রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ আয়োজনে কথা বলেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকেরা
হামলায় ওই কর্মীর ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা পা কেটে ফেললেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
নদী ও উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে মাঠপর্যায়ের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ২২ দিনের এই সমন্বিত অভিযান সমাপ্ত হয়েছে।
ওবামাকে বলা হতো ‘ডিপোর্টার-ইন-চিফ’, অর্থাৎ অভিবাসীদের সর্বাধিক বহিষ্কারকারী প্রেসিডেন্ট। তাঁর আমলে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
এক ছাত্রীকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করতেন তরুণ। তিনি ওই ছাত্রীকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন বলেও অভিযোগ।
<p>মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানের একটি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক নিরীক্ষা প্রতিবেদন সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। একই সঙ্গে কোম্পানির ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনও অনুমোদন করা হয়।</p><p>এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশনে এ তথ্য জানিয়েছে। সভায় বিদেশগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে মানি চেঞ্জারদের এডি ব্যাংকের সমপরিমাণ ১৮ হাজার ডলার এন্ডোর্সমেন্টের ক্ষমতা প্রদান করায় বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।</p><p>বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এম এস জামান সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গৌতম দে, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম মাকছুদুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ সবুজ মোল্লা প্রমুখ।</p>
<p>জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বিশেষ ডিসপ্লের প্রস্তুতি চলছে। প্রায় তিন হাজার বিএনসিসি ক্যাডেট অংশ নিচ্ছেন এ মহড়ায়। বিস্তারিত ভিডিও প্রতিবেদনে…</p><figure></figure>
প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে সংগঠনটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।
<p>ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়োজাহাজের ভাড়া তুলনামূলক বেশি কেন, তা জানতে চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। ভাড়া নির্ধারণের নীতিমালা করা যায় কি না, তা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।</p><p> আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কার্যক্রম ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।</p><p> সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, কুয়ালালামপুর থেকে ম্যানিলার দূরত্ব যতটুকু ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের দূরত্ব প্রায় সমান; কিন্তু উড়োজাহাজের ভাড়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঢাকা–কুয়ালালামপুরের টিকিটের দাম কুয়ালালামপুর–ম্যানিলার টিকিটের দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। এই তারতম্যের কারণ কী, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা আছে কি না, তা কমিটি জানতে চায়।</p><p>জবাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক গন্তব্যে উড়োজাহাজের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেবিচকের নীতিমালা নেই। এয়ারলাইন কোম্পানিগুলো ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। তখন কমিটির পক্ষ থেকে ভাড়া নির্ধারণের নীতিমালা করা যায় কি না, তা দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।</p><p>সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমানের নিরীক্ষা আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, ১৮টি আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দিতে পারবে কি না; ত্রুটিযুক্ত উড়োজাহাজ, অচল যন্ত্রপাতি, অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ক্রয় ও পুরোনো উড়োজাহাজ কেনার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না; এবং জানতে চায় ঢাকা–গুয়াংজু–ঢাকা রুটে চার্টার্ড কার্গো ফ্লাইট ও রাজস্ব আদায়ে ৭৩৬ কোটি টাকার অনিয়ম কীভাবে হয়েছে?</p><p>বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে মোট কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা অনাদায়ি রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কতজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে প্রমাণসহ সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিস্তারিত লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বিমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।</p><p>প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজ বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি সিস্টেমের দুর্বলতার কারণে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়েও আলোচনা হয়।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানের পক্ষ থেকে বলা হয় সব সময় বহরের আধুনিক উড়োজাহাজ প্রধানমন্ত্রীর ভ্রমণের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে এর আগের এক মাসের ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ করা হয় কোনো ধরনের ত্রুটি আছে কি না। এবারের<a href="https://www.prothomalo.com/bangladesh/knbfwkcw1l" target="_blank"> কারিগরি ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।</a></p><p>সূত্র জানায়, ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের লিফট, সেবা ও পরিবেশ নিয়ে কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একজন সদস্য বৈঠকে বলেন, অনলাইনে দেখা যায়, বাংলাদেশ বিমানের টিকিট নেই; কিন্তু বিমানে ওঠার পর দেখা যায়, অনেক সিট ফাঁকা।</p><p>সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমানের পক্ষ থেকে সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়। সেখানে বিমানের ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ার কিছু কারণ তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক চেক-ইন কাউন্টার পর্যাপ্ত না হওয়ায় সময়মতো কাউন্টার বন্ধ হয় না। এতে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। একই গেটে একাধিক ফ্লাইট দেওয়া হয়, বোর্ডিং ব্রিজের স্বল্পতা আছে। ডিপারচার ব্যাগেজ এরিয়ায় জায়গার স্বল্পতা আছে, আগমনী বেল্টও কম। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে মাত্র চারটি চেক-ইন কাউন্টার আছে।</p><p>বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।</p>
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মো. কায়সার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “যে জায়গা দিয়ে সংযোগ সড়ক হওয়ার কথা, সেটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি। সেখানে কিছু মানুষ বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। তাই জমির বিষয়টি যেন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার কারণ না হয়, সেটিই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।”
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আনন্দ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘লুঙ্গি প্যারেড’।