গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের ওপর বিদেশের মাটিতে মব করে হামলা ও নির্যাতন কোনোভাবেই সরকার ও বাংলাদেশের নাগরিকরা সমর্থন করে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে মব রাজনীতি, মব কালচার ও অকারণে সন্ত্রাস সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছ, সুস্থ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’ এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন-নির্যাতন হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদলসহ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রাম পর্যন্ত ত্যাগ করেছেন। অনেককে বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়নি, গাছের নিচে কিংবা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। পুলিশের নির্যাতনে জেলে থাকতে হয়েছে এবং হাজার হাজার মামলা নিয়ে তাদের ঘুরতে হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে অনেকে খুন ও গুম হয়েছেন। তাদের এবং তাদের পরিবারের কথা আমাদের স্মরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের দেশ গড়ার কাজে ও উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদের বিবেকের কাছে দায়ী থাকতে হবে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া আমাদের উৎপাদনের রাজনীতি, উন্নয়নের রাজনীতি, জনসেবা ও গণসেবার রাজনীতি এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার রাজনীতি শিখিয়েছেন। এই আদর্শ প্রত্যেক নেতাকর্মীর মধ্যে নিহিত রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে, সেটিও আমাদের স্মরণ করতে হবে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের কথা ভুলে গেলে চলবে না।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বর্তমানে সংসদ আবার সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জাতীয় যে কোনো সিদ্ধান্ত ও সংকট নিয়ে সংসদে স্বচ্ছভাবে আলোচনা হচ্ছে এবং সারা দেশের মানুষ তা সরাসরি দেখছে। এই স্বচ্ছ সংসদ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের স্মরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মী তৎকালীন পুলিশ ও র্যাবের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের নাম হয়তো আমরা সবাই বলতে পারবো না, কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে রাখতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে তাদের কাজে লাগাতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসেবা, গণসেবা ও উন্নয়নের রাজনীতি করছেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রথম কেবিনেট সভায় কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড চালু করা হয়েছে। প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য শিগগির প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা বিশেষ সুবিধা পাবেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাত এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেসব খাতকে শূন্য থেকে নতুন করে গড়ে তোলার কঠিন কাজ বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং গত সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, সরকার তা মোকাবিলা করছে। সংকটের কারণে জনগণের কষ্ট হচ্ছে— এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যদিও এই দায় বর্তমান সরকারের নয়, তারপরও জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি এমন সরকার নয় যে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও কোনো সমস্যার জন্য ১৮ বছর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি সামনে এনে দায় এড়িয়ে যাবে। বর্তমান সরকার সব খাতে তৃণমূল থেকে সামাজিক ও মানব উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে কাজ করছে।
রাজনীতিতে অশ্লীলতার প্রসঙ্গ তুলে শামা ওবায়েদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সমাজ ও গণমাধ্যমে যেভাবে অশ্লীল কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে একজন অভিভাবক ও দেশের নাগরিক হিসেবে আমি উদ্বিগ্ন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এত মানুষ আহত-নিহত হওয়ার পর নতুন বাংলাদেশে আমরা এমন রাজনীতি দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, সরকারের কোনো নীতি বা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতে হলে তা করা যাবে। বর্তমানে গণমাধ্যম অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীন। সরকারের সমালোচনা করা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। কিন্তু সমালোচনার নামে অশ্লীলতা, গালাগালি ও অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, বিএনপি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা ফ্রিডম অব স্পিচে বিশ্বাস করি। তবে এই স্বাধীনতার চর্চার নামে এমন অশ্লীলতা ছড়ানো উচিত নয়, যা ছোট শিশুদেরও মোবাইল ফোনে দেখতে হয়। ভদ্র ভাষায় ও গঠনমূলকভাবে সমালোচনা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়তে চান, তাদের সবাইকে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছ, সুস্থ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা করবে।
বিদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতার প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশের বিভিন্ন দেশে আওয়ামী লীগের যারা লুকিয়ে বা অবস্থান করছেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বাংলাদেশে বিশ্বাসী এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের ওপর মব করে হামলা ও নির্যাতন করছেন। বিদেশের মাটিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বাংলাদেশ সরকার বা বাংলাদেশের নাগরিকরা সমর্থন করে না।
তিনি বলেন, মব রাজনীতি, মব কালচার এবং অকারণে সন্ত্রাস সৃষ্টি— কোনোটিই আমরা সমর্থন করি না। দেশের ভেতরে কিংবা বিদেশে কোনোভাবেই এমন সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকমীরা।
কেএইচ/কেএসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নোয়াখালী সদরে পঞ্চম শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর ওই শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে। ঘটনা জানাজানির পর অভিযুক্ত মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামের ওই শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) শিশুটির মায়ের করা মামলায় ওই শিক্ষককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অভিযুক্ত এমরান অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে। সম্প্রতি শারীরিক পরিবর্তন টের পায় পরিবার। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিলে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরে শিশুটি জানায়, শিক্ষক এমরান গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। ঘটনা জানাজানির পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে শিক্ষক এমরানকে ধরে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। পরে বুধবার ভুক্তভোগীর মা বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা করেন। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ওই শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। মামলা হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ প্রহরায় আসামিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ইকবাল হোসেন মজনু/এসজেডএইচ
উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সরাসরি বিরোধিতায় নামলেন বিজেপির শরিক দল রিপাবলিকান পার্টি অব ইন্ডিয়ার (আরপিআই) নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে। একেবারে সরাসরি তিনি জানিয়ে দিলেন, ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে যেকোনো উৎসবে যোগ দেওয়ার অধিকার প্রত্যেক ভারতীয়র আছে। ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে আজ বুধবার গণমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে রামদাস বলেন, দেশ সংবিধান অনুযায়ী চলে। সেই সংবিধান সব ধর্মের মানুষকে সুরক্ষা দেয়। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মাবলম্বীর উৎসবে যোগ দেবেন না, এমন অবস্থান সংবিধানবিরোধী। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে ভিএইচপির জারি করা এক ফরমান। তাতে বলা হয়েছে, নবরাত্রিতে রাজ্যজুড়ে গরবা ও ডান্ডিয়া নাচের যে উৎসব হবে, তাতে অহিন্দুদের অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এতে হিন্দুধর্মের পবিত্রতা নষ্ট হবে। ভিএইচপির যুগ্ম সম্পাদক ও মুখপাত্র শ্রীরাজ নায়ার কদিন আগে এই ফরমান জারি করে বলেছেন, গরবা ও ডান্ডিয়া সম্পূর্ণভাবে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে কোনো অহিন্দুকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। উৎসব প্রাঙ্গণে অহিন্দুদের, বিশেষ করে মুসলমানদের ঢুকতেও দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, এটা শুধু নাচগানের অনুষ্ঠান নয়। এটা এক ধর্মীয় উৎসব। হিন্দু সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার গাম্ভীর্য ও পবিত্রতা কিছুতেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।নবরাত্রি উপলক্ষে গরবা ও ডান্ডিয়া নাচের অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম হয়ে থাকে। হাজার হাজার দর্শক হাজির হয়। সেই দর্শকদের সবাই হিন্দু কি না, কী করে তাদের চেনা যাবে—এ প্রশ্নের উত্তরে শ্রীরাজ নায়ার বলেছিলেন, হিন্দুদের বলা হবে, সবার কপালে যেন লাল বা গেরুয়া তিলক কাটা থাকে। এমনকি দর্শকদের আধার কার্ডও সঙ্গে রাখতে বলা হবে, যাতে সন্দেহ হলেই প্রমাণ দেখানো যায়। ভিএইচপি এই মর্মে সর্বত্র আয়োজকদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশও পাঠিয়ে দিয়েছে।রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) ঘনিষ্ঠ ও সংঘ পরিবারের অংশ ভিএইচপির এই ফরমান মহারাষ্ট্রে প্রবল বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। শাসক গোষ্ঠীতেও বিভাজন দেখা দিয়েছে। শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিরোধীরা ওই ফরমান অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেছে, এতে সমাজের ক্ষতি হবে। বিজেপি নেতা ও রাজ্যের বন্দর উন্নয়নমন্ত্রী নীতেশ রানে প্রকাশ্যে এই ফরমানকে সমর্থন জানিয়েছেন। আবার বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবিশের স্ত্রী অমৃতা ফাডনবিশ নির্দেশের বিরোধিতা করে বলেছেন, উৎসব সবার। হিন্দু উৎসবে মুসলমান বা মুসলমানদের পরবে হিন্দুরা যোগ দিলে তাতে অন্যায় কিছু নেই। এ দেশে এটাই হয়ে আসছে।বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতারা যদিও ওই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁরা জোর দিয়ে বলছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব তার তার।এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বিজেপির শরিক আরপিআই নেতা ও কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচারমন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে। রামদাস মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। হিন্দুদের উৎসব নিয়ে ভিএইচপির অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই মনোভাব একেবারেই ঠিক নয়। বাবাসাহেব আম্বেদকর যে সংবিধান রচনা করেছেন, তাতে সব ধর্মের মানুষের জন্য ন্যায়বিচারের কথা বলা আছে। এই দেশে হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন, পারসিসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। এই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই এ দেশের শক্তির আধার। ধর্ম–বর্ণনির্বিশেষে তাঁরা সবাই একে অন্যের ধর্মীয় উৎসবে যোগ দেন। সেই অধিকার সংবিধান সবাইকে দিয়েছে।আটওয়ালে বলেন, মুসলমানরা গরবা–ডান্ডিয়ায় যোগ দিতে পারবেন না, অহিন্দুদের হিন্দু উৎসবে যোগ দেওয়া উচিত নয়—এমন কথা বলা ঠিক নয়। হিন্দু–মুসলমান সবার উচিত একসঙ্গে মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করা। আটওয়ালে এ প্রসঙ্গে মরু শহর রাজস্থানের আজমির শরিফের উল্লেখ করেন। বলেন, ‘সেখানে প্রতিদিন বহু হিন্দু পুণ্যার্থী যান। ভারত এমন এক দেশ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের উৎসবে অংশ নেন। এর বিরুদ্ধ কোনো অবস্থান নেওয়া হলে আমরা তার বিরোধিতা করব। এমন আচরণ সংবিধানবিরোধী।’আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে নবরাত্রি। টানা ৯ দিন ধরে এই উৎসব চলে। এই সময়েই মহারাষ্ট্র–গুজরাটে চলে গরবা ও ডান্ডিয়া নাচগান।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মধ্যেই ইউরোপের দেশ জার্মানি তাদের নৌ-সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি রুশ জব্দ অর্থ থেকে ইউক্রেনকে প্রচুর সহায়তা দেওয়ার কথাও জানা গেছে। এমন অবস্থায় রাশিয়ার ওপর ইউরোপ হামলা চালালে সে যুদ্ধ কেমন হবে তা নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ হবে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং খুবই স্বল্পস্থায়ী।’ এর আগে ঠিক একই মন্তব্য করেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছিলেন, ইউরোপ যদি রাশিয়ার ওপর হামলা চালায়, তাহলে যুদ্ধ হবে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং খুবই স্বল্পস্থায়ী’। ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন এবং তিনি কথাটি কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করেছেন: ‘আমরা কাউকে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করছি না। এটা বোকামি, নির্বুদ্ধিতা। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সম্পূর্ণ অযোগ্যতার প্রকাশ। কিন্তু যদি এসব আলোচনা আপনাদের হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়, তাহলে আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি—যুদ্ধটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং খুবই স্বল্পস্থায়ী।’” আরও পড়ুন আলোচনায় ‘ই-৫’ / রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতা নেই ইউরোপের, শঙ্কায় ন্যাটো রাশিয়ার চ্যানেল ওয়ানের ‘গ্রেট (বিগ) গেম’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ল্যাভরভ বলেন, ‘আমি সবাইকে এই কথাগুলো মনে রাখার পরামর্শ দেব।’ সূত্র: তাস কেএম