আলী প্রয়াস
বাংলা কথাসাহিত্য ও কবিতার প্রচলিত ছককে ভেঙে নন্দনতত্ত্বের কানাগলিতে দাঁড়িয়ে যিনি যুগপৎ সময়ের কোলাহল ও শ্মশানের নৈঃশব্দ্যকে মূর্ত করেন; তিনি কামরুল হাসান বাদল। মফস্বল ও মহানগরের প্রান্তিক দ্বৈরথ তার সৃষ্টির আঁতুড়ঘর। তার সাহিত্যিক অবয়ব বহুমাত্রিক। ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ, সাংবাদিকতা এবং ছোটগল্পে তার পদচারণা গভীর। তবে তার সামগ্রিক শিল্পপ্রয়াস আসলে এক সংবেদী চেতনার ধারাবাহিক রূপান্তর। হতাশার নিকষ অন্ধকার থেকে নান্দনিকতার আলোর দিকে এক অনন্ত যাত্রা। তার সৃষ্টির গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, তা চলমান সময়ের রাজনৈতিক অবক্ষয় এবং মানুষের অস্তিত্ববাদী সংকটের জটিল মনস্তাত্ত্বিক ক্যানভাস।
আমাদের শহরের অতি পরিচিত লেখক কামরুল হাসান বাদলের শিল্পসত্তা শুরু থেকেই রাজনীতি-বিচ্ছিন্ন ছিল না। তার ছড়া, কবিতা, প্রবন্ধ কিংবা গল্প—সবকিছুই এক অনমনীয় রাজনৈতিক চেতনায় ঋদ্ধ। তার চার দশকের সক্রিয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবন তার প্রতিটি পঙক্তিকে অগ্নিগর্ভ করেছে। তার রাজনৈতিক চেতনার চারটি প্রধান স্তম্ভ রয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদ, প্রশ্নাতীত বঙ্গবন্ধু-প্রীতি এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের তীব্র বিরোধিতা। ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশের ইতিহাস যে অন্ধকার বাঁকে মোড় নেয়, তার গভীর ক্ষত তরুণ বাদলকে আজীবন তাড়িত করেছে। পরবর্তীতে এসবেরই আয়না হয়ে ওঠে তার সৃজনসত্তা। এখানে তার কবিতা ও কথাসাহিত্য নিয়ে সামান্যটুকু আলোচনার অবকাশ পাব।
২.
কামরুল হাসান বাদলের কাব্য সংখ্যার বিচারে ক্ষীণ হলেও গুণগত দিক থেকে তা অত্যন্ত পরিশীলিত। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে প্রকাশিত তার তিনটি কাব্যগ্রন্থ শব্দের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা প্রমাণ করে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একদিন জ্যোৎস্নার স্পর্ধায়’ (১৯৯৪) মূলত এক অবক্ষয়িত সময়ের সমষ্টিগত হতাশার চিত্র। ‘এখানে মৃত্যু’ কবিতায় এই সামগ্রিক ক্ষোভ ও হতাশা মূর্ত হয়ে উঠেছে, ‘আমরা ধ্বংস এবং মৃত্যুর সাথে/ পাশাপাশি বসে আছি/ যেনো একটি প্রাচীন নগর/ প্রাগৈতিহাসিকতার ধুলোয় ঢাকা।’ যে উপত্যকায় রবীন্দ্রনাথ, মুজিব কিংবা ৭ মার্চের অবিনশ্বর বজ্রকণ্ঠ হারিয়ে গেছে প্রাচীন ডাইনোসরের ছায়ায়, সেখানে এক গভীর সমষ্টিগত নৈরাশ্য গ্রাস করে সমাজকে। কিন্তু বাদল কেবল হতাশার কালো জলে পাঠককে নিমজ্জিত রাখেন না; কবি শেষ পর্যন্ত ভালোবাসার অপরাজেয় শক্তিতেই মুক্তি খোঁজেন। তিনি অবলীলায় লেখেন—‘ভালোবাসাহীন মানুষ কিছুই সৃষ্টি করে না।’
প্রথম বইয়ের তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষোভ ও ক্রোধ দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ধূপদেশে স্বর্ণচূড়া’য় (১৯৯৯) এসে অনেকটাই প্রশমিত ও অবগাহনে রূপ নেয়। এখানে তিনি প্রকৃতিঘনিষ্ঠ এবং ইঙ্গিতে-ইশারায় চিত্রকল্প তৈরিতে সচেষ্ট। ‘দৃশ্য-এক’ কবিতায় স্নানঘরে চুল থেকে জল ঝরাকে যখন তিনি ‘নায়াগ্রা প্রপাত’ বলেন, তখন ইন্দ্রিয়জ অনুভূতি এক অধ্যাত্ম অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়। ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘জিরাফের মতো দুপুরগুলো’ কাব্যে বাদলের নন্দনবোধ আরও পরিপক্ব এবং অস্তিত্ববাদী রূপ ধারণ করে। জিরাফের দীর্ঘ গ্রীবা ও উদ্যত ভঙ্গির রূপক নাগরিক জীবনের রিরংসা ও নিস্তব্ধতাকে চিহ্নিত করে। ‘ডানাকাটা’ কবিতায় তিনি আমাদের চিরন্তন বাস্তবতার ধারণাকে ওলটপালট করে দিয়ে লেখেন, ‘মেয়েটির ডানা ছিল না তবুও/ উড়ছিল... আরেকটি মেয়ে/ অনবদ্য দুটি ডানা নিয়ে/ পাশে বসেছিল।’
বাহ্যিক সামর্থ বা ডানা থাকলেই মানুষ মুক্ত হয় না; বরং দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানুষ তার অন্তর্গত আত্মিক শক্তিতে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে উড়তে পারে—এই পরাবাস্তব তত্ত্বই কবি এখানে প্রতিষ্ঠা করেন। ‘বিশ্বনাগরিক’ কবিতায় তিনি মুক্তবাজার অর্থনীতি ও করপোরেট সংস্কৃতির জাঁতাকলে পিষ্ট মানুষের ক্ষীয়মাণ প্রাণের হাহাকার তুলে ধরেন। আর ‘আমার ঘর’ কবিতার অবসান ঘটে এক ভয়ংকর অস্তিত্ববাদী সংকটে, যেখানে কবরস্থানের পাশের কাছারিঘরে বসবাসকারী কবিকে এক মৃত মানুষ বারবার কবরের দিকে আঙুল তুলে বলে, ‘ওই যে তোমার ঘর, তুমি খুঁজে পাচ্ছো না।’
৩.
কামরুল হাসান বাদলের কবিতা ও কলাম পড়েই অভ্যস্ত ছিলাম দীর্ঘদিন। হঠাৎই তার গল্পে আস্বাদন নিলাম অত্যন্ত ব্যতিক্রমভাবে। পড়তে গিয়ে পেলাম অন্য জাদুর ছোঁয়া। গল্পের মূল অবয়ব গড়ে ওঠে নিরেট, চেনা বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে। সেই চেনা বাস্তবতার ফাটল গলে ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে পড়ে যৎসামান্য ম্যাজিক-রিয়েলিজম। লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের মূলধারা যেখানে অলৌকিকতাকে আখ্যানের ভিত্তিভূমি বানায়, বাদল সেখানে অবলীলায় ঘটান উল্টো পুরাণ। তার গল্পবিশ্বে জাদুবাস্তবতা কোনো অলীক কল্পনা বা রূপকথা নয় বরং তা রূঢ় বাস্তবতাকে আরও তীব্রভাবে ফুটিয়ে তোলার নান্দনিক অনুঘটক। এই ধরুন ‘সুনীলের কুকুরটা’ গল্পের কথা যদি বলি, এই গল্পে মানুষের ভাষায় কথা বলা কুকুরটি আসলে কোনো রূপকথা নয়। সেটি নাগরিক মানুষের অন্তর্গূঢ় একাকিত্বের পরাবাস্তব প্রতিবিম্ব। কুকুরটি যখন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা আউড়ে বলে—আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি-তার ভেতরের কুকুরটাকে দেখবো বলে...’ তখন বাস্তবতার দেওয়াল নিমেষেই ভেঙে যায়। অথচ সেই পরাবাস্তবতা আমাদের চেনা রোজকার জগতের খুব কাছাকাছি থিতু হয়। তখন গভীর রাতের নীরবতায় মানুষ ও পশুর ভাষার ব্যবধান ঘুচে যায়। এটি আসলে নগরের নিশাচর মানুষের একাকিত্ব এবং অস্তিত্বের সংকটের এক পরাবাস্তব রূপক।
একইভাবে, ‘খুন ও হুইসেল’ গল্পের মূল চরিত্র বিহারী শামসুইয়া যখন নিজের রক্তাক্ত লাশ নিজেই দেখে এবং দ্বিতীয়বার গুলিবিদ্ধ হয়ে মরে, তখন পাঠককে এক তাত্ত্বিক দোলাচলে ফেলে দেয়। চরিত্রটি জীবিত নাকি মৃত—এই অমীমাংসিত রহস্য গল্পের গভীরতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আবার ‘কর্পূর’ গল্পে মৃত্যুর ছয়দিন পর কবর থেকে বাতেন সাহেবের উঠে আসা এবং ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর টিফিন বক্স থেকে রুটি-তরকারি খাওয়ার ঘটনাটি চরম আধিভৌতিক অভিঘাত সৃষ্টি করে। লাশের গায়ে লেগে থাকা কর্পূরের ঘ্রাণ আর করিমুল্লাহর দোদুল্যমানতা আসলে আমাদের চারপাশের চেনা বাস্তবতার নির্মম বিনির্মাণ। ‘আবসেরাব’ গল্পে শখের বশে দাড়ি কামিয়ে মহিউদ্দিনের যে চরম সামাজিক ও রাজনৈতিক হেনস্থার শিকার হয়, তা এক তীব্র শ্লেষাত্মক ও বাস্তবধর্মী দলিল। কৃত্রিম আবহ নির্মাণ না করে জীবনকে ঠিক যেভাবে আছে, সেভাবেই মানবিক মূল্যবোধের নবমূল্যায়নে তুলে ধরা বাদলের এই ধারার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
শুরুতেই বলেছিলাম বাদলের চিন্তা রাজনীতি মুক্ত নয়, রাজনীতি না করেও ছোটগল্পের ক্ষেত্রে এই রাজনৈতিক রূপকের সার্থক প্রকাশ ঘটেছে ‘রহিমা’ গল্পে। রহিমা এখানে স্বয়ং দুখিনী বাংলাদেশ। স্বদেশের ঐতিহ্যবাহী কথকতার ঢঙে রচিত এই রূপক আখ্যানে যখন স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষেরা অলৌকিক বোতলের ছিপি খুলে পুরোনো দৈত্য-দানবদের অবমুক্ত করে দেয়; তখন তা সমকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার ভয়ংকর পূর্বাভাস হয়ে দাঁড়ায়। তবে গল্পের শেষে ‘এবং পুনশ্চ’ উপশিরোনামে বাদল এক দুর্মর আশাবাদের বীজ বুনে দেন। তিনি বিশ্বাস করেন—‘কিন্তু একদিন এই মাটি কথা কইবেই... আবার আসিবে ফাগুন, আসিবে দিন...’
কামরুল হাসান বাদল একাধারে সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক যোদ্ধা। পেশাগত জীবনের এই রূঢ় অভিজ্ঞতা তার কথাসাহিত্যে তীব্র সামাজিক অঙ্গীকার হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। ‘ঘাড়ত্যাড়া বাচ্চু’ গল্পটি মফস্বল সাংবাদিকতার জীবন্ত ও নির্ভীক আলেখ্য। সুবিধাবাদী ও হলুদ সাংবাদিকতার বিপরীতে আবদুল লতিফ বাচ্চু এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। ভণ্ডপীরের বিজ্ঞাপন বাণিজ্যের কারণে যখন মূলধারার পত্রিকা তার সত্যসন্ধ প্রতিবেদন ছাপে না, বাচ্চু তখন তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়। তখন আমাদের বিচারব্যবস্থা ও সমাজকাঠামোর কঙ্কালটির মুখোশ খুলে যায়। বাচ্চুর দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হলেও তার অনমনীয় ঘাড় সোজা থাকে। ফেসবুকের মাধ্যমে খবর ভাইরাল হওয়ার মাঝেই সে তার পরম সার্থকতা খুঁজে পায়। এটি মূলত আমাদের পুঁজিতান্ত্রিক ও করপোরেট মিডিয়া সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক তীব্র চপেটাঘাত।
একই রকম নির্মম কষাঘাত তিনি হেনেছেন প্রগতিশীল রাজনীতির অবক্ষয়ের ওপর ‘একটি মাদকতাহীন রাত’ গল্পে। আজীবন সর্বহারার রাজনীতি করা, বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতে দেখতে বৃদ্ধ হওয়া তথাকথিত এক বাম নেতা প্রতি রাতে বারে গিয়ে মদ খান। অথচ তার কিশোর বয়সী কাজের ছেলেটির বহুদিনের অনুরোধ সত্ত্বেও তাকে একটা নতুন লুঙ্গি কিনে দেন না। উল্টো বুর্জোয়া ভণ্ডামিতে সান্ত্বনা দেন—‘সবুর কর সবুর কর, সবুরে মেওয়া ফলে।’ গল্পের চূড়ান্ত ট্র্যাজিক-কমেডি দৃশ্যমান হয়; যখন ছেলেটি দরজা খোলে সম্পূর্ণ লুঙ্গিহীন অবস্থায় এবং নির্বিকার গলায় বলে—‘কিছু না স্যার, সবুরে মেওয়া ফলেছে।’ কলমের মাত্র কয়েক আঁচড়ে বাদল এখানে প্রগতিবাদের অন্তর্গূঢ় নৈতিক দেউলিয়াত্বকে খোলসছাড়া করেছেন।
কামরুল হাসান বাদলের সাহিত্যের কোনো বাঁকবদলকারী হয়তো নন, কিন্তু তিনি এক পরম সৎ ও খাঁটি শব্দশ্রমিক। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের শর্ত এবং বনফুলের ক্ষুদ্রায়তন নিটোলতার চমৎকার মিশেলে তার কথাসাহিত্য। তার ভাষা আপাত সরল হলেও তা গূঢ় ও গভীর তাৎপর্যবাহী। জীবনের কঠিন বাস্তবতার জমিনে দাঁড়িয়েও তিনি যেভাবে অলৌকিক কর্পূরের সুবাস ছড়ান কিংবা জিরাফের গ্রীবার মতো উদ্যত দুপুরে বিদ্রোহের স্বপ্ন দেখেন, তা সমকালীন বাংলা সাহিত্যে তাকে ব্যতিক্রমী কবি ও কথাকার হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
এসইউ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় ১০ জন বাংলাদেশি স্রোতে ভেসে ভারতীয় জলসীমায় চলে যান। তাঁদের জীবিত উদ্ধার করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজন এখনো নিখোঁজ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গতকাল শনিবার রাতে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকেল পাঁচটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলীমনগর ঘাট থেকে মাঝিসহ ১২ জনকে নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা জহুরপুরটেক গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পদ্মার ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এ সময় মো. ওয়াসিম (২৩) নামের একজন সাঁতরে একটি চরে ওঠেন। একজন নিখোঁজ। বাকি ১০ জন স্রোতে ভেসে ভারতীয় জলসীমায় চলে যান। সেখানে বিএসএফের টহল দলের একটি স্পিডবোট তাঁদের জীবিত উদ্ধার করে।বিকেলে বিএসএফ বিষয়টি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাখেরআলী ও ফরিদপুর বিজিবি বিওপি কমান্ডারকে জানান। পরে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। উদ্ধার হওয়া ১০ জনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা পরস্পরের আত্মীয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে মো. ইসমাইল হোসেন নামের এক আত্মীয়ের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন।উদ্ধার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাসেল, মো. ইব্রাহিম, সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, সখিনা, নিলুফা, তানিয়া ও তাঁর ২০ দিন বয়সী শিশু তানিশা খাতুন, সানাউল্লাহ ও আল আমিন। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুর গ্রামের বকরীপাড়ার বাসিন্দা। নৌকায় থাকা একই গ্রামের মো. মোস্তফা এখনো নিখোঁজ।
একসময় ওয়াই-ফাই রাউটারে একটি অ্যান্টেনাই যথেষ্ট ছিল। তখন ইন্টারনেটের গতি ছিল তুলনামূলক কম, আর ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ডিভাইসের সংখ্যাও ছিল সীমিত। সময়ের সঙ্গে ইন্টারনেটের গতি বেড়েছে, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বেড়েছে সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যাও। ফলে রাউটারে অ্যান্টেনার সংখ্যাও বেড়েছে। বর্তমানে আটটি পর্যন্ত অ্যান্টেনাযুক্ত রাউটারও বাজারে দেখা যায়। অনেকের কাছে রাউটারে এত অ্যান্টেনা থাকা শুধু বিপণন কৌশল মনে হতে পারে। তবে এর পেছনে রয়েছে প্রযুক্তিগত কারণ। মূল বিষয়টি হলো ‘মিমো’ প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে একাধিক অ্যান্টেনা ব্যবহার করে একই সময়ে একাধিক পথে তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। একাধিক অ্যান্টেনা কী কাজে লাগে? সহজভাবে বলতে গেলে, রাউটারের প্রতিটি অ্যান্টেনাকে তথ্য চলাচলের একটি আলাদা লেন হিসেবে ভাবা যায়। একটি লেন দিয়ে সীমিত পরিমাণ তথ্য চলাচল করতে পারে। কিন্তু একাধিক লেন থাকলে একই সময়ে বেশি তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়। আরও পড়ুন রাউটার কেনার আগে ৩ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি তবে শুধু রাউটারে বেশি অ্যান্টেনা লাগালেই গতি বেড়ে যায় না। অ্যান্টেনাগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য রাউটারে উপযুক্ত অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তি থাকতে হয়। ‘মিমো’ প্রযুক্তি একাধিক অ্যান্টেনাকে কাজে লাগিয়ে আলাদা তথ্যপথ তৈরি করে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ‘বিমফর্মিং’। এর মাধ্যমে রাউটার কোনো নির্দিষ্ট ডিভাইসের অবস্থান শনাক্ত করে সেই ডিভাইসের দিকে ওয়াই-ফাই সংকেতকে আরও কার্যকরভাবে কেন্দ্রীভূত করতে পারে। একাধিক অ্যান্টেনার সংকেত সমন্বয় করে নির্দিষ্ট দিকে তুলনামূলক শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়। সংযোগ আরও নির্ভরযোগ্য হয় বাসাবাড়িতে ওয়াই-ফাই সংকেত সাধারণত সরাসরি ডিভাইসে পৌঁছায় না। দেয়াল, আসবাবপত্র, ধাতব বস্তু এমনকি মানুষের শরীরেও সংকেত প্রতিফলিত হয়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একটি অ্যান্টেনার সংকেত দুর্বল হলেও অন্য অ্যান্টেনার মাধ্যমে তুলনামূলক ভালো সংযোগ পাওয়া যেতে পারে। একাধিক অ্যান্টেনা থাকার কারণে রাউটার বিভিন্ন সংকেতের মধ্য থেকে কার্যকর সংকেত ব্যবহার করতে পারে। এতে সংযোগের স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়তে পারে। এছাড়া ‘এমইউ-মিমো’ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একাধিক অ্যান্টেনা গুরুত্বপূর্ণ। পুরোনো রাউটারগুলো সাধারণত একবারে একটি ডিভাইসের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত অন্য ডিভাইসে চলে যেত। এমইউ-মিমো প্রযুক্তি রাউটারের অ্যান্টেনা ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে একাধিক ডিভাইসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কতটি অ্যান্টেনা যথেষ্ট? বেশিরভাগ বাসাবাড়ির ব্যবহারকারীর জন্য আট অ্যান্টেনার রাউটার প্রয়োজন হয় না। সাধারণ ব্যবহারে দুই থেকে চার অ্যান্টেনার ভালো মানের রাউটারই যথেষ্ট হতে পারে। তবে রাউটারের কর্মক্ষমতা নির্ধারণে শুধু অ্যান্টেনার সংখ্যা দেখলে হবে না। রাউটারে ব্যবহৃত ওয়াই-ফাইয়ের মান, সফটওয়্যার এবং অভ্যন্তরীণ হার্ডওয়্যারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের প্রধান সমস্যা ওয়াই-ফাই কাভারেজ, তারা বেশি অ্যান্টেনার রাউটার বিবেচনা করতে পারেন। তবে বড় বাড়ি বা একাধিক কক্ষের ক্ষেত্রে শুধু অ্যান্টেনা বাড়ানোর চেয়ে মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা অনেক সময় বেশি কার্যকর সমাধান হতে পারে। আরও পড়ুন ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত আরাফাত ময়দান অন্যদিকে অফিস, ক্যাফে বা এমন জায়গায় যেখানে একসঙ্গে অনেক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, সেখানে বেশি অ্যান্টেনা ও বেশি তথ্যপ্রবাহ সক্ষমতার রাউটার উপকারী হতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-রাউটারে অ্যান্টেনা বেশি থাকলেই ইন্টারনেটের গতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায় না। আপনার ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ গতি নির্ভর করবে মূলত ইন্টারনেট সংযোগের প্যাকেজ, রাউটারের সক্ষমতা এবং নেটওয়ার্কের অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ের ওপর। আট অ্যান্টেনার রাউটার কিনলেই ইন্টারনেট সেবাদাতার নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। সূত্র: এনগ্যাজেট শাহজালাল/ কেএসকে
একটি শিশু পৃথিবীতে আসার পর একটি পরিবারের ছবি পুরোপুরি বদলে যায়। নতুন জীবনের উল্লাস, আনন্দ আর দায়িত্বের মাঝে দিনে দিনে হারিয়ে যেতে থাকে দম্পতির নিজেদের সময়টা। রাত জেগে শিশুর যত্ন, কাজের চাপ আর সারাদিনের ক্লান্তিতে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে একসময়ের সআবেগঘন মুহূর্ত কিংবা গভীর রাতের দীর্ঘ আড্ডাগুলো যেন দূর অতীতের গল্প মনে হতে শুরু করে। অনেক দম্পতিই এই সময়ে এসে অপরাধবোধে ভোগেন-তবে কি আমাদের মধ্যকার সুন্দর মূহুর্তগুলো ফুরিয়ে গেল? উত্তর হলো, না। ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি, শুধু মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের নতুন দায়িত্বের কারণে তা সাময়িকভাবে চাপা পড়ে গেছে। একটু সচেতনতা আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যেমেই ফিরে পেতে পারেন পারেন দাম্পত্যের সেই পুরোনো উষ্ণতা। দায়িত্বের ভাগ করে নিন সন্তানের দেখাশোনার সব দায়িত্ব একা একজনের ওপর পড়লে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর রোমান্সের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ক্লান্তি । তাই শিশুর দায়িত্ব দুজন মিলে ভাগ করে নিন। একজন যখন শিশুর যত্ন নিয়ে, অন্যজন তাকে কিছুটা সময় দিন বিশ্রাম নেওয়ার। সঙ্গী যখন মানসিকভাবে চাপমুক্ত থাকবেন, তখন ভালোবাসার জায়গা এমনিই তৈরি হবে। সারাদিন যোগাযোগ রাখুন ব্যস্ততার কারণে দিনে হয়তো সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ কম থাকে। কিন্তু কাজের ফাঁকে 'তোমার কথা মনে পড়ছে' বা 'আজ তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিল, নিজের যত্ন নিও'- এমন একটি ছোট খুদে বার্তা দিন। এটি সঙ্গীকে অনুভব করায় যে তিনি এখনো আপনার কাছে কতটা বিশেষ। নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন সপ্তাহে অন্তত একদিন সোশ্যাল মিডিয়া দূরে সরিয়ে রেখে একসঙ্গে শিশুর ঘুমানোর পর রাতের কিছুটা সময় শুধুই আপনাদের দুজনের জন্য তুলে রাখুন। এই সময়টাতে একসঙ্গে একটি সিনেমা দেখা, বারান্দায় বসে চা পান কিংবা অল্প গল্প করা যেতে পারে। সুযোগ থাকলে মাসে অন্তত একবার কাছের কোন মানুষের কাছে সন্তানকে কিছু সময়ের জন্য রেখে দুজনে বাইরে থেকে ঘুরে আসতে পারেন। কথা বলুন সন্তানকে ছাড়াও সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে যখন দুজন একসঙ্গে বসবেন, তখন আলোচনার বিষয় যেন শুধু সন্তানের বিষয় আলোচনা না করে নিজেদের সম্পর্কে ও কথা বলুন। সন্তানের খাওয়ার হিসাব বা ডায়াপার জানার বাহিরেও আপনাদের নিজস্ব একটি জগৎ রয়েছে। সঙ্গীর সারাদিন কেমন কাটল, তার মনের হালচাল কেমন বা কোনো পুরোনো স্মৃতির রোমন্থন দিয়ে শুরু করতে পারেন রাতের আড্ডা। ছোট ছোট স্পর্শের জাদু রোমান্স মানেই বড় কোনো আয়োজন বা দামি ডেট নাইট নয়। কাজের ফাঁকে হুট করে প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরা, রান্নাঘরের ব্যস্ততার মাঝে যতটা সম্ভব কাজে সাহায্য করা, কিংবা সকালে এক কাপ চা একসঙ্গে খেতে খেতে গল্প করলেও ভালোবাসার গভীরতা বজায় থাকে। এই ছোট ছোট শারীরিক স্পর্শগুলো আপনার সঙ্গীর সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করবে। আরও পড়ুন পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে পেয়েও যোগাযোগ করতে দ্বিধা হয় কেন? পরস্পরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বাবা-মা হিসেবে সঙ্গীর ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলোর প্রশংসা করুন। 'তুমি বাবুর খেয়াল সুন্দর করে রাখছো' কিংবা 'তুমি সত্যিই একজন চমৎকার বাবা/মা'-এ ধরনের আন্তরিক স্বীকৃতি সঙ্গীর মনে অনুরাগের সৃষ্টি করে। আরও পড়ুন অফিসে রসিকতার আড়ালে হয়রানি, বুঝবেন কীভাবে? সন্তান ঘরে আসা মানে দাম্পত্যের রোমান্সের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ভালোবাসার একটি নতুন ও পরিপক্ব অধ্যায়ের সূচনা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া আর সামান্য যত্নই পারে বাবা-মা হওয়ার যাত্রাতেও দাম্পত্যকে চিরসবুজ রাখতে। এসএকেওয়াই