টেকনাফে অপহৃত ৪ যুবক উদ্ধার, সন্দেহভাজন আটক
চাওয়া-পাওয়ার হিসাবটা মিলে গিয়েছিল অনেক আগেই। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা- জাতীয় দলের হয়ে জেতার মতো প্রায় সবকিছুই জিতেছেন লিওনেল মেসি।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একুশে বিজনেস || বিপ্লব কুমার রায়-সিইও, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড।
হিন্দু ধর্মের মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরিয়ে সড়ক প্রশস্ত করার কাজ শুরু হয়, আর তা নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, মেলার সময় বাড়তি যানবাহনের চাপ ও ভক্তদের যাতায়াত সহজ করার জন্য ওই সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি।
সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট প্যাকেটজাতে সংশোধন বিধি জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ নাঅনুযায়ী, কোনো প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান আমিষজাত না নিরামিষজাত, তা প্যাকেটের গায়ে নির্দিষ্ট চিহ্নের মাধ্যমে জানাতে হবে।
কক্সবাজারে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম) চলন্ত অবস্থায় চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সীমা আক্তার নামে এক নারী পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামকে তার এলাকার ‘বড় ভাই’ পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানার কার্যক্রম ও তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগের সত্যতাও আলাদাভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে সহকর্মীর ওপর হামলা ও বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভবত একাই এই কাজ করেছিলেন। ইসরায়েলি সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে রবিবার সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা। তুষারের ঘন পর্দা ভেদ করে কয়েক মিটারের বেশি সামনে দেখা যাচ্ছিল না। হিমশীতল বাতাস শরীরের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুসমান নরম বরফে ডুবে যাচ্ছিল।
টরন্টো শহরের শীতের আলাদা এক ভাষা আছে।সেই ভাষা শব্দে নয়, তুষারে লেখা। জানালার ওপারে নিরবচ্ছিন্ন সাদা ঝরনা নেমে আসে, রাস্তার আলো কুয়াশা আর বরফের ভেতর ম্লান হয়ে যায়, আর মানুষ বুঝতে শেখে, পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর নীরবতাও কখনো কখনো খুব জোরে কথা বলে।সেদিনও তেমনই এক সন্ধ্যা।বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রি। ফায়ারপ্লেসে জ্বলতে থাকা আগুনের লালচে আলো ঘরের দেয়ালে ছায়া এঁকে দিচ্ছিল। হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ। আমরা তিনজন বসে গল্প করছিলাম।সায়েম ভাই, আমাদের কোম্পানির সিনিয়র লিড ইঞ্জিনিয়ার। প্রবাসে এসে এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়, যাদের ঘরে ঢুকলেই মনে হয় বহুদিন পর নিজের বাড়িতে ফিরেছি। ভাবিও ঠিক তেমনই। তার আন্তরিকতা কখনো অতিথিপরায়ণতা বলে মনে হয় না; মনে হয় বড় বোনের মমতা।কফির কাপ নামিয়ে ভাবি হঠাৎ আমার দিকে তাকালেন।—নীল, একটা কথা বলব?মৃদু হেসে বললাম,—বলুন, ভাবি।—রাগ করবে না তো?—আপনার ওপর রাগ করার সাহস আমার নেই।তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—এত বছর হয়ে গেল। ক্যারিয়ার হয়েছে, নিজের অবস্থান হয়েছে। কিন্তু নিজের জন্য কী করলে? একা একা আর কত দিন? বিয়ে করার কথা কখনো ভাবো না?আমি হেসে বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইলাম।—সবাইকে দিয়ে সবকিছু হয় নাকি, ভাবি?সায়েম ভাই চশমাটা খুলে টেবিলে রাখলেন।—তোমার এই কথাটাই আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়। সারা দিন অফিসে তোমাকে দেখি। কাজে মন, বইয়ে মন, গিটার বাজাও, ভ্রমণ করো। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, জীবন একেবারে গুছিয়ে নিয়েছ। অথচ দিনের শেষে তুমি একাই ফিরে যাও।একটু থেমে তিনি আবার বললেন,—কখনো কি কাউকে ভালোবেসেছিলে?ঘরটা হঠাৎ যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল।ফায়ারপ্লেসের কাঠে আগুন ফেটে ছোট্ট একটা শব্দ হলো।আমি উত্তর দিলাম না।জানালার ওপারে তাকিয়ে রইলাম। সাদা তুষারের ভেতর হঠাৎ ভেসে উঠল বহু বছরের পুরোনো আরেকটা আকাশ। অনেক দূরের একটা বিকেল। আমি ধীরে বললাম,—মানুষ কখনো কখনো একটা গল্প কাউকে বলে না। কারণ, গল্পটা বললে সে আবার সেই সময়ে ফিরে যায়।ভাবি মৃদুস্বরে বললেন,—আজ ফিরে যাও। আমরা শুনব।আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। কফির মগটা টেবিলে রেখে বললাম,—জানেন ভাবি, পৃথিবীর সব ভালোবাসা মিলনের গল্প নয়। কিছু ভালোবাসা শুধু নীরবে মানুষের ভেতরে বেঁচে থাকে। কারও কাছে কোনো দাবি করে না, কোনো অধিকারও চায় না। শুধু মানুষটাকে সারা জীবন বদলে দেয়। আমার গল্পটাও তেমন।আজ থেকে প্রায় দশ বছর আগের কথা। তখন ঢাকার উত্তরায় থাকতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। বাবার পক্ষে নিয়মিত টাকা পাঠানো সম্ভব হতো না। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা, বাসাভাড়া আর খরচ চালাতাম। উত্তরার একটা পুরোনো বাড়ির চিলেকোঠার ছোট্ট ঘর ছিল আমার ঠিকানা। ঘরটা বড় ছিল না। একটা খাট, একটা পড়ার টেবিল, বইয়ের তাক আর জানালার পাশে রাখা পুরোনো একটা গিটার। কিন্তু আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ছিল ছাদ।সন্ধ্যা নামার আগে পড়ন্ত রোদ যখন আকাশজুড়ে লালচে রং ছড়িয়ে দিত, আমি গিটার হাতে ছাদে উঠে যেতাম। কখনো বাজাতাম। কখনো বই পড়তাম। কখনো কিছুই করতাম না। শুধু আকাশ দেখতাম। হয়তো মানুষ একা থাকলে আকাশের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।ঠিক এমনই এক বিকেলে প্রথম তাকে দেখি। আমাদের পাশের ছয়তলা বাড়ির একটি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল সে। অদ্ভুত শান্ত একটি মেয়ে। তার হাতে কোনো মোবাইল ছিল না। কোনো বইও নয়। সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল উড়ছিল।কিন্তু আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল তার চোখ। কিছু কিছু চোখ থাকে, যেগুলোকে সুন্দর বলা যায় না। কারণ, সুন্দর শব্দটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।সেই চোখ দুটো যেন নিজের ভেতর একটা বিকেল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি তার নাম জানতাম না। কখনো জানার চেষ্টাও করিনি। নিজের মনেই একটা নাম দিয়েছিলাম—‘সুনয়না’।নামটা শুধু আমার ছিল। আমার কল্পনার। আমার নীরবতার। তার বাস্তব নাম কী ছিল, তখনো জানতাম না।তার পর থেকে প্রতিদিন বিকেলে আমি অপেক্ষায় থাকতাম। ছাদে উঠতাম। আর কিছুক্ষণ পর সে এসে দাঁড়াত সেই বারান্দায়।আমাদের মধ্যে কখনো কথা হয়নি। চোখাচোখিও খুব কম। তবু মনে হতো, বিকেল নামার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের জীবন অদৃশ্য কোনো সেতুতে এসে মিলেছে।কখনো তাকে অনুসরণ করিনি। তার সম্পর্কে খোঁজ নিইনি। কারণ, দূরত্বেরও একটা সৌন্দর্য আছে। সব মানুষকে কাছে গিয়েই জানতে হয় না। কিছু মানুষ দূর থেকেই হৃদয়ের ভেতর জায়গা করে নেয়।এভাবেই কেটে গেল কয়েক মাস। একদিন বিকেলে ছাদে উঠে দেখলাম, বারান্দাটা ফাঁকা। ভাবলাম, হয়তো কোথাও গেছে।পরদিনও এল না।তারপর আরও এক দিন।এক সপ্তাহ।এক মাস।ঋতু বদলে গেল।আকাশের রং বদলে গেল। কিন্তু সেই বারান্দায় আর কাউকে দেখা গেল না। বুঝলাম, কিছু অপেক্ষার কোনো উত্তর হয় না।তারপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষ এসে গেল। পড়াশোনা, প্রজেক্ট, ইন্টারভিউ—জীবন অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করল। তবু মাঝেমধ্যে বিকেলের আকাশ দেখলে মনে হতো, কোথাও যেন একটা বারান্দা এখনো খালি দাঁড়িয়ে আছে। আর সেখানে কেউ একজন আর কখনো ফিরে আসবে না।অফিসে যোগ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় প্রথমবার তার সঙ্গে কথা হলো।সেদিন দুপুরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। কাচঘেরা অফিসের জানালায় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো লম্বা দাগ টেনে নিচে নেমে আসছিল। ক্যাফেটেরিয়ায় বসে এক কাপ কফি হাতে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। হঠাৎ পাশে এসে কেউ বলল,—এই সিটটা খালি?মুখ তুলে তাকাতেই বুকের ভেতরটা অকারণ ধক করে উঠল।সে।উত্তরার সেই বারান্দার মেয়েটি।আমি সামান্য হাসলাম।—অবশ্যই।সে বসে কফির কাপ নামিয়ে বলল,—আমি নতুন। এখনো কাউকে তেমন চিনি না।—আমিও খুব পুরোনো নই।সেদিনের কথোপকথন ছিল খুব সাধারণ। অফিস, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার যানজট; এর বেশি কিছু নয়। আশ্চর্যের বিষয়, কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলতে কোনো আয়োজন লাগে না। যেন বহুদিনের চেনা।তার নাম জানলাম, সুস্মিতা।আমি নামটা মনে রাখলাম। তবু নিজের ভেতরে সে রয়ে গেল অন্য নামে—‘সুনয়না’।এরপর ধীরে ধীরে পরিচয় বাড়ল।অফিস শেষে মাঝেমধ্যে সবাই মিলে চা খেতে যেতাম। কোনো প্রজেক্ট শেষ হলে পুরো টিম রাত পর্যন্ত কাজ করত। সেই সব দীর্ঘ সন্ধ্যায় সুস্মিতাকে নতুন করে চিনতে শুরু করলাম।সে খুব কম কথা বলত। অকারণ হাসত না। তবে কেউ সমস্যায় পড়লে সবার আগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত।একদিন জানতে পারলাম, সে রবীন্দ্রসংগীত শেখে।আরেক দিন শুনলাম, অবসরে জলরঙে ছবি আঁকে।আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, মানুষকে দূর থেকে দেখলে তার সৌন্দর্য দেখা যায়; কাছে এলে দেখা যায় তার নীরবতা। আর নীরবতাই একজন মানুষকে সবচেয়ে আলাদা করে।সেদিন অফিস থেকে বেরোতে বেরোতে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বৃষ্টি থেমেছে। রাস্তার বাতিগুলো ভেজা ডামারের ওপর হলুদ আলো ফেলছে। আমি বললাম,—কফি খাবেন?সে একটু ভেবে মৃদু হেসে বলল,—আজ খাওয়া যেতে পারে।ছোট্ট একটি ক্যাফেতে আমরা জানালার পাশে বসলাম। বাইরে গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় ভেঙে পড়ছিল।অনেকক্ষণ গল্প হলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি, বই, সিনেমা, ভ্রমণ, প্রিয় ঋতু। কথার ফাঁকে হঠাৎ সে জিজ্ঞেস করল,—আপনি এত চুপচাপ কেন?আমি হেসে বললাম,—সবাই সব কথা বলতে পারে না।সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,—আমার মনে হয়, যারা কম কথা বলে, তাদের ভেতরে অনেক গল্প জমে থাকে।আমি উত্তর দিলাম না। সত্যিই আমার ভেতরে একটি গল্প ছিল। যার শুরু হয়েছিল উত্তরার এক ছাদের বিকেলে।বহুবার ভেবেছি, আজ বলব। বলব, কয়েক বছর আগে প্রতিদিন বিকেলে আমি এক অচেনা মেয়েকে আকাশ দেখতে দেখতাম। বলব, তার জন্যই আমি সন্ধ্যার অপেক্ষা করতাম। বলব, তাকে না জেনেই একটা নাম দিয়েছিলাম।কিন্তু মানুষের জীবনে কিছু মুহূর্ত আসে, যখন সত্যি কথাটাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে। আমি পারলাম না। শুধু কফির কাপে আঙুল ঘুরিয়ে যেতে লাগলাম।ঠিক তখনই তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে তার মুখে খুব কোমল একটা হাসি ফুটে উঠল। সে ফোন ধরল। নরম গলায় বলল,—হ্যাঁ... আমি বের হচ্ছি... আর পাঁচ মিনিট।ফোন রেখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—আমাকে উঠতে হবে।আমি শুধু মাথা নাড়লাম।ক্যাফের দরজার বাইরে এসে দেখি, একটা গাড়ি ধীরে ধীরে এসে থামল। গাড়ি থেকে একজন নেমে ছাতা খুলে তার দিকে এগিয়ে এল। সুস্মিতার মুখে যে হাসি ফুটে উঠল, তাতে কোনো দ্বিধা ছিল না, কোনো অভিনয়ও নয়। সে মানুষটিকে এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে দেখল, যেমন মানুষ নিজের আপনজনকে দেখে। বিদায় নেওয়ার আগে সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,—কাল দেখা হবে।আমি বললাম,—ভালো থাকবেন।গাড়িটা ধীরে ধীরে দূরে মিলিয়ে গেল।আমি অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। বৃষ্টি আবার শুরু হয়েছে। ভেজা শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ভাঙার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। সেগুলো শুধু মানুষের ভেতরেই প্রতিধ্বনি তোলে।সেদিন রাতেই প্রথম বুঝেছিলাম, ভালোবাসা সব সময় কাউকে পাওয়ার নাম নয়। কখনো কখনো সময়মতো কিছু না বলার নামও ভালোবাসা।পরদিন অফিসে গিয়ে সুস্মিতাকে দেখলাম না। ভাবলাম, হয়তো ছুটিতে আছে।পরদিনও এল না।এরপর আরও কয়েক দিন কেটে গেল।কাজের ব্যস্ততা আমাকে ডেস্কে আটকে রাখলেও মনটা বারবার করিডরের দিকে চলে যেত। এক বিকেলে সাহস করে মানবসম্পদ বিভাগের এক সহকর্মীকে জিজ্ঞেস করলাম,—সুস্মিতা কি ছুটিতে?তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—জানেন না? ওর স্বামীকে সিঙ্গাপুরে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তাড়াহুড়ো করেই ও চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। যাওয়ার আগেই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছে। আপনি সেদিন ক্লায়েন্ট মিটিংয়ে ছিলেন, তাই হয়তো দেখা হয়নি।আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করিনি। অদ্ভুতভাবে বুকের ভেতর কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। শুধু একটা নিঃশব্দ শূন্যতা নেমে এল, যেন বহু বছর আগে উত্তরার সেই বারান্দাটা আবার একবার খালি হয়ে গেল।এরপর জীবন খুব দ্রুত বদলে গেল। কাজের চাপ বাড়ল। পদোন্নতি হলো। নতুন শহর, নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। একসময় কানাডার একটা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। বন্ধুরা বলেছিল,—স্বপ্নপূরণ হয়ে গেল!হয়তো সত্যিই হয়েছিল। কিন্তু মানুষ বুঝতে শেখে, সব স্বপ্নের সঙ্গে সব আনন্দ আসে না। কিছু সাফল্য খুব নিঃসঙ্গও হয়।টরন্টোতে আসার পর প্রথম শীতেই আমি বুঝলাম, তুষার শুধু শহর ঢেকে দেয় না, মানুষের স্মৃতিকেও সাদা করে দিতে চায়। কিন্তু সব স্মৃতি ঢেকে যায় না। কখনো কখনো কোনো কফির গন্ধ, কোনো বিকেলের আলো কিংবা কোনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী মানুষের ছায়া হঠাৎ বহু বছর আগের দরজা খুলে দেয়। সেই দরজার ওপাশে এখনো দাঁড়িয়ে আছে উত্তরার সেই বিকেল।আর একটি নাম, যে নাম পৃথিবীর কেউ জানত না। শুধু আমি।সুনয়না।’ফায়ারপ্লেসের আগুন তখন ধীরে ধীরে নিভে আসছে। কথা শেষ করতেই ঘরজুড়ে দীর্ঘ নীরবতা নেমে এল। ভাবি কফির ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কাপটার দিকে তাকিয়ে রইলেন। সায়েম ভাই উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,—তাহলে তুমি তাকে কোনো দিন জানাওনি?আমি মৃদু হেসে মাথা নাড়ালাম।—না।—আফসোস হয় না?জানালার বাইরে তাকালাম। তুষার পড়ছে। প্রতিটি সাদা কণা নিঃশব্দে মাটিতে মিশে যাচ্ছে। আমি ধীরে বললাম,—আফসোস হয় সেই ভালোবাসার জন্য, যেটা কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের করতে হয়। আমার গল্পে তেমন কিছু ছিল না। সে তার জীবন নিয়ে সুখী ছিল। আমি কেন আমার অনুভূতির ভার তার কাঁধে চাপিয়ে দিতাম?ভাবি খুব আস্তে বললেন,—কিন্তু তুমি তো একা রয়ে গেলে।আমি হেসে উত্তর দিলাম,—মানুষ সব সময় কারও অভাবে একা থাকে না। কখনো কখনো একটি সুন্দর স্মৃতির সঙ্গেও সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।ঘড়ির কাঁটা তখন রাত বারোটা ছুঁয়েছে। বাইরে তুষারপাত আরও ঘন হয়েছে। বিদায় নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়াতেই সায়েম ভাই আমার কাঁধে হাত রাখলেন।—নীল...—জি?—জীবনে যদি আবার কোনো বিকেল এসে দাঁড়ায়, এবার যেন চুপ করে থেকো না।আমি কোনো উত্তর দিলাম না। শুধু মৃদু হাসলাম।বাড়ি ফেরার পথে গাড়ির জানালার বাইরে অসংখ্য তুষারকণা উড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে কাউকে ভুলে যায় না। সে শুধু স্মৃতির সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যায়।সেদিন রাতে ঘরে ফিরে বহুদিন পর জানালার পাশে দাঁড়ালাম। দূরে বরফে ঢাকা শহর ঘুমিয়ে আছে।অন্ধকার কাচে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মনে হলো, সময় আমার চুলে রুপালি রং ছড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু উত্তরার সেই একফালি আকাশ এখনো কোথাও রয়ে গেছে।আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনায় আবার একটি বারান্দা ভেসে উঠল। সেখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ আজও স্পষ্ট নয়। শুধু চোখ দুটো স্পষ্ট। আমি নিঃশব্দে বললাম,—ভালো থেকো, সুনয়না।জানালার ওপারে তুষার পড়তেই থাকল। আর আমি বুঝলাম, কিছু ভালোবাসার শেষ অধ্যায় মিলনে লেখা হয় না। সেগুলো লেখা থাকে নীরবতায়।উত্তরা, ঢাকা
মেকআপ মানেই যেন অনেকগুলো প্রোডাক্ট, ঘন্টার পর ঘন্টা প্রস্তুতি। কিন্তু বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুর সাম্প্রতি তার ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন নিজের বিউটি লুক তৈরির পেছনের গল্প। যেখানে তিনি বলেছেন মাত্র তিনটি ধাপে তার সাজ হয়ে উঠেছে পরিপাটি, ফ্রেশ ও নেচারাল।প্রতিদিনের মেকআপে খুব বেশি কিছু না করেও কীভাবে ফ্রেশ ও গোছানো দেখানো যায়, জাহ্নবীর এই রুটিন তারই সহজ উদাহরণ। আরও মজার বিষয়, মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জের ওপর খুব বেশি নির্ভর না করে আঙুল দিয়েই তিনি বেশির ভাগ প্রোডাক্ট ব্লেন্ড করেছেন। ফলে পুরো সাজটি যেমন দ্রুত করা যায়, তেমনি এর ফিনিশও থাকে বেশ স্বাভাবিক। তার সাজের মূল তিনটি বিষয় হচ্ছে সতেজ বেস, নরম গোলাপি ব্লাশ আর নিউড-পিঙ্ক ঠোঁট। View this post on Instagram A post shared by Janhvi Kapoor (@janhvikapoor) ভারী বেস নয়, শুরু হোক কনসিলার দিয়েজাহ্নবীর রুটিনের প্রথম ধাপ কনসিলার। পুরো মুখে ভারী ফাউন্ডেশন লাগানোর বদলে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করছেন তিনি। চোখের নিচে সরাসরি অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে অল্প প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে ত্বকের রং কিছুটা সমান দেখালেও মুখ ভারী হয়ে যাচ্ছে না। এই ধরনের মেকআপে ব্লেন্ড করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্তর বাড়ানো যায়, এমন কনসিলারই ভালো। একবারে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে লাগানোই মূল কৌশল।গালে নরম গোলাপি আভাবেসের পর জাহ্নবী ব্যবহার করছেন সফট পিঙ্ক লিকুইড ব্লাশ। গালে সরাসরি অল্প ব্লাশ নিয়ে আঙুল দিয়ে ট্যাপ করে ব্লেন্ড করেছেন তিনি। ফলে গালে ভারী রঙের বদলে এসেছে হালকা, সতেজ আভা। এই লুকের জন্য ক্রিম বা লিকুইড ব্লাশ বেশ কার্যকর। কারণ অল্প অল্প করে রং বাড়ানো যায়, ফলে মুখে ব্লাশের দাগও স্পষ্ট থাকে না।ঠোঁটে নিউড-পিঙ্কজাহ্নবীর পুরো মেকআপের সঙ্গে ঠোঁটের রংও বেশ নরম। শেষ ধাপে তিনি ব্যবহার করেছেন নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। গালের গোলাপি আভা আর ঠোঁটের একই পরিবারের রং পুরো লুকটিকে করেছে আরও গোছানো। খুব ফ্যাকাশে বেইজ নিউডের বদলে গোলাপি, রোজি বা হালকা ব্রাউন আন্ডারটোনের নিউড বেছে নিলে ঠোঁট আরও স্বাভাবিক দেখাবে। দিনের সাজে লিপস্টিক পুরো ঠোঁটে না দিয়ে মাঝখানে অল্প লাগিয়ে আঙুল দিয়ে ছড়িয়ে দিলেও পাওয়া যাবে আরও নরম ফিনিশ।চোখে শুধু এক কোট মাসকারাজাহ্নবী যে তিনটি মূল ধাপ দেখিয়েছেন, সেখানে মাসকারা ছিল না। তাই এটি মূল রুটিনের অংশ নয়; চাইলে বাড়তি সংযোজন হিসেবে রাখা যায়। বিশেষ করে দিনের সাজ সন্ধ্যার দিকে নিতে চাইলে এক বা দুই কোট মাসকারাই যথেষ্ট। এতে চোখ কিছুটা বেশি স্পষ্ট হবে, কিন্তু পুরো মেকআপের স্বাভাবিক মেজাজ নষ্ট হবে না।ভ্রু থাকুক নেচারালএই লুকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভ্রু। খুব গাঢ় করে আঁকার বদলে যেখানে ফাঁকা আছে, শুধু সেখানে হালকা করে ভরাট করাই যথেষ্ট। এরপর স্পুলি দিয়ে ভ্রু আঁচড়ে নিলে রংটা নরম হয়ে যাবে। এ জন্য পেন্সিল ব্যবহার করা যেতে পারে। লক্ষ্য হবে ভ্রুকে স্পষ্ট করে আঁকা নয়, বরং একটু গোছানো দেখানো।ত্বক যেন ত্বকের মতোই দেখায়জাহ্নবীর মেকআপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এটাই। নিজের ত্বকের রং পুরোপুরি ঢেকে ফেলার চেষ্টা নেই। ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে প্রয়োজনমতো কনসিলার ব্যবহার করায় ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়। এই লুক করতে গিয়ে সবচেয়ে সহজ ভুল হতে পারে বারবার কভারেজ বাড়ানো। যেখানে প্রয়োজন শুধু সেখানেই কনসিলার ব্যবহার করে থেমে যাওয়াই ভালো। এতে মেকআপ থাকবে হালকা, আর মুখও দেখাবে আরও স্বাভাবিক।ব্রাশ নয়, আঙুলেই ব্লেন্ডজাহ্নবীর রুটিন থেকে সবচেয়ে সহজে নেওয়া যায় যে কৌশল, সেটি হলো আঙুল দিয়ে মেকআপ ব্লেন্ড করা। কনসিলার ও ব্লাশের মতো লিকুইড বা ক্রিম প্রোডাক্ট অল্প করে আঙুলে নিয়ে ত্বকে ট্যাপ করে লাগালে দ্রুত কাজ হয় এবং প্রোডাক্টের পরিমাণও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত সকালে এই পদ্ধতি বেশ সুবিধাজনক। একগাদা ব্রাশ বের করার দরকার নেই, আবার অতিরিক্ত মেকআপ করার ঝুঁকিও কমে।জাহ্নবীর তিন ধাপের সহজ রুটিনপুরো রুটিনকে একেবারে সহজ করে বললে, কনসিলার, ব্লাশ, নিউড লিপ। প্রথমে অল্প কনসিলার দিয়ে ত্বকের প্রয়োজনীয় অংশ সমান করুন। এরপর গালে নরম গোলাপি আভা দিন। সবশেষে নিউড-পিঙ্ক লিপ কালার। সব প্রোডাক্টই হালকা হাতে ব্যবহার করে আঙুল দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করতে হবে। এর সঙ্গে আরও একটু সাজানো লুক চাইলে যোগ করা যায় মাসকারা ও হালকা ভ্রু ডেফিনিশন। তবে মূল সৌন্দর্যটা থাকবে কম প্রোডাক্টে, হালকা হাতে এবং ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায়।জাহ্নবী কাপুরের সাম্প্রতিক মেকআপ রুটিন শেষ পর্যন্ত খুব সাধারণ একটি কথাই মনে করিয়ে দেয়। দৈনন্দিন গ্ল্যামের জন্য সবসময় অনেক কিছু দরকার হয় না। ত্বককে সমান করা, গালে একটু রং আর ঠোঁটে সামান্য উষ্ণতা এই তিনটিই যথেষ্ট হতে পারে। আসল কৌশল হলো মেকআপের স্তর হালকা রাখা এবং ত্বককে ত্বকের মতোই থাকতে দেওয়া।
ফ্যাশনের দুনিয়ায় কিয়ারা আদভানির সবচেয়ে বড় শক্তি তার বহুমুখী স্টাইল সেন্স। রেড কার্পেটের ঝলমলে গ্ল্যামার, ফটোশুট লুক কিংবা দৈনন্দিন পোশাক-প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মতো করে স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে জানেন এই অভিনেত্রী। কখনো শাড়ি বা অন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় পোশাকে তিনি হয়ে ওঠেন মোহময়ী, আবার কখনো পশ্চিমা পোশাকে ফুটিয়ে তোলেন আধুনিকতার ছাপ। তার সাম্প্রতিক ফটোশুটের লুকটিও সেই বহুমুখী ফ্যাশন ভাবনারই আরেকটি উদাহরণ। এবার কিয়ারার পছন্দ ছিল স্ট্রাকচার্ড পাওয়ার স্যুট। ক্যামেল-বেইজের একরঙা এই সাজে ছিল টেইলারিংয়ের নিখুঁত ছাপ, পুরুষালি পোশাকের অনুপ্রেরণা এবং নারীর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি-সবকিছুর সুন্দর সমন্বয়। পুরো লুকটি যেন দেখিয়ে দিল, পাওয়ার ড্রেসিং মানেই শুধু কঠোর বা ফরমাল হওয়া নয়, সঠিক কাট, রং ও স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে সেটিই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গ্ল্যামারাস। কিয়ারার স্যুটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্ট্রাকচার্ড ওয়েস্টকোট। শরীরের উপরের অংশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানানসই এই ওয়েস্টকোটে ছিল গভীর ভি-নেকলাইন। সামনে একই ক্যামেল-বেইজ রঙের ছোট ছোট বোতামের সারি পোশাকটিতে এনে দিয়েছে পরিপাটি ফিনিশিং। ওয়েস্টকোটের ভেতরে কিয়ারা পরেছিলেন দুই রঙের বেইজ ও সাদা শার্ট। শার্টটির উষ্ণ বেইজ রঙের মূল অংশ ওয়েস্টকোটের সঙ্গে মিশে গেলেও নজর কেড়েছে এর ওভারসাইজড সাদা কলার। সঙ্গে ছিল স্টাইলিশ ফ্রেঞ্চ কাফ, যা পুরো পোশাকে এনে দিয়েছে খানিকটা ক্লাসিক ফরমাল আবহ। এর ওপর ছিল একই রঙের একটি স্ট্রাকচার্ড জ্যাকেট। টেইলারড শোল্ডার, পরিষ্কার ল্যাপেল এবং নিখুঁত কাটিংয়ের কারণে জ্যাকেটটি কিয়ারার সিলুয়েটকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে। নিচে ছিল একই ক্যামেল-বেইজ শেডের হাই-ওয়েস্টেড ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স। প্যান্টের বাড়তি ভলিউম একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে, অন্যদিকে পুরো পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও বিলাসবহুল আবহ। প্রচলিত টাইয়ের বদলে কিয়ারার গলায় দেখা গেছে চিকন বেইজ নেকটাই। কলারের নিচে পরিপাটি করে গুঁজে রাখা এই টাই পুরুষদের ক্লাসিক টেইলারিংয়ের ছোঁয়া এনে দিয়েছে নারীর পাওয়ার স্যুটে। পুরো পোশাকে থাকা সূক্ষ্ম প্লেড প্যাটার্নও লুকটিকে একঘেয়ে হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। জুতার ক্ষেত্রেও টোনাল স্টাইলিংয়ের পথেই হেঁটেছেন কিয়ারা। পায়ে ছিল উটের রঙের পয়েন্টেড স্টিলেটো পাম্প। সূচালো অগ্রভাগের এই জুতা তার পায়ের রেখাকে আরও দীর্ঘ দেখিয়েছে এবং মাথা থেকে পা পর্যন্ত একরঙা বিন্যাসটিও অটুট রেখেছে। অ্যাক্সেসরিজে রেখেছিলেন একবারে ছিমছাম । একজোড়া সোনালি স্টেটমেন্ট কানের দুল এবং মানানসই একটি আংটিতেই নজর কেড়েছেন। এর সঙ্গে এভিয়েটর সানগ্লাস যোগ করে কিয়ারা পুরো লুকে এনেছেন আরও দৃঢ় ভাব। সানগ্লাসের উপস্থিতিই আত্মবিশ্বাসী বার্তাটিকে আরও জোরালো করেছে। চুল ও মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছাপ। পোশাকের কাটিং ও টেইলারিংকে লুকের মূল আকর্ষণ করে তুলতে কিয়ারা তার লম্বা, ঘন বাদামি চুল হালকা ঢেউ খেলানো এবং কিছুটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে রেখেছেন। মেকআপে ছিল সফট-গ্ল্যাম আবহ- সুবিন্যস্ত ভ্রু, উষ্ণ টোনের আইশ্যাডো এবং নুড-গোলাপি লিপস্টিক। কিয়ারার এই লুকটি প্রমাণ করে, পাওয়ার ড্রেসিংয়ের আসল শক্তি পোশাকে যতটা, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসে। ক্যামেল-বেইজের শান্ত রং, নিখুঁত টেইলারিং, পুরুষালি টেইলারিংয়ের অনুপ্রেরণা এই লুকে কিয়ারা তৈরি করেছেন এমন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট, যা একই সঙ্গে স্মার্ট, আধুনিক ও নজরকাড়া। এসএকেওয়াই
ঘুম শরীর ও মনের পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় নানা জটিলতা, যা ধীরে ধীরে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেকেই ঘুমকে অবহেলা করেন, অথচ সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে ভালো ঘুম। যখন ঘুম ঠিকমতো হয় না, তখন শরীরের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সহজেই সর্দি-কাশি বা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়, যা অতিরিক্ত খাওয়া ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, নিয়মিত কম ঘুম মানে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যাওয়া। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও এর প্রভাব ভয়াবহ। ঘুম কম হলে মন খারাপ লাগে, মনোযোগে ঘাটতি আসে, কাজের উদ্যম কমে যায়। অনেক সময় হতাশা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা তৈরি হয়। শিক্ষার্থী বা কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এটি সরাসরি কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেয়। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঘুম ঠিক রাখার কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করা যায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত — মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের ক্ষরণে বাধা দেয়। শোবার ঘরকে ঠান্ডা, অন্ধকার ও শান্ত রাখা ঘুমের মান বাড়ায়। কফি বা চা রাতের বেলা এড়িয়ে চলাই ভালো। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম ও সকালের রোদে কিছুক্ষণ সময় কাটানো ঘুমে সহায়তা করে। আর ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়াও জরুরি। ঘুমকে যদি গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে শরীর একসময় সিগন্যাল দিতে শুরু করবে — মাথা ভার, মেজাজ খারাপ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল ইত্যাদি নানা রকম সমস্যা দেখা দেবে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাদ্য, ব্যায়াম বা ওষুধ নয় — একটি পরিপূর্ণ ঘুমই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।
বাংলাদেশে আবারও শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের নতুন সংকট। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে একটানা লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, এমনকি হাসপাতালের রোগীরাও অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তীব্র গরম ও অসহনীয় তাপদাহের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই ভুগছেন। শহরাঞ্চলে ফ্যান, এসি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন মানুষ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে পানির পাম্প চলতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দিনে প্রায় ৬-৮ বার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর ফিরে আসছে না। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানাগুলো এই বিদ্যুৎ সংকটে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ছোট দোকানদাররা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় ফ্রিজ বন্ধ থাকায় খাবারদাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ ইন্টারনেট রাউটার, কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়-রোজগারে বড় ধাক্কা লাগছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, গ্রীষ্ম মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে জেনারেশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সংকটের কারণে পুরো উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে আমদানি নির্ভর কয়লা ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সাময়িক এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং কমে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কতদিন এমন দুর্ভোগ চলবে? বিশেষ করে যেসব এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, তাদের জন্য এ আশ্বাস কতটা কার্যকর হবে — তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং এর সমাধানে স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিকল্প জ্বালানি উৎস যেমন সৌর ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে গুরুত্ব না দিলে প্রতি বছরই এ ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে। এ অবস্থায় মানুষ চায় বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও দ্রুত সমাধান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট যেন আর এক নিত্যকার দুর্ভোগে পরিণত না হয় — সেই প্রত্যাশাই করছে সারাদেশ।
ভারত সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জের দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষক সেখানে যেতে চান না। কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলেও চেষ্টা-তদবির করে বদলি হয়ে চলে আসেন।
<p>আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে দুটি পদে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য <a href="https://erecruitment.bb.org.bd/career/20261005_bscs_321_1791188486.pdf" target="_blank" rel="nofollow">নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ</a> করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সচিবালয়। পদ দুটি হলো ‘সিস্টেম ম্যানেজার’ এবং ‘প্রিন্সিপাল অফিসার’। আগ্রহী প্রার্থীরা ২৫ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।</p><p>দুটি পদের মধ্যে সিস্টেম ম্যানেজার পদে একজন এবং প্রিন্সিপাল অফিসার পদে ৬১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।</p><h3>কোন পদে কত বেতন—</h3><p>সিস্টেম ম্যানেজার পদটি তৃতীয় গ্রেডের। এ পদে বেতন স্কেল ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। প্রিন্সিপাল অফিসার পদটি ষষ্ঠ গ্রেডের। এ পদে বেতন স্কেল ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। উভয় পদের বেতনের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা পাবেন কেউ চাকরি পেলে।</p><h3>সিস্টেম ম্যানেজার পদে আবেদনে যোগ্যতা—</h3><p>স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএসহ স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।</p><p>এ ছাড়া সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট অথবা সিনিয়র রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী হিসেবে অন্তত চার বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রি বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে অন্তত দুটি প্রকাশনা থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/chakri-suggestion/xq8op4yi3l">দুই মাসে ক্যাডার হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়</a></aside><h3>প্রিন্সিপাল অফিসার পদে যোগ্যতা—</h3><p>স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র অফিসার পদে অন্তত দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। শিক্ষাজীবনে অন্তত একটি প্রথম বিভাগ বা শ্রেণি থাকতে হবে। কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না।</p><p><strong>বয়সসীমা</strong></p><p>২০২৬ সালের ১ জুন তারিখে সিস্টেম ম্যানেজার পদের প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছর হতে হবে। প্রিন্সিপাল অফিসার পদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৩৫ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/chakri/7yol1g4gfb">বিটিভিতে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে আবেদন, বাংলা ও ইংরেজি সংবাদ পাঠের সুযোগ </a></aside><h3>আবেদন যেভাবে—</h3><p>আগ্রহী প্রার্থীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ২০০ টাকা। ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৭ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।</p><p>নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন করতে <a href="https://erecruitment.bb.org.bd/" target="_blank" rel="nofollow">বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-রিক্রুটমেন্ট ওয়েবসাইটে</a> যেতে হবে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/education/higher-education/fbgg20k59q">নিউজিল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: ২৪টি যোগ্যতা থাকলেই পাবেন পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা </a></aside>
<p>কুয়াশার চাদর সরিয়ে রাঙামাটির পাহাড়ে ফুটে ওঠে নতুন দিনের আলো। কেউ ছুটছেন বিদ্যালয়ের পথে, কেউ কৃষিকাজে। ধানখেত, লেক আর পাহাড়ি পথজুড়ে ভোর থেকেই শুরু হয় মানুষের কর্মব্যস্ততা। মৌনঘর, শিমুজ্জেছড়া ও ভূতের টিলার বিভিন্ন দৃশ্যে ধরা পড়েছে সেই সকাল।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/gqqg9smw/1.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>ভোরের কুয়াশায় ঢাকা রাঙামাটির পাহাড়। ধীরে ধীরে ফুটছে সকালের আলো </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/stfconfu/2.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>সকালে স্কুলের পোশাকে ব্যাগ কাঁধে বিদ্যালয়ের পথে চার শিক্ষার্থী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/i5o6h3kq/3.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption> কাজে চলেছেন পাহাড়ি নারীরা। পাশ দিয়ে বিদ্যালয়ের পথে শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/uer50yzr/4.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>ধানের শিষ পরীক্ষা করছেন প্রবীণ এক কৃষক। হাতে কাস্তে </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/q5wyuwpc/5.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>কুয়াশাঢাকা লেকে নৌকায় জাল ফেলতে যাচ্ছেন জেলেরা </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/d1yqq0xl/6.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>ধানখেতের সরু আলপথ ধরে হেঁটে চলেছেন এক প্রবীণ পাহাড়ি নারী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/1vwwlkg8/7.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>কাঁধে দা নিয়ে কর্মস্থলের পথে এক পাহাড়ি কৃষক </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/0sw67mrg/8.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption>বাঁশের বেড়াঘেরা খেতে আগাছা পরিষ্কার করছেন এক পাহাড়ি নারী </figcaption></figure><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/ayfrc3f7/9.-Rangamatihillsbusyness-of-lifebusyness-of-work07102026.jpg"><figcaption> ধানখেতের মধ্য দিয়ে হেঁটে চলেছেন এক প্রবীণ কৃষক </figcaption></figure>
২০ বছরের বেশি সময় ধরে দুই পায়ে ল্যাপটপ চালানো ও লেখালেখির কাজ করছেন রাশিদুল আজম নামের এক ব্যক্তি
<p> কূটনৈতিক একঘরে দশা, অর্থনৈতিক অবরোধ আর সামরিক আক্রমণের ধাক্কা সামলে অবশেষে ইরান তার সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন—ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা সেই যুদ্ধে টিকে গেছে। ফলে আপাতদৃষ্টিতে এখন তেহরানের দিনগুলো বেশ ভালোই যাচ্ছে বলা যায়। </p><p>ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস এবং সরকার পতনের লক্ষ্য নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বোমাবর্ষণ করলেও তা মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়। উল্টো, যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে তেহরান এখন আরও শক্তিশালী। তারা হরমুজ প্রণালি দখল করে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এখন আকাশচুম্বী।</p><p>প্রচণ্ড বোমাবর্ষণের মধ্যেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন কমছে এবং ওয়াশিংটনের ওপর আন্তর্জাতিক ক্ষোভ বাড়ছে। তাই বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান আগামী বছরজুড়ে এই একই কৌশল ধরে রাখবে।</p><p>ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে টিকে থাকায় ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে সাফল্য ও বিজয়ের বড়াই করলেও ভেতরে ভেতরে তাঁরা উদ্বিগ্ন। কারণ তাঁরা জানেন, ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর মতো অনেক পথ ও অস্ত্র এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়ে গেছে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/ig3vm8h24n"> ইরান যেভাবে যুদ্ধরীতির ধরন বদলে দিল</a></aside><p>যুক্তরাষ্ট্র ভাবতে পারে যে ইরানের ভয়কে কাজে লাগিয়ে চাপ দিয়ে তাদের নতি স্বীকার করানো যাবে। কিন্তু এতে তেহরানের আসল মনোভাব ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।</p><p>যুদ্ধে স্বজন ও সহকর্মীদের হারিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আরও কঠোর। শত্রুকে চিরতরে পরাস্ত করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।</p><p>তাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান এখন প্রতিনিয়ত সংঘাত বাড়ানো এবং আক্রমণাত্মক থাকার কৌশল নিয়েছে। তেহরান কোনো সমঝোতায় তো যাবেই না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থনীতি ধ্বংস ও জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। </p><p>সেই সঙ্গে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা বাড়ানো, মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো, এমনকি প্রতিবেশীদের ওপর পদাতিক হামলা চালিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি দখলের চেষ্টাও তাদের কৌশলে রয়েছে। </p><p>দুটি পক্ষই যদি সাময়িক চুক্তিতে পৌঁছায়, তবু সেই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কারণ তেহরানের বিশ্বাস, ওয়াশিংটন সময় নিয়ে শক্তি গুছিয়ে আবার আক্রমণ করবে। তাই মার্কিন উসকানির জবাব দিতে বা উসকানি ছাড়াই হামলা চালাতে তারা প্রস্তুত।</p><p>সহজ কথায়, তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে টিকে থাকাকে ওয়াশিংটনের জন্য এতটাই যন্ত্রণাদায়ক করা, যাতে তারা সৈন্য প্রত্যাহার করতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে এবং তেহরানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/v19cvyac/V6WT4HXMV5MYPJYMO6CVMS3QTE.avif"><figcaption>বাহরাইনের মানামায় বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে</figcaption></figure><h3>ভয় ও ঘৃণা</h3><p>হামলা শুরুর সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সর্বোচ্চ নেতা খামেনির বাসভবনে বৈঠকে ছিলেন। আরাগচি যখন পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের আশঙ্কার কথা জানিয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ব্রিফ করছিলেন, ঠিক তখনই ওপর থেকে বোমাবর্ষণ শুরু হয়।</p><p>প্রথম দফাতেই খামেনির বাসভবনে হামলায় সর্বোচ্চ নেতাসহ বহু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। তবে আরাগচি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। ধূলিমলিন অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে তিনি একটি চলন্ত গাড়িতে উঠে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। সেখানে গিয়েই তিনি সামরিক কমান্ডার ও বিদেশি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন এবং বেঁচে থাকা অন্য কর্মকর্তারাও দ্রুত তাঁর সঙ্গে যোগ দেন।</p><p>শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হতে পারে—এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি তেহরানের আগেই ছিল। সরকার আগের বছর থেকেই প্রশাসনিক ও সামরিক বিকেন্দ্রীকরণ করে রেখেছিল, যাতে কেন্দ্র ছাড়াই গভর্নর ও কমান্ডাররা কাজ চালাতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিটি জ্যেষ্ঠ পদের জন্য অন্তত দুজন করে উত্তরসূরি ঠিক করা ছিল, যাতে কোনো নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি না হয়।</p><blockquote>ইসলামিক রিপাবলিকের নেতৃত্বের বিশ্বাস, ট্রাম্প প্রশাসনের কথাবার্তা ও পদক্ষেপই ইরানের জনগণকে সরকারের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তাদের দাবি, অনেক বিদেশি সরকার গোপনে ইরানি কর্মকর্তাদের জানিয়েছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরানের এই প্রতিরোধকে তারা শ্রদ্ধা করে।</blockquote><p>বিদ্যুৎ ও পরিবহনের মতো বেসামরিক অবকাঠামোয় মার্কিন হামলা ইরানি অভিজাতদের ক্ষিপ্ত করে তোলে, যা তাদের শত্রুভাবাপন্নতা আরও বাড়িয়ে দেয়। তারা নিশ্চিত হয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেবল তাদের সরকার ধ্বংস করতে চায় না, বরং পুরো ইরান রাষ্ট্রটিকেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়।</p><p>ফলে তেহরান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক রূপ নেয়। মোজতবা খামেনি নিহত ব্যক্তিদের স্থলে কঠোরপন্থী সামরিক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে আক্রমণাত্মক অভিযানের নির্দেশ দেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব মহসেন রেজাই ঘোষণা করেন, মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি তারা এবার মার্কিন অর্থনৈতিক সম্পদ ও তেল কোম্পানিতেও আঘাত হানবেন।</p><p>শাসনগোষ্ঠীর এই নতুন কৌশলের উদ্দেশ্য কেবল মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধ গড়া নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামোকে দুর্বল করে দেওয়া। এ জন্য ইরানের কৌশল হচ্ছে, বড় সংঘাতের মধ্যবর্তী সময়ে সীমিত হামলার মাধ্যমে শত্রুর শক্তি কমানো হয়। তেহরানের আশা, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র একসময় নিজেদের ও মিত্রদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হবে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/9jfs084q/SRA2WT6LN5FXPIVLHMVN6F3SVY.avif"><figcaption>ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের শারান তেল ডিপোতে বিস্ফোরণের ফলে আগুন ও ধোঁয়া উড়ছে; পাশে উড়ছে ইরানের জাতীয় পতাকা। </figcaption></figure><h3>সুযোগের সদ্ব্যবহার</h3><p>ইরানের নেতারা নিজেদের কৌশলের ফলাফলে বেশ সন্তুষ্ট। তাঁদের বিশ্বাস, অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ব্যাপক বাড়িয়ে দেওয়ার কারণেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা সীমিত করেছে এবং সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমাতে বাধ্য হয়েছে।</p><p>তবে ইরানি অভিজাতরা নিজেদের চূড়ান্ত বিজয়ী মনে করেন না। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইসলামিক রিপাবলিকের পতন আসন্ন বলে দাবি করে আসছেন। সামরিক শক্তিমত্তা দেখানোর পরও তাঁরা ইরানকে দুর্বল হিসেবেই তুলে ধরছেন। </p><p>তেহরানের দৃষ্টিতে বাস্তবতার সঙ্গে শত্রুদের এই ভুল ধারণার ফারাক অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইরানি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, ওয়াশিংটন যদি মনে করে আরেকটি নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হামলা বা অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভেই তাদের পতন হবে, তবে তারা চাপ দেওয়া থামাবে না।</p><p>অতীতে কিছু ইরানি নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আশা করলেও, এখন শাসকগোষ্ঠীর কেউই তা আর বিশ্বাস করে না। তারা নিশ্চিত যে ওয়াশিংটন কখনোই সততার সঙ্গে চুক্তি মানবে না। </p><p>এর প্রমাণ হিসেবে তারা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বেরিয়ে যাওয়াকে দেখে। এমনকি ২০২৫ সালের জুন ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি—দুইবারই আলোচনার টেবিলে বসা অবস্থাতেই মার্কিন হামলার শিকার হয় ইরান।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/09pdufpxmy">ইরান নিয়ে যে চিঠি পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের মুখোশ আবারও খুলে দিল</a></aside><p>ইরানি শাসকগোষ্ঠী এটাও আশঙ্কা করছে যে তাদের এই সুবিধাজনক অবস্থান চিরস্থায়ী হবে না। পর্যাপ্ত সময় পেলে বিশ্ব অর্থনীতি পারস্য উপসাগরের বিকল্প রুট খুঁজে নিতে পারে, ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধের যে অর্থনৈতিক সুযোগ ইরানের হাতে আছে, তা কার্যকারিতা হারাবে।</p><p>অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অবস্থান দিন দিন আরও শক্তিশালী হতে পারে। ইরানি নেতাদের মতে, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় রিপাবলিকানদের জয়ের স্বার্থে এবং যুদ্ধ মার্কিন জনমতে অপ্রিয় হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন সংযত আছেন। তবে নির্বাচন পার হয়ে গেলে তাঁকে আর জনমত নিয়ে ভাবতে হবে না।</p><p>তেহরান ২০২৮ সালে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের আশা করলেও তাতে লাভ দেখছে না। একজন নরমপন্থী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের জন্য আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারেন; কারণ তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নত করে বিশ্বজুড়ে ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলতে বেশি সক্ষম হবেন।</p><p>তাই ইরানি শাসনগোষ্ঠী হাত গুটিয়ে বসে না থেকে এখনই ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করবে।</p><p>প্রথমত, সরকার পারস্য উপসাগর থেকে গ্যাস ও তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের পদক্ষেপ নিতে পারে। তেহরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বাণিজ্যের একটি বড় অংশ অচল করলেও কিছু উপসাগরীয় দেশ এখনো ভারত মহাসাগর বা লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পাঠাতে পারছে।</p><blockquote>তেহরান সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপটি নিতে পারে, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছেন এবং ঠেকানোর চেষ্টা করছেন: পারমাণবিক বোমা তৈরি। নেতারা যদি মনে করেন মার্কিন হামলা ঠেকানোর এটিই একমাত্র পথ, তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটিকেই তারা সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে বেছে নিতে পারেন।</blockquote><p>এই রুটগুলো পুরোপুরি অচল করতে ইরান তাদের তেল উৎপাদন কেন্দ্র ও সমুদ্রবন্দরে সরাসরি হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি, তারা ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের সঙ্গে মিলে লোহিত সাগরে জাহাজে আক্রমণের হুমকি দিয়ে সেই পথও বন্ধ করে দিতে পারে। </p><p>দ্বিতীয়ত, ইরান তার প্রত্যক্ষ শত্রুদের ওপর আক্রমণ আরও তীব্র করতে পারে। এর অর্থ হতে পারে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো কিংবা মার্কিন বেসামরিক অবকাঠামোয় সাইবার হামলা করা।</p><p>পুনরায় আক্রমণ হলে, ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সুপেয় পানি শোধনকেন্দ্রগুলোর মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকেই বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে।</p><p>সর্বশেষ, তেহরান মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার পুরোনো কৌশলে ফিরে যেতে পারে। ১৯৮০-এর দশকে ইসলামিক রিপাবলিক ও তাদের লেবানিজ শিয়া মিত্ররা ইউরোপে ভিন্নমতাবলম্বীদের হত্যা এবং বোমা হামলায় শত শত মার্কিন ও ফরাসি সেনাকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। </p><p>অবশ্য, শীর্ষ মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের হত্যা করা ইরানের জন্য সহজ হবে না। কারণ, ইসরায়েল বা ওয়াশিংটনের মতো ইরানের সামরিক বাহিনীর কাছে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান বা অত উন্নত গোয়েন্দা ব্যবস্থা নেই। তবে তেহরানের হাতে অন্যান্য বিকল্প পথ খোলা আছে।</p><p>তারা ছদ্মবেশে গুপ্ত অভিযান চালিয়ে বা আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে। শীর্ষ নেতা না পেলেও তারা তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মীদের নিশানা করতে পারে। </p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/nx5zv1iz/2A6ARY6LVZLTHMTKPNZIO46DDQ.avif"><figcaption>ইরানের তেহরানের একটি রাস্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি সংবলিত ব্যানারের পাশে প্রদর্শিত হচ্ছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র</figcaption></figure><h3>সংঘাতের তীব্রতা</h3><p>ইরান হয়তো মনে করতে পারে যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো একই পথ অবলম্বন করে তারা শত্রুকে নিরস্ত করতে পারবে। তবে এতে কাজ না হলে নতুন কৌশল ব্যবহারে ইরানি কর্মকর্তারা পিছপা হবেন না। উদাহরণস্বরূপ, তারা বৈশ্বিক যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পথ বেছে নিতে পারে।</p><p>হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পরিকাঠামো—বিশেষ করে ইউরোপের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়াকে যুক্ত করা সমুদ্র তলদেশের ইন্টারনেট কেব্লগুলো বিস্তৃত। ইরানি নৌবাহিনী এই কেব্লগুলো কেটে দিতে পারে।</p><p>আরও বড় পদক্ষেপ হিসেবে ইরান পার্শ্ববর্তী ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা করতে পারে। ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েল নিরাপত্তার অজুহাতে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় জমি দখল করায়, ইরানি বিশ্লেষকদের মতে ইরানেরও নিজস্ব ‘নিরাপত্তাবলয়’ গড়ে তোলা উচিত।</p><p>আমেরিকা স্থল হামলার প্রস্তুতি নিলে ইরান আগেই পদক্ষেপ নিতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের মূল তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত দেওয়ার পর, দেশটির কিছু বিশ্লেষক ও কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি দখলের প্রস্তাব দেন। তেহরান এসব পদক্ষেপকে আগ্রাসন নয়, বরং আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই উপস্থাপন করতে পারে।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/4ixajwiemx">ইরান যেভাবে নতুন মধ্যপ্রাচ্যের কল্পনা করছে</a></aside><p>উত্তরাঞ্চলেও তেহরান একই যুক্তি প্রয়োগ করতে পারে। আজারবাইজান ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের। কিছু আজারবাইজানি মনে করে ইরানের আজেরি-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলো ‘বৃহত্তর আজারবাইজানের’ অংশ; আর অনেক ইরানি মনে করে বর্তমান আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র হলো ‘বৃহত্তর ইরানের’ অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটেছে।</p><p>আজারবাইজান ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে। শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আজারবাইজান তাদের ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি অভিযানের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দিচ্ছে। তেহরান আজারবাইজানের বিচ্ছিন্ন ছিটমহল ‘নাখচিভান’ দখল করার উসকানি পেতে পারে; আর তা না করলেও অন্তত সেখানকার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ চালাতে পারে।</p><p>একইভাবে, বিরোধীদের ঘাঁটি মনে করায় ইরান ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করতে পারে। যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন কর্মকর্তারা কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে স্থল হামলার কথা ভেবেছিলেন। ফলে তেহরান যদি মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল থেকে ইরান পর্যন্ত কুর্দিস্তানের ওপর দিয়ে স্থলপথ তৈরি করতে চায়, তবে তারা আগেই সেখানে হামলা চালাতে পারে।</p><p>সবশেষে, তেহরান সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপটি নিতে পারে, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছেন এবং ঠেকানোর চেষ্টা করছেন: পারমাণবিক বোমা তৈরি। নেতারা যদি মনে করেন মার্কিন হামলা ঠেকানোর এটিই একমাত্র পথ, তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটিকেই তারা সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে বেছে নিতে পারেন।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/vy9llein/https___archive_images_prod_global_a201836_reutersmedia_net_2015_12_14_2015_12_14T154011Z_20256_GF10.jfif"><figcaption>তেহরানে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনির চিত্রকর্মের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী, ২০১৫। </figcaption></figure><h3>ধ্বংসাত্মক মনোভাব</h3><p>ইরান পারমাণবিক বোমার দিকে না গেলেও, তাদের উসকানির জবাবে ইসরায়েল ও আমেরিকা আরও ভয়াবহ হামলা চালাতে পারে। তবে এক বিশাল ও ব্যয়বহুল পূর্ণাঙ্গ পদাতিক আক্রমণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল অতিরিক্ত আর কী অর্জন করতে পারবে, তা অস্পষ্ট।</p><p>ইরানি শাসনগোষ্ঠী প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সিদ্ধহস্ত, এবং তারা এটিকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবেই দেখছে। তেহরান নিশ্চয়ই তাদের সব কৌশল বা অস্ত্র একবারে ব্যবহার করবে না।<br>ওয়াশিংটন এই বাস্তবতা অনুধাবন করলে, ইরানের নতুন উসকানির জবাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত স্থগিত করার চেষ্টা করতে পারে।</p><p>তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই কৌশল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইসলামিক রিপাবলিক তাদের দাবিতে স্পষ্ট—তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সৈন্যের প্রত্যাহার চায় এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তারা অনির্দিষ্টকাল লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/opinion/column/7wfm6izmyr">খামেনির জানাজা: পশ্চিমা মিডিয়ার দ্বিচারিতা এবং ইরান যখন অচেনা জগৎ</a></aside><p>অবশ্য এমন বড় আক্রমণ চালানো বা সংঘাত বাড়ানো ইরানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান বেশি দূর এগোলে উল্টো সেই মার্কিন পদক্ষেপকেই ডেকে আনবে, যা তারা এড়াতে চায়—যেমন মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল মার্কিন সেনার আগমন ও পূর্ণাঙ্গ পদাতিক আক্রমণ।</p><p>ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন। তাই তাঁরা বারবার জোর দিয়ে বলছেন, যেকোনো সামরিক সিদ্ধান্তের পেছনে অন্তত কিছু অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সমর্থন থাকতে হবে।</p><p>তবে ইসলামিক রিপাবলিকের নেতৃত্বের বিশ্বাস, ট্রাম্প প্রশাসনের কথাবার্তা ও পদক্ষেপই ইরানের জনগণকে সরকারের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করেছে। তাদের দাবি, অনেক বিদেশি সরকার গোপনে ইরানি কর্মকর্তাদের জানিয়েছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ইরানের এই প্রতিরোধকে তারা শ্রদ্ধা করে।</p><figure><img alt="" src="https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla/2026-10-06/lvwk6qod/https___archive_images_prod_global_a201836_reutersmedia_net_2015_12_14_2015_12_14T154011Z_20256_GM1E.jfif"><figcaption>তেহরানে অবস্থিত সাবেক মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে একটি আমেরিকা-বিরোধী দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি, ২০১১</figcaption></figure><h3>সর্বাত্মক বাজি</h3><p>এক অর্থে, ইরান এই পরিস্থিতির মুখোমুখি আগেও হয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার পরপরই দেশটি ইরাকের আক্রমণ ও সশস্ত্র বিরোধী দলের মুখে পড়েছিল। ১৯৮১ সালে বোমা হামলায় শাসকদলের প্রায় পুরো নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে, বেঁচে যাওয়া নেতারা সিদ্ধান্ত নেন যে টিকে থাকতে হলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শত্রুর ওপর এমন ভয়াবহ প্রতিশোধ নিতে হবে, যাতে তারা আর কখনো চ্যালেঞ্জ করার সাহস না পায়।</p><p>মোজতবা খামেনি ছাড়া ইরানের বর্তমান নতুন নেতাদের প্রায় সবাই সেই বিপ্লবকালীন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছেন। তাঁরা এই শিক্ষাটি খুব ভালোভাবেই মনে রেখেছেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ থামাতে হলে শক্তি জাহির করতে যা করা দরকার তা-ই করতে হবে। </p><p>সংঘাত বাড়ানো নিঃসন্দেহে এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ খেলা। ইরান অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে তা বিপুল মার্কিন বাহিনীকে এই অঞ্চলে টেনে আনবে, আর যুদ্ধক্লান্ত সাধারণ মানুষও ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসতে পারে। </p><p>তবে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের দৃঢ় বিশ্বাস, তারা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ সামলে নিতে পারবে, আর এই আত্মবিশ্বাস থেকেই তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চাইছে। তারা মনে করছে ওয়াশিংটনকে চিরতরে পরাস্ত করার এটাই তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগ।</p><ul><li><p><strong>মোহাম্মদ আয়াতুল্লাহি তাবার</strong> টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক। </p><p><em>ফরেন অ্যাফেয়ার্স</em> থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।</p></li></ul>
<p>বর্তমানের তুলনায় সহজে কেনাকাটার সুযোগ দিতে এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ওয়ান–ক্লিক চেকআউটের সুবিধা চালু করেছে টিকটক। নতুন সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীরা ভিডিও দেখার সময়ই টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে সরাসরি পছন্দের পণ্য ও পোশাক কিনতে পারবেন।</p><p>টিকটকের তথ্যমতে, নতুন শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট মূলত কথোপকথনমূলক এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীদের অনলাইনে পছন্দের পণ্য খুঁজে পেতে ও কিনতে সাহায্য করবে। কেনাকাটার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি পণ্যের বিবরণ, পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়, আকার, সহজলভ্যতার তথ্য জানানোসহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেনাকাটা সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট।</p><p>টিকটক জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা তাঁদের ‘ফর ইউ ফিড’ থেকে এক ক্লিকেই জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড থেকে সরাসরি পণ্য কিনতে পারবেন। ফলে ব্যবহারকারীরা ঘরে বসেই সহজে পছন্দের পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। টিকটকের নিজস্ব মার্কেটপ্লেস ‘টিকটক শপ’–এর বাইরে অনলাইন কেনাকাটার সুযোগ দিতেই নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p><p>টিকটকের তথ্যমতে, এআই শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ওয়ান–ক্লিক চেকআউটের সুবিধা চালুর জন্য ইতিমধ্যে সেলসফোর্স, শপিফাই, শপলাজা ও স্ট্রাইপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব চুক্তি করা হয়েছে। ফলে নতুন এই সুবিধা টিকটক শপের তুলনায় কেনাকাটায় বাড়তি সুবিধা দেবে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যক্তিরা এ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।</p>
<p>এত দিন ব্যাটারিচালিত রিকশার জীবন ছিল অনেকটা স্বাধীন শিল্পীর মতো—যেখানে ইচ্ছা, সেখানে যাত্রা। এখন তাদের জীবনেও আসছে নিয়মকানুন। অঞ্চলভেদে চলাচল, আলাদা রং, ফিটনেস, প্রশিক্ষণ—সব মিলিয়ে রিকশার জীবনেও শৃঙ্খলা আসার কথা। নতুন নীতিমালা হাতে নিয়ে তাই এক ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ডেকে নেওয়া হলো চাকরির ইন্টারভিউতে। ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন মাহমুদুল হাসান।</p><p><strong>আপনার নাম?</strong></p><p>ব্যাটারিচালিত রিকশা।<br></p><p><strong>অভিজ্ঞতা?</strong></p><p>ঢাকা শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—সব জায়গায় কাজ করেছি।<br></p><p><strong>আপনার কোনো নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র ছিল?</strong></p><p>ছিল না। এটাই আমার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।<br></p><p><strong>কিন্তু নতুন নীতিমালায় নির্দিষ্ট এলাকায় চলতে হতে পারে।</strong></p><p>তাই নাকি! এত দিন পর বুঝলাম, আমারও অফিসের ঠিকানা হবে।<br></p><p><strong>ঢাকাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হলে আপনার অসুবিধা হবে না?</strong></p><p>না। শুধু একটা অনুরোধ—জোন যেন এত ছোট না হয় যে এক যাত্রী তুলেই জোন শেষ হয়ে যায়।<br></p><p><strong>আপনার গায়ে আলাদা রং করা হবে। কেমন লাগছে?</strong></p><p>ভালোই। এত দিন মানুষ আমাকে দেখে শুধু ‘রিকশা’ বলত। এখন অন্তত রং দেখে বুঝবে, আমি কোন এলাকার নাগরিক।</p> <p><strong>জিপিএস বা জিও-ফেন্সিং সম্পর্কে কী জানেন?</strong></p><p>এত দিন যাত্রী আমাকে খুঁজত। এখন শুনছি সরকারও আমাকে খুঁজবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও ফিটনেসের কথাও আছে। এটা ভালো। তবে চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগে যাত্রীদেরও একটু প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/951r7izjz8">সিঙ্গেল দিবসে জানলাম, আমি প্রেমে ‘জসিম’, বন্ধু অয়ন ‘বাপ্পারাজ’</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/816oy38o23">আহসান হাবীবের প্রিয় ৪ কৌতুক</a></aside><p><strong>কী প্রশিক্ষণ?</strong></p><p>‘ভাই, একটু দ্রুত যান’ বলার আগে রাস্তার অবস্থা দেখা।<br></p><p><strong>আপনার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?</strong></p><p>মানুষ আমাকে একদিকে চায়, আবার অন্যদিকে চায় না। বাহন হিসেবে সবাই ভালোবাসে, যানজটের কারণ হিসেবে কেউই পছন্দ করে না।<br></p><p><strong>নতুন নীতিমালা হলে আপনি কি বদলে যাবেন?</strong></p><p>অবশ্যই। এত দিন ছিলাম ‘যেদিকে রাস্তা, সেদিকেই যাত্রা’। এখন হব— 'যেদিকে নীতিমালা, সেদিকে যাত্রা।’</p> <p><strong>শেষ প্রশ্ন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?</strong></p><p>আগে ঠিকানা ঠিক করব, তারপর ফিটনেস করাব, তারপর রং করাব। এরপর যাত্রী নিয়ে বের হব।</p> <p><strong>আর যদি যাত্রী বলে, ‘ভাই, একটু শর্টকাটে যান’?</strong></p><p>বলব, 'স্যার, শর্টকাটের যুগ শেষ, এখন আমারও নীতিমালা আছে!’</p><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/l5t09bsso2">আর কী করলে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/89xajbzhk6">সেকালের বিজ্ঞাপন একালে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/6mnf89p9wn">গোলাপি এখন ঢাকার রাজপথে</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/2bbl7jm57n">ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে ফুলহাতা শার্ট পরা ছাড়া আর কী কী করা যেতে পারে?</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/fwdnjtnd6a">তেলের সুপ্ত প্রভাব</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/hfgieb5c91">ককটেল সমাচার</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/d0e3kp2eyp">আমাদের ছোট ফ্যান</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/25g8h60wg6">সবজান্তা সমীপেষু</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/4p0vp8tu3g">রসচিঠি</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/t9unyivsek">ছাগল–কাণ্ড</a></aside><aside><a href="https://www.prothomalo.com/fun/rkjokt18ey">বাংলা নাটকে বিসিএস ক্যাডার</a></aside>
নয় ঘণ্টা অবস্থান বিক্ষোভে বসে থাকা রাহুল গান্ধীকে হেফাজতে নিয়ে কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে ‘মব’ করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাওয়াদুল হককে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে তৈরি ২৪টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বের ৫০০ ভালো শহরের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো শহর নেই। ৫ই অগাস্টের পরপরই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়ান বিএনপির তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী। মশা মারার জন্য সারা দেশে ৪৮ হাজারের বেশি কমিটির কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবায়ন নেই। বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রে এসব খবর গুরুত্ব পেয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদের জীবনটা খুব সহজ নয়, বরং বড় উত্থান-পতনে ঘেরা। বলা চলে, তিনি ছিলেন সেই 'রাজপুত্র' যিনি সবকিছু হারিয়েছিলেন। ‘প্রতিবিপ্লবী’ হিসেবে চিহ্নিত একজন ব্যক্তির পুত্র হওয়ায় কিশোর শি-কে জোর করে একটি পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, গত চৌঠা অক্টোবর সৌদির আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ সজিব হোসেন মৃত্যুবরণ করেছেন। কে এই সজিব ? কী জানা যাচ্ছে তার সম্পর্কে?
চট্টগ্রামের আদালতে বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষ্য দিতে না আসা প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার একটি সংবাদ নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কেনো এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো এবং গ্রেফতার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নও সামনে আসছে।
বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমেই আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের ইতি ঘটবে। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা এরপর কী করবেন?
উত্তর মেরুর একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে - এবং সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি একেবারেই স্থির থাকে না।
নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খান, দুজনেই লাহোরের সচ্ছল কিন্তু অরাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শুরুতে কেউই রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলেন না। দু'জনই এক সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু কেউই নিজেদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দু'জনকেই বিতর্কিত মামলায় সাজা ও কারাবরণ করতে হয়েছিল।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঝলমল সিনেমা হলের গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউন আগুনে পুড়ে গেছে।
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভারতের জি-বাংলার রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা-২০১৯’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবার নজর কাড়েন সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল।
ভারতের স্বাধীনতার পর এই প্রথম আসাম থেকে সরাসরি প্রতিবেশী বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে পণ্যবাহী নৌযান, যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক জলপথ সংযোগের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ, এমন গুঞ্জন উঠেছিল কয়েক দিন আগেই। পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছিল। কিন্তু এবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।
কক্সবাজারের টেকনাফে অপহৃত চার যুবককে যৌথ অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মসজিদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন এবং রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।