কয়েক বছরে বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সংখ্যা বাড়লেও কমছে কলকাতায়। পাশাপাশি কলকাতায় বাড়ছে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের অন্যতম প্রধান হিন্দু দেবতা গণেশের পূজা। উত্তর কলকাতায় যেখানে প্রধানত প্রতিমা বানানো হয় সেই কুমারটুলির মৃৎশিল্পী সমিতির সম্পাদক বাবু পালের মতে, দেবী দুর্গার প্রতিমা বানানোর জন্য অর্ডার অন্যবারের চেয়ে কিছু কম।
বাবু পাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘তবে আমি এটা বলব না যে প্রতিমার অর্ডার অনেকটা কমে গেছে, যেমনটা পত্রপত্রিকায় দাবি করা হয়েছে। তবে সামান্য কিছু কমেছে। থিম পূজার জন্য যে প্রতিমার অর্ডার আসত, তা প্রায় আসেইনি। ওই থিম পূজাগুলোয় কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। পূজার উদ্যোক্তারা কিছুটা পুরোনো দিনের একচালা মায়ের মূর্তিতে ফিরে গিয়েছেন।’ ‘থিম পূজা’ হলো কোনো একটি বিখ্যাত শিল্পকর্ম, স্থাপত্য বা শিল্পীর চিন্তার ভিত্তিতে তৈরি মূর্তি এবং সেই মূর্তি যেখানে থাকে, সেই বাসস্থান অর্থাৎ প্যান্ডেল, বলেন বাবু পাল।
গত বছর কুমারটুলিতে ৮ থেকে ৯ হাজার প্রতিমা তৈরি হয়েছিল। এই সংখ্যা সামান্যই কমেছে। তবে অন্যান্যবার তার আগের বছরের তুলনায় যেভাবে প্রতিমার বরাত বাড়ে, এবারে তা বাড়েনি।
পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় চিন্তাভাবনা পাল্টাচ্ছে, বাড়ছে গণেশপূজা
দুর্গাপূজা কমে যাওয়ার নানা কারণ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৃৎশিল্পীরা, কিন্তু সেই কারণে পরে আসা যাবে। তার আগে দেখে নেওয়া যাক উত্তর ও পশ্চিম ভারতের জনপ্রিয় দেবতা গণেশের পূজা কী হারে বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে। পূজার উদ্যোক্তা ও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, গত বছর রাজ্যে ৩০০ গণেশপূজা হয়। এ বছরে কলকাতায় ৮০০ গণেশপূজা হয়েছে। এর একটা বড় অংশই করেছেন পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত অবাঙালি সমাজের মানুষ।

গণেশপূজার উদ্যোক্তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, গণেশপূজা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসা।
বিজেপি প্রধানত উত্তর ভারতের দল এবং গণেশও প্রধানত উত্তর ভারতের দেবতা। হিন্দুধর্মমতে গণেশ আবার দুর্গার পুত্রও বটে। সেই হিসেবে দেবী দুর্গার সঙ্গে তিনিও পশ্চিমবঙ্গে পূজিত হতেন। কিন্তু এখন এককভাবে গণেশের পূজার সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তাদের মতে, এটা হচ্ছে বিজেপিকে কিছুটা খুশি করতে। কারণ, গণেশ ও বিজেপি উভয়ই উত্তর ভারতের প্রতিনিধি। ভারতে নির্দিষ্ট অঞ্চলের সঙ্গে নির্দিষ্ট দেব–দেবীর পূজা জড়িয়ে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে যেমন দুর্গাপূজা, মহারাষ্ট্র বা দিল্লিতে তেমনই গণেশপূজা। পশ্চিমবঙ্গে কয়েক বছর ধরে বিজেপির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে গণেশপূজাও বেড়েছে, যার অর্থ রাজনৈতিক চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু বাঙালির ধর্মীয়-সামাজিক-সাংস্কৃতিক চরিত্রেরও একটা পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গে ঘটেছে।
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এক সময়ে হিন্দু দেবতা রামকে মূলত উত্তর ভারতের দেবতা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য রয়েছেন দেবী দুর্গা। সেই ধারণার যে পরিবর্তন ঘটছে, তা ২০২৬–এর পূজার চরিত্র থেকেই পরিষ্কার। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে একদিকে দুর্গাপূজা কমছে, অন্যদিকে উত্তর ভারতের অন্যতম প্রধান দেবতা গণেশের পূজা বাড়ছে। ধরে নেওয়া যেতে পারে, আগামী বছরে রামের পূজাও বাড়বে পশ্চিমবঙ্গে।
গণেশপূজা ও বিজেপি
আর গণেশপূজা যে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য তাদের প্রধান রাজনৈতিক অবলম্বন বা হাতিয়ার, তা বুঝতে পেরে বিজেপির নেতা–কর্মীরা গত কয়েক দিনে প্রবল উৎসাহে গণেশপূজায় যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিজেপির ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্র ‘যুগশঙ্খ’। যুগশঙ্খের এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘রাজ্যে পালাবদলের পর গণেশপূজার মাধ্যমে পূর্ণমাত্রায় ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। গত দুই দিনের মতো রোববার দলের কর্মীরা তো বটেই, নেতা–নেত্রীরাও পুরোদমে ব্যস্ত ছিলেন এই পূজা নিয়ে। রোববার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের গণেশপূজার উদ্বোধন পর্ব শুরু হয় বেলা দেড়টা নাগাদ। সেটি ছিল জ্যোতি নগর বন্ধু মহল ক্লাবে। এরপর সোয়া দুইটায় লেক টাউন স্পোর্টিং ক্লাবে।’
এরপর একের পর এক গণেশপূজার উদ্বোধন করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। গণেশপূজায় অংশ নেওয়ার ফাঁকে তিনি ১৯৪৬ সালে কলকাতার দাঙ্গার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব গোপাল মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি উদ্বোধনও করেন। অর্থাৎ গণেশপূজা পশ্চিমবঙ্গে এবারে পূজা হিসেবে আসেনি, এসেছে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে।
কেন দুর্গাপূজা কমল
এর নানা কারণ ব্যাখ্যা করছেন মৃৎশিল্পী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তাঁরা নানা কথা বলছেন। যেমন কেউ কেউ বলেছেন, কুমারটুলিতে এ বছর প্রতিমার উচ্চতা সর্বোচ্চ ১১ ফুট রাখতে বলা হয়েছে। এর ফলে পূজার যে বাড়তি আকর্ষণ, সেটা খর্ব হয়েছে। পুলিশ আগেভাগেই কুমারটুলিতে এসে ১১ ফুটের বেশি উচ্চতার মূর্তি না বানানোর নির্দেশ দিয়ে গেছে, যা বিসর্জনের সময় মাথার ওপরের ইলেকট্রিক তারের ঝক্কি এড়ানোর পুরোনো সার্কুলার বলে পুলিশ দাবি করেছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটা নিয়ে শিল্পীরা কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নন। সমিতির কর্মকর্তাদের মতে, গত বছর দেড় শর মতো থিম পূজার প্রতিমা হলেও এবার তা কমে ১০-১২টিতে ঠেকেছে। অনেকে স্বীকার করেছেন যে এবার কাজের পরিবেশ থমথমে। বায়না আগের চেয়ে বেশ কম, কারণ শেষ মুহূর্তে থিম পূজার অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। অতিরিক্ত শৈল্পিক বা থিমভিত্তিক না করে প্রতিমার মুখ সনাতনী রাখার এক অলিখিত নির্দেশ কাজ করছে, যা নিয়ে বেশির ভাগ মৃৎশিল্পীই মুখ খুলতে অনিচ্ছুক।
অন্যদিকে অবৈধ বালি ও মাটি খাদানের ওপর সরকারের নজরদারির কারণে প্রতিমা গড়ার প্রধান উপাদান বেলে মাটির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে শিল্পীরা বিপাকে পড়েছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূজা সংগঠকদের জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আঘাত হানে, এমন কোনো থিম–প্যান্ডেল বা প্রতিমা করা যাবে না এবং মহালয়ার আগে কোনো পূজা উদ্বোধন করা যাবে না। এর ফলে যেসব উদ্যোক্তা একটু অন্য রকম প্রতিমা চাইতেন, তাঁরাও এবার প্রতিমার মুখ সনাতনী রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। এর ওপরে সরকারি অনুদান নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বাজেট কমে যাওয়ার কারণে উদ্যোক্তারা খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ কারণে দেড় শর বেশি স্টুডিও এবং ২৫০ কোটি টাকার ব্যবসা–সংবলিত কুমারটুলির অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব মন্দা ও সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন মৃৎশিল্পীরা। ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়ে একাধিক নতুন ও পুরোনো পূজা সংগঠন জানিয়েছে, তারা এবারে কলকাতায় দুর্গাপূজা করছে না। পুরো পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকালে হয়তো দেখা যাবে, হিন্দু বাঙালির প্রধান পূজার সংখ্যা এ বছরে বেশ খানিকটাই কমে গিয়েছে।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্র আনুষ্ঠানিক তথ্যও প্রকাশ করেছিল। জানানো হয়েছিল, ২০২৪ সালে সে দেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি দুর্গাপূজা হলেও ২০২৫ সালে হয়েছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি পূজা। অর্থাৎ ১ হাজার ৮৯৪টি পূজা বেড়েছিল। অন্যদিকে কলকাতায় দুর্গাপূজার সংখ্যা এ বছরে কমে গেল।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দিল্লিতে আবারো ভেঙে পড়ল আবাসিক ভবন। একটি পাঁচতলা ভবনের সামনের অংশ বুধবার বিকেলে আচমকা হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসাবশেষের নীচে অনেকে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা।
কেউ যাচ্ছিলেন বাসায়, কেউবা ঘুরছিলেন রাস্তায়। এমন সময় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৩৩ জন আহত হয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুনত্ব আনতে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।