জাতীয়

বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোরদের মেধা কি কমছে?

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোরদের মেধা কি কমছে?
বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোরদের মেধা কি কমছে?

হঠাৎ একটি লেখা পড়ে আঁতকে উঠলাম। শিশু-কিশোরেরা কি ক্রমেই কম মেধাবী হয়ে উঠছে? সঙ্গে দেওয়া রেখাচিত্রটি আরও ভাবিয়ে তুলল। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়া, গণিত ও বিজ্ঞানের দক্ষতার সূচক নিচের দিকে নামছে। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল পড়ার দক্ষতার রেখাটি। সেটির পতন বেশ স্পষ্ট। প্রথমেই মনে হলো এটা কী করে সম্ভব?

আজকের শিশু-কিশোরেরা আমাদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তথ্যের নাগাল পায়। তাদের হাতে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ইউটিউব, ডিজিটাল লাইব্রেরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ের পাতা ওল্টাতে হয় না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত জ্ঞানের দরজা খুলে যায়।

তাহলে জ্ঞান এত সহজলভ্য হওয়ার পরও শেখার দক্ষতা কমছে কেন? কৌতূহল থেকেই আমি তথ্যটির মূল উৎস খুঁজতে শুরু করলাম। তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই ফলাফল প্রমাণ করে না যে, আজকের শিশু-কিশোরেরা জন্মগতভাবে আগের প্রজন্মের চেয়ে কম বুদ্ধিমান হয়ে যাচ্ছে। একজন ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী যা শিখেছে, তা কতটা বুঝতে পারে এবং বাস্তব জীবনের সমস্যায় সেই জ্ঞান কতটা কাজে লাগাতে পারে।

মূলত একটি লেখা পড়ে শিক্ষার্থী তার অর্থ বুঝতে পারছে কি না, তথ্য বিচার করতে পারছে কি না, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে কি না কিংবা গণিত ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারছে কি না- এসবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। এখানেই উদ্বেগের জায়গাটি তৈরি হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে পড়ার দক্ষতা। তিনটি বিষয়ের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে পড়ার দক্ষতার পতন। কারণ পড়া কোনো একটি বিষয়ের দক্ষতা নয়। এটি অন্য প্রায় সব ধরনের শিক্ষার দরজা। একটি গণিতের সমস্যা সমাধানের আগে প্রশ্নটি বুঝতে হয়। বিজ্ঞানের একটি জটিল ধারণা আয়ত্ত করতে হলে সেটি মন দিয়ে পড়তে হয়। ইতিহাস বুঝতে পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে হলে দীর্ঘ গবেষণাপত্র পড়তে হয়। কর্মজীবনে প্রতিবেদন বুঝতেও পড়তে হয়।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সত্য ও মিথ্যা তথ্যের পার্থক্য বুঝতেও প্রয়োজন পড়া, বোঝা এবং বিচার করার ক্ষমতা। আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি কেড়েছে; তাড়াহুড়ো করে পড়া। অর্থাৎ শিক্ষার্থী লেখা পড়ছে ঠিকই, কিন্তু গভীরভাবে বুঝে পড়ার বদলে দ্রুত চোখ বুলিয়ে উত্তর দিয়ে দিচ্ছে। ২০১৮ সালের তুলনায় এমন তাড়াহুড়ো করে পড়া শিক্ষার্থীর হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

প্রথমে মনে হতে পারে, এর উত্তর খুব সহজ; করোনা মহামারি। মহামারির সময় দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে। অনলাইন ক্লাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব শিক্ষায় পড়েছে।

অনেক দেশে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের নিম্নমুখী প্রবণতা করোনার আগেই শুরু হয়েছিল। বিজ্ঞানের ফলাফল প্রায় ২০০৯ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে কমছিল। পড়ার ফলাফল সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল প্রায় ২০১২ সালের দিকে, তারপর থেকে সেটিও নিচের দিকে যেতে শুরু করে। গণিতের বড় পতন দেখা যায় ২০১৮ সালের পর। আর করোনা-পরবর্তী সময়েও সমস্যাটি থামেনি। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিজ্ঞানের গড় ফলাফল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও গণিতে আরও ৯ পয়েন্ট এবং পড়ায় ১৪ পয়েন্ট কমেছে। অর্থাৎ করোনার ধাক্কা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই পুরো গল্প নয়।

তবে কি স্মার্টফোন আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে? এখানেই আসে প্রযুক্তির প্রশ্ন। আজকের একজন শিশু-কিশোরের মনোযোগের জন্য যত কিছু প্রতিযোগিতা করছে, সম্ভবত মানব ইতিহাসে কোনো প্রজন্মকে এত কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি। স্মার্টফোনে একটি ভিডিও শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের পর আরেকটি। নোটিফিকেশন আসছে, বার্তা আসছে। গেম আছে, রিলস আছে, শর্ট ভিডিও আছে। এই পরিবেশে দশ মিনিটের একটি ভিডিও কখনো দীর্ঘ মনে হয়। সেখানে একটি বই নিয়ে এক ঘণ্টা বসে থাকা আরও কঠিন।

কিন্তু সরাসরি বলা যাবে না যে, স্মার্টফোনই শিক্ষার অবনতির একমাত্র কারণ। একই সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষায় দলীয়করণ, পরিবার, সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়ার অভ্যাস এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সম্পৃক্ততা; সবকিছুই ভূমিকা রাখতে পারে। প্রযুক্তি নিজে শত্রু নয়। সমস্যাটি প্রযুক্তির ব্যবহার।

আরও পড়ুন

শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয়

এই আলোচনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। একজন শিক্ষার্থী আগে একটি রচনা লিখতে বসলে তাকে ভাবতে হতো। তথ্য খুঁজতে হতো। প্রথম বাক্যটি কী হবে, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে হতো। লিখতে গিয়ে ভুল হতো। সেই ভুল কাটিয়ে আবার লিখতে হতো। এই কষ্টটুকুই আসলে শেখার একটি অংশ। এখন এআইকে নির্দেশ দিলে কয়েক সেকেন্ডে সুন্দর একটি রচনা পাওয়া সম্ভব।

এটি অসাধারণ প্রযুক্তিগত অর্জন। কিন্তু একই সঙ্গে একটি প্রশ্নও তৈরি করে; শিক্ষার্থী যদি প্রতিবার চিন্তা করার কঠিন অংশটুকু যন্ত্রের হাতে তুলে দেয়, তাহলে তার নিজের চিন্তার ক্ষমতার অনুশীলন হবে কখন? যেসব শিক্ষার্থী লেখার কাজের খসড়া তৈরিতে এআই ব্যবহার করেনি, তারা গড়ে এআই ব্যবহারকারীদের তুলনায় বিজ্ঞানে ভালো করেছে। নিয়মিত এআই ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এআইকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং এআই থেকে পাওয়া তথ্যের মান যাচাই করতে শেখানো হয়েছে, তাদের ফলাফল তুলনামূলক ভালো ছিল।

সুতরাং এআইকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং আমাদের শিখতে হবে; এআই দিয়ে কীভাবে চিন্তা করতে হয়, এআইকে দিয়ে কীভাবে চিন্তা করিয়ে নিতে হয় না। তাহলে বইয়ের কাছে কি আবার ফিরতে হবে? আমার মনে হয়, উত্তরটি অনেকাংশে হ্যাঁ। তবে তার অর্থ প্রযুক্তি ছেড়ে আবার শুধু কাগজের যুগে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের ফিরতে হবে গভীরভাবে পড়ার অভ্যাসে।

একটি দীর্ঘ লেখা পড়লে মস্তিষ্ককে আগের অনুচ্ছেদের তথ্য মনে রাখতে হয়। একটি যুক্তির সঙ্গে আরেকটি যুক্তি মেলাতে হয়। লেখকের বক্তব্য নিয়ে ভাবতে হয়। কোথাও দ্বিমত হলে নিজের যুক্তি তৈরি করতে হয়। এটি সময় নেয়। আর আজকের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবী আমাদের ক্রমাগত শেখাচ্ছে; সময় নিও না, দ্রুত পরেরটিতে চলে যাও। সম্ভবত এখানেই দ্বন্দ্ব। জ্ঞান অর্জনের জন্য গভীরতা প্রয়োজন, কিন্তু ডিজিটাল জৌলুস আমাদের মনোযোগকে ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ করে ফেলতে চায়।

আশার কথাও আছে, সব দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অংশগ্রহণকারী চীনা অঞ্চল ও সিঙ্গাপুর ২০২৫ সালে তিনটি মূল বিষয়েই সর্বোচ্চ ফলাফলকারী শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। এস্তোনিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, চাইনিজ তাইপে ও যুক্তরাজ্যও বিজ্ঞান, গণিত ও পড়া; তিন ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে। কিছু দেশ আবার গত এক দশকে উন্নতিও করেছে। তার অর্থ, পতনটি অনিবার্য নয়।

তবে বাংলাদেশের জন্যও বার্তা আছে। আমাদের শিশুর হাতেও স্মার্টফোন পৌঁছেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, রিলস, গেম এবং এখন এআই তাদের জীবনেও উপস্থিত। তাই আমাদেরও কিছু প্রশ্ন করা দরকার। আমাদের সন্তান প্রতিদিন কতক্ষণ বই পড়ছে? শুধু পরীক্ষার বই নয়; কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস, বিজ্ঞান কিংবা নিজের পছন্দের কোনো দীর্ঘ লেখা? সে কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানলে প্রথমে নিজে ভাবছে, নাকি সঙ্গে সঙ্গে গুগল বা এআইয়ের কাছে যাচ্ছে? সে কোনো তথ্য পেলে যাচাই করছে, নাকি প্রথম উত্তরটিকেই সত্য ধরে নিচ্ছে? স্কুলে আমরা কি শিক্ষার্থীদের শুধু সঠিক উত্তর শেখাচ্ছি, নাকি কোন উত্তরটি সঠিক, সেটিও ভাবতে শেখাচ্ছি? এ প্রশ্নগুলো এখন জরুরি।

এআই নিষিদ্ধ করে এর সমাধান হবে না। স্মার্টফোন কেড়ে নিয়েও স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রযুক্তির সঙ্গে বসবাস করেই নতুন প্রজন্মকে মনোযোগ, ধৈর্য, গভীর পাঠ এবং স্বাধীন চিন্তার অভ্যাস শেখাতে হবে। তাহলে শিশু-কিশোরেরা কি সত্যিই কম মেধাবী হয়ে যাচ্ছে? আমাদের শিশুরা সম্ভবত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি তথ্য পাওয়া একটি প্রজন্ম। একই সঙ্গে তারা এমন একটি সময়েও বড় হচ্ছে, যখন তাদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার আয়োজন ইতিহাসের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

এটি আমাদের; অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কারণ আমরাই শিশুদের হাতে প্রযুক্তি তুলে দিয়েছি। এখন আমাদেরই তাদের শেখাতে হবে, কখন স্ক্রিনের দিকে তাকাতে হয় আর কখন স্ক্রিন বন্ধ করতে হয়। কখন এআইয়ের সাহায্য নিতে হয় আর কখন নিজের মাথা খাটাতে হয়। কখন দ্রুত উত্তর প্রয়োজন আর কখন একটি কঠিন প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘসময় ভাবতে হয়। কারণ আগামী পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটি হয়তো সে নয়; যে সবচেয়ে দ্রুত তথ্য খুঁজে বের করতে পারে। বরং সে, যে তথ্যের ভিড়ের মধ্যেও মনোযোগ দিয়ে পড়তে, গভীরভাবে বুঝতে এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে।

আরও পড়ুন

স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে যেভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত করবেন

এসইউ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ডায়মন্ড প্লে বাটন সিএমভির ঘরে
ডায়মন্ড প্লে বাটন সিএমভির ঘরে

বাংলাদেশি নাটক দেশ-বিদেশে দর্শক চাহিদার শীর্ষে। বৈচিত্র্যপূর্ণ গল্প, বাস্তবিক ও দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা, বড় বাজেট- সব মিলিয়ে বাড়ছে দর্শক, আসছে রেভিনিউ।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
ভিনির ভারতে ফেরার রাতে দাপুটে জয় চায় ব্রাজিল

ভিনির ভারতে ফেরার রাতে দাপুটে জয় চায় ব্রাজিল

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

শিক্ষকদের পেনশনের টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে: ইশরাক হোসেন

শিক্ষকদের পেনশনের টাকা লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচার করতে হবে: ইশরাক হোসেন

দেশে গত ৫ বছরে কমেছে ইলিশ উৎপাদন, বাড়ছে শঙ্কা
দেশে গত ৫ বছরে কমেছে ইলিশ উৎপাদন, বাড়ছে শঙ্কা

২০২০-২১ অর্থবছরে সারাদেশে ইলিশ উৎপাদন হয় ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন। একই অর্থবছরে শুধু চাঁদপুরে ইলিশ উৎপাদন হয় ৩৩ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন।

News অক্টোবর ৩, ২০২৬ 0
জেমস ভাইয়ের সঙ্গে স্মৃতিগুলো জীবনের অন্যতম সেরা সম্পদ: হাসান

জেমস ভাইয়ের সঙ্গে স্মৃতিগুলো জীবনের অন্যতম সেরা সম্পদ: হাসান

আখতারুজ্জামানের ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

আখতারুজ্জামানের ৫ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ

পশ্চিমবঙ্গে বাম নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ বিজেপির ‍বিরুদ্ধে

পশ্চিমবঙ্গে বাম নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ বিজেপির ‍বিরুদ্ধে

0 Comments