শিক্ষা

অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?
অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?

অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?

গত কয়েক বছর ধরে অনলাইন শিক্ষা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ঘর থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ফলে এই মাধ্যমের চাহিদা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে। আজকের দিনে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই বিশ্বের যেকোনো কোর্সে ভর্তি হতে পারছে, আর শিক্ষকরা তাদের লেকচার দিতে পারছেন অনলাইনের মাধ্যমে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এই অনলাইন শিক্ষা কি চিরতরে আমাদের ক্লাসরুমের ধারণাকেই বদলে দেবে?

অনলাইন শিক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলো হলো সময় ও স্থানগত স্বাধীনতা। আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা অনেক শিক্ষার্থী যারা আগে দূরত্বের কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেত না, তারা এখন অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কোর্স করতে পারছে। এছাড়া, পুনরাবৃত্তি করে ভিডিও লেকচার দেখা, নিজস্ব গতিতে শেখার সুযোগ পাওয়া এবং নানা রকম ইন্টারেক্টিভ টুলস ব্যবহার করা যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য বড় সুবিধা।

কিন্তু অনলাইন শিক্ষার কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী অভিজ্ঞতা করেন মনোযোগ হারানো, প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়া, আর ব্যক্তিগত যোগাযোগের অভাব। যেখানে ক্লাসরুমে শিক্ষকের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন এবং সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ থাকে, অনলাইনে সেইটা অনেক সময় পূর্ণ হয় না। এছাড়া, ইন্টারনেটের স্থায়িত্ব ও উপকরণের অভাব অনেক এলাকায় অনলাইন শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে জোর দিচ্ছে। ভবিষ্যতে শিক্ষকের ভূমিকা কেবল জ্ঞান দানকারী নয়, বরং ডিজিটাল টুলসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গাইড ও উৎসাহিত করাই প্রধান কাজ হবে। শিক্ষা আরও ব্যক্তিগতকৃত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সম্পূর্ণ অনলাইন শিক্ষা হয়তো সব শিক্ষার্থীর জন্য কার্যকর নয়, তবে একটি হাইব্রিড মডেল বা সংকর পদ্ধতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। এতে কিছু দিন ক্লাসরুমে শিখন হবে, কিছু সময় অনলাইনে। এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নমনীয়তা ও সুযোগ এনে দেবে।

বাংলাদেশেও অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনে এগিয়ে এসেছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল অ্যাসাইনমেন্ট এবং ভার্চুয়াল ল্যাব চালু করছে। তবে সফলতার জন্য দরকার আরো ভালো অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সমর্থন।

সবমিলিয়ে, অনলাইন শিক্ষা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এর গুরুত্ব আরও বাড়বে। তবে এটি কখনোই ঐতিহ্যবাহী ক্লাসরুমকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলবে না, বরং দুটির সংমিশ্রণ আমাদের শিক্ষাকে আরো উন্নত এবং সামগ্রিক করবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

শিক্ষা

View more
এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...
এইচএসসি পরীক্ষা আজ, শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা...

  ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ, চলবে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এছাড়া ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। এবার সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার কক্ষে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে এবার নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের পাহারায় কেন্দ্রে আনা হবে। মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে। নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষপরিদর্শক থাকবেন। কোনো কক্ষে দুজনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। বসার ক্ষেত্রেও নির্ধারণ করা হয়েছে নির্দিষ্ট মানদণ্ড। পাঁচ বাই ছয় ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দুজন এবং চার ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে, তাহলে সারা দেশে সেই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করে পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে। যদিও সব বোর্ডে একই মানদণ্ড বজায় রেখে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা এবং প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধ করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং আর মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ৮৬৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বাংলা প্রথম প্রত্র দিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের পরীক্ষা। চলতি বছর ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা। এর মধ্যে ১৪৫টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যার ৪০টিই ঢাকায়। পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১ নির্দেশনা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। এগুলো হলো: পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে। প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল ও রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ৩০ মিনিট, আর ৭০ নম্বরের সৃজনশীল (সিকিউ) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নিকট হতে অন্তত সাত দিন আগে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করবেন। উত্তরপত্রে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি ওএমআর ফরমে যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবেন পরীক্ষার্থীরা। কোনো অবস্থাতেই মার্জিনের মধ্যে লেখা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। পরীক্ষার্থীকে তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক অংশে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) পৃথকভাবে পাস করতে হবে। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রে উল্লিখিত বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই অন্য বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা কাঁটাযুক্ত হাতঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (নন-প্রোগ্রামেবল) ব্যবহার করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে পারবেন না। জরুরি যোগাযোগ ও সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রম এই কন্ট্রোল রুম থেকেই পরিচালনা করা হবে। সেজন্য ১টি টেলিফোন নম্বর, তিনটি মোবাইল ফোন নম্বর এবং একটি ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এবং সংবাদ স্ক্রলে প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বরটি হলো- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫। এছাড়া যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ০১৫৫০৪১১২০৩, ০১৭১৪৯৯৪০৭৩ ও ০১৭৫৬১০৩১৫২ নির্ধারণ করা হয়েছে।

News জুলাই ২, ২০২৬ 0
আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী

আমাদের দেশে নিউটন-আইনস্টাইনের অভাব নেই: শিক্ষামন্ত্রী

সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

সততা, জবাবদিহীতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে-- ভিসি ড. হেমায়েত জাহান

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট: এক শিক্ষকেই সামলাচ্ছেন একাধিক শ্রেণি

কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

দেশে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প নির্ভর অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে শুধু সাধারণ শিক্ষায় নয়, বাস্তবভিত্তিক ও হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সেই বিবেচনা থেকেই সরকার এবার কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষ করে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।   বর্তমানে দেশে কারিগরি শিক্ষার পরিসর সীমিত। অধিকাংশ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র জেলা বা বিভাগীয় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ। ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার তরুণরা এই ধরনের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তবে নতুন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হবে, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে করে একদিকে যেমন স্থানীয়ভাবে দক্ষ জনবল গড়ে উঠবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানেও নতুন দ্বার খুলবে।   প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে মূলত বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি মেরামত, ফ্রিজ ও এসি রিপেয়ারিং, কম্পিউটার ও আইটি, ফ্যাশন ডিজাইন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সৌরবিদ্যুৎ এবং রোবোটিক্সের মতো চাহিদাসম্পন্ন কোর্স চালু করা হবে। এসব কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিখে চাকরি বা আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী হয়ে উঠবে। প্রশিক্ষণের শেষে তাদের সার্টিফিকেটও প্রদান করা হবে, যা চাকরির ক্ষেত্রেও মূল্যায়িত হবে। তাছাড়া অনেকে নিজের উদ্যোগেও ব্যবসা শুরু করতে পারবে, যার ফলে বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।   এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হয়। প্রশিক্ষকেরাও হবেন অভিজ্ঞ ও দক্ষ, যারা যুগোপযোগী পদ্ধতিতে পাঠদান করবেন। কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে বিশেষায়িত করাও হবে, যেমন কোনো এলাকায় কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ বেশি, আবার অন্য এলাকায় আইটি নির্ভর প্রশিক্ষণ বেশি দেওয়া হবে। এইভাবে স্থানীয় চাহিদা ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের ধরন নির্ধারণ করা হবে।   এই উদ্যোগ শুধু কর্মসংস্থানের দিক থেকেই নয়, সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে, যাতে কারিগরি শিক্ষা সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ঋণ সুবিধা, উদ্যোক্তা পরামর্শ ও চাকরির সংযোগও দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে, যা প্রকল্পকে বাস্তবিক ও দীর্ঘমেয়াদি সফলতায় রূপান্তর করবে।   সার্বিকভাবে বললে, প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের এই উদ্যোগ গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ আরও দক্ষ, আত্মনির্ভর ও ভবিষ্যতমুখী হয়ে উঠবে, যা স্মার্ট বাংলাদেশের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0

অনলাইন ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমছে, বাড়ছে শিখন ঘাটতি

ইউনিফর্ম ও উপবৃত্তি না পেয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার বাড়ছে

সরকারি স্কুলে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল হাজিরা চালু, নজরদারিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল, চালু হচ্ছে কেন্দ্রীয় আবেদন ও মেধাতালিকা

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পৃথক পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আর থাকছে না। শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন আবেদন ও মেধাতালিকা ভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।   নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা ফরম পূরণ ও পরীক্ষা দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে। শিক্ষার্থীরা একবার আবেদন করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ বেছে নিতে পারবেন, এবং সেই অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে।   শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য: শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি বলেছেন, “বছরের পর বছর ধরে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা একাধিক ভর্তি পরীক্ষার জন্য মানসিক ও আর্থিক চাপে থাকেন। এই পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের সময়, টাকা এবং কষ্ট—সবকিছুই বাঁচাবে।”   বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিক্রিয়া কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একে আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে। তবে ইউজিসি জানিয়েছে, সব বিশ্ববিদ্যালয়কেই এই পদ্ধতির আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে আলোচনা করে বিশেষায়িত ক্ষেত্রের জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে।   অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঢাকার একটি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, “আমার জন্য এটা ভালো খবর। এখন একবার প্রস্তুতি নিলেই চলবে, আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি আর যাওয়া-আসার খরচও কমবে।” অন্যদিকে, একজন অভিভাবক বলেন, “এটা যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে এটি শিক্ষার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।”   পরবর্তী পদক্ষেপ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই কেন্দ্রীয় ভর্তিপদ্ধতির জন্য একটি আলাদা ওয়েবসাইট চালু করবে এবং বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে।

Mahidujjaman Tamim জুন ২৮, ২০২৫ 0
অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?

অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ: ক্লাসরুম কি চিরতরে বদলে যাচ্ছে?

নতুন শিক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

নতুন শিক্ষানীতিতে বড় পরিবর্তন: শিক্ষার্থীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব

0 Comments