চেক বাউন্সের সাত মামলায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে সাময়িক স্বস্তি দিলেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। অভিনেতাকে শেষবারের মতো আরও দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আদালত। এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রিতে অন্তত দুই কোটি টাকা জমা দিতে হবে তাঁকে। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে আত্মসমর্পণ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে জমা দিতে হবে পাসপোর্ট।
শেষবারের মতো সুযোগ
৮ সেপ্টেম্বর রাজপালের আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দিয়েছিলেন। শর্ত ছিল, পাঁচ কোটি টাকা জমা দিতে হবে আদালতের রেজিস্ট্রিতে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই অর্থ জমা দিতে পারেননি অভিনেতা। এরপর আরও সময় চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে। রাজপালের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পি এস পাটওয়ালিয়া জানান, অভিনেতার হাতে এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। বকেয়া মেটাতে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরির জন্য দুই সপ্তাহ সময় চান তিনি। একই সঙ্গে সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে অন্তত দুই কোটি টাকা জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
আদালত শেষবারের মতো সেই সময় মঞ্জুর করেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে দুই কোটি টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি বাকি অর্থ পরিশোধের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে রাজপালকে।
আদালতের সিদ্ধান্তের পর রাজপালের আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্যায় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘আমরা এই আদেশকে স্বাগত জানাই। আদালত অর্থ জমা দেওয়ার জন্য আমাদের সময় দিয়েছেন। আগে পাঁচ কোটি টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। এখন দুই কোটি টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি। আদালতের সব আদেশ ও নির্দেশনা আমরা মেনে চলব।’

রাজপালের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ
স্বস্তি মিললেও শুনানিতে রাজপালের আগের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। আদালতকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বারবার পূরণ না হওয়ায় তাঁর ওপর কতটা আস্থা রাখা যায়, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাজপালের অতীত আচরণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তাঁর আগের আচরণ দেখলে তাঁকে কীভাবে বিশ্বাস করা যায়?’ বলিউডে অভিনয় ও নাটক করার দক্ষতার প্রসঙ্গ টেনে আদালতেও একই আচরণ করা হচ্ছে বলে কঠোর মন্তব্য করেন তিনি।
তবে রাজপালের আইনজীবীর আশ্বাসের পর আদালত শেষ সুযোগ হিসেবে আরও দুই সপ্তাহ সময় দেন।
যে সিনেমা থেকে শুরু
রাজপালের এই আইনি জটিলতার শুরু প্রায় ১৬ বছর আগে। নিজের পরিচালনায় ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য ২০১০ সালে দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রজেক্টসের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা নিয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। এরপর অর্থ ফেরত দেওয়া নিয়ে শুরু হয় বিরোধ।
অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, ২০১২ সালের একটি সমঝোতায় সুদসহ প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়েছিলেন রাজপাল, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের প্রতিষ্ঠান। পরের বছর পাওনা পরিশোধের অংশ হিসেবে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা করে সাতটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু সাতটি চেকই প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপরই শুরু হয় পৃথক সাতটি চেক বাউন্স মামলা।
২০১৮ সালের এপ্রিলে নিম্ন আদালত মামলাগুলোয় রাজপালকে দোষী সাব্যস্ত করেন। ২০১৯ সালে সেশনস কোর্টও সেই রায় বহাল রাখেন। পরে দিল্লি হাইকোর্টে যান অভিনেতা।

জুলাইয়ে তিন মাসের কারাদণ্ড
চলতি বছরের জুলাইয়ে দিল্লি হাইকোর্টও রাজপালের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখেন। সাতটি মামলায় তাঁকে প্রতিটিতে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; সাজাগুলো একই সঙ্গে চলার কথা। অভিযোগকারীকে প্রতিটি মামলায় এক কোটি টাকার বেশি পরিশোধের নির্দেশও দেওয়া হয়। রাজপাল আগে যে অর্থ দিয়েছেন, তা মোট পাওনা থেকে সমন্বয় করার নির্দেশ দেন আদালত।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন রাজপাল। গত ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর আবেদন শুনে সর্বোচ্চ আদালত আত্মসমর্পণ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছিলেন পাঁচ কোটি টাকা জমা দেওয়ার শর্তে। সেই শর্ত পূরণ করতে না পারায় আবারও আদালতের কাছে সময় চান অভিনেতা। এবার শেষ সুযোগ হিসেবে মিলল আরও দুই সপ্তাহ।

পাসপোর্ট জমা, পরবর্তী শুনানি ৫ অক্টোবর
আপাতত রাজপালকে আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে না। আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর আত্মসমর্পণ থেকে অব্যাহতি বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে এর মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। একই দিনে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। অর্থাৎ আগামী দুই সপ্তাহে দুই কোটি টাকা জমা দেওয়া এবং বাকি পাওনা মেটাতে বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব হাজির করাই এখন রাজপালের সামনে বড় পরীক্ষা।
অভিনয়ের দিক থেকে রাজপাল যাদবকে সম্প্রতি প্রিয়দর্শন পরিচালিত ‘হায়ওয়ান’ ছবিতে দেখা গেছে। ক্রাইম থ্রিলারটিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলী খান।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বলিউডের বরেণ্য অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন।
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
ঢাকার সাভার উপজেলায় ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।