সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই এখন চোখে পড়ছে পরিচিত মুখের অপরিচিত রূপ। কেউ যেন আশির দশকের সিনেমার নায়ক, কেউ পুরোনো দিনের স্টুডিও ফটোগ্রাফের চরিত্র, কারো পরনে রেট্রো পোশাক, চোখে পুরোনো ফ্রেমের চশমা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডেই নিজের ছবি কয়েক দশক পেছনে নিয়ে যাওয়ার এই ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।
বিষয়টি নিঃসন্দেহে মজার। প্রযুক্তির চমৎকার ব্যবহারও বলা যায়। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই একটি প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি এআই ছবি তৈরির জন্য নিজের আসল ছবি আপলোড করতে গিয়ে আমরা কি না বুঝেই ব্যক্তিগত তথ্যের দরজা খুলে দিচ্ছি?
এআইকে আপনি শুধু একটি ‘ছবি’ দিচ্ছেন না। সেই ছবিতে থাকতে পারে আপনার মুখের স্পষ্ট গঠন, বয়সের ধারণা, বাড়ি বা কর্মস্থলের দৃশ্য, পরিবারের অন্য সদস্য, এমনকি ছবির সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রযুক্তিগত তথ্যও। একবার কোনো তথ্য অনলাইন সেবায় চলে গেলে সেটি কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে, কতদিন রাখা হচ্ছে কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, সব সময় তার নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীর হাতে থাকে না।
ভালো মানের এআই পোর্ট্রেট বানাতে সাধারণত ব্যবহারকারীর স্পষ্ট একটি বা একাধিক ছবি প্রয়োজন হয়। অনেক অ্যাপ আবার ভালো ফলাফলের জন্য একই ব্যক্তির বিভিন্ন কোণ থেকে তোলা কয়েকটি ছবিও চায়। ফলে একজন ব্যবহারকারী নিজেই নিজের মুখের বেশ কিছু উন্নতমানের ছবি একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কাছে তুলে দিচ্ছেন।
কোনো এআই সিস্টেমে আপনার মতো দেখতে নতুন ছবি তৈরি করতে হলে ছবিটির বিভিন্ন দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে হয়। মুখের আকৃতি, চোখের অবস্থান, নাক, ঠোঁট, চুল, ত্বক কিংবা আলোর ধরন, এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই নতুন ছবি তৈরি হতে পারে। তবে কোনো ডিজিটাল ছবি আপলোড করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘বায়োমেট্রিক ডেটা’ হয়ে যায় না। ছবির ওপর বিশেষ প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া চালিয়ে যদি এমন তথ্য তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে স্বতন্ত্রভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তখন সেটি বায়োমেট্রিক তথ্যের পর্যায়ে যেতে পারে। তাই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, যে এআই সেবায় নিজের ছবি দিচ্ছেন; তারা সেই ছবি দিয়ে ঠিক কী করছে?
ই-মেইলের পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে সেটি পরিবর্তন করা যায়। ব্যাংক কার্ডের তথ্য চুরি হলে কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড নেওয়া যায়। এমনকি ফোন নম্বরও প্রয়োজন হলে বদলানো সম্ভব। কিন্তু আপনার মুখের গঠন, চোখ কিংবা অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য বদলে ফেলা এত সহজ নয়। এ কারণেই বায়োমেট্রিক তথ্যকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের তথ্যের বড় ডেটাবেজ সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু হলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অবশ্য কোনো এআই ইমেজ অ্যাপে ছবি দিলেই আপনার ‘ফেস আইডি চুরি হয়ে যাচ্ছে’ এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো ঠিক নয়। একেকটি প্রতিষ্ঠান একেকভাবে তথ্য প্রক্রিয়া ও সংরক্ষণ করে। সমস্যা হলো, ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার তাড়াহুড়োয় ব্যবহারকারীদের বড় অংশই সংশ্লিষ্ট সেবার প্রাইভেসি পলিসি বা টার্মস অব সার্ভিস দেখেন না।
অনলাইনে কোনো কিছু বিনামূল্যে পাওয়া মানেই ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করা হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। আবার ‘ফ্রি’ লেখা দেখেই কোনো সেবাকে প্রশ্নহীনভাবে বিশ্বাস করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। একটি এআই সেবা ব্যবহার করার সময় প্রতিষ্ঠানটি আপনার দেওয়া ছবি ছাড়াও ডিভাইস-সম্পর্কিত তথ্য, আইপি ঠিকানা, ব্যবহারের ধরন বা অন্য প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। কোন তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং সেগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা সংশ্লিষ্ট সেবার নীতিমালার ওপর নির্ভর করে।
তাই ছবি আপলোডের আগে অন্তত জানা উচিত, ছবিটি কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কাজ শেষ হওয়ার পর সেটি মুছে ফেলা হবে কি না, সেবা বা এআই মডেল উন্নয়নে ব্যবহারকারীর দেওয়া কনটেন্ট ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করার বিধান রয়েছে কি না। বিশেষ করে হঠাৎ ভাইরাল হওয়া অপরিচিত কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে নিজের একাধিক উচ্চমানের ছবি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই যাচাই আরও জরুরি।
এআই প্রযুক্তি ছবি সম্পাদনা ও কৃত্রিম ছবি তৈরির কাজকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে বাস্তব আর কৃত্রিমের পার্থক্য অনেক সময় সাধারণ চোখে ধরা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আপনার ছবি অনলাইনে থাকা মানেই সেটি ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করবে, এমন নয়। কিন্তু যত বেশি পরিষ্কার ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠের নমুনা প্রকাশ্যে পাওয়া যায়, কাউকে নকল করে বিশ্বাসযোগ্য কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরির সুযোগও তত বাড়ে।
কারো ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি, পরিচিত ব্যক্তির নামে টাকা চাওয়া, নকল প্রোফাইল তৈরি, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন কিংবা মানহানিকর কনটেন্ট বানানোর ঘটনা এখন আর কেবল কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়। এআইভিত্তিক কণ্ঠ ও ভিডিও নকল করে প্রতারণার ঘটনাও বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু ‘আমার ছবিটি সুন্দর হয়েছে কি না’ এতটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ডিজিটাল যুগে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, একবার ছবিটি আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সেটি দিয়ে আর কী করা সম্ভব?
চেহারা নকল করার ঝুঁকি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিচয় যাচাইকরণ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তিত বা ‘মর্ফড’ ছবি নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। দুই বা একাধিক মানুষের মুখের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে এমন একটি কৃত্রিম ছবি তৈরি করা সম্ভব, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। এ কারণেই বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান মুখের ছবি ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ঠেকাতে আলাদা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এর অর্থ এই নয় যে, রেট্রো ছবি বানানো প্রত্যেক ব্যবহারকারী পরিচয় চুরির শিকার হবেন। বরং বিষয়টি মনে করিয়ে দেয়, উচ্চমানের মুখের ছবি এখন ডিজিটাল পরিচয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এআইয়ে ছবি দেওয়ার সময় আরেকটি ঝুঁকি অনেকের নজর এড়িয়ে যায়। ছবিতে শুধু আপনার মুখ নয়, আপনার চারপাশের অনেক তথ্যও দৃশ্যমান থাকতে পারে। ধরা যাক, ঘরের মধ্যে তোলা একটি ছবি আপলোড করলেন। পেছনের দেওয়ালে হয়তো শিশুর স্কুলের পরিচয় আছে। টেবিলে অফিসের আইডি কার্ড পড়ে আছে। জানালার বাইরে এমন কোনো ভবন দেখা যাচ্ছে, যেখান থেকে অবস্থান অনুমান করা সম্ভব। গাড়ির নম্বরপ্লেট, ব্যক্তিগত চিঠি, নথি কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যও ছবিতে থাকতে পারেন। এসব তথ্য এআই ছবি তৈরির জন্য প্রয়োজন না হলেও মূল ছবির অংশ হিসেবেই প্ল্যাটফর্মটির কাছে চলে যেতে পারে। এ ছাড়া ছবি কোন ডিভাইসে তোলা, কখন তোলা কিংবা কোথায় তোলা, এ ধরনের তথ্য কোনো কোনো ছবির মেটাডেটায় থাকতে পারে। সব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ একইভাবে এসব তথ্য পরিচালনা করে না। ফলে এআইকে ছবি দেওয়ার আগে শুধু নিজের মুখ নয়, পুরো ফ্রেমটিই একবার ভালো করে দেখা দরকার।
কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার পর সেটি যখন আপনার ফোনের গ্যালারির অনুমতি চায়, তখন না ভেবেই ‘অ্যালাও’ বা ‘অ্যালাও অল ফটোস’ চাপার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। একটি ছবি এডিট করার জন্য কোনো অ্যাপের যদি পুরো ফটো লাইব্রেরিতে প্রবেশের প্রয়োজন না হয়, তাহলে সম্ভব হলে শুধু নির্বাচিত ছবির অনুমতি দেওয়াই নিরাপদ অভ্যাস। একইভাবে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, কনট্যাক্ট লিস্ট কিংবা লোকেশন, অ্যাপের মূল কাজের জন্য প্রয়োজন নেই এমন অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া উচিত। ডিজিটাল নিরাপত্তায় বড় কোনো সিদ্ধান্তের চেয়ে এমন ছোট ছোট অভ্যাসই অনেক সময় বেশি কার্যকর।
অনেকের ধারণা, অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেই সব তথ্য সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডেটা রিটেনশন নীতির ওপর নির্ভর করে। কোনো সেবা হয়তো মূল ছবি দ্রুত মুছে দেয়, কোনোটি নির্দিষ্ট সময় ধরে সংরক্ষণ করে, আবার কোনো ব্যবস্থায় ব্যাকআপে সাময়িক কপি থাকতে পারে। ঠিক কী ঘটে, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা না দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সুতরাং শুধু ‘ডিলিট অ্যাকাউন্ট’ বাটন আছে কি না দেখাই যথেষ্ট নয়। ডেটা মুছে ফেলার অনুরোধ করলে কী কী তথ্য মুছে ফেলা হয় এবং কত সময়ের মধ্যে তা কার্যকর হয়, সেটিও জানা গুরুত্বপূর্ণ।
এআই অ্যাপে ব্যবহার করার জন্য পাসপোর্টের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রে ব্যবহৃত ছবি, অফিসের আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের ছবি কিংবা এমন কোনো ছবি ব্যবহার না করাই ভালো, যেটি আপনার পরিচয় যাচাইয়ের কাজে নিয়মিত ব্যবহৃত হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ব্যাংক কার্ড বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি অপ্রয়োজনে এআই চ্যাট বা ইমেজ টুলে আপলোড না করা। একটি মজার বা নান্দনিক ছবি তৈরির জন্য যদি পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নথি ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকে, তাহলে সেখানে বাড়তি ঝুঁকি নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড খুব দ্রুত বদলায়। আজ আশির দশকের ছবি, কাল হয়তো নব্বইয়ের দশক, পরশু নিজেকে বৃদ্ধ দেখানো কিংবা সিনেমার চরিত্রে রূপান্তর করার নতুন কোনো ট্রেন্ড আসবে। কয়েকদিন পর আশির দশকের ছবিগুলো হয়তো টাইমলাইন থেকেও হারিয়ে যাবে। কিন্তু ইন্টারনেটে দেওয়া তথ্যের আয়ু সব সময় ট্রেন্ডের মতো ছোট নয়। আমরা এখন এমন একটি সময়ে বাস করছি, যখন মুখের ছবি শুধু একটি স্মৃতি নয়; এটি আমাদের ডিজিটাল পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি মানুষের মুখ ও কণ্ঠ অনুকরণ করার ক্ষমতাকে দ্রুত আরও শক্তিশালী করছে।
তাই পরেরবার কোনো ভাইরাল এআই ট্রেন্ডে নিজের ছবি দেওয়ার আগে কয়েক সেকেন্ড থামুন। নিজেকে তিনটি প্রশ্ন করুন, ছবিটি আমি কাকে দিচ্ছি, তারা এটি কীভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং পরে এই ছবির ওপর আমার নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে? কয়েক সেকেন্ডের একটি মজার ছবি হয়তো দ্রুতই ভুলে যাবেন। কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে নেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব এত দ্রুত হারিয়ে নাও যেতে পারে। এআই ট্রেন্ডে গা ভাসান, তবে নিজের ডিজিটাল পরিচয়টাও সঙ্গে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কি না; সেই প্রশ্নটি ভুলে যাবেন না।
এসইউ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
চট্টগ্রামে নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফায়াতের বাড়িতে মাতম চলছে। দুপুরের দিকে তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত তাসনিম রিফায়াতের বাবার নাম আসাদুল হক। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিফায়াত ছিলেন মেজ। প্রায় ১২ বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তাসনিম রিফায়াত। তার আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসে তাসনিম রিফায়াতের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আরও পড়ুন ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত নিহত সেনাসদস্য তাসনিম রিফাতের ছোট ভাই শামসাদ আহমেদ বলেন, এর আগেও একই ট্যাংকে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিন রিফাত ওই ট্যাংকে ফায়ারিং করেছিলেন। পরদিন সেখানে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন। আগের ঘটনাটি গোপন রাখা হয়েছিল বলেও তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, “এসব ঘটনায় রিফাতের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করত। তিনি ভিডিওকলের মাধ্যমে কর্মস্থলের বিভিন্ন বিষয় পরিবারকে দেখাতেন এবং ঝুঁকির কথা বলতেন। এমনকি চাকরি নিয়েও তিনি ভীত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘আমার সঙ্গে এমন কিছু হলে হয়তো আমার অস্তিত্বও থাকবে না’। এ কারণে তিনি চাকরি করতে না চাওয়ার কথাও একাধিকবার জানিয়েছিলেন।” ছেলের শোকে বাকরুদ্ধ বাবা আসাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। এখন আর চাওয়ার কিছু নেই, ছেলের জন্য সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।’ এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। মনির হোসেন মাহিন/এসআর
অ্যাটাক্সিয়া স্নায়ুতন্ত্রের একটি সমস্যা। হাঁটার সময় বারবার ভারসাম্য হারানো এবং হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরতে গেলে লক্ষ্যচ্যুত হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এ রোগে। অ্যাটাক্সিয়া রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পারলে এবং দ্রুত চিকিৎসা নিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত থেরাপির মাধ্যমে এই রোগের প্রকোপ কমানো যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে শুরুর দিকে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হয়।অ্যাটাক্সিয়া হলে মানুষের সমন্বয়ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায় এবং চলাফেরা ও শারীরিক কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থা জিনগত কারণ, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি বা ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ই বা থায়ামিনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবের কারণে হতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য রাখায় ব্যাঘাত ঘটায়।অ্যাটাক্সিয়া কত ধরনেরকয়েক রকম অ্যাটাক্সিয়া আছে। সেরেবেলার অ্যাটাক্সিয়া হলে মস্তিষ্কের সেরেবেলাম অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে হাঁটার সমস্যা, হাতের লেখা ও ভারসাম্য হারিয়ে যায়। সেন্সরি অ্যাটাক্সিয়া স্নায়ুতন্ত্রের সেন্সরি অংশের সমস্যা। যেমন পায়ের পেশি বা ত্বকে অনুভূতি হারিয়ে গেলে এ ধরনের অ্যাটাক্সিয়া হয়। এতে রোগী ব্যালেন্স হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে হাঁটার সময় চোখ বন্ধ হয়ে যায়।মস্তিষ্কের গতি নিয়ন্ত্রণের অংশে সমস্যা হলে দেখা দেয় মোটর অ্যাটাক্সিয়া। এর ফলে শারীরিক গতি ও দক্ষতা কমে যায়। সেরেবেলার ও সেন্সরি অ্যাটাক্সিয়া সাধারণত জেনেটিক বা জন্মগত কারণে হয়। এ ছাড়া ভিটামিন ই, বি১২ বা থায়ামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে এই রোগ যুক্ত। আবার কোনো নির্ধারিত কারণ ছাড়াই হতে পারে, যাকে স্পোরাডিক অ্যাটাক্সিয়া বলে।কেন হয়, লক্ষণগুলো কীজেনেটিক বা বংশগত কারণ: জিনগত মিউটেশন যা সেরিবেলাম, স্নায়ু বা পেশির গঠন ও এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। অজ্ঞাত কারণ: উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অ্যাটাক্সিয়া, যেমন ফ্রাইডরিখের অ্যাটাক্সিয়া। পুষ্টিগত ঘাটতি: ভিটামিন বি১, বি১২, ভিটামিন ই। টক্সিক: বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ যেমন অ্যালকোহল ও ভারী ধাতু, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।অ্যাটাক্সিয়ার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে এলোমেলো হাঁটা, লেখা বা জামার বোতাম লাগানোর ক্ষেত্রে অদক্ষতা; চলাচলে সমস্যা, বিশেষ করে হাত বা পায়ের ঝাঁকুনি; পেশিশক্তির দুর্বলতা; কথা জড়িয়ে যায়; গিলতে অসুবিধা হয়; চোখ অস্বাভাবিক নড়াচড়া করে; ইচ্ছাকৃত কম্পন বা ক্লান্ত বোধ করা।প্রতিরোধের উপায় অ্যাটাক্সিয়া একটি জটিল স্নায়বিক অবস্থা, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত থেরাপি রোগীর জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করে। পুষ্টির ঘাটতিজনিত অ্যাটাক্সিয়া খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিকভাবে পরিকল্পিত খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপসর্গ উপশম করতে, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং অবস্থার অবনতি রোধ করতে সাহায্য করে।ডা. হারাধন দেবনাথ, অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের জন্য (আইজেএসও ২০২৬) বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হয়েছে। ছয় সদস্যের এ দলের সঙ্গে আরও রয়েছেন একজন দলনেতা এবং দুজন উপদলনেতা। আগামী ২ থেকে ৯ ডিসেম্বর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় ২৩তম আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইউবিএটি) ১২তম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের (বিডিজেএসও) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়েছ। যৌথভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)।আইজেএসও দলের সদস্যরা হলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবরার জাহিন, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আহমেদ সাদ, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী কাজী সুনেহরা ইসলাম, সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফান হায়দার, এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজানা মানহা ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাশওয়ান হক।আইজেএসও দলের প্রধান দলনেতা হিসেবে রয়েছেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সহকারী দলনেতা হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের সমন্বয়কারী ও সমিতির জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম এবং একাডেমিক সমন্বয়কারী ফারজানা আক্তার।বাংলাদেশ দলের ৬ শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের জন্য প্রস্তুত করতে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধানমন্ডির মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারে (ম্যাসল্যাবে) শুরু হবে বিশেষ প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প।