিন পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনায় কাজুবাদাম ভালো বিকল্প হতে পারে। </p><p>তবে বাদাম খেলেই ওজন কমে না। পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি, কারণ দুই ধরনের বাদামেই ক্যালরি রয়েছে। তবে বাদাম খেলে অন্য খাবার খাওয়ার আগ্রহ কমে আসে।</p><h3>কাজুবাদামের আরও কিছু উপকারিতা</h3><p>কাজুবাদামে কপার, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও জিঙ্ক রয়েছে। কপার শরীরে শক্তি উৎপাদন, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থায় ভূমিকা রাখে। ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।</p><h3>তাহলে কোনটি খাবেন?</h3><p>মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পেতে চাইলে আখরোট ভালো। তুলনামূলক কম ক্যালরি ও বেশি প্রোটিন চাইলে কাজুবাদাম বেছে নিতে পারেন। দুটোই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। </p><p><strong>পরামর্শ:</strong> লবণ বা চিনি মেশানো বাদামের পরিবর্তে লবণবিহীন বাদাম বেছে নিন। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এক ধরনের বাদামই খেতে হবে, এমন নয়। পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম খেলে নানা পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। </p><p><sup>সূত্র: মায়ো ক্লিনিক ও ভেরি ওয়েল হেলথ</sup></p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/8ec9amf8j8">কখন কোন বাদাম খাবেন, বিশ্বের শীর্ষ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের পরামর্শ</a></aside>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
এক দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নামল ফুলকপির দাম, বিপাকে চাষিরা
এক দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নামল ফুলকপির দাম, বিপাকে চাষিরা

বগুড়ার মহাস্থান মোকামে এক দিনে অর্ধেকে নেমেছে ফুলকপির দাম। রাজধানীর বাজারেও কমেছে দাম, তবে কৃষকের লোকসান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ছোট বিমান দিয়ে পরিযায়ী পাখিকে যেভাবে পথ চেনানো হচ্ছে
ছোট বিমান দিয়ে পরিযায়ী পাখিকে যেভাবে পথ চেনানো হচ্ছে

প্রকল্পটির দায়িত্বে থাকা জীববিজ্ঞানী বার্নাত গারিগোস বলেন, বাল্ড আইবিস খুব বুদ্ধিমান ও সামাজিক পাখি। প্রতিটি পাখির আলাদা ব্যক্তিত্ব রয়েছে। নতুন কিছু দেখলেই ঠোঁট দিয়ে সেটি পরীক্ষা করে দেখে

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
সোনালি সংগ্রামী জীবনের গল্প
সোনালি সংগ্রামী জীবনের গল্প

<p>জ্ঞানী, বিনয়ী অথচ প্রবলভাবে দৃঢ়চেতা মাহফুজ আনামকে খুব সম্ভবত নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও লেখক আবুল মনসুর আহমদের সন্তান মাহফুজ আনাম অনেক আগেই নিজেকে বাংলাদেশের একজন সুনাগরিক ও সংবেদনশীল সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও ভয়ডরহীন সাংবাদিকতায় খ্যাতি অর্জন করেছেন দেশে-বিদেশে। পেশাদার ও নির্ভীক সাংবাদিকতার মাধ্যমে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার–কে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। প্রজ্ঞাবান এই সাংবাদিককে পরিচয় করিয়ে দিতে দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘অধ্যাপনায় মাহফুজকে খুবই মানাত, কিন্তু আরও বেশি মানিয়েছে সাংবাদিকতায়। কর্মজীবনের শুরুতেই সে পথপ্রদর্শক হিসেবে পেয়েছিল এস এম আলীকে।…আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে শুরু করে, পরবর্তী সময়ে ঢাকায় এসে এস এম আলীর সঙ্গেই ছিল মাহফুজ আনাম। এস এম আলীর মৃত্যুর পরে দ্য ডেইলি স্টার-এর জন্য তৈরি শূন্যতা পূরণ করার মতো সবচেয়ে যোগ্য লোক ছিল তরুণ মাহফুজ আনাম। ৩০ বছর ধরে সে তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চলেছে। তার সম্পাদনায় ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর মধ্যে দ্য ডেইলি স্টার যে সর্বশ্রেষ্ঠ, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। শুধু তা-ই নয়, ওই পত্রিকা এখন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত ও সম্মানিত।’ (মুখবন্ধ, সময় ও দুঃসময়ের কথা: মাহফুজ আনামের কথা ও কথোপকথন)</p><p>সময় ও দুঃসময়ের কথা সাংবাদিক মাহফুজ আনামের জীবন–আলেখ্য। গ্রন্থটিতে যেমন আছে তরুণ মাহফুজ আনামের সোনালি সমেয়র প্রতিচ্ছবি, তেমনি উঠে এসেছে বস্তুনিষ্ঠ ও আপসহীন সাংবাদিকতায় নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের এক আখ্যান। এ ছাড়া ১৯৭৩ সালে দ্য বাংলাদেশ অবজারভার–এ মাত্র ৩০০ টাকা বেতনে সাংবাদিকতা শুরু করা মাহফুজ আনাম কীভাবে সুবিদিত ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রাণভোমরা হয়ে উঠলেন, সেই রোমাঞ্চকর গল্প উঠে এসেছে ৬টি অধ্যায়ে বিভক্ত এই গ্রন্থে। এতে পাঁচটি পর্বে সাংবাদিক মাহফুজ আনামের কথা থেকে ৩৬টি লেখা স্থান পেয়েছে। অধ্যায়গুলো হলো আত্মজৈবনিক, সাংবাদিকতা ও বাক্স্বাধীনতা, জীবন ও জগৎ-ভাবনা, গণতন্ত্র ও বিবিধ, ভাষণ।</p><p>আত্মজৈবনিক অংশে উঠে এসেছে তরুণ মাহফুজ আনামের প্রথম জীবনের গল্প। যেখানে জাতীয় রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের ছেলে মাহফুজ আনাম রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, ‘আমার জীবনে পিতা-মাতা, পরিবারের পর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ছাত্র ইউনিয়নের। আমার দেশপ্রেমের পূর্ণাঙ্গতা দিয়েছে সংগঠনটি।’ (পৃষ্ঠা: ৫) এ ছাড়া তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে পাকিস্তান আমলের সেই উত্তাল দিনগুলোই তাঁর জীবনের গতিপথ তৈরি করে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সমাজচেতনা—সব মিলিয়ে একটা সোনালি সময় পার করেছি।’ (পৃষ্ঠা:৬)</p><blockquote>সময় ও দুঃসময়ের কথা সাংবাদিক মাহফুজ আনামের জীবন–আলেখ্য। গ্রন্থটিতে যেমন আছে তরুণ মাহফুজ আনামের সোনালি সমেয়র প্রতিচ্ছবি, তেমনি উঠে এসেছে বস্তুনিষ্ঠ ও আপসহীন সাংবাদিকতায় নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রামের এক আখ্যান। এ ছাড়া ১৯৭৩ সালে দ্য বাংলাদেশ অবজারভার–এ মাত্র ৩০০ টাকা বেতনে সাংবাদিকতা শুরু করা মাহফুজ আনাম কীভাবে সুবিদিত ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রাণভোমরা হয়ে উঠলেন, সেই রোমাঞ্চকর গল্প উঠে এসেছে ৬টি অধ্যায়ে বিভক্ত এই গ্রন্থে। এতে পাঁচটি পর্বে সাংবাদিক মাহফুজ আনামের কথা থেকে ৩৬টি লেখা স্থান পেয়েছে। অধ্যায়গুলো হলো আত্মজৈবনিক, সাংবাদিকতা ও বাক্স্বাধীনতা, জীবন ও জগৎ-ভাবনা, গণতন্ত্র ও বিবিধ, ভাষণ।</blockquote><p>১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। যুদ্ধদিনে কমিশন পাওয়া অফিসার্সদের দ্বিতীয় ব্যাচের সদস্য ছিলেন। যদিও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেনাবাহিনী নয়; যোগ দিয়েছেন সাংবাদিকতায়, এরপর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউনেসকোয়। এরপর আসে দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার প্রসঙ্গ। বিদেশে নিরাপদ চাকরি ফেলে বরেণ্য সাংবাদিক এস এম আলীর সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টার প্রতিষ্ঠা ও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো মাহফুজ আনামের জীবনের এক সাফল্যজনক অধ্যায়। বলা যায়, সংগ্রামী অধ্যায়। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৯১ সালের ১৪ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করেছিল দ্য ডেইলি স্টার। এরপর নানান চড়াই–উতরাই, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগিতা—এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। গ্রন্থটির সাংবাদিকতা ও বাক্স্বাধীনতা অংশে স্থান পাওয়া ৯টি লেখা শুধু মাহফুজ আনামের জীবনের অংশ নয়, বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসের অনন্য দলিল।</p><p>গ্রন্থটির চতুর্থ অধ্যায়ে মাহফুজ আনামের ১০টি ভাষণ স্থান পেয়েছে। অত্যন্ত সুলিখিত ও সুচিন্তিত এই ভাষণগুলোর বেশির ভাগই সাংবাদিকতাকেন্দ্রিক। বাংলাদেশে যাঁরা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বাক্স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য এই ভাষণগুলো অবশ্যপাঠ্য। বিশেষ করে ‘সাংবাদিকরা কেবল সাংবাদিকতাকে বাঁচাতে পারেন’—শিরোনামের লেখাটি বাংলাদেশে সাংবাদিকতার টিকে থাকার ক্ষেত্রে এক বিশেষ সংযোজন। আমার মনে হয়, ‘সাংবাদিকরা কেবল সাংবাদিকতাকে বাঁচাতে পারেন’—এই শিরোনামই বাংলাদেশের সাংবাদিকতা নিয়ে একটি অমোঘ বার্তা দেয়।</p><blockquote>বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান একটি বিশেষ অধ্যায়। পরিণত বয়সে অত্যন্ত তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে এই অভ্যুত্থান পর্যবেক্ষণ করেছেন সাংবাদিক মাহফুজ আনাম। এ বিষয়ে পাঁচটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আনামের বিশ্লেষণ ও প্রত্যাশা যেন বাংলাদেশের প্রতিটি সংবেদনশীল নাগরিকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। খুব সম্ভবত মাহফুজ আনামই বাংলাদেশের একমাত্র সাংবাদিক, যিনি অনেক কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে ১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান দেখেছেন। এ ছাড়া এই সাক্ষাৎকারগুলোতে অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা, গুজব, অপপ্রচার ও অপতথ্যের ভয়ংকর বিস্তার নিয়েও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মাহফুজ আনাম।</blockquote><p>বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান একটি বিশেষ অধ্যায়। পরিণত বয়সে অত্যন্ত তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে এই অভ্যুত্থান পর্যবেক্ষণ করেছেন সাংবাদিক মাহফুজ আনাম। এ বিষয়ে পাঁচটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মাহফুজ আনামের বিশ্লেষণ ও প্রত্যাশা যেন বাংলাদেশের প্রতিটি সংবেদনশীল নাগরিকের আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। খুব সম্ভবত মাহফুজ আনামই বাংলাদেশের একমাত্র সাংবাদিক, যিনি অনেক কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে ১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থান দেখেছেন। এ ছাড়া এই সাক্ষাৎকারগুলোতে অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা, গুজব, অপপ্রচার ও অপতথ্যের ভয়ংকর বিস্তার নিয়েও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন মাহফুজ আনাম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘কিছু ইসলামিক ঘটনা দেখে, দয়া করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন না যে আমরা একটি মৌলবাদী দেশে পরিণত হচ্ছি। এটি একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং এখানে খুব নিবেদিতপ্রাণ মুসলমান রয়েছে। যারা ধর্মে বিশ্বাস করে, তারা দিনে পাঁচবার মসজিদে যায়। এটি দেখে তাদের পুরো দৃষ্টিভঙ্গিকে সংজ্ঞায়িত করা উচিত নয়। এর অর্থ এই নয় যে তারা একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী বা অন্য কিছুর অংশ।’ (পৃষ্ঠা:২১৭)</p><p>মাহফুজ আনামের সঙ্গে যাঁদের পরিচয় আছে, তাঁরা জানেন সাংবাদিক মাহফুজ আনাম একজন প্রগতিশীল, প্রজ্ঞাবান ও নিপাট ভদ্রলোক। তাঁর বিনয় সর্বজনবিদিত। এই মানুষটির জীবন–আলেখ্য ‘সময় ও দুঃসময়ের কথা’ একজন পাঠককে নিঃসন্দেহে আনন্দ দেবে, উন্মুক্ত করবে চিন্তার দুয়ার।</p><p>সাংবাদিক মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার ইতিহাসের বড় অংশ। গ্রন্থটিতে বিভিন্ন সময়ের কিছু প্রাসঙ্গিক ছবি ব্যবহার করা যেত। আর হয়তো দামও একটু কম রাখা যেত। আমি মনে করি, সাংবাদিকতা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গ্রন্থটি অবশ্যপাঠ্য হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে একটু সাশ্রয়ী মূল্যে পেপারব্যাক প্রকাশনার কথা দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড বিবেচনা করতে পারে।</p><p>...</p><p><strong>সময় ও দুঃসময়ের কথা : মাহফুজ আনামের কথা ও কথোপকথন</strong></p><p>গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: ইমরান মাহফুজ</p><p>প্রকাশক: দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড</p><p>প্রকাশ: এপ্রিল ২০২৬</p><p>প্রচ্ছদ: পরাগ ওয়াহিদ</p><p>পৃষ্ঠা: ২৫২; মূল্য: ৯৫০ টাকা</p>

অক্টোবর ৩১, ২০২৬
Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

সেতু আছে, পথ হলো না

মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।